রাঙ্গুনিয়ায় কাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: “পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন, রাঙ্গুনিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্নকরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কর্মসূচির সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রকাশের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

বাবা অসুস্থ বলে সাত বছরের কন্যাশিশুকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শিশুটির নাম ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। সে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটার হাফেজ মোহাম্মদ শরিফের বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ দেলোয়ারের মেয়ে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের দাবি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ দেলোয়ার জানান, স্কুল ছুটির পর ওয়াসিফা সহপাঠীদের সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। এ সময় তাদের বাসার সামনে আগে থেকেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল, যা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিরা ওয়াসিফাকে বলে, “তোমার আব্বু অসুস্থ, তোমাকে নিতে এসেছি।” এরপর তাকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। গাড়িটিতে চালকসহ তিনজন ব্যক্তি ছিলেন।

দেলোয়ার বলেন, “তারা আমার মেয়ের নাম জানত এবং আমার অসুস্থতার কথা বলে তাকে নিয়ে গেছে। তাই আমার ধারণা, এটি পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা।” তিনি জানান, ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ করেছেন।

শিশুটির মা বলেন, ওয়াসিফা তার সহপাঠী ও এক আত্মীয় শিশুর সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। তাদের কাছ থেকেই তিনি জানতে পারেন, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে ওয়াসিফার বাবার অসুস্থতার কথা বলে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। যদি কারও সঙ্গে বিরোধ থেকেও থাকে, তাহলে আমাদের সঙ্গে ঘটতে পারত। কিন্তু আমার নিষ্পাপ শিশুকে কেন নিয়ে গেল? আমি শুধু আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।”

ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন স্থানীয় ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, ছুটি শেষে ওয়াসিফা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এ সময় তাদের বাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাবার অসুস্থতার কথা বলে ডেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আরও দুইজন সহপাঠী ছিল এবং তাদের সামনেই ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

 

বন্যা পরিস্থিতি: চট্টগ্রামে এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ এবং পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অবশিষ্ট সব বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ভোকেশনাল এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে না।

তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

হাসিমুখে মানবতার সেবা: দীঘিনালায় বন্যাকবলিত পাঁচ শতাধিক মানুষের পাশে সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : বন্যার দুর্যোগে যখন দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত, তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বন্যাকবলিত পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দ্য বেবি টাইগার্স’-এর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের সোবাহানপুর এলাকায় দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবা দেন দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন। তিনি প্রতিটি রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে অনেকেই জ্বর, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হওয়ায় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যার পর শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিয়েছে। জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দীঘিনালা জোন পার্বত্য এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দুর্যোগের সময় মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দীঘিনালা জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

 

জাতীয় মঞ্চের পথে রাঙ্গুনিয়ার পায়েল, উৎসাহ যোগালেন এমপি হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার উদীয়মান সাঁতারু পায়েল নাথ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর বিভাগীয় পর্যায়ে সাঁতারে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে এবার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করবে সে।

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে পায়েল নাথ। এ সময় এমপি তার সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জাতীয় আসরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রাঙ্গুনিয়ার মুখ উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান।

এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “তরুণ প্রজন্মের খেলাধুলা ও মেধা বিকাশে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পায়েলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়ে সফল হয়ে রাঙ্গুনিয়ার জন্য গৌরব বয়ে আনবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

রাঙ্গুনিয়ার মতো একটি উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে একজন সাঁতারুর উঠে আসাকে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।

পায়েলের এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস রাঙ্গুনিয়ার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ও ক্রীড়াবান্ধব কার্যক্রম পায়েলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস রাঙ্গুনিয়ার সাঁতার ইভেন্টের প্রধান সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন আফতাব বলেন, “উপজেলা পর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে পায়েলের সাফল্যের পেছনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ক্রীড়াবান্ধব উদ্যোগ, প্রশিক্ষকদের নিবিড় পরিশ্রম, অভিভাবকদের উৎসাহ এবং আয়োজকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ পায়েল জাতীয় মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে।”

পায়েলের ক্রীড়া শিক্ষক মো. আলমগীর বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের প্রত্যাশা, জাতীয় প্রতিযোগিতায় নিজের সেরাটা উপহার দিয়ে পায়েল নাথ শুধু একটি পদকের জন্যই লড়বে না; বরং পুরো রাঙ্গুনিয়ার স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করবে। তার সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণ-তরুণীকে খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।”

এখন রাঙ্গুনিয়াবাসীর দৃষ্টি ২৫ জুলাইয়ের জাতীয় প্রতিযোগিতার দিকে। সবার প্রত্যাশা, নিজের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জাতীয় মঞ্চেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে পায়েল নাথ এবং রাঙ্গুনিয়ার জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনবে।

 

