সরকারি নির্দেশনা না মানায় রাঙ্গুনিয়ায় দুই তেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুটি জ্বালানি তেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

অভিযানের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো রেজিস্টার সংরক্ষণ না রাখায় রানীরহাট ফিলিং স্টেশনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া টানা ২৪ ঘণ্টা তেল সরবরাহ না থাকায় পেট্রোল পাম্পটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া বিক্রয় রেজিস্টার সংরক্ষণ না করা এবং নিবন্ধন ছাড়া যমুনা অয়েল থেকে সরাসরি ক্রয় ব্যতীত তেল বিক্রির অভিযোগে অপর একটি বিক্রয় কেন্দ্রকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন কমিটিতে তদবির নয়, প্রাধান্য পাবে ত্যাগী নেতাকর্মীরা: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : নতুন কমিটি গঠনে তদবির বাণিজ্যের সুযোগ থাকবে না। যারা ত্যাগী এবং গত ১৭ বছর দলের জন্য জান-প্রাণ দিয়ে কাজ করেছেন, তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) উপজেলার কাদেরনগর এলাকায় উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর তিনি গতকাল প্রথমবারের মতো সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সংসদে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রথম বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসেই এই নতুন যাত্রা শুরু হওয়াকে সৌভাগ্যের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনের সময় সবার মনে একটি কষ্ট ছিল। অনেকের বিশ্বাস ছিল, যখন সবাই সংসদে যাবেন তখন মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হয়তো তাদের সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তবুও সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সবাই মিলে গণতন্ত্রের এই নেত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।

ইফতার মাহফিলে বক্তব্যে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রমজান মাসে ইফতার ও আজানের আগে যদি সবাই ৫ থেকে ১০ মিনিট একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসে ইবাদত ও দোয়া করা যায়, তবে তা খুবই ভালো হবে। তিনি সবাইকে দেশ, প্রধানমন্ত্রী, রাঙ্গুনিয়াবাসী এবং প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, রোজার মাসে দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানে এসেছেন এবং সেগুলো নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান। তিনি বলেন, নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে তিনি একটি বিষয়ই বলেছেন—এই নির্বাচন তিনি একা করেননি, বরং সবাই মিলে করেছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদে পৌঁছানোর কৃতিত্ব তিনি মঞ্চে উপস্থিত নেতাকর্মীদের দেন।

তিনি আরও বলেন, দলের নীতি হলো ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়। রাঙ্গুনিয়ার নেতাকর্মীরা নির্বাচনের সময় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সেই কথার প্রমাণ দিয়েছেন।

দলীয় কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় সরকারে আসার পর নেতাকর্মীরা মনে করেন মামলা-মোকদ্দমার চাপ কমে গেছে এবং তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে অনেকে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। আবার আগের মতো ঘন ঘন বড় কর্মসূচিও হয় না। ফলে দল অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি প্রতি মাসে একদিন নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, যদি প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার সবাই একত্রিত হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে দল আরও শক্তিশালী হবে এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও যৌথভাবে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে দলের নেতাকর্মীরা মামলা-মোকদ্দমা ও নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান কমিটিগুলো বিলুপ্ত করার একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে। তবে কখন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাই নির্ধারণ করবেন।

তিনি বলেন, নতুন কমিটি গঠনের সময় নেতাকর্মীদের অতীত কর্মকাণ্ড, আচরণ এবং দলের জন্য তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটিতে যারা দায়িত্ব পাবেন তাদের সবাই সমর্থন করবেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “এই কমিটির জন্য তদবির বাণিজ্য হবে না। যারা ত্যাগী এবং গত ১৭ বছর দলের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করেছে, তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে।”

দলীয় গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই বলেন এটি কারও গ্রুপ বা অন্য গ্রুপের। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার কোনো গ্রুপ নেই; তার একমাত্র গ্রুপ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এখানে সবাই একই দলের কর্মী এবং তাদের নেতা একজনই—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে প্রমাণ করার যে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনের সময়ও সেই ঐক্যের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছর রাঙ্গুনিয়ায় দল ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করবে।

মাসিক বৈঠকের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিনিয়র নেতারাই নেবেন। তাদের সুবিধা অনুযায়ী দিন নির্ধারণ করা হবে এবং এ বিষয়ে দলের কমিটির প্রধান অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এসব বৈঠকে নেতাকর্মীরা একসঙ্গে বসে সুখ-দুঃখ, অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন এবং দলকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সবার পরামর্শ নেওয়া হবে।

শেষে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরের সংগ্রামে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।