এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পেলেন এ এস এম সুজা উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন বিশিষ্ট গবেষক এ এস এম সুজা উদ্দিন। এর আগে তিনি দলটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বান্দরবান আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনকালে বৃহত্তর নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের লক্ষ্মীপুর থেকে পর্যটননগরী টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলায় আহ্বায়ক ও নির্বাহী কমিটি গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এ এস এম সুজা উদ্দিন।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় এ এস এম সুজা উদ্দিন বলেন, “আমাদের এই ভৌগোলিক অঞ্চলটি (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার রাজনৈতিক ময়দান যেমন আলাদা, তেমনি এখানকার বৈচিত্র্যময় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও তাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনার ধরনও সম্পূর্ণ ভিন্ন।”

তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ে বা সমতলে জোরপূর্বক কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এখানে সফল হতে হলে পুরোপুরি ‘জনবান্ধব রাজনীতি’ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘জননীতি’র রূপরেখা নিয়ে কাজ করতে হবে, যেখানে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ মনে করবে।”
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৭টা ৪০ মিনিটে সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যরা।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি। পরে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ারও কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন এবং রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

পরে বিকেল ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন তিনি। এ সময় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রামের কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩ স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতায় সময় বেঁধে দিলেন

রাঙ্গুনিয়া টুডে অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। সাড়ে চার ঘণ্টারও কম সময়ে ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও পরিদর্শন করেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পরিদর্শন শুরু করে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন স্থানের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন।

পরে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান তিনি। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

এ ছাড়া ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন। অন্যদিকে, আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেন।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের একপর্যায়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসকের কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে, মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

আকস্মিক এসব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পটিয়ায় এনসিপির ৮২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি, নেতৃত্বে প্রকৌশলী-আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা শাখার নতুন ৮২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

১৫ অক্টোবর ঘোষিত এ কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রশিদকে, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মীর মনছুরল ইসলামকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আরমান আজাদকে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক লায়ন এ এম মুন্না চৌধুরী, সদস্যসচিব জুবাইরুল আলম মানিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাত হোসেন নতুন এ কমিটির অনুমোদন দেন।

কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মোহাম্মদ ইলিয়াস কায়সার, মনির আহমদ, মাওলানা মো. ইদ্রিস হোসাইন, মাইনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ওয়াসিমকে। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে মো. শহিদুল ইসলামকে। যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে মিজানুর রহমান জুয়েল, মো. আব্দুর রশিদ, মোহাম্মদ আসিফ, অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডার মুজিবুর রহমান ও প্রকৌশলী হায়দার আলীকে।

সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে মোহাম্মদ নুরুল মোস্তফা মুনিরীকে। সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে মো. নুরুল আলম ও মুহাম্মদ ওমর ফারুককে। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে জাহেদুল হক, হারুনুর রশিদ, আব্দুল মান্নান (খরনা), রবিউল হাসান মিশকাত, আব্দুল নূর আরজু, মো. মিজান হোসাইন, দৌলত খান ও মো. আব্দুল্লাহকে।

দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে আরফাতুর রহমানকে। সহ-দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে মো. রায়হান ইসলাম, গাজী মোহাম্মদ ইশতিয়াক ও মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আইমন সাদিকে। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করা হয়েছে শাহাদাৎ হোসেন অভিকে এবং সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করা হয়েছে সায়েদ ছিদ্দিক সোহাগকে।

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে মুজিবুর রহমান তুষারকে। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে হাফেজ মোহাম্মদ আবু তৈয়বকে। সহ-কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে মো. আলী ইমাম ও হাবিব উল্লাহকে।

সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে প্রকৌশলী রেজাউল হককে এবং সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক করা হয়েছে মো. সাখাওয়াত হোসেন তুষারকে। তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক করা হয়েছে মোহাম্মদ রায়ানকে। শিক্ষা সম্পাদক করা হয়েছে আব্দুল মান্নান মাস্টারকে এবং সহ-শিক্ষা সম্পাদক করা হয়েছে মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেনকে। নারী বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে জান্নাতুল ফেরদৌসকে এবং সহ-নারীবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে আফসানা মিমিকে।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. আবু ইউসুফ, আব্দুল মান্নান, নুরুল হক সওদাগর, মোহাম্মদ কানন, আব্দুল জলিল, মনিরুল আহমেদ, কামরুল ইসলাম, মো. জলিল, মো. সেলিম, আনসারুল হক বাবুল, ফাতেমা বেগম, মামুনুল ইসলাম, মো. নাসির উদ্দিন, আব্দুল মান্নান, মুহাম্মদ বিন নাছির সিকদার, শফিকুজ্জামান, মো. জামাল, এম.ডি. বাবলু চৌধুরী, হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী, মো. নিজাম উদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন, নুরুল আবছার, হাফেজ শাহাদাত হোসেন, তৈয়বুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, রাগিব ইবনে আলম (সাদাফ), মোহাম্মদ উল্লাহ চৌধুরী, ইয়াছিন আরাফাত, সিয়াম ইয়াছিন সামির সাইদ, মো. সাব্বির আহমেদ, মো. জাহেদুল ইসলাম, মো. শরিফুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন, মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ এমরুল হোসেন, মো. আব্দুল বারেক, মোনতাহিনা হাসনাত, নিতু মুহাম্মদ, নাজিবুস সোবহান, মোহাম্মদ ইমরান ও মোহাম্মদ হানিফ।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাত হোসেন বলেন, নতুন এ কমিটির মাধ্যমে পটিয়ায় এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। প্রয়োজনে কমিটিতে সংযোজন-বিয়োজন করা হতে পারে। এনসিপি এখন গণমানুষের দল।

রাঙ্গুনিয়ায় ইস্টার্ন কেমিক্যালের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

 

ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১০ একর সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত কারখানা কাজে লাগিয়ে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গুনিয়ায় ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১০ একর সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল, সরকারের সব স্থাপনা ও সম্পদ যেন সঠিকভাবে ব্যবহারের আওতায় আনা হয়। তাঁর অভিযোগ, হাসিনা আমলে এসব স্থাপনার সম্পদ পরিত্যক্ত ফেলে রেখে কিংবা বিক্রি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে শূন্য করে দেওয়ার চক্রান্ত ছিল। সরকার সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, “যেহেতু আমাদের সরকার একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার, তাই মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তিগুলোর সদ্ব্যবহার করা হবে। ইস্টার্ন কেমিক্যালের ১০ একর জায়গা দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রাষ্ট্রের অনেক ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্রের এমন ক্ষতি আর হতে দেব না।”

মন্ত্রী বলেন, এখানে বড় প্রকল্পের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। ঢাকায় গিয়ে আলোচনা করে এলাকার জন্য যেটি সর্বোত্তম হবে, সেটিই করা হবে।

পরিদর্শনকালে সফরসঙ্গী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ইস্টার্ন কেমিক্যালের পরিত্যক্ত জায়গা ও কারখানা কীভাবে প্রকল্পের মাধ্যমে কাজে লাগানো যায়, তা তাঁরা পর্যালোচনা করছেন। দুদিনের চট্টগ্রাম সফরে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অন্যান্য সম্পত্তিও একইভাবে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে।

পরিদর্শনকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার নির্মাণ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সারদা পুলিশ একাডেমির আদলে একটি পুলিশ একাডেমি এবং এর পাশেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ করা হবে। এ জন্য জমি চিহ্নিত ও অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলছে।

পুলিশের পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে এ কাজ হচ্ছে। সভায় ওই কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বিভিন্ন মৌজায় সরকারি জমি রয়েছে। এসব জমি পাহাড় শ্রেণির হোক বা খাসজমি—সবকিছু সুশাসনের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের জন্য জঙ্গল সলিমপুরে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ বসতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে সেখানে যারা অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও পরিচালনার আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু সুশাসনের আওতায় এনে জায়গাটিকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। একই সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরকে আগে যে ‘সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হতো, সেখান থেকে এলাকাটিকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে মাদক কারবার ও মানবপাচারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে। এ কারণে রঙ্গিখালী ও নোয়াখালী পাড়ায় দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থান সিসিটিভির আওতায় আনা হবে।

আইপিইউ সম্মেলনে অংশ নিতে তানজানিয়ার পথে স্পিকার

ডেস্ক রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর ১৫৩তম সম্মেলনে যোগ দিতে তানজানিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তানজানিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

আগামী ৫ থেকে ৯ অক্টোবর তানজানিয়ার আরুসায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউ সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে অংশ নেবেন স্পিকার। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য—‘অন্তর্ভুক্তি, আস্থা এবং সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন উন্নয়ন এবং সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন’।

সম্মেলনের শেষ দিন ৯ অক্টোবর আইপিইউর গভর্নিং কাউন্সিল নতুন সভাপতি নির্বাচন করবে।

স্পিকারের সফরসঙ্গী হয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এস. কে. আজিজুল বারী, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন ও রোকেয়া বেগম।

আইপিইউ সম্মেলন শেষে আগামী ১১ অক্টোবর স্পিকার দেশে ফিরবেন।

চোখ বন্ধ রাখলে কাল আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হবে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালিতে এএসপি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের গোচরা বাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

র‍্যালি ও সমাবেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের ধরছি এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। তবে শুধু গ্রেপ্তার বা আইনের আওতায় নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য নয়; আমাদের লক্ষ্য হলো সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবার থেকেই শুরু করব। প্রতিটি পরিবার যদি মাদকমুক্ত থাকে, তাহলে পাড়া-মহল্লা মাদকমুক্ত হবে। এভাবে ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে একসময় পুরো দেশকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’

পোমরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, পোমরাকে মাদকমুক্ত রাখতে স্থানীয়দের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করলে মাদক নির্মূলে বড় ধরনের সফলতা আসবে।

তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই। রাজনীতি, শিল্প, সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারাই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তাই তরুণ প্রজন্ম যাতে মাদকাসক্ত না হয়, সে বিষয়ে পরিবার, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সহযোগিতার প্রশংসা করে এএসপি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের ছাড়িয়ে নিতে কোনো পর্যায়ের কেউ তদবির করেননি। এটি অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক বিষয়। আমরা আশা করি, অভিযান চলাকালে কেউ কোনো মাদকসেবী বা মাদক কারবারির পক্ষে থানায় কিংবা অন্য কোথাও অবৈধ তদবির করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ হয়তো আপনার পরিবার মাদকে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু আপনার পাশের একজন আক্রান্ত হয়েছে। আপনি যদি চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত থাকুন—কাল আপনার সন্তান বা আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হতে পারে। তাই নিজের পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’

সমাবেশে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গোচরা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির পাসের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ব্যাপকভাবে কমেছে। এ বছর এ বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

পাসের হারের পাশাপাশি এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।

এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। গতবারের মতো এবারও পাসের হারে ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এ বছর চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৭৪ শতাংশ। গত বছর মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

চট্টগ্রামের বাইরে বোর্ডের অধীন চার জেলাতেও পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কক্সবাজারে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাঙামাটিতে এবার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

গত বছর রাঙামাটিতে পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলও এবার আগের বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। এ বছর ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি। অন্যদিকে, এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি।

সারাদেশে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

এর আগে সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

এ বছর ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে।

উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের ‘কিছু’ রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে উন্নয়নযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব রাজনৈতিক দলকে মোকাবিলায় দেশের জনগণকে ‘সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের উন্নয়নের কাজগুলো বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, “আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—দেশের সব গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা কথা বলার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, প্রত্যেকটি মানুষকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই বিশৃঙ্খলাকারী, যারা রাজপথ বন্ধ করে দিতে চায়, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব? এটা আজ বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না। এখন সময় হচ্ছে দেশ গড়ার, এখন সময় হচ্ছে জাতির ভাগ্য গঠনের। কাজেই আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে আজ শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে হবে; আমাদের দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।”