শিক্ষা ও সবুজের বার্তা নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় এমপি হুমাম কাদেরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে রাঙ্গুনিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়ার বিআইজেডএইচ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “পড়াশোনায় মনোযোগী হলেই গড়ে উঠবে আগামীর নেতৃত্ব। ভবিষ্যতের মন্ত্রী-এমপি হয়তো আজ এখানেই বসে আছে। তাই এখন থেকেই বেশি করে পড়ালেখা করতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল গফুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রাণী গোপ।

সংসদ সদস্য বলেন, রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় একটি ভালো টিম নিয়ে কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সুশিক্ষাই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে দক্ষ পেশাজীবী, সফল উদ্যোক্তা কিংবা যোগ্য নেতৃত্বে পরিণত করতে পারে।

অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী।

এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার আজ বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড (সকল জেলা) এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা ২০২৬ স্থগিত করা হলো।

তবে, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যাতীত) অন্যান্য জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিতে বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: দেশের চলমান বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার বুধবার (৮ জুলাই) অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা-২০২৬ এর ৮ জুলাইয়ের নির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষাসহ দেশের অন্যান্য সকল শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা কেন্দ্র এবং পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নজরুলের চেতনায় মুখর চট্টগ্রাম, তিন দিনের আয়োজনের পর্দা নামল

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে চট্টগ্রামে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২০২৬-২০২৭) উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন।

আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন দিনের এই আয়োজনে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

পরীক্ষা নম্বরের লড়াই নয়, জ্ঞান ও সততার মূল্যায়নের ক্ষেত্র: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: পরীক্ষা শুধু নম্বর পাওয়ার লড়াই নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, সততা ও মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া। তিনি বলেন, পরীক্ষাকে কোনোভাবেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত করা উচিত নয়।

বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা। এবার চট্টগ্রামে ১০৪টি কেন্দ্রে প্রায় ৭৯ হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে পরীক্ষা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। পরীক্ষার হলে কোনো অসুস্থ চিন্তা বা অসদুপায়ের স্থান নেই। একজন শিক্ষার্থী যা জানে, সেটিই যেন সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার উত্তরপত্রে লিখে আসে।”

পরীক্ষা প্রতিযোগিতার অংশ হলেও সেই প্রতিযোগিতা অবশ্যই সুস্থ ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি পাঠ্যবিষয় সত্যিকার অর্থে আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে পরীক্ষার খাতায় তার স্বাভাবিক প্রতিফলন ঘটবে। এতে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরাই প্রাপ্য স্বীকৃতি পাবে।

ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা একটি মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আজ যারা পরীক্ষার হলে বসেছে, তারাই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তাই তাদের শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধও ধারণ করতে হবে।”

প্রশ্নফাঁস নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে পরীক্ষা নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করো। ছাত্রজীবনে যা শিখছ, সেটিই ভবিষ্যৎ জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতো। কোনো কোনো বোর্ডের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় কম নম্বর পাওয়ার অভিযোগ করত। এ ধরনের বিতর্ক ও বৈষম্যের ধারণা দূর করতেই এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়ে না ফেলে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রমে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম কলেজের কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কেন্দ্রে নিবন্ধিত ৩ হাজার ২০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ১৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অনুপস্থিত ছিল ৩৫ জন। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

‘রাজনীতির কৃষক’ ছিলেন রফিক বিন চৌধুরী: স্মরণসভায় হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক চেয়ারম্যান, শিক্ষানুরাগী, সমাজ-সংস্কারক ও দানবীর মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীকে স্মরণ করে আয়োজিত স্মরণসভায় রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “তিনি ছিলেন রাজনীতির একজন কৃষক।”

বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজ মাঠে কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হুমাম বলেন, একজন কৃষক যেমন জমিতে চারা রোপণ করে ধৈর্যের সঙ্গে তার পরিচর্যা করেন, তেমনি রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সম্পর্ক ও আস্থার চারা রোপণ করেছিলেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গা ধরে রেখেছেন।

হুমাম কাদের বলেন, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। সেই কঠিন সময়ে রফিক বিন চৌধুরী তাঁকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তাঁর উৎসাহেই তিনি নতুন করে মনোবল ফিরে পেয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, রফিক বিন চৌধুরীর হাত ধরেই তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজে এলেই তাঁর স্মৃতি মনে পড়ে, কারণ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক শিক্ষা তিনি রফিক বিন চৌধুরীর কাছ থেকেই পেয়েছেন।

রাজনীতিতে ধৈর্য, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ হয়ে আছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান, কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কে.আর.এম পেয়ার উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কলেজ প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী মোহাং আবু হোসেন ইবনে হাশ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, দাতা সদস্য নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, কলেজের মাউশি প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মুহাম্মদ খোরশেদুল হক চৌধুরী রিবেল, অভিভাবক সদস্য হোসেন আলী, আব্দুল মান্নান রনি, খোরশেদ আলম এবং বোর্ড প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম।

