রোয়াজারহাটে ওজনে কারচুপি, ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রোয়াজারহাট বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ওজন ও পরিমাপে কারচুপির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাজারে পণ্যের সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইনে একটি মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফটিকছড়িতে সকালে নিখোঁজ, রাতে প্রতিবেশীর ঘরে মিলল ৩ বছরের শিশুর মরদেহ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর হালিমা আক্তার নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামের প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের বসতঘরের একটি আলনার নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই প্রতিবেশী আবদুল আউয়াল, তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম ও ছেলে রবিউলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত হালিমা স্থানীয় নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তার দম্পতির মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে হালিমা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে শিশুটির নিখোঁজের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুটির পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানায়।

খবর পেয়ে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের বসতঘরের একটি আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই পরিবারের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

শিশুটির মা রাশেদা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মেয়েকে হত্যা করে ঘরের আলনার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তাঁর দাবি, নির্যাতনের কারণে শিশুটির শরীর কালচে হয়ে গেছে।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবেশীর ঘরের আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ওই ঘরের গৃহকর্তাসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফটিকছড়িতে পাহাড়ের পাদদেশে পরিত্যক্ত ২টি একনলা বন্দুক উদ্ধার

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের শোভনছড়ি এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুজপুর থানা পুলিশ এসব বন্দুক উদ্ধার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে ওই এলাকায় দুটি বন্দুক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ভুজপুর থানাধীন উদালিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) জ্যোতিষ চন্দ্র দেব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পাহাড়ের পাদদেশে একটি খড়ের গাদার পাশে ফেলে রাখা অবস্থায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মালিকানাবিহীন দুটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বন্দুক দুটি জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাল্যবিবাহ নয়, নিশ্চিত হোক মেয়েদের সুন্দর ভবিষ্যৎ

সম্পাদকীয় মতামত:

বাল্যবিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা, যা একটি কিশোরীর শিক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশ, অধিকার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ সমস্যা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মেয়েদের নিরাপত্তা, শিক্ষার সুযোগ এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করাই হতে পারে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের কার্যকর পথ।

কোনো কিশোরীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে কিছু অভিভাবক অল্প বয়সে বিয়েকে সমাধান হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথে হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ কিংবা মেয়েদের চলাফেরা নিয়ে সামাজিক চাপ তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। কিন্তু বিয়ে কোনো কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় নয়। বরং অল্প বয়সে বিয়ে তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত করতে পারে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা সীমিত করে দিতে পারে।

মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথ নিরাপদ করা, হয়রানির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কোনো শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হলে তাকে দোষারোপ না করে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্মার্টফোনের ব্যবহার হোক দায়িত্বশীল

বর্তমান সময়ে শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ ও বিশ্ব সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে স্মার্টফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনলাইন ক্লাস, শিক্ষামূলক ভিডিও, বইপত্র এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। তাই স্মার্টফোনকে এককভাবে বাল্যবিবাহের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যথাযথ নয়।

তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পড়াশোনা এবং ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি সম্পর্কে অসচেতন থাকলেও কিশোর-কিশোরীরা সমস্যায় পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা।

স্মার্টফোনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া নয়, বরং বয়সোপযোগী ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রয়োজন। প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা জরুরি। এ কারণে স্মার্টফোন ব্যবহারের উদ্বেগকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার যুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

দারিদ্র্য ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি

বাল্যবিবাহের পেছনে দারিদ্র্য, শিক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মতো বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো কোনো পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তা কিংবা সামাজিক চাপের কারণে অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আবার ‘মেয়ে বড় হয়ে গেছে’, ‘ভালো বিয়ের প্রস্তাব এসেছে’ কিংবা ‘সমাজ কী বলবে’—এ ধরনের প্রচলিত ধারণাও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

এসব পরিস্থিতিতে পরিবারকে শুধু দোষারোপ না করে সমস্যার কারণগুলো বোঝা প্রয়োজন। মেয়েদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার সুযোগ সৃষ্টি, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের উদ্যোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব।

পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সহযোগিতায় নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

সমন্বিত উদ্যোগেই সম্ভব বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি চিহ্নিত করা, অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবারকে পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রচলিত আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে গড়ে তুলতে হবে।

একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ গঠনে তার শিক্ষা, অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। স্মার্টফোনের দায়িত্বশীল ব্যবহার, নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ, পারিবারিক সচেতনতা এবং শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার সমন্বিত উদ্যোগই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