তিনি বলেন, “আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমরা শপথ গ্রহণ করি যে, দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে, দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পথে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

“আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই, আমাদের সামনে উদ্দেশ্য একটাই—সেটি হচ্ছে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপির প্রত্যেকটি নেতাকর্মী একটি কথা বলে থাকে যে, আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস হচ্ছে দেশের জনগণ। কাজেই জনগণের সমর্থন যেহেতু বিএনপির পক্ষে আছে, জনগণ যেহেতু বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে, জনগণ যেহেতু বিএনপির ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে, সেই ৩১ দফার বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে এখন আমাদের মূল পবিত্র দায়িত্ব।”

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

ফটিকছড়িতে হেফাজত আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, উঠল ১৩ দফা দাবি

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। পরে মাদ্রাসার ভেতরে বাবুনগরীর খাস কামরায় দুজনের মধ্যে রুদ্ধদ্বার একান্ত বৈঠক হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানও সেখানে ছিলেন।

বৈঠকের বিস্তারিত জানা না গেলেও অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, সাক্ষাতে মূলত হেফাজত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

হেফাজতের ১৩ দফা দাবি

বৈঠক শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

দাবিগুলোর মধ্যে ইসলাম অবমাননা রোধে আইন, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন না করা এবং কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি রয়েছে।

এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মিশনারি তৎপরতা বন্ধ, আলেমদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবিও ওঠে সভায়।

মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবিও জানানো হয়।

পাশাপাশি ২০১৩, ২০২১ ও ২০২৪ সালের সহিংসতার বিচার এবং রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে আলেমদের সুযোগ দেওয়ার দাবিও উত্থাপন করেন হেফাজতের নেতারা।

‘কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন হবে না’

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন হবে না।’

তিনি জানান, শাপলা চত্বর মামলার চার্জশিট হয়েছে এবং শিগগিরই এর বিচারকাজ শুরু হবে। আলেমদের বিরুদ্ধে মামলার তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি অনুযায়ী নিয়োগের বিষয়ে সরকার কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মদিনা ও সাহাবাদের চর্চিত ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করেই বাংলাদেশ পরিচালিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘সমস্যা ও দাবিদাওয়া পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে’

পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের সমস্যা ও মানুষের দাবিদাওয়া পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

তিনি বলেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার সক্ষম হলেও পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

অতীতে দেশের অর্থ-সম্পদ লুট ও পাচারের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

হাজারো মানুষের স্বাগত

এর আগে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা থেকে ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘীর মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক হয়ে তিনি আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পেলাগাজীর দিঘী থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে হাজার হাজার মানুষ তাঁকে স্বাগত জানায়।

মাদ্রাসার কাছাকাছি পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে শিশু শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনের পর সরকার ও হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের এই মতবিনিময়কে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাঁশখালীতে বন্যাকবলিতদের পুনর্বাসন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর মানুষের পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে পুনর্বাসন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন ঘর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাকে একনজর দেখতে সমুদ্রপাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

বাহারছড়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ১০০টি গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী যাবেন হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায়। সেখানে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠেও প্রধানমন্ত্রীর একটি কর্মসূচি রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দিনের শেষ কর্মসূচিতে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতা অংশ নিতে পারেন। সভায় দলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দলকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারেন তিনি।

সব কর্মসূচি শেষে রোববার রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আলেমদের সঙ্গে করবেন মতবিনিময়

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় পৌঁছে ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসায় উপস্থিত ৬৪ জন আলেমের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী দিঘির সিএন্ডবি মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের পর মাঠে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাবে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।

পরে সড়কপথে তিনি ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছান। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, ফটিকছড়িতে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে তিনি হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির মরহুম আল্লামা আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন। এ সময় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত থাকবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে।

পরে হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন। সেখানে কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং দুস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের কথা রয়েছে।

সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতে জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়িতে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অবস্থান নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম চট্টগ্রাম সফরে তারেক রহমান

