রাঙ্গুনিয়ায় কাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: “পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন, রাঙ্গুনিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্নকরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কর্মসূচির সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রকাশের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা সহজলভ্য করতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা সহজলভ্য করা।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কার্ডও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ হিসেবে চালু করা হচ্ছে।

প্রবাসী কার্ডে যেসব সুবিধা মিলবে:
প্রবাসী কার্ডধারীরা অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট (Meet & Greet) সুবিধা।

বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।

দেশে ও বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ সেবা।

সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়।

কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনার সুবিধা।

প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা।

জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার।

রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সহজ অর্থ লেনদেনের সুযোগ।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিংসহ অন্যান্য সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার।

পর্যায়ক্রমে বিতরণ:
বৈঠকে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন।

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বন্যা পরিস্থিতি: চট্টগ্রামে এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ এবং পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অবশিষ্ট সব বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ভোকেশনাল এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে না।

তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার আজ বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড (সকল জেলা) এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা ২০২৬ স্থগিত করা হলো।

তবে, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যাতীত) অন্যান্য জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিতে বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: দেশের চলমান বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার বুধবার (৮ জুলাই) অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা-২০২৬ এর ৮ জুলাইয়ের নির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষাসহ দেশের অন্যান্য সকল শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা কেন্দ্র এবং পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নজরুলের চেতনায় মুখর চট্টগ্রাম, তিন দিনের আয়োজনের পর্দা নামল

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে চট্টগ্রামে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২০২৬-২০২৭) উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন।

আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন দিনের এই আয়োজনে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন শুরু ১ আগস্ট

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর (তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে, অনগ্রসর ও চা-শ্রমিক) ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করবে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে জুলাইজুড়ে প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে গত ৩০ জুন জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। এরপর ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত dss.bhata.gov.bd/online-application ঠিকানায় অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে।

আবেদনকারীদের নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে। প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে হলে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং নিজের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলে যোগাযোগের জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বরও দিতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যারা বর্তমানে অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নিয়মিত সুবিধাভোগী, তারা এ কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া পূর্বে অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন আবেদন ও অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা আবেদনসমূহ একসঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিতরা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধা পাবেন।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: শিশুশ্রম বন্ধে রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শিশুশ্রম শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন ও মানবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। শিশুর সৌন্দর্য তার শৈশবে, কিশোরের সৌন্দর্য কৈশোরে এবং তারুণ্যের সৌন্দর্য তার উদ্দীপনায়। সেই শৈশবকে শিশুশ্রমের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে কখনোই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, অর্থনৈতিক সংকটে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারগুলোকে এ সহায়তা শিশুদের শিক্ষা ও শৈশব রক্ষায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রমের ওপরই অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও মালিকদের রয়েছে।

দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের একমাত্র কারণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে, পরিবারে বড়দের সান্নিধ্যে বেড়ে উঠবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। সেই পরিবেশ তৈরি না হলে শিশুশ্রম নির্মূল কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের শিশুদের হাতেই গড়ে উঠবে। কিন্তু শৈশব থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা নিজেদের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। যে শিশু স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশকে নতুন স্বপ্নও দেখাতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে কয়েকটি খাত থেকে ইতোমধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাত শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা, শিশু অধিকারকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাঙ্গুনিয়ায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু রায়হান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মুহাম্মদ আনোয়ারুল আজম এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব।

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন (রোববার) অনুষ্ঠিতব্য ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৬ হাজার ৫০০ শিশুকে একটি করে নীল ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৬ হাজার শিশুকে একটি করে লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মাধ্যমে উপজেলায় মোট ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা জানান, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ৩৬০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৩৬১টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্যাম্পেইনের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো শিশু যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

চা বিক্রেতার মেয়ের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এলেন জেলা প্রশাসক

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা এক চা বিক্রেতার মেয়ের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। একইসঙ্গে চিকিৎসা ও জীবিকার সংকটে থাকা কয়েকজন অসহায় মানুষের আবেদন শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা তাদের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এ সময় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীও অনলাইনে যুক্ত হয়ে অভিযোগ ও আবেদন জানান।

গণশুনানিতে বোয়ালখালীর উত্তর চরণদণ্ডী এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে তার বাবা শাহ আলম একজন চা বিক্রেতা হওয়ায় পারিবারিক সীমিত আয়ের কারণে ভর্তি ফি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।