একটি মেয়ের হাতে বিয়ের কার্ড নয়, বই তুলে দেওয়াই হোক আমাদের সামাজিক অঙ্গীকার।

লেখক: এম. মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার

সম্পাদক, রাঙ্গুনিয়া টুডে

পটিয়ায় লেগুনার ধাক্কায় প্রাণ গেল ৮ বছরের শিশুর, আহত ৩

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় মহাসড়ক পারাপারের সময় যাত্রীবাহী লেগুনার ধাক্কায় তাসপিয়া (৮) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় লেগুনাটি উল্টে গিয়ে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার গৈড়লারটেক এলাকার একটি গ্যাস পাম্পের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তাসপিয়া বাঁশখালী উপজেলার আবু হানিফের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরী থেকে পটিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী লেগুনা সকাল ১০টার দিকে গৈড়লারটেক এলাকায় পৌঁছালে মহাসড়ক পারাপারের সময় শিশু তাসপিয়াকে ধাক্কা দেয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে লেগুনাটি উল্টে যায়। ঘটনাস্থলে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। এ সময় লেগুনার আরও তিন যাত্রী আহত হন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন পটিয়ার কেলিশহর ইউনিয়নের আবদুল মান্নানের ছেলে মো. ইকবাল (৩০), পটিয়া সদরের মৃত মোজাহের মিয়ার ছেলে মো. হাবিব (৪৫) এবং আহমদ রহমানের ছেলে আজগর আলী (১৭)।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনজন।

স্থানীয়রা জানান, শিশু তাসপিয়ার বাবা আবু হানিফ পেশায় একজন দিনমজুর। চলতি মাসে তিনি গৈড়লারটেক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকছিলেন।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কৃষ্ণা সরকার সেতু দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশু তাসপিয়ার মৃত্যু হয়। বাকি তিনজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্য আবদুল বারেককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। একটি শিশু নিহত হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন না ধরায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার নির্মাণ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সারদা পুলিশ একাডেমির আদলে একটি পুলিশ একাডেমি এবং এর পাশেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ করা হবে। এ জন্য জমি চিহ্নিত ও অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলছে।

পুলিশের পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে এ কাজ হচ্ছে। সভায় ওই কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বিভিন্ন মৌজায় সরকারি জমি রয়েছে। এসব জমি পাহাড় শ্রেণির হোক বা খাসজমি—সবকিছু সুশাসনের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের জন্য জঙ্গল সলিমপুরে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ বসতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে সেখানে যারা অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও পরিচালনার আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু সুশাসনের আওতায় এনে জায়গাটিকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। একই সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরকে আগে যে ‘সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হতো, সেখান থেকে এলাকাটিকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে মাদক কারবার ও মানবপাচারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে। এ কারণে রঙ্গিখালী ও নোয়াখালী পাড়ায় দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থান সিসিটিভির আওতায় আনা হবে।

স্কুল মাঠের পাশে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের দায়ে একজনের ৩০ দিনের কারাদণ্ড

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় স্কুল মাঠের পাশে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের দায়ে জামাল উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম পাশে জঙ্গলে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানুর রহমান।

দণ্ডপ্রাপ্ত জামাল উদ্দিন কিশোরগঞ্জ জেলার মোরল্লা গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে। তিনি নিজেকে পেশায় ভিক্ষুক বলে দাবি করেছেন। বর্তমানে তিনি চন্দনাইশ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবাব মিয়ার বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম পাশে জঙ্গলে বসে জামালসহ কয়েকজন নিয়মিত গাঁজা সেবন করতেন। তাদের বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী ভবনের নারীদের উত্ত্যক্ত করা ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা জামাল উদ্দিনকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানুর রহমান এবং পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

পরে জবানবন্দি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় জামাল উদ্দিনকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব নাছির উদ্দীন বলেন, মাঠের পশ্চিম পাশে জঙ্গলে বসে কয়েকজন প্রায়ই গাঁজা সেবন করে আসছিলেন। গাঁজা সেবনের পাশাপাশি মাঠের চারপাশে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতও রয়েছে। এসব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জনস্বার্থে ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারায় জামাল উদ্দিনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দুর্গাপূজা ঘিরে রাঙ্গুনিয়ায় প্রস্তুতি, ১৯৭ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় গুরুত্ব

