পটিয়ায় গভীর রাতে বসতঘরে চুরি, খোয়া গেল স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ টাকা

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তাঁর ধারণা, চোর খাটের নিচে লুকিয়ে থেকে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সমুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. হাসানুজ্জামান খান (৪৫) তাঁর নিজ বসতঘরে চুরির এ অভিযোগ করেন।

হাসানুজ্জামান খান জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। রোববার ভোর ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে মুঠোফোন খুঁজতে গিয়ে বুঝতে পারেন, ঘরে চুরি হয়েছে।

তিনি বলেন, রাত দুইটার দিকে তাঁর জামাতা বিদেশ থেকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ফোন বন্ধ পান। তাঁর ধারণা, রাত সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টার মধ্যে কোনো একসময় চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। চোর খাটের নিচে লুকিয়ে ছিল বলে সন্দেহ করছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, আনুমানিক ৩০ আনা ওজনের স্বর্ণের হার, নগদ ১ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং আরও কিছু মালামাল।

এ ঘটনায় পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসানুজ্জামান খান।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সাজেকের পর্যটন খাত বাঁচাতে সরকারের হস্তক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা

খাগড়াছড়ি : সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পর্যটন কেন্দ্রটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গেইট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন ব্যবসায়ীরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাজেক দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। এ পর্যটন খাতকে ঘিরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হলে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা।

বক্তারা আরও বলেন, কোনো আঞ্চলিক দলের খেয়ালখুশির ওপর সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম নির্ভর করতে পারে না। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সমাবেশ থেকে সাজেক এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন কেন্দ্রটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, সাজেকের পর্যটন খাত রক্ষা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার কারণে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আরও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

রাতে বাড়িতে ঢোকার সময় সাপের কামড়, প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সাপের কামড়ে মোহাম্মদ জিহাদ (১৮) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার দক্ষিণ পদুয়া পশ্চিম খুরুশিয়া মেম্বার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জিহাদ ওই এলাকার আব্দুল খালেকের নাতি। তিনি চন্দ্রঘোনা মাদ্রাসা-এ-তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়ার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে প্রবেশের সময় জিহাদকে কোনো কিছু কামড় দেয় বলে তিনি বুঝতে পারেন। তবে অন্ধকারে কী কামড় দিয়েছে, তা দেখতে পাননি। পরে তাঁর শরীরে সাপের কামড়ের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনেরা। এ ঘটনার পর বাড়ির আঙিনায় একটি সাপ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা সেটিকে মেরে ফেলেন।

পদুয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত আলী জানান, ঘটনাস্থলটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। সাপের কামড়ের সন্দেহে প্রথমে এক ওঝাকে ডাকা হয়। পরে জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের ধারণা, তাঁকে কামড় দেওয়া সাপটি বিষধর গোখরা ছিল।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাঁর শরীরে সাপের কামড়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখতে পাননি। এ কারণে সাপের কামড়ের বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, সাপের কামড়ের বিষয়টি নিশ্চিত না হলে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হয়। এ কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে রেফার করেন।

কক্সবাজারে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে এসে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সীমা আক্তার কুমিল্লার দেবিদ্বার এলাকার ফাতেমা তুজ জোহরা মহিলা মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

সৈকতে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসনের কর্মী মাহবুব আলম জানান, ইজিবাইকে করে চলাচলের সময় হঠাৎ সীমা আক্তারের ওড়না গাড়ির চাকায় পেঁচিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নিহতের মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু

ডেস্ক : চট্টগ্রাম মহানগরে ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে আল আমিন সরদার নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) জানায়, রোববার (৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মহানগরের ইস্পাহানি চেকপোস্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন কনস্টেবল আল আমিন সরদার। এ সময় এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করার সময় একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

আল আমিন সরদার সিএমপি পুলিশ লাইন্সের এসএএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। সিএমপির তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে তিনি সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন।

নিহত আল আমিন সরদারের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং এক সন্তানের জনক।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

আইপিইউ সম্মেলনে অংশ নিতে তানজানিয়ার পথে স্পিকার

ডেস্ক রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর ১৫৩তম সম্মেলনে যোগ দিতে তানজানিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তানজানিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

আগামী ৫ থেকে ৯ অক্টোবর তানজানিয়ার আরুসায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউ সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে অংশ নেবেন স্পিকার। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য—‘অন্তর্ভুক্তি, আস্থা এবং সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন উন্নয়ন এবং সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন’।

সম্মেলনের শেষ দিন ৯ অক্টোবর আইপিইউর গভর্নিং কাউন্সিল নতুন সভাপতি নির্বাচন করবে।

স্পিকারের সফরসঙ্গী হয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এস. কে. আজিজুল বারী, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন ও রোকেয়া বেগম।

আইপিইউ সম্মেলন শেষে আগামী ১১ অক্টোবর স্পিকার দেশে ফিরবেন।

বিশ্ব হার্ট দিবসে পার্কভিউ হাসপাতালে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি

চট্টগ্রাম : বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা তৈরি এবং জরুরি সময়ে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘Don’t Miss A Beat’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কর্মসূচির প্রথম দিন ২৯ সেপ্টেম্বর পার্কভিউ হসপিটাল প্রাঙ্গণে বেলুন ওড়ানো ও কেক কাটার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি মির্জাপুল এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ৩০ সেপ্টেম্বর পার্কভিউ হসপিটালের ১২ তলা কনফারেন্স হলে ‘Scientific Seminar on World Heart Day & Celebrating 500 Primary PCIs in Parkview Cathlab’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে হৃদরোগের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, প্রাইমারি পিসিআই (PCI) এবং অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (AMI) ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের প্রধান ডা. তানজিলা তাবিব চৌধুরীর সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সেমিনারের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ডা. হাফেজ মো. মুজিবুল হক।

বৈজ্ঞানিক সেমিনারে ‘Don’t Miss A Beat’ বিষয়ে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আ ই ম ন জাহাঙ্গীর সেলিম। তিনি হৃদরোগের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত লক্ষণ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং রোগীর জীবন রক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

‘Primary PCI in Parkview Cathlab’ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইকবাল মাহমুদ। তিনি প্রাইমারি পিসিআইয়ের মাধ্যমে জরুরি হৃদরোগ চিকিৎসার বিভিন্ন দিক এবং সময়োপযোগী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারের প্রধান অতিথি কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল পিএলসির সিনিয়র কনসালট্যান্ট, কার্ডিওলজি ডা. কায়সার নাসরুল্লাহ খান ‘Management of AMI – Bangladesh Perspective’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (AMI) ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. শেখ মো. হাসান মামুন, ডা. নুর উদ্দিন তারেক ও ডা. আনিসুল আওয়াল।

সেমিনারে পার্কভিউ ক্যাথল্যাবে ৫০০টি প্রাইমারি পিসিআই সম্পন্নের মাইলফলক উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদান ও অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. এম. এম. আলম সাদী বলেন, “হৃদরোগের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং দ্রুততম সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ চিকিৎসক দলের সমন্বয়ে পার্কভিউ হাসপাতাল হৃদরোগীদের মানসম্মত ও সময়োপযোগী চিকিৎসাসেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে।”

সভাপতির বক্তব্যে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. টি. এম. রেজাউল করিম বলেন, “পার্কভিউ ক্যাথল্যাবে ৫০০টি প্রাইমারি পিসিআই সম্পন্ন হওয়া আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতেও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং চট্টগ্রামের মানুষের জন্য উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”

পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হৃদরোগের ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এ ধরনের কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে হৃদরোগ চিকিৎসার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচির সার্বিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পার্কভিউ হাসপাতালের মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন মার্কেটিং টিম।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় একটি পুলিশ ক্যাম্প এবং কর্ণফুলী নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বেতাগীতে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি জহির উদ্দিন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ, হুমাম কাদের চৌধুরী এমপির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মুহিবুল কবির তমাল, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য শওকত আলী নূর, ইউসুফ চৌধুরী, হেলাল উদ্দিন শাহ, মাঈন উদ্দিন রোকন, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, কিশোর গ্যাং, বখাটেপনা, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও মাদক সেবন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারকেন্দ্রিক এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উত্তর রাঙ্গুনিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। ওই এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার করতে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানানো হয়। সভায় বলা হয়, দুর্গম ও বিস্তৃত এলাকার কারণে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় অনেক সময় দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

