ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেল ও চাঁদের গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় মোটরসাইকেল ও চাঁদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে শাকিল (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে নানুপুর-খিরাম সড়কের লম্বা টিলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিল খিরাম ইউনিয়নের মগকাটা এলাকার বাসিন্দা এবং আব্দুল কাদেরের ছেলে। আহত ব্যক্তি আলাউদ্দিন তালুকদার (৩৮), তার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শাকিল ও তার বন্ধু আলাউদ্দিন মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রাম শহর থেকে নিজ গ্রাম খিরামের মগকটা এলাকায় ফিরছিলেন। পথে লম্বা টিলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি চাঁদের গাড়ির সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আলাউদ্দিনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাকিস্তানে ট্রাক খালে পড়ে একই পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সারগোধা জেলার খুশাব শহরের কাছে দরবার পাঞ্জপির মানাওয়ান এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্র জানায়, যাত্রীবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে পড়ে যায়।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু এবং পাঁচজন নারী রয়েছেন। দুর্ঘটনায় সব নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছেন।

ট্রাকটি খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলা থেকে খুশাবের দিকে যাচ্ছিল। ঘন কুয়াশার কারণে চালক দৃষ্টিসীমা হারিয়ে ফেলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ট্রাকটি সড়ক থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়।

পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের খুশাব শাখার কর্মকর্তা হাফিজ আবদুল রশীদ জানান, রাত ১১টা ২২ মিনিটে তারা জরুরি কল পান। এরপর দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়।

আহত ৯ জনের মধ্যে দুজনকে খুশাবের টিএইচকিউ হাসপাতালে এবং সাতজনকে ডিএইচকিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতজনের অবস্থা গুরুতর।

আহতদের কাছ থেকে জানা গেছে, নিহত ও আহত সবাই শ্রমজীবী মানুষ। কাজের সন্ধানে তারা বান্নু থেকে খুশাব শহরের দিকে যাচ্ছিলেন।

এ দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

আজ পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ

ডেস্ক রিপোর্ট: আজ শুক্রবার পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই রাত রজব মাসের ২৬ তারিখে পালিত হয়। এ রাতে মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) আল্লাহর ইচ্ছায় ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করে সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

ইসলামের ইতিহাসে মেরাজের ঘটনা এক অনন্য অধ্যায়। এ রাতের মধ্য দিয়েই মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। মহানবী (সা.) এই রাতে দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায়ের বিধান মুসলমানদের জন্য নির্ধারণ করেন।

ইতিহাস অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-এর নবুওয়াতের দশম বছরে বা ৬২১ খ্রিষ্টাব্দে এক রাতে তিনি কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন। সেখানে নবীদের জামাতে ইমামতি করেন। কোরআনে বর্ণিত এই ঘটনাকে ‘ইসরা’ বলা হয়।

এরপর তিনি ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে ‘বুরাক’ নামের বিশেষ বাহনে ঊর্ধ্বাকাশে যান, যা ‘মেরাজ’ নামে পরিচিত। এই সফরে তিনি সিদরাতুল মুনতাহা, বেহেশতের নিদর্শন এবং ফেরেশতাদের ইবাদতখানা বায়তুল মামুর পরিদর্শন করেন। সর্বশেষ মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন।

পবিত্র এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত কামনায় মসজিদ, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, নফল নামাজ এবং দোয়ার মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করেন।

কাপ্তাইয়ে পিকআপ খাদে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত

কাপ্তাই (রাঙামাটি) : রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার আসামবস্তী সড়কে গাছবোঝাই একটি মিনি পিকআপ খাদে পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কাপ্তাই-আসামবস্তী সড়কের কামিলাছড়ি মগবান এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ঢালু পথে গাড়িটি উপরের দিকে উঠছিল। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে পিকআপটি পেছনের দিকে গড়িয়ে পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা তিন শ্রমিক চাপা পড়েন।