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সেফায়েত হোসেন, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী, পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙ্গুনিয়ার সভাপতি অজয় কুমার চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক লিটন দে, উপজেলা যুবদল নেতা সেকান্দর হোসেন, এস এম লোকমান, গাজী মো. জসিম, জামাল উদ্দিন, মো. মহসিন প্রমুখ।

সভায় উপজেলার ১৯৭টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, গুজব প্রতিরোধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

শিশুদের নিরাপদ সড়কের পাঠ দিচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাফিক পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট: ‘নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন—সচেতনতায় এগিয়ে আসুক আগামীর প্রজন্ম’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিশুদের নিরাপদ সড়ক চলাচল, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএমের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় হাটহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধুরং খুলশী লায়নস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক), টিআই (প্রশাসন), হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি জোনে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রাস্তা পারাপারের সঠিক নিয়ম, ফুটপাত ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারসহ সড়কে চলাচলের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চলাচলের বিভিন্ন নিয়ম তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। নিজেরা ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি পরিবার ও আশপাশের মানুষকেও সচেতন করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয়।

সড়ক নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হওয়া, শিক্ষক ও বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন ব্যবহার এড়িয়ে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সময় দেওয়ার বিষয়েও তাদের উৎসাহিত করা হয়।

ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যায়। শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও পুলিশের এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদারে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পটিয়ায় গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তিন গরু চুরি, নিঃস্ব পরিবার

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় তিনটি গরু চুরির ঘটনায় একটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া তিনটি গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন মালিক বিটু দে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ধলঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলমপুর যোগেশ ডাক্তার বাড়ির বাসিন্দা বিটু দে বুধবার রাতে বসতঘরের পাশে গোয়ালঘরে তিনটি গরু রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরের কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, গোয়ালঘরের তালা ভাঙা এবং ভেতরে কোনো গরু নেই।

বিটু দে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার জন্য একটা গরুও রাখল না। তিনটা গরুই চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। গরু লালন-পালন করে সংসার চালাই। আমার গরুগুলো ফেরত চাই।’

তিনি বলেন, ‘চোরেরা আমার তিনটি গরু নিয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি কালো রঙের বাছুর, একটি লাল রঙের পাঁচ মাস বয়সী গাভী এবং একটি কালো রঙের দুধেল গাভী রয়েছে। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা।’

স্থানীয় বাসিন্দা রিনা দে বলেন, ‘চার দিন আগেও পাশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এখন গরু চুরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কীভাবে নিরাপদে থাকব, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা অরুণ দে বলেন, ‘গরু চুরির ঘটনায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। অসহায় বিটু দের চুরি যাওয়া গরুগুলো দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘এখনো এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে গরু চুরির খবর পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাঙ্গুনিয়ায় ৮৩ লাখ টাকার অবৈধ সিগারেটসহ ডাম্পার আটক, গ্রেপ্তার ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অভিযান চালিয়ে ১৮ হাজার ৮৯০ প্যাকেট অবৈধ সিগারেটসহ একটি ডাম্পার ট্রাক আটক করেছে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)। এ সময় তৌহিদুল ইসলাম (২১) ও সাহেদুর ইসলাম নয়ন (২২) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা সিগারেটের আনুমানিক মূল্য ৮৩ লাখ ৩ হাজার ৪০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ইকো পার্ক এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদীর দিকনির্দেশনায় নায়েব সুবেদার মো. আহসান হাবিবের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় সড়কের ওপর একটি ডাম্পার ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ১৭ হাজার ৯০ প্যাকেট প্যাট্রন (Patron) এবং ১ হাজার ৮০০ প্যাকেট অরিস (Oris) সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

পরে ডাম্পার ট্রাকটি জব্দ করা হয় এবং ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক তৌহিদুল ইসলাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এবং সাহেদুর ইসলাম নয়ন শিলক গ্রামের বাসিন্দা।

বিজিবি জানিয়েছে, সিগারেটগুলো সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কাপ্তাই লেক হয়ে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক দিয়ে পাচার করা হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব সিগারেট আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের, উদ্ধার করা সিগারেট ও ডাম্পার ট্রাকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাদের রাঙ্গুনিয়া থানায় হস্তান্তরের পক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)।

কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত আভিযানিক টহলের মাধ্যমে চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তারা থানায় এসেছেন। আমাদের কাছে হস্তান্তর করছেন। পুরো বিষয়টি বুঝে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো যাবে।’