এদিকে কর্ণফুলী নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বেতাগীতে নদীপথে নজরদারি বাড়াতে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে হবে না। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক, কিশোর অপরাধ, বখাটেপনা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দুর্গম ফ্রেশবাজারে সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসা পেলেন তিন শতাধিক

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড়ি সম্প্রদায়ের গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ০৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দি বেবি টাইগার্স’ দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় উপজেলার দীঘিনালা ইউনিয়নের ফ্রেশবাজার এলাকায় দিনব্যাপী এ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধসহ প্রায় তিন শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এ সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শের পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়।

দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মুহাম্মদ শায়খউদ্দীন সাকলাইন। তিনি রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করেন।

এ সময় দীঘিনালা জোনের আওতায় ধাত্রীবিদ্যায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মেডিকেল টিমকে সহযোগিতা করেন।

চিকিৎসা কার্যক্রমে শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থীসহ পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আরএমও মুহাম্মদ শায়খউদ্দীন সাকলাইন বলেন, দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী অনেক মানুষ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষের কথা বিবেচনা করে জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় তিন শতাধিক মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীঘিনালা জোন শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ উদ্যোগের জন্য এলাকাবাসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা দীঘিনালা জোনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় বর্ধিত পৌর কর প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় হোল্ডিং ট্যাক্স (পৌর কর) বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন পৌর এলাকার বাসিন্দা ও বাড়ির মালিকেরা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‘ভুক্তভোগী পৌরসভার বাসিন্দা ও বাড়ির মালিকেরা, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বর্ধিত পৌর করের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন। এতে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একতিয়ার হোসেন, ইসলামী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ছাদেক এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ফারুকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, পৌর এলাকার বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর আগে নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁরা বর্ধিত পৌর কর পুনর্বিবেচনা করে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ভিপি আনছুর উদ্দিন বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত না করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বর্ধিত কর প্রত্যাহার বা পুনর্নির্ধারণ না করা হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বক্তারা আরও বলেন, পৌর কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা উচিত। তারা দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

দেশের কোডে অতিরিক্ত ‘৮’, ইউএনও পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক সতর্কবার্তায় ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, +88801789796160 নম্বর থেকে এক ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করে নিজেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অর্থ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

তিনি জানান, তাঁর অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর +8801789796160। প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নম্বরটি দেখতে অফিসিয়াল নম্বরের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিল রয়েছে। শুধু দেশের কোড +880-এর পর অতিরিক্ত একটি ‘৮’ যুক্ত করে +88801789796160 নম্বরটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে অনেকেই বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, “আমার পরিচয়ে কেউ ফোন করে অর্থ বা অন্য কোনো ধরনের সুবিধা দাবি করলে তা বিশ্বাস করবেন না। কোনো কল বা অনুরোধ সন্দেহজনক মনে হলে অবশ্যই বিষয়টি যাচাই করবেন।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সকলকে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের প্রতারণামূলক কল সম্পর্কে অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান।

দুই থানার পৃথক অভিযানে রাঙ্গুনিয়ায় গ্রেপ্তার ৫, সাজা ৩ মাদকসেবীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ডেভিল হান্ট, পরোয়ানা তামিল ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তিনজন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নির্দেশনায় রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অভিযানে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা, ছয়টি সিআর সাজা পরোয়ানা এবং তিনটি সিআর পরোয়ানার ভিত্তিতে দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের আমতলী পাড়ার মো. সোহাগ (২২) এবং পশ্চিম বগাবিলি এলাকার সুদত্ত বড়ুয়া। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে সরকার ঘোষিত ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সক্রিয় সদস্য আবুল কাসেম বাদশা ওরফে বাদশা মিয়া (৩৫) এবং লালানগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. হারুন (৪৭)-কে গ্রেপ্তার করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে থানার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহির উদ্দিন।