নিহত শ্রমিকরা হলেন মগবান ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামিলাছড়ি এলাকার বাসিন্দা সাদেক চাকমা (৩৮) ও মিলন চাকমা (৫০)। আহত শ্রমিক বিনয় চাকমা (৩৫) একই এলাকার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বিনয় চাকমা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শওকত আকবর খান জানান, রাতে দুইটি মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাপ্তাই-আসামবস্তী সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা সড়কটিতে যান চলাচলে বাড়তি সতর্কতা এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জীবন চলছে জীবনের তাগিদে, ৬৭-এ দাঁড়িয়ে ৬৫ হওয়ার অপেক্ষায় খোকন নাথ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: পরনে লুঙ্গি আর শার্ট। শুকনো শরীর, হাঁটেন একটু কোমর ঝুঁকিয়ে। বয়স আনুমানিক পঁয়ষট্টির ঘর পেরিয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার চায়ের দোকানপাড়ায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়। কখনো এক কাপ চা হাতে নীরবে বসে থাকেন, কখনো পাশের বেঞ্চে। এতদিন দেখলেও জানার আগ্রহ হয়নি।

সোমবার আবার দেখা। হঠাৎ কৌতূহল জাগে—কে এই মানুষটি, কী তার গল্প?

কথা শুরু হতেই জানা গেল, তার নাম খোকন নাথ। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাথপাড়ার বাসিন্দা। মৃত মহেন্দ্র নাথের ছেলে। প্রকৃত বয়স হিসেবে তিনি ৬৭ বছর পেরিয়েছেন।

জীবনের গল্প বলতে গিয়ে খোকন নাথ জানান, বয়স যখন মাত্র ১৬, তখন বাবাকে হারান। দুই বোন আর চার ভাইয়ের সংসারে তিনি ছিলেন সবার ছোট। হাইস্কুলে পা রাখার সময়েই যুদ্ধ ও দারিদ্র্যের চাপে থেমে যায় পড়াশোনা। পরিবারের হাল ধরতে নেমে পড়তে হয় কাজে।

বিয়ের পর জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। প্রথম সন্তান একটি কন্যাশিশু জন্মের কিছুদিন পরই এক রোগে মারা যায়। পরে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান, সেও টেকেনি। পরপর এই দুই মৃত্যু যেন জীবনের সব আলো নিভিয়ে দেয়। এরপর জন্ম নেয় আরও দুই কন্যা সন্তান। বর্তমানে তাদের বয়স আনুমানিক ৪০ ও ৩০ বছর। দুজনই বিবাহিত।

সংসারের দায় আর জীবিকার তাগিদে একসময় পাড়ি জমান প্রবাসে। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৮ বছর কাটে বিদেশের মাটিতে। কিন্তু বৈধ কাগজপত্রের অভাবে ভালো কাজ বা স্থায়ী কিছু করতে পারেননি। নানা ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা আর বিপদের মধ্যেই কেটে যায় তার প্রবাস জীবন। শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরেন প্রায় শূন্য হাতে।

দেশে ফিরে রঙের কাজ বেছে নেন। প্রবাস জীবনেই এই কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছিল। কিন্তু বয়স আর শরীর এখন আর আগের মতো সঙ্গ দেয় না।

বর্তমানে তার সংসারে সদস্য মাত্র দুজন—তিনি ও তার ৫৫ বছর বয়সী স্ত্রী। স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। কখনো স্ত্রী অসুস্থ হন, কখনো তিনি নিজেই। ফলে নিয়মিত কাজ করাও সম্ভব হয় না। তবু থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সরকারি সহায়তার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন খোকন নাথ। বলেন, “চালের একটা কার্ড আছে, তাও কিনে খেতে হয়। কয়েক বছর আগে জনপ্রতিনিধির কাছে গিয়েছিলাম। তখন বলা হয়েছিল জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স ৬৫ হয়নি, তাই বয়স্ক ভাতা দেওয়া যাবে না।”

বাস্তব বয়স আর কাগজের বয়সের এই ফারাকই এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা। প্রকৃত বয়সে তিনি ৬৭ পেরিয়েছেন, অথচ জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স পূরণ না হওয়ায় এখনও বয়স্ক ভাতার অপেক্ষায়। সাম্প্রতিক সময়ে কাগজে-কলমে বয়স ৬৫ ছাড়িয়েছে কি না, সেটাও নিশ্চিত নন তিনি।

“আমি তো দিনমজুর মানুষ। শরীর ভাঙলেও কাজ থামানো যায় না,” বলেন খোকন নাথ। মেয়েরা মাঝেমধ্যে সহযোগিতা করেন ঠিকই, কিন্তু তাদেরও নিজ নিজ সংসার আছে।

অবসরে যাওয়ার খুব ইচ্ছে তার। কিন্তু অবসর মানে যে থেমে যাওয়া, সেই সামর্থ্য তার নেই। তাই জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও খোকন নাথকে অপেক্ষা করতে হয়—৬৭ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে কাগজে-কলমে ৬৫ হওয়ার জন্য। এই অপেক্ষাই যেন তার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ আর নির্মম বাস্তবতা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মাহবুব বলেন, খোকন নাথ খুবই অসহায় একজন মানুষ। তিনি বলেন, “শুনেছি তার স্ত্রীও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আগেও তাকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তখন জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স ৬৫ না হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি।” তিনি আরও জানান, খোকন নাথের নামে একটি চালের কার্ড রয়েছে বলে তিনি জেনেছেন।

জলাতঙ্ক নির্মূলে রাঙ্গুনিয়ায় কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি শুরু ১৪ জানুয়ারি থেকে

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): জলাতঙ্ক নির্মূলে রাঙ্গুনিয়ায় অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে এ সভা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাঙ্গুনিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জয়নাব জমিলা। সভায় প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আকতার, ডা. রাশেদ আলী শাহ, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রাণী গোপ।

সভায় বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী রোগ। মূলত কুকুরের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুর কামড় বা আঁচড় দিলে মানুষের মধ্যে রোগটি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কুকুরকে সময়মতো টিকা দিলে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

সভায় জানানো হয়, আগামী ১৪ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট সাড়ে ৪ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হবে। কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

ফেরার পথেই থেমে গেল প্রবাসী পরিবারের জীবনের গল্প

এস এম আক্কাছ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) | অতিথি প্রতিনিধি:

প্রবাস জীবনের কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে স্বপরিবারে কয়েক দিনের অবকাশ কাটাতে ওমানের সালালাহ শহরে ভ্রমণে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার একটি পরিবার। পাহাড় আর সাগরের শহর ঘুরে আনন্দমুখর সময় কাটিয়ে মাস্কাটে ফেরার পথেই ঘটে যায় সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তে থামিয়ে দেয় তিনটি প্রাণের জীবনের যাত্রা।

শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার দিকে সালালাহ থেকে মাস্কাটগামী সড়কের তামরিথ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমান প্রবাসী মো. শফিউর আলমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার, তাঁদের একমাত্র ছেলে মুহাম্মদ সাকিবুল হাসান (সবুজ) এবং বিলকিস আক্তারের মেয়ের জামাই হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মুহাম্মদ দিদার।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন নিহত সাকিবুল হাসান (সবুজ)। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলন্ত গাড়ির সামনে হঠাৎ একটি উট চলে আসে। আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উটের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে সড়ক থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

ঘটনায় সবুজের স্ত্রী রিতা আকতার, তাঁর সন্তান ও বোন গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা স্থানীয় একটি মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে তারা শঙ্কামুক্ত।

নিহত সাকিবুল হাসান সবুজ তিনদিন আগে তাঁর মা, স্ত্রী, সন্তান ও বোন-জামাইকে নিয়ে মাস্কাট থেকে সালালাহ ভ্রমণে যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাঁর বাবা শফিউল আলমের সঙ্গে ওমানের হামেরিয়াতে বসবাস করছিলেন।

একসঙ্গে থাকা সবুজের বন্ধু প্রবাসী রবিউল হোসাইন পারভেজ জানান, ফটিকছড়ির এই পরিবারটি ওমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পরিচিত ও সম্মানিত ছিল। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ওমানজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোকের আবহ নেমে আসে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে সালালাহর একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, ওমানের দীর্ঘ ও নির্জন মহাসড়কে উটের অবাধ চলাচল প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিবারটিও সেই কঠিন বাস্তবতার শিকার হলো।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে। তবে যে পরিবার একসঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে বেরিয়েছিল, তাদের ঘরে ফিরবে কেবল নিথর দেহ আর অসীম শূন্যতা।

রাঙ্গুনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় হামলায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শামসুল আলম (৫৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীরেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শামসুল আলম মীরেরখীল এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ইছু মিয়া।