কক্সবাজারে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে এসে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সীমা আক্তার কুমিল্লার দেবিদ্বার এলাকার ফাতেমা তুজ জোহরা মহিলা মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

সৈকতে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসনের কর্মী মাহবুব আলম জানান, ইজিবাইকে করে চলাচলের সময় হঠাৎ সীমা আক্তারের ওড়না গাড়ির চাকায় পেঁচিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নিহতের মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

রাঙ্গুনিয়ায় হালদা রক্ষায় অংশীজনদের উদ্বুদ্ধকরণ সেমিনার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অংশীজনদের (Stakeholder) উদ্বুদ্ধকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে ‘হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’-এর আওতায় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজাত কুমার চৌধুরী। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে এহসান শামীম ও উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম।

সেমিনারে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সুফলভোগীরাও অংশ নেন।

সেমিনারে মৎস্যজীবীদের প্রতিনিধি গৌরপদ সরকার ঘোষিত মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে কার্ডধারী মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরতে না পারায় মৎস্যজীবীদের আয়-রোজগার বন্ধ থাকে। এ সময়ে তাঁদের জীবন-জীবিকা সচল রাখতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

সভায় হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ, নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, হালদা নদীর প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় প্রশাসন, মৎস্যজীবী, স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইলা বড়ুয়া: অবসরেও থামেনি পাঠদান

এস এম আক্কাছ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম):

অবসর নিয়েছেন ছয় বছর আগে। কিন্তু থামেনি তাঁর পাঠদান। বয়সের ভার শরীরে, হাতে এখনো চক-ডাস্টার। প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে এসে দাঁড়ান শ্রেণিকক্ষে। সামনে থাকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা। আর শুরু হয় পাঠদান। তিনি ইলা বড়ুয়া—শিক্ষকতা যাঁর কাছে শুধু চাকরি নয়, আজীবনের দায়িত্ব ও ভালোবাসার জায়গা।

আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকতার মহান দায়িত্ব ও শিক্ষকদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই দিনে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন ফটিকছড়ির শিক্ষক ইলা বড়ুয়া। ২০১৯ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি প্রতিদিন ছুটে যান হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নেন তিন থেকে চারটি ক্লাস।

নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হিসাববিজ্ঞান পড়ান তিনি। প্রয়োজন হলে অষ্টম শ্রেণির বাংলা ক্লাসও নেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা এখনো বিলিয়ে দিচ্ছেন নতুন প্রজন্মের মাঝে।

ইলা বড়ুয়ার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নের শুরু ছোটবেলায়। চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় সন্তান তিনি। তাঁর বাবা ভূপেন্দ্র লাল বড়ুয়া ছিলেন সিলেটের একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। বাবাকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াতে দেখে ছোটবেলাতেই তাঁর মনে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন জাগে। সেই স্বপ্ন নিয়েই শুরু হয় তাঁর পথচলা।

১৯৮১ সালে হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ইলা বড়ুয়া। পরের বছর স্বামীর চাকরির সুবাদে ঢাকায় চলে যান। সেখানে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত খিলগাঁও গভর্নমেন্ট কলোনি স্কুলে এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত মাদারটেক বাসাবো বাগানবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

১৯৮৮ সালে আবার ফিরে আসেন হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর কেটে যায় কয়েক দশক। দীর্ঘ এই সময়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। হিসাববিজ্ঞান ছিল তাঁর মূল বিষয়।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ার শিক্ষাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অনেক শিক্ষার্থী আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষার্থীদের প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে বিদ্যালয়ের পরিবেশও; কিন্তু শ্রেণিকক্ষের প্রতি ইলা বড়ুয়ার ভালোবাসা বদলায়নি।

অবসরের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাঁকে পুরোপুরি বিদায় দিতে চায়নি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নতুন প্রজন্মের কাজে লাগুক—এমন প্রত্যাশা থেকেই ২০১৯ সাল থেকে অতিথি শিক্ষক হিসেবে আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরেছেন তিনি।

প্রতিদিন তিন-চারটি ক্লাস নেওয়া এখন তাঁর নিয়মিত রুটিন। কখনো হিসাববিজ্ঞানের জটিল অঙ্ক বোঝান, কখনো বাংলা পড়ান। শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন ধৈর্য নিয়ে। বয়সের ছাপ শরীরে থাকলেও পাঠদানের সময় তাঁর কণ্ঠে কিংবা চোখে ক্লান্তির ছাপ দেখা যায় না।

ইলা বড়ুয়া বলেন, ‘যে স্বপ্নের শুরু হয়েছিল বাবাকে দেখে, সেই স্বপ্নের পথচলা এখনো থামেনি। থামাতে চাই না। প্রতিদিন তিন-চারটি ক্লাস, শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্ন আর পাঠদানের ব্যস্ততা—এসবের মধ্যেই যেন আমি নিজের আনন্দ খুঁজে পাই।’

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে অনেকেই যখন বিশ্রামের জীবন বেছে নেন, তখনো ইলা বড়ুয়া ফিরে আসেন শ্রেণিকক্ষে। হাতে চক, সামনে শিক্ষার্থী আর সঙ্গে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাঁর এই পথচলা যেন মনে করিয়ে দেয়—শিক্ষকতার কোনো অবসর নেই; জ্ঞান ও আলোর পথ দেখানোর দায়িত্ব আজীবনের।

আবৃত্তিতে চট্টগ্রাম জেলায় প্রথম সাংবাদিককন্যা নাজাত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার আবৃত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়েছে রাঙ্গুনিয়ার শিশু আবৃত্তিশিল্পী নাজাত হোসাইন মেহরিন। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ‘ক’ বিভাগে অংশ নিয়ে এ সাফল্য অর্জন করে সে।

নাজাতের সাবলীল উচ্চারণ, কণ্ঠের দৃঢ়তা এবং কবিতার ভাব ও ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আবৃত্তি বিচারকদের নজর কাড়ে। জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়ে এবার বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে সে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাজাতের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

নাজাতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই কবিতা আবৃত্তির প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত আবৃত্তির চর্চা করে সে। জেলা পর্যায়ে প্রথম হওয়ার পর বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা নিয়ে তার মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা জানান, বিভাগীয় পর্যায়ের মঞ্চেও নাজাত নজরুলের কবিতার সৌন্দর্য ও মানবতার চেতনা তুলে ধরতে চায়। এ জন্য তাঁরা সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন।

নাজাতের এই সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, মেধা ও অনুশীলনের ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করবে নাজাত।

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নাজাত হোসাইন মেহরিন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি আব্বাস হোসাইন আফতাবের ছোট মেয়ে।

খুরুশিয়া দ্বারিকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন মাহবুব আলম

রাঙ্গুনিয়া : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার খুরুশিয়া দ্বারিকোপ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মাহবুব আলম।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে বিদ্যালয়টির এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) জারি করা আদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পরিপত্র এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধান ৬৪ অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠন করা হয়।

অনুমোদিত কমিটিতে মো. মাহবুব আলমকে সভাপতি, মোহাম্মদ আলী নাঈমীকে শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য, মো. কামাল উদ্দীনকে অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত সভাপতি মো. মাহবুব আলম বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও সুন্দর ও মানসম্মত করতে সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

উল্লেখ্য, বোর্ডের অনুমোদন অনুযায়ী নবগঠিত এডহক কমিটি আগামী ছয় মাস বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু

ডেস্ক : চট্টগ্রাম মহানগরে ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে আল আমিন সরদার নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) জানায়, রোববার (৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মহানগরের ইস্পাহানি চেকপোস্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন কনস্টেবল আল আমিন সরদার। এ সময় এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করার সময় একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

আল আমিন সরদার সিএমপি পুলিশ লাইন্সের এসএএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। সিএমপির তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে তিনি সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন।

নিহত আল আমিন সরদারের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং এক সন্তানের জনক।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পটিয়ায় দিনে দুপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ চুরি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় দিনে দুপুরে ধলঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির একটি কক্ষের দরজা ভেঙে তিনটি সিলিং ফ্যান চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ২-৩ জনের একটি দল কলেজের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা তিনটি সিলিং ফ্যান খুলে নিয়ে যায়। এ সময় নৈশপ্রহরী সুভাষ নাথ বিষয়টি দেখতে পেলে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নৈশপ্রহরী সুভাষ নাথ জানান, সিলিং ফ্যান চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আসিফ নামের এক কিশোরকে দেখতে পান। পরে চোরেরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি তিনি কলেজের অধ্যক্ষকে জানান।

কলেজের অধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধলঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এর আগেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক ঘটনায় কলেজ প্রশাসন উদ্বিগ্ন।’

পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) যুযুৎম যশ চাকমা বলেন, ‘বিষয়টি মৌখিকভাবে জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

ধলঘাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কুর বলেন, ‘এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ বেড়ে গেছে। এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে পটিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আইপিইউ সম্মেলনে অংশ নিতে তানজানিয়ার পথে স্পিকার

ডেস্ক রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর ১৫৩তম সম্মেলনে যোগ দিতে তানজানিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তানজানিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

আগামী ৫ থেকে ৯ অক্টোবর তানজানিয়ার আরুসায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউ সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে অংশ নেবেন স্পিকার। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য—‘অন্তর্ভুক্তি, আস্থা এবং সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন উন্নয়ন এবং সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন’।

সম্মেলনের শেষ দিন ৯ অক্টোবর আইপিইউর গভর্নিং কাউন্সিল নতুন সভাপতি নির্বাচন করবে।

স্পিকারের সফরসঙ্গী হয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এস. কে. আজিজুল বারী, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন ও রোকেয়া বেগম।

আইপিইউ সম্মেলন শেষে আগামী ১১ অক্টোবর স্পিকার দেশে ফিরবেন।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মতবিনিময়

চট্টগ্রাম : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে আয়োজিত সভায় জেলার ১৭টি থানার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও জেলা পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএমের সভাপতিত্বে সভায় জেলা কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, চট্টগ্রাম মো. সেফাউল হোসেন, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, ভক্তদের নির্বিঘ্ন চলাচল, নারী ও শিশুদের বিশেষ নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয়ের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানানো হয়। কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার বা শেয়ার না করার পাশাপাশি কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য নজরে এলে তা দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়। একই সঙ্গে গুজব বা উসকানির মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

নারী ভক্তদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত শনাক্ত ও সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে বিভিন্ন ধর্ম, শ্রেণি-পেশা ও সামাজিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শব্দমাত্রা ও সময়সীমা মেনে চলা এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদে আজান ও নামাজের সময় বিশেষ সতর্কতা ও সংবেদনশীলতা অবলম্বনের জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করা হয়।

যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি বা ছোটখাটো বিরোধ যেন বড় ঘটনায় রূপ না নেয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আইন নিজের হাতে না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার জন্যও বলা হয়।

সভায় জেলার বিভিন্ন থানা থেকে আসা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, সম্ভাব্য সমস্যা, স্থানীয় পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। জেলা পুলিশ তাদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তি, সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজারী, ভক্তবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবকসহ সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

বর্ণিল আয়োজনে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির আত্মপ্রকাশ

চট্টগ্রাম : ‘ক্রীড়াই মানসিকতা এবং শারীরিক বিকাশের অন্যতম নিয়ামক’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমি। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে দক্ষ ও প্রতিভাবান ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্প্রতি বর্ণিল আয়োজনে একাডেমিটির উদ্বোধন করা হয়।

কিষোয়ান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ওয়াহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম শহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জাতি গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ও প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনতে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

অনুষ্ঠানে বনফুল-কিষোয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম একাডেমির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি বলেন, “তরুণদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে খেলাধুলার পরিধি বাড়াতে হবে। বনফুল-কিষোয়ান পরিবার সবসময় ক্রীড়াবান্ধব কার্যক্রমের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম লেদু ও সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম. ওয়াহিদ দুলাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিজেকেএস কাউন্সিলর কাজী জসিম উদ্দিন, বনফুল কোম্পানির জিএম আমান উল আলম, বনফুল লিমিটেডের জিএম শাহ কামাল মুস্তফা, বনফুল লিমিটেডের (মার্কেটিং) জিএম কামাল হোসেন, বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির ডিজিএম আরিফুর রহমানসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সঠিক দিকনির্দেশনা ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে এই একাডেমি থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার উঠে আসবে। তারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশের সুনাম বয়ে আনবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং এর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ফটিকছড়িতে ডেঙ্গুতে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাইফুল ইসলাম (২৫) নামে এক পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগানবাজার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. জসিম উদ্দিন।

নিহত সাইফুল ইসলাম উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নের হলুদিয়া এলাকার আসমত আলী মোল্লা বাড়ির পল্লী চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হেয়াকো বাজারে পল্লী চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি বিয়ে করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে জ্বরসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন সাইফুল। তিন দিন আগে পরীক্ষায় তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার বিকেলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তরুণ পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলামের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৯ জন জনবল পদায়নের সিদ্ধান্ত

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রয়োজন অনুযায়ী ৯ জন জনবল পদায়ন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসেছি। হাসপাতালের নানা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৯ জন জনবল পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি মডেল হাসপাতালে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশের যেসব হাসপাতাল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট রয়েছে, সেগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে উন্নতমানের প্যাথলজি সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের জন্য ২০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য ১০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী দুই বছরের মধ্যে পটিয়া হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে প্রতিদিন ২০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সেবা নিতে পারবেন বলে জানান মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ এবং ভর্তি রোগীদের খাবারের মান সম্পর্কে খোঁজ নেন। ভর্তি রোগীদের রক্ত পরীক্ষা হাসপাতাল থেকেই করার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংকট ও সীমাবদ্ধতার বিষয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে গাইনি, সার্জারি, চক্ষু ও অ্যানেস্থেসিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগে ৯ জন জনবল পদায়নের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে রেডিওগ্রাফার, ল্যাব টেকনিশিয়ান, মিডওয়াইফ ও বাবুর্চি পদও রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পটিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নেন এবং ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি হন।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপজেলার পাচুরিয়াস্থ একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় দিনমজুরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা আত্মহত্যা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মোহাম্মদ আবু তৈয়ব নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুরের গলাচিপা এলাকায় একটি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে বাড়ির পাশের একটি বাগানে গাছের সঙ্গে আবু তৈয়বকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। আবু তৈয়ব দিনমজুরের কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাহীদুল বিশ্বাস জানান, বাড়ির পাশের একটি বাগানে আবু তৈয়বের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি কয়েকদিন ধরে স্ত্রীর কাছে ঋণ নেওয়ার কথা বলছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে অভিমান থেকে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এসআই সাহীদুল বিশ্বাস বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

‘সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’: লালানগরে বিএনপি নেতারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ অভিযোগ তুলে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে লালানগর ইউনিয়ন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলটি আলমশাহপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে মরিয়মনগর-গাবতল ডিসি সড়ক প্রদক্ষিণ করে লালানগর চতজ্যাপাড়া রাস্তার মাথা হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এমএইচ সুমন। ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস কাঞ্চনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলী মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুনাফ, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হারুনুর রশিদ মাসুম, মিজানুর রহমান মিজান ও মো. ইদ্রিস।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. ফারুক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হাসান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. খোকন, সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ বিরুদ্ধে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় রাজপথে থাকার ঘোষণাও দেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বিশ্ব হার্ট দিবসে পার্কভিউ হাসপাতালে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি

চট্টগ্রাম : বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা তৈরি এবং জরুরি সময়ে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘Don’t Miss A Beat’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কর্মসূচির প্রথম দিন ২৯ সেপ্টেম্বর পার্কভিউ হসপিটাল প্রাঙ্গণে বেলুন ওড়ানো ও কেক কাটার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি মির্জাপুল এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ৩০ সেপ্টেম্বর পার্কভিউ হসপিটালের ১২ তলা কনফারেন্স হলে ‘Scientific Seminar on World Heart Day & Celebrating 500 Primary PCIs in Parkview Cathlab’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে হৃদরোগের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, প্রাইমারি পিসিআই (PCI) এবং অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (AMI) ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের প্রধান ডা. তানজিলা তাবিব চৌধুরীর সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সেমিনারের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ডা. হাফেজ মো. মুজিবুল হক।

বৈজ্ঞানিক সেমিনারে ‘Don’t Miss A Beat’ বিষয়ে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আ ই ম ন জাহাঙ্গীর সেলিম। তিনি হৃদরোগের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত লক্ষণ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং রোগীর জীবন রক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

‘Primary PCI in Parkview Cathlab’ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইকবাল মাহমুদ। তিনি প্রাইমারি পিসিআইয়ের মাধ্যমে জরুরি হৃদরোগ চিকিৎসার বিভিন্ন দিক এবং সময়োপযোগী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারের প্রধান অতিথি কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল পিএলসির সিনিয়র কনসালট্যান্ট, কার্ডিওলজি ডা. কায়সার নাসরুল্লাহ খান ‘Management of AMI – Bangladesh Perspective’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (AMI) ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. শেখ মো. হাসান মামুন, ডা. নুর উদ্দিন তারেক ও ডা. আনিসুল আওয়াল।

সেমিনারে পার্কভিউ ক্যাথল্যাবে ৫০০টি প্রাইমারি পিসিআই সম্পন্নের মাইলফলক উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদান ও অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. এম. এম. আলম সাদী বলেন, “হৃদরোগের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং দ্রুততম সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ চিকিৎসক দলের সমন্বয়ে পার্কভিউ হাসপাতাল হৃদরোগীদের মানসম্মত ও সময়োপযোগী চিকিৎসাসেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে।”

সভাপতির বক্তব্যে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. টি. এম. রেজাউল করিম বলেন, “পার্কভিউ ক্যাথল্যাবে ৫০০টি প্রাইমারি পিসিআই সম্পন্ন হওয়া আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতেও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং চট্টগ্রামের মানুষের জন্য উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”

পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হৃদরোগের ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এ ধরনের কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে হৃদরোগ চিকিৎসার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচির সার্বিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পার্কভিউ হাসপাতালের মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন মার্কেটিং টিম।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় একটি পুলিশ ক্যাম্প এবং কর্ণফুলী নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বেতাগীতে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি জহির উদ্দিন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ, হুমাম কাদের চৌধুরী এমপির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মুহিবুল কবির তমাল, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য শওকত আলী নূর, ইউসুফ চৌধুরী, হেলাল উদ্দিন শাহ, মাঈন উদ্দিন রোকন, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, কিশোর গ্যাং, বখাটেপনা, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও মাদক সেবন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারকেন্দ্রিক এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উত্তর রাঙ্গুনিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। ওই এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার করতে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানানো হয়। সভায় বলা হয়, দুর্গম ও বিস্তৃত এলাকার কারণে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় অনেক সময় দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

এদিকে কর্ণফুলী নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বেতাগীতে নদীপথে নজরদারি বাড়াতে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে হবে না। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক, কিশোর অপরাধ, বখাটেপনা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দুর্গম ফ্রেশবাজারে সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসা পেলেন তিন শতাধিক

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড়ি সম্প্রদায়ের গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ০৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দি বেবি টাইগার্স’ দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় উপজেলার দীঘিনালা ইউনিয়নের ফ্রেশবাজার এলাকায় দিনব্যাপী এ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধসহ প্রায় তিন শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এ সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শের পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়।

দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মুহাম্মদ শায়খউদ্দীন সাকলাইন। তিনি রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করেন।

এ সময় দীঘিনালা জোনের আওতায় ধাত্রীবিদ্যায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মেডিকেল টিমকে সহযোগিতা করেন।

চিকিৎসা কার্যক্রমে শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থীসহ পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আরএমও মুহাম্মদ শায়খউদ্দীন সাকলাইন বলেন, দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী অনেক মানুষ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষের কথা বিবেচনা করে জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় তিন শতাধিক মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীঘিনালা জোন শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ উদ্যোগের জন্য এলাকাবাসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা দীঘিনালা জোনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় বর্ধিত পৌর কর প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় হোল্ডিং ট্যাক্স (পৌর কর) বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন পৌর এলাকার বাসিন্দা ও বাড়ির মালিকেরা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‘ভুক্তভোগী পৌরসভার বাসিন্দা ও বাড়ির মালিকেরা, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বর্ধিত পৌর করের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন। এতে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একতিয়ার হোসেন, ইসলামী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ছাদেক এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ফারুকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, পৌর এলাকার বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর আগে নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁরা বর্ধিত পৌর কর পুনর্বিবেচনা করে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ভিপি আনছুর উদ্দিন বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত না করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বর্ধিত কর প্রত্যাহার বা পুনর্নির্ধারণ না করা হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বক্তারা আরও বলেন, পৌর কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা উচিত। তারা দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

দেশের কোডে অতিরিক্ত ‘৮’, ইউএনও পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক সতর্কবার্তায় ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, +88801789796160 নম্বর থেকে এক ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করে নিজেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অর্থ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

তিনি জানান, তাঁর অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর +8801789796160। প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নম্বরটি দেখতে অফিসিয়াল নম্বরের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিল রয়েছে। শুধু দেশের কোড +880-এর পর অতিরিক্ত একটি ‘৮’ যুক্ত করে +88801789796160 নম্বরটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে অনেকেই বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, “আমার পরিচয়ে কেউ ফোন করে অর্থ বা অন্য কোনো ধরনের সুবিধা দাবি করলে তা বিশ্বাস করবেন না। কোনো কল বা অনুরোধ সন্দেহজনক মনে হলে অবশ্যই বিষয়টি যাচাই করবেন।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সকলকে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের প্রতারণামূলক কল সম্পর্কে অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান।