ক্রিকেট ম্যাচে হুমামকে হারিয়ে সামানজারের জয়, সম্মাননা পেল সাহসী চার কিশোর

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল কর্ণফুলী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা সেই চার সাহসী কিশোরকে সম্মাননা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্মাননা তুলে দেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক ও সহমর্মিতা জানিয়ে নগদ অর্থ, টিন ও শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। সাহসী চার কিশোরকে জড়িয়ে ধরে তাদের মানবিক ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া শিশু ও তার অভিভাবকদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একে এস খান হোল্ডিংস ও একে এস খান হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার খান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে ফাইনালে অংশ নেওয়া পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ ও সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অতিথিরা। উদ্বোধনী পর্বে হুমাম কাদের চৌধুরীর করা বলে ব্যাট চালিয়ে প্রতীকী উদ্বোধন করেন সামানজার খান।

টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ। খেলায় পৌরসভা দলের সমর্থনে ছিলেন সামানজার খান, আর সরফভাটা ইউনিয়ন দলের পক্ষে সমর্থন জানান এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত হুমামের সমর্থিত দলকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় সামানজারের সমর্থিত দল।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উদ্ধারকাজে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া চার কিশোর— মুহাম্মদ রবিউল্লাহ, মুহাম্মদ সাইমন, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ অলিউল্লাহর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী, সামানজার খান এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও উদ্ধার হওয়া শিশুর পরিবারের হাতে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে টিন পৌঁছে দেওয়া হয় বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয় চার কিশোরের সাহসিকতায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুসন্ধান চালানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে অনুষ্ঠানের স্মারক হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হুমাম কাদের চৌধুরী ও সম্মানিত অতিথি সামানজার খানের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ইউএনও মো. নাজমুল হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ব্যস্ততার কারণে অংশ নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। পরে তিনি ভাবেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন ক্রীড়াপ্রেমী এবং আরাফাত রহমান খোকো জীবিত থাকাকালে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সেই চিন্তা থেকেই শত ব্যস্ততার মাঝেও এ আয়োজনে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতেই তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের এবং উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, নিজস্ব মাঠ না থাকা সত্ত্বেও সরফভাটা ইউনিয়ন দল ফাইনালে পৌঁছেছে, যা প্রশংসনীয়। সরফভাটায় একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করা গেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় ক্রিকেট ও ফুটবল দলে রাঙ্গুনিয়ার প্রতিনিধিত্ব দেখতে চান বলেও জানান তিনি। খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।

এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচ উপভোগের জন্য আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্টদের টিকিটের ব্যবস্থা করবেন তিনি। পরে বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

কর্ণফুলীতে নৌকাডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি পরিবারটির কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় ডুবন্ত নৌকা থেকে যাত্রীদের উদ্ধারে অংশ নেওয়া চার কিশোরকে উৎসাহমূলক পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নে নৌকাডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ডা. এটিএম রেজাউল করিমের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাসান মুরাদ।

এ সময় তিনি নৌকাডুবির ঘটনায় ডুবন্ত অবস্থা থেকে যাত্রীদের, বিশেষ করে শিশুদের উদ্ধারে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া চার কিশোরের হাতে উৎসাহব্যঞ্জক পুরস্কার তুলে দেন।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহ আলম, কোদালা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ডা. কুতুবউদ্দিন, সেক্রেটারি কাজী লোকমান, আব্দুল কুদ্দুস, ইসলামী ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি ওয়াহিদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, হাফেজ আব্দুল্লাহসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় স্থানীয় চার কিশোরের সাহসিকতায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুসন্ধান চালানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আরও দুই আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার গ্রেপ্তারকৃত বাদশা মিয়াকে (৩৬) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন পদুয়া ইউনিয়নের জয়নগর মাতব্বর টিলা এলাকার মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ২৪ মে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের মধ্যে পদুয়া ইউনিয়নের একটি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ৩০ মে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত বাদশা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের আগে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। এ সময় ঘটনায় জড়িত অন্য দুজন পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরী মাঠে ছাগল নিয়ে গেলে বাদশা তাকে জোরপূর্বক ঝোপের আড়ালে নিয়ে যান। পরে তিনি মোবাইল ফোনে আরও দুজনকে ডেকে আনেন বলে ওই কিশোরী জানিয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ৩০ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারা অনুযায়ী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি দুই আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উত্তাল কর্ণফুলীতে সাহসিকতার গল্প: পাঁচ প্রাণ বাঁচিয়ে পুলিশের সম্মাননা পেল চার কিশোর

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: কর্ণফুলী নদীর উত্তাল স্রোত, ঝড়ো বাতাস আর মুহূর্তের আতঙ্ক। নদীর বুকে ডুবে যাচ্ছে একটি নৌকা। চারদিকে কান্না আর বাঁচাও-বাঁচাও চিৎকার। এমন সংকটময় মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা না ভেবে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাঁচটি প্রাণ রক্ষা করেছে রাঙ্গুনিয়ার চার সাহসী কিশোর।

তাদের এই মানবিক ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার দিয়েছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাহসী কিশোর মুহাম্মদ রবিউল্লাহ, মুহাম্মদ সাইমন, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ অলিউল্লাহর হাতে সম্মাননা তুলে দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন।

জানা যায়, গত বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়নের দেওয়ানজি ঘাট ও কোদালা ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকাটিতে একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য ছিলেন। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় যাত্রীরা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়লে ১৫ বছর বয়সী রবিউল্লাহ কোনো দ্বিধা না করে নদীতে ঝাঁপ দেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে দ্রুত বাবার ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে এগিয়ে আসেন সাইমন। তার সঙ্গে যোগ দেন আব্দুল্লাহ ও অলিউল্লাহ। প্রবল স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে চার কিশোর শুরু করে উদ্ধার অভিযান।

মাত্র ১০ মিনিটের চেষ্টায় তারা দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকাজের সময় রবিউল্লাহর পায়ে আঘাত লাগলেও তিনি থেমে যাননি। মানুষের জীবন বাঁচানোর তাগিদই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।

সম্মাননা পেয়ে উচ্ছ্বসিত চার কিশোর বলেন, “মানুষকে বাঁচাতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। আমাদের কাজের মূল্যায়ন করায় আমরা কৃতজ্ঞ।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, “এই কিশোরদের সাহসিকতা ও মানবিকতা আমাদের সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তাদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।”

অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াস তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্ণফুলীর নৌকাডুবির সেই ভয়াল মুহূর্তে চার কিশোরের সাহসিকতা শুধু পাঁচটি প্রাণই রক্ষা করেনি, মানবতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়নের দেওয়ানজি ঘাট ও কোদালা ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার শিকার হন। ওই ঘটনায় চার কিশোরের সাহসিকতায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন।

ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও শনিবার রাত পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় নদীতে জোয়ারের শেষ মুহূর্ত চলছিল। পরে ভাটার টানে তিনি অনেক দূরে ভেসে যেতে পারেন।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ নিখোঁজ কনিকা দাশের সন্ধান পেলে দ্রুত রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগ নম্বর: ০১৯০১০২১৫৮১

জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফিরে পেয়েছি: আমির খসরু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুনরায় ফিরে পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের জিয়ানগর এলাকায় অবস্থিত জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রথম মুক্তিযোদ্ধা, প্রথম বিপ্লবী ও স্বাধীনতার ঘোষক, যিনি মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, আজ জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলে আমরা জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে এসেছি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আজ জাতীয় সংসদ ভবনের পাশেই শায়িত আছেন। আমরা জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের একজন নায়ক ছিলেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে আধুনিক, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই পথ আজ আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফিরে পেয়েছি বলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, দেশ আজ সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমানের যে স্বপ্ন ছিল দেশ গড়ার, আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন।

পরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ হেলাল, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান এবং জসিম উদ্দিন পৃথকভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এদিকে শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ হেলাল, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান এবং জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানস্থলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা যায়।

গ্যাস্টিক নাকি হার্টের ব্যথা—পার্থক্য বুঝতে যা জানালেন ডা. শহিদুল ইসলাম রুবেল

বুকের ব্যথা নিয়ে অনেক সময় মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। গ্যাস্টিকের সমস্যাকে অনেকেই হার্টের ব্যথা মনে করেন, আবার কখনো হার্টের সমস্যাকে সাধারণ গ্যাস্টিক ভেবে অবহেলাও করেন। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করেছেন রাঙ্গুনিয়া হেলথকেয়ার হসপিটালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বাত ব্যথা, মেডিসিন, ডায়াবেটিস, চর্ম ও যৌন, লিভার জনিত সমস্যা ও শিশু চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল গ্যাস্টিক ও হার্টের ব্যথার পার্থক্য এবং এর বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে কথা বলেন।

ডা. রুবেল জানান, গ্যাস্টিক ও হার্টের ব্যথা—দুটিই সাধারণত বুকের মাঝামাঝি স্থানে অনুভূত হয়। তবে কিছু উপসর্গ দেখে প্রাথমিকভাবে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য বোঝা সম্ভব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস্টিকের সমস্যা যেকোনো বয়সে হতে পারে। অন্যদিকে সাধারণত ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে হার্টজনিত ব্যথার ঝুঁকি বেশি দেখা যায়, যদিও কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে।

তিনি বলেন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে গ্যাস্টিকের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, জন্মগত হৃদরোগ কিংবা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে হার্টের ব্যথা হতে পারে।

ভিডিওতে তিনি আরও জানান, গ্যাস্টিকের ব্যথার সঙ্গে বুক জ্বালাপোড়া, ঢেকুর, অস্বস্তি, বুক ভারী লাগা কিংবা টাইটনেসের মতো উপসর্গ থাকতে পারে। অনেক সময় গ্যাস্টিকের ওষুধ সেবনে সাময়িক স্বস্তিও পাওয়া যায়।

অন্যদিকে হার্টের ব্যথা হলে তা ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং কখনো থুতনি, হাত বা শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের ব্যথায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে জানান তিনি।

ডা. শহিদুল ইসলাম রুবেল বলেন, বুকের ব্যথাকে অবহেলা না করে লক্ষণ বুঝে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল এমবিবিএস, ডিএ (সি) অ্যানেসথেসিয়া, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ; সিএমইউ, ডিএমইউ (আল্ট্রাসোনোগ্রাফি) এবং ডিভাইস খৎনা ফেলোশিপ (তুর্কি) সম্পন্ন করেছেন।

বিঃদ্রঃ প্রকাশিত বক্তব্য চিকিৎসকের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত। শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কর্ণফুলীতে নৌকাডুবি: ৩৪ ঘণ্টা পরও মেলেনি নববধূ কনিকা দাশের সন্ধান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ নববধূ কনিকা দাশের (২০) ৩৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। উদ্ধার অভিযান চালিয়েও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ কনিকা দাশ কোদালা ইউনিয়নের জেলে পাড়ার রুবেল দাশের স্ত্রী এবং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের মৃণালপাড়া এলাকার দুলাল দাশের মেয়ে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, “আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে। নিখোঁজ কনিকা দাশের সন্ধান পেলে দ্রুত জানানোর জন্য কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অবহিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় নদীতে জোয়ারের শেষ মুহূর্ত চলছিল। পরে ভাটার টানে তিনি অনেক দূরে ভেসে যেতে পারেন।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন খবর পাওয়ার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। তবে কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কেউ নিখোঁজ কনিকা দাশের সন্ধান পেলে দ্রুত রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। জরুরি যোগাযোগ নম্বর: ০১৯০১০২১৫৮১

প্রসঙ্গত, বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা দেওয়ানজীর হাট ও কোদালা ঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। এ ঘটনায় নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন।

নৌকাডুবির পর স্থানীয়রা নৌকায় থাকা পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতরা হলেন— রাজ ঘোষ (২), অনিশ ঘোষ (৬), পলি দাশ (২৫), তার স্বামী রুপন ঘোষসহ আরও একজন। তাদের মধ্যে শিশু রাজ ঘোষের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

কর্ণফুলীতে ঝড়ো হাওয়ায় নৌকাডুবি: নববধূ নিখোঁজ, শিশুসহ কয়েকজন হাসপাতালে

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা দেওয়ানজীর হাট ও কোদালা ঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে কনিকা দাশ (২০) নামে এক নববধূ নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় নৌকায় থাকা অপর পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক শিশুসহ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ কনিকা দাশ কোদালা ইউনিয়নের জেলে পাড়ার রুবেল দাশের স্ত্রী এবং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের মৃণালপাড়া এলাকার দুলাল দাশের মেয়ে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে কোদালা ইউনিয়নের জেলে পাড়ায় বাবার বাড়ি থেকে নবদম্পতি কনিকা দাশ ও রুবেল দাশ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে নৌকাযোগে চন্দ্রঘোনা কদমতলীর মৃণালপাড়ায় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। নৌকাটি কর্ণফুলী নদীর মাঝপথে পৌঁছালে হঠাৎ তীব্র ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে উল্টে যায়।

নৌকাডুবির পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরা হলেন— রাজ ঘোষ (২), অনিশ ঘোষ (৬), পলি দাশ (২৫) ও তার স্বামী রুপন ঘোষসহ আরও একজন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, শিশু রাজ ঘোষের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনিশ ঘোষসহ কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সন্তানসহ উদ্ধার হওয়া পলি দাশ জানান, নিখোঁজ কনিকা দাশের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে নদীর মাঝখানে পৌঁছালে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় নৌকাটি ডুবে যায়।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, নিখোঁজ কনিকা দাশকে উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল আসছে। পাশাপাশি নৌবাহিনীর একটি দলও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ডুবুরি দল পৌঁছালে উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। এ ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করছেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ নববধূ কনিকা দাশের সন্ধান মেলেনি।

রাঙ্গুনিয়ায় আগুনে চার পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে দশমাইলমাথা এলাকার সুখবিলাস ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এবং রাত ১১টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে মো. ইয়াকুব, মো. শাহাদাৎ হোসেন, কোরবান আলী ও নুরুল আলমের বিভিন্ন পরিমাপের একাধিক কক্ষবিশিষ্ট চারটি কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান।

রাঙ্গুনিয়ায় ৩৩ কেভি লাইনের স্পর্শে প্রাণ গেল তরুণ শিক্ষকের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তর দাশ নামে এক তরুণ শিক্ষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শান্তিরহাট বাজারসংলগ্ন দক্ষিণ পোমরা হিন্দুপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত অন্তর দাশ স্থানীয় পোমরা কেজি স্কুলের শিক্ষক এবং দক্ষিণ পোমরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজ বাসার ছাদে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত পাশ দিয়ে যাওয়া ৩৩ কেভি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসেন অন্তর দাশ। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভাড়া আদায় নিয়ে বিরোধ, লাথির আঘাতে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতা নিহত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনায় ভাড়া আদায় নিয়ে বিরোধের জেরে আবুল কাসেম (৬০) প্রকাশ কাসেম নেতা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি কদমতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একসময় তিনি চায়ের দোকান পরিচালনা করলেও বর্তমানে ফলের ব্যবসা করতেন।

শুক্রবার (২২ মে) রাতে চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার এলাকার একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনের ভাড়া নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ভবন মালিক আবদুল আলিমের ছেলে সুমন উত্তেজিত হয়ে আবুল কাসেমকে লাথি মারেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার; পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নিখোঁজের ছয়দিন পর মোঃ মফিজ (১৫) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন দুধপুকুরিয়া পূর্ব পাহাড় এলাকার বাসিন্দা মোঃ মফিজ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মোঃ আবু মুছা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয় যে, দুধপুকুরিয়া পূর্ব পাহাড় এলাকার বৈদ্য ধর্মাবলম্বীদের চিতাখোলার ভেতরে মাটিচাপা অবস্থায় একটি মরদেহ রয়েছে। পরে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে কিশোর মফিজের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন।

পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া গত ২১ মে একই এলাকার মাহবুব আলম ওরফে মাকু আলম (৩৮) এর আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহত কিশোরের মা রুবি আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

রাঙ্গুনিয়ায় ভূমি সেবা সপ্তাহের সমাপনী, মিলেছে নানা সেবা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় তিনদিনব্যাপী ভূমি সেবা সপ্তাহ ও ভূমি সেবা মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের অংশগ্রহণ, তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান এবং ভূমি সেবাকে আরও সহজ ও ডিজিটাল করার বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী আয়োজন।

উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূমি অফিসের কানুনগো চন্দ্র লাল চাকমা, রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নূরুল আবছার চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, ভূমি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও হয়রানি কমিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ জানান, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলা এ মেলায় সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে মেলায় সেবা পাওয়া কয়েকজনের অভিজ্ঞতায়ও উঠে এসেছে ইতিবাচক চিত্র।

এর আগে, খাজনা দাখিল সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সেবা নিতে আসা উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শ্যামল ঘোষ জানান, অনলাইনে খাজনা দাখিলের জন্য নিবন্ধনের চেষ্টা করলেও গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন কারণে তা বাতিল হয়ে আসছিল। পরে ভূমি সেবা মেলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি সমস্যার সমাধান পান। তার তিনটি খতিয়ানের অনুমোদন মিলেছে। এর মধ্যে একটি খতিয়ানের খাজনা ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছেন। তবে অপর দুটি খতিয়ানের খাজনার পরিমাণ বেশি হওয়ায় এখনো পরিশোধ করতে পারেননি। কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলোও পরিশোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, একটি খতিয়ানে অন্য মালিকদের অংশ থাকায় সেটির অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে উপজেলার পোমরা এলাকার বাসিন্দা বখতিয়ার জানান, বিএস খতিয়ানের প্রিন্টে দাগ নম্বর ভুল থাকায় তিনি মেলায় এসে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের সেবা পেয়েছেন।

সেবাগ্রহীতাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে এবং ভূমি সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

‘প্রবাসীরা দেশের গর্ব’— নিহত চার ভাইয়ের ঘটনায় এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের চার প্রবাসী সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

গত ১৯ ঘণ্টা আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “ওমানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় লালানগরের চার প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”

তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “প্রবাসীরা আমাদের দেশের গর্ব। নিজেদের পরিবার ও প্রিয়জনদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তারা দেশের বাইরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।”

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী ও অনিশ্চিত। তাই পরিবারের মানুষদের আরও কাছে রাখুন, ভালোবাসুন এবং একসঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দিন।”

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার সহোদর ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ওমান পুলিশ। পরে ১৯ মে রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।

পরদিন বুধবার সকাল ১১টায় স্থানীয় স্কুল মাঠে চার ভাইয়ের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি খনন করা চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় নানা আয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালিত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নানা আয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং অগ্নি-নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

গতকাল বুধবার (২০ মে) সকালে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উদ্যোগে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেশন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর অর্জুন বাড়ৈ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

স্টেশন টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আক্তার, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার গোলাম মোস্তফা, স্টেশনের সাব-অফিসার মনি ত্রিপুরা, সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন ও ইসমাঈল হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অগ্নিকাণ্ডের সময় করণীয়, প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের উপায় এবং উদ্ধার কার্যক্রমের বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আলোচনা সভা শেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষে কেক কাটেন অতিথিরা।

মায়ের অপেক্ষা শেষ হলো কফিনবন্দী চার ছেলের ফিরে আসায়, শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে। বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১১টার দিকে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। পরে বুধবার ভোরে নিজ গ্রাম বান্দারাজার পাড়ায় পৌঁছায় চার সহোদরের মরদেহ।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকে দলে দলে নারী-পুরুষ, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ কাঁদছেন আপনজন হারানোর বেদনায়, কেউ প্রতিবেশী হারানোর শোকে, আবার কেউ শৈশবের বন্ধুকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন।

এদিকে জানাজায় অংশ নিতে আসা লোকজনকে প্রচণ্ড গরমের তীব্রতা থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে কেউ স্বেচ্ছায় পানি ও শরবত বিতরণ করেন। অন্যদিকে সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, ইসলামী ও সামাজিক সংগঠনের শোক ব্যানারে ছেয়ে যায় এলাকার অলিগলি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। পাশাপাশি রাখা চারটি কফিন দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

বুধবার সকাল ১১টায় স্থানীয় স্কুল মাঠে চার ভাইয়ের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, ইসলামিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে আগে থেকেই প্রস্তুত করা স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি খনন করা চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

নিহতরা হলেন— রাশেদুল ইসলাম (৪১), শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই বান্দারাজার পাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের সন্তান। নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী, তিন বছর বয়সী এক কন্যা ও তিন মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মেজ ভাই শাহেদুল ইসলামও বিবাহিত ছিলেন। ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন।

