রাঙ্গুনিয়ায় দুই হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ক্ষেতের পাকা ধান পাহারা দিতে গিয়ে নেজাম উদ্দিন (৫০) নামে এক চাষি হত্যার শিকার হয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল সিঙ্গাপুর এলাকার বিলের পাশ থেকে  তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের দুই হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল এলাকায় বন্যহাতির হাত থেকে ক্ষেতের পাকা ধান রক্ষা করতে রাতে পাহারা দিতে গিয়েছিলেন নেজাম উদ্দিন। সকালে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে কালিছড়ি ব্রিজ সংলগ্ন মাতব্বর বাড়ির পাশের সড়কে বৃষ্টির পানির মধ্যে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। এ সময় তাঁর দুই হাত কনুই থেকে কাটা অবস্থায় ছিল।

নিহত নেজাম উদ্দিন সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল স্লুইস গেট এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। জীবিকার প্রয়োজনে চাষাবাদের পাশাপাশি গাছ কাটার কাজও করতেন।

নিহতের ছোট ভাই জসিম উদ্দিন বলেন, রাতে ক্ষেতের পাকা ধান পাহারা দিতে গিয়েছিলেন তাঁর ভাই। সকাল হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় তাঁরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সড়কের ওপর তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ভাই একজন নিরীহ চাষি ও গাছ কাটার শ্রমিক ছিলেন। তাঁকে কেন, কী কারণে এমন নৃশংসভাবে খুন করা হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

 

 

রাঙ্গুনিয়ায় এক দিনে সাড়ে ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক দিনে সাড়ে পাঁচ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনব্যাপী চট্টগ্রাম জেলার সব উপজেলায় একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব চারা রোপণ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগ ও নির্দেশনায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হাসানের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাড়ে পাঁচ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়। এতে সহযোগিতা করে রাঙ্গুনিয়ার ২০টি মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

রাঙ্গুনিয়ায় কলাবাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কলাবাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মোহাম্মদ ইউনুস (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের কলান্তর ছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইউনুস পদুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম খুরুশিয়া চেংগো এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

নিহতের শ্বশুর আব্দুল বাতেন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় চার মাইল দূরে কলান্তর ছড়ায় নিজের কলাবাগানে কলার ছড়া কাটতে যান ইউনুস। এ সময় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে সাড়া না পেয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

পরে বিকেলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন কলাবাগানে গিয়ে ইউনুসকে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজে তিন দশকের পথচলার ইতি, শেষ কর্মদিবসে সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত অধ্যাপক মহসিন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের অর্থনীতি বিষয়ে জ্ঞানদান আর সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা। এভাবেই কেটে গেছে জীবনের ৩০টি বছর। দীর্ঘ তিন দশকের কর্মজীবন শেষে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ থেকে বিদায় নিলেন অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. মহসিন। শেষ কর্মদিবসে সহকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে তাঁর শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজে বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সহকর্মীরা তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আনিছুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবু ইউসুফ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম সুজাউদ্দিন, সাবেক অধ্যাপক এন কে এম শাহরিয়ার, আবু মোহাম্মদ নুরুল মোমেন চৌধুরী ও সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবিত্রী দাশ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. জাহেদুল আলম, অধ্যাপক নাছিমা আক্তার, মোহাম্মদ মোকতার হোসেন, ড. মর্তুজা মোরশেদুল আনোয়ার, হোমায়রা রওশন, সালাহ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, নাসির উদ্দিন সিকদার, জয়নাল আবেদীন, ইফতেখার আলম লাভলু, ইফতেখার হোসাইন, তাহমিনা ইয়াসমিন নূর ও মোতাহের হোসাইনসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক পরিষদের নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক মো. মহসিনের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে বিদায় জানাতে গিয়ে বক্তারা তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।

শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করার এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিন দশকের কর্মজীবন শেষে অধ্যাপক মো. মহসিনের বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজে তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

রাঙ্গুনিয়ায় ইউসুফ চৌধুরীকে গণসংবর্ধনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরীকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রানীরহাট বাজার চত্বরে রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, “কর্মে মানুষের পরিচয়, এটাই তার প্রমাণ।” ইউসুফ মিয়া চৌধুরীর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার। সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন ইউসুফ চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় জিয়া মঞ্চের সহসভাপতি ওয়াকিল আহমদ তালুকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার ও নাছির উদ্দীন, ইসলামপুর বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান রনি, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, উত্তর জেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদক ইউসুফ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক এবিএম সাইফুদ্দিন এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী রাকিবুল হাসান মাসুদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর এলাহী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, ইউছুফ সাগর ও নাজিম উদ্দিন, রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, যুবদলের আহ্বায়ক আবু মনছুর তালুকদার ও সদস্যসচিব আব্দুল হালিম মাসুদ, ইসলামপুর বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, রাজানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন লিটন, ইসলামপুরের আহ্বায়ক কামরুল পারভেজ এবং শ্রমিক সংগঠনের আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ইউসুফ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন।