শিক্ষার্থী আরও জানান, এর আগেও তিনি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু অর্থসংকটে ভর্তি হতে পারেননি। এবারও একই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চান তিনি।

বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তার উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

এছাড়া পটিয়ার ধলঘাট এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন দস্তিদার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনিতে পাথর ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন তিনি। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

গণশুনানিতে আরও কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি চিকিৎসা, জীবিকা ও বসতবাড়ি সংস্কারের জন্য সহায়তা চান। জেলা প্রশাসক তাদের আবেদনগুলো শুনে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও আবেদনও গুরুত্বের সঙ্গে শুনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক।

মায়ের অপেক্ষা শেষ হলো কফিনবন্দী চার ছেলের ফিরে আসায়, শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে। বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১১টার দিকে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। পরে বুধবার ভোরে নিজ গ্রাম বান্দারাজার পাড়ায় পৌঁছায় চার সহোদরের মরদেহ।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকে দলে দলে নারী-পুরুষ, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ কাঁদছেন আপনজন হারানোর বেদনায়, কেউ প্রতিবেশী হারানোর শোকে, আবার কেউ শৈশবের বন্ধুকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন।

এদিকে জানাজায় অংশ নিতে আসা লোকজনকে প্রচণ্ড গরমের তীব্রতা থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে কেউ স্বেচ্ছায় পানি ও শরবত বিতরণ করেন। অন্যদিকে সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, ইসলামী ও সামাজিক সংগঠনের শোক ব্যানারে ছেয়ে যায় এলাকার অলিগলি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। পাশাপাশি রাখা চারটি কফিন দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

বুধবার সকাল ১১টায় স্থানীয় স্কুল মাঠে চার ভাইয়ের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, ইসলামিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে আগে থেকেই প্রস্তুত করা স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি খনন করা চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

নিহতরা হলেন— রাশেদুল ইসলাম (৪১), শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই বান্দারাজার পাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের সন্তান। নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী, তিন বছর বয়সী এক কন্যা ও তিন মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মেজ ভাই শাহেদুল ইসলামও বিবাহিত ছিলেন। ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন।

চার ভাইকে হারিয়ে দেশে অবস্থান করা তাদের একমাত্র ভাই এনামুল ইসলামও ভেঙে পড়েছেন। একসঙ্গে চার সহোদরের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

স্বজনদের দাবি, পরিবারের অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে এতদিন পুরো ঘটনা জানানো হয়নি। সন্তানদের মরদেহ ঘরে আসা পর্যন্ত তিনি মনে করছিলেন, তার সন্তানরা আহত অবস্থায় দেশে ফিরছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চার ছেলে একসঙ্গে কফিনবন্দী হয়ে বাড়ি ফিরলেন।

স্থানীয় প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় চার ভাইকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ওমান পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

একই পরিবারের চার সহোদরের এমন মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মা দোয়া করছেন সন্তানরা যেন বেঁচে ফেরে, জানেন না চার ছেলেই ফিরছে কফিনবন্দী হয়ে

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদরের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন মরদেহ আনতে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইয়াকুব। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১১টার দিকে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি এ সময় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন বলে জানান ইয়াকুব।

এদিকে গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গে চারটি কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হবে।

লালানগর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকরাম হোসেন জানান, নিহতদের মধ্যে তাঁর বন্ধু সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম শিগগিরই দেশে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে প্রায়ই ভিডিও কলে কথা হতো। দেশে ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, ঘোরাঘুরি ও আড্ডার নানা পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনায় মুহূর্তেই সবকিছু থেমে গেল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজ আমরা প্রতিবেশীরা নিজেদের হাতে তাঁদের কবর খনন করছি এবং মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর অপেক্ষায় আছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম (৪১) বিবাহিত। তাঁর পরিবারে স্ত্রী, তিন বছর বয়সী এক কন্যা ও তিন মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মেজ ভাই শাহেদুল ইসলামও বিবাহিত ছিলেন। বিয়ের কয়েক মাস পরই তিনি প্রবাসে যান। ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন। তাঁরা সবাই বান্দারাজার পাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের সন্তান। পাঁচ সন্তানের মধ্যে চারজনই প্রবাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশে রয়েছেন তাঁদের অসুস্থ বৃদ্ধা মা ও একমাত্র ভাই এনামুল ইসলাম।