কলেজের অধ্যাপিকা পুষ্প বড়ুয়া ও প্রভাষক আবু মহসিন মো. মঞ্জুরুল কাদেরের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন, শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ইউনুচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজম খান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আমিন, সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি নবাব মিয়া চৌধুরী, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজসেবক খালেদ বিন আব্দুল কাদের।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রানীরহাট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম আলকাদেরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক শাহেদ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরীসহ জেলা, উপজেলা এবং রাজানগর-ইসলামপুর বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মুহাম্মদ একরাম ও সহকারী অধ্যাপক শান্তি জ্যোতি বড়ুয়াও বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মউদুদ ইলাহী এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আবু মহসিন মঞ্জুরুল কাদের।

স্মরণসভার পাশাপাশি গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঞ্চালনা করেন রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য শরফুদ্দীন মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর স্মরণে কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইছামতী আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের সদস্যরা কবিতা আবৃত্তি করেন।

গুণীজন সম্মাননা হিসেবে রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রয়াত আব্দুর রশিদ বিএ, বিএড, সহকারী শিক্ষক মরহুম সিরাজুল ইসলাম তালুকদার এবং স্থানীয় চিকিৎসক সুবোধ দেওয়ানজীকে স্মরণ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এছাড়া রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আবুল বশর তালুকদার এবং রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাপক দানু মিয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান অতিথির মাধ্যমে কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীর হাতে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কলেজের উদ্যোগে প্রকাশিত মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর জীবন ও কর্মভিত্তিক স্মরণিকা “মহীয়ান” এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: শিশুশ্রম বন্ধে রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শিশুশ্রম শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন ও মানবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। শিশুর সৌন্দর্য তার শৈশবে, কিশোরের সৌন্দর্য কৈশোরে এবং তারুণ্যের সৌন্দর্য তার উদ্দীপনায়। সেই শৈশবকে শিশুশ্রমের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে কখনোই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, অর্থনৈতিক সংকটে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারগুলোকে এ সহায়তা শিশুদের শিক্ষা ও শৈশব রক্ষায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রমের ওপরই অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও মালিকদের রয়েছে।

দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের একমাত্র কারণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে, পরিবারে বড়দের সান্নিধ্যে বেড়ে উঠবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। সেই পরিবেশ তৈরি না হলে শিশুশ্রম নির্মূল কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের শিশুদের হাতেই গড়ে উঠবে। কিন্তু শৈশব থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা নিজেদের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। যে শিশু স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশকে নতুন স্বপ্নও দেখাতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে কয়েকটি খাত থেকে ইতোমধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাত শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা, শিশু অধিকারকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ফটিকছড়িতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বৃক্ষরোপণ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও সাংবাদিক এস এম আক্কাছ।

সোমবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দেশে বিদ্যমান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। একটি গাছ একটি প্রাণের মতো। এই ধরিত্রীকে রক্ষা করতে আসুন আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাই।”

তিনি আরও বলেন, আজকের বিতার্কিকরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাই তাদের এখন থেকেই দেশপ্রেম, সমাজসচেতনতা ও জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার হলো বিতর্ক।

অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল— ‘জলবায়ু পরিবর্তনে সচেতনতাই পারে পৃথিবীকে নিরাপদ রাখতে’। নির্ধারিত সময়ে বক্তব্য উপস্থাপন, যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের পর বিচারকদের রায়ে দশম শ্রেণির দল চ্যাম্পিয়ন এবং নবম শ্রেণির দল রানারআপ হয়।

বিজয়ী দলে ছিলেন ফাইরুজ আক্তার, আফরিন জাহান ও জান্নাতুল মাওয়া। রানারআপ দলে ছিলেন নোভায়রা সুলতানা, উম্মে নানজিবা ও নুর জাহান আলো। সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন ফাইরুজ আক্তার।

দিনব্যাপী আয়োজনে বৃক্ষরোপণ, দেয়ালিকা উন্মোচন, ফেস্টুন প্রদর্শন এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জাহানারা বেগম ও জান্নাতুল নাঈম। শিক্ষক তিলক কুমার বৈদ্যের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শিক্ষক সৈয়দ পারভেজ সোবহান, মো. মোরশেদ উদ্দিন, মো. মজিদুল ইসলাম ও মো. মহিম উদ্দিন। পরে অতিথিরা বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অবসরে গেলেন প্রিয় শিক্ষক, ভালোবাসার টানে ভাসলেন শিক্ষার্থীদের আবেগে

জাকির হোসেন
দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : একজন শিক্ষক কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, তিনি গড়ে তোলেন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। সেই শিক্ষক যখন কর্মজীবনের ইতি টানেন, তখন তাঁর প্রতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায় ভিন্নমাত্রায়। খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এমনই এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হলো হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়।