একদিনে মহেশখালী-বাঁশখালী-ফটিকছড়ি-হাটহাজারীতে কর্মসূচি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। রবিবার (৯ আগস্ট) একদিনের সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। তাঁর সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কর্মতৎপরতা।

সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টার দিকে মহেশখালীতে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।

এরপর দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন তিনি। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই অনুষ্ঠানে ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় জোরেশোরে প্রস্তুতি চলছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য সেখানে ইতোমধ্যে নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে ১০০টি পরিবারকে ঘর দেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছে। বন্যায় যেসব পরিবারের ঘর পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং নতুন করে ঘর নির্মাণের আর্থিক সক্ষমতা নেই, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী একজন স্বামীহারা নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়ে ১০০ পরিবারের মধ্যে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সফরের প্রস্তুতি দেখতে বাঁশখালীর অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। মঞ্চ, প্যান্ডেল ও হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করে কর্মসূচিতে শৃঙ্খলার সঙ্গে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। পরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি পূরণ করতেই তাঁর এই সফর।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী জানান, সাক্ষাতে ফটিকছড়ির উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাট হয়ে রামগড় পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবিও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাবুনগর মাদ্রাসা এলাকায় প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রবেশপথ সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য ফটিকছড়ির পেলাগাজিতে অস্থায়ী হেলিপ্যাডও প্রস্তুত করা হয়েছে।

ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

পরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় কিছু সময় অবস্থানের পর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ উপলক্ষে কলেজ মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য ও জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে হাটহাজারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়েও বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি চলছে। আশপাশের উপজেলাগুলো থেকেও নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রাম নগরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতা-কর্মীর উপস্থিতি থাকতে পারে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম জানান, তিন সাংগঠনিক ইউনিটের বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় থাকবেন। নগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের পাশাপাশি উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত থাকায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

দলীয় নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগটি সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সভায় চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি, স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা এবং দলীয় কার্যক্রম নিয়ে নেতারা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। এরও আগে ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মসূচিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম চট্টগ্রাম সফর।

রাঙ্গুনিয়া থেকে বিশ্বদৃষ্টি: আস্থার এক বছর পূর্ণ করল রাঙ্গুনিয়া টুডে

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে ধারণ করে যাত্রা শুরু করা অনলাইন সংবাদমাধ্যম রাঙ্গুনিয়া টুডে যাত্রার এক বছর পূর্ণ করেছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ডোমেইন ক্রয়ের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১১ আগস্ট থেকে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ শুরু করে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই রাঙ্গুনিয়া টুডের লক্ষ্য ছিল রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সংবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ দ্রুত, নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সাধারণ মানুষের সমস্যা-সম্ভাবনা, উন্নয়ন, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত এক বছরে বন্যা, পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, মানবিক সহায়তা এবং জনজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। স্থানীয় পর্যায়ের নানা অবহেলিত বিষয়ও পাঠকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলিও নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে পাঠকের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থেকেছে।

সংবাদ প্রকাশের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা, ভারসাম্য ও সাংবাদিকতার নৈতিক মান বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জনকে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

এই পথচলায় সংবাদদাতা, লেখক, আলোকচিত্রী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশ-বিদেশে থাকা অসংখ্য পাঠকের সহযোগিতা, পরামর্শ, গঠনমূলক সমালোচনা ও ভালোবাসার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে পরিবার।

বর্তমানে তথ্য অধিদপ্তরে রাঙ্গুনিয়া টুডের নিবন্ধনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতেও আইন, নীতিমালা ও সাংবাদিকতার পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণ করে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

রাঙ্গুনিয়া টুডের সম্পাদক ও প্রকাশক এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার বলেন, “এই এক বছরে পাঠকের যে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা পেয়েছি, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা কখনোই বিচ্যুত হতে চাই না। ভবিষ্যতেও রাঙ্গুনিয়া থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, দেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”

এক বছর কেবল সময়ের হিসাব নয়; এটি দায়িত্ব, বিশ্বাস ও অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। সেই অঙ্গীকার নিয়েই সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের পক্ষে থেকে আগামী দিনেও পাঠকের আস্থার সংবাদমাধ্যম হয়ে উঠতে কাজ করে যাবে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

— আপনার শহর, আপনার সংবাদ

পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তাদের নামে প্রতারণা: সতর্ক থাকার আহ্বান পুলিশ সদর দপ্তরের

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: পুলিশসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থ দাবি ও বিভিন্ন ধরনের তদবিরের নামে প্রতারণা করছে একটি চক্র। সম্প্রতি এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমন প্রতারণার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, প্রতারকরা সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ দাবি করছে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সরকারি কর্মকর্তার ছবি ব্যবহার করা মানেই সেটি ওই কর্মকর্তার প্রকৃত আইডি বা মোবাইল নম্বর—এমনটি নিশ্চিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাই এ ধরনের বার্তায় সাড়া না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ধরনের প্রতারণামূলক বার্তা পেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার অথবা ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাঙ্গুনিয়ায় কাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: “পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন, রাঙ্গুনিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্নকরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কর্মসূচির সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রকাশের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা সহজলভ্য করতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা সহজলভ্য করা।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কার্ডও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ হিসেবে চালু করা হচ্ছে।

প্রবাসী কার্ডে যেসব সুবিধা মিলবে:
প্রবাসী কার্ডধারীরা অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট (Meet & Greet) সুবিধা।

বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।

দেশে ও বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ সেবা।

সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়।

কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনার সুবিধা।

প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা।

জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার।

রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সহজ অর্থ লেনদেনের সুযোগ।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিংসহ অন্যান্য সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার।

পর্যায়ক্রমে বিতরণ:
বৈঠকে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন।

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বন্যা পরিস্থিতি: চট্টগ্রামে এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ এবং পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অবশিষ্ট সব বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ভোকেশনাল এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে না।

তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার আজ বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড (সকল জেলা) এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা ২০২৬ স্থগিত করা হলো।

তবে, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যাতীত) অন্যান্য জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিতে বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: দেশের চলমান বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার বুধবার (৮ জুলাই) অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা-২০২৬ এর ৮ জুলাইয়ের নির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষাসহ দেশের অন্যান্য সকল শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা কেন্দ্র এবং পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নজরুলের চেতনায় মুখর চট্টগ্রাম, তিন দিনের আয়োজনের পর্দা নামল

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে চট্টগ্রামে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২০২৬-২০২৭) উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন।

আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন দিনের এই আয়োজনে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন শুরু ১ আগস্ট

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর (তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে, অনগ্রসর ও চা-শ্রমিক) ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করবে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে জুলাইজুড়ে প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে গত ৩০ জুন জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। এরপর ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত dss.bhata.gov.bd/online-application ঠিকানায় অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে।

আবেদনকারীদের নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে। প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে হলে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং নিজের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলে যোগাযোগের জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বরও দিতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যারা বর্তমানে অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নিয়মিত সুবিধাভোগী, তারা এ কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া পূর্বে অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন আবেদন ও অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা আবেদনসমূহ একসঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিতরা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধা পাবেন।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: শিশুশ্রম বন্ধে রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শিশুশ্রম শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন ও মানবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। শিশুর সৌন্দর্য তার শৈশবে, কিশোরের সৌন্দর্য কৈশোরে এবং তারুণ্যের সৌন্দর্য তার উদ্দীপনায়। সেই শৈশবকে শিশুশ্রমের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে কখনোই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, অর্থনৈতিক সংকটে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারগুলোকে এ সহায়তা শিশুদের শিক্ষা ও শৈশব রক্ষায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রমের ওপরই অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও মালিকদের রয়েছে।

দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের একমাত্র কারণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে, পরিবারে বড়দের সান্নিধ্যে বেড়ে উঠবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। সেই পরিবেশ তৈরি না হলে শিশুশ্রম নির্মূল কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের শিশুদের হাতেই গড়ে উঠবে। কিন্তু শৈশব থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা নিজেদের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। যে শিশু স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশকে নতুন স্বপ্নও দেখাতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে কয়েকটি খাত থেকে ইতোমধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাত শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা, শিশু অধিকারকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাঙ্গুনিয়ায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু রায়হান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মুহাম্মদ আনোয়ারুল আজম এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব।

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন (রোববার) অনুষ্ঠিতব্য ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৬ হাজার ৫০০ শিশুকে একটি করে নীল ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৬ হাজার শিশুকে একটি করে লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মাধ্যমে উপজেলায় মোট ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা জানান, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ৩৬০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৩৬১টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্যাম্পেইনের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো শিশু যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

চা বিক্রেতার মেয়ের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এলেন জেলা প্রশাসক

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা এক চা বিক্রেতার মেয়ের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। একইসঙ্গে চিকিৎসা ও জীবিকার সংকটে থাকা কয়েকজন অসহায় মানুষের আবেদন শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা তাদের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এ সময় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীও অনলাইনে যুক্ত হয়ে অভিযোগ ও আবেদন জানান।

গণশুনানিতে বোয়ালখালীর উত্তর চরণদণ্ডী এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে তার বাবা শাহ আলম একজন চা বিক্রেতা হওয়ায় পারিবারিক সীমিত আয়ের কারণে ভর্তি ফি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।

শিক্ষার্থী আরও জানান, এর আগেও তিনি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু অর্থসংকটে ভর্তি হতে পারেননি। এবারও একই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চান তিনি।

বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তার উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

এছাড়া পটিয়ার ধলঘাট এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন দস্তিদার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনিতে পাথর ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন তিনি। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

গণশুনানিতে আরও কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি চিকিৎসা, জীবিকা ও বসতবাড়ি সংস্কারের জন্য সহায়তা চান। জেলা প্রশাসক তাদের আবেদনগুলো শুনে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও আবেদনও গুরুত্বের সঙ্গে শুনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক।

মায়ের অপেক্ষা শেষ হলো কফিনবন্দী চার ছেলের ফিরে আসায়, শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে। বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১১টার দিকে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। পরে বুধবার ভোরে নিজ গ্রাম বান্দারাজার পাড়ায় পৌঁছায় চার সহোদরের মরদেহ।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকে দলে দলে নারী-পুরুষ, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ কাঁদছেন আপনজন হারানোর বেদনায়, কেউ প্রতিবেশী হারানোর শোকে, আবার কেউ শৈশবের বন্ধুকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন।

এদিকে জানাজায় অংশ নিতে আসা লোকজনকে প্রচণ্ড গরমের তীব্রতা থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে কেউ স্বেচ্ছায় পানি ও শরবত বিতরণ করেন। অন্যদিকে সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, ইসলামী ও সামাজিক সংগঠনের শোক ব্যানারে ছেয়ে যায় এলাকার অলিগলি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। পাশাপাশি রাখা চারটি কফিন দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

বুধবার সকাল ১১টায় স্থানীয় স্কুল মাঠে চার ভাইয়ের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, ইসলামিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে আগে থেকেই প্রস্তুত করা স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি খনন করা চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

নিহতরা হলেন— রাশেদুল ইসলাম (৪১), শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই বান্দারাজার পাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের সন্তান। নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী, তিন বছর বয়সী এক কন্যা ও তিন মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মেজ ভাই শাহেদুল ইসলামও বিবাহিত ছিলেন। ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন।

চার ভাইকে হারিয়ে দেশে অবস্থান করা তাদের একমাত্র ভাই এনামুল ইসলামও ভেঙে পড়েছেন। একসঙ্গে চার সহোদরের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

স্বজনদের দাবি, পরিবারের অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে এতদিন পুরো ঘটনা জানানো হয়নি। সন্তানদের মরদেহ ঘরে আসা পর্যন্ত তিনি মনে করছিলেন, তার সন্তানরা আহত অবস্থায় দেশে ফিরছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চার ছেলে একসঙ্গে কফিনবন্দী হয়ে বাড়ি ফিরলেন।

স্থানীয় প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় চার ভাইকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ওমান পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

একই পরিবারের চার সহোদরের এমন মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মা দোয়া করছেন সন্তানরা যেন বেঁচে ফেরে, জানেন না চার ছেলেই ফিরছে কফিনবন্দী হয়ে

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদরের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন মরদেহ আনতে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইয়াকুব। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১১টার দিকে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি এ সময় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন বলে জানান ইয়াকুব।

এদিকে গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গে চারটি কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হবে।

লালানগর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকরাম হোসেন জানান, নিহতদের মধ্যে তাঁর বন্ধু সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম শিগগিরই দেশে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে প্রায়ই ভিডিও কলে কথা হতো। দেশে ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, ঘোরাঘুরি ও আড্ডার নানা পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনায় মুহূর্তেই সবকিছু থেমে গেল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজ আমরা প্রতিবেশীরা নিজেদের হাতে তাঁদের কবর খনন করছি এবং মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর অপেক্ষায় আছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম (৪১) বিবাহিত। তাঁর পরিবারে স্ত্রী, তিন বছর বয়সী এক কন্যা ও তিন মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মেজ ভাই শাহেদুল ইসলামও বিবাহিত ছিলেন। বিয়ের কয়েক মাস পরই তিনি প্রবাসে যান। ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন। তাঁরা সবাই বান্দারাজার পাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের সন্তান। পাঁচ সন্তানের মধ্যে চারজনই প্রবাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশে রয়েছেন তাঁদের অসুস্থ বৃদ্ধা মা ও একমাত্র ভাই এনামুল ইসলাম।

স্বজনদের দাবি, মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এখনো তাঁকে ছেলেদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তিনি এখনো মনে করছেন, দুর্ঘটনায় আহত হলেও তাঁর সন্তানরা বেঁচে আছেন এবং দেশে ফিরে আসবেন। সন্তানদের সুস্থভাবে ফিরে আসার আশায় তিনি প্রতিনিয়ত দোয়া করে যাচ্ছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার ভাইয়েরই একসঙ্গে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। কয়েক দিন ধরে তাঁরা কাজ কমিয়ে ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটায় সময় কাটাচ্ছিলেন। ঘটনার দিনও তাঁরা একসঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, একটি গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় তাঁদের দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে ওমান পুলিশ। গাড়ির ভেতর থেকে চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত করেছে সে দেশের পুলিশ। গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলেই ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে ওমান পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের চার সহোদরের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুরু, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বছরব্যাপী ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শনিবার উপজেলার গুমাইবিল ও সরফভাটায় শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়।

কর্মসূচি চলাকালে এক বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া ২০২৬” ভিশন সামনে রেখে চলতি বছরের মধ্যে ৫০ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তবে তার আগেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজার গাছ রোপণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দেশের মঙ্গল ও পরিবেশ রক্ষায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকেই প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও দেশ গড়ার কাজে তারা নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় জনসাধারণের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, “আপনারা যে যেখানে পারবেন, প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় কয়েকজন মিলে অন্তত কয়েকটি করে গাছ লাগান। নিজেদের উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে তার ছবি আমাদের ফেসবুক পেজে ট্যাগ করতে পারেন। আমরা রাঙ্গুনিয়ায় একটি সবুজ বিপ্লব গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে, কারণ মাঠে কাজ করা কৃষকদের বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ফলজ, বনজ ও অন্যান্য গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া” বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ওমানে নিহত চার সহোদরের পরিবারের খোঁজ নিলেন ডা. এটিএম রেজাউল করিম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে তিনি নিহতদের গ্রামের বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদে আসরের নামাজ শেষে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

পরে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি বলেন, একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই কঠিন সময়ে তিনি ও তাঁর সংগঠন শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

তিনি স্থানীয়দেরও মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি ওমানে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চার সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো লালানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।