নির্বাচনের দিন ঝামেলা করলে সরাসরি ব্যবস্থা: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনাকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন কাউকে আর সতর্ক করা হবে না, সরাসরি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আজই আমরা শেষবারের মতো সতর্ক করে দিচ্ছি। নির্বাচনের দিন কেউ যদি কোনো কেন্দ্রে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাকে সতর্ক করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। শুধু ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ এবং আনসার ও ভিডিপির পরিচালক ও জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার এবং কর্ণফুলী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র।

জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার—“নো ড্রামা, নো লবিং।” নির্বাচনের দিন কেউ ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করলে সে যেই হোক, তাকে আর সতর্ক করার সুযোগ দেওয়া হবে না; সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকার থেকে নিবিড়ভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। “আমাকে যেমন রিটার্নিং অফিসার হিসেবে মনিটর করা হচ্ছে, তেমনি আপনাদের প্রতিটি কার্যক্রমও মনিটর করা হচ্ছে। কোনো ধরনের চালাকি বা অসততার আশ্রয় নেবেন না,” বলেন তিনি।
প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে, আইনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আনসার বাহিনীর মোবাইলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের বডি-অন ক্যামেরা, সেনাবাহিনী ও বিজিবির উপস্থিতিসহ প্রতিটি কেন্দ্র জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন তাকে কেউ দেখছে না, তাহলে তিনি ভুল করছেন। সবকিছু মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে।
নিজ নিজ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে আগামী প্রজন্ম বড় হবে। এখানে কেউ জিতবে, কেউ হারবে; তবে প্রশাসনের লক্ষ্য হবে বাংলাদেশকে জেতানো।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সপ্তাহের দিন-তারিখ বা সময় না দেখে প্রশাসনের সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মনিটরিং ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনো কিছু লুকানোর সুযোগ না থাকে।

জাতির প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। কারও দায়িত্বে ব্যত্যয় ঘটলে তার দায় সরকার বা নির্বাচন কমিশন নেবে না।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের সুযোগ নেই। ভালোবাসা থাকতে হবে রাষ্ট্রের প্রতি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের গায়ে যে কালিমা লেগেছে, তা মুছে ফেলার এখনই সুযোগ। কোনো সংশয় থাকলে তা ঝেড়ে ফেলে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এলাকায় কোনো ভয় বা আতঙ্ক থাকলে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার দোহাই দেওয়ার সুযোগ নেই।

শেষে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে আমার সন্তান কারও গোলাম হবে না। আমরা সরকারি কর্মচারীরা কারও ব্যক্তিগত গোলাম হব না—আমরা রাষ্ট্রের গোলাম হতে চাই।” তিনি সবাইকে বিবেকবান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

গণভোটের বার্তা পৌঁছাবে প্রতিটি ঘরে, রাঙ্গুনিয়ায় প্রশাসনের প্রস্তুতি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাঙ্গুনিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসনের প্রচারণাও জোরদার হয়েছে। গ্রাম পুলিশ ও চৌকিদারদের মাধ্যমে গণভোটের বার্তা প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ‘Uno Rangunia’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে এই কার্যক্রমের কথা জানানো হয়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, “গণভোটের প্রচারণা। গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা।”

প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নারী ও পুরুষ গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দুই সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের হাতে গণভোট সংক্রান্ত লিফলেট তুলে দিচ্ছেন ইউএনও নাজমুল হাসান। এ সময় তারা লিফলেটগুলো উঁচিয়ে ধরেন।

এদিকে ইউএনওর ওই পোস্টের নিচে এমডি আশেক এলাহী নামের এক ব্যক্তির মন্তব্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ৯০ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে বাড়িতে গণভোটের লিফলেট পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ।”

প্রশাসনের এই উদ্যোগের পাশাপাশি নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে: চট্টগ্রামে সেনাপ্রধান

ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বৃহস্পতিবার একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি।

মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও কার্যকর কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান চট্টগ্রামের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।

এছাড়াও সভায় তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানানো হয়।

স্ট্যাটাসে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

লাখো মানুষের শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন বেগম খালেদা জিয়া, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেত্রীর বর্ণাঢ্য জীবনের শেষ আনুষ্ঠানিকতার।

এর আগে বুধবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়িটি কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জিয়া উদ্যানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা কাঁধে করে কফিন সমাধিস্থলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম ও সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্বামীর কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মো. আব্দুল মালেক। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তিন বাহিনীর প্রধান ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও জানাজায় উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান।

জানাজার আগে মায়ের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আপনারা সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন। এর আগে সকালে গুলশান এভিনিউয়ের বাসায় মায়ের কফিনের পাশে বসে তাঁকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতে দেখা যায়।