চার ভাইকে হারিয়ে দেশে অবস্থান করা তাদের একমাত্র ভাই এনামুল ইসলামও ভেঙে পড়েছেন। একসঙ্গে চার সহোদরের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

স্বজনদের দাবি, পরিবারের অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে এতদিন পুরো ঘটনা জানানো হয়নি। সন্তানদের মরদেহ ঘরে আসা পর্যন্ত তিনি মনে করছিলেন, তার সন্তানরা আহত অবস্থায় দেশে ফিরছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চার ছেলে একসঙ্গে কফিনবন্দী হয়ে বাড়ি ফিরলেন।

স্থানীয় প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় চার ভাইকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ওমান পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

একই পরিবারের চার সহোদরের এমন মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মা দোয়া করছেন সন্তানরা যেন বেঁচে ফেরে, জানেন না চার ছেলেই ফিরছে কফিনবন্দী হয়ে

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদরের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন মরদেহ আনতে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইয়াকুব। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১১টার দিকে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি এ সময় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন বলে জানান ইয়াকুব।

এদিকে গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গে চারটি কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হবে।

লালানগর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকরাম হোসেন জানান, নিহতদের মধ্যে তাঁর বন্ধু সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম শিগগিরই দেশে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে প্রায়ই ভিডিও কলে কথা হতো। দেশে ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, ঘোরাঘুরি ও আড্ডার নানা পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনায় মুহূর্তেই সবকিছু থেমে গেল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজ আমরা প্রতিবেশীরা নিজেদের হাতে তাঁদের কবর খনন করছি এবং মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর অপেক্ষায় আছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম (৪১) বিবাহিত। তাঁর পরিবারে স্ত্রী, তিন বছর বয়সী এক কন্যা ও তিন মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মেজ ভাই শাহেদুল ইসলামও বিবাহিত ছিলেন। বিয়ের কয়েক মাস পরই তিনি প্রবাসে যান। ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন। তাঁরা সবাই বান্দারাজার পাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের সন্তান। পাঁচ সন্তানের মধ্যে চারজনই প্রবাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশে রয়েছেন তাঁদের অসুস্থ বৃদ্ধা মা ও একমাত্র ভাই এনামুল ইসলাম।

স্বজনদের দাবি, মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এখনো তাঁকে ছেলেদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তিনি এখনো মনে করছেন, দুর্ঘটনায় আহত হলেও তাঁর সন্তানরা বেঁচে আছেন এবং দেশে ফিরে আসবেন। সন্তানদের সুস্থভাবে ফিরে আসার আশায় তিনি প্রতিনিয়ত দোয়া করে যাচ্ছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার ভাইয়েরই একসঙ্গে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। কয়েক দিন ধরে তাঁরা কাজ কমিয়ে ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটায় সময় কাটাচ্ছিলেন। ঘটনার দিনও তাঁরা একসঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, একটি গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় তাঁদের দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে ওমান পুলিশ। গাড়ির ভেতর থেকে চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত করেছে সে দেশের পুলিশ। গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলেই ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে ওমান পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের চার সহোদরের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দায়িত্বশীল জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাঙ্গুনিয়ায় ডিসি জাহিদুল ইসলাম

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : “একটি দায়িত্বশীল ও সুস্থ জাতি গঠনে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা আমাদের বাস্তব জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। জয়কে কীভাবে উপভোগ করতে হয়, পরাজয়কে কীভাবে মেনে নিতে হয়—এসব আমরা খেলাধুলার মাধ্যমেই শিখি।”

এভাবেই তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (১৮ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত “অন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব কথা বলেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের জীবন ও খেলাধুলার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। জীবনে যেমন সবসময় সুখ বা ভালো সময় থাকে না, তেমনি খেলাধুলাতেও সবসময় জয় আসে না। জয়-পরাজয় মিলিয়েই প্রতিটি খেলা। তবে পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে না নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই একজন মানুষকে সফলতার পথে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “যদি কেউ পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তাহলে সে সত্যিকার অর্থে হেরে যায়। কিন্তু যদি সে নিজের চেষ্টা ধরে রাখে, তাহলে তার জয় অনিবার্য।”

বর্তমান বিশ্বকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ উল্লেখ করে ডিসি বলেন, যার যত দক্ষতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তার নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগও তত বেশি। এজন্য কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও স্বপ্নকে ধারণ করে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও লক্ষ্য ছাড়া সুন্দর কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তরুণদের সামনে এখন অনেক দায়িত্ব। শুধু সফল হওয়াই নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”

তরুণ সমাজের সামনে বর্তমানে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, মাদকাসক্তি এবং ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন গেমে আসক্তি তরুণদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের ১৮ কোটি মানুষ ও ৩৬ কোটি হাতকে দেশের মূল সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সম্পদ যদি প্রযুক্তির নেতিবাচক দিকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা চাই তরুণদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে।”

এ সময় অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তারা বড়দের অনুসরণ ও অনুকরণ করতে শেখে।

সন্তানদের সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাবা-মা যদি সন্তানকে সময় না দেন, তাহলে বড় হয়ে সন্তানেরাও বাবা-মাকে সময় দেবে না। আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক উপজেলার পোমরা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন ও ইউনিয়ন পরিষদস্থ পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলা আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় উপজেলাস্থ সেবাপ্রার্থীদের জন্য ওয়েটিং রুম কাম লাইব্রেরি উদ্বোধন এবং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পরিদর্শন করেন তিনি।

 

রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুরু, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বছরব্যাপী ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শনিবার উপজেলার গুমাইবিল ও সরফভাটায় শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়।

কর্মসূচি চলাকালে এক বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া ২০২৬” ভিশন সামনে রেখে চলতি বছরের মধ্যে ৫০ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তবে তার আগেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজার গাছ রোপণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দেশের মঙ্গল ও পরিবেশ রক্ষায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকেই প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও দেশ গড়ার কাজে তারা নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় জনসাধারণের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, “আপনারা যে যেখানে পারবেন, প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় কয়েকজন মিলে অন্তত কয়েকটি করে গাছ লাগান। নিজেদের উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে তার ছবি আমাদের ফেসবুক পেজে ট্যাগ করতে পারেন। আমরা রাঙ্গুনিয়ায় একটি সবুজ বিপ্লব গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে, কারণ মাঠে কাজ করা কৃষকদের বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ফলজ, বনজ ও অন্যান্য গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া” বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ওমানে নিহত সেই চার সহোদরের পরিবারে এবার ইসলামী ফ্রন্টের সমবেদনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ও সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে যান রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (১৬ মে) বাদ জোহর নিহতদের গ্রামের বাড়ি বান্দারাজার পাড়ায় মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সহ-সভাপতি মাওলানা করিম উদ্দিন নুরী, সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতাকর্মীরা শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করবে।

এর আগে শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দও ওই পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এসময় তারা শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওমানে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চার সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো লালানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর বেদনা ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

ওমানে নিহত চার সহোদরের পরিবারের খোঁজ নিলেন ডা. এটিএম রেজাউল করিম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে তিনি নিহতদের গ্রামের বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদে আসরের নামাজ শেষে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

পরে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি বলেন, একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই কঠিন সময়ে তিনি ও তাঁর সংগঠন শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

তিনি স্থানীয়দেরও মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি ওমানে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চার সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো লালানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।

ওমানে নিহত চার সহোদরের পরিবারে এমপি হুম্মাম, পাশে থাকার আশ্বাস

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য ।

শুক্রবার (১৫ মে) নিহতদের গ্রামের বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং স্থানীয়দেরও সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “এই পরিবারের সদস্যরা আপনাদেরই আপনজন। যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন। একইসঙ্গে সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।”

তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে আরও বলেন, “আমরা সবাই দুনিয়া নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি যে পরকালের কথা ভুলে যাই। অথচ মৃত্যু যেকোনো সময় চলে আসতে পারে। এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে আমরা কেউ চিরস্থায়ী নই।”

তিনি বলেন, নিহতদের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে এখন একজন জীবিত আছেন। স্বজন হারানোর বেদনা তিনিই সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন। তাই তার পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।

মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে এমপি হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আশা করছি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই মরদেহ দেশে পৌঁছাবে। এ বিষয়ে ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশ সরকারও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।”

নিহতরা হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই ওমানে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগির দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব জানান, ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি রাতের দিকে ঘটলেও বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ধারণা করছে, গাড়ির ভেতরে এসির গ্যাস লিকেজজনিত বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

চার সহোদর ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিহতদের বাড়িতে যান। একইদিন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বক্তারা নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক চেয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

প্রসঙ্গত, নিহত চার ভাইয়ের মধ্যে রাসেদুল ইসলাম ও শাহেদুল ইসলাম বিবাহিত। রাসেদুল ইসলামের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শাহেদুল ইসলাম বিয়ের পরপরই প্রবাসে পাড়ি জমান। তার স্ত্রী রয়েছেন। নিহত সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম এখনো অবিবাহিত ছিলেন। এছাড়া তাদের পরিবারে রয়েছেন মা ও আরও এক ভাই। নিহতদের বাবার নাম মৃত আবদুল মজিদ।

ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটায় বের হয়ে ওমানে প্রাণ গেল চার ভাইয়ের

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওমানে একটি গাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই ওমানে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব জানান, ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। বাবুর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি রাতের দিকে ঘটলেও বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে ঘুমানোর সময় গ্যাস লিকেজ থেকে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইয়াকুব আরও জানান, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বাবু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বর্তমানে মরদেহগুলো রোস্তাক থানার হেফাজতে রয়েছে। পরে সেগুলো মাস্কাটে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

চার সহোদর ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোক বিরাজ করছে।

রাঙ্গুনিয়ায় ভোরের আগুনে পুড়ল চার দোকান, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে সৃষ্ট আগুনে চারটি দোকান ও একটি রিকশা গ্যারেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) ভোরে উপজেলার রোয়াজারহাট এলাকার জাকির আলম মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোর ৫টা ১২ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মাত্র এক মিনিটের মধ্যে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন। সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ৬টা ২০ মিনিটে সম্পূর্ণ আগুন নির্বাপণ করা হয়। পরে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ইউনিটগুলো স্টেশনে ফিরে যায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন দুটি সেমিপাকা ভাঙারির দোকান, আরিফুল ইসলামের একটি চায়ের দোকান, অরুণ মন্দিরের একটি রিকশা গ্যারেজ এবং জাকির আলমের একটি কাঁচা দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। তবে আগুনে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেওয়া উপজেলার মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক মো. জামাল (৩৫) বলেন, ভোরে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পান গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। পরে তিনি দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে গিয়ে বিষয়টি জানালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় দোকানগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

ধান ঘরে তুলতেই হিমশিম, বর্গা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক কালবৈশাখীর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কৃষকরা। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ থাকলেও সেই ধান ঘরে তুলতে গিয়ে বাড়তি শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে অনেক কৃষক এখন হতাশ। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেকেই ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকদের একাংশ।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গুমাই বিলে একাই প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে।

তবে মৌসুমের মাঝপথেই দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর প্রভাব পড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঝড়ে কিছু জমির ধান মাটির সঙ্গে লেগে যাওয়ায় প্রায় ৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে এবং আরও প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অনেক জমির ফসল পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ক্ষতির সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই কৃষকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধান ঘরে তোলার ব্যয়। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক সর্বনিম্ন পারিশ্রমিক চাওয়া হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৮০০ টাকা। থাকা-খাওয়াসহ একজন শ্রমিকের পেছনে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, এক দিনে একজন শ্রমিকের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা প্রায় ১০ আড়ি ধানের সমান। এ ছাড়া ধান কাটার পর রয়েছে মাড়াই খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাড়িতে নেওয়ার অতিরিক্ত খরচ। সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কৃষক অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। কৃষকদের ভাষ্য, উৎপাদন খরচ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ধান ঘরে তোলার ব্যয় বাড়তে থাকায় বর্গা চাষি ও জমির মালিক—উভয় পক্ষই লাভ-ক্ষতির হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষক নুরুন্নবীর ছেলে সোহেল জানান, এবার কালবৈশাখীতে তাদের কিছু জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে এবং ধান ঘরে তুলতে গিয়ে তারা বড় সমস্যায় পড়েছেন। আড়াই কানি জমির ধান বিল থেকে রাস্তার পাশে আনতে সাতজন শ্রমিক এক দিনে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। এরপর মাড়াই ও বাড়িতে আনার খরচ রয়েছে। ধান ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত লাভ থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি শঙ্কায় আছেন।

অন্যদিকে কৃষক আহমদ জানান, তিনি এবার এক কানি জমি বর্গা নিয়েছেন। তার হিসাবে ওই জমিতে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ আড়ি ধান হতে পারে। তবে সেখান থেকে ২৫ আড়ি জমির মালিককে দিতে হবে। এরপর চাষাবাদ, শ্রমিক, সেচ, মাড়াই ও পরিবহনসহ সব ব্যয় হিসাব করলে নিজের অংশে কতটুকু অবশিষ্ট থাকবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

মাঠপর্যায়ে আরও জানা গেছে, অনেক বর্গা চাষি ধীরে ধীরে কৃষিকাজ ছেড়ে দিনমজুরি, ইজিবাইক চালানো কিংবা সিএনজি চালনার মতো পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। চাষাবাদে পরিশ্রমের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় তারা বিকল্প আয়ের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের একাংশের দাবি, সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচি থাকলেও অনেক ক্ষুদ্র ও হতদরিদ্র কৃষক সেই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, উপজেলার কিছু এলাকায় কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোথাও মাটি অপসারণ, কোথাও বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম বাড়ছে। কৃষি থেকে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পাওয়ায় কেউ কেউ কৃষিজমি বিক্রি করে প্রবাসমুখী হচ্ছেন, আবার কেউ জমিকে বিকল্প কাজে ব্যবহার করছেন। এভাবে কৃষিজমি কমতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।

 

লিচুবাগান ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে আবদুল মালেক ও শোয়াইব

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি পদে আবদুল মালেক তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. শোয়াইব নির্বাচিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চন্দ্রঘোনাস্থ দ্য রাইজিং সান কেজি এন্ড হাই স্কুল কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম তালুকদার। প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন মুক্তি সাধন বড়ুয়া।

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সিসি ক্যামেরার আওতায় পরিচালিত হয়, যা প্রার্থী, ভোটার ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

ভোট গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি পদে আবদুল মালেক তালুকদার দোয়াত কলম প্রতীকে ৫৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাতা প্রতীকের মো. বেলাল উদ্দিন পান ৪২৯ ভোট।

সহ-সভাপতি পদে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ২৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মো. সেকান্দর (প্রজাতি প্রতীক)।
সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ প্রার্থীর মধ্যে ৫৮১ ভোট পেয়ে মো. শোয়াইব (আনারস প্রতীক) বিজয়ী হন।

সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে তালাচাবি প্রতীকের মো. সাজ্জাদ হোসেন ৬১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অর্থ সম্পাদক পদে ডাব প্রতীকের মো. আলমগীর হামিদ ৪২৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোরগ প্রতীকের মো. জসিম উদদীন সিকদার ৫১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে সিংহ প্রতীকের টিপু সুলতান চৌধুরী ৩১৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মো. আরজান হোসেন আরজু নির্বাচিত হন।

সদস্য পদে নির্বাচিত হন আব্দুল সবুর, আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মোজাম্মেল।

নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বিকেল পর্যন্ত চলে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।” তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

রোগীর পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, মানবিকতারও পরিচয়: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম: মানবিকতা ছাড়া মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কোনো মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক । তিনি বলেন, রোগীর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সাহস ও আস্থা ফিরিয়ে দিতেও নার্সদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি আন্তরিক হাসি কিংবা ভালো ব্যবহারও একজন রোগীর দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল নার্সিং ইনস্টিটিউট ও নার্সিং কলেজের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও শিরাবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা সবাই একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই বাংলাদেশে নার্সরা মানবতার দেবদূত হিসেবে কাজ করবেন।” নার্সিং পেশাকে মহৎ ও মানবিক পেশা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অসুস্থ মানুষ কখনো সুস্থ সমাজ গঠন করতে পারে না। তাই চিকিৎসক ও নার্সদের মানবিক সেবা সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নার্সিং সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ডা. কামরুন নাহার দস্তগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসান, ট্রেজারার অধ্যক্ষ ডা. লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক ও উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানের আগে জেলা প্রশাসক হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন। তিনি বহিঃবিভাগ, শিশু বহিঃবিভাগ, এনআইসিইউ, পিআইসিইউ, এডাল্ট আইসিইউ, ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও অটিজম ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অটিজম ইউনিট পরিদর্শনের সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। খাদ্যে ভেজাল, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “আজ যারা শপথ নিচ্ছেন, তারা যেন সেই শপথের মর্যাদা রক্ষা করেন। সরকারি বা জনসেবামূলক হাসপাতালে আসা অধিকাংশ মানুষই অসহায়। তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, এটি মানবিক দায়িত্বও।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে ইউরোপ ও জাপানে দক্ষ ও মানবিক নার্সের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষতা, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে নবাগত শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করানো এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়।

ফটিকছড়িতে সাপের কামড়ে প্রাণ হারাল শিশু আয়াত

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সাপের কামড়ে দুই বছর বয়সী শিশু মো. আয়াতের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার তৈয়্যবিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়াত স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল হোসেনের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে বাড়ির সামনের টিউবওয়েলে পানি আনতে যায় আয়াত। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না দিয়ে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় বিলম্ব করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর চাচা মুহাম্মদ শওকত বলেন, “সাপে কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসা শুরু না করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে সময় নষ্ট করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো যেত।”

ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল আলম বলেন, “ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে চিকিৎসকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তসহ গ্রেপ্তার ৩

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তসহ মোট ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

গত ১০ মে এসআই মো. মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার গোডাউন বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলামকে (৫১) গ্রেপ্তার করেন।

পরবর্তীতে ১১ মে এএসআই আবদুর রহিমের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে রাঙ্গুনিয়া থানার একাধিক মামলা ও দায়রা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি দিদারুল ইসলাম কাঞ্চনকে (লালানগর, রাঙ্গুনিয়া) গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর ধারার মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই দিনে পৃথক আরেক অভিযানে এসআই সাহিদুল বিশ্বাস ও এএসআই আবদুর রহিমের নেতৃত্বে ৪টি সিআর সাজা পরোয়ানা ও ১৩টি সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর ইউনিয়নের মজুমদার খিল এলাকার বাসিন্দা সুবল সাহাকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একটি মামলার ৩০৪/৩৪ পেনাল কোডের তদন্তে সন্দিগ্ধ পলাতক আসামি ছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন আহমেদ।

সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজেকে বদলাতে হবে: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক: সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্রুত নিজেদের সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নারী বন্দিদের এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “একজন বাবা বা মায়ের পরিচয়ই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। নিজের সন্তান, পরিবার ও প্রিয়জনদের মুখের দিকে তাকিয়েও ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।”

মানবিক ও কল্যাণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে আয়োজিত এ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক বন্দিদের জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও সংশোধনমূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা মামলা বা আইনি জটিলতায় আটক থাকেন, তবে তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হাত ধোয়ার অভ্যাস ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পানিবাহিত রোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁর ভাষায়, “কিডনি রোগের অন্যতম কারণ ভেজাল খাবার।”

এর আগে কারাগারে পৌঁছালে জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিক সালাম প্রদান করা হয়। এ সময় শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। পরে তিনি সন্তানসহ নারী বন্দিদের সেল পরিদর্শন করে তাঁদের নিরাপত্তা, সন্তানদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

পরে জেলা প্রশাসক কারা হাসপাতালের নারী ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

একপর্যায়ে নারী বন্দিদের পরিচালিত নকশিকাঁথা সেলাই কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি। এছাড়া বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও বাঁশ-কাঠের নান্দনিক সামগ্রীও পরিদর্শন করেন। এসব প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম বন্দিদের আত্মনির্ভরশীল ও সমাজে পুনর্বাসনে সহায়ক হবে বলে মত দেন জেলা প্রশাসক।

তিনি কারাগারের রান্নাঘর ও বন্দিদের জন্য প্রস্তুত খাবারের মানও পরীক্ষা করেন। খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

পরে পুরুষ বন্দিদের কারাকক্ষ ও সংশোধনাগার পরিদর্শন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।

সবশেষে কারা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সভায় বন্দিদের কল্যাণ, মানবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বন্দিদের স্বজনদের সাক্ষাৎ সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সংকট ও সামাজিক পুনর্বাসনে কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।