মায়ের জন্য পাওয়া ভালোবাসা ছড়িয়ে দিচ্ছেন অসহায় মানুষের মাঝে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মায়ের কঠিন অসুস্থতা, পরিবারের আর্থিক সংকট আর সেই দুঃসময়ে মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা—জীবনের এমন এক কঠিন অভিজ্ঞতা থেকেই মানবসেবার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান তরুণ সমাজসেবক আলভী জিগার। সেই অনুপ্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে গড়ে তোলেন ‘রাঙ্গুনিয়া মানবসেবা ফাউন্ডেশন’। এক বছরের পথচলায় সংগঠনটি বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বুধাগাজী পাড়ার সন্তান আলভী জিগার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি এক বছর পূর্ণ করে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে।

আলভী জিগারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে তাঁর মায়ের দুটি কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। মায়ের গুরুতর অসুস্থতায় আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে তাঁর পরিবার। সেই কঠিন সময়ে বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের পাশে দাঁড়ান। সবার সহযোগিতা, ভালোবাসা ও দোয়ায় মহান আল্লাহর রহমতে তাঁর মা সুস্থতা ফিরে পান বলে জানান তিনি।

জীবনের সেই সংকটময় অভিজ্ঞতা আলভী জিগারকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। তিনি উপলব্ধি করেন, সমাজে অনেক অসহায় মানুষ রয়েছেন, যাঁরা অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিপদের সময় অনেকের পাশে দাঁড়ানোর মতো আপনজন বা সহযোগীও থাকেন না। এমন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘রাঙ্গুনিয়া মানবসেবা ফাউন্ডেশন’।

এক বছরে শতাধিক মানবিক উদ্যোগ

প্রতিষ্ঠার পর গত এক বছরে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহযোগিতা, মুমূর্ষু রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তদান ও রক্তের ব্যবস্থা, অসচ্ছল ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।

সংগঠনটির এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। বিশেষ করে চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে অর্থসংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সংগঠনটি।

মানবিক কাজের পরিধি বাড়ানোর প্রত্যয়

এক বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে সেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চায় রাঙ্গুনিয়া মানবসেবা ফাউন্ডেশন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা।

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাকে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর শক্তিতে রূপান্তর করার এই উদ্যোগ তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে। কারণ, মানবসেবা কেবল আর্থিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনের মুহূর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই মানবিকতার প্রকৃত প্রকাশ ঘটে।

মায়ের অসুস্থতার সময় পাওয়া মানুষের সহযোগিতা থেকে যে মানবিক পথচলার সূচনা, সেই পথচলাকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই এখন আলভী জিগার ও তাঁর সংগঠনের লক্ষ্য।

রাতে বাড়িতে ঢোকার সময় সাপের কামড়, প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সাপের কামড়ে মোহাম্মদ জিহাদ (১৮) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার দক্ষিণ পদুয়া পশ্চিম খুরুশিয়া মেম্বার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জিহাদ ওই এলাকার আব্দুল খালেকের নাতি। তিনি চন্দ্রঘোনা মাদ্রাসা-এ-তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়ার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে প্রবেশের সময় জিহাদকে কোনো কিছু কামড় দেয় বলে তিনি বুঝতে পারেন। তবে অন্ধকারে কী কামড় দিয়েছে, তা দেখতে পাননি। পরে তাঁর শরীরে সাপের কামড়ের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনেরা। এ ঘটনার পর বাড়ির আঙিনায় একটি সাপ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা সেটিকে মেরে ফেলেন।

পদুয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত আলী জানান, ঘটনাস্থলটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। সাপের কামড়ের সন্দেহে প্রথমে এক ওঝাকে ডাকা হয়। পরে জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের ধারণা, তাঁকে কামড় দেওয়া সাপটি বিষধর গোখরা ছিল।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাঁর শরীরে সাপের কামড়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখতে পাননি। এ কারণে সাপের কামড়ের বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, সাপের কামড়ের বিষয়টি নিশ্চিত না হলে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হয়। এ কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে রেফার করেন।

রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি ইলিয়াছ তালুকদারের বড় বোনের ইন্তেকাল

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক ইলিয়াছ তালুকদারের বড় বোন নুর বেগম (৭৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছোট ভাই সাংবাদিক ইলিয়াছ তালুকদার।

মরহুমা নুর বেগম রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সৈয়দ সিকদারের স্ত্রী। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৯টায় চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়া এলাকার স্থানীয় মসজিদ মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।

এদিকে, তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাঙ্গুনিয়ায় উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বনকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ, সড়ক অবরোধ