দীঘিনালা উপজেলার হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু সামার অবসর উপলক্ষে তাঁকে ব্যতিক্রমী বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর অবসর গ্রহণ ও জন্মদিন উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে কেক কাটা, সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান এবং নানা উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। প্রিয় শিক্ষককে ঘিরে সহকর্মী, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবো প্রিয় বড়ুয়া বলেন, মো. আবু সামা অত্যন্ত দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও নিবেদিতপ্রাণ একজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি আরিফ মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, স্যার তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে আলোর দিশা দেখিয়েছেন। আজ আমরা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অবস্থানে রয়েছি, তার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক মো. আবু সামা। কান্নাভেজা চোখে তিনি সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ব্যান্ডের তালে তালে শিক্ষার্থীরা তাঁর গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন। পরে ফুল দিয়ে সাজানো একটি গাড়িতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা গাড়ির সামনে দড়ি বেঁধে টেনে বিদ্যালয়ের ফটক পর্যন্ত নিয়ে যান। এরপর মোটরসাইকেলের হর্ন, ব্যান্ডের সুর এবং উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন।

মো. আবু সামা ১৯৯০ সালে হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা শেষে বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান। তাঁর এই বিদায় আয়োজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গভীর সম্পর্ক ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

চা বিক্রেতার মেয়ের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এলেন জেলা প্রশাসক

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা এক চা বিক্রেতার মেয়ের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। একইসঙ্গে চিকিৎসা ও জীবিকার সংকটে থাকা কয়েকজন অসহায় মানুষের আবেদন শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা তাদের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এ সময় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীও অনলাইনে যুক্ত হয়ে অভিযোগ ও আবেদন জানান।

গণশুনানিতে বোয়ালখালীর উত্তর চরণদণ্ডী এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে তার বাবা শাহ আলম একজন চা বিক্রেতা হওয়ায় পারিবারিক সীমিত আয়ের কারণে ভর্তি ফি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।

শিক্ষার্থী আরও জানান, এর আগেও তিনি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু অর্থসংকটে ভর্তি হতে পারেননি। এবারও একই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চান তিনি।

বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তার উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

এছাড়া পটিয়ার ধলঘাট এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন দস্তিদার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনিতে পাথর ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন তিনি। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

গণশুনানিতে আরও কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি চিকিৎসা, জীবিকা ও বসতবাড়ি সংস্কারের জন্য সহায়তা চান। জেলা প্রশাসক তাদের আবেদনগুলো শুনে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও আবেদনও গুরুত্বের সঙ্গে শুনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক।

দুর্গম পাহাড়ে বিশুদ্ধ পানির নতুন আশা, পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ বাঙ্গালা করুনা পাড়া। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের এই এলাকায় পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, কাঁচা-পাকা সড়ক, এমনকি নদীপথও। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ ছিল সুপেয় পানির সংকট।

প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানির সন্ধানে পাহাড়ি নারী-পুরুষ ও শিশুদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। নিরাপদ পানির অভাবে নানা পানিবাহিত রোগে ভুগতেন অনেকে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে ছিল বাঙ্গালা করুনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হলো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে সৌরশক্তিচালিত সাবমার্সিবল টিউবওয়েল, যা এখন এলাকাবাসীর জন্য নিরাপদ পানির নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার ৫ নম্বর বাবুছড়া ইউনিয়নের এই পাহাড়ি পাড়ায় টিউবওয়েলটির উদ্বোধন করেন ০৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দি বেবি টাইগার্স’-এর দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন এসইউপি, পিএসসি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয়দের দুর্ভোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সৌরশক্তিচালিত এই টিউবওয়েলের মাধ্যমে এখন সারা বছর এলাকাবাসী নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারবেন এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরাও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবে।

অনুষ্ঠান শেষে জোন অধিনায়ক স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা, যোগাযোগসহ নানা সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি এলাকায় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগের কথাও জানান। পরে তিনি বাঙ্গালা করুনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নোবেল চাকমা বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের পাড়ার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তির বিষয়।

বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা বলেন, দুর্গম এই এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব ছিল মানুষের প্রধান সমস্যা। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট ঘুচিয়ে পাহাড়ি এই জনপদে এখন বইছে স্বস্তির স্রোত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

কৃষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রাঙ্গুনিয়ায় ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি মেলা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী “ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬”।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইমরুল কায়েস জানান, ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চলবে এ মেলা। মেলায় কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল বিভিন্ন কৃষি উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে।

এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ “ক্লাইমেট স্মার্ট স্কুল অ্যান্ড ক্লাব কর্নার”, যেখানে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য জলবায়ু সহনশীল কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনে সহযোগিতা করছে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প (ডিএই পার্ট)।

আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ মেলা কৃষকদের মধ্যে আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও টেকসই করতে সহায়ক হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় “মেধা-বিজ্ঞান উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে উপজেলার ১৬টি স্কুল ও ৪টি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প, প্রযুক্তি ও নতুন ধারণা উপস্থাপন করেন। এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে মোট ২০টি স্টল স্থান পায়। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প ও সৃজনশীল উদ্যোগে পুরো আয়োজন মুখর হয়ে ওঠে।