জানাজাস্থলে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ সময় তিনি ভারতের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তা তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। একইভাবে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকও সাক্ষাৎ করে শোক ও সমবেদনা জানান।

বুধবার দুপুর ১২টার কিছু পরে খালেদা জিয়ার কফিনবাহী গাড়ি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়। এর আগে সকাল ১১টার দিকে গুলশান এভিনিউয়ের বাসা থেকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি যাত্রা শুরু করে। এ সময় মানিক মিয়া এভিনিউ, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকাজুড়ে মানুষের ঢল নামে। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।

জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া।

লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন।

জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে দলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। বিশাল জনসমাগমে পুরো এলাকা শোকাবহ পরিবেশে পরিণত হয়।

খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এ সময় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে দাফনের জন্য জিয়া উদ্যানে নেওয়া হবে। সেখানে তার স্বামী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ২৭ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর, ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লাখো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এ জানাজাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ

ডেস্ক রিপোর্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শুরুতেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।

সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল থেকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, যা পাঠ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।

রাষ্ট্রীয় শোক পালনকালে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।

বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া জানান, আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে শহিদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসহ সব আনুষ্ঠানিকতায় সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আজ আমরা গভীর শোকের সময় একত্রিত হয়েছি। তাঁর চলে যাওয়া জাতির জন্য বিরাট ক্ষতি। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। সেদিন তিনি খুব উৎফুল্ল ছিলেন। নিজে অসুস্থ থাকলেও সবার খোঁজখবর নিয়েছেন। জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর উপস্থিতি আমাদের খুব প্রয়োজন ছিল।”

সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ (Chief Adviser GoB)

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা কাল, দাফন শহীদ জিয়ার পাশে

ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, বাদ যোহর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, “কাল বাদ যোহর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের ছুটি ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি একজন মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত বলে উল্লেখ করেন।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মরহুমার পরিবারের সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং কর্মী-সমর্থকদের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব জাতিকে বারবার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণ করবে এবং এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হবার নয়।

শোকাবহ এই সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কেউ যেন এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

ভাষণে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাঁর নামাজে জানাযার দিন একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণাও দেন।

নামাজে জানাযাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আবেগাপ্লুত হলেও সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে জাতির জন্য ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্য কামনা করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং তাঁর সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান।

নির্বাচনকে সামনে রেখে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সব ধরনের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে মোকাবিলা করা জরুরি। সরকার নাগরিক সেবাসমূহ ধাপে ধাপে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সেবা সুরক্ষিত ও নির্বিঘ্ন রাখতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নাগরিক সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ রাখতে হবে। পাশাপাশি এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জনবলকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে একটি রেটিং পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে, যাতে সাইবার সুরক্ষাসহ সার্বিক সক্ষমতার বাস্তব মূল্যায়ন সহজ হয়। একই সঙ্গে ফিনান্সিয়াল সেক্টরে সংঘটিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে কেউ যেন পার পেয়ে না যায়, সে বিষয়ে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও কিছু প্রতিষ্ঠানকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।

এছাড়া আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বিটিআরসি’র মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর সভায় গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর সভায় বলেন, ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও কিছু কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

সভায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এজেন্সির কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং সাইবার অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য প্রণীত “Cyber Incident Reporting and Response System” সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

উল্লেখ্য, ২১ মে ২০২৫ তারিখে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়নের পর সংশোধিত এ অধ্যাদেশের আওতায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২৬ আগস্ট ২৫ সদস্যের জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজ (Chief Adviser GOB – Verified Page)

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে—তারেক রহমান

ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এ দেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায় শোধ করতে হবে।”

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে দেশ গড়ার নেতৃত্ব দেবে। গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর বাংলাদেশকে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি পরপর তিনবার বলেন, “আমরা দেশের শান্তি চাই।”

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উক্তির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।” তিনি জানান, দেশ গড়ার একটি পরিকল্পনা তার রয়েছে এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বক্তব্যে তারেক রহমান আরও বলেন, “১৯৭১ সালে যেমন দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালেও তেমনভাবে সর্বস্তরের মানুষ এক হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ও গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।”

তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে পাহাড় ও সমতলের মানুষ, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই আছে। আমরা এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশু—সবাই নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবে।”

এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙে সাজানো একটি বাসে করে তারেক রহমান পূর্বাচলের গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান। বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি মঞ্চে ওঠেন এবং বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, “প্রিয় বাংলাদেশ।”

মঞ্চে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

শান্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ধীর থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

