পাকিস্তানে ট্রাক খালে পড়ে একই পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সারগোধা জেলার খুশাব শহরের কাছে দরবার পাঞ্জপির মানাওয়ান এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্র জানায়, যাত্রীবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে পড়ে যায়।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু এবং পাঁচজন নারী রয়েছেন। দুর্ঘটনায় সব নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছেন।

ট্রাকটি খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলা থেকে খুশাবের দিকে যাচ্ছিল। ঘন কুয়াশার কারণে চালক দৃষ্টিসীমা হারিয়ে ফেলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ট্রাকটি সড়ক থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়।

পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের খুশাব শাখার কর্মকর্তা হাফিজ আবদুল রশীদ জানান, রাত ১১টা ২২ মিনিটে তারা জরুরি কল পান। এরপর দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়।

আহত ৯ জনের মধ্যে দুজনকে খুশাবের টিএইচকিউ হাসপাতালে এবং সাতজনকে ডিএইচকিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতজনের অবস্থা গুরুতর।

আহতদের কাছ থেকে জানা গেছে, নিহত ও আহত সবাই শ্রমজীবী মানুষ। কাজের সন্ধানে তারা বান্নু থেকে খুশাব শহরের দিকে যাচ্ছিলেন।

এ দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

ফেরার পথেই থেমে গেল প্রবাসী পরিবারের জীবনের গল্প

এস এম আক্কাছ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) | অতিথি প্রতিনিধি:

প্রবাস জীবনের কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে স্বপরিবারে কয়েক দিনের অবকাশ কাটাতে ওমানের সালালাহ শহরে ভ্রমণে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার একটি পরিবার। পাহাড় আর সাগরের শহর ঘুরে আনন্দমুখর সময় কাটিয়ে মাস্কাটে ফেরার পথেই ঘটে যায় সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তে থামিয়ে দেয় তিনটি প্রাণের জীবনের যাত্রা।

শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার দিকে সালালাহ থেকে মাস্কাটগামী সড়কের তামরিথ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমান প্রবাসী মো. শফিউর আলমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার, তাঁদের একমাত্র ছেলে মুহাম্মদ সাকিবুল হাসান (সবুজ) এবং বিলকিস আক্তারের মেয়ের জামাই হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মুহাম্মদ দিদার।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন নিহত সাকিবুল হাসান (সবুজ)। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলন্ত গাড়ির সামনে হঠাৎ একটি উট চলে আসে। আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উটের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে সড়ক থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

ঘটনায় সবুজের স্ত্রী রিতা আকতার, তাঁর সন্তান ও বোন গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা স্থানীয় একটি মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে তারা শঙ্কামুক্ত।

নিহত সাকিবুল হাসান সবুজ তিনদিন আগে তাঁর মা, স্ত্রী, সন্তান ও বোন-জামাইকে নিয়ে মাস্কাট থেকে সালালাহ ভ্রমণে যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাঁর বাবা শফিউল আলমের সঙ্গে ওমানের হামেরিয়াতে বসবাস করছিলেন।

একসঙ্গে থাকা সবুজের বন্ধু প্রবাসী রবিউল হোসাইন পারভেজ জানান, ফটিকছড়ির এই পরিবারটি ওমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পরিচিত ও সম্মানিত ছিল। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ওমানজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোকের আবহ নেমে আসে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে সালালাহর একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, ওমানের দীর্ঘ ও নির্জন মহাসড়কে উটের অবাধ চলাচল প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিবারটিও সেই কঠিন বাস্তবতার শিকার হলো।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে। তবে যে পরিবার একসঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে বেরিয়েছিল, তাদের ঘরে ফিরবে কেবল নিথর দেহ আর অসীম শূন্যতা।

লাখো মানুষের শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন বেগম খালেদা জিয়া, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেত্রীর বর্ণাঢ্য জীবনের শেষ আনুষ্ঠানিকতার।

এর আগে বুধবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়িটি কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জিয়া উদ্যানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা কাঁধে করে কফিন সমাধিস্থলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম ও সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্বামীর কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মো. আব্দুল মালেক। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তিন বাহিনীর প্রধান ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও জানাজায় উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান।

জানাজার আগে মায়ের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আপনারা সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন। এর আগে সকালে গুলশান এভিনিউয়ের বাসায় মায়ের কফিনের পাশে বসে তাঁকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতে দেখা যায়।

জানাজাস্থলে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ সময় তিনি ভারতের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তা তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। একইভাবে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকও সাক্ষাৎ করে শোক ও সমবেদনা জানান।

বুধবার দুপুর ১২টার কিছু পরে খালেদা জিয়ার কফিনবাহী গাড়ি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়। এর আগে সকাল ১১টার দিকে গুলশান এভিনিউয়ের বাসা থেকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি যাত্রা শুরু করে। এ সময় মানিক মিয়া এভিনিউ, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকাজুড়ে মানুষের ঢল নামে। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।

জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া।

লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন।

জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে দলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। বিশাল জনসমাগমে পুরো এলাকা শোকাবহ পরিবেশে পরিণত হয়।

খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এ সময় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে দাফনের জন্য জিয়া উদ্যানে নেওয়া হবে। সেখানে তার স্বামী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ২৭ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর, ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লাখো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এ জানাজাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ

ডেস্ক রিপোর্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শুরুতেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।

সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল থেকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, যা পাঠ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।

রাষ্ট্রীয় শোক পালনকালে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।

বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া জানান, আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে শহিদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসহ সব আনুষ্ঠানিকতায় সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আজ আমরা গভীর শোকের সময় একত্রিত হয়েছি। তাঁর চলে যাওয়া জাতির জন্য বিরাট ক্ষতি। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। সেদিন তিনি খুব উৎফুল্ল ছিলেন। নিজে অসুস্থ থাকলেও সবার খোঁজখবর নিয়েছেন। জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর উপস্থিতি আমাদের খুব প্রয়োজন ছিল।”

সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ (Chief Adviser GoB)

শহিদ হাদির জানাজার সময় পরিবর্তন হয়ে বেলা দুইটায়

ডেস্ক: শহিদ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা পূর্ব ঘোষিত সময়ের পরিবর্তে শনিবার বেলা দুইটায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজ ( Chief Adviser GOB) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয় আগামীকাল বেলা দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহিদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে নামাজে জানাজা বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠিত হবার ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো।

শহিদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজায় যারা অংশ নিতে আসবেন তারা কোন প্রকার ব‍্যাগ বা ভারি বস্তু বহন না করার জন‍্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় ড্রোন উড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজ ( Chief Adviser GOB)।

দেশে পৌঁছেছে শহিদ ওসমান হাদির মরদেহ, শনিবার সংসদ ভবন এলাকায় জানাজা

ডেস্ক: সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট দেশে পৌঁছেছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এদিকে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহিদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের কোনো প্রকার ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এ সময় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি

ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পোস্টে বলা হয়, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদীকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।”

একই ধরনের বার্তা শরিফ ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেদিন রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন, দেশবাসীর প্রতি দোয়া ও শান্ত থাকার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক: সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এই অবস্থায় দেশবাসীর প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা যায়, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান আজ সেখানে গিয়ে শরিফ ওসমান হাদিকে দেখতে যান। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং হাদির চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

ফোনালাপে ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান জানান, শরিফ ওসমান হাদির বর্তমান শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।

বিজয়ের আকাশে ইতিহাস, প্যারাস্যুটিংয়ে বিশ্বরেকর্ড বাংলাদেশের

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সর্বাধিক জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর সংলগ্ন প্যারেড গ্রাউন্ডে সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

প্যারাস্যুটিং প্রদর্শনীতে ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন দক্ষ প্যারাট্রুপার অংশ নেন। একযোগে জাতীয় পতাকা হাতে আকাশ থেকে অবতরণের মাধ্যমে তারা বিশ্বের সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেন।

এই গৌরবোজ্জ্বল আয়োজন প্রত্যক্ষ করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানকে আরও বর্ণিল করে তোলে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে আয়োজিত ফ্লাইপাস্ট মহড়া। এ সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার আকাশে নান্দনিক ও কৌশলগত মহড়া প্রদর্শন করে, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

বিজয় দিবসের এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম ও সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মহান বিজয় দিবস: স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা

ডেস্ক: মহান বিজয় দিবসে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করা হয়।

সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে তিনি মহান বিজয় দিবসের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সূচনা করেন।

এরপর সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে বর্ণিল আয়োজন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকেই লাল-সবুজের আলোকসজ্জায় ঝলমল করে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। বিজয়ের এই আনন্দঘন আয়োজন নগরবাসীর মাঝে সৃষ্টি করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

রাঙ্গুনিয়ায় বেগম রোকেয়া দিবসে নারীদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গিকার উপজেলা প্রশাসনের

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের আয়োজনে এবং কারিতাসের সহযোগিতায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান। বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. শরমিন আকতার, কারিতাসের মাঠ কর্মকর্তা গৌরি ভট্টাচার্য্য এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক।

ইউএনও নাজমুল হাসান বক্তব্যে বলেন, “পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকেই পারিশ্রমিক ঘরে নিয়ে যাওয়ার আগে চার ভাগের একটি অংশ বাইরে ব্যয় করে দেন, আর বাকি তিন ভাগ ঘরে আসে। কিন্তু নারীরা উপার্জিত অর্থকে সুন্দরভাবে ব্যবহার করে পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনে ব্যয় করেন। নারী যে কোনো চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে যতটা উপার্জন করেন, সেটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পরিবারের জন্য ব্যয় করার।”

তিনি আরও বলেন, “নারীরা আমাদের সন্তান ও পরিবারের প্রতি যে স্নেহ ও দায়িত্বশীলতা দেখান, তা আমরা অনেক সময় দেখতে পাই না। উদাহরণস্বরূপ, এই অনুষ্ঠানে রাখা নাস্তা অনেকেই নিজে খাবেন না, সন্তানদের জন্য সঙ্গে নিয়ে যাবেন। এটাই আমাদের বাঙালি মায়ের পরিচয়।”

ইউএনও নাজমুল হাসান সভায় আশ্বাস দেন, উপজেলা প্রশাসন সবসময় নারীদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও ঋণ বিতরণসহ যেকোনো সহযোগিতায় নারীদের পাশে দাঁড়াবে উপজেলা প্রশাসন।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসে চট্টগ্রামে নানা আয়োজন, সহায়ক উপকরণ বিতরণ

ডেস্ক:প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বুধবার চট্টগ্রামে পালিত হয়েছে ৩৪তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২৭তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস ২০২৫। প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা, অংশগ্রহণ ও উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘ এই দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এবং যুগান্তর, ডিডিআরসি ও এওয়াকের সহযোগিতায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে দুই দিনব্যাপী মেলা, র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদুল আলম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রামপুর প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শাহাদাত হোসেন, ডিডিআরসির নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন, সিডিডির নির্বাহী পরিচালক নাজমুল বারী এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মারশেদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথি ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সমাজে তাদের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আমাদের আরও সহানুভূতিশীল হতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “প্রতিবন্ধী ভাই-বোনরাও জাতির সম্পদ। তাদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজে লাগাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। কার কী ধরনের সুবিধা বা সহযোগিতা দরকার—তা নির্ধারণ করে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।”

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে হুইলচেয়ার, অক্সিলারি ক্রাচ, স্মার্ট সাদা ছড়িসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়।

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিহত জাপানি সৈন্যদের দেহাবশেষ উত্তোলন ও প্রত্যাবর্তন

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে নিহত ১৮ জন জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ উত্তোলন এবং জাপানে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাপান সরকারের মনোনীত ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত চট্টগ্রামে অবস্থান করে দেহাবশেষ উত্তোলন কার্য সম্পাদন করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় সম্পূর্ণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চল। সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং খননকার্যে নেতৃত্ব প্রদান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খনন বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (অবঃ), বীর প্রতীক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দেহাবশেষ উত্তোলন শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল নিহত জাপানি সৈন্যদের প্রতি যথাযোগ্য সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরবর্তীতে দেহাবশেষসমূহ জাপানে প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে জাপান সরকারের অনুরোধে কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত আরও ২৩ জন জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ উত্তোলন ও প্রত্যাবাসন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছিল।

তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম (ছবি: সংগৃহীত)

ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের কোনো ধরনের বিধিনিষেধ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বক্তব্য জানান।

এর আগে তারেক রহমান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এখন পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে নেই। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিস্তারিত জানানোর সুযোগ সীমিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রত্যাশিত অবস্থায় পৌঁছালেই তিনি দেশে ফিরবেন।

তারেক রহমানের সেই পোস্টের পর অনেকেই তাদের প্রশ্ন জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তার কাছে অনেকে জানতে চেয়েছেন—তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা বিধিনিষেধ আছে কি না।

জবাবে প্রেস সচিব স্পষ্টভাবে জানান, তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে সরকারের কোনো বিধিনিষেধ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।


উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা: খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির দোয়া, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এদিন বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। সংশোধনের ফলে আইনটির কয়েকটি ধারা পরিবর্তিত হয়েছে, এনজিও নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তও শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। সামগ্রিকভাবে আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে।

সভায় পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর খসড়াও উপস্থাপন করা হয়। খসড়াটি আরও পরিমার্জন করে পরবর্তী সভায় পুনরায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে আটক থাকা অবশিষ্ট ২৪ বাংলাদেশিকে খুব দ্রুতই মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দুই-তিন দিনের মধ্যেই তারা দেশে ফিরবেন।

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্দ্বীপের সাত বাংলাদেশির মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট: ওমানের দুকুম সিদরা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সবাই ওমানে সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নিহতদের সবাই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নের বাসিন্দা। এদের মধ্যে পাঁচজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বাবলু, সাহাবুদ্দিন, আমিন সাওদাগর, আরজু ও রকি।

স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মাছ ধরা শেষে ফেরার পথে তাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং বাকিরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

একই এলাকার সাতজন প্রবাসীর একসঙ্গে মৃত্যুতে সারিকাইতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, যা এই শোককে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।

ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদারকি করছে ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

বাংলাদেশ-সৌদি আরবের মধ্যে কর্মী নিয়োগে প্রথমবারের মতো চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) রিয়াদে এই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং সৌদি আরবের পক্ষে মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ বিন সোলাইমান আল-রাজী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সৌদি আরব ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরের ইতিহাসে এটি প্রথম সাধারণ কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি।

১৯৭৬ সাল থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হিসেবে কাজ করছে, তবে এতদিন পর্যন্ত সাধারণ কর্মী নিয়োগে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছিল না। এর আগে ২০১৫ সালে গৃহকর্মী নিয়োগ এবং ২০২২ সালে দক্ষতা যাচাই সংক্রান্ত দুটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবে বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশের দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার ও স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে। এটি ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সৌদি মন্ত্রী ও ড. আসিফ নজরুলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, সৌদি আরবে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, ইকামা নবায়নের দায়িত্ব যেন নিয়োগকর্তারা পালন করে এবং দেশে ফেরার ইচ্ছুক কর্মীরা যেন দ্রুত এক্সিট ভিসা পান।

সৌদি মন্ত্রী এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এ সময় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন, মিশনের উপপ্রধান এস এম নাজমুল হাসান, শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মাদ রেজায়ে রাব্বীসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ।

বিমান বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো (Antonio Alessandro)।

আজ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তারা দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক বন্ধন আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

 

সূত্র: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফেসবুক থেকে।

ওমানে রাঙ্গুনিয়ার দুই প্রবাসীর মৃত্যু, একজন সড়কে, অন্যজন অসুস্থতায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে রাঙ্গুনিয়ার দুই প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। একজন প্রাণ হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়, অন্যজন অসুস্থজনিত কারণে।

প্রয়াতদের একজন উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তাপুর এলাকার মো. ফারুক (৩৫)। তিনি মৃত আরবান আলীর ছেলে। অন্যজন ময়ূর উদ্দিন (২২), পারুয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড উত্তর পারুয়া এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে।

ফারুকের মৃত্যুর বিষয়ে একই এলাকার ওমানপ্রবাসী জামাল উদ্দিন জানান, তিনি সোহার গাদাফান এলাকায় ফ্রি ভিসায় কাজ করতেন। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার লিভারের সমস্যা শনাক্ত করেন। পরে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান তিনি। পরে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ফারুকের এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল জানান, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। দেড় বছর আগে সর্বশেষ বাংলাদেশে এসে পুনরায় ওমানে পাড়ি জমান। পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, ময়ূরের বড় ভাই আবদুল সুক্কুর জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ওমানের বোয়ালী এলাকায় আরবাবের কাছে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। গাড়িতে আরও তিনজন ছিলেন। গাড়ি উল্টে গেলে সবাই আহত হন। তবে ময়ূরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।

ময়ূর একটি মাছ পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৩ বছর আগে প্রবাসে যান তিনি। সর্বশেষ ৪-৫ মাস আগে দেশে এসে আবারও ওমানে ফিরে যান। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার লাশ দেশে পাঠানোর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা চলছে।

শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়া রোধে ইউনিসেফের চার পরামর্শ

ডেস্ক:
বাংলাদেশে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চারটি পরামর্শ দিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সচেতনতামূলক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউনিসেফের দেওয়া পরামর্শগুলো হলো—

  • শিশুকে কখনো একা ফেলে রাখা যাবে না, সবসময় দায়িত্বশীল কারও সাথে থাকতে হবে।
  • শিশুদের সাঁতার শেখার ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।
  • খোলা পানির উৎস চিহ্নিত করে তার চারপাশে বাধা বা বেড়া স্থাপন করতে হবে।
  • উদ্ধার ও সুরক্ষাকৌশল সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা প্রচার করতে হবে।

সংস্থাটি জানায়, এসব করণীয় মেনে চললে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ (অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ)

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন— সমান গুরুত্বে দেখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একটি বৈঠক বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়।

দুই ঘন্টা ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব এবং এ সংক্রান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কমিশন সদস্যরা জানান, খুব শিগগিরই কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জমা দেবে।

এই বিষয়টিকে সামনে এগিয়ে নিতে আগামী রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারো বৈঠক করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে গঠিত ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রস্তাবনাগুলোও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানতম তিনটি মেন্ডেটের অন‍্যতম হচ্ছে সংস্কার। তাই নির্বাচন ও বিচারের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে জুলাই সনদের বিষটিকে দেখতে হবে।”

তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন শুধুমাত্র একটি সাধারণ নির্বাচনই নয়, এটি হচ্ছে একটি ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন যার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের পথরেখা।”

তিনি বলেন, “তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদেরকে অবশ্যই মৌলিক সংস্কারগুলো চুড়ান্ত করে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের কোন বিকল্প আমাদের হাতে নেই।”

কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আজ রাতের আকাশে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: রক্তিম চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শনি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: আজ (রোববার, ৭ সেপ্টেম্বর) রাতেই ঘটতে যাচ্ছে পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ উপভোগ করবে এ বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য।

বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৭ মিনিটে শুরু হবে পেনুমব্রাল গ্রহণ। রাত ১০টা ২৭ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শুরু হবে। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এবং স্থায়ী হবে রাত ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় চাঁদ রক্তিম আভায় রূপ নেবে, যা “Blood Moon” নামে পরিচিত। পূর্ণগ্রাস অংশ স্থায়ী হবে প্রায় ৮২ মিনিট। পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে। অর্থাৎ পেনুমব্রাল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গ্রহণ চলবে মোট প্রায় ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিট।

পূর্ণগ্রাস গ্রহণ চলাকালে আকাশে চাঁদের কাছেই দেখা যাবে সৌরজগতের অন্যতম উজ্জ্বল গ্রহ শনি (Saturn)। এটি খালি চোখে উজ্জ্বল হলুদাভ বিন্দুর মতো দেখা যাবে। টেলিস্কোপ বা উন্নত বাইনোকুলার ব্যবহার করলে শনির বলয় আংশিকভাবে দেখা সম্ভব।

অন্যদিকে, গ্রহ নেপচুন (Neptune) তখন আকাশে অবস্থান করলেও এটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে হালকা নীলাভ একটি ক্ষুদ্র বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বহু দেশ থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে। সবচেয়ে ভালোভাবে দৃশ্যমান হবে ইন্দোনেশিয়ার হিলা দ্বীপ থেকে শুরু করে আফ্রিকার কেনিয়ার মোম্বাসা উপকূল পর্যন্ত এলাকায়।

আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে খালি চোখেই গ্রহণ দেখা সম্ভব হবে। তবে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে চাইলে বাইনোকুলার, ছোট টেলিস্কোপ কিংবা স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

আজ রাতের এই মহাজাগতিক ঘটনা একসঙ্গে পূর্ণিমা, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, রক্তিম চাঁদ ও শনির সৌন্দর্য উপহার দেবে। বিরল এ দৃশ্য উপভোগে তাই বিশ্ববাসীর আগ্রহ তুঙ্গে।

সূত্র: NASA, BBC Sky at Night Magazine

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ: সফর ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা

ডেস্ক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে সেনাপ্রধান সম্প্রতি তাঁর চীন সফরকালীন অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর অভিজ্ঞতা ও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন।

এ সময় দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সেনাপ্রধান আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনী প্রধান সেনাবাহিনীর চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

 

ভিপি নুরের ওপর হামলা নিয়ে সরকারের বিবৃতি

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নূরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কেবল নূরের ওপরই নয়, এ ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনার ওপরও আঘাত। এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

তাৎক্ষণিকভাবে নুরুল হক নূর ও তাঁর আহত সহকর্মীদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানোরও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

বিবৃতিতে নূরের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়। বলা হয়, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। চব্বিশের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান চলাকালে তাঁকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনেরও উল্লেখ রয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংকটময় এই সময়ে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে—২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে বলেও জোর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান বৈঠকে ভিসামুক্ত ভ্রমণসহ ছয় চুক্তি-সমঝোতা সই

সংগৃহীত ছবি

ডেস্ক: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়েছে।

রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানানো হয়।

চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসামুক্ত ভ্রমণ, বাণিজ্য সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, তিন বছর মেয়াদি সংস্কৃতি বিনিময় কর্মসূচি, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, সরকারি বার্তাসংস্থার মধ্যে সমঝোতা এবং গবেষণা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা।

বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার দাবি করেন, একাত্তরের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো এরইমধ্যে তাদের দেশ সমাধান করেছে।

সফরসূচি অনুযায়ী আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইসহাক দার। রাতে গুলশানে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেবেন তিনি।

এর আগে শনিবার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকা আসেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী। পৌঁছানোর পর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মালয়েশিয়ায় পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। তিন দিনের সরকারি সফরে সোমবার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি।

তার আগমন উপলক্ষে সেখানেই (টার্মিনাল ১) ছিল আনুষ্ঠানিক আয়োজন।

সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে ড. ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাণিজ্যিক বিমান অবতরণের পর কেএলআইএর বুংগা রায়া কমপ্লেক্সে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।

পরে রয়্যাল মালয় রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের ২৮ জন কর্মকর্তা ও সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন ড. ইউনূস। গার্ড অব অনারের নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন মোহদ মাসরুর হিদায়াত মাসরি।

প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কয়েকজন উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়া সফর করছেন ড. ইউনূস। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফরে এসে ড. ইউনূসকে তার দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মঙ্গলবার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে ড. ইউনূসকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানো হবে এবং আনোয়ারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা, পর্যটন ও প্রতিরক্ষা খাতে অগ্রগতি ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সফরের সময় দুই নেতা প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা, সেমিকন্ডাক্টরে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য প্রচারের ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিনিময় প্রত্যক্ষ করবেন। এছাড়া কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা খাতে নোট বিনিময়ও সম্পন্ন হবে।

সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সেরি পেরদানা কমপ্লেক্সে ড. ইউনূসের সম্মানে আনুষ্ঠানিক ভোজের আয়োজন করবেন। বুধবার তিনি একটি জনসভার বক্তব্য দেবেন এবং ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) থেকে সামাজিক ব্যবসায় সম্মানসূচক ডক্টর অব ফিলোসফি ডিগ্রি লাভ করবেন। তিনি ইউকেএম এবং ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় নেটওয়ার্কের সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।

২০২৪ সালে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৩.৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত (২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৫.১ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং রপ্তানি গন্তব্য। মালয়েশিয়ার প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, পাম তেল ও রাসায়নিক দ্রব্য, আর বাংলাদেশ থেকে আমদানি হয় টেক্সটাইল, জুতা, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও প্রস্তুত পণ্য।

পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের আগে ইইউর জরুরি বৈঠক, জেলেনস্কির অংশগ্রহণে জোর

আন্তর্জাতিক: ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠকে বসার আগে আজ সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকে বসছেন।

ব্রাসেলস থেকে এএফপি জানায়, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করবেন ইইউ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ইইউ’র আশঙ্কা, ইউক্রেনকে ছাড়াই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলে অগ্রহণযোগ্য আপসে বাধ্য করা হতে পারে।

পুতিন ও ট্রাম্প আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা রাজ্যে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। তিন বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে ছাড়াই পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যকার বৈঠকের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, চুক্তির ফলে কিয়েভকে কিছু অংশ বা অঞ্চল ছেড়ে দিতে হতে পারে।

ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ অনলাইনে বৈঠক করবেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি ইভানোভিচ সিবিহা ওই অনলাইন বৈঠকে যুক্ত থাকবেন।

পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে জেলেনস্কিকে উপস্থিত রাখার ব্যাপারে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ইইউ নেতারা। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ব্রিটেন, ফিনল্যান্ডের নেতারা এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেইন যৌথ এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি যেন রাশিয়ার ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করেন।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস গতকাল রোববার বলেন, ‘বিশ্ব নেতাদের বৈঠকে জেলেনস্কি অংশ নেবেন বলে আমার ধারণা ও বিশ্বাস রয়েছে।’

সূত্র : এএফপি, বাসস