প্রদর্শনী শেষে সেরা প্রযুক্তি প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে রাঙ্গুনিয়া খীলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অতিথিরা পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেন।

বিকেলে প্রদর্শনীর স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। শিক্ষার্থীরাও উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের প্রকল্প উপস্থাপন করেন।

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার (শিক্ষা) সুমন শর্মা।

শিক্ষক হারুন সিকদারের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সোহেল, তানহা সুলতানা, অসীম কুমার শীল, পরম কান্তি দাশ এবং নাছির উদ্দিন সিকদার।

বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের প্রাণবন্ত আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং উদ্ভাবনী মনোভাব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষক প্রদীপ সাহার মৃত্যুতে শোকের ছায়া

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক মাস্টার প্রদীপ সাহা আর নেই। তিনি রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ওই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। এলাকাবাসীর মতে, তিনি একজন আদর্শ, সৎ ও মানবিক শিক্ষক ছিলেন।

তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

শাহেদুল ইসলাম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, “আপনাকে নিয়ে স্কুল জীবনে অনেক স্মৃতি জমে আছে স্যার। হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আমাদের প্রিয় স্যার বাবু প্রদীপ সাহা এই মায়ার জগৎ ছেড়ে চলে গেছেন। সবাই তাঁর জন্য প্রার্থনা করবেন। আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত।”

মুসাফির ইয়াকুব নামের আরেকজন লিখেন, “লালানগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ও সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বাবু প্রদীপ সাহার মৃত্যুতে পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।”

মুহাম্মদ ফারুক লিখেন, “অত্যন্ত বেদনার সাথে জানাচ্ছি যে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রদীপ সাহা আর নেই। তিনি শুধু শিক্ষক নন, জীবন গড়ার দিশারী ছিলেন। তাঁর দেখানো পথেই আমরা চলবো। তিনি সবসময় হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

স্থানীয়রা জানান, প্রদীপ সাহা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শ শিক্ষক। শিক্ষা বিস্তার ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষা অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রিকেট ম্যাচে হুমামকে হারিয়ে সামানজারের জয়, সম্মাননা পেল সাহসী চার কিশোর

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল কর্ণফুলী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা সেই চার সাহসী কিশোরকে সম্মাননা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্মাননা তুলে দেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক ও সহমর্মিতা জানিয়ে নগদ অর্থ, টিন ও শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। সাহসী চার কিশোরকে জড়িয়ে ধরে তাদের মানবিক ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া শিশু ও তার অভিভাবকদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একে এস খান হোল্ডিংস ও একে এস খান হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার খান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে ফাইনালে অংশ নেওয়া পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ ও সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অতিথিরা। উদ্বোধনী পর্বে হুমাম কাদের চৌধুরীর করা বলে ব্যাট চালিয়ে প্রতীকী উদ্বোধন করেন সামানজার খান।

টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ। খেলায় পৌরসভা দলের সমর্থনে ছিলেন সামানজার খান, আর সরফভাটা ইউনিয়ন দলের পক্ষে সমর্থন জানান এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত হুমামের সমর্থিত দলকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় সামানজারের সমর্থিত দল।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উদ্ধারকাজে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া চার কিশোর— মুহাম্মদ রবিউল্লাহ, মুহাম্মদ সাইমন, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ অলিউল্লাহর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী, সামানজার খান এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও উদ্ধার হওয়া শিশুর পরিবারের হাতে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে টিন পৌঁছে দেওয়া হয় বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয় চার কিশোরের সাহসিকতায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুসন্ধান চালানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে অনুষ্ঠানের স্মারক হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হুমাম কাদের চৌধুরী ও সম্মানিত অতিথি সামানজার খানের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ইউএনও মো. নাজমুল হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ব্যস্ততার কারণে অংশ নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। পরে তিনি ভাবেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন ক্রীড়াপ্রেমী এবং আরাফাত রহমান খোকো জীবিত থাকাকালে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সেই চিন্তা থেকেই শত ব্যস্ততার মাঝেও এ আয়োজনে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতেই তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের এবং উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, নিজস্ব মাঠ না থাকা সত্ত্বেও সরফভাটা ইউনিয়ন দল ফাইনালে পৌঁছেছে, যা প্রশংসনীয়। সরফভাটায় একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করা গেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় ক্রিকেট ও ফুটবল দলে রাঙ্গুনিয়ার প্রতিনিধিত্ব দেখতে চান বলেও জানান তিনি। খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।

এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচ উপভোগের জন্য আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্টদের টিকিটের ব্যবস্থা করবেন তিনি। পরে বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

দায়িত্বশীল জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাঙ্গুনিয়ায় ডিসি জাহিদুল ইসলাম

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : “একটি দায়িত্বশীল ও সুস্থ জাতি গঠনে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা আমাদের বাস্তব জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। জয়কে কীভাবে উপভোগ করতে হয়, পরাজয়কে কীভাবে মেনে নিতে হয়—এসব আমরা খেলাধুলার মাধ্যমেই শিখি।”