স্বজনদের দাবি, মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এখনো তাঁকে ছেলেদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তিনি এখনো মনে করছেন, দুর্ঘটনায় আহত হলেও তাঁর সন্তানরা বেঁচে আছেন এবং দেশে ফিরে আসবেন। সন্তানদের সুস্থভাবে ফিরে আসার আশায় তিনি প্রতিনিয়ত দোয়া করে যাচ্ছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার ভাইয়েরই একসঙ্গে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। কয়েক দিন ধরে তাঁরা কাজ কমিয়ে ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটায় সময় কাটাচ্ছিলেন। ঘটনার দিনও তাঁরা একসঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, একটি গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় তাঁদের দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে ওমান পুলিশ। গাড়ির ভেতর থেকে চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত করেছে সে দেশের পুলিশ। গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলেই ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে ওমান পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের চার সহোদরের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুরু, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বছরব্যাপী ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শনিবার উপজেলার গুমাইবিল ও সরফভাটায় শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়।

কর্মসূচি চলাকালে এক বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া ২০২৬” ভিশন সামনে রেখে চলতি বছরের মধ্যে ৫০ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তবে তার আগেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজার গাছ রোপণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দেশের মঙ্গল ও পরিবেশ রক্ষায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকেই প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও দেশ গড়ার কাজে তারা নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় জনসাধারণের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, “আপনারা যে যেখানে পারবেন, প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় কয়েকজন মিলে অন্তত কয়েকটি করে গাছ লাগান। নিজেদের উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে তার ছবি আমাদের ফেসবুক পেজে ট্যাগ করতে পারেন। আমরা রাঙ্গুনিয়ায় একটি সবুজ বিপ্লব গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে, কারণ মাঠে কাজ করা কৃষকদের বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ফলজ, বনজ ও অন্যান্য গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া” বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ওমানে নিহত চার সহোদরের পরিবারের খোঁজ নিলেন ডা. এটিএম রেজাউল করিম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে তিনি নিহতদের গ্রামের বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদে আসরের নামাজ শেষে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

পরে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি বলেন, একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই কঠিন সময়ে তিনি ও তাঁর সংগঠন শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

তিনি স্থানীয়দেরও মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি ওমানে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চার সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো লালানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।

ওমানে নিহত চার সহোদরের পরিবারে এমপি হুম্মাম, পাশে থাকার আশ্বাস

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য ।

শুক্রবার (১৫ মে) নিহতদের গ্রামের বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং স্থানীয়দেরও সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “এই পরিবারের সদস্যরা আপনাদেরই আপনজন। যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন। একইসঙ্গে সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।”

তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে আরও বলেন, “আমরা সবাই দুনিয়া নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি যে পরকালের কথা ভুলে যাই। অথচ মৃত্যু যেকোনো সময় চলে আসতে পারে। এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে আমরা কেউ চিরস্থায়ী নই।”

তিনি বলেন, নিহতদের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে এখন একজন জীবিত আছেন। স্বজন হারানোর বেদনা তিনিই সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন। তাই তার পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।

মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে এমপি হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আশা করছি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই মরদেহ দেশে পৌঁছাবে। এ বিষয়ে ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশ সরকারও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।”

নিহতরা হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই ওমানে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগির দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব জানান, ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি রাতের দিকে ঘটলেও বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ধারণা করছে, গাড়ির ভেতরে এসির গ্যাস লিকেজজনিত বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

চার সহোদর ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিহতদের বাড়িতে যান। একইদিন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বক্তারা নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক চেয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

প্রসঙ্গত, নিহত চার ভাইয়ের মধ্যে রাসেদুল ইসলাম ও শাহেদুল ইসলাম বিবাহিত। রাসেদুল ইসলামের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শাহেদুল ইসলাম বিয়ের পরপরই প্রবাসে পাড়ি জমান। তার স্ত্রী রয়েছেন। নিহত সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম এখনো অবিবাহিত ছিলেন। এছাড়া তাদের পরিবারে রয়েছেন মা ও আরও এক ভাই। নিহতদের বাবার নাম মৃত আবদুল মজিদ।

ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটায় বের হয়ে ওমানে প্রাণ গেল চার ভাইয়ের

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওমানে একটি গাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই ওমানে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব জানান, ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। বাবুর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি রাতের দিকে ঘটলেও বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে ঘুমানোর সময় গ্যাস লিকেজ থেকে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইয়াকুব আরও জানান, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বাবু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বর্তমানে মরদেহগুলো রোস্তাক থানার হেফাজতে রয়েছে। পরে সেগুলো মাস্কাটে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

চার সহোদর ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোক বিরাজ করছে।

সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজেকে বদলাতে হবে: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক: সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্রুত নিজেদের সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নারী বন্দিদের এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “একজন বাবা বা মায়ের পরিচয়ই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। নিজের সন্তান, পরিবার ও প্রিয়জনদের মুখের দিকে তাকিয়েও ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।”

মানবিক ও কল্যাণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে আয়োজিত এ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক বন্দিদের জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও সংশোধনমূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা মামলা বা আইনি জটিলতায় আটক থাকেন, তবে তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হাত ধোয়ার অভ্যাস ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পানিবাহিত রোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁর ভাষায়, “কিডনি রোগের অন্যতম কারণ ভেজাল খাবার।”

এর আগে কারাগারে পৌঁছালে জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিক সালাম প্রদান করা হয়। এ সময় শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। পরে তিনি সন্তানসহ নারী বন্দিদের সেল পরিদর্শন করে তাঁদের নিরাপত্তা, সন্তানদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

পরে জেলা প্রশাসক কারা হাসপাতালের নারী ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

একপর্যায়ে নারী বন্দিদের পরিচালিত নকশিকাঁথা সেলাই কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি। এছাড়া বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও বাঁশ-কাঠের নান্দনিক সামগ্রীও পরিদর্শন করেন। এসব প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম বন্দিদের আত্মনির্ভরশীল ও সমাজে পুনর্বাসনে সহায়ক হবে বলে মত দেন জেলা প্রশাসক।

তিনি কারাগারের রান্নাঘর ও বন্দিদের জন্য প্রস্তুত খাবারের মানও পরীক্ষা করেন। খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

পরে পুরুষ বন্দিদের কারাকক্ষ ও সংশোধনাগার পরিদর্শন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।

সবশেষে কারা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সভায় বন্দিদের কল্যাণ, মানবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বন্দিদের স্বজনদের সাক্ষাৎ সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সংকট ও সামাজিক পুনর্বাসনে কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মাকালুর চূড়ায় প্রথম বাংলাদেশি বাবর আলী, ইতিহাসে নতুন মাইলফলক

ডেস্ক: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত মাউন্ট মাকালুর শিখরে পৌঁছেছেন চট্টগ্রামের পর্বতারোহী ও চিকিৎসক বাবর আলী। শনিবার (২ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেন।

৮,৪৮৫ মিটার উচ্চতার মাকালু নেপালের মহালাঙ্গুর হিমাল অঞ্চলে অবস্থিত। এই অভিযানে তার সঙ্গে ছিলেন শেরপা গাইড আং কামি শেরপা।

ভার্টিকাল ড্রিমার্স ক্লাবের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানের জন্য বাবর আলী গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। ৯ এপ্রিল তিনি টুমলিংটার পৌঁছান এবং সেখান থেকে সড়কপথে সেদুয়া গ্রামে যান। ১৮ এপ্রিল বেসক্যাম্পে পৌঁছে তিনি অভিযোজন প্রক্রিয়া শুরু করেন। পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত শিখর অভিযানে রওনা দেন।

অভিযানের অংশ হিসেবে তিনি ৬,৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২ থেকে ৭,৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ অবস্থান করেন। সেখান থেকে মধ্যরাতে চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করে প্রায় ১,১০০ মিটার দুর্গম পথ অতিক্রম করে ভোরে শিখরে পৌঁছান।

জানা গেছে, বাবর আলী পেশায় একজন চিকিৎসক এবং পর্বতারোহণ সংগঠন ভার্টিকাল ড্রিমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক।

বিশ্বে ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতকে সবচেয়ে কঠিন আরোহন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাকালু জয় করে বাবর আলী এখন পর্যন্ত পাঁচটি আট-হাজারি শৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করলেন।

এর আগে ২০১৭ সালে তিনি ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন। ২০২২ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অ্যামা দাবলাম জয় করেন।

২০২৪ সালে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসে একই অভিযানে জয় করেন।