স্থানীয়রা জানান, খেজুরের রস সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় শামসুল আলম গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় যৌথ অভিযানে অপহৃত ব্যক্তি উদ্ধার, অস্ত্র-মাদকসহ তিনজন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অপহৃত এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, দেশীয় অস্ত্র ও নগদ অর্থসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অপহরণের অভিযোগের ভিত্তিতে রাত ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত পৌনে ৩টা পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এ অভিযান চলে।

অভিযানে অপহরণকৃত রুবেল (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— পোমরা ইউনিয়নের দানু মেম্বারের ছেলে শাহেদ হাসান (৩৫), আবদুল করিমের ছেলে ওবায়দুল মোস্তফা সৌরভ (৩১) এবং বেতাগী ইউনিয়নের প্রজেক্ট গেইট এলাকার মজু মিয়ার ছেলে মো. আব্দুস সালাম সাকিব (২২)।

গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৮৮০ পিস ইয়াবা, ৩ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, দা, চাপাতি, রামদা, ছুরি ও হাতুড়িসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৩টি পাসপোর্ট, ৫টি স্মার্টফোন, ৪টি বাটন ফোন এবং নগদ ১ লাখ ৫ হাজার ৮৯০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. আরমান হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অভিযানে পুলিশ টিমের সহায়তা চেয়েছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকৃত আলামত বুঝে নেয়। মাদকসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানানো হয়।

স্ট্যাটাসে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ডিসি পার্কে দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসবের উদ্বোধন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসায় জনপ্রশাসন সচিব

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন সলিমপুর মৌজার সাগরপাড়ে অবস্থিত ১৯৪ একর আয়তনের ডিসি পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসব “চট্টগ্রাম ফুল উৎসব–২০২৬”। বর্ণিল সাজে নতুন রূপে সেজে ওঠা ডিসি পার্কে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের সুপরিকল্পিত ও বৃহৎ কর্মযজ্ঞের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এটি শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, বরং সারাদেশের মানুষের জন্য আনন্দের আয়োজন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চট্টগ্রামের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলার মানুষও ডিসি পার্কে এসে নির্মল আনন্দ উপভোগ করবেন। জেলা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অন্যান্য জেলার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আহসান হাবীব পলাশ এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এছাড়াও বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মাসব্যাপী এ ফুল উৎসবে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি ও ফ্লাওয়ার টি। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেইম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ ও মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে একটি সচেতনতামূলক স্টল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কর্ণার।

আজ থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী “চট্টগ্রাম ফুল উৎসব–২০২৬” চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব সাধারণ দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

খেলাধুলা সামাজিক ঐক্যের শক্ত ভিত গড়ে তোলে: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : নিয়মিত খেলাধুলা সমাজে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন পেশার মানুষ খেলাধুলার মাধ্যমে এক কাতারে এসে সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে পারে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পেশাজীবীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙ্গুনিয়া পেশাজীবী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রীতি ম্যাচে লয়ারস ক্লাব ও ডক্টর-ইঞ্জিনিয়ার ক্লাব অংশ নেয়। শুরু থেকেই ম্যাচটি ছিল প্রাণবন্ত ও উত্তেজনায় ভরপুর। নির্ধারিত সময় শেষে ৪–১ গোলে ডক্টর-ইঞ্জিনিয়ার ক্লাবকে পরাজিত করে লয়ারস ক্লাব জয় পায়।

খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠজুড়ে দর্শক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বিভিন্ন পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

খেলা শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী হিরু। পেশাজীবীদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মো. মহসিন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী, এস ইউ এম নুরুল ইসলাম, প্রকৌশলী আরিফ হাসান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী ও ডা. তাশদীদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, রাঙ্গুনিয়ার খেলাধুলার মান উন্নয়নে মাঠ ও ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে রাঙ্গুনিয়ার সন্তানদের প্রতিনিধিত্ব দেখাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আনন্দঘন পরিবেশে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী উভয় দলকে অভিনন্দন জানানো হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম মো. জাহেদ (৩৭)।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

গ্রেপ্তার মো. জাহেদ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন পশ্চিম সরফভাটা এলাকার মৃত আবদুস শহিদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জাহেদকে আটক করা হয়। পরে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, নয়টি কার্তুজ (শীসা) এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার জাহেদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় মারামারি ও চাঁদাবাজিসহ তিনটি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থলে আরও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আটককৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, বাতিল ৩

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন থেকে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এ টি এম রেজাউল করিম ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মুহাম্মদ ইকবাল হাছানসহ ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট যাচাই কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই বাচাই শেষে বৈধ ঘোষণা দেন।

এ আসন থেকে মনোনয়ন বৈধ হওয়া বাকি ৩ প্রার্থী হলেন-জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল্লাহ আল হারুন ও খেলাফত মসলিসের মো. আবুল কালাম।

জানা যায়, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. আবদুর রহমান। তার মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে পাঁচটি ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর সংক্রান্ত তথ্যের অভাব, ফরম-২০ ও ২১ দাখিল না করা এবং ব্যক্তিগত অঙ্গীকারনামা অনুপস্থিত থাকা।

এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দীনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে দলের মনোনয়ন সঠিক না হওয়া এবং অঙ্গীকারনামা দাখিল না করার কারণে। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরন বড়ুয়ার মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে দলের মনোনয়ন সঠিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাউজানে সড়ক দুর্ঘটনায় রাঙ্গুনিয়ার নারী নিহত

রাউজান (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় রাঙ্গুনিয়ার এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম ছেনোয়ারা বেগম (৪৫)।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ছেনোয়ারা বেগম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খণ্ডলিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আমীনুর রহমানের স্ত্রী।

নিহতের ছেলে মো. রাসেল জানান, কয়েকদিন আগে তার বোনকে ডেলিভারিজনিত কারণে রাউজানের নোয়াপাড়া পথেরহাট এলাকার পাইওনিয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন আগে তার বোনের একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এ কারণে তার মা ছেনোয়ারা বেগম মেয়ের সঙ্গে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।

শনিবার সকালে চা-নাস্তা আনতে হাসপাতাল থেকে বের হলে সড়কে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে পাইওনিয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে জানতে চাইলে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘুমন্ত মানুষের শরীরে উষ্ণতা, চট্টগ্রামের ডিসির মানবিক এক রাত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: হিমেল বাতাসে যখন চট্টগ্রাম নগরীর ফুটপাত, রেলস্টেশন কিংবা মাজার প্রাঙ্গণে শীতার্ত মানুষগুলো কাঁপছে, তখন গভীর রাতে তাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক নিজেই। দায়িত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) গভীর রাতে তিনি সশরীরে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায়। দামপাড়া গরীবউল্লাহ মাজার এলাকা, ষোলশহর রেলস্টেশন, মুরাদপুর, চকবাজার, চেরাগী পাহাড় মোড়, লালদিঘী ও জেল রোডের আমানত শাহ মাজার এলাকায় ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষের গায়ে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দেন তিনি। এ সময় মোট ৬০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।

শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রতিটি মানুষের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও বসতবাড়িহীন ভাসমান মানুষের খোঁজখবর নেন, শোনেন তাদের কষ্টের কথা। গভীর রাতে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে এভাবে পাশে পেয়ে অনেকের চোখেই দেখা যায় স্বস্তি আর বিস্ময়।

মানবিকতার এই উদ্যোগ এখানেই থেমে থাকেনি। শীতার্ত দুই শিশু ঝুমুর ও শাহীন রাতের খাবারের অভাবে কষ্টে আছে জেনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জন্য অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। আবার টেকনাফের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ, যিনি কন্যাকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন, তার পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দেন। ভবিষ্যৎ সহায়তার জন্য তাকে নিজের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন এবং ফোন নম্বরও দেন।

শীতের এই দুঃসময়ে জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতি শীতার্ত মানুষের মাঝে শুধু উষ্ণতা নয়, পৌঁছে দেয় আস্থা ও আশার বার্তা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো জেলা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবেই চলমান থাকবে।

এক রাতের এই উদ্যোগ অনেক মানুষের কাছে শুধু কম্বল নয়, শীতের রাতে মানবিক স্পর্শের উষ্ণ আশ্রয় হয়ে উঠেছে।

জীবিকার তাগিদে ঋণ করে প্রবাসে, দুর্ঘটনায় আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রাঙ্গুনিয়ার জামাল

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জীবিকার তাগিদে ঋণের টাকা নিয়ে প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মো. জামাল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ওমানের একটি নির্মাণাধীন ভবনে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা মো. হোসেনের ছেলে মো. জামাল (৩৯) বর্তমানে ওমানের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত তিনদিন ধরে তিনি সেখানে ভর্তি আছেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ওমান থেকে জামালের ছোট ভাই প্রবাসী মো. বাবুল জানান, গত তিন দিন আগে ওমানের আল আমরাত থানা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে যান জামাল। এতে তাঁর মেরুদণ্ড ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তাঁর জ্ঞান থাকলেও মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ায় এবং প্যারালাইসিস দেখা দেওয়ায় পায়ের কোনো অনুভূতি নেই।

মো. বাবুল আরও জানান, গত দুই দিনে ভাইয়ের চিকিৎসা বাবদ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বিপুল এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাঁদের পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলা হলেও তাঁরা জানিয়েছেন, জামালের শারীরিক যে অবস্থা এবং শরীরে যেসব চিকিৎসা সরঞ্জাম বসানো হয়েছে, তাতে সাধারণ বিমানে তাঁকে বহন করা সম্ভব নয়। দেশে নিতে হলে ব্যক্তিগতভাবে ভাড় করা বিশেষ বিমানে (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) নিতে হবে। অন্যথায় ওমানেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই মুহূর্তে কী করবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মো. জামাল তিন বছর আগে ঋণের টাকায় প্রবাসে যান। বছরখানেক আগে ছুটিতে দেশে এসে আবার ওমানে ফিরে যান তিনি। সবকিছু গুছিয়ে ওঠার আগেই এই দুর্ঘটনার শিকার হন জামাল। প্রবাসে তিনি কখনো এসি-ফ্রিজ মেরামতের কাজ, আবার কখনো নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

জামালের পরিবারে রয়েছেন তার স্ত্রী, সাত বছরের এক ছেলে ও পাঁচ বছরের এক মেয়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জামালের এই দুর্ঘটনায় পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

লাখো মানুষের শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন বেগম খালেদা জিয়া, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেত্রীর বর্ণাঢ্য জীবনের শেষ আনুষ্ঠানিকতার।

এর আগে বুধবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়িটি কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জিয়া উদ্যানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা কাঁধে করে কফিন সমাধিস্থলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম ও সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্বামীর কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মো. আব্দুল মালেক। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তিন বাহিনীর প্রধান ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও জানাজায় উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান।

জানাজার আগে মায়ের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আপনারা সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন। এর আগে সকালে গুলশান এভিনিউয়ের বাসায় মায়ের কফিনের পাশে বসে তাঁকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতে দেখা যায়।

জানাজাস্থলে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ সময় তিনি ভারতের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তা তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। একইভাবে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকও সাক্ষাৎ করে শোক ও সমবেদনা জানান।

বুধবার দুপুর ১২টার কিছু পরে খালেদা জিয়ার কফিনবাহী গাড়ি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়। এর আগে সকাল ১১টার দিকে গুলশান এভিনিউয়ের বাসা থেকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি যাত্রা শুরু করে। এ সময় মানিক মিয়া এভিনিউ, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকাজুড়ে মানুষের ঢল নামে। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।

জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া।

লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন।

জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে দলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। বিশাল জনসমাগমে পুরো এলাকা শোকাবহ পরিবেশে পরিণত হয়।

খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এ সময় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে দাফনের জন্য জিয়া উদ্যানে নেওয়া হবে। সেখানে তার স্বামী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ২৭ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর, ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লাখো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এ জানাজাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাঙ্গুনিয়ায় পর পর পাঁচ অগ্নিকাণ্ড, ভোর রাতে বেতাগীতে পুড়ল পাঁচ বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কখনো বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, কখনো গ্যাসের চুলার আগুন, আবার কখনো অজানা কারণে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগুন লাগার খবর মিলছে।

সর্বশেষ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মধ্যম বেতাগী মাইজপাড়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন মৃত হাসমত আলীর ছেলে মো. আবু তাহের, আবু মোহাম্মদ, মো. ইব্রাহিম, মো. ইসমাঈল ও মো. ইসরাঈল।

ভুক্তভোগী আবু তাহেরের ছেলে তানভীর আহমেদ বলেন, রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে তাদের সবকিছু আগুনে পুড়ে যায়। তার বাবা ও চাচাসহ পাঁচ পরিবারের ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার পুড়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খোরশেদতালুক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুটি দোকান ও একটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে যায়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হন মৃত আবদুল মালেকের ছেলে মো. আলমগীর এবং মৃত ওসমান আলীর ছেলে মো. আবদুল মোনাফ। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সিলিন্ডারের আগুন থেকেই ওই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।

এছাড়া সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোর রাত ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পালপাড়া এলাকায় আরেকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে রতন পালের ছেলে রাজেশ পালের মালিকানাধীন তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি কাঁচা বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল নষ্ট হয়ে ভুক্তভোগীর প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

ঘটনা পরবর্তী রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান জানান, ওই ঘটনার আগুনের সূত্রপাত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যাবে। তিনি জানান, এ ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের সৌদিয়া প্রজেক্ট গেটসংলগ্ন কাদেরীয়া পাড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে দাদি ও নাতনির মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ছয়টি বসতঘর পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এছাড়া এর একদিন আগে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নেও আগুনে পুড়ে যায় এক সিএনজি চালকের বসতঘর।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান বলেন, এই সময় আগুন লাগলে তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শীতকালে বিদ্যুৎ ব্যবহার কম থাকায় ভোল্টেজের ওঠানামা হয় এবং অনেক ঘরে পুরোনো বৈদ্যুতিক তার ও সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে অসাবধানতার কারণেও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তাই সবাইকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নারী-পুরুষসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত থেকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়নের ফেরিঘাট এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ৭৪৮ পিস ইয়াবা, ২৫ লিটার বাংলা মদ, ১৫০ পুরিয়া গাঁজা এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৬টি দা, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ৯টি ছুরি, ৬টি কাঁচি ও ৪টি লোহার পাইপ। এছাড়া ৪টি মোবাইল ফোন এবং প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন রোশনারা (৪০), দেলোয়ার হোসেন (৪০), আবদুস সালাম (৪৮), মো. আরমান (২৫), মো. পারভেজ হোসেন (৩৪) ও মো. আলাউদ্দিন (২০)।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরমান হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

শীতে ঘরে ঘরে উষ্ণতা ছড়াল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: কনকনে শীতের এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে গিয়ে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দরিদ্র ও শীতকাতর মানুষের মাঝে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে অন্তত ৫০ জন মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। শীতবস্ত্র পেয়ে উপকারভোগীরা উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শীতবস্ত্র বিতরণকালে ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, শীত মৌসুমে যেন কোনো মানুষ কষ্ট না পায়, সে লক্ষ্যেই সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পিছিয়ে পড়া ও অসহায় জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, এই সময়ে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষেরও শীতার্তদের পাশে এগিয়ে আসা উচিত। সম্মিলিত উদ্যোগেই শীতজনিত দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।

তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা, বেতাগী ইউনিয়ন ও লালানগর ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

কনকনে শীতে সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর দায়িত্ব নিল জেলা প্রশাসন, খোঁজ চলছে পরিবারের

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : কনকনে শীতের রাতে সড়কের পাশে অসহায় অবস্থায় বসে থাকা দুই শিশুকে ঘিরে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। আনোয়ারা উপজেলায় উদ্ধার হওয়া ওই দুই শিশুর পরিবারের এখনো সন্ধান মেলেনি। এরই মধ্যে শিশুদের চিকিৎসা, আশ্রয় ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার উদ্ধার হওয়া শিশু দুটিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে জেলা প্রশাসক শিশুদের শারীরিক অবস্থা, উদ্ধারের প্রেক্ষাপট, পারিবারিক পরিচয় এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

শিশুদের মধ্যে ১৪ মাস বয়সী মোরশেদের শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে চার বছর বয়সী আয়েশাকে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন ও বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় আশ্রয়দাতা মহিন দম্পতির হেফাজতে রাখা হয়।

শুধু আশ্রয়ই নয়, শিশুদের চিকিৎসা ব্যয় ও প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু দুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক বলেন, শিশু দুটিকে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে লালন-পালন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, শিশু দুটিকে উদ্ধারের পরপরই জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে ছোট শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা নেন এবং বড় শিশুটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের খোঁজে প্রশাসন কাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকায় কনকনে শীতের মধ্যে সড়কের পাশে বসে থাকা অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দা মহিন নামের এক ব্যক্তি শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শিশুরা জানায়, এক আত্মীয় তাদের সেখানে রেখে চলে যায়।

বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রশাসনের নজরে আসার পর জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় দ্রুত চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছেন, এমন দায়িত্বশীল ও দ্রুত পদক্ষেপ শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাঙ্গুনিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে পুড়েছে দোকান ও বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খোরশেদতালুক এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুটি দোকান ও একটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপন করেন।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় দুইজন মালিকের একটি কাঁচা বসতঘর ও দুটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন মৃত আবদুল মালেকের ছেলে মো. আলমগীর এবং মৃত ওসমান আলীর ছেলে মো. আবদুল মোনাফ।

ফায়ার সার্ভিস আরও জানায়, আগুন থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

আগুন নির্বাপন অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার জসিম উদ্দিন।

উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ

ডেস্ক রিপোর্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শুরুতেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।

সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল থেকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, যা পাঠ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।

রাষ্ট্রীয় শোক পালনকালে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।

বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া জানান, আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে শহিদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসহ সব আনুষ্ঠানিকতায় সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আজ আমরা গভীর শোকের সময় একত্রিত হয়েছি। তাঁর চলে যাওয়া জাতির জন্য বিরাট ক্ষতি। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। সেদিন তিনি খুব উৎফুল্ল ছিলেন। নিজে অসুস্থ থাকলেও সবার খোঁজখবর নিয়েছেন। জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর উপস্থিতি আমাদের খুব প্রয়োজন ছিল।”

সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ (Chief Adviser GoB)

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা কাল, দাফন শহীদ জিয়ার পাশে

ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, বাদ যোহর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, “কাল বাদ যোহর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের ছুটি ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি একজন মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত বলে উল্লেখ করেন।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মরহুমার পরিবারের সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং কর্মী-সমর্থকদের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব জাতিকে বারবার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণ করবে এবং এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হবার নয়।

শোকাবহ এই সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কেউ যেন এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

ভাষণে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাঁর নামাজে জানাযার দিন একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণাও দেন।

নামাজে জানাযাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আবেগাপ্লুত হলেও সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে জাতির জন্য ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্য কামনা করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং তাঁর সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: রাঙ্গুনিয়ায় শেষ দিনে মনোনয়ন জমা দিলেন যারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। সোমবার শেষ দিনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের কার্যালয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

একই দিন দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম। পরে তিনি উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনওর কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের অনুলিপি জমা দেন।

বিকেলের দিকে মনোনয়নপত্র জমা দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হারুন। এর আগে একই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী প্রমোদ বরণ বড়ুয়া। এছাড়া সন্ধ্যার দিকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আবুল কালাম আজাদ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অন্যদিকে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান একই দিন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, সোমবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁর কার্যালয়ে মোট চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া আরও দুজন প্রার্থী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর ইসি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল দায়ের এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে তা নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

পটিয়ায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালক নিহত, আহত ৪

পটিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের পটিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন যাত্রী।

রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার আমজুরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ট্রাকচালকের নাম মো. সালাম (৫৫)। তিনি বগুড়া জেলার আকতার মিয়ার ছেলে।

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জাহেদুল ইসলাম (২৬), জাকির ইসলাম (৩০), সাকিব উল হাসান (১৭) এবং নাসরিন সুলতানা (২৯)। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস আমজুরহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকচালক দুই গাড়ির মাঝখানে আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় ট্রাকচালককে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাজেশ বড়ুয়া জানান, দুর্ঘটনার পর তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকটি হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় ফের অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি তিন কক্ষবিশিষ্ট কাঁচা বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোর রাত ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ভোর ৩টা ৩৮ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে রতন পালের ছেলে রাজেশ পালের মালিকানাধীন তিন কক্ষের কাঁচা বসতঘর পুড়ে যায়। এতে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল নষ্ট হয়ে ভুক্তভোগীর প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, আগুনের সূত্রপাত এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যাবে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের সৌদিয়া প্রজেক্ট গেট সংলগ্ন কাদেরীয়া পাড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে দাদি ও নাতনির মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ছয়টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এছাড়া এর একদিন আগে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নেও আগুনে পুড়ে যায় এক সিএনজি চালকের বসতঘর।