রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপ যখন দ্রুত বাড়ছিল, লকডাউন, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনে মানুষ যখন চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সংকটে পড়ছিল—তখন টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে মানবিক ভূমিকা রাখেন রাঙ্গুনিয়ার সন্তান ডা. মোহাম্মদ শাহ সোলাইমান। করোনার ভয়াবহ সময়ে নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে তিনি অনলাইনে, ফোনে ও সরাসরি দায়িত্ব পালন করে বহু মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন।
সেই মানবিক চিকিৎসক সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিষয়টি জানিয়ে তিনি লিখেন—
“আলহামদুলিল্লাহ! I have been promoted to Assistant Professor (Medicine), CMC. ধন্যবাদ সবাইকে। অনলাইনে, অফলাইনে অগণিত শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পাচ্ছি।”
রাঙ্গুনিয়ার এক সন্তানের এমন সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢল নামে শুভেচ্ছার। সাংবাদিক শান্তিরঞ্জন চাকমা লেখেন—
“রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বুজ্জের দোকান মালেক সওদাগর (এমপি বাড়ি) কৃতি সন্তান ডা. শাহ সোলাইমান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। দৈনিক নয়াদিগন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন ও ফুলের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
তার ফেসবুক পোস্টে মনসুর নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন—
“অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো আপনার জন্য। আল্লাহ আপনাকে মানুষের সেবা করার তৌফিক দান করুক।”
শহীদুল ইসলাম আরিফ মন্তব্য করেন—
“অভিনন্দন। আল্লাহ পাক আপনাকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রাখুক।”
করোনাকালের তার মানবিক ভূমিকার প্রশংসা পাওয়া যায় সে সময়কার ফেসবুক পোস্টেও। ২০২০ সালের ২৭ মে রবিউল হোসেন সুমন নামের এক ব্যক্তি তার বাবার চিকিৎসায় ডা. শাহ সোলাইমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে লিখেছিলেন—
“আমার বাবার ফুসফুসে পানি জমার সময় তিনি অপরিচিত হয়েও বটবৃক্ষের মতো পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভর্তি করানো থেকে শুরু করে রাতভর খোঁজ নেওয়া—সবকিছুই করেছেন আপনজনের মতো। অন্য ডাক্তার যেখানে হিমসিম খেতেন, সেখানে তিনিই বাবার লাঞ্চের জমে থাকা প্রায় ছয় ব্যাগ পানি বের করে জীবন বাঁচিয়েছিলেন।”
তিনি আরও লিখেছিলেন—
“করোনার ভয়ের মধ্যেও তিনি নির্ঘুম রাত কাটিয়ে রোগীদের সেবা দিয়েছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক এমবিবিএস (সিএমসি), বিসিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (ইন্টারন্যাল মেডিসিন) – বিএসএমএমইউ এবং এমএসিপি (ইউএসএ) ডিগ্রিধারী। তিনি চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের জিয়ামার্কেট এলাকার বাসিন্দা মাওলানা জরিপ আলী আরমানের ছেলে।
