রাঙ্গুনিয়ায় গণশুনানিতে মিলছে সমাধান, বাড়ছে মানুষের আস্থা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিদিনই জমিজমা বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক সমস্যা ও প্রশাসনিক জটিলতাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে সেবাপ্রার্থীরা উপস্থিত হন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তবে সপ্তাহের প্রতি বুধবার উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে যুক্ত হয় বিশেষ একটি মাত্রা। এদিন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় জটিল বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গণশুনানির আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আগেই নোটিশের মাধ্যমে উপস্থিত করা হয় এবং তাদের বক্তব্য, নথিপত্র ও আইনগত দিক বিবেচনা করে বিরোধের গ্রহণযোগ্য সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই শুনানিতে আলোচনার মাধ্যমে অনেক দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান হচ্ছে বলে জানা গেছে। আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমস্যা নিষ্পত্তির সুযোগ পাওয়ায় স্বস্তি পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

শুনানিতে প্রতিটি পক্ষকে সমানভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামতও নেওয়া হয়। আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়, যাতে কেউ বঞ্চিত না হন এবং বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, “সরকার কর্তৃক নির্ধারিত গণশুনানির দিন প্রতি বুধবার হলেও মানুষ প্রতিদিনই বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আসেন। আমরা প্রতিদিনই মানুষের কথা শুনি, তাদের সমস্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সেবা ও পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে যেসব বিষয় তুলনামূলক বড়, জটিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেগুলো বুধবারের গণশুনানিতে আনা হয়।

এসব বিষয়ে আমরা একটি টিম গঠন করি। বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে টেবিল ওয়ার্ক করা হয়। তাদের বক্তব্য, নথিপত্র ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে যার যেভাবে প্রতিকারের ব্যবস্থা প্রয়োজন, সেভাবেই সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কোনো বিষয় উপজেলা পর্যায়ে সমাধানযোগ্য না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রেফার করা হয়। আবার কোনো বিষয়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হলে সেটি জেলায় পাঠানো হয়। যেসব বিষয় স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব, সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।”

সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়ায় একটি বড় বিরোধের সফল সমাধান হয়েছে জানিয়ে ইউএনও বলেন, “স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া এলাকার একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে। এছাড়া হোছনাবাদ ইউনিয়নের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের রাস্তা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানেও আমরা কাজ করছি। বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হলেও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন যখন সরাসরি জনগণের কথা শোনে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করে, তখন জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হয়। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা সমস্যাও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছে।

জনসেবাকে আরও কার্যকর ও মানবিক করতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের এই বিশেষ গণশুনানি কার্যক্রমকে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। প্রতি বুধবারের এই আয়োজন কেবল বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম নয়, বরং প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা ও সুশাসনের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।

রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ (দফাদার ও মহল্লাদার) পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শূন্য পদ পূরণের জন্য আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দফাদার ও মহল্লাদার পদে মোট ২৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আগামী ২৫ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

নিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, শর্তাবলি, পদভিত্তিক শূন্যপদের সংখ্যা এবং আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রকাশিত মূল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

📄 নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সম্পূর্ণ তথ্য দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

সূত্র: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।

ক্যান্সারে আক্রান্ত রাসু বসাকের চিকিৎসায় মানবিক সহায়তার আবেদন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার উত্তর পদুয়া এলাকার সুখবিলাস সিকদার পাড়ার বাসিন্দা ও সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রাসু বসাক (৩৭) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নিজ বাড়িতেই দিন কাটাচ্ছেন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যয়বহুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় পরিবার ও স্থানীয়রা সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের কাছে মানবিক সহায়তা কামনা করেছেন। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা বিন্দু বসাকের ছেলে।

ভুক্তভোগীর মামাতো ভাই, শিক্ষক জুয়েল কান্তি দে জানান, শুরুতে খাওয়ার সময় দাঁতের ভেতরে একটি পাথর ঢুকে যাওয়ার পর সেখানে সংক্রমণ (ইনফেকশন) দেখা দেয়। পরে চিকিৎসা গ্রহণ করা হলেও সংক্রমণ পুরোপুরি নিরাময় হয়নি এবং বারবার সমস্যা দেখা দিতে থাকে। প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় ও পরিবারের সহযোগিতায় ঢাকায় তার একটি ব্যায়বহুল অপারেশন করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় ক্যানসারের কোনো লক্ষণ ধরা না পড়লেও পরবর্তীতে অপারেশন স্থল থেকে অস্বাভাবিকভাবে মাংস বেরিয়ে আসলে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তখন ক্যানসার শনাক্ত হয়। বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা জটিল হওয়ায় উন্নত ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য তাকে বাইরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ভুক্তভোগী রাসু বসাক বলেন, “প্রায় ১৫–১৬ বছর আগে নাস্তা করার সময় দাঁতের মাড়ির ভেতরে পাথর ঢুকে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিই। কিছুদিন পর সেখানে ইনফেকশন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে স্থানীয় চিকিৎসক ও হোমিও চিকিৎসা চালিয়ে যাই। আর্থিক সংকটের কারণে বড় কোনো চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ডিসেম্বরের দিকে ক্ষতস্থানে বড় জটিলতা দেখা দেয় এবং মাংস ফুলে বাড়তে থাকে। তখন পরিবার ও আত্মীয়দের সহযোগিতায় চিকিৎসা শুরু করি। পরে অপারেশন করে কিছু অংশ অপসারণ করা হলেও আবার কানের নিচে সমস্যা দেখা দেয়। শুরুতে বায়োপসি রিপোর্ট ভালো আসলেও পরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এখন চিকিৎসকরা বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাসু বসাক চার ভাইয়ের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। বাকি ভাইয়েরা কেউই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। রাসু স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা শেষে পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন এবং একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতেন।

চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা সমাজের হৃদয়বান মানুষ, স্থানীয় বিত্তবান ব্যক্তি এবং সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগী রাসু বসাক আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত, আমি বাঁচতে চাই। আমার চিকিৎসায় সবাই এগিয়ে আসুন।”

সহযোগিতা পাঠানো যাবে বিকাশ নম্বরে: ০১৮৫৯-২০৭৪৮১ (মামাতো ভাই)
যোগাযোগ (ভুক্তভোগী): ০১৮২৭-৪৯৮৫৩৭

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সহায়তা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের সোনারগাঁও এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো সিএনজি চালক মুহাম্মদ আব্দুল করিমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

গত শনিবার (৬ জুন) বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে গোয়ালঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে আব্দুল করিমের বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এ অগ্নিকাণ্ডে গাভী-বাছুরসহ ঘরের সব আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। প্রাথমিক হিসেবে এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেন। তারা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের পক্ষ থেকে টিন ও খাদ্যসামগ্রী (চাউল) প্রদান করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ, সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহ আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপজেলা আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই নেতৃবৃন্দ সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, আগুনে পরিবারের এক শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যাগ ও বইপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুতই তার শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে রোববার (৭ জুন) সকালে ইসলামী ফ্রন্ট রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট এম ইকবাল হাছানের নির্দেশনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা উত্তর শাখার নেতাকর্মীরা।

তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং নগদ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফ্রন্ট ও যুবসেনার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

যুবসেনার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল খালেক বলেন, ক্ষতির পরিমাণ অপূরণীয় হলেও আমরা প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার চেষ্টা করবো। সমাজের বিত্তবানদেরও এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।

স্থানীয়রা জানান, আগুনে পরিবারটি সর্বস্ব হারিয়েছে। পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি।

 

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষক প্রদীপ সাহার মৃত্যুতে শোকের ছায়া

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক মাস্টার প্রদীপ সাহা আর নেই। তিনি রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ওই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। এলাকাবাসীর মতে, তিনি একজন আদর্শ, সৎ ও মানবিক শিক্ষক ছিলেন।

তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

শাহেদুল ইসলাম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, “আপনাকে নিয়ে স্কুল জীবনে অনেক স্মৃতি জমে আছে স্যার। হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আমাদের প্রিয় স্যার বাবু প্রদীপ সাহা এই মায়ার জগৎ ছেড়ে চলে গেছেন। সবাই তাঁর জন্য প্রার্থনা করবেন। আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত।”

মুসাফির ইয়াকুব নামের আরেকজন লিখেন, “লালানগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ও সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বাবু প্রদীপ সাহার মৃত্যুতে পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।”

মুহাম্মদ ফারুক লিখেন, “অত্যন্ত বেদনার সাথে জানাচ্ছি যে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রদীপ সাহা আর নেই। তিনি শুধু শিক্ষক নন, জীবন গড়ার দিশারী ছিলেন। তাঁর দেখানো পথেই আমরা চলবো। তিনি সবসময় হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

স্থানীয়রা জানান, প্রদীপ সাহা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শ শিক্ষক। শিক্ষা বিস্তার ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষা অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় এক শিক্ষকের বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৭ জুন) গ্রেপ্তারকৃত মো. রকিবুল ইসলাম প্রকাশ রকি (২৬)-কে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর সিকদার চক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বাদী হরিহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস (৫৪) অভিযোগ করেন, একদল দুর্বৃত্ত তার বসতবাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাকে, তার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করে। পরে ঘরে থাকা প্রায় ৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় ডাকাতি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৯ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. রকিবুল ইসলাম প্রকাশ রকি (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

‘ত্যাগীরা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি’ — এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ত্যাগীরা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ঢেমিরছড়া ফলাহাজীর বাড়ি প্রাঙ্গণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজ এখানে যারা উপস্থিত আছেন, তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য। কিছু কড়া কথা বলব, মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। আমরা যখন কোনো কর্মসূচি করি, তখন মঞ্চে কে উঠবে, কে বসবে, কার আগে কে বক্তব্য রাখবে—এসব নিয়ে অনেক সময় ধাক্কাধাক্কি ও প্রতিযোগিতা দেখা যায়। নেতার পাশে বা পেছনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়, যা মোটেও ভালো বিষয় নয়।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকের ধারণা হয়ে গেছে, নেতার সঙ্গে ছবি তুলতে পারলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে বড় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।”

মঞ্চে উপস্থিত দুই নেতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমার পাশে বসা এই দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে এসেছেন। একজন ২০০৮–০৯ সালে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, অন্যজন বর্তমানে রাঙ্গুনিয়া জাতীয়তাবাদী দলের আহ্বায়ক। তারা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি। বহু কষ্ট করেছেন, জেল খেটেছেন, মামলার শিকার হয়েছেন, হামলার শিকার হয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাঠে থেকে দলকে ধরে রেখেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ত্যাগ ও পরিশ্রমের পর যখন কেউ নেতৃত্বের পর্যায়ে আসেন, তখন তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। মঞ্চে কাকে আগে ডাকা হবে, কে কখন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন—এসবও সম্মানের অংশ। ছোট ছোট ভুল থেকে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তবে এসব বিষয়ে সচেতনতা ও সংশোধনের মাধ্যমেই দলের সাংগঠনিক সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলে কারা যুক্ত হবে এবং কীভাবে ভালো মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়—সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর যারা দলের সঙ্গে ছিলেন না, তারাও এখন বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবির জন্য চেষ্টা করছেন। তবে মানুষ চেনার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাত দুইটা, তিনটা কিংবা চারটার সময়ও অনেকেই আমাকে ভিডিও পাঠান। নদীতে ড্রেজার চলছে। এসব ড্রেজার বন্ধ করা এবং আটকানোর দায়িত্ব আপনাদেরও। আপনারা যদি সেগুলো আটকাতে পারেন, তাহলে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের দায়িত্ব আমাদের।”

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, আমাকে নির্বাচিত করলে আপনারা টেনশনমুক্ত ঘুমাতে পারবেন। এলাকার সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে। সেই কাজ শুরু হয়েছে, তবে এখনো শেষ হয়নি।” এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তবে যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী, তারা সবাই একটি পরিবারের সদস্য। ঐক্যবদ্ধ থেকেই রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেতাগী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. খালেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সংগঠক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. ইসহাক। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আজম খান, সাবেক আহ্বায়ক লায়ন শওকত আলী নূর, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. হারুন।

সভা সঞ্চালনা করেন বিএনপি নেতা আহমদ বশর, নুরুল আলম, নিজামুল হক চৌধুরী তপন, সোলেমান কালু, মো. ইলিয়াসসহ স্থানীয় নেতারা।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জিয়ার ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্নে উঠে আসে একজন সৎ রাষ্ট্রনায়কের প্রতিচ্ছবি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নে একজন সৎ, মিতব্যয়ী ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়কের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শুক্রবার সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সংগঠক মোহাম্মদ ইসহাকের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. খালেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ হারুন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম।

বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাধারণ জীবনযাপন ও সততা নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন। দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। কাজীর দেউড়ির জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী সেই জীবনাচরণের বাস্তব সাক্ষ্য বহন করে।

তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি হয়েও জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে মিতব্যয়ী ছিলেন। রাষ্ট্রীয় উপঢৌকন নিজের কাছে না রেখে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতেন। ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল। তাঁর ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্নগুলো দেখলেই একজন সৎ রাষ্ট্রনায়কের জীবনাদর্শ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরবর্তীতে সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতার পর তিনি দেশের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

দলের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূলের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এসময় তিনি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অভিমানে আত্মহত্যার প্রাথমিক ধারণা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়াখিল মোগল এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আসমাউল হুসনা (১৫) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার ১৫ নম্বর লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাজারহাট–আলমশাহ পাড়া সড়ক সংলগ্ন ঘাগড়াকুল ব্রিজের পাশে অবস্থিত ইউনুচ ম্যানশন নামের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসমাউল হুসনা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাড়ি উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জঙ্গল পারুয়া এলাকায়। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে লালানগর ইউনিয়নের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কারণে মঙ্গলবার রাতে মেয়েকে বকাঝকা ও শাসন করেন তার মা। বুধবার সকালে মা-বাবা আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে তাদের অনুপস্থিতিতে বাসার একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ক্রিকেট ম্যাচে হুমামকে হারিয়ে সামানজারের জয়, সম্মাননা পেল সাহসী চার কিশোর

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল কর্ণফুলী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা সেই চার সাহসী কিশোরকে সম্মাননা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্মাননা তুলে দেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক ও সহমর্মিতা জানিয়ে নগদ অর্থ, টিন ও শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। সাহসী চার কিশোরকে জড়িয়ে ধরে তাদের মানবিক ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া শিশু ও তার অভিভাবকদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একে এস খান হোল্ডিংস ও একে এস খান হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার খান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে ফাইনালে অংশ নেওয়া পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ ও সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অতিথিরা। উদ্বোধনী পর্বে হুমাম কাদের চৌধুরীর করা বলে ব্যাট চালিয়ে প্রতীকী উদ্বোধন করেন সামানজার খান।

টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ। খেলায় পৌরসভা দলের সমর্থনে ছিলেন সামানজার খান, আর সরফভাটা ইউনিয়ন দলের পক্ষে সমর্থন জানান এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত হুমামের সমর্থিত দলকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় সামানজারের সমর্থিত দল।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উদ্ধারকাজে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া চার কিশোর— মুহাম্মদ রবিউল্লাহ, মুহাম্মদ সাইমন, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ অলিউল্লাহর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী, সামানজার খান এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও উদ্ধার হওয়া শিশুর পরিবারের হাতে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে টিন পৌঁছে দেওয়া হয় বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয় চার কিশোরের সাহসিকতায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুসন্ধান চালানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে অনুষ্ঠানের স্মারক হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হুমাম কাদের চৌধুরী ও সম্মানিত অতিথি সামানজার খানের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ইউএনও মো. নাজমুল হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ব্যস্ততার কারণে অংশ নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। পরে তিনি ভাবেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন ক্রীড়াপ্রেমী এবং আরাফাত রহমান খোকো জীবিত থাকাকালে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সেই চিন্তা থেকেই শত ব্যস্ততার মাঝেও এ আয়োজনে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতেই তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের এবং উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, নিজস্ব মাঠ না থাকা সত্ত্বেও সরফভাটা ইউনিয়ন দল ফাইনালে পৌঁছেছে, যা প্রশংসনীয়। সরফভাটায় একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করা গেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় ক্রিকেট ও ফুটবল দলে রাঙ্গুনিয়ার প্রতিনিধিত্ব দেখতে চান বলেও জানান তিনি। খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।

এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচ উপভোগের জন্য আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্টদের টিকিটের ব্যবস্থা করবেন তিনি। পরে বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

কর্ণফুলীতে নৌকাডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি পরিবারটির কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় ডুবন্ত নৌকা থেকে যাত্রীদের উদ্ধারে অংশ নেওয়া চার কিশোরকে উৎসাহমূলক পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নে নৌকাডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ডা. এটিএম রেজাউল করিমের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাসান মুরাদ।

এ সময় তিনি নৌকাডুবির ঘটনায় ডুবন্ত অবস্থা থেকে যাত্রীদের, বিশেষ করে শিশুদের উদ্ধারে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া চার কিশোরের হাতে উৎসাহব্যঞ্জক পুরস্কার তুলে দেন।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহ আলম, কোদালা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ডা. কুতুবউদ্দিন, সেক্রেটারি কাজী লোকমান, আব্দুল কুদ্দুস, ইসলামী ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি ওয়াহিদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, হাফেজ আব্দুল্লাহসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় স্থানীয় চার কিশোরের সাহসিকতায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুসন্ধান চালানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আরও দুই আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার গ্রেপ্তারকৃত বাদশা মিয়াকে (৩৬) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন পদুয়া ইউনিয়নের জয়নগর মাতব্বর টিলা এলাকার মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ২৪ মে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের মধ্যে পদুয়া ইউনিয়নের একটি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ৩০ মে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত বাদশা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের আগে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। এ সময় ঘটনায় জড়িত অন্য দুজন পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরী মাঠে ছাগল নিয়ে গেলে বাদশা তাকে জোরপূর্বক ঝোপের আড়ালে নিয়ে যান। পরে তিনি মোবাইল ফোনে আরও দুজনকে ডেকে আনেন বলে ওই কিশোরী জানিয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ৩০ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারা অনুযায়ী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি দুই আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উত্তাল কর্ণফুলীতে সাহসিকতার গল্প: পাঁচ প্রাণ বাঁচিয়ে পুলিশের সম্মাননা পেল চার কিশোর

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: কর্ণফুলী নদীর উত্তাল স্রোত, ঝড়ো বাতাস আর মুহূর্তের আতঙ্ক। নদীর বুকে ডুবে যাচ্ছে একটি নৌকা। চারদিকে কান্না আর বাঁচাও-বাঁচাও চিৎকার। এমন সংকটময় মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা না ভেবে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাঁচটি প্রাণ রক্ষা করেছে রাঙ্গুনিয়ার চার সাহসী কিশোর।

তাদের এই মানবিক ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার দিয়েছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাহসী কিশোর মুহাম্মদ রবিউল্লাহ, মুহাম্মদ সাইমন, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ অলিউল্লাহর হাতে সম্মাননা তুলে দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন।

জানা যায়, গত বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়নের দেওয়ানজি ঘাট ও কোদালা ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকাটিতে একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য ছিলেন। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় যাত্রীরা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়লে ১৫ বছর বয়সী রবিউল্লাহ কোনো দ্বিধা না করে নদীতে ঝাঁপ দেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে দ্রুত বাবার ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে এগিয়ে আসেন সাইমন। তার সঙ্গে যোগ দেন আব্দুল্লাহ ও অলিউল্লাহ। প্রবল স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে চার কিশোর শুরু করে উদ্ধার অভিযান।

মাত্র ১০ মিনিটের চেষ্টায় তারা দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকাজের সময় রবিউল্লাহর পায়ে আঘাত লাগলেও তিনি থেমে যাননি। মানুষের জীবন বাঁচানোর তাগিদই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।

সম্মাননা পেয়ে উচ্ছ্বসিত চার কিশোর বলেন, “মানুষকে বাঁচাতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। আমাদের কাজের মূল্যায়ন করায় আমরা কৃতজ্ঞ।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, “এই কিশোরদের সাহসিকতা ও মানবিকতা আমাদের সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তাদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।”

অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াস তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্ণফুলীর নৌকাডুবির সেই ভয়াল মুহূর্তে চার কিশোরের সাহসিকতা শুধু পাঁচটি প্রাণই রক্ষা করেনি, মানবতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়নের দেওয়ানজি ঘাট ও কোদালা ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার শিকার হন। ওই ঘটনায় চার কিশোরের সাহসিকতায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন।

ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও শনিবার রাত পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় নদীতে জোয়ারের শেষ মুহূর্ত চলছিল। পরে ভাটার টানে তিনি অনেক দূরে ভেসে যেতে পারেন।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ নিখোঁজ কনিকা দাশের সন্ধান পেলে দ্রুত রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগ নম্বর: ০১৯০১০২১৫৮১

জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফিরে পেয়েছি: আমির খসরু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুনরায় ফিরে পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের জিয়ানগর এলাকায় অবস্থিত জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রথম মুক্তিযোদ্ধা, প্রথম বিপ্লবী ও স্বাধীনতার ঘোষক, যিনি মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, আজ জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলে আমরা জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে এসেছি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আজ জাতীয় সংসদ ভবনের পাশেই শায়িত আছেন। আমরা জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের একজন নায়ক ছিলেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে আধুনিক, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই পথ আজ আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফিরে পেয়েছি বলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, দেশ আজ সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমানের যে স্বপ্ন ছিল দেশ গড়ার, আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন।

পরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ হেলাল, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান এবং জসিম উদ্দিন পৃথকভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এদিকে শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ হেলাল, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান এবং জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানস্থলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা যায়।

গ্যাস্টিক নাকি হার্টের ব্যথা—পার্থক্য বুঝতে যা জানালেন ডা. শহিদুল ইসলাম রুবেল

বুকের ব্যথা নিয়ে অনেক সময় মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। গ্যাস্টিকের সমস্যাকে অনেকেই হার্টের ব্যথা মনে করেন, আবার কখনো হার্টের সমস্যাকে সাধারণ গ্যাস্টিক ভেবে অবহেলাও করেন। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করেছেন রাঙ্গুনিয়া হেলথকেয়ার হসপিটালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বাত ব্যথা, মেডিসিন, ডায়াবেটিস, চর্ম ও যৌন, লিভার জনিত সমস্যা ও শিশু চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল গ্যাস্টিক ও হার্টের ব্যথার পার্থক্য এবং এর বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে কথা বলেন।

ডা. রুবেল জানান, গ্যাস্টিক ও হার্টের ব্যথা—দুটিই সাধারণত বুকের মাঝামাঝি স্থানে অনুভূত হয়। তবে কিছু উপসর্গ দেখে প্রাথমিকভাবে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য বোঝা সম্ভব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস্টিকের সমস্যা যেকোনো বয়সে হতে পারে। অন্যদিকে সাধারণত ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে হার্টজনিত ব্যথার ঝুঁকি বেশি দেখা যায়, যদিও কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে।

তিনি বলেন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে গ্যাস্টিকের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, জন্মগত হৃদরোগ কিংবা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে হার্টের ব্যথা হতে পারে।

ভিডিওতে তিনি আরও জানান, গ্যাস্টিকের ব্যথার সঙ্গে বুক জ্বালাপোড়া, ঢেকুর, অস্বস্তি, বুক ভারী লাগা কিংবা টাইটনেসের মতো উপসর্গ থাকতে পারে। অনেক সময় গ্যাস্টিকের ওষুধ সেবনে সাময়িক স্বস্তিও পাওয়া যায়।

অন্যদিকে হার্টের ব্যথা হলে তা ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং কখনো থুতনি, হাত বা শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের ব্যথায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে জানান তিনি।

ডা. শহিদুল ইসলাম রুবেল বলেন, বুকের ব্যথাকে অবহেলা না করে লক্ষণ বুঝে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল এমবিবিএস, ডিএ (সি) অ্যানেসথেসিয়া, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ; সিএমইউ, ডিএমইউ (আল্ট্রাসোনোগ্রাফি) এবং ডিভাইস খৎনা ফেলোশিপ (তুর্কি) সম্পন্ন করেছেন।

বিঃদ্রঃ প্রকাশিত বক্তব্য চিকিৎসকের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত। শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কর্ণফুলীতে নৌকাডুবি: ৩৪ ঘণ্টা পরও মেলেনি নববধূ কনিকা দাশের সন্ধান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ নববধূ কনিকা দাশের (২০) ৩৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। উদ্ধার অভিযান চালিয়েও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ কনিকা দাশ কোদালা ইউনিয়নের জেলে পাড়ার রুবেল দাশের স্ত্রী এবং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের মৃণালপাড়া এলাকার দুলাল দাশের মেয়ে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, “আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে। নিখোঁজ কনিকা দাশের সন্ধান পেলে দ্রুত জানানোর জন্য কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অবহিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় নদীতে জোয়ারের শেষ মুহূর্ত চলছিল। পরে ভাটার টানে তিনি অনেক দূরে ভেসে যেতে পারেন।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন খবর পাওয়ার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। তবে কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কেউ নিখোঁজ কনিকা দাশের সন্ধান পেলে দ্রুত রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। জরুরি যোগাযোগ নম্বর: ০১৯০১০২১৫৮১

প্রসঙ্গত, বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা দেওয়ানজীর হাট ও কোদালা ঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। এ ঘটনায় নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন।

নৌকাডুবির পর স্থানীয়রা নৌকায় থাকা পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতরা হলেন— রাজ ঘোষ (২), অনিশ ঘোষ (৬), পলি দাশ (২৫), তার স্বামী রুপন ঘোষসহ আরও একজন। তাদের মধ্যে শিশু রাজ ঘোষের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

কর্ণফুলীতে ঝড়ো হাওয়ায় নৌকাডুবি: নববধূ নিখোঁজ, শিশুসহ কয়েকজন হাসপাতালে

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা দেওয়ানজীর হাট ও কোদালা ঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে কনিকা দাশ (২০) নামে এক নববধূ নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় নৌকায় থাকা অপর পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক শিশুসহ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ কনিকা দাশ কোদালা ইউনিয়নের জেলে পাড়ার রুবেল দাশের স্ত্রী এবং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের মৃণালপাড়া এলাকার দুলাল দাশের মেয়ে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে কোদালা ইউনিয়নের জেলে পাড়ায় বাবার বাড়ি থেকে নবদম্পতি কনিকা দাশ ও রুবেল দাশ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে নৌকাযোগে চন্দ্রঘোনা কদমতলীর মৃণালপাড়ায় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। নৌকাটি কর্ণফুলী নদীর মাঝপথে পৌঁছালে হঠাৎ তীব্র ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে উল্টে যায়।

নৌকাডুবির পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরা হলেন— রাজ ঘোষ (২), অনিশ ঘোষ (৬), পলি দাশ (২৫) ও তার স্বামী রুপন ঘোষসহ আরও একজন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, শিশু রাজ ঘোষের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনিশ ঘোষসহ কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সন্তানসহ উদ্ধার হওয়া পলি দাশ জানান, নিখোঁজ কনিকা দাশের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে নদীর মাঝখানে পৌঁছালে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় নৌকাটি ডুবে যায়।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, নিখোঁজ কনিকা দাশকে উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল আসছে। পাশাপাশি নৌবাহিনীর একটি দলও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ডুবুরি দল পৌঁছালে উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। এ ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করছেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ নববধূ কনিকা দাশের সন্ধান মেলেনি।

রাঙ্গুনিয়ায় আগুনে চার পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে দশমাইলমাথা এলাকার সুখবিলাস ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এবং রাত ১১টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে মো. ইয়াকুব, মো. শাহাদাৎ হোসেন, কোরবান আলী ও নুরুল আলমের বিভিন্ন পরিমাপের একাধিক কক্ষবিশিষ্ট চারটি কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান।

রাঙ্গুনিয়ায় ৩৩ কেভি লাইনের স্পর্শে প্রাণ গেল তরুণ শিক্ষকের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তর দাশ নামে এক তরুণ শিক্ষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শান্তিরহাট বাজারসংলগ্ন দক্ষিণ পোমরা হিন্দুপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত অন্তর দাশ স্থানীয় পোমরা কেজি স্কুলের শিক্ষক এবং দক্ষিণ পোমরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজ বাসার ছাদে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত পাশ দিয়ে যাওয়া ৩৩ কেভি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসেন অন্তর দাশ। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভাড়া আদায় নিয়ে বিরোধ, লাথির আঘাতে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতা নিহত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনায় ভাড়া আদায় নিয়ে বিরোধের জেরে আবুল কাসেম (৬০) প্রকাশ কাসেম নেতা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি কদমতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একসময় তিনি চায়ের দোকান পরিচালনা করলেও বর্তমানে ফলের ব্যবসা করতেন।

শুক্রবার (২২ মে) রাতে চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার এলাকার একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনের ভাড়া নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ভবন মালিক আবদুল আলিমের ছেলে সুমন উত্তেজিত হয়ে আবুল কাসেমকে লাথি মারেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার; পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নিখোঁজের ছয়দিন পর মোঃ মফিজ (১৫) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন দুধপুকুরিয়া পূর্ব পাহাড় এলাকার বাসিন্দা মোঃ মফিজ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মোঃ আবু মুছা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয় যে, দুধপুকুরিয়া পূর্ব পাহাড় এলাকার বৈদ্য ধর্মাবলম্বীদের চিতাখোলার ভেতরে মাটিচাপা অবস্থায় একটি মরদেহ রয়েছে। পরে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে কিশোর মফিজের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন।

পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া গত ২১ মে একই এলাকার মাহবুব আলম ওরফে মাকু আলম (৩৮) এর আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহত কিশোরের মা রুবি আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

রাঙ্গুনিয়ায় ভূমি সেবা সপ্তাহের সমাপনী, মিলেছে নানা সেবা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় তিনদিনব্যাপী ভূমি সেবা সপ্তাহ ও ভূমি সেবা মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের অংশগ্রহণ, তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান এবং ভূমি সেবাকে আরও সহজ ও ডিজিটাল করার বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী আয়োজন।

উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূমি অফিসের কানুনগো চন্দ্র লাল চাকমা, রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নূরুল আবছার চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, ভূমি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও হয়রানি কমিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ জানান, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলা এ মেলায় সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে মেলায় সেবা পাওয়া কয়েকজনের অভিজ্ঞতায়ও উঠে এসেছে ইতিবাচক চিত্র।

এর আগে, খাজনা দাখিল সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সেবা নিতে আসা উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শ্যামল ঘোষ জানান, অনলাইনে খাজনা দাখিলের জন্য নিবন্ধনের চেষ্টা করলেও গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন কারণে তা বাতিল হয়ে আসছিল। পরে ভূমি সেবা মেলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি সমস্যার সমাধান পান। তার তিনটি খতিয়ানের অনুমোদন মিলেছে। এর মধ্যে একটি খতিয়ানের খাজনা ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছেন। তবে অপর দুটি খতিয়ানের খাজনার পরিমাণ বেশি হওয়ায় এখনো পরিশোধ করতে পারেননি। কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলোও পরিশোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, একটি খতিয়ানে অন্য মালিকদের অংশ থাকায় সেটির অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে উপজেলার পোমরা এলাকার বাসিন্দা বখতিয়ার জানান, বিএস খতিয়ানের প্রিন্টে দাগ নম্বর ভুল থাকায় তিনি মেলায় এসে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের সেবা পেয়েছেন।

সেবাগ্রহীতাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে এবং ভূমি সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

‘প্রবাসীরা দেশের গর্ব’— নিহত চার ভাইয়ের ঘটনায় এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের চার প্রবাসী সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

গত ১৯ ঘণ্টা আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “ওমানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় লালানগরের চার প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”

তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “প্রবাসীরা আমাদের দেশের গর্ব। নিজেদের পরিবার ও প্রিয়জনদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তারা দেশের বাইরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।”

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী ও অনিশ্চিত। তাই পরিবারের মানুষদের আরও কাছে রাখুন, ভালোবাসুন এবং একসঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দিন।”

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার সহোদর ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ওমান পুলিশ। পরে ১৯ মে রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।

পরদিন বুধবার সকাল ১১টায় স্থানীয় স্কুল মাঠে চার ভাইয়ের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি খনন করা চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় নানা আয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালিত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নানা আয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং অগ্নি-নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

গতকাল বুধবার (২০ মে) সকালে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উদ্যোগে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেশন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর অর্জুন বাড়ৈ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

স্টেশন টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আক্তার, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার গোলাম মোস্তফা, স্টেশনের সাব-অফিসার মনি ত্রিপুরা, সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন ও ইসমাঈল হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অগ্নিকাণ্ডের সময় করণীয়, প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের উপায় এবং উদ্ধার কার্যক্রমের বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আলোচনা সভা শেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষে কেক কাটেন অতিথিরা।

মায়ের অপেক্ষা শেষ হলো কফিনবন্দী চার ছেলের ফিরে আসায়, শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে। বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১১টার দিকে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। পরে বুধবার ভোরে নিজ গ্রাম বান্দারাজার পাড়ায় পৌঁছায় চার সহোদরের মরদেহ।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকে দলে দলে নারী-পুরুষ, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ কাঁদছেন আপনজন হারানোর বেদনায়, কেউ প্রতিবেশী হারানোর শোকে, আবার কেউ শৈশবের বন্ধুকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন।

এদিকে জানাজায় অংশ নিতে আসা লোকজনকে প্রচণ্ড গরমের তীব্রতা থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে কেউ স্বেচ্ছায় পানি ও শরবত বিতরণ করেন। অন্যদিকে সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, ইসলামী ও সামাজিক সংগঠনের শোক ব্যানারে ছেয়ে যায় এলাকার অলিগলি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। পাশাপাশি রাখা চারটি কফিন দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

বুধবার সকাল ১১টায় স্থানীয় স্কুল মাঠে চার ভাইয়ের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, ইসলামিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে আগে থেকেই প্রস্তুত করা স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি খনন করা চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

নিহতরা হলেন— রাশেদুল ইসলাম (৪১), শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই বান্দারাজার পাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের সন্তান। নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী, তিন বছর বয়সী এক কন্যা ও তিন মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মেজ ভাই শাহেদুল ইসলামও বিবাহিত ছিলেন। ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন।

চার ভাইকে হারিয়ে দেশে অবস্থান করা তাদের একমাত্র ভাই এনামুল ইসলামও ভেঙে পড়েছেন। একসঙ্গে চার সহোদরের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

স্বজনদের দাবি, পরিবারের অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে এতদিন পুরো ঘটনা জানানো হয়নি। সন্তানদের মরদেহ ঘরে আসা পর্যন্ত তিনি মনে করছিলেন, তার সন্তানরা আহত অবস্থায় দেশে ফিরছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চার ছেলে একসঙ্গে কফিনবন্দী হয়ে বাড়ি ফিরলেন।

স্থানীয় প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় চার ভাইকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ওমান পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

একই পরিবারের চার সহোদরের এমন মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মা দোয়া করছেন সন্তানরা যেন বেঁচে ফেরে, জানেন না চার ছেলেই ফিরছে কফিনবন্দী হয়ে

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদরের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন মরদেহ আনতে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইয়াকুব। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১১টার দিকে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি এ সময় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন বলে জানান ইয়াকুব।

এদিকে গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গে চারটি কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হবে।

লালানগর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকরাম হোসেন জানান, নিহতদের মধ্যে তাঁর বন্ধু সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম শিগগিরই দেশে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে প্রায়ই ভিডিও কলে কথা হতো। দেশে ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, ঘোরাঘুরি ও আড্ডার নানা পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনায় মুহূর্তেই সবকিছু থেমে গেল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজ আমরা প্রতিবেশীরা নিজেদের হাতে তাঁদের কবর খনন করছি এবং মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর অপেক্ষায় আছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম (৪১) বিবাহিত। তাঁর পরিবারে স্ত্রী, তিন বছর বয়সী এক কন্যা ও তিন মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মেজ ভাই শাহেদুল ইসলামও বিবাহিত ছিলেন। বিয়ের কয়েক মাস পরই তিনি প্রবাসে যান। ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন। তাঁরা সবাই বান্দারাজার পাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের সন্তান। পাঁচ সন্তানের মধ্যে চারজনই প্রবাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশে রয়েছেন তাঁদের অসুস্থ বৃদ্ধা মা ও একমাত্র ভাই এনামুল ইসলাম।

স্বজনদের দাবি, মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এখনো তাঁকে ছেলেদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তিনি এখনো মনে করছেন, দুর্ঘটনায় আহত হলেও তাঁর সন্তানরা বেঁচে আছেন এবং দেশে ফিরে আসবেন। সন্তানদের সুস্থভাবে ফিরে আসার আশায় তিনি প্রতিনিয়ত দোয়া করে যাচ্ছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার ভাইয়েরই একসঙ্গে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। কয়েক দিন ধরে তাঁরা কাজ কমিয়ে ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটায় সময় কাটাচ্ছিলেন। ঘটনার দিনও তাঁরা একসঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, একটি গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় তাঁদের দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে ওমান পুলিশ। গাড়ির ভেতর থেকে চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত করেছে সে দেশের পুলিশ। গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলেই ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে ওমান পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের চার সহোদরের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দায়িত্বশীল জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাঙ্গুনিয়ায় ডিসি জাহিদুল ইসলাম

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : “একটি দায়িত্বশীল ও সুস্থ জাতি গঠনে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা আমাদের বাস্তব জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। জয়কে কীভাবে উপভোগ করতে হয়, পরাজয়কে কীভাবে মেনে নিতে হয়—এসব আমরা খেলাধুলার মাধ্যমেই শিখি।”

এভাবেই তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (১৮ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত “অন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব কথা বলেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের জীবন ও খেলাধুলার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। জীবনে যেমন সবসময় সুখ বা ভালো সময় থাকে না, তেমনি খেলাধুলাতেও সবসময় জয় আসে না। জয়-পরাজয় মিলিয়েই প্রতিটি খেলা। তবে পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে না নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই একজন মানুষকে সফলতার পথে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “যদি কেউ পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তাহলে সে সত্যিকার অর্থে হেরে যায়। কিন্তু যদি সে নিজের চেষ্টা ধরে রাখে, তাহলে তার জয় অনিবার্য।”

বর্তমান বিশ্বকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ উল্লেখ করে ডিসি বলেন, যার যত দক্ষতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তার নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগও তত বেশি। এজন্য কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও স্বপ্নকে ধারণ করে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও লক্ষ্য ছাড়া সুন্দর কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তরুণদের সামনে এখন অনেক দায়িত্ব। শুধু সফল হওয়াই নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”

তরুণ সমাজের সামনে বর্তমানে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, মাদকাসক্তি এবং ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন গেমে আসক্তি তরুণদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের ১৮ কোটি মানুষ ও ৩৬ কোটি হাতকে দেশের মূল সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সম্পদ যদি প্রযুক্তির নেতিবাচক দিকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা চাই তরুণদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে।”

এ সময় অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তারা বড়দের অনুসরণ ও অনুকরণ করতে শেখে।

সন্তানদের সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাবা-মা যদি সন্তানকে সময় না দেন, তাহলে বড় হয়ে সন্তানেরাও বাবা-মাকে সময় দেবে না। আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক উপজেলার পোমরা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন ও ইউনিয়ন পরিষদস্থ পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলা আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় উপজেলাস্থ সেবাপ্রার্থীদের জন্য ওয়েটিং রুম কাম লাইব্রেরি উদ্বোধন এবং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পরিদর্শন করেন তিনি।

 

রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুরু, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বছরব্যাপী ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শনিবার উপজেলার গুমাইবিল ও সরফভাটায় শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়।

কর্মসূচি চলাকালে এক বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া ২০২৬” ভিশন সামনে রেখে চলতি বছরের মধ্যে ৫০ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তবে তার আগেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজার গাছ রোপণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দেশের মঙ্গল ও পরিবেশ রক্ষায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকেই প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও দেশ গড়ার কাজে তারা নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় জনসাধারণের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, “আপনারা যে যেখানে পারবেন, প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় কয়েকজন মিলে অন্তত কয়েকটি করে গাছ লাগান। নিজেদের উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে তার ছবি আমাদের ফেসবুক পেজে ট্যাগ করতে পারেন। আমরা রাঙ্গুনিয়ায় একটি সবুজ বিপ্লব গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে, কারণ মাঠে কাজ করা কৃষকদের বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ফলজ, বনজ ও অন্যান্য গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া” বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ওমানে নিহত সেই চার সহোদরের পরিবারে এবার ইসলামী ফ্রন্টের সমবেদনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ও সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে যান রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (১৬ মে) বাদ জোহর নিহতদের গ্রামের বাড়ি বান্দারাজার পাড়ায় মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সহ-সভাপতি মাওলানা করিম উদ্দিন নুরী, সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতাকর্মীরা শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করবে।

এর আগে শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দও ওই পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এসময় তারা শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওমানে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চার সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো লালানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর বেদনা ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

ওমানে নিহত চার সহোদরের পরিবারের খোঁজ নিলেন ডা. এটিএম রেজাউল করিম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে তিনি নিহতদের গ্রামের বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদে আসরের নামাজ শেষে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

পরে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি বলেন, একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই কঠিন সময়ে তিনি ও তাঁর সংগঠন শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

তিনি স্থানীয়দেরও মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি ওমানে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চার সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো লালানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।