রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজে তিন দশকের পথচলার ইতি, শেষ কর্মদিবসে সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত অধ্যাপক মহসিন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের অর্থনীতি বিষয়ে জ্ঞানদান আর সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা। এভাবেই কেটে গেছে জীবনের ৩০টি বছর। দীর্ঘ তিন দশকের কর্মজীবন শেষে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ থেকে বিদায় নিলেন অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. মহসিন। শেষ কর্মদিবসে সহকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে তাঁর শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজে বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সহকর্মীরা তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আনিছুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবু ইউসুফ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম সুজাউদ্দিন, সাবেক অধ্যাপক এন কে এম শাহরিয়ার, আবু মোহাম্মদ নুরুল মোমেন চৌধুরী ও সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবিত্রী দাশ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. জাহেদুল আলম, অধ্যাপক নাছিমা আক্তার, মোহাম্মদ মোকতার হোসেন, ড. মর্তুজা মোরশেদুল আনোয়ার, হোমায়রা রওশন, সালাহ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, নাসির উদ্দিন সিকদার, জয়নাল আবেদীন, ইফতেখার আলম লাভলু, ইফতেখার হোসাইন, তাহমিনা ইয়াসমিন নূর ও মোতাহের হোসাইনসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক পরিষদের নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক মো. মহসিনের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে বিদায় জানাতে গিয়ে বক্তারা তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।

শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করার এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিন দশকের কর্মজীবন শেষে অধ্যাপক মো. মহসিনের বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজে তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

পটিয়ায় প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসবে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন এমপি এনাম

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: “আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, সবার সমান অধিকার রয়েছে।” এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের বার্তা দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম।

‘মৈত্রী ও সম্প্রীতির আলোয় কেটে যাক সব অন্ধকার’ স্লোগানে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উনাইনপুরায় শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান আমরা সবাই অভিন্ন। এখানে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু বলে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, সবার সমান অধিকার রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মিলেমিশে বসবাস বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও শক্তি। কোনো ধর্মের মানুষ যেন নিজেদের অবহেলিত বা অসহায় মনে না করেন, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহনশীলতার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়ায়। তাই শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

ভদন্ত রতনানন্দ থেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম শফিক, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন বকুল, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হোসেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্ম সম্পাদক তাপস কুমার দে এবং শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মাস্টার শ্যামল কান্তি দে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসবকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে ফানুস উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা উদ্‌যাপন করা হয়।

পটিয়ায় গভীর রাতে বসতঘরে চুরি, খোয়া গেল স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ টাকা

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তাঁর ধারণা, চোর খাটের নিচে লুকিয়ে থেকে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সমুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. হাসানুজ্জামান খান (৪৫) তাঁর নিজ বসতঘরে চুরির এ অভিযোগ করেন।

হাসানুজ্জামান খান জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। রোববার ভোর ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে মুঠোফোন খুঁজতে গিয়ে বুঝতে পারেন, ঘরে চুরি হয়েছে।

তিনি বলেন, রাত দুইটার দিকে তাঁর জামাতা বিদেশ থেকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ফোন বন্ধ পান। তাঁর ধারণা, রাত সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টার মধ্যে কোনো একসময় চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। চোর খাটের নিচে লুকিয়ে ছিল বলে সন্দেহ করছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, আনুমানিক ৩০ আনা ওজনের স্বর্ণের হার, নগদ ১ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং আরও কিছু মালামাল।

এ ঘটনায় পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসানুজ্জামান খান।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পটিয়ায় পেশাজীবী দলের প্রস্তুতি সভা

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের উপজেলা শাখার ১৭টি ইউনিয়নের কমিটি গঠন এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে পটিয়া কলেজ গেটস্থ বিএনপি কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় পেশাজীবী দলের সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মো. আলম খান। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় পেশাজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আলম খান বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের কোনোভাবেই পেশাজীবী দলের কমিটিতে সুযোগ দেওয়া যাবে না। দলের আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে ত্যাগী, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।’

পটিয়া উপজেলা পেশাজীবী দলের সভাপতি আরমান উদ্দীন গাজী দুলালের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মোহাম্মদ সইফুল ইসলাম রাসেলের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সিরাজ তারেক এবং জেলা পেশাজীবী দলের সহসভাপতি আনোয়ার হক, আবুল মনসুর শরীফ, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন, মীর সাইফু, শামসুল হুদা ও মোহাম্মদ জসিম।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পেশাজীবী দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের, মোহাম্মদ আইয়ুব, মো. জসিম উদ্দিন রানা, লিয়াকত, মোহাম্মদ নবী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল, নবাব খান মানিক এবং আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সভায় পটিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, নতুন কমিটি গঠন এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভা শেষে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পেশাজীবী দলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় ইউসুফ চৌধুরীকে গণসংবর্ধনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরীকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রানীরহাট বাজার চত্বরে রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, “কর্মে মানুষের পরিচয়, এটাই তার প্রমাণ।” ইউসুফ মিয়া চৌধুরীর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার। সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন ইউসুফ চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় জিয়া মঞ্চের সহসভাপতি ওয়াকিল আহমদ তালুকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার ও নাছির উদ্দীন, ইসলামপুর বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান রনি, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, উত্তর জেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদক ইউসুফ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক এবিএম সাইফুদ্দিন এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী রাকিবুল হাসান মাসুদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর এলাহী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, ইউছুফ সাগর ও নাজিম উদ্দিন, রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, যুবদলের আহ্বায়ক আবু মনছুর তালুকদার ও সদস্যসচিব আব্দুল হালিম মাসুদ, ইসলামপুর বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, রাজানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন লিটন, ইসলামপুরের আহ্বায়ক কামরুল পারভেজ এবং শ্রমিক সংগঠনের আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ইউসুফ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন।

মায়ের জন্য পাওয়া ভালোবাসা ছড়িয়ে দিচ্ছেন অসহায় মানুষের মাঝে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মায়ের কঠিন অসুস্থতা, পরিবারের আর্থিক সংকট আর সেই দুঃসময়ে মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা—জীবনের এমন এক কঠিন অভিজ্ঞতা থেকেই মানবসেবার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান তরুণ সমাজসেবক আলভী জিগার। সেই অনুপ্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে গড়ে তোলেন ‘রাঙ্গুনিয়া মানবসেবা ফাউন্ডেশন’। এক বছরের পথচলায় সংগঠনটি বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বুধাগাজী পাড়ার সন্তান আলভী জিগার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি এক বছর পূর্ণ করে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে।

আলভী জিগারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে তাঁর মায়ের দুটি কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। মায়ের গুরুতর অসুস্থতায় আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে তাঁর পরিবার। সেই কঠিন সময়ে বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের পাশে দাঁড়ান। সবার সহযোগিতা, ভালোবাসা ও দোয়ায় মহান আল্লাহর রহমতে তাঁর মা সুস্থতা ফিরে পান বলে জানান তিনি।

জীবনের সেই সংকটময় অভিজ্ঞতা আলভী জিগারকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। তিনি উপলব্ধি করেন, সমাজে অনেক অসহায় মানুষ রয়েছেন, যাঁরা অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিপদের সময় অনেকের পাশে দাঁড়ানোর মতো আপনজন বা সহযোগীও থাকেন না। এমন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘রাঙ্গুনিয়া মানবসেবা ফাউন্ডেশন’।

এক বছরে শতাধিক মানবিক উদ্যোগ

প্রতিষ্ঠার পর গত এক বছরে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহযোগিতা, মুমূর্ষু রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তদান ও রক্তের ব্যবস্থা, অসচ্ছল ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।

সংগঠনটির এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। বিশেষ করে চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে অর্থসংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সংগঠনটি।

মানবিক কাজের পরিধি বাড়ানোর প্রত্যয়

এক বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে সেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চায় রাঙ্গুনিয়া মানবসেবা ফাউন্ডেশন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা।

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাকে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর শক্তিতে রূপান্তর করার এই উদ্যোগ তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে। কারণ, মানবসেবা কেবল আর্থিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনের মুহূর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই মানবিকতার প্রকৃত প্রকাশ ঘটে।

মায়ের অসুস্থতার সময় পাওয়া মানুষের সহযোগিতা থেকে যে মানবিক পথচলার সূচনা, সেই পথচলাকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই এখন আলভী জিগার ও তাঁর সংগঠনের লক্ষ্য।

সাজেকের পর্যটন খাত বাঁচাতে সরকারের হস্তক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা

খাগড়াছড়ি : সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পর্যটন কেন্দ্রটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গেইট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন ব্যবসায়ীরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাজেক দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। এ পর্যটন খাতকে ঘিরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হলে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা।

বক্তারা আরও বলেন, কোনো আঞ্চলিক দলের খেয়ালখুশির ওপর সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম নির্ভর করতে পারে না। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সমাবেশ থেকে সাজেক এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন কেন্দ্রটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, সাজেকের পর্যটন খাত রক্ষা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার কারণে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আরও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পেলেন এ এস এম সুজা উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন বিশিষ্ট গবেষক এ এস এম সুজা উদ্দিন। এর আগে তিনি দলটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বান্দরবান আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনকালে বৃহত্তর নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের লক্ষ্মীপুর থেকে পর্যটননগরী টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলায় আহ্বায়ক ও নির্বাহী কমিটি গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এ এস এম সুজা উদ্দিন।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় এ এস এম সুজা উদ্দিন বলেন, “আমাদের এই ভৌগোলিক অঞ্চলটি (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার রাজনৈতিক ময়দান যেমন আলাদা, তেমনি এখানকার বৈচিত্র্যময় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও তাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনার ধরনও সম্পূর্ণ ভিন্ন।”

তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ে বা সমতলে জোরপূর্বক কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এখানে সফল হতে হলে পুরোপুরি ‘জনবান্ধব রাজনীতি’ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘জননীতি’র রূপরেখা নিয়ে কাজ করতে হবে, যেখানে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ মনে করবে।”
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

রাতে বাড়িতে ঢোকার সময় সাপের কামড়, প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সাপের কামড়ে মোহাম্মদ জিহাদ (১৮) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার দক্ষিণ পদুয়া পশ্চিম খুরুশিয়া মেম্বার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জিহাদ ওই এলাকার আব্দুল খালেকের নাতি। তিনি চন্দ্রঘোনা মাদ্রাসা-এ-তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়ার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে প্রবেশের সময় জিহাদকে কোনো কিছু কামড় দেয় বলে তিনি বুঝতে পারেন। তবে অন্ধকারে কী কামড় দিয়েছে, তা দেখতে পাননি। পরে তাঁর শরীরে সাপের কামড়ের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনেরা। এ ঘটনার পর বাড়ির আঙিনায় একটি সাপ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা সেটিকে মেরে ফেলেন।

পদুয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত আলী জানান, ঘটনাস্থলটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। সাপের কামড়ের সন্দেহে প্রথমে এক ওঝাকে ডাকা হয়। পরে জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের ধারণা, তাঁকে কামড় দেওয়া সাপটি বিষধর গোখরা ছিল।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাঁর শরীরে সাপের কামড়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখতে পাননি। এ কারণে সাপের কামড়ের বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, সাপের কামড়ের বিষয়টি নিশ্চিত না হলে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হয়। এ কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে রেফার করেন।

দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৭টা ৪০ মিনিটে সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যরা।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি। পরে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ারও কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন এবং রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

পরে বিকেল ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন তিনি। এ সময় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রামের কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

কাপ্তাইয়ে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, সন্দেহভাজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু

কাপ্তাই (রাঙামাটি) : রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় মো. জোবায়ের হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি সন্দেহভাজন ডেঙ্গু রোগী ছিলেন বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতালে তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়নি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত জোবায়ের হোসেন কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএফআইডিসি শিল্প এলাকায় বসবাস করতেন। তার বাবার নাম মৃত গোলাম রসুল। পেশায় তিনি একজন দর্জি ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তার ছোট ভাই গত পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে কাপ্তাই প্রজেক্ট এলাকার একটি স্থানে দর্জির কাজ করছিলেন। এ সময় তার মাঝে মাঝে জ্বর আসা-যাওয়া করলেও তিনি বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি।

পরে কাপ্তাই নতুন বাজার এলাকায় ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর শনিবার রাতে তাকে দ্রুত কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লা অং মারমা বলেন, ‘তিনি সন্দেহভাজন ডেঙ্গু রোগী ছিলেন। হাসপাতালে তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়নি। তবে তার ডেঙ্গু হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, জোবায়ের হোসেনের ডেঙ্গু সংক্রমণ নিশ্চিত হয়নি। ফলে তার মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু কি না, তা-ও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩ স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতায় সময় বেঁধে দিলেন

রাঙ্গুনিয়া টুডে অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। সাড়ে চার ঘণ্টারও কম সময়ে ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও পরিদর্শন করেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পরিদর্শন শুরু করে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন স্থানের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন।

পরে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান তিনি। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

এ ছাড়া ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন। অন্যদিকে, আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেন।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের একপর্যায়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসকের কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে, মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

আকস্মিক এসব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পটিয়ায় দুই শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বীর মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গোৎসব উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সব সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে রয়েছে। তাঁরা যেন নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে পটিয়া সদরের থানার মোড় এলাকায় শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ নিকেতন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজার সপ্তমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এনামুল হক এনাম বলেন, বিগত সময়ে সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজনকে তাঁদের সম্পর্কে ভুল বোঝানো হয়েছিল। সেই ভুল ধারণা ভাঙাতেই তাঁরা এসেছেন। বিএনপি সরকার সব সময় সনাতন সম্প্রদায়ের পক্ষে রয়েছে।

এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। কোনো দুষ্কৃতকারীকে পূজামণ্ডপের আশপাশে দেখতে পেলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিতে হবে। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে দেখা করতে চট্টগ্রামে আসবেন। নির্বাচনের আগে ও পরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যদের সনাতন সম্প্রদায়ের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁরা সব সময় সনাতন সম্প্রদায়ের পাশে থেকেছেন। ইতিমধ্যে পটিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

শারদীয় দুর্গোৎসব আয়োজন কমিটির সভাপতি শ্রী তপন ধরের সভাপতিত্বে এবং জুয়েল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লায়ন পুলক কান্তি চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম সওদাগর, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য বদরুল খায়ের চৌধুরী, পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মইনুল আলম ছোটন, বিএনপি নেতা আবদুল মাবুদ, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলু, রুপন কান্তি দাশ গুপ্ত, শ্যামল কান্তি দে, দেবাশীষ ধর বাপন, প্রিয়ব্রত দাশ, রিগ্যান নন্দী ও রুপন মিত্রসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বীর হাতে শারদীয় দুর্গোৎসবের উপহার হিসেবে শাড়ি ও লুঙ্গি তুলে দেওয়া হয়।

কথা ছিল নতুন জীবন শুরু করবে, শুরুর আগেই শেষ ঠিকানায় সৌমিক

ডেস্ক রিপোর্ট: বিয়ের আনন্দে মুখর থাকার কথা ছিল বাড়ি। চারদিকে চলছিল বিয়ের আয়োজন। শুক্রবার বিয়ে, শনিবার বৌভাত। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিল। বিয়ের একদিন আগে, গায়ে হলুদের দিনই না ফেরার দেশে চলে গেলেন আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক (২২)। ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সৌমিককে মৃত ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার সকালে তাঁর বোন শারমিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সৌমিক গাইবান্ধা পৌর এলাকার ডেভিড কোম্পানি পাড়ার সুলতান মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারের বরাতে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন সৌমিক। এর মধ্যে চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নেওয়ার পর দুপুরে বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা।

পরে বিকেলের দিকে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার সৌমিকের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। পরদিন শনিবার দুপুরে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বৌভাতের আয়োজন করার কথা ছিল। নতুন জীবনের স্বপ্ন ঘিরে দুই পরিবারে চলছিল আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতি। কিন্তু সৌমিকের আকস্মিক মৃত্যুতে সেই আনন্দ পরিণত হয়েছে শোকে।

তাঁর মৃত্যুতে দুই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করছেন অনেকে। বিয়ের আনন্দের ঠিক আগমুহূর্তে সৌমিকের এমন চলে যাওয়া স্বজন ও পরিচিতজনদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।

রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি ইলিয়াছ তালুকদারের বড় বোনের ইন্তেকাল

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক ইলিয়াছ তালুকদারের বড় বোন নুর বেগম (৭৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছোট ভাই সাংবাদিক ইলিয়াছ তালুকদার।

মরহুমা নুর বেগম রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সৈয়দ সিকদারের স্ত্রী। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৯টায় চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়া এলাকার স্থানীয় মসজিদ মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।

এদিকে, তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ফটিকছড়িতে নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল অসুস্থ ব্যক্তির মরদেহ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিখোঁজের দুই দিন পর ফারুক উদ্দিন (৫৯) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জাফতনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুফতি বাড়ির পুকুর থেকে স্থানীয়রা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।

ফারুক উদ্দিন ওই এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি তাঁর দৃষ্টিশক্তিও কম ছিল।

জাফতনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন জিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ফারুক উদ্দিন দুই দিন আগে নিখোঁজ হন। পরে বাড়ির পুকুরে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। বিষয়টি ফটিকছড়ি থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বনকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ, সড়ক অবরোধ

বিনা নোটিশে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ স্থানীয়দের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বনকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বন বিভাগের দাবি, সরকারি বনের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদে বাধা দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিনা নোটিশে বসতঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তাঁরা কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার চন্দ্রঘোনা সেগুনবাগান এলাকায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন কোদালা বিটের অধীনে এ ঘটনা ঘটে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্কের পার্কিং-সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত দুটি ঘর ও ঘেরা-বেড়া উচ্ছেদ করে বন বিভাগের একটি দল। পরে ওই এলাকায় আরও একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে দলটি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত রাখা হয়।

রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন জানান, পরে ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত হলে তিনি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে যান। এ সময় দখলদারদের পক্ষের ২০০ থেকে ২৫০ জন লোক তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তাঁর চোখ, পিঠ ও মাথায় আঘাত লাগে বলে জানান তিনি।

মেহরাজ উদ্দীন আরও জানান, তিনি প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তাঁদের বসতঘর ভাঙচুর করা হয় এবং মালামাল লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে বনকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় নারীদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁদের পক্ষের দুই নারী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।

ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সেগুনবাগানের বাসিন্দা আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করে আসছি। বন বিভাগের লোকজন হঠাৎ কোনো নোটিশ ছাড়াই বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বাধা দিলে তারা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। এতে আমাদের দুজন নারী আহত হন।”

সংবাদ পেয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাফফর চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এখানে মূলত আশ্রয়হীন, খেটে খাওয়া ও দিনমজুর মানুষ মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে বসবাস করে আসছেন। এভাবে হঠাৎ উচ্ছেদের প্রতিবাদেই মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছে।”

পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, পার্কটি চট্টগ্রামের একজন ব্যক্তি লিজ নিয়েছেন। পরে রাঙ্গুনিয়ার কয়েকজন ওই ব্যক্তির কাছ থেকে সাবলিজ নেন। সাবলিজ নেওয়া ব্যক্তিরা পার্কের কিছু জায়গা বেদখলে রয়েছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানান। এরপর বন বিভাগের লোকজন উচ্ছেদে গেলে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়।

ওসি আরও বলেন, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে—এ বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকে কেউ অবহিত করেননি বলেও জানান তিনি।

পটিয়ায় এনসিপির ৮২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি, নেতৃত্বে প্রকৌশলী-আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা শাখার নতুন ৮২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

১৫ অক্টোবর ঘোষিত এ কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রশিদকে, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মীর মনছুরল ইসলামকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আরমান আজাদকে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক লায়ন এ এম মুন্না চৌধুরী, সদস্যসচিব জুবাইরুল আলম মানিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাত হোসেন নতুন এ কমিটির অনুমোদন দেন।

কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মোহাম্মদ ইলিয়াস কায়সার, মনির আহমদ, মাওলানা মো. ইদ্রিস হোসাইন, মাইনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ওয়াসিমকে। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে মো. শহিদুল ইসলামকে। যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে মিজানুর রহমান জুয়েল, মো. আব্দুর রশিদ, মোহাম্মদ আসিফ, অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডার মুজিবুর রহমান ও প্রকৌশলী হায়দার আলীকে।

সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে মোহাম্মদ নুরুল মোস্তফা মুনিরীকে। সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে মো. নুরুল আলম ও মুহাম্মদ ওমর ফারুককে। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে জাহেদুল হক, হারুনুর রশিদ, আব্দুল মান্নান (খরনা), রবিউল হাসান মিশকাত, আব্দুল নূর আরজু, মো. মিজান হোসাইন, দৌলত খান ও মো. আব্দুল্লাহকে।

দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে আরফাতুর রহমানকে। সহ-দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে মো. রায়হান ইসলাম, গাজী মোহাম্মদ ইশতিয়াক ও মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আইমন সাদিকে। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করা হয়েছে শাহাদাৎ হোসেন অভিকে এবং সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করা হয়েছে সায়েদ ছিদ্দিক সোহাগকে।

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে মুজিবুর রহমান তুষারকে। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে হাফেজ মোহাম্মদ আবু তৈয়বকে। সহ-কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে মো. আলী ইমাম ও হাবিব উল্লাহকে।

সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে প্রকৌশলী রেজাউল হককে এবং সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক করা হয়েছে মো. সাখাওয়াত হোসেন তুষারকে। তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক করা হয়েছে মোহাম্মদ রায়ানকে। শিক্ষা সম্পাদক করা হয়েছে আব্দুল মান্নান মাস্টারকে এবং সহ-শিক্ষা সম্পাদক করা হয়েছে মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেনকে। নারী বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে জান্নাতুল ফেরদৌসকে এবং সহ-নারীবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে আফসানা মিমিকে।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. আবু ইউসুফ, আব্দুল মান্নান, নুরুল হক সওদাগর, মোহাম্মদ কানন, আব্দুল জলিল, মনিরুল আহমেদ, কামরুল ইসলাম, মো. জলিল, মো. সেলিম, আনসারুল হক বাবুল, ফাতেমা বেগম, মামুনুল ইসলাম, মো. নাসির উদ্দিন, আব্দুল মান্নান, মুহাম্মদ বিন নাছির সিকদার, শফিকুজ্জামান, মো. জামাল, এম.ডি. বাবলু চৌধুরী, হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী, মো. নিজাম উদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন, নুরুল আবছার, হাফেজ শাহাদাত হোসেন, তৈয়বুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, রাগিব ইবনে আলম (সাদাফ), মোহাম্মদ উল্লাহ চৌধুরী, ইয়াছিন আরাফাত, সিয়াম ইয়াছিন সামির সাইদ, মো. সাব্বির আহমেদ, মো. জাহেদুল ইসলাম, মো. শরিফুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন, মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ এমরুল হোসেন, মো. আব্দুল বারেক, মোনতাহিনা হাসনাত, নিতু মুহাম্মদ, নাজিবুস সোবহান, মোহাম্মদ ইমরান ও মোহাম্মদ হানিফ।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাত হোসেন বলেন, নতুন এ কমিটির মাধ্যমে পটিয়ায় এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। প্রয়োজনে কমিটিতে সংযোজন-বিয়োজন করা হতে পারে। এনসিপি এখন গণমানুষের দল।

রাঙ্গুনিয়ায় ইস্টার্ন কেমিক্যালের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

 

ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১০ একর সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত কারখানা কাজে লাগিয়ে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গুনিয়ায় ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১০ একর সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল, সরকারের সব স্থাপনা ও সম্পদ যেন সঠিকভাবে ব্যবহারের আওতায় আনা হয়। তাঁর অভিযোগ, হাসিনা আমলে এসব স্থাপনার সম্পদ পরিত্যক্ত ফেলে রেখে কিংবা বিক্রি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে শূন্য করে দেওয়ার চক্রান্ত ছিল। সরকার সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, “যেহেতু আমাদের সরকার একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার, তাই মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তিগুলোর সদ্ব্যবহার করা হবে। ইস্টার্ন কেমিক্যালের ১০ একর জায়গা দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রাষ্ট্রের অনেক ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্রের এমন ক্ষতি আর হতে দেব না।”

মন্ত্রী বলেন, এখানে বড় প্রকল্পের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। ঢাকায় গিয়ে আলোচনা করে এলাকার জন্য যেটি সর্বোত্তম হবে, সেটিই করা হবে।

পরিদর্শনকালে সফরসঙ্গী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ইস্টার্ন কেমিক্যালের পরিত্যক্ত জায়গা ও কারখানা কীভাবে প্রকল্পের মাধ্যমে কাজে লাগানো যায়, তা তাঁরা পর্যালোচনা করছেন। দুদিনের চট্টগ্রাম সফরে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অন্যান্য সম্পত্তিও একইভাবে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে।

পরিদর্শনকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হলেও ইন্ধনদাতারা অধরা, দাবি নিহত যুবদল নেতা মাসুদের পরিবারের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলায় অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতারা এখনো অধরা বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালীতে বেতাগী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তৃণমূল পর্যায়ের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে তিনি রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির রাজনীতিকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনীতিতে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তাঁকে যারা হত্যা করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে যারা ইন্ধন দিয়েছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বক্তারা সরকার, প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় নিহত মাসুদের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। এ সময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মাসুদের স্ত্রী বলেন, “আমার ছোট্ট মেয়ে বাবা কী জিনিস, সেটাও জানে না। সন্ত্রাসীরা আমার মেয়ের কাছ থেকে তার বাবাকে কেড়ে নিয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতারা এখনো গ্রেপ্তার হননি। স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইন্ধনদাতাদেরও যেন বিচারের আওতায় আনা হয়। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় জড়িত সবার বিচার ও ফাঁসি দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের আশরাফিয়া ফার্মেসির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় অধিকাংশ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

‎২০ লাখ টাকা কুড়িয়ে পেয়েও আত্মসাৎ করেননি নৈশপ্রহরী, সততার পুরস্কার দিল উপজেলা প্রশাসন

এস এম আক্কাছ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : রাতের আঁধারে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন ২০ লাখ টাকা চাইলে আত্মসাৎ করে দিতে পারতেন নিজের ভাগ্য বদলে।

কিন্তু সে পথে হাঁটেননি নাজিরহাট পৌরসভার নৈশপ্রহরী মো. নুরুল আলম বাঁচা (৪৪)। সততা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়ে টাকাগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রকৃত মালিকের হাতে। তাঁর সেই মহৎ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাঁকে সম্মাননা ও নগদ অর্থ পুরস্কার দিয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন।

‎সোমবার (১২ অক্টোবর) ফটিকছড়ি সদরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. সরোয়ার আলমগীর নুরুল আলম বাঁচার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে তাঁর সততার স্বীকৃতি মিলল, যা সমাজের অন্যদেরও সৎ ও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎নুরুল আলম বাঁচা নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় একজন নৈশপ্রহরী। রাতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাওয়া বিপুল অঙ্কের টাকা নিজের কাছে রেখে না দিয়ে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সততার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

‎ঘটনাটি গত ১১ জুন রাত সোয়া ১২টার দিকে। দায়িত্ব পালনকালে নাজিরহাট বাজারের সোসাইটি মাঠসংলগ্ন সড়কে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন নুরুল আলম। ব্যাগটি খুলে ভেতরে বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পান তিনি। পরে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিরাপদে নাজিরহাট পৌরসভা কার্যালয়ের একটি কক্ষে সংরক্ষণ করেন। পাশাপাশি টাকাগুলোর প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।

‎‎খোঁজখবর নিয়ে তিনি জানতে পারেন, টাকাগুলো নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও এম আর জুয়েলার্সের মালিক দুর্লভ ধরের। বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর নাজিরহাট পৌরসভার কর্মচারী মো. ওমর ফারুক এবং ব্যবসায়ী মামুন, জিকু, নির্জন, রিপন ও রাজেশের উপস্থিতিতে টাকা ভর্তি ব্যাগটি মালিকের হাতে তুলে দেন তিনি।

‎নুরুল আলমের এই সততার ঘটনা সে সময় স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশংসায় ভাসেন তিনি। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল অন্যের সম্পদ নিরাপদে প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে পারা। এবার উপজেলা প্রশাসনের সম্মাননা ও নগদ অর্থ পুরস্কার তাঁর সেই সততার কাজকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল।

‎পুরস্কার পেয়ে আবেগাপ্লুত নুরুল আলম বাঁচা বলে, ‘আমার কাছে এই পুরস্কার আকাশসম। এভাবে স্ব-স্ব জায়গা থেকে ভালো কাজে এগিয়ে এলে দেশটা আসলেই বদলানো সম্ভব। আমি উপজেলা প্রশাসনের কাছে অশেষভাবে কৃতজ্ঞ।’

‎সম্মাননা প্রদানকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘একটু দেরিতে হলেও তিনি তাঁর কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর এই সততা ও মহৎ উদ্যোগ সমাজের সকলের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

‎‎নুরুল আলম বাঁচার এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, সততা কেবল ব্যক্তিগত গুণ নয়, এটি সমাজ বদলেরও শক্তি। দায়িত্বের জায়গা থেকে সামান্যতম বিচ্যুত না হয়ে অন্যের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার মতো এমন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে। তাঁর এই স্বীকৃতি সমাজের অন্যদেরও সৎ পথে চলতে এবং ভালো কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।

‎

গ্রাম্য চিকিৎসায় মেলেনি সুফল, হাসপাতালের বারান্দায় চলছে বাছুরের চিকিৎসা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক বছর বয়সী একটি বাছুরের চিকিৎসা চলছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে। প্রায় ১৫ দিন ধরে অসুস্থ থাকার পর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বাছুরটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন কৃষক আবদুল সাত্তার। বর্তমানে বাছুরটিকে স্যালাইন দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

‎সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের বারান্দায় স্যালাইন চলা অবস্থায় বাছুরটিকে দেখা যায়। এ সময় বাছুরটির পাশে বসে ছিলেন কৃষক আবদুল সাত্তার। তিনি উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম ভূমির খীল এলাকার বাসিন্দা।
‎
‎আবদুল সাত্তার জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে বাছুরটির ডায়রিয়া শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং দিন দিন অবনতি হতে থাকে। পরে রোববার (১১ অক্টোবর) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে বাছুরটির চিকিৎসা শুরু হয়।
‎
‎তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বাছুরটিকে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দিচ্ছেন। বর্তমানে স্যালাইন চলছে। বাছুরটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।
‎
‎উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বখতিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “এই বাছুরটির স্ট্রং ডায়রিয়া হয়েছে। গ্রাম্য ডাক্তার দিয়ে ১৫ দিন চিকিৎসা করিয়েছেন। এতে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এখানে নিয়ে এসেছেন। ডাক্তাররা দেখছেন এবং ওষুধ দিয়েছেন। এখন স্যালাইন চলছে। আজ একটু উন্নতির দিকে।”
‎
‎উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের লোকবল কম। পুরো উপজেলা কাভার দিতে পারি না। গ্রাম্য ডাক্তার যারা আছেন, তাঁরা চিকিৎসা করেন, কিন্তু তাঁদের তেমন প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণ না থাকায় তাঁদের ভুল হয়। আমরা তাঁদের বলি, তোমাদের হাতে যদি এ ধরনের পেশেন্ট আসে অথবা বুঝতে না পারো, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। কিন্তু তাঁরা যোগাযোগ করেন না। যোগাযোগ না করে নিজেদের মতো চিকিৎসা করেন। চিকিৎসায় ভুল করেন। অনেক সময় রোগ দীর্ঘায়িত হয়। সময়ক্ষেপণ করায় দেখা যায়, যে প্রাণীটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেটি মৃতপ্রায় হয়ে যায়। আমাদের হাসপাতালে আসেন শেষ সময়ে। অনেক সময় তখন বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়ে।”
‎
‎তিনি আরও বলেন, “এসব ক্ষেত্রে গ্রাম্য ডাক্তারদের সামাজিকভাবে সতর্ক করা দরকার এবং জনগণকেও সচেতন হওয়া দরকার। কারণ, তাঁদের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে হবে না। এখন তো মানুষ জানে কোথায় চিকিৎসা পাওয়া যায়, কোথায় হাসপাতাল আছে। আগের মতো তো নেই, এখন যোগাযোগব্যবস্থাও ভালো। আমরা চাই, জনগণ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুক। আমাদের ডাকলেই পাবে।”
‎
‎বাছুরের ডায়রিয়ার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সাধারণত বাসি খাবার খাওয়ানোর কারণেই হয়ে থাকে। চার-পাঁচ ঘণ্টার বেশি দেরি করা খাবার দিলে সেই খাবার খেয়ে হজমে সমস্যা হয়, ফুড পয়জনিং হয়। এতে প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিষ্কার খাবার ও পানি নিশ্চিত করতে হবে। এতেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন খামারি, কৃষক ও ছোট উদ্যোক্তারা।”
‎
‎গবাদিপশু অসুস্থ হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়ে সময়ক্ষেপণ না করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
‎

পটিয়ায় সিএনজিতে তুলে গরু চুরির চেষ্টা, দুই নারী আটক

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গরু তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় চুরির অভিযোগে দুই নারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ আরও দুজন পালিয়ে যান। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক দুই নারী হলেন পারভিন আক্তার (৪৫) ও শাহানা আক্তার (৪০)। পারভিনের বাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এবং শাহানার বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গরু পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।

স্থানীয় লোকজন ও গরুর মালিক বিজয় মল্লিক জানান, প্রতিবেশীর মাধ্যমে তিনি খবর পান, তাঁর গরু সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে খানমোহনা বেলতল এলাকায় গরুসহ দুই নারীকে আটক করেন।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবু বক্কর বলেন, চুরির অভিযোগে দুই নারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ আরও দুজন পালিয়ে যান।

এদিকে ধলঘাট ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা কুমকুম দে জানান, তিন দিন আগে তাঁর তিনটি গরু চুরি হয়েছে। আটক হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। আটক নারীরা তাঁর গরু চুরির ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে চুরি হওয়া গরুগুলো ফেরত পাওয়ার দাবি জানান।

ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন বলেন, স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা গরুটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে।

দুর্গাপূজায় গুজব ছড়ালে ছাড় নয়, প্রতিমা রাখতে হবে ২৪ ঘণ্টা পাহারায়: এএসপি বেলায়েত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবক রাখা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মাদক প্রতিরোধ, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো বন্ধ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেল) মো. বেলায়েত হোসেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আয়োজনে উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন এএসপি মো. বেলায়েত হোসেন।

সভায় এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমরা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করব। এখানে আমাদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য থাকতে হবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মান থাকতে হবে।”

মাদক প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, “মাদকের বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে পূজামণ্ডপের ভেতরে যেন মাদক প্রবেশ করতে না পারে, সে দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। আপনারা এমন কিছু করবেন না, যাতে মা দুর্গার অসম্মান হয়। এতটুকুই আমাদের অনুরোধ থাকবে।”

সিসিটিভি ও ২৪ ঘণ্টা পাহারার ওপর গুরুত্ব

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। যেসব মণ্ডপ এখনো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আসেনি, সেগুলো দ্রুত ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

পূজামণ্ডপে ভোররাতে লোকজনের উপস্থিতি কম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পূজামণ্ডপে পুলিশ থাকুক, আনসার থাকুক অথবা না থাকুক, কখনোই কোনো প্রতিমা একা রাখা যাবে না। অবশ্যই আপনাদের স্বেচ্ছাসেবক যেন ২৪ ঘণ্টা সেখানে থাকে। কোনো অবস্থাতেই প্রতিমা অরক্ষিত রাখা যাবে না।”

পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে বলেন তিনি। তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো যাবে না বলেও সতর্ক করেন।

এএসপি বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তা দিনের মধ্যে অন্তত একবার পরিদর্শনে যাবেন। কোনো অভিযোগ বা সমস্যা থাকলে পুলিশকে জানাতে হবে। নিজেরা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়ানো যাবে না।

বহিরাগতদের বিষয়ে সতর্কতা ও নারীদের নিরাপত্তা

পূজামণ্ডপে তরুণদের উপস্থিতি এবং বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত বলেন, দুর্গাপূজা বছরে একবার হওয়ায় তরুণদের মধ্যে উৎসব নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকে। এ সময় স্বেচ্ছাসেবকদের খেয়াল রাখতে হবে, কারা এলাকার বাসিন্দা এবং কারা বাইরে থেকে আসছেন। এ বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, বড় পূজামণ্ডপগুলোর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে মা-বোনদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ ইভটিজিং কিংবা হয়রানিমূলক কথাবার্তার শিকার না হন। পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে পূজামণ্ডপের আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদেরও সচেতন থাকতে হবে।

নারীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, “পূজামণ্ডপ থেকে কেউ যখন বাসায় যাবেন, আপনারা কেউ যেন একা একা বাসায় না যান, বিশেষ করে মহিলারা। চার-পাঁচজন করে যাতে দলবদ্ধভাবে যান।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপ বা ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব নয়। তবে পুলিশের টহল দল থাকবে। তাই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। নারীরা যেন দলবদ্ধভাবে চলাচল করেন এবং যাতায়াতের পথে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

গুজব ছড়ালে দায় এড়ানো যাবে না

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমরা বর্তমান সময়ে যে বিষয়টি বেশি ফেস করছি, সেটি হলো গুজব। দেখা গেল, দেশের বাইরের কোনো ঘটনা অথবা দেশেরই দুই থেকে চার বছর আগের কোনো ঘটনা হঠাৎ করে রাঙ্গুনিয়ার নাম দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হলো।”

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিষয়ে মানুষ অনেক সময় বিবেক দিয়ে কাজ না করে আবেগ দিয়ে কাজ করে। ঘটনা সত্য কি না, তা যাচাই না করেই অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। এতে মূল পোস্টের পাশাপাশি শেয়ার করার মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে গুজব পৌঁছে যায়। ফলে গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে শেয়ারদাতাও দায়ী হয়ে পড়েন।

এএসপি বেলায়েত বলেন, “এ ধরনের কিছু দেখলেই দয়া করে সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার দেবেন না, প্রতিক্রিয়া জানাবেন না। আপনাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আপনারা যদি এমন কিছু দেখেন, দয়া করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, যাতে গুজব সমর্থন না পায়।”

সূর্যাস্তের আগে প্রতিমা বিসর্জনের অনুরোধ

প্রতিমা বিসর্জনের সময় পুলিশ ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, পূজা যত শেষের দিকে যায়, ততই অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিশেষ করে প্রতিমা বিসর্জনের সময় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা কাম্য নয়।

তিনি বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারণ করে দেয় থানা বা স্থানীয় প্রশাসন নয়। কেন্দ্রীয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব পুলিশ ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের ওপর বর্তায়।

এএসপি বেলায়েত বলেন, “আমি অনুরোধ করব, আপনারা সূর্যাস্তের আগেই যেন প্রতিমা বিসর্জন দেন। এই পূজার প্রতিমা বিসর্জনের সময় যেন আপনাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো থাকে, সেই প্রত্যাশা করছি।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিবছরের মতো এবারও রাঙ্গুনিয়ায় অত্যন্ত সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে।

দুর্গাপূজায় বাধা ও গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে বাধা সৃষ্টি, গুজব ছড়ানো কিংবা উৎসবকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন এএসপি বেলায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, “এই দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে যে বা যারা বাধা সৃষ্টি করবে, গুজব রটাবে কিংবা এটাকে ইস্যু করে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে, মনে রাখবেন, সে আপনার ধর্মের শত্রু, সে আমার ধর্মের শত্রু, সে রাষ্ট্রের শত্রু। এ বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না।”

সভায় আরও বক্তব্য দেন থানা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ১৯৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় লোকালয় থেকে অজগর উদ্ধার, ইকোপার্কের বনে অবমুক্ত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা বিটসংলগ্ন একটি লোকালয় থেকে অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। পরে অজগরটিকে রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি ও ইকোপার্কের গভীর প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পোমরা বিটের অধীন একটি লোকালয়ে অজগরটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁরা বিষয়টি বন বিভাগকে জানান। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগরটিকে নিরাপদ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীনের নেতৃত্বে অজগরটিকে রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি ও ইকোপার্কের গভীর প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় পোমরা বিট কর্মকর্তা ও বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বন বিভাগ সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী দেখা গেলে সেটিকে আঘাত বা বিরক্ত না করে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোয়াজারহাটে ওজনে কারচুপি, ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রোয়াজারহাট বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ওজন ও পরিমাপে কারচুপির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাজারে পণ্যের সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইনে একটি মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফটিকছড়িতে সকালে নিখোঁজ, রাতে প্রতিবেশীর ঘরে মিলল ৩ বছরের শিশুর মরদেহ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর হালিমা আক্তার নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামের প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের বসতঘরের একটি আলনার নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই প্রতিবেশী আবদুল আউয়াল, তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম ও ছেলে রবিউলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত হালিমা স্থানীয় নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তার দম্পতির মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে হালিমা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে শিশুটির নিখোঁজের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুটির পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানায়।

খবর পেয়ে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের বসতঘরের একটি আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই পরিবারের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

শিশুটির মা রাশেদা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মেয়েকে হত্যা করে ঘরের আলনার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তাঁর দাবি, নির্যাতনের কারণে শিশুটির শরীর কালচে হয়ে গেছে।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবেশীর ঘরের আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ওই ঘরের গৃহকর্তাসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফটিকছড়িতে পাহাড়ের পাদদেশে পরিত্যক্ত ২টি একনলা বন্দুক উদ্ধার

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের শোভনছড়ি এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুজপুর থানা পুলিশ এসব বন্দুক উদ্ধার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে ওই এলাকায় দুটি বন্দুক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ভুজপুর থানাধীন উদালিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) জ্যোতিষ চন্দ্র দেব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পাহাড়ের পাদদেশে একটি খড়ের গাদার পাশে ফেলে রাখা অবস্থায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মালিকানাবিহীন দুটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বন্দুক দুটি জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাল্যবিবাহ নয়, নিশ্চিত হোক মেয়েদের সুন্দর ভবিষ্যৎ

সম্পাদকীয় মতামত:

বাল্যবিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা, যা একটি কিশোরীর শিক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশ, অধিকার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ সমস্যা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মেয়েদের নিরাপত্তা, শিক্ষার সুযোগ এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করাই হতে পারে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের কার্যকর পথ।

কোনো কিশোরীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে কিছু অভিভাবক অল্প বয়সে বিয়েকে সমাধান হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথে হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ কিংবা মেয়েদের চলাফেরা নিয়ে সামাজিক চাপ তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। কিন্তু বিয়ে কোনো কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় নয়। বরং অল্প বয়সে বিয়ে তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত করতে পারে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা সীমিত করে দিতে পারে।

মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথ নিরাপদ করা, হয়রানির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কোনো শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হলে তাকে দোষারোপ না করে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্মার্টফোনের ব্যবহার হোক দায়িত্বশীল

বর্তমান সময়ে শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ ও বিশ্ব সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে স্মার্টফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনলাইন ক্লাস, শিক্ষামূলক ভিডিও, বইপত্র এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। তাই স্মার্টফোনকে এককভাবে বাল্যবিবাহের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যথাযথ নয়।

তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পড়াশোনা এবং ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি সম্পর্কে অসচেতন থাকলেও কিশোর-কিশোরীরা সমস্যায় পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা।

স্মার্টফোনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া নয়, বরং বয়সোপযোগী ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রয়োজন। প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা জরুরি। এ কারণে স্মার্টফোন ব্যবহারের উদ্বেগকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার যুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

দারিদ্র্য ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি

বাল্যবিবাহের পেছনে দারিদ্র্য, শিক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মতো বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো কোনো পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তা কিংবা সামাজিক চাপের কারণে অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আবার ‘মেয়ে বড় হয়ে গেছে’, ‘ভালো বিয়ের প্রস্তাব এসেছে’ কিংবা ‘সমাজ কী বলবে’—এ ধরনের প্রচলিত ধারণাও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

এসব পরিস্থিতিতে পরিবারকে শুধু দোষারোপ না করে সমস্যার কারণগুলো বোঝা প্রয়োজন। মেয়েদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার সুযোগ সৃষ্টি, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের উদ্যোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব।

পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সহযোগিতায় নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

সমন্বিত উদ্যোগেই সম্ভব বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি চিহ্নিত করা, অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবারকে পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রচলিত আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে গড়ে তুলতে হবে।

একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ গঠনে তার শিক্ষা, অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। স্মার্টফোনের দায়িত্বশীল ব্যবহার, নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ, পারিবারিক সচেতনতা এবং শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার সমন্বিত উদ্যোগই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

একটি মেয়ের হাতে বিয়ের কার্ড নয়, বই তুলে দেওয়াই হোক আমাদের সামাজিক অঙ্গীকার।

লেখক: এম. মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার

সম্পাদক, রাঙ্গুনিয়া টুডে

পটিয়ায় লেগুনার ধাক্কায় প্রাণ গেল ৮ বছরের শিশুর, আহত ৩

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় মহাসড়ক পারাপারের সময় যাত্রীবাহী লেগুনার ধাক্কায় তাসপিয়া (৮) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় লেগুনাটি উল্টে গিয়ে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার গৈড়লারটেক এলাকার একটি গ্যাস পাম্পের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তাসপিয়া বাঁশখালী উপজেলার আবু হানিফের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরী থেকে পটিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী লেগুনা সকাল ১০টার দিকে গৈড়লারটেক এলাকায় পৌঁছালে মহাসড়ক পারাপারের সময় শিশু তাসপিয়াকে ধাক্কা দেয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে লেগুনাটি উল্টে যায়। ঘটনাস্থলে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। এ সময় লেগুনার আরও তিন যাত্রী আহত হন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন পটিয়ার কেলিশহর ইউনিয়নের আবদুল মান্নানের ছেলে মো. ইকবাল (৩০), পটিয়া সদরের মৃত মোজাহের মিয়ার ছেলে মো. হাবিব (৪৫) এবং আহমদ রহমানের ছেলে আজগর আলী (১৭)।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনজন।

স্থানীয়রা জানান, শিশু তাসপিয়ার বাবা আবু হানিফ পেশায় একজন দিনমজুর। চলতি মাসে তিনি গৈড়লারটেক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকছিলেন।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কৃষ্ণা সরকার সেতু দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশু তাসপিয়ার মৃত্যু হয়। বাকি তিনজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্য আবদুল বারেককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। একটি শিশু নিহত হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন না ধরায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।