রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন এবং তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল। তিনি দাবী করেন তাকে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ উত্তর রাঙ্গুনিয়ার মানুষ ও আমার পরিবারের সদস্যরা আবারও প্রমাণ করেছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আজও মানুষের হৃদয়ে জীবিত আছেন।”
তিনি বলেন, বাবার নাম উচ্চারণ করলে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মুখে হাসি নিয়ে বলুন—সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন, তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা ন্যায়বিচার, ভোটাধিকার ও নিরাপদ জীবনের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। এই সময়ে অনেকেই জীবন দিয়েছেন, যাদের তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ১২ তারিখের ভোটকে সামনে রেখে আরও কিছুদিন মাঠে থাকতে হবে। তিনি বলেন, “বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে হবে। আজকের এই জনসভা ও গণমিছিল প্রমাণ করেছে, রাঙ্গুনিয়ায় ইনশাআল্লাহ বিএনপির জয় হবেই।”
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তিনি দেখেছেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বার্তা রাঙ্গুনিয়ায় পৌঁছেনি। তিনি বলেন, “উন্নয়নের কথা পদ্মা সেতু পর্যন্ত এলেও রাঙ্গুনিয়ায় আসেনি।” গত দুই সপ্তাহের প্রচারণায় ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে থেকে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন। মরিয়মনগর থেকে রানীরহাট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর আগে এই সড়ক প্রশস্ত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে একফুটও চওড়া হয়নি, বরং আরও সংকুচিত হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে এই সড়ক প্রশস্ত করা।
তিনি আরও বলেন, গ্রাম থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় মানুষ এখনো তার বাবার সময়ে নির্মিত রাস্তা ব্যবহার করছে, কিন্তু দীর্ঘদিন তা সংস্কার হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলেও দলের সিনিয়র নেতারা নিজ উদ্যোগে বালু ও ইট দিয়ে কিছু রাস্তা সংস্কার করেছেন বলেও তিনি জানান।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে হুমাম বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতাল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিদ্যমান হাসপাতাল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, এসব হাসপাতাল সংস্কারের দায়িত্ব বিএনপি নেবে।
তিনি জানান, সম্প্রতি উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে। অদক্ষ বৈদ্যুতিক সংযোগের ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে ইলেক্ট্রিশিয়ানসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যাবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সনদ ও পরিচয়পত্র দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রবাসী পরিবারগুলোর প্রসঙ্গে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেক মানুষ। তিনি বলেন, চুক্তি ও সরকারি সনদ অনুযায়ী চাকরি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, তার বাবা-দাদারা দীর্ঘদিন রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সঙ্গে এক পরিবারের মতো বসবাস করেছেন। নিজের বয়স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আমি সংগ্রাম করেছি। এই কম বয়সে রাঙ্গুনিয়া নিরাপদ থাকবে কিনা, তার জবাব আপনারা ভোটের মাধ্যমে দেবেন।”
জনসভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে থেকে সৎ রাজনীতির মাধ্যমে দেশের উন্নয়নই বিএনপির রাজনীতির মূলনীতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনসভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সন্ধ্যার আগেই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে যোগ দেন।