এভাবেই তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (১৮ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত “অন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব কথা বলেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের জীবন ও খেলাধুলার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। জীবনে যেমন সবসময় সুখ বা ভালো সময় থাকে না, তেমনি খেলাধুলাতেও সবসময় জয় আসে না। জয়-পরাজয় মিলিয়েই প্রতিটি খেলা। তবে পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে না নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই একজন মানুষকে সফলতার পথে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “যদি কেউ পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তাহলে সে সত্যিকার অর্থে হেরে যায়। কিন্তু যদি সে নিজের চেষ্টা ধরে রাখে, তাহলে তার জয় অনিবার্য।”

বর্তমান বিশ্বকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ উল্লেখ করে ডিসি বলেন, যার যত দক্ষতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তার নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগও তত বেশি। এজন্য কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও স্বপ্নকে ধারণ করে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও লক্ষ্য ছাড়া সুন্দর কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তরুণদের সামনে এখন অনেক দায়িত্ব। শুধু সফল হওয়াই নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”

তরুণ সমাজের সামনে বর্তমানে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, মাদকাসক্তি এবং ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন গেমে আসক্তি তরুণদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের ১৮ কোটি মানুষ ও ৩৬ কোটি হাতকে দেশের মূল সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সম্পদ যদি প্রযুক্তির নেতিবাচক দিকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা চাই তরুণদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে।”

এ সময় অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তারা বড়দের অনুসরণ ও অনুকরণ করতে শেখে।

সন্তানদের সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাবা-মা যদি সন্তানকে সময় না দেন, তাহলে বড় হয়ে সন্তানেরাও বাবা-মাকে সময় দেবে না। আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক উপজেলার পোমরা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন ও ইউনিয়ন পরিষদস্থ পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলা আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় উপজেলাস্থ সেবাপ্রার্থীদের জন্য ওয়েটিং রুম কাম লাইব্রেরি উদ্বোধন এবং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পরিদর্শন করেন তিনি।

 

রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুরু, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বছরব্যাপী ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শনিবার উপজেলার গুমাইবিল ও সরফভাটায় শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়।

কর্মসূচি চলাকালে এক বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া ২০২৬” ভিশন সামনে রেখে চলতি বছরের মধ্যে ৫০ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তবে তার আগেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজার গাছ রোপণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দেশের মঙ্গল ও পরিবেশ রক্ষায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকেই প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও দেশ গড়ার কাজে তারা নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় জনসাধারণের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, “আপনারা যে যেখানে পারবেন, প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় কয়েকজন মিলে অন্তত কয়েকটি করে গাছ লাগান। নিজেদের উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে তার ছবি আমাদের ফেসবুক পেজে ট্যাগ করতে পারেন। আমরা রাঙ্গুনিয়ায় একটি সবুজ বিপ্লব গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে, কারণ মাঠে কাজ করা কৃষকদের বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ফলজ, বনজ ও অন্যান্য গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া” বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অভিজ্ঞতা অর্জনের পরামর্শ দিয়ে ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার আহ্বান এমপি হুমামের

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তরুণদের ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

সোমবার (৪ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রাঙ্গুনিয়া আয়োজিত অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ও টেকাব প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে সনদপত্র, ভাতা ও ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, সংসদে নতুন হওয়ায় শুরুতে অনেক কিছু শেখার প্রয়োজন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করে পরে কথা বলার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। “অনেক কিছু বোঝার ও শেখার ছিল বলেই কিছুটা দেরিতে বক্তব্য দিয়েছি,” বলেন তিনি।

ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই বক্তব্যের শুরুতে দীর্ঘ সময় অতীত স্মরণ করতে গিয়ে মূল বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হারান। “আমরা যদি সবসময় ইতিহাস নিয়েই পড়ে থাকি, তাহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা ও এগোনোর সুযোগ কমে যায়,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস জানা জরুরি, তবে সেটিকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রশিক্ষণকে প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অংশগ্রহণকারীদের আরও দক্ষতা অর্জনের জন্য ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেকে মনে করেন সংসদে আসাটাই বড় অর্জন। কিন্তু আমার কাছে কাজ এখনো শুরু মাত্র। চল্লিশ পেরিয়েও প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি।”
তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আমাকে শুধু পথ দেখান, কাজ আমি নিয়ে আসব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মীর মো. নজমুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন।

এদিকে একই দিনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন হুমাম কাদের চৌধুরী। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তিনি শিক্ষার উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তিনি।

রাঙ্গুনিয়ায় গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল, রাজাভুবন ও গজালিয়ার জয়োল্লাস

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার শিশুমেলা মডেল স্কুল মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ (বালক ও বালিকা) এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বালক বিভাগে রাজাভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। একইভাবে বালিকা বিভাগে গজালিয়া আছাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিরোপা জিতে নেয়।

