‘ত্যাগীরা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি’ — এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ত্যাগীরা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ঢেমিরছড়া ফলাহাজীর বাড়ি প্রাঙ্গণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজ এখানে যারা উপস্থিত আছেন, তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য। কিছু কড়া কথা বলব, মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। আমরা যখন কোনো কর্মসূচি করি, তখন মঞ্চে কে উঠবে, কে বসবে, কার আগে কে বক্তব্য রাখবে—এসব নিয়ে অনেক সময় ধাক্কাধাক্কি ও প্রতিযোগিতা দেখা যায়। নেতার পাশে বা পেছনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়, যা মোটেও ভালো বিষয় নয়।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকের ধারণা হয়ে গেছে, নেতার সঙ্গে ছবি তুলতে পারলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে বড় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।”
মঞ্চে উপস্থিত দুই নেতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমার পাশে বসা এই দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে এসেছেন। একজন ২০০৮–০৯ সালে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, অন্যজন বর্তমানে রাঙ্গুনিয়া জাতীয়তাবাদী দলের আহ্বায়ক। তারা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি। বহু কষ্ট করেছেন, জেল খেটেছেন, মামলার শিকার হয়েছেন, হামলার শিকার হয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাঠে থেকে দলকে ধরে রেখেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ত্যাগ ও পরিশ্রমের পর যখন কেউ নেতৃত্বের পর্যায়ে আসেন, তখন তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। মঞ্চে কাকে আগে ডাকা হবে, কে কখন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন—এসবও সম্মানের অংশ। ছোট ছোট ভুল থেকে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তবে এসব বিষয়ে সচেতনতা ও সংশোধনের মাধ্যমেই দলের সাংগঠনিক সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।”
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলে কারা যুক্ত হবে এবং কীভাবে ভালো মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়—সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর যারা দলের সঙ্গে ছিলেন না, তারাও এখন বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবির জন্য চেষ্টা করছেন। তবে মানুষ চেনার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাত দুইটা, তিনটা কিংবা চারটার সময়ও অনেকেই আমাকে ভিডিও পাঠান। নদীতে ড্রেজার চলছে। এসব ড্রেজার বন্ধ করা এবং আটকানোর দায়িত্ব আপনাদেরও। আপনারা যদি সেগুলো আটকাতে পারেন, তাহলে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের দায়িত্ব আমাদের।”
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, আমাকে নির্বাচিত করলে আপনারা টেনশনমুক্ত ঘুমাতে পারবেন। এলাকার সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে। সেই কাজ শুরু হয়েছে, তবে এখনো শেষ হয়নি।” এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তবে যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী, তারা সবাই একটি পরিবারের সদস্য। ঐক্যবদ্ধ থেকেই রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেতাগী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. খালেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সংগঠক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. ইসহাক। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আজম খান, সাবেক আহ্বায়ক লায়ন শওকত আলী নূর, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. হারুন।
সভা সঞ্চালনা করেন বিএনপি নেতা আহমদ বশর, নুরুল আলম, নিজামুল হক চৌধুরী তপন, সোলেমান কালু, মো. ইলিয়াসসহ স্থানীয় নেতারা।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