বিনা নোটিশে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ স্থানীয়দের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বনকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বন বিভাগের দাবি, সরকারি বনের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদে বাধা দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিনা নোটিশে বসতঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তাঁরা কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার চন্দ্রঘোনা সেগুনবাগান এলাকায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন কোদালা বিটের অধীনে এ ঘটনা ঘটে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্কের পার্কিং-সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত দুটি ঘর ও ঘেরা-বেড়া উচ্ছেদ করে বন বিভাগের একটি দল। পরে ওই এলাকায় আরও একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে দলটি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত রাখা হয়।

রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন জানান, পরে ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত হলে তিনি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে যান। এ সময় দখলদারদের পক্ষের ২০০ থেকে ২৫০ জন লোক তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তাঁর চোখ, পিঠ ও মাথায় আঘাত লাগে বলে জানান তিনি।

মেহরাজ উদ্দীন আরও জানান, তিনি প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তাঁদের বসতঘর ভাঙচুর করা হয় এবং মালামাল লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে বনকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় নারীদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁদের পক্ষের দুই নারী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।

ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সেগুনবাগানের বাসিন্দা আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করে আসছি। বন বিভাগের লোকজন হঠাৎ কোনো নোটিশ ছাড়াই বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বাধা দিলে তারা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। এতে আমাদের দুজন নারী আহত হন।”

সংবাদ পেয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাফফর চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এখানে মূলত আশ্রয়হীন, খেটে খাওয়া ও দিনমজুর মানুষ মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে বসবাস করে আসছেন। এভাবে হঠাৎ উচ্ছেদের প্রতিবাদেই মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছে।”

পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, পার্কটি চট্টগ্রামের একজন ব্যক্তি লিজ নিয়েছেন। পরে রাঙ্গুনিয়ার কয়েকজন ওই ব্যক্তির কাছ থেকে সাবলিজ নেন। সাবলিজ নেওয়া ব্যক্তিরা পার্কের কিছু জায়গা বেদখলে রয়েছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানান। এরপর বন বিভাগের লোকজন উচ্ছেদে গেলে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়।

ওসি আরও বলেন, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে—এ বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকে কেউ অবহিত করেননি বলেও জানান তিনি।

সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হলেও ইন্ধনদাতারা অধরা, দাবি নিহত যুবদল নেতা মাসুদের পরিবারের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলায় অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতারা এখনো অধরা বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালীতে বেতাগী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তৃণমূল পর্যায়ের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে তিনি রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির রাজনীতিকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনীতিতে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তাঁকে যারা হত্যা করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে যারা ইন্ধন দিয়েছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বক্তারা সরকার, প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় নিহত মাসুদের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। এ সময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মাসুদের স্ত্রী বলেন, “আমার ছোট্ট মেয়ে বাবা কী জিনিস, সেটাও জানে না। সন্ত্রাসীরা আমার মেয়ের কাছ থেকে তার বাবাকে কেড়ে নিয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতারা এখনো গ্রেপ্তার হননি। স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইন্ধনদাতাদেরও যেন বিচারের আওতায় আনা হয়। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় জড়িত সবার বিচার ও ফাঁসি দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের আশরাফিয়া ফার্মেসির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় অধিকাংশ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রাম্য চিকিৎসায় মেলেনি সুফল, হাসপাতালের বারান্দায় চলছে বাছুরের চিকিৎসা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক বছর বয়সী একটি বাছুরের চিকিৎসা চলছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে। প্রায় ১৫ দিন ধরে অসুস্থ থাকার পর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বাছুরটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন কৃষক আবদুল সাত্তার। বর্তমানে বাছুরটিকে স্যালাইন দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