খেলা ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, গ্যালারিতে অভিভাবকদের উচ্ছ্বাস এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি। প্রতিটি আক্রমণ, গোল ও রক্ষণভাগের লড়াইয়ে ফুটে ওঠে শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রাণী গোপ। এ সময় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, খেলাধুলা শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, রাঙ্গুনিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের মাঝে ট্রফি ও সম্মাননা পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সরফভাটায় স্থায়ী খেলার মাঠের দাবিতে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটায় যুবসমাজকে মাদকের আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং শিশু-কিশোরদের বিনোদন ও স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থায়ী খেলার মাঠের দাবিতে একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা ইউনিয়নের পুড়ামুড়া এলাকার একটি মাঠে এ ম্যাচের আয়োজন করা হয়। এতে সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরাও অংশ নেন।

১৬ ওভারের খেলায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সরফভাটার তরুণ ক্রিকেটাররা ২১৪ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। জবাবে সরফভাটার সাবেক ক্রিকেটাররা ১৫০ রানে অলআউট হলে ৬৪ রানের ব্যবধানে জয় পায় উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটাররা।

খেলায় অংশগ্রহণ করেন এস এ মুরাদ চৌধুরী, সোহেল রানা, রিকু, মামুন, জামাল, জুয়েল, মুন্না, সোহেল, ইউনুস, সাঈদ, সাজ্জাদ, তারেক, ওসমান, আকিব, ইরফান সিফাত, কোরবান প্রমুখ।

এ সময় ক্রীড়া সংগঠক এস এ মুরাদ চৌধুরী বলেন, সরফভাটা রাঙ্গুনিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। অথচ এ এলাকায় সর্বসাধারণের জন্য কোনো স্থায়ী খেলার মাঠ নেই। যে স্থানে প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটিও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে খেলার মাঠ থাকলেও সরফভাটা দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সরফভাটায় একটি স্থায়ী খেলার মাঠ নির্মাণের জোর দাবি জানান।

আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী খেলার মাঠের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে আবারও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

আয়োজকদের মতে, এলাকায় একটি খেলার মাঠ নির্মিত হলে তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হবে, যা মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে এবং সামাজিক শান্তি ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মহিবুল্লাহ মারুফী, আজগর, আলমগীর সিকদার, মান্নান, লিয়াকত, সবুজ, বি,এস করিম, এস,এম সালাউদ্দীন প্রমুখ।

কাঁচা সড়কে ভরসা, বর্ষায় বন্ধ স্কুলে যাওয়া—রাঙ্গুনিয়ার হালিমপুরে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : দুর্গম এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে আশোবা ওয়াজেদ প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা সড়কের দুরবস্থার কারণে বর্ষা এলেই কার্যত থমকে যায় পাঠদান কার্যক্রম। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে শত শত শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১ নম্বর রাজানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমপুর এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৯ সালে এলাকার কৃতি সন্তান অধ্যাপক ডা. ওয়াকিল আহমদ তাঁর মরহুম পিতা-মাতার নামে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে ইতোমধ্যে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে নিয়মিত পড়াশোনা করছে। হালিমপুরসহ বাইশ্যের ডেবা, গাজী বাড়ি, বাইশ্যের বাড়ি, মোহাম্মদপুর, দরবানীর বাড়ি ও ফুল বাগিচা গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এক থেকে দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে আসে।

কিন্তু বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা সড়কটি এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই সড়কটি কাদামাটিতে পরিণত হয়ে পড়ে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও পিচ্ছিল ও জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে সড়কটি তখন প্রায় অচল হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “শুকনো মৌসুমে আমরা নিয়মিত স্কুলে আসতে পারি। কিন্তু বর্ষা শুরু হলেই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে, কাপড় নষ্ট হয়ে যায়—তাই অনেক সময় স্কুলে আসা সম্ভব হয় না।”

অভিভাবকদের অভিযোগও একই। স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করুক—এটাই চাই। কিন্তু বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ থাকে যে তাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। অনেক সময় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরাম হোসেন বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বর্ষা এলেই তা অর্ধেকে নেমে আসে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত আসতে পারে না, ফলে তাদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। সড়কটির উন্নয়ন হলে শিক্ষার পরিবেশ অনেক ভালো হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা বখতেয়ার উদ্দিন বলেন, “এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটেছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল অবস্থার কারণে সেই সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।”

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর কাছে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এমপির প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করে বর্ষা মৌসুমেও চলাচল উপযোগী করা হোক।

রাঙ্গুনিয়ায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে আবারও ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা ও আগ্রহ।

এই কর্মসূচিকে বাস্তব রূপ দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) তিনি রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় এবং খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তারা খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তারা বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা একটি সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এই কর্মসূচিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া পরিদপ্তরের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে বাছাইয়ের মাধ্যমে সেরা প্রতিভাদের খুঁজে বের করে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে।

স্কুলভিত্তিক এই কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ইতোমধ্যে বিভিন্ন খেলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এখন আর শুধু একটি কর্মসূচি নয়—রাঙ্গুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠছে।

এইচএসসি পরীক্ষায় সেনা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। সেনাবাহিনীর অধীনে পরিচালিত ৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৮ হাজার ৭১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮২৬ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৩৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা জাতীয় পর্যায়ে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৭টি বাংলা মাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭ হাজার ১৫৬ জন, ১২টি ইংরেজি মাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৭১ জন এবং ১২টি ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজসমূহে বিদ্যমান শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিবিড় পাঠদান, শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়কে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সেনাসদরের দিকনির্দেশনা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের নিয়মিত তদারকি, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষবৃন্দের কার্যকর নেতৃত্ব, অনুষদ সদস্য ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতাও এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।  সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

এবছর সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একযোগে নিজেদের মতো করে ফল প্রকাশ করেছে।

গত ২৬ জুন শুরু হয় এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিলেন। চলতি বছর নয়টি সাধারণ বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন, যা গত বছরের চেয়ে ৭২ হাজার ৮৮৩ জন কম। ৪ হাজার ৮০৮টি প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ১৬০৫টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৬ হাজার ১০২ জন, যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৯৭৪ জন কম। ২ হাজার ৬৮২টি মাদ্রাসার এসব পরীক্ষার্থী ৪৫৯টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৭ হাজার ২৫ জন কম। ১ হাজার ৮২৪টি প্রতিষ্ঠানের এসব পরীক্ষার্থী ৭৩৩টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় বসেন। গত ১৯ অগাস্ট এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। ২১ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

দেশজুড়ে টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ায়ও উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রম রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় পাঁচ কোটি শিশু ও কিশোর বিনামূল্যে এই টিকা পাবেন। জন্মনিবন্ধন না থাকা শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। কর্মসূচি মাসব্যাপী চলবে এবং ১৩ নভেম্বর শেষ হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া শিশু মেলা মডেল স্কুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে ‘জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুমানা রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শরমা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জন্মসনদবিহীন শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত এই টিকাটি আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহায়তায় সরকার পেয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এই টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে ইতিমধ্যেই সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোনো দেশে বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় টিকা পাবেন। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী অন্যান্য শিশুকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। শহরের পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও।

সরকারের লক্ষ্য—এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু নিবন্ধন করেছে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জন্মসনদ না থাকলেও নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় নিবন্ধন করা যাবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে, যা শিশুদের ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।

প্রথম ১০ কর্মদিবসে বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান চলবে এবং পরবর্তী ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল-মাদ্রাসায় টার্গেট ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন এবং কমিউনিটি টার্গেট ৩৩ হাজার ৭২৩ জন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪২০টি স্কুল-মাদ্রাসায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।

কোরআনের শিক্ষা আলোকিত জাতি তৈরি করে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা উদ্বোধনকালে বক্তারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): পবিত্র কোরআনের শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে রাঙ্গুনিয়ার ধামাইরহাটের উত্তর পাশে আজম বাড়ি জামে মসজিদের পূর্বপাশে নতুন মাদ্রাসা মারখাজুল উলুম তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন আগত অতিথিরা।

উদ্বোধনের পর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী খাজা গিয়াস উদ্দিন ছালেকী, এবং যৌথ সঞ্চালনা করেন কাজী মুহাম্মদ আলমগীর ও এডভোকেট ফরহাদুল আলম জুয়েল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দারুল উলুম ইসলামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম শায়েখ আল্লামা সায়দ হোসাইন বলেন, “পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি আলোকিত হতে পারে না। এই মাদ্রাসা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি এলাকার মানুষকে আল্লাহর কিতাবের সাথে সংযুক্ত করার পথ খুলে দেবে।”

প্রধান বক্তা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী এর আমির মাওলানা হাসান মুরাদ বলেন, “আজকের উদ্যোগ কোরআনপ্রেমী জনসাধারণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা কোরআন মুখস্থ করবে এবং ইসলামের আদর্শে গড়ে উঠবে।”

প্রধান আলোচক, আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মাদ্রাসা হলো সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশনার বাতিঘর। নতুন প্রজন্মকে কোরআনের সঙ্গে যুক্ত করতে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

বিশেষ অতিথি, প্রবীণ আলেমে দ্বীন আল্লামা সুলতান আহমদ বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক গঠনেও গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের সম্পদে পরিণত হবে।”

মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ মুফতি আনাস স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মদ শওখত হোসাইন, মাওলানা শাহ আলম, সরওয়ার হোসাইন, জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, সরওয়ার আলম, মুহাম্মদ মুছা, মীর আজিজুর রহমান, এডভোকেট আজিম উদ্দিন লাভলু, সেলিম, রফিক, আনোয়ার, হারুন, আজিজুল হক, হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিনিয়ার আরিফ হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কোরআনের প্রাথমিক ছবক প্রদান এবং ভর্তি ফরম বিতরণ করা হয়।