ক্রিকেট ম্যাচে হুমামকে হারিয়ে সামানজারের জয়, সম্মাননা পেল সাহসী চার কিশোর

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল কর্ণফুলী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা সেই চার সাহসী কিশোরকে সম্মাননা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্মাননা তুলে দেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক ও সহমর্মিতা জানিয়ে নগদ অর্থ, টিন ও শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। সাহসী চার কিশোরকে জড়িয়ে ধরে তাদের মানবিক ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া শিশু ও তার অভিভাবকদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একে এস খান হোল্ডিংস ও একে এস খান হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার খান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে ফাইনালে অংশ নেওয়া পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ ও সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অতিথিরা। উদ্বোধনী পর্বে হুমাম কাদের চৌধুরীর করা বলে ব্যাট চালিয়ে প্রতীকী উদ্বোধন করেন সামানজার খান।

টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ। খেলায় পৌরসভা দলের সমর্থনে ছিলেন সামানজার খান, আর সরফভাটা ইউনিয়ন দলের পক্ষে সমর্থন জানান এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত হুমামের সমর্থিত দলকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় সামানজারের সমর্থিত দল।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উদ্ধারকাজে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া চার কিশোর— মুহাম্মদ রবিউল্লাহ, মুহাম্মদ সাইমন, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ অলিউল্লাহর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী, সামানজার খান এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও উদ্ধার হওয়া শিশুর পরিবারের হাতে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে টিন পৌঁছে দেওয়া হয় বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয় চার কিশোরের সাহসিকতায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুসন্ধান চালানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে অনুষ্ঠানের স্মারক হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হুমাম কাদের চৌধুরী ও সম্মানিত অতিথি সামানজার খানের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ইউএনও মো. নাজমুল হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ব্যস্ততার কারণে অংশ নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। পরে তিনি ভাবেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন ক্রীড়াপ্রেমী এবং আরাফাত রহমান খোকো জীবিত থাকাকালে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সেই চিন্তা থেকেই শত ব্যস্ততার মাঝেও এ আয়োজনে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতেই তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের এবং উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, নিজস্ব মাঠ না থাকা সত্ত্বেও সরফভাটা ইউনিয়ন দল ফাইনালে পৌঁছেছে, যা প্রশংসনীয়। সরফভাটায় একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করা গেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় ক্রিকেট ও ফুটবল দলে রাঙ্গুনিয়ার প্রতিনিধিত্ব দেখতে চান বলেও জানান তিনি। খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।

এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচ উপভোগের জন্য আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্টদের টিকিটের ব্যবস্থা করবেন তিনি। পরে বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

গ্যাস্টিক নাকি হার্টের ব্যথা—পার্থক্য বুঝতে যা জানালেন ডা. শহিদুল ইসলাম রুবেল

বুকের ব্যথা নিয়ে অনেক সময় মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। গ্যাস্টিকের সমস্যাকে অনেকেই হার্টের ব্যথা মনে করেন, আবার কখনো হার্টের সমস্যাকে সাধারণ গ্যাস্টিক ভেবে অবহেলাও করেন। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করেছেন রাঙ্গুনিয়া হেলথকেয়ার হসপিটালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বাত ব্যথা, মেডিসিন, ডায়াবেটিস, চর্ম ও যৌন, লিভার জনিত সমস্যা ও শিশু চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল গ্যাস্টিক ও হার্টের ব্যথার পার্থক্য এবং এর বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে কথা বলেন।

ডা. রুবেল জানান, গ্যাস্টিক ও হার্টের ব্যথা—দুটিই সাধারণত বুকের মাঝামাঝি স্থানে অনুভূত হয়। তবে কিছু উপসর্গ দেখে প্রাথমিকভাবে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য বোঝা সম্ভব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস্টিকের সমস্যা যেকোনো বয়সে হতে পারে। অন্যদিকে সাধারণত ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে হার্টজনিত ব্যথার ঝুঁকি বেশি দেখা যায়, যদিও কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে।

তিনি বলেন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে গ্যাস্টিকের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, জন্মগত হৃদরোগ কিংবা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে হার্টের ব্যথা হতে পারে।

ভিডিওতে তিনি আরও জানান, গ্যাস্টিকের ব্যথার সঙ্গে বুক জ্বালাপোড়া, ঢেকুর, অস্বস্তি, বুক ভারী লাগা কিংবা টাইটনেসের মতো উপসর্গ থাকতে পারে। অনেক সময় গ্যাস্টিকের ওষুধ সেবনে সাময়িক স্বস্তিও পাওয়া যায়।

অন্যদিকে হার্টের ব্যথা হলে তা ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং কখনো থুতনি, হাত বা শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের ব্যথায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে জানান তিনি।

ডা. শহিদুল ইসলাম রুবেল বলেন, বুকের ব্যথাকে অবহেলা না করে লক্ষণ বুঝে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল এমবিবিএস, ডিএ (সি) অ্যানেসথেসিয়া, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ; সিএমইউ, ডিএমইউ (আল্ট্রাসোনোগ্রাফি) এবং ডিভাইস খৎনা ফেলোশিপ (তুর্কি) সম্পন্ন করেছেন।

বিঃদ্রঃ প্রকাশিত বক্তব্য চিকিৎসকের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত। শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

দায়িত্বশীল জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাঙ্গুনিয়ায় ডিসি জাহিদুল ইসলাম

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : “একটি দায়িত্বশীল ও সুস্থ জাতি গঠনে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা আমাদের বাস্তব জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। জয়কে কীভাবে উপভোগ করতে হয়, পরাজয়কে কীভাবে মেনে নিতে হয়—এসব আমরা খেলাধুলার মাধ্যমেই শিখি।”

এভাবেই তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (১৮ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত “অন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব কথা বলেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের জীবন ও খেলাধুলার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। জীবনে যেমন সবসময় সুখ বা ভালো সময় থাকে না, তেমনি খেলাধুলাতেও সবসময় জয় আসে না। জয়-পরাজয় মিলিয়েই প্রতিটি খেলা। তবে পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে না নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই একজন মানুষকে সফলতার পথে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “যদি কেউ পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তাহলে সে সত্যিকার অর্থে হেরে যায়। কিন্তু যদি সে নিজের চেষ্টা ধরে রাখে, তাহলে তার জয় অনিবার্য।”

বর্তমান বিশ্বকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ উল্লেখ করে ডিসি বলেন, যার যত দক্ষতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তার নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগও তত বেশি। এজন্য কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও স্বপ্নকে ধারণ করে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও লক্ষ্য ছাড়া সুন্দর কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তরুণদের সামনে এখন অনেক দায়িত্ব। শুধু সফল হওয়াই নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”

তরুণ সমাজের সামনে বর্তমানে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, মাদকাসক্তি এবং ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন গেমে আসক্তি তরুণদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের ১৮ কোটি মানুষ ও ৩৬ কোটি হাতকে দেশের মূল সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সম্পদ যদি প্রযুক্তির নেতিবাচক দিকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা চাই তরুণদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে।”

এ সময় অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তারা বড়দের অনুসরণ ও অনুকরণ করতে শেখে।

সন্তানদের সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাবা-মা যদি সন্তানকে সময় না দেন, তাহলে বড় হয়ে সন্তানেরাও বাবা-মাকে সময় দেবে না। আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক উপজেলার পোমরা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন ও ইউনিয়ন পরিষদস্থ পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলা আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় উপজেলাস্থ সেবাপ্রার্থীদের জন্য ওয়েটিং রুম কাম লাইব্রেরি উদ্বোধন এবং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পরিদর্শন করেন তিনি।

 

রাঙ্গুনিয়ায় গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল, রাজাভুবন ও গজালিয়ার জয়োল্লাস

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার শিশুমেলা মডেল স্কুল মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ (বালক ও বালিকা) এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বালক বিভাগে রাজাভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। একইভাবে বালিকা বিভাগে গজালিয়া আছাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিরোপা জিতে নেয়।

খেলা ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, গ্যালারিতে অভিভাবকদের উচ্ছ্বাস এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি। প্রতিটি আক্রমণ, গোল ও রক্ষণভাগের লড়াইয়ে ফুটে ওঠে শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রাণী গোপ। এ সময় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, খেলাধুলা শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, রাঙ্গুনিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের মাঝে ট্রফি ও সম্মাননা পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুষ্টি সচেতনতা বাড়াতে রাঙ্গুনিয়ায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি শুরু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি ও অপুষ্টি দূরীকরণে রাঙ্গুনিয়ায় শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি। “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

উপজেলা পর্যায়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, বাস্তবায়নে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

উদ্বোধন উপলক্ষে সকালে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আকতার এবং রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আফসার। এ সময় বক্তব্য দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইসমাইল হুসাইন, ডা. রিতা দাশ, রিপন দত্ত, উৎপল বড়ুয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলবে।

সরফভাটায় স্থায়ী খেলার মাঠের দাবিতে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটায় যুবসমাজকে মাদকের আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং শিশু-কিশোরদের বিনোদন ও স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থায়ী খেলার মাঠের দাবিতে একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা ইউনিয়নের পুড়ামুড়া এলাকার একটি মাঠে এ ম্যাচের আয়োজন করা হয়। এতে সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরাও অংশ নেন।

১৬ ওভারের খেলায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সরফভাটার তরুণ ক্রিকেটাররা ২১৪ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। জবাবে সরফভাটার সাবেক ক্রিকেটাররা ১৫০ রানে অলআউট হলে ৬৪ রানের ব্যবধানে জয় পায় উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটাররা।

খেলায় অংশগ্রহণ করেন এস এ মুরাদ চৌধুরী, সোহেল রানা, রিকু, মামুন, জামাল, জুয়েল, মুন্না, সোহেল, ইউনুস, সাঈদ, সাজ্জাদ, তারেক, ওসমান, আকিব, ইরফান সিফাত, কোরবান প্রমুখ।

এ সময় ক্রীড়া সংগঠক এস এ মুরাদ চৌধুরী বলেন, সরফভাটা রাঙ্গুনিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। অথচ এ এলাকায় সর্বসাধারণের জন্য কোনো স্থায়ী খেলার মাঠ নেই। যে স্থানে প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটিও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে খেলার মাঠ থাকলেও সরফভাটা দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সরফভাটায় একটি স্থায়ী খেলার মাঠ নির্মাণের জোর দাবি জানান।

আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী খেলার মাঠের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে আবারও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

আয়োজকদের মতে, এলাকায় একটি খেলার মাঠ নির্মিত হলে তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হবে, যা মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে এবং সামাজিক শান্তি ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মহিবুল্লাহ মারুফী, আজগর, আলমগীর সিকদার, মান্নান, লিয়াকত, সবুজ, বি,এস করিম, এস,এম সালাউদ্দীন প্রমুখ।

রাঙ্গুনিয়ায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে আবারও ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা ও আগ্রহ।

এই কর্মসূচিকে বাস্তব রূপ দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) তিনি রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় এবং খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তারা খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তারা বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা একটি সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এই কর্মসূচিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া পরিদপ্তরের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে বাছাইয়ের মাধ্যমে সেরা প্রতিভাদের খুঁজে বের করে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে।

স্কুলভিত্তিক এই কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ইতোমধ্যে বিভিন্ন খেলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এখন আর শুধু একটি কর্মসূচি নয়—রাঙ্গুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠছে।

দেশজুড়ে টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ায়ও উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রম রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় পাঁচ কোটি শিশু ও কিশোর বিনামূল্যে এই টিকা পাবেন। জন্মনিবন্ধন না থাকা শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। কর্মসূচি মাসব্যাপী চলবে এবং ১৩ নভেম্বর শেষ হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া শিশু মেলা মডেল স্কুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে ‘জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুমানা রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শরমা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জন্মসনদবিহীন শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত এই টিকাটি আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহায়তায় সরকার পেয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এই টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে ইতিমধ্যেই সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোনো দেশে বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় টিকা পাবেন। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী অন্যান্য শিশুকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। শহরের পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও।

সরকারের লক্ষ্য—এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু নিবন্ধন করেছে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জন্মসনদ না থাকলেও নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় নিবন্ধন করা যাবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে, যা শিশুদের ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।

প্রথম ১০ কর্মদিবসে বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান চলবে এবং পরবর্তী ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল-মাদ্রাসায় টার্গেট ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন এবং কমিউনিটি টার্গেট ৩৩ হাজার ৭২৩ জন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪২০টি স্কুল-মাদ্রাসায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিদিন ৯ হাজার শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রাঙ্গুনিয়ায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা হয়।

সভায় জানানো হয়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে। এই টিকা শিশুদের ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।

প্রথম ১০ কর্মদিবস বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম চলবে এবং পরবর্তী ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে দেওয়া হবে। প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, গ্যাভি টিকাদান জোট, প্যাথ, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা, মেডিক্যাল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. ইসমাইল হুসাইনসহ অন্যান্যরা।

সভা থেকে জানানো হয় রাঙ্গুনিয়ায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল টার্গেট ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন এবং কমিউনিটি টার্গেট ৩৩ হাজার ৭২৩ জন। ইতোমধ্যে স্কুলে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ৫১ হাজার ১০৭ জন ও কমিউনিটিতে ২৩ হাজার ৪৩০ জন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪২০টি বিদ্যালয়ে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।

এ সময় বক্তারা বলেন, টাইফয়েড দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। সবার সহযোগিতায় কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী এবং স্থানীয় অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।

অর্থ নয়, প্লাস্টিক বর্জ্যেই মিলছে চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবা

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

সোমবার সকালে নগরীর ষোলশহর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র নিজেই রোগী দেখেন এবং বিদ্যানন্দের চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা। অর্থের অভাবে যারা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন, বিদ্যানন্দের এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ হবে। একইসঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাসে এটি ভূমিকা রাখবে।”

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, এর আগে সংগঠনটি প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ করলেও এবারই প্রথম স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হলো। তিনি বলেন, “কসমোপলিটন এলাকায় চালু হওয়া এ হাসপাতালটিতে গাইনি, চক্ষু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন। থাকবে ল্যাব সুবিধা ও ফার্মেসি। চিকিৎসকের পরামর্শে যে ওষুধ ও পরীক্ষা দরকার হবে, তা প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়েই পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে এটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে শুরু হলেও সাড়া পেলে ধীরে ধীরে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলেও এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিদ্যানন্দ জানায়, গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ প্রকল্পে তারা ২০০ মেট্রিকটন প্লাস্টিক সংগ্রহ করে রিসাইক্লিং করেছে।

 

“তারা হারায়—কখনো ফিরে, কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতিতে”

রাঙ্গুনিয়ায় দুই শিশুর হারিয়ে যাওয়া ও মানবিক উদ্ধার অভিযান

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: একটা অন্ধকার রাত। দুই অবুঝ শিশু পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে।

কে জানে তারা কোথা থেকে এসেছে? কোথায় যাবে?
তারা হারিয়ে গেছে—কখনো হয়তো ফিরে আসবে, আবার কখনো হারিয়ে যাবে এমন এক পরিণতির দিকে, যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে—দুই শিশুকে পাওয়া গেছে। কেউ চিনে থাকলে যেন যোগাযোগ করা হয়।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশু দুজনকে পাওয়া যায়।

এক রিকশাচালক শিশুদের নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী পারুয়া ইউনিয়নে। শিশুদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায়, স্থানীয় এক যুবক, মুসাফির তালুকদার, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেন যাতে তাদের পরিবার খুঁজে পাওয়া যায়।

জোনাকি ও আয়েশা—দুই অবুঝ মুখের পরিচয়

শিশু দুটির একজনের নাম জোনাকি, অপরজন আয়েশা। তারা জানায়—তাদের বাবার নাম সোহেল, মায়ের নাম মুন্নী। কখনো তারা বলে সৈয়দনগর, কখনো কাটাখালি—ঠিকানা তারা মনে রাখতে পারে না।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকা থেকে ফোন আসে। এক ব্যক্তি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং জানান, শিশুদের নানী পরদিন সকালেই প্রমাণপত্রসহ এসে নিয়ে যাবেন।

পরদিনই এক করুণ বাস্তবতা উন্মোচিত হয়

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জোনাকি(৯) ও আয়েশার(৭) নানী এসে তাদের পারুয়া থেকে নিয়ে যান।

“কিন্তু পরদিন আরও একটি হৃদয়বিদারক বাস্তবতা সামনে আসে।”

জানা যায়, জোনাকি ও আয়েশার বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। তারা এখন নানীর কাছে থাকে।
পায় না বাবার আদর, কিংবা মায়ের যত্ন। কারণ মা মুন্নী শহরে কাজ করেন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে।

বাবা-মা উভয়ের মধ্যেই রয়েছে কিছুটা মানসিক সমস্যা, আর শিশু দুজনের একজন মানসিকভাবে কিছুটা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বিকারগ্রস্ত)। এ অবস্থায় তারা প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে, ঠিকানা মনে রাখতে পারে না। মুঠোফোনে এসব তথ্য জানিয়ে শিশুদের নানী মো. ননা মিয়ার স্ত্রী রানু আক্তার জানান, তারা এর আগেও বেশ কয়েকবার হারিয়ে গিয়েছিল শেষবার কাউখালি থানার সহায়তায় পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তারা তার কাছেই থাকেন উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকার সোনারগাঁও এলাকা সংলগ্ন ঘোনাকূল ওরনার টিলা এলাকায়।

“দারিদ্রতার কাছে তিনিও পরাজিত, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই দুই নাতনির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেও তবুও হারিয়ে যায় তারা।”

প্রশ্ন: এবার তারা ফিরে এসেছে ভালো কিছু মানুষের সহানুভূতিতে, কিন্তু আগামীবার?

 

পূর্বের আরেক করুণ গল্প: মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন 

এ ধরনের একটি ঘটনা আগেও ঘটেছে রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ওসমানের টেক এলাকার আমড়াকাটার বাড়িতে।
সেখানে এক মেধাবী ছেলে, সাজ্জাদ হোসেন, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হলেও ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন।

তার পরিবারের কারো মানসিক সমস্যা না থাকলেও, সাজ্জাদের সমস্যা সময়ের সঙ্গে বাড়ে। সে প্রায়ই হারিয়ে যেতো। কখনো ফিরে আসতো, কখনো বহুদিন নিখোঁজ থাকতো।

শেষবার সে হারিয়ে যায় চিরতরে। তার বাবা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু ছেলের মুখ শেষবার আর দেখতে পারেননি।

সাজ্জাদের গল্প আমাদের শেখায়—মানসিক অসুস্থতা শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবারের কষ্ট এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”

নিরাপদ নয় এই অনিশ্চিত পথচলা

জোনাকি ও আয়েশার গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি বাংলাদেশের অনেক শিশুর বাস্তবতা।
তারা হারিয়ে যায়— কখনো ফিরে আসে কারো মমতায়,
আবার কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতির অন্ধকারে।

এখনই যা করণীয়:

১. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা:
শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রশাসনিক নজরদারি:
স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়মিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

৩. পরিচয়পত্র ব্যবস্থা:
শিশুদের জন্য আইডেন্টিটি ট্যাগ, নামপোতা জামাকাপড় কিংবা ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেম চালু করা যেতে পারে।

৪. কমিউনিটি সাপোর্ট:
স্থানীয় দোকান, বাজার, মসজিদ-মন্দিরের লোকদের সচেতন করা জরুরি—যাতে তারা হারিয়ে যাওয়া শিশুকে দ্রুত সঠিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে পারেন।

শেষ কথা: আজ জোনাকি ও আয়েশা ফিরে এসেছে।
কিন্তু এটাই কি শেষবার? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।

“আমরা জানি না, এটাই কি তাদের হারানোর শেষবার?
কিন্তু এটুকু জানি—তারা যেন আর না হারায়,
তাদের ছোট্ট জীবন যেন থেমে না যায় কোনো নির্মম পরিণতির কাছে। এই দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।”

প্রতিবেদন: এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার,
সম্পাদক: রাঙ্গুনিয়া টুডে।

 

অতিরিক্ত ঔষধ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ, সমন্বিত চিকিৎসা প্রয়োজন: ডা. মোহাম্মদ শাহ সোলাইমান

ডা. মোহাম্মদ শাহ সোলাইমান (ছবি সংগৃহীত)

 

অতিরিক্ত ঔষধ কোনোভাবেই রোগীর জন্য কাম্য নয়। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে একাধিক ঔষধ খাওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে চারটির বেশি ঔষধ সেবনকে polypharmacy বা অতিরিক্ত ঔষধ বলা হয়।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ শাহ সোলাইমান জানান, যেসব রোগীর একাধিক রোগ রয়েছে, তাদেরকে সতর্কতার সঙ্গে ঔষধ দিতে হয়। তবে চিকিৎসা সমন্বয়ের অভাবে রোগীরা প্রায়ই একাধিক বিশেষজ্ঞের ঔষধ একসাথে গ্রহণ করেন, যা ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ডা. শাহ সোলাইমান একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, করিম নামের এক রোগী দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ডায়াবেটিসের জন্য তার ডাক্তার ঔষধ দিয়েছেন। পরে কিডনিতে সমস্যা দেখা দিলে কিডনীর ডাক্তার ঔষধ দিয়েছেন। এরপর হার্টের সমস্যা দেখা দিলে হার্টের ডাক্তার নতুন ঔষধ দিয়েছেন। এছাড়া রোগী নিজেও কিছু ভিটামিন ও গ্যাস্ট্রিক ঔষধ নিয়মিত গ্রহণ করছেন। ফলে তার ঔষধের তালিকা দীর্ঘ হয়ে গেছে।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য রোগীর সাহায্য প্রয়োজন। রোগী প্রেসক্রিপশন ও চলমান ঔষধগুলো সমন্বিতভাবে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গেলে সুবিধা হয়। চিকিৎসক দেখতে পারেন, কোন ঔষধ দরকারি, কোনটির পার্শপ্রতিক্রিয়া আছে, কোনটি কার্যকর হচ্ছে না এবং কোনটি আর চলমান রাখার প্রয়োজন নেই। দীর্ঘ ঔষধের তালিকাকে ছোট করার প্রক্রিয়াকেই Deprescribing বলা হয়। তবে কিছু ঔষধ হঠাৎ বন্ধ করা যায় না; ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হয়, যা tapering নামে পরিচিত।
ডা. শাহ সোলাইমান আরও বলেন, সমন্বয়ের অভাবই অতিরিক্ত ঔষধের অন্যতম প্রধান কারণ।

ডা. মোহাম্মদ শাহ সোলাইমান
MBBS, BCS, MCPS, MD, MACP
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
রিপোর্ট: ডা. মোহাম্মদ শাহ সোলাইমানের ফেসবুক পোস্ট থেকে।