‎সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের বারান্দায় স্যালাইন চলা অবস্থায় বাছুরটিকে দেখা যায়। এ সময় বাছুরটির পাশে বসে ছিলেন কৃষক আবদুল সাত্তার। তিনি উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম ভূমির খীল এলাকার বাসিন্দা।
‎
‎আবদুল সাত্তার জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে বাছুরটির ডায়রিয়া শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং দিন দিন অবনতি হতে থাকে। পরে রোববার (১১ অক্টোবর) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে বাছুরটির চিকিৎসা শুরু হয়।
‎
‎তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বাছুরটিকে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দিচ্ছেন। বর্তমানে স্যালাইন চলছে। বাছুরটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।
‎
‎উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বখতিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “এই বাছুরটির স্ট্রং ডায়রিয়া হয়েছে। গ্রাম্য ডাক্তার দিয়ে ১৫ দিন চিকিৎসা করিয়েছেন। এতে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এখানে নিয়ে এসেছেন। ডাক্তাররা দেখছেন এবং ওষুধ দিয়েছেন। এখন স্যালাইন চলছে। আজ একটু উন্নতির দিকে।”
‎
‎উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের লোকবল কম। পুরো উপজেলা কাভার দিতে পারি না। গ্রাম্য ডাক্তার যারা আছেন, তাঁরা চিকিৎসা করেন, কিন্তু তাঁদের তেমন প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণ না থাকায় তাঁদের ভুল হয়। আমরা তাঁদের বলি, তোমাদের হাতে যদি এ ধরনের পেশেন্ট আসে অথবা বুঝতে না পারো, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। কিন্তু তাঁরা যোগাযোগ করেন না। যোগাযোগ না করে নিজেদের মতো চিকিৎসা করেন। চিকিৎসায় ভুল করেন। অনেক সময় রোগ দীর্ঘায়িত হয়। সময়ক্ষেপণ করায় দেখা যায়, যে প্রাণীটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেটি মৃতপ্রায় হয়ে যায়। আমাদের হাসপাতালে আসেন শেষ সময়ে। অনেক সময় তখন বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়ে।”
‎
‎তিনি আরও বলেন, “এসব ক্ষেত্রে গ্রাম্য ডাক্তারদের সামাজিকভাবে সতর্ক করা দরকার এবং জনগণকেও সচেতন হওয়া দরকার। কারণ, তাঁদের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে হবে না। এখন তো মানুষ জানে কোথায় চিকিৎসা পাওয়া যায়, কোথায় হাসপাতাল আছে। আগের মতো তো নেই, এখন যোগাযোগব্যবস্থাও ভালো। আমরা চাই, জনগণ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুক। আমাদের ডাকলেই পাবে।”
‎
‎বাছুরের ডায়রিয়ার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সাধারণত বাসি খাবার খাওয়ানোর কারণেই হয়ে থাকে। চার-পাঁচ ঘণ্টার বেশি দেরি করা খাবার দিলে সেই খাবার খেয়ে হজমে সমস্যা হয়, ফুড পয়জনিং হয়। এতে প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিষ্কার খাবার ও পানি নিশ্চিত করতে হবে। এতেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন খামারি, কৃষক ও ছোট উদ্যোক্তারা।”
‎
‎গবাদিপশু অসুস্থ হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়ে সময়ক্ষেপণ না করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
‎

দুর্গাপূজায় গুজব ছড়ালে ছাড় নয়, প্রতিমা রাখতে হবে ২৪ ঘণ্টা পাহারায়: এএসপি বেলায়েত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবক রাখা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মাদক প্রতিরোধ, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো বন্ধ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেল) মো. বেলায়েত হোসেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আয়োজনে উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন এএসপি মো. বেলায়েত হোসেন।

সভায় এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমরা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করব। এখানে আমাদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য থাকতে হবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মান থাকতে হবে।”

মাদক প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, “মাদকের বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে পূজামণ্ডপের ভেতরে যেন মাদক প্রবেশ করতে না পারে, সে দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। আপনারা এমন কিছু করবেন না, যাতে মা দুর্গার অসম্মান হয়। এতটুকুই আমাদের অনুরোধ থাকবে।”

সিসিটিভি ও ২৪ ঘণ্টা পাহারার ওপর গুরুত্ব

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। যেসব মণ্ডপ এখনো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আসেনি, সেগুলো দ্রুত ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

পূজামণ্ডপে ভোররাতে লোকজনের উপস্থিতি কম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পূজামণ্ডপে পুলিশ থাকুক, আনসার থাকুক অথবা না থাকুক, কখনোই কোনো প্রতিমা একা রাখা যাবে না। অবশ্যই আপনাদের স্বেচ্ছাসেবক যেন ২৪ ঘণ্টা সেখানে থাকে। কোনো অবস্থাতেই প্রতিমা অরক্ষিত রাখা যাবে না।”

পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে বলেন তিনি। তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো যাবে না বলেও সতর্ক করেন।

এএসপি বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তা দিনের মধ্যে অন্তত একবার পরিদর্শনে যাবেন। কোনো অভিযোগ বা সমস্যা থাকলে পুলিশকে জানাতে হবে। নিজেরা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়ানো যাবে না।

বহিরাগতদের বিষয়ে সতর্কতা ও নারীদের নিরাপত্তা

পূজামণ্ডপে তরুণদের উপস্থিতি এবং বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত বলেন, দুর্গাপূজা বছরে একবার হওয়ায় তরুণদের মধ্যে উৎসব নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকে। এ সময় স্বেচ্ছাসেবকদের খেয়াল রাখতে হবে, কারা এলাকার বাসিন্দা এবং কারা বাইরে থেকে আসছেন। এ বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, বড় পূজামণ্ডপগুলোর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে মা-বোনদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ ইভটিজিং কিংবা হয়রানিমূলক কথাবার্তার শিকার না হন। পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে পূজামণ্ডপের আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদেরও সচেতন থাকতে হবে।

নারীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, “পূজামণ্ডপ থেকে কেউ যখন বাসায় যাবেন, আপনারা কেউ যেন একা একা বাসায় না যান, বিশেষ করে মহিলারা। চার-পাঁচজন করে যাতে দলবদ্ধভাবে যান।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপ বা ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব নয়। তবে পুলিশের টহল দল থাকবে। তাই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। নারীরা যেন দলবদ্ধভাবে চলাচল করেন এবং যাতায়াতের পথে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

গুজব ছড়ালে দায় এড়ানো যাবে না

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমরা বর্তমান সময়ে যে বিষয়টি বেশি ফেস করছি, সেটি হলো গুজব। দেখা গেল, দেশের বাইরের কোনো ঘটনা অথবা দেশেরই দুই থেকে চার বছর আগের কোনো ঘটনা হঠাৎ করে রাঙ্গুনিয়ার নাম দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হলো।”

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিষয়ে মানুষ অনেক সময় বিবেক দিয়ে কাজ না করে আবেগ দিয়ে কাজ করে। ঘটনা সত্য কি না, তা যাচাই না করেই অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। এতে মূল পোস্টের পাশাপাশি শেয়ার করার মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে গুজব পৌঁছে যায়। ফলে গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে শেয়ারদাতাও দায়ী হয়ে পড়েন।

এএসপি বেলায়েত বলেন, “এ ধরনের কিছু দেখলেই দয়া করে সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার দেবেন না, প্রতিক্রিয়া জানাবেন না। আপনাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আপনারা যদি এমন কিছু দেখেন, দয়া করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, যাতে গুজব সমর্থন না পায়।”

সূর্যাস্তের আগে প্রতিমা বিসর্জনের অনুরোধ

প্রতিমা বিসর্জনের সময় পুলিশ ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, পূজা যত শেষের দিকে যায়, ততই অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিশেষ করে প্রতিমা বিসর্জনের সময় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা কাম্য নয়।

তিনি বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারণ করে দেয় থানা বা স্থানীয় প্রশাসন নয়। কেন্দ্রীয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব পুলিশ ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের ওপর বর্তায়।

এএসপি বেলায়েত বলেন, “আমি অনুরোধ করব, আপনারা সূর্যাস্তের আগেই যেন প্রতিমা বিসর্জন দেন। এই পূজার প্রতিমা বিসর্জনের সময় যেন আপনাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো থাকে, সেই প্রত্যাশা করছি।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিবছরের মতো এবারও রাঙ্গুনিয়ায় অত্যন্ত সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে।

দুর্গাপূজায় বাধা ও গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে বাধা সৃষ্টি, গুজব ছড়ানো কিংবা উৎসবকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন এএসপি বেলায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, “এই দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে যে বা যারা বাধা সৃষ্টি করবে, গুজব রটাবে কিংবা এটাকে ইস্যু করে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে, মনে রাখবেন, সে আপনার ধর্মের শত্রু, সে আমার ধর্মের শত্রু, সে রাষ্ট্রের শত্রু। এ বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না।”

সভায় আরও বক্তব্য দেন থানা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ১৯৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় লোকালয় থেকে অজগর উদ্ধার, ইকোপার্কের বনে অবমুক্ত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা বিটসংলগ্ন একটি লোকালয় থেকে অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। পরে অজগরটিকে রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি ও ইকোপার্কের গভীর প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পোমরা বিটের অধীন একটি লোকালয়ে অজগরটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁরা বিষয়টি বন বিভাগকে জানান। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগরটিকে নিরাপদ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীনের নেতৃত্বে অজগরটিকে রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি ও ইকোপার্কের গভীর প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় পোমরা বিট কর্মকর্তা ও বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বন বিভাগ সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী দেখা গেলে সেটিকে আঘাত বা বিরক্ত না করে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোয়াজারহাটে ওজনে কারচুপি, ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রোয়াজারহাট বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ওজন ও পরিমাপে কারচুপির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাজারে পণ্যের সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইনে একটি মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দুর্গাপূজা ঘিরে রাঙ্গুনিয়ায় প্রস্তুতি, ১৯৭ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় গুরুত্ব

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সেফায়েত হোসেন, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী, পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙ্গুনিয়ার সভাপতি অজয় কুমার চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক লিটন দে, উপজেলা যুবদল নেতা সেকান্দর হোসেন, এস এম লোকমান, গাজী মো. জসিম, জামাল উদ্দিন, মো. মহসিন প্রমুখ।

সভায় উপজেলার ১৯৭টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, গুজব প্রতিরোধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় হালদা রক্ষায় অংশীজনদের উদ্বুদ্ধকরণ সেমিনার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অংশীজনদের (Stakeholder) উদ্বুদ্ধকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে ‘হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’-এর আওতায় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজাত কুমার চৌধুরী। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে এহসান শামীম ও উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম।