ডেস্ক: শান্ত ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যেকোনো উসকানির মুখে ধীর ও শান্ত থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “এই মঞ্চে যারা আছেন এবং যারা বাইরে আছেন—আমরা সবাই মিলে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেকোনো উসকানির মুখে আমাদের ধীর ও শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।”

দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষের উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে স্বাগত জানান।

পরে বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙে সাজানো একটি বাসে করে তিনি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় তারেক রহমান স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। আজ সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে ফ্লাইটটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তায় যৌথ বাহিনী অভিযান জোরদার

ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখন থেকে নিয়মিতভাবে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হবে। এই তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “অভিযান বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং আমরা বলেছি, এটা নিয়মিতভাবে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। প্রতিদিনই প্রায় দুই হাজার জন করে গ্রেপ্তার হচ্ছে।”

এর আগে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এর নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, তিন বাহিনী প্রধান বা তাদের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, র‍্যাব, আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের চার সদস্য—আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ অংশ নেন।

এছাড়া, দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বৈঠক করেন। ভোটের তফসিল ঘোষণার পর এটি তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রথম সাক্ষাৎ।

শহিদ হাদির জানাজার সময় পরিবর্তন হয়ে বেলা দুইটায়

ডেস্ক: শহিদ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা পূর্ব ঘোষিত সময়ের পরিবর্তে শনিবার বেলা দুইটায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজ ( Chief Adviser GOB) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয় আগামীকাল বেলা দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহিদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে নামাজে জানাজা বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠিত হবার ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো।

শহিদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজায় যারা অংশ নিতে আসবেন তারা কোন প্রকার ব‍্যাগ বা ভারি বস্তু বহন না করার জন‍্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় ড্রোন উড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজ ( Chief Adviser GOB)।

দেশে পৌঁছেছে শহিদ ওসমান হাদির মরদেহ, শনিবার সংসদ ভবন এলাকায় জানাজা

ডেস্ক: সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট দেশে পৌঁছেছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এদিকে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহিদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের কোনো প্রকার ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এ সময় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক, পরিবারের দায়িত্ব নেবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক: সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান টেলিফোনে তাঁকে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছেন। তিনি মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাকে শহিদ হিসেবে কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শরিফ ওসমান হাদির অকাল মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, পরিবার-পরিজন, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, শহিদ শরিফ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।

তিনি জানান, শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবনে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

এছাড়া শুক্রবার বাদ জুম্মা দেশের প্রতিটি মসজিদে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

ভাষণে সিঙ্গাপুর সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শরিফ ওসমান হাদির চিকিৎসায় তারা আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান, যিনি একজন চিকিৎসকও, ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা তদারকি করেছেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর রেখেছেন।

শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন প্রতিবাদের প্রতীক ও বিপ্লবী চেতনায় উজ্জীবিত এক তরুণ নেতা। তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি সবাইকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার অনুরোধ জানান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। রাষ্ট্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি

ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পোস্টে বলা হয়, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদীকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।”

একই ধরনের বার্তা শরিফ ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেদিন রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন, দেশবাসীর প্রতি দোয়া ও শান্ত থাকার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক: সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এই অবস্থায় দেশবাসীর প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা যায়, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান আজ সেখানে গিয়ে শরিফ ওসমান হাদিকে দেখতে যান। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং হাদির চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

ফোনালাপে ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান জানান, শরিফ ওসমান হাদির বর্তমান শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।

বিজয়ের আকাশে ইতিহাস, প্যারাস্যুটিংয়ে বিশ্বরেকর্ড বাংলাদেশের

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সর্বাধিক জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর সংলগ্ন প্যারেড গ্রাউন্ডে সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

প্যারাস্যুটিং প্রদর্শনীতে ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন দক্ষ প্যারাট্রুপার অংশ নেন। একযোগে জাতীয় পতাকা হাতে আকাশ থেকে অবতরণের মাধ্যমে তারা বিশ্বের সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেন।

এই গৌরবোজ্জ্বল আয়োজন প্রত্যক্ষ করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানকে আরও বর্ণিল করে তোলে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে আয়োজিত ফ্লাইপাস্ট মহড়া। এ সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার আকাশে নান্দনিক ও কৌশলগত মহড়া প্রদর্শন করে, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

বিজয় দিবসের এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম ও সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মহান বিজয় দিবস: স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা

ডেস্ক: মহান বিজয় দিবসে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করা হয়।

সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে তিনি মহান বিজয় দিবসের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সূচনা করেন।

এরপর সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে বর্ণিল আয়োজন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকেই লাল-সবুজের আলোকসজ্জায় ঝলমল করে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। বিজয়ের এই আনন্দঘন আয়োজন নগরবাসীর মাঝে সৃষ্টি করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর উদ্যোগ, সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল দুপুরে একটি মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। রোববার রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নির্দেশে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতাল–এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর এবং ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির মধ্যে এক জরুরি কল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনাতেই তাকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত দুই দিন ধরে ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালে যোগাযোগ করে। আজ এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ সায়েদুর রহমান জানান, বর্তমানে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং অপরিবর্তিত রয়েছে।

আগামীকাল দুপুরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল–এর অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি বিভাগে তার চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওসমান হাদির চিকিৎসাসংক্রান্ত সকল ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। পাশাপাশি তার চিকিৎসা কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এদিকে, ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শে মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

চট্টগ্রাম: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা–এর সভাপতিত্বে এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবির, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ মোতাহার হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ নাজির আহমেদ খান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শরীফ উদ্দিন।

বক্তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে জাতির মেধা ও মনন ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের ইতিহাস তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ ও চিন্তা-চেতনা ধারণ করেই একটি মানবিক, প্রগতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মহান আত্মত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে। তবেই পূর্ণতা পাবে আত্মত্যাগকারী অগ্রজদের স্বপ্ন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ওসমান হাদির ভাইয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার ফোনালাপ: সর্বোচ্চ সহযোগিতার নিশ্চয়তা

ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, রাত ৯টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ওমর বিন হাদির একটি টেলিফোন আলাপ হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় উপদেষ্টা পরিষদ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও ব্যথিত।

তিনি আরও বলেন, “হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যে আমি কয়েকজন উপদেষ্টাসহ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছি। বৈঠক থেকে দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

হাদির চিকিৎসা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সকল চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে। প্রয়োজন হলে দেশে-বিদেশে সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।

ওসমান হাদির প্রতি তার ব্যক্তিগত উদ্বেগ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “হাদি আমাদের সবার অতি আপন ও স্নেহের মানুষ। আমরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। তিনি খুব শিগগিরই সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন—এই দোয়া রইল।”

তফসিল ঘোষণা পরবর্তী নির্বাচন কমিশনকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা

ডেস্ক রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন আদেশ–এর ওপর গণভোটের তফসিল ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তফসিল ঘোষণার পর প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘এই তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করল। ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ এখন যে নতুন পথে অগ্রসর হচ্ছে—এই নির্বাচন ও গণভোট সেই পথরেখাকে দৃঢ় করবে, গণমানুষের মতকে প্রাধান্য দেবে এবং নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি আরও সুসংহত করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে স্বাধীনভাবে, নিরপেক্ষভাবে এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে। নির্বাচন ও গণভোটকে উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।’

দেশের রাজনৈতিক দলসমূহ, প্রার্থী, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং সর্বোপরি দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন ও গণভোটকে একটি জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক আচরণ আমাদের সামনের দিনগুলোকে আরও স্থিতিশীল করবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ নতুন ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। আপনাদের সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে আমরা একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণে সফল হব—এই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন এ ঘোষণা দেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে মনোয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

রিটানিং অফিসার কর্তৃক মনোয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর আবেদনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ জানুয়ারি। ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপত্তি নিষ্পত্তি হবে।

তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি।

ঘোষিত তপশিলে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা ২২ জানুয়ারি থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চলবে। ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিল দুই উপদেষ্টা

ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

ডেস্ক রিপোর্ট: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। মাহফুজ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এবং আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপস্থিত হয়ে তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন।

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া এ দুই তরুণ উপদেষ্টার পদত্যাগের পর প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের অবদান স্মরণ করে বলেন, “অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তোমরা জাতিকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পথে যেভাবে অবদান রেখেছ, তা জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তোমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবসময় তোমাদের অবদান মনে রাখবে। এত অল্প সময়ে তোমরা জাতিকে যে সেবা দিয়েছ, তা কোনো দিন ভুলে যাওয়ার নয়। এটি কেবল একটি রূপান্তর; সামনে বৃহত্তর পরিসরে তোমরা আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি আশাবাদী।”

দুই উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি দেশের কল্যাণে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সরকারে থেকে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছ, তা ভবিষ্যৎ জীবনে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।”

সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ

ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ উপজেলা নির্বাহীদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট: গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্মরণীয়ভাবে আয়োজন করতে হবে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় সকল জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি ব্যর্থ হই তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।”

বিগত সরকারের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এর আগেও আমরা নির্বাচন দেখেছি। বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে—সুস্থ মানুষ বলবে, সেটা নির্বাচন নয়; প্রতারণা হয়েছে।”

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন শুধু দায়িত্ব নয়; বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। “আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে পারি, তাহলে নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে।”

ইউএনওদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলেই সরকার তার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারবে।”

নির্বাচন ও গণভোট—দুইটিই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য; আর গণভোট শত বছরের জন্য। “গণভোটের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই, তার ভিত তৈরি হবে এ গণভোটের মাধ্যমে।”

সদ্য যোগদান করা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যেও তিনি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির আহ্বান জানান।

ইউএনওদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

গণভোটে ভোটার সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের বুঝাতে হবে—তারা যেন মনস্থির করে কেন্দ্রে আসেন: “হ্যাঁ দেবেন নাকি না দেবেন—মন ঠিক করে আসুন।”

কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়।” একই সঙ্গে অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধেও তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

নারীদের ভোটকেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নারীদের যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসা যায়—তা নিশ্চিত করতে হবে।

শীঘ্রই নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হবে উল্লেখ করে তিনি ইউএনওদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কীভাবে, কোন কাজটি করবেন—তার পরিকল্পনা এখনই করে রাখুন।”

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় বেগম রোকেয়া দিবসে নারীদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গিকার উপজেলা প্রশাসনের

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের আয়োজনে এবং কারিতাসের সহযোগিতায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান। বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. শরমিন আকতার, কারিতাসের মাঠ কর্মকর্তা গৌরি ভট্টাচার্য্য এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক।

ইউএনও নাজমুল হাসান বক্তব্যে বলেন, “পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকেই পারিশ্রমিক ঘরে নিয়ে যাওয়ার আগে চার ভাগের একটি অংশ বাইরে ব্যয় করে দেন, আর বাকি তিন ভাগ ঘরে আসে। কিন্তু নারীরা উপার্জিত অর্থকে সুন্দরভাবে ব্যবহার করে পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনে ব্যয় করেন। নারী যে কোনো চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে যতটা উপার্জন করেন, সেটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পরিবারের জন্য ব্যয় করার।”

তিনি আরও বলেন, “নারীরা আমাদের সন্তান ও পরিবারের প্রতি যে স্নেহ ও দায়িত্বশীলতা দেখান, তা আমরা অনেক সময় দেখতে পাই না। উদাহরণস্বরূপ, এই অনুষ্ঠানে রাখা নাস্তা অনেকেই নিজে খাবেন না, সন্তানদের জন্য সঙ্গে নিয়ে যাবেন। এটাই আমাদের বাঙালি মায়ের পরিচয়।”

ইউএনও নাজমুল হাসান সভায় আশ্বাস দেন, উপজেলা প্রশাসন সবসময় নারীদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও ঋণ বিতরণসহ যেকোনো সহযোগিতায় নারীদের পাশে দাঁড়াবে উপজেলা প্রশাসন।

নারীশিক্ষা-অধিকার-জাগরণে অবদানের স্বীকৃতি: বেগম রোকেয়া পদক পেলেন চার বিশিষ্ট নারী

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রতি বছরের মতো এবারও নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চার বিশিষ্ট নারীকে বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়েছে।

বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি পদকপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

এ বছর পদকপ্রাপ্তরা হলেন— রুভানা রাকিব (নারীশিক্ষা–গবেষণা), কল্পনা আক্তার (নারী অধিকার–শ্রম অধিকার), ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী জাগরণ–ক্রীড়া), নাবিলা ইদ্রিস (মানবাধিকার)।

রাঙামাটির দুর্গম সীমান্তে সেনাবাহিনীর অভিযান, গুরুতর অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারে সিএমএইচে স্থানান্তর

সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে অসুস্থ নারীকে সিএমএইচে স্থানান্তর | ছবি: সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজ

ডেস্ক: জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন অত্যন্ত দুর্গম মাইনদারছড়া মুখ পাড়ায় বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সেনাবাহিনীর ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

সেনাবাহিনী জানায়, পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ লাঘবে ওই এলাকায় সোমবার বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম। এ সময় স্থানীয় জুমচাষী সাগা তংচংগার স্ত্রী সিনাবি তংচংগা (৬০) কিডনি ও পেটের গুরুতর জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন।

দুর্গম এলাকায় তার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় ডিভিশন সদরের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে আর্মি এভিয়েশনের হেলিকপ্টারে করে তাঁকে দ্রুত সিএমএইচ চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

সেনাবাহিনী আরও জানায়, এই অভিযান শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত—প্রান্তিক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, সেবা ও শান্তি নিশ্চিত করতে সামরিক অভিযান ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।