অন্যদিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত ও পাঁচটি জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. আলমগীর (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে তিন মাদকসেবীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

পুলিশ জানিয়েছে, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৪৪৫

চট্টগ্রাম: কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪৪৫ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় এনে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে, অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদক ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়।

অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সন্তানরা কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, নিয়মিত কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাসায় ফিরছে কি না—এসব বিষয়ে খোঁজখবর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব নির্বাচন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিশোর অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

ডেঙ্গু দমনে সীতাকুণ্ডে বিশেষ অভিযান, নজরদারিতে ৭ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

চট্টগ্রাম : সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে চিহ্নিত সাতটি হটস্পট নির্মূলে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, “সাত দিন পর সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর কোনো হটস্পট থাকবে না—সেখানেই আমাদের অভিযান সফল হবে। আক্রান্তের সংখ্যা না কমলে এই অভিযানকে সফল বলা যাবে না।”

শনিবার সকালে সীতাকুণ্ড পৌরসভা চত্বরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসক নিজে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন অভিযানে অংশ নেন।

কর্মসূচিতে জানানো হয়, সীতাকুণ্ডে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫১৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সাত দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি এলাকা—ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি, জেলেপাড়া, বাড়বকুণ্ড, ফুলতলা, বার আউলিয়া ও কলেজ রোডকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৬টি নতুন ফগার মেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক সংগ্রহ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ ও ড্রেনে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। বিশেষ করে জাহাজভাঙা শিল্প এলাকার স্ক্র্যাপ ধাতুতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান

ডেস্ক: মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কমিউনিটি পুলিশ, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি পুলিশের উপদেষ্টা জহুরুল আলম জহুর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকবিরোধী আইন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা সময়ের দাবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা, সঙ্গ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়তে প্রশাসন-স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত উদ্যোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং আল হাইথাম কল্যাণ ট্রাস্টের সহযোগিতায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন যুব, সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবীরা দলবদ্ধভাবে সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন এবং সেগুলো নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। উদ্বোধনের পর তিনি নিজেও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত করা সম্ভব।”

অভিযানে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, এমন উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজন করা হলে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মানুষের সচেতনতা আরও বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরি হবে এবং নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

রাঙ্গুনিয়ায় খালে পড়ে মেধাবী মাদ্রাসাছাত্র মিনহাজের করুণ মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজখালী খালে পড়ে মুহাম্মদ মিনহাজ (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খতিবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিনহাজ ওই এলাকার মুহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে। সে ইসলামপুর তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া ছত্তারিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে মিনহাজ বাড়িতে সাইকেল রেখে এক বন্ধুর সঙ্গে বের হয়। একপর্যায়ে রাজখালী খালের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় সে পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তার সঙ্গে থাকা বন্ধু মিনহাজকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

পরে তাকে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাদ্রাসা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে তিন দিন আগে মিনহাজকে হিফজ বিভাগ থেকে ছুটি দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান তার মা। শনিবার সকালে তাকে আবার মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এর আগেই বন্ধুর সঙ্গে বের হয়ে যাওয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ইসলামপুর তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া ছত্তারিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুল আলম বলেন, “মুহাম্মদ মিনহাজ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সে পবিত্র কোরআনের চার পারা হিফজ করেছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ কার্যক্রম সফল করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।

এর আগে সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে বিডি ক্লিনের প্রায় ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে হাসপাতাল চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সচেতন সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাঙ্গুনিয়ায় চলমান খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তে গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে প্রকল্পের কাজ পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

খাসজমি উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খাসজমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং সরকারি সম্পত্তি যথাযথভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার বিষয়ে সংসদ সদস্য জানান, দেশের অন্যান্য ৫০ শয্যার হাসপাতালের মতো এটিকেও ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।

গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় সাইবার মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়” শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম।

সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজব ও অপতথ্য শনাক্তকরণ, তথ্যের সত্যতা যাচাই, বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং ধর্মীয় উসকানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে—এমন কনটেন্ট দ্রুত যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় গুজব শনাক্তকরণ, তথ্য যাচাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যভিত্তিক বার্তা প্রচারের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রশাসনের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। সভা থেকে জনসাধারণকে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা শনাক্ত করা, দ্রুত সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় বজ্রপাতে অগ্নিকাণ্ড, বসতঘর পুড়ে ছাই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে একটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরসহ ভেতরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মুন্সি স্কুলের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ওই এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌসের (স্থানীয়ভাবে ‘মায়ার মা’ নামে পরিচিত) বসতঘরে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে টিন ও বেড়ার তৈরি ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রীও আগুনে ভস্মীভূত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা মো. মিজান জানান, বজ্রপাতের সময় ঘরের গ্যাসের চুলা জ্বালানো ছিল এবং ঘরের মালিক বাইরে অবস্থান করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, বজ্রপাত গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডারে প্রভাব ফেলায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ঘরটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে আমাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বজ্রপাত থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।”

কাপ্তাইয়ে নদীতে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কাপ্তাই (রাঙামাটি) : রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ শাহারিয়ার সানম (২৪) মারা গেছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সানম নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী ও ঢাকা থেকে আসা ৯ সদস্যের একটি পর্যটক দল রোববার সকাল ১০টার দিকে কাপ্তাইয়ে পৌঁছে। স্থানীয় গাইডের সহায়তায় তারা সীতার পাহাড়ে ট্র্যাকিং করেন। পাহাড় ভ্রমণ শেষে দুপুর দেড়টার দিকে সীতার ঘাট এলাকার কর্ণফুলী নদীর পাথরঘাটা অংশে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য নদীতে নামেন। এ সময় স্রোতের টানে সানম গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

সানমের সহপাঠী ও বন্ধু সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা সকাল থেকে একসঙ্গে ঘুরছিলাম। পাহাড় থেকে নেমে নদীর ঘাটে গেলে হঠাৎ করেই সানম পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সফল হইনি।”

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কাপ্তাই থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ডুবুরি দল পৌঁছে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় ৪০ ফুট দূরে নদীর তলদেশ থেকে সানমকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।”

সানমের অকাল মৃত্যুতে তার সহপাঠী, বন্ধু ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

‘নোংরা খাল রেখে পর্যটক আনা সম্ভব নয়’—কোদাল হাতে হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পর্যটন বিকাশে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কোদাল হাতে খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়ার কুলকুরমাই খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাড়ে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, দেশে ডেঙ্গুর সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরা খাল ও জলাশয় ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। মানুষকে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা করতে হলে খালগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।

রাঙ্গুনিয়াকে পর্যটনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ার খালগুলো পরিষ্কার না থাকলে পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, পর্যটনকে আকর্ষণীয় করতে হলে প্রথমেই রাঙ্গুনিয়াকে পরিষ্কার করতে হবে। কোনো পর্যটক নোংরা পরিবেশের এলাকায় আসতে চাইবেন না। তাই খাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে হুমাম কাদের বলেন, বাংলাদেশের সেরা সন্তান বিডি ক্লিনের ছেলেমেয়েরা। তারা কোনো টাকা-পয়সা বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা না করে নিজের ইচ্ছায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করছে। প্রয়োজন হলে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজও করছে। তাদের প্রতি মন থেকে ভালোবাসা ও সালাম জানান তিনি।

এমপি জানান, শুরুতে ৪০০ থেকে ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে খাল পরিষ্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে বিডি ক্লিনের কার্যক্রম দেখে কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হয়। বর্তমানে সাড়ে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক রাঙ্গুনিয়ায় কাজ করছেন।

স্থানীয়দের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিটি ইউনিয়ন ও বাজারে বিনামূল্যে ডাস্টবিন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকে তা ব্যবহার না করে ডাস্টবিনের আশপাশেই ময়লা ফেলেছেন।

‘আমরা বিডি ক্লিনকে এখানে নিয়ে এসেছি, কারণ আমাদের জনগণকে আরও একটু সচেতন করতে হবে। তারা যখন দেখবে তাদের এলাকার ময়লা বাইরের মানুষ এসে পরিষ্কার করে দিয়ে যাচ্ছে, তখন হয়তো তাদের মনে একটা ডাক আসবে—এখন থেকে আমরা আর আমাদের এলাকাকে ময়লা করে রাখব না,’ বলেন তিনি।

রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে হুমাম কাদের বলেন, খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে দুটি খালের খননকাজ সরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বান্দরবান ও কাপ্তাই অঞ্চলের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ থাকায় এ উপজেলায় পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে খাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

নিজের দায়িত্বকালের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে হুমাম কাদের বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের কিছু ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ৩১ দফার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের মাত্র ছয় মাসের কার্যক্রম দিয়ে সাফল্য-ব্যর্থতা বিচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছয় মাস অনেক কম সময়। ছয় মাসের মধ্যে একটা সরকারের সাকসেস অথবা ফেইলিয়র বুঝতে পারবেন না। একটু সময় দেন আমাদের। ইনশাআল্লাহ কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখাব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কী করতে পারে।’

বিডি ক্লিনের এক প্রতিনিধি জানান, সংগঠনটি ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে দেশের ৫৭টি জেলা ও ১৬৫টি উপজেলায় তাদের টিম রয়েছে।

তিনি জানান, হুমাম কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণীর সঙ্গে যোগাযোগের পর রাঙ্গুনিয়ায় এ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমে একটি টিম এসে এলাকা পরিদর্শন করে। পরে সাড়ে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে কুলকুরমাই খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ থেকে ছয়টি জেলা থেকে স্বেচ্ছাসেবকেরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। দিনব্যাপী খাল পরিষ্কারের কাজ চলবে এবং এর মাধ্যমে খালের পানির প্রবাহমান স্রোত দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিডি ক্লিনের প্রতিনিধি।

রাঙ্গুনিয়ায় ইটভাটায় আগাম সতর্কতা, মালিকদের নোটিশ পরিবেশ অধিদপ্তরের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বিশেষ করে সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট ইটভাটায় আগুন না দেওয়া এবং জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল (উপরিভাগের মাটি) ব্যবহার না করার বিষয়ে ভাটা মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের নির্দেশে রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরেজমিনে গিয়ে মালিকদের হাতে সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদান করেন।

এ সময় ইটভাটার মালিকদের অবৈধভাবে ভাটায় আগুন না দেওয়া, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং কৃষিজমির টপসয়েল সংগ্রহ ও ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষা ও ইটভাটার আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহা আর নেই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহা আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা এই নারী বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান রাষ্ট্রের পক্ষে তাঁকে সম্মাননা জানান। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। রাঙ্গুনিয়ার নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুলেখা রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুলেখা রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছেন। তিনি হোসনাবাদ দুর্গাবাড়ীর গীতা শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গীতা শিক্ষার মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বুধবার রাতে তাঁর পরলোকগমনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, স্থানীয় বাসিন্দা, সহযোদ্ধা ও গীতা শিক্ষার্থীরা তাঁর বাড়িতে ছুটে আসেন। শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে আসা মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। এ সময় অনেকে তাঁর কর্মময় জীবন ও স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সুলেখা রানী সাহার মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর অবদান ও কর্মময় জীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছে একাধিক দোকান, অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি দাবি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক দোকান ও একটি দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রানীরহাট বাজারের বগাবিলি রোড সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও গিফট আইটেম বিক্রি করা হতো। ইয়াছিন আরাফাতের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রফিক স্টোরের স্বত্বাধিকারী রফিক জানান, অগ্নিকাণ্ডে কাপড়, ক্রোকারিজ, লেপ-তোশক ও মুদি দোকানসহ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি একজন দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১১টি দোকানের ৯ জন মালিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

রফিক বলেন, আগুনে তার নিজের দোকানের প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার থেকেও কোনো মালামাল বের করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সব ব্যবসায়ীর ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করলে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন—রফিক, রাশেদ, শফি, জাকের, ইয়াছিন আরাফাত, একরাম, মহিউদ্দিন, নান্টু ডাক্তারসহ আরও একজন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পরে ফিরে আসে বলে জানিয়েছেন স্টেশন লিডার মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান। তিনি জানান, পাশের রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসার খবর পাওয়ার পর তারা ফিরে যান।

কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ আরমান উদ্দিন জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকানে আগুন দেখতে পান এবং ওই তিনটি দোকানের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, ওই তিনটি দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ৩০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে শুধু ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকান নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি দোকান ও একটি দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে দাবি তাদের।

বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসেবায় পার্কভিউ হসপিটালের সঙ্গে সমঝোতা

চট্টগ্রাম: বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জন্য উন্নত, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড ও বিএসআরএমের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের বোর্ডরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে বিএসআরএমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেট সার্ভিস প্রধান মো. ইসমাঈল, এডমিন ম্যানেজার মো. নুরুউদ্দিন তালুকদার এবং এক্সিকিউটিভ রাজিব দাশসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ, ম্যানেজার (মার্কেটিং ও ব্র্যান্ড) মো. জাহেদুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নিজাম উদ্দীন, এক্সিকিউটিভ মশিউর রহমান শরীফ এবং কর্পোরেট অফিসার হেলাল পারভেজসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড ও বিএসআরএমের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। এর ফলে বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা বিশেষ সুবিধায় পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের আধুনিক, বিশেষায়িত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

লোহাগাড়া-সাতকানিয়ায় অবৈধ ইটভাটায় আগাম সতর্কতা, মালিকদের নোটিশ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটায় আগুন না দেওয়া, জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার না করা এবং পাহাড়-টিলার মাটি কাটা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ভাটা মালিকদের সতর্ক করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল ও পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে বিশেষ করে সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট অবৈধ ইটভাটায় যেন আগুন দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে ভাটা মালিকদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ব্যবহার এবং পাহাড় বা টিলার মাটি কাটা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ইটভাটার মালিককে নোটিশ প্রদান করা হয় এবং সরকারের নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য সতর্ক করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটা ও পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় স্টক রেজিস্টার ও ট্রেড লাইসেন্সে অনিয়ম: তিন চালকলকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট এলাকায় তিনটি চালকলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুদ, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় তিনজন অভিযুক্তকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে কাউকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি।

অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাঙ্গুনিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতু বলেন, তিনটি চালকলে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে। মজুদ ও বিক্রির সঠিক তথ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় স্টক রেজিস্টার রাখা হয়নি। এছাড়া কয়েকটি চালকলের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এসব অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়ায় ইয়াবা ও চোলাই মদসহ চারজন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক অভিযানে ১০ পিস ইয়াবা, ১০০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ ও মদ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের জঙ্গল পারুয়া এলাকা থেকে মো. জুয়েল রানা (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, হোছনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. আবছার উদ্দীন (২৮), টিপু সরদার (২৬) ও হৃদয় দাশকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দখল থেকে ১০০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ এবং মদ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাউজানে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইউপি সদস্য নিহত

রাউজান (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাউজানে রাস্তা পার হওয়ার সময় ইটবোঝাই একটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নুরুল ইসলাম টিটু (৫৫) নামে এক ইউপি সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের স্বজনেরা চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের জলিলনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নুরুল ইসলাম টিটু উপজেলার বিনাজুরী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি ইউনিয়নের উত্তর লেলেঙ্গারা এলাকার আনজু মিয়া সারাংয়ের ছেলে। পেশায় তিনি একটি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে নুরুল ইসলাম টিটু পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম নগরমুখী ইটবোঝাই একটি ট্রাক (চট্টমেট্রো-ট ১১-০০৩৭) তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ট্রাকটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

নিহতের ছেলে মো. সামির অভিযোগ করেন, বেপরোয়া ও অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাকের কারণে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. বেলায়েত হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি জব্দ করেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন।

তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।