সেমিনারে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সুফলভোগীরাও অংশ নেন।

সেমিনারে মৎস্যজীবীদের প্রতিনিধি গৌরপদ সরকার ঘোষিত মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে কার্ডধারী মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরতে না পারায় মৎস্যজীবীদের আয়-রোজগার বন্ধ থাকে। এ সময়ে তাঁদের জীবন-জীবিকা সচল রাখতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

সভায় হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ, নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, হালদা নদীর প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় প্রশাসন, মৎস্যজীবী, স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

খুরুশিয়া দ্বারিকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন মাহবুব আলম

রাঙ্গুনিয়া : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার খুরুশিয়া দ্বারিকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মাহবুব আলম।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে বিদ্যালয়টির এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) জারি করা আদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পরিপত্র এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধান ৬৪ অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠন করা হয়।

অনুমোদিত কমিটিতে মো. মাহবুব আলমকে সভাপতি, মোহাম্মদ আলী নাঈমীকে শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য, মো. কামাল উদ্দীনকে অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত সভাপতি মো. মাহবুব আলম বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও সুন্দর ও মানসম্মত করতে সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

উল্লেখ্য, বোর্ডের অনুমোদন অনুযায়ী নবগঠিত এডহক কমিটি আগামী ছয় মাস বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

রাঙ্গুনিয়ায় দিনমজুরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা আত্মহত্যা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মোহাম্মদ আবু তৈয়ব নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুরের গলাচিপা এলাকায় একটি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে বাড়ির পাশের একটি বাগানে গাছের সঙ্গে আবু তৈয়বকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। আবু তৈয়ব দিনমজুরের কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাহীদুল বিশ্বাস জানান, বাড়ির পাশের একটি বাগানে আবু তৈয়বের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি কয়েকদিন ধরে স্ত্রীর কাছে ঋণ নেওয়ার কথা বলছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে অভিমান থেকে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এসআই সাহীদুল বিশ্বাস বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

‘সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’: লালানগরে বিএনপি নেতারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ অভিযোগ তুলে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে লালানগর ইউনিয়ন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলটি আলমশাহপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে মরিয়মনগর-গাবতল ডিসি সড়ক প্রদক্ষিণ করে লালানগর চতজ্যাপাড়া রাস্তার মাথা হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এমএইচ সুমন। ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস কাঞ্চনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলী মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুনাফ, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হারুনুর রশিদ মাসুম, মিজানুর রহমান মিজান ও মো. ইদ্রিস।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. ফারুক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হাসান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. খোকন, সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ বিরুদ্ধে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় রাজপথে থাকার ঘোষণাও দেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় একটি পুলিশ ক্যাম্প এবং কর্ণফুলী নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বেতাগীতে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি জহির উদ্দিন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ, হুমাম কাদের চৌধুরী এমপির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মুহিবুল কবির তমাল, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য শওকত আলী নূর, ইউসুফ চৌধুরী, হেলাল উদ্দিন শাহ, মাঈন উদ্দিন রোকন, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, কিশোর গ্যাং, বখাটেপনা, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও মাদক সেবন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারকেন্দ্রিক এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উত্তর রাঙ্গুনিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। ওই এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার করতে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানানো হয়। সভায় বলা হয়, দুর্গম ও বিস্তৃত এলাকার কারণে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় অনেক সময় দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

এদিকে কর্ণফুলী নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বেতাগীতে নদীপথে নজরদারি বাড়াতে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে হবে না। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক, কিশোর অপরাধ, বখাটেপনা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় বর্ধিত পৌর কর প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় হোল্ডিং ট্যাক্স (পৌর কর) বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন পৌর এলাকার বাসিন্দা ও বাড়ির মালিকেরা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‘ভুক্তভোগী পৌরসভার বাসিন্দা ও বাড়ির মালিকেরা, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বর্ধিত পৌর করের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন। এতে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একতিয়ার হোসেন, ইসলামী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ছাদেক এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ফারুকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, পৌর এলাকার বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর আগে নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁরা বর্ধিত পৌর কর পুনর্বিবেচনা করে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ভিপি আনছুর উদ্দিন বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত না করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বর্ধিত কর প্রত্যাহার বা পুনর্নির্ধারণ না করা হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বক্তারা আরও বলেন, পৌর কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা উচিত। তারা দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

দেশের কোডে অতিরিক্ত ‘৮’, ইউএনও পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক সতর্কবার্তায় ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, +88801789796160 নম্বর থেকে এক ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করে নিজেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অর্থ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

তিনি জানান, তাঁর অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর +8801789796160। প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নম্বরটি দেখতে অফিসিয়াল নম্বরের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিল রয়েছে। শুধু দেশের কোড +880-এর পর অতিরিক্ত একটি ‘৮’ যুক্ত করে +88801789796160 নম্বরটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে অনেকেই বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, “আমার পরিচয়ে কেউ ফোন করে অর্থ বা অন্য কোনো ধরনের সুবিধা দাবি করলে তা বিশ্বাস করবেন না। কোনো কল বা অনুরোধ সন্দেহজনক মনে হলে অবশ্যই বিষয়টি যাচাই করবেন।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সকলকে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের প্রতারণামূলক কল সম্পর্কে অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান।

দুই থানার পৃথক অভিযানে রাঙ্গুনিয়ায় গ্রেপ্তার ৫, সাজা ৩ মাদকসেবীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ডেভিল হান্ট, পরোয়ানা তামিল ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তিনজন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নির্দেশনায় রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অভিযানে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা, ছয়টি সিআর সাজা পরোয়ানা এবং তিনটি সিআর পরোয়ানার ভিত্তিতে দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের আমতলী পাড়ার মো. সোহাগ (২২) এবং পশ্চিম বগাবিলি এলাকার সুদত্ত বড়ুয়া। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে সরকার ঘোষিত ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সক্রিয় সদস্য আবুল কাসেম বাদশা ওরফে বাদশা মিয়া (৩৫) এবং লালানগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. হারুন (৪৭)-কে গ্রেপ্তার করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে থানার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহির উদ্দিন।

অন্যদিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত ও পাঁচটি জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. আলমগীর (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে তিন মাদকসেবীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

পুলিশ জানিয়েছে, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়তে প্রশাসন-স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত উদ্যোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং আল হাইথাম কল্যাণ ট্রাস্টের সহযোগিতায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন যুব, সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবীরা দলবদ্ধভাবে সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন এবং সেগুলো নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। উদ্বোধনের পর তিনি নিজেও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত করা সম্ভব।”

অভিযানে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, এমন উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজন করা হলে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মানুষের সচেতনতা আরও বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরি হবে এবং নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

রাঙ্গুনিয়ায় খালে পড়ে মেধাবী মাদ্রাসাছাত্র মিনহাজের করুণ মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজখালী খালে পড়ে মুহাম্মদ মিনহাজ (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খতিবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিনহাজ ওই এলাকার মুহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে। সে ইসলামপুর তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া ছত্তারিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে মিনহাজ বাড়িতে সাইকেল রেখে এক বন্ধুর সঙ্গে বের হয়। একপর্যায়ে রাজখালী খালের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় সে পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তার সঙ্গে থাকা বন্ধু মিনহাজকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

পরে তাকে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাদ্রাসা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে তিন দিন আগে মিনহাজকে হিফজ বিভাগ থেকে ছুটি দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান তার মা। শনিবার সকালে তাকে আবার মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এর আগেই বন্ধুর সঙ্গে বের হয়ে যাওয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ইসলামপুর তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া ছত্তারিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুল আলম বলেন, “মুহাম্মদ মিনহাজ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সে পবিত্র কোরআনের চার পারা হিফজ করেছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ কার্যক্রম সফল করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।

এর আগে সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে বিডি ক্লিনের প্রায় ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে হাসপাতাল চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সচেতন সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাঙ্গুনিয়ায় চলমান খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তে গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে প্রকল্পের কাজ পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

খাসজমি উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খাসজমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং সরকারি সম্পত্তি যথাযথভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার বিষয়ে সংসদ সদস্য জানান, দেশের অন্যান্য ৫০ শয্যার হাসপাতালের মতো এটিকেও ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় বজ্রপাতে অগ্নিকাণ্ড, বসতঘর পুড়ে ছাই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে একটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরসহ ভেতরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মুন্সি স্কুলের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ওই এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌসের (স্থানীয়ভাবে ‘মায়ার মা’ নামে পরিচিত) বসতঘরে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে টিন ও বেড়ার তৈরি ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রীও আগুনে ভস্মীভূত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা মো. মিজান জানান, বজ্রপাতের সময় ঘরের গ্যাসের চুলা জ্বালানো ছিল এবং ঘরের মালিক বাইরে অবস্থান করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, বজ্রপাত গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডারে প্রভাব ফেলায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ঘরটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে আমাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বজ্রপাত থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।”

‘নোংরা খাল রেখে পর্যটক আনা সম্ভব নয়’—কোদাল হাতে হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পর্যটন বিকাশে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কোদাল হাতে খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়ার কুলকুরমাই খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাড়ে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, দেশে ডেঙ্গুর সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরা খাল ও জলাশয় ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। মানুষকে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা করতে হলে খালগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।

রাঙ্গুনিয়াকে পর্যটনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ার খালগুলো পরিষ্কার না থাকলে পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, পর্যটনকে আকর্ষণীয় করতে হলে প্রথমেই রাঙ্গুনিয়াকে পরিষ্কার করতে হবে। কোনো পর্যটক নোংরা পরিবেশের এলাকায় আসতে চাইবেন না। তাই খাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে হুমাম কাদের বলেন, বাংলাদেশের সেরা সন্তান বিডি ক্লিনের ছেলেমেয়েরা। তারা কোনো টাকা-পয়সা বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা না করে নিজের ইচ্ছায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করছে। প্রয়োজন হলে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজও করছে। তাদের প্রতি মন থেকে ভালোবাসা ও সালাম জানান তিনি।

এমপি জানান, শুরুতে ৪০০ থেকে ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে খাল পরিষ্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে বিডি ক্লিনের কার্যক্রম দেখে কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হয়। বর্তমানে সাড়ে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক রাঙ্গুনিয়ায় কাজ করছেন।

স্থানীয়দের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিটি ইউনিয়ন ও বাজারে বিনামূল্যে ডাস্টবিন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকে তা ব্যবহার না করে ডাস্টবিনের আশপাশেই ময়লা ফেলেছেন।

‘আমরা বিডি ক্লিনকে এখানে নিয়ে এসেছি, কারণ আমাদের জনগণকে আরও একটু সচেতন করতে হবে। তারা যখন দেখবে তাদের এলাকার ময়লা বাইরের মানুষ এসে পরিষ্কার করে দিয়ে যাচ্ছে, তখন হয়তো তাদের মনে একটা ডাক আসবে—এখন থেকে আমরা আর আমাদের এলাকাকে ময়লা করে রাখব না,’ বলেন তিনি।

রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে হুমাম কাদের বলেন, খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে দুটি খালের খননকাজ সরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বান্দরবান ও কাপ্তাই অঞ্চলের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ থাকায় এ উপজেলায় পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে খাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

নিজের দায়িত্বকালের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে হুমাম কাদের বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের কিছু ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ৩১ দফার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের মাত্র ছয় মাসের কার্যক্রম দিয়ে সাফল্য-ব্যর্থতা বিচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছয় মাস অনেক কম সময়। ছয় মাসের মধ্যে একটা সরকারের সাকসেস অথবা ফেইলিয়র বুঝতে পারবেন না। একটু সময় দেন আমাদের। ইনশাআল্লাহ কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখাব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কী করতে পারে।’

বিডি ক্লিনের এক প্রতিনিধি জানান, সংগঠনটি ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে দেশের ৫৭টি জেলা ও ১৬৫টি উপজেলায় তাদের টিম রয়েছে।

তিনি জানান, হুমাম কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণীর সঙ্গে যোগাযোগের পর রাঙ্গুনিয়ায় এ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমে একটি টিম এসে এলাকা পরিদর্শন করে। পরে সাড়ে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে কুলকুরমাই খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ থেকে ছয়টি জেলা থেকে স্বেচ্ছাসেবকেরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। দিনব্যাপী খাল পরিষ্কারের কাজ চলবে এবং এর মাধ্যমে খালের পানির প্রবাহমান স্রোত দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিডি ক্লিনের প্রতিনিধি।

রাঙ্গুনিয়ায় ইটভাটায় আগাম সতর্কতা, মালিকদের নোটিশ পরিবেশ অধিদপ্তরের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বিশেষ করে সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট ইটভাটায় আগুন না দেওয়া এবং জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল (উপরিভাগের মাটি) ব্যবহার না করার বিষয়ে ভাটা মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের নির্দেশে রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরেজমিনে গিয়ে মালিকদের হাতে সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদান করেন।

এ সময় ইটভাটার মালিকদের অবৈধভাবে ভাটায় আগুন না দেওয়া, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং কৃষিজমির টপসয়েল সংগ্রহ ও ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষা ও ইটভাটার আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহা আর নেই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহা আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা এই নারী বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান রাষ্ট্রের পক্ষে তাঁকে সম্মাননা জানান। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। রাঙ্গুনিয়ার নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুলেখা রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুলেখা রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছেন। তিনি হোসনাবাদ দুর্গাবাড়ীর গীতা শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গীতা শিক্ষার মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বুধবার রাতে তাঁর পরলোকগমনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, স্থানীয় বাসিন্দা, সহযোদ্ধা ও গীতা শিক্ষার্থীরা তাঁর বাড়িতে ছুটে আসেন। শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে আসা মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। এ সময় অনেকে তাঁর কর্মময় জীবন ও স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সুলেখা রানী সাহার মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর অবদান ও কর্মময় জীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।