দেশজুড়ে টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ায়ও উদ্বোধন
রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রম রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় পাঁচ কোটি শিশু ও কিশোর বিনামূল্যে এই টিকা পাবেন। জন্মনিবন্ধন না থাকা শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। কর্মসূচি মাসব্যাপী চলবে এবং ১৩ নভেম্বর শেষ হবে।
এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া শিশু মেলা মডেল স্কুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে ‘জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুমানা রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শরমা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জন্মসনদবিহীন শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত এই টিকাটি আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহায়তায় সরকার পেয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এই টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে ইতিমধ্যেই সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোনো দেশে বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় টিকা পাবেন। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী অন্যান্য শিশুকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। শহরের পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও।
সরকারের লক্ষ্য—এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু নিবন্ধন করেছে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জন্মসনদ না থাকলেও নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় নিবন্ধন করা যাবে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে, যা শিশুদের ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।
প্রথম ১০ কর্মদিবসে বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান চলবে এবং পরবর্তী ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।
রাঙ্গুনিয়ায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল-মাদ্রাসায় টার্গেট ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন এবং কমিউনিটি টার্গেট ৩৩ হাজার ৭২৩ জন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪২০টি স্কুল-মাদ্রাসায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।





