বাংলাদেশ-সৌদি আরবের মধ্যে কর্মী নিয়োগে প্রথমবারের মতো চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) রিয়াদে এই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং সৌদি আরবের পক্ষে মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ বিন সোলাইমান আল-রাজী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সৌদি আরব ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরের ইতিহাসে এটি প্রথম সাধারণ কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি।

১৯৭৬ সাল থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হিসেবে কