রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার এক অসহায় পরিবারের ১২ বছর বয়সী কিশোর সন্তান মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে টানা প্রায় তিন মাস ধরে হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। কিশোরটির নাম মুহাম্মদ হাসান। সে একজন কুরআনের হাফেজ।
মুহাম্মদ হাসান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিপুরা সুন্দরী এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর মো. বাচা মিয়ার ছেলে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কিশোরের পিতা বাচা মিয়া জানান, তিনি পেশায় কৃষি কাজে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। সংসারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তার পরিবারের প্রথম দুই কন্যাসন্তান জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই মারা যায়। এরপর জন্ম নেয় একটি ছেলে, যার বয়স এখন ১৫ বছর। পরিবারের অভাবের কারণে সে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে গ্যারেজে কাজ করছে।
বাচা মিয়া বলেন, তার মেজো ছেলে মুহাম্মদ হাসান সম্প্রতি স্থানীয় একটি হেফজখানা থেকে কুরআনের হাফেজ হয়েছে। বড় আশা-স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে হাফেজ পড়িয়েছিলেন তিনি। তবে কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে ছেলের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রায় তিন মাস আগে তার তলপেটে টিউমার ক্যান্সার ধরা পড়ে।
বর্তমানে ক্যান্সারের জটিলতায় কিশোর হাসানের পায়ুপথে নিয়মিত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ফলে সপ্তাহে একাধিকবার তাকে রক্ত দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত কেমোথেরাপিও দেওয়া হচ্ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
বাচা মিয়া আরও জানান, অনেকেই সহায়তার আশ্বাস দেন। কেউ কেউ সহযোগিতাও করেছেন। তবে কখনো কখনো প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সেই সহায়তাও হারাতে হয়েছে। তার পরিবারের পাঁচ বছর বয়সী আরও একটি শিশুকে তিনি হাফেজ বানানোর স্বপ্নে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছেন।
এ অবস্থায় ক্যান্সার আক্রান্ত কুরআনের হাফেজ কিশোরকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন অসহায় এই পিতা।
সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম: ০১৮৯১-৯৪৮৫৭৫ (বিকাশ পার্সোনাল)।
