রাঙ্গুনিয়ার জন্য সুখবর আসছে, নেতাকর্মীদের অপেক্ষা করতে বললেন বিএনপি নেতা কুতুবউদ্দিন বাহার
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রস্তাবিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাঙ্গুনিয়ায় মহাসমাবেশ করেছে বিএনপি।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান বাসস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক শামশুল আলম কন্ট্রাক্টর। সদস্য সচিব আবদুস সালাম মেম্বার ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোজাফফর চৌধুরী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও জাতীয়তাবাদী দলের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আজম খাঁন, রাঙ্গুনিয়া পৌর বিএনপির আহবায়ক মো. মাহবুব ছফা, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নবাব মিয়া চেয়ারম্যান, যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক, মুজিবুল আলম মুজিব ও ওসমান গনি প্রমুখ।
সভায় প্রধান বক্তা সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী বলেন, “আজকের এই সভা রাঙ্গুনিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নেতাকর্মীরা যদি সুশৃঙ্খলভাবে সাংগঠনিক নিয়মনীতি মেনে কাজ করেন, তাহলে হাইকমান্ড জানবে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি ঐক্যবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঐক্যবদ্ধভাবেই করবো। আমাদের শক্তি সাংগঠনিক শক্তি, জনতার শক্তি—এই শক্তিকে কেউ দমাতে পারবে না।”
নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হতে হবে। কেউ যদি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা মেনে নেওয়া হবে না।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এটি হবে আমাদের প্রথম দাবি।”
তিনি আরও বলেন, “মরিয়ম নগর থেকে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত ডিসি রোড সম্প্রসারণ, গুমাই প্রকল্পের উন্নয়ন, শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং প্রবাসে যাওয়ার আগ্রহীদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত রাঙ্গুনিয়ায় একটি বড় পরিসরে এতিমখানা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।”
তিনি জানান, “তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা রাঙ্গুনিয়ার অলিগলিতে মানুষের কথা শুনছি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করা হবে।”
দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন, “গত ১৭ বছর যারা রাজপথে ছিল, হামলা-মামলার শিকার হয়েছে—আমি সবসময় তাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার আরও বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের জন্য সুখবর আসছে। একটু ধৈর্য ধরুন, বিজয়ের হাসি রাঙ্গুনিয়াবাসী হাসবে। সেই প্রত্যাশা রেখে ধানের শীষের মার্কা যিনিই নিয়ে আসবেন তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি আবু আহমেদ হাসনাত বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাঙ্গুনিয়ার মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত। তাঁর আদর্শেই আজ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। তারেক রহমান বিবিসিতে বাংলাদেশের প্রতিটি নেতাকর্মীর কথা বলেছেন, নিজের নয়। তিনি দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষ সবসময় ভালোবাসা ও স্নেহ দিয়ে পাশে থেকেছে। তাই আমরা চাই, রাঙ্গুনিয়ার নেতৃত্ব রাঙ্গুনিয়ার মানুষের হাতেই থাকুক। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই হবে আমাদের চূড়ান্ত নির্দেশ, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা বাস্তবায়ন করবো।”