২০২৫ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অন্নপূর্ণা-১ আরোহণ করেন এবং একই বছরে অক্সিজেন ছাড়াই মানাসলু জয় করেন।

মাকালু জয় তার পর্বতারোহণ জীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

চার বিভাগে ৪৮ ঘণ্টায় অতি ভারি বর্ষণের শঙ্কা, চট্টগ্রামে ভূমিধসের সতর্কতা

ডেস্ক : দেশের চারটি বিভাগে আগামী দুই দিনে অতি ভারি বর্ষণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (২ মে) দুপুরে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘের সৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এই বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারী বর্ষণের কারণে এসব বিভাগের নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য আলাদা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মে দিবস ও পেশাগত স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা দিবসে রাঙ্গুনিয়ায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকালে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রমজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

পরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াস তালুকদার, সহ-সভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব এবং সদস্য ইসমাঈল হোসেন নয়ন।

বক্তারা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তরুণের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, রিজওয়ানের গো-কার্টে নিজেই স্টিয়ারিং ধরলেন

ডেস্ক: কলেজ শিক্ষার্থী রিজওয়ান রশীদের তৈরি ‘গো-কার্ট’ (রেসিং কার) চালিয়ে তার উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নিজের মেধা ও পরিশ্রমে ছোট আকারের এই রেসিং কারটি নির্মাণ করেন রিজওয়ান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তার উদ্ভাবনটি উপস্থাপন করেন।

দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে গাড়িটির কারিগরি দিকগুলো আগ্রহভরে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি নির্মাণ প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে রিজওয়ানের সঙ্গে কথা বলেন।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চালকের আসনে বসে গো-কার্টটি চালিয়ে দেখেন।

রাঙ্গুনিয়ায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে আবারও ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা ও আগ্রহ।

এই কর্মসূচিকে বাস্তব রূপ দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) তিনি রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় এবং খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তারা খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তারা বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা একটি সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এই কর্মসূচিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া পরিদপ্তরের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে বাছাইয়ের মাধ্যমে সেরা প্রতিভাদের খুঁজে বের করে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে।

স্কুলভিত্তিক এই কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ইতোমধ্যে বিভিন্ন খেলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এখন আর শুধু একটি কর্মসূচি নয়—রাঙ্গুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠছে।

নির্বাচনের দিন ঝামেলা করলে সরাসরি ব্যবস্থা: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনাকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন কাউকে আর সতর্ক করা হবে না, সরাসরি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আজই আমরা শেষবারের মতো সতর্ক করে দিচ্ছি। নির্বাচনের দিন কেউ যদি কোনো কেন্দ্রে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাকে সতর্ক করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। শুধু ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ এবং আনসার ও ভিডিপির পরিচালক ও জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার এবং কর্ণফুলী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র।

জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার—“নো ড্রামা, নো লবিং।” নির্বাচনের দিন কেউ ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করলে সে যেই হোক, তাকে আর সতর্ক করার সুযোগ দেওয়া হবে না; সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকার থেকে নিবিড়ভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। “আমাকে যেমন রিটার্নিং অফিসার হিসেবে মনিটর করা হচ্ছে, তেমনি আপনাদের প্রতিটি কার্যক্রমও মনিটর করা হচ্ছে। কোনো ধরনের চালাকি বা অসততার আশ্রয় নেবেন না,” বলেন তিনি।
প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে, আইনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আনসার বাহিনীর মোবাইলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের বডি-অন ক্যামেরা, সেনাবাহিনী ও বিজিবির উপস্থিতিসহ প্রতিটি কেন্দ্র জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন তাকে কেউ দেখছে না, তাহলে তিনি ভুল করছেন। সবকিছু মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে।
নিজ নিজ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে আগামী প্রজন্ম বড় হবে। এখানে কেউ জিতবে, কেউ হারবে; তবে প্রশাসনের লক্ষ্য হবে বাংলাদেশকে জেতানো।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সপ্তাহের দিন-তারিখ বা সময় না দেখে প্রশাসনের সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মনিটরিং ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনো কিছু লুকানোর সুযোগ না থাকে।

জাতির প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। কারও দায়িত্বে ব্যত্যয় ঘটলে তার দায় সরকার বা নির্বাচন কমিশন নেবে না।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের সুযোগ নেই। ভালোবাসা থাকতে হবে রাষ্ট্রের প্রতি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের গায়ে যে কালিমা লেগেছে, তা মুছে ফেলার এখনই সুযোগ। কোনো সংশয় থাকলে তা ঝেড়ে ফেলে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এলাকায় কোনো ভয় বা আতঙ্ক থাকলে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার দোহাই দেওয়ার সুযোগ নেই।

শেষে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে আমার সন্তান কারও গোলাম হবে না। আমরা সরকারি কর্মচারীরা কারও ব্যক্তিগত গোলাম হব না—আমরা রাষ্ট্রের গোলাম হতে চাই।” তিনি সবাইকে বিবেকবান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

গণভোটের বার্তা পৌঁছাবে প্রতিটি ঘরে, রাঙ্গুনিয়ায় প্রশাসনের প্রস্তুতি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাঙ্গুনিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসনের প্রচারণাও জোরদার হয়েছে। গ্রাম পুলিশ ও চৌকিদারদের মাধ্যমে গণভোটের বার্তা প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ‘Uno Rangunia’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে এই কার্যক্রমের কথা জানানো হয়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, “গণভোটের প্রচারণা। গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা।”

প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নারী ও পুরুষ গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দুই সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের হাতে গণভোট সংক্রান্ত লিফলেট তুলে দিচ্ছেন ইউএনও নাজমুল হাসান। এ সময় তারা লিফলেটগুলো উঁচিয়ে ধরেন।

এদিকে ইউএনওর ওই পোস্টের নিচে এমডি আশেক এলাহী নামের এক ব্যক্তির মন্তব্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ৯০ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে বাড়িতে গণভোটের লিফলেট পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ।”

প্রশাসনের এই উদ্যোগের পাশাপাশি নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে: চট্টগ্রামে সেনাপ্রধান

ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বৃহস্পতিবার একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি।

মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও কার্যকর কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান চট্টগ্রামের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।

এছাড়াও সভায় তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানানো হয়।

স্ট্যাটাসে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

লাখো মানুষের শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন বেগম খালেদা জিয়া, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেত্রীর বর্ণাঢ্য জীবনের শেষ আনুষ্ঠানিকতার।

এর আগে বুধবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়িটি কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জিয়া উদ্যানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা কাঁধে করে কফিন সমাধিস্থলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম ও সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্বামীর কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মো. আব্দুল মালেক। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তিন বাহিনীর প্রধান ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও জানাজায় উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান।

জানাজার আগে মায়ের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আপনারা সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন। এর আগে সকালে গুলশান এভিনিউয়ের বাসায় মায়ের কফিনের পাশে বসে তাঁকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতে দেখা যায়।

জানাজাস্থলে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ সময় তিনি ভারতের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তা তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। একইভাবে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকও সাক্ষাৎ করে শোক ও সমবেদনা জানান।

বুধবার দুপুর ১২টার কিছু পরে খালেদা জিয়ার কফিনবাহী গাড়ি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়। এর আগে সকাল ১১টার দিকে গুলশান এভিনিউয়ের বাসা থেকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি যাত্রা শুরু করে। এ সময় মানিক মিয়া এভিনিউ, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকাজুড়ে মানুষের ঢল নামে। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।

জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া।

লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন।

জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে দলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। বিশাল জনসমাগমে পুরো এলাকা শোকাবহ পরিবেশে পরিণত হয়।

খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এ সময় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে দাফনের জন্য জিয়া উদ্যানে নেওয়া হবে। সেখানে তার স্বামী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ২৭ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর, ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লাখো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এ জানাজাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ

ডেস্ক রিপোর্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শুরুতেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।

সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল থেকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, যা পাঠ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।

রাষ্ট্রীয় শোক পালনকালে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।

বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া জানান, আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে শহিদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসহ সব আনুষ্ঠানিকতায় সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আজ আমরা গভীর শোকের সময় একত্রিত হয়েছি। তাঁর চলে যাওয়া জাতির জন্য বিরাট ক্ষতি। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। সেদিন তিনি খুব উৎফুল্ল ছিলেন। নিজে অসুস্থ থাকলেও সবার খোঁজখবর নিয়েছেন। জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর উপস্থিতি আমাদের খুব প্রয়োজন ছিল।”

সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ (Chief Adviser GoB)

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা কাল, দাফন শহীদ জিয়ার পাশে

ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, বাদ যোহর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, “কাল বাদ যোহর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে।