এইচএসসি পরীক্ষায় সেনা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। সেনাবাহিনীর অধীনে পরিচালিত ৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৮ হাজার ৭১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮২৬ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৩৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা জাতীয় পর্যায়ে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৭টি বাংলা মাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭ হাজার ১৫৬ জন, ১২টি ইংরেজি মাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৭১ জন এবং ১২টি ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজসমূহে বিদ্যমান শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিবিড় পাঠদান, শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়কে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সেনাসদরের দিকনির্দেশনা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের নিয়মিত তদারকি, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষবৃন্দের কার্যকর নেতৃত্ব, অনুষদ সদস্য ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতাও এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।  সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

এবছর সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একযোগে নিজেদের মতো করে ফল প্রকাশ করেছে।

গত ২৬ জুন শুরু হয় এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিলেন। চলতি বছর নয়টি সাধারণ বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন, যা গত বছরের চেয়ে ৭২ হাজার ৮৮৩ জন কম। ৪ হাজার ৮০৮টি প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ১৬০৫টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৬ হাজার ১০২ জন, যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৯৭৪ জন কম। ২ হাজার ৬৮২টি মাদ্রাসার এসব পরীক্ষার্থী ৪৫৯টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৭ হাজার ২৫ জন কম। ১ হাজার ৮২৪টি প্রতিষ্ঠানের এসব পরীক্ষার্থী ৭৩৩টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় বসেন। গত ১৯ অগাস্ট এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। ২১ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

দেশজুড়ে টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ায়ও উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রম রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় পাঁচ কোটি শিশু ও কিশোর বিনামূল্যে এই টিকা পাবেন। জন্মনিবন্ধন না থাকা শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। কর্মসূচি মাসব্যাপী চলবে এবং ১৩ নভেম্বর শেষ হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া শিশু মেলা মডেল স্কুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে ‘জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুমানা রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শরমা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জন্মসনদবিহীন শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত এই টিকাটি আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহায়তায় সরকার পেয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এই টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে ইতিমধ্যেই সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোনো দেশে বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় টিকা পাবেন। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী অন্যান্য শিশুকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। শহরের পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও।

সরকারের লক্ষ্য—এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু নিবন্ধন করেছে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জন্মসনদ না থাকলেও নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় নিবন্ধন করা যাবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে, যা শিশুদের ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।

প্রথম ১০ কর্মদিবসে বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান চলবে এবং পরবর্তী ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল-মাদ্রাসায় টার্গেট ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন এবং কমিউনিটি টার্গেট ৩৩ হাজার ৭২৩ জন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪২০টি স্কুল-মাদ্রাসায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।

কোরআনের শিক্ষা আলোকিত জাতি তৈরি করে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা উদ্বোধনকালে বক্তারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): পবিত্র কোরআনের শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে রাঙ্গুনিয়ার ধামাইরহাটের উত্তর পাশে আজম বাড়ি জামে মসজিদের পূর্বপাশে নতুন মাদ্রাসা মারখাজুল উলুম তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন আগত অতিথিরা।

উদ্বোধনের পর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী খাজা গিয়াস উদ্দিন ছালেকী, এবং যৌথ সঞ্চালনা করেন কাজী মুহাম্মদ আলমগীর ও এডভোকেট ফরহাদুল আলম জুয়েল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দারুল উলুম ইসলামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম শায়েখ আল্লামা সায়দ হোসাইন বলেন, “পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি আলোকিত হতে পারে না। এই মাদ্রাসা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি এলাকার মানুষকে আল্লাহর কিতাবের সাথে সংযুক্ত করার পথ খুলে দেবে।”

প্রধান বক্তা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী এর আমির মাওলানা হাসান মুরাদ বলেন, “আজকের উদ্যোগ কোরআনপ্রেমী জনসাধারণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা কোরআন মুখস্থ করবে এবং ইসলামের আদর্শে গড়ে উঠবে।”

প্রধান আলোচক, আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মাদ্রাসা হলো সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশনার বাতিঘর। নতুন প্রজন্মকে কোরআনের সঙ্গে যুক্ত করতে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

বিশেষ অতিথি, প্রবীণ আলেমে দ্বীন আল্লামা সুলতান আহমদ বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক গঠনেও গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের সম্পদে পরিণত হবে।”

মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ মুফতি আনাস স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মদ শওখত হোসাইন, মাওলানা শাহ আলম, সরওয়ার হোসাইন, জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, সরওয়ার আলম, মুহাম্মদ মুছা, মীর আজিজুর রহমান, এডভোকেট আজিম উদ্দিন লাভলু, সেলিম, রফিক, আনোয়ার, হারুন, আজিজুল হক, হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিনিয়ার আরিফ হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কোরআনের প্রাথমিক ছবক প্রদান এবং ভর্তি ফরম বিতরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে দ্বীনের আলো ছড়াল ছাত্রশিবিরের অনন্য উদ্যোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্বীনের ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার প্রায় ৫৫–৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বাংলা অনুবাদসহ কুরআন শরীফ উপহার দিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙ্গুনিয়া উত্তর সাংগঠনিক থানা শাখার আদর্শ থানা শাখা আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে এ উপহার তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন থানা শাখার সেক্রেটারি আব্বাস উদ্দিন এবং সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মঈনুদ্দিন মিসবাহ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া শহর আদর্শ থানা শাখার সভাপতি কুতুব উদ্দিন।

এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ। প্রধান মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা উত্তর বায়তুল মাল সম্পাদক জহির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থানা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

এর আগে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্টও বিতরণ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে একদিনের শিক্ষক ইউএনও

একদিনের শিক্ষক ইউএনও মো. কামরুল হাসান শিক্ষার্থীদের ক্লাসে

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দুপুরের নীরবতা ভাঙতেই উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নেমে আসে অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য। সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবাক চোখে দেখল—আজ তাদের ক্লাস নিচ্ছেন কেউ ভিন্ন মানুষ। সাদা বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষক নন, উপস্থিত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান।

বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে ইউএনও আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে নেমে পড়েন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি পাঠদানে। হাতে বই নিয়ে প্রশ্ন করেন, মনোযোগ দিয়ে উত্তর শোনেন, এবং পড়াশোনায় আগ্রহী হওয়ার পরামর্শ দেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধু পাঠ্যবই নয়, জ্ঞান, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা অর্জন করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।”

পরিদর্শনের সময় তিনি বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শ্রেণিকক্ষের শৃঙ্খলা ও পাঠদানের মানও ঘুরে ঘুরে দেখেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা ইউএনওর এই উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন শর্মা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশীদসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

শিক্ষকেরা জানান, ইউএনওর সরাসরি অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মনে নতুন অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা বলছে, একদিনের জন্য হলেও ইউএনওকে শিক্ষক রূপে পাওয়া তাদের কাছে হয়ে রইল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

 

শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের উপহার ও লিফলেট বিতরণ


রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী ও লিফলেট বিতরণ করেছে কলেজ ছাত্রদল।

সোমবার সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে এ কার্যক্রম আয়োজন করে নবগঠিত উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল।

এ সময় লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এস.এইচ. সুমনসহ কলেজ ছাত্রদলের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি সংবলিত লিফলেট ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি সাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হক।

“তারা হারায়—কখনো ফিরে, কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতিতে”

রাঙ্গুনিয়ায় দুই শিশুর হারিয়ে যাওয়া ও মানবিক উদ্ধার অভিযান

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: একটা অন্ধকার রাত। দুই অবুঝ শিশু পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে।

কে জানে তারা কোথা থেকে এসেছে? কোথায় যাবে?
তারা হারিয়ে গেছে—কখনো হয়তো ফিরে আসবে, আবার কখনো হারিয়ে যাবে এমন এক পরিণতির দিকে, যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে—দুই শিশুকে পাওয়া গেছে। কেউ চিনে থাকলে যেন যোগাযোগ করা হয়।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশু দুজনকে পাওয়া যায়।

এক রিকশাচালক শিশুদের নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী পারুয়া ইউনিয়নে। শিশুদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায়, স্থানীয় এক যুবক, মুসাফির তালুকদার, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেন যাতে তাদের পরিবার খুঁজে পাওয়া যায়।

জোনাকি ও আয়েশা—দুই অবুঝ মুখের পরিচয়

শিশু দুটির একজনের নাম জোনাকি, অপরজন আয়েশা। তারা জানায়—তাদের বাবার নাম সোহেল, মায়ের নাম মুন্নী। কখনো তারা বলে সৈয়দনগর, কখনো কাটাখালি—ঠিকানা তারা মনে রাখতে পারে না।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকা থেকে ফোন আসে। এক ব্যক্তি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং জানান, শিশুদের নানী পরদিন সকালেই প্রমাণপত্রসহ এসে নিয়ে যাবেন।

পরদিনই এক করুণ বাস্তবতা উন্মোচিত হয়

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জোনাকি(৯) ও আয়েশার(৭) নানী এসে তাদের পারুয়া থেকে নিয়ে যান।

“কিন্তু পরদিন আরও একটি হৃদয়বিদারক বাস্তবতা সামনে আসে।”

জানা যায়, জোনাকি ও আয়েশার বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। তারা এখন নানীর কাছে থাকে।
পায় না বাবার আদর, কিংবা মায়ের যত্ন। কারণ মা মুন্নী শহরে কাজ করেন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে।

বাবা-মা উভয়ের মধ্যেই রয়েছে কিছুটা মানসিক সমস্যা, আর শিশু দুজনের একজন মানসিকভাবে কিছুটা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বিকারগ্রস্ত)। এ অবস্থায় তারা প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে, ঠিকানা মনে রাখতে পারে না। মুঠোফোনে এসব তথ্য জানিয়ে শিশুদের নানী মো. ননা মিয়ার স্ত্রী রানু আক্তার জানান, তারা এর আগেও বেশ কয়েকবার হারিয়ে গিয়েছিল শেষবার কাউখালি থানার সহায়তায় পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তারা তার কাছেই থাকেন উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকার সোনারগাঁও এলাকা সংলগ্ন ঘোনাকূল ওরনার টিলা এলাকায়।

“দারিদ্রতার কাছে তিনিও পরাজিত, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই দুই নাতনির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেও তবুও হারিয়ে যায় তারা।”

প্রশ্ন: এবার তারা ফিরে এসেছে ভালো কিছু মানুষের সহানুভূতিতে, কিন্তু আগামীবার?

 

পূর্বের আরেক করুণ গল্প: মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন 

এ ধরনের একটি ঘটনা আগেও ঘটেছে রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ওসমানের টেক এলাকার আমড়াকাটার বাড়িতে।
সেখানে এক মেধাবী ছেলে, সাজ্জাদ হোসেন, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হলেও ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন।

তার পরিবারের কারো মানসিক সমস্যা না থাকলেও, সাজ্জাদের সমস্যা সময়ের সঙ্গে বাড়ে। সে প্রায়ই হারিয়ে যেতো। কখনো ফিরে আসতো, কখনো বহুদিন নিখোঁজ থাকতো।

শেষবার সে হারিয়ে যায় চিরতরে। তার বাবা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু ছেলের মুখ শেষবার আর দেখতে পারেননি।

সাজ্জাদের গল্প আমাদের শেখায়—মানসিক অসুস্থতা শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবারের কষ্ট এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”

নিরাপদ নয় এই অনিশ্চিত পথচলা

জোনাকি ও আয়েশার গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি বাংলাদেশের অনেক শিশুর বাস্তবতা।
তারা হারিয়ে যায়— কখনো ফিরে আসে কারো মমতায়,
আবার কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতির অন্ধকারে।

এখনই যা করণীয়:

১. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা:
শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রশাসনিক নজরদারি:
স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়মিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

৩. পরিচয়পত্র ব্যবস্থা:
শিশুদের জন্য আইডেন্টিটি ট্যাগ, নামপোতা জামাকাপড় কিংবা ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেম চালু করা যেতে পারে।

৪. কমিউনিটি সাপোর্ট:
স্থানীয় দোকান, বাজার, মসজিদ-মন্দিরের লোকদের সচেতন করা জরুরি—যাতে তারা হারিয়ে যাওয়া শিশুকে দ্রুত সঠিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে পারেন।

শেষ কথা: আজ জোনাকি ও আয়েশা ফিরে এসেছে।
কিন্তু এটাই কি শেষবার? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।

“আমরা জানি না, এটাই কি তাদের হারানোর শেষবার?
কিন্তু এটুকু জানি—তারা যেন আর না হারায়,
তাদের ছোট্ট জীবন যেন থেমে না যায় কোনো নির্মম পরিণতির কাছে। এই দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।”

প্রতিবেদন: এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার,
সম্পাদক: রাঙ্গুনিয়া টুডে।

 

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

ডেস্ক: 

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসাকে এ তথ্য ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে।

রোববার (১৭ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদারের সই করা একটি অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, অধিদপ্তরের আওতাধীন মাদ্রাসাগুলো থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ (গেজেট সংযুক্ত) ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এজন্য শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীর নাম, পিতার নাম, মোবাইল নম্বর, স্থায়ী ঠিকানা, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার নাম, মাদ্রাসা প্রধানের নাম ও মোবাইল নম্বর ইত্যাদি তথ্য নির্ধারিত ই-মেইল (addmin.dme24@gmail.com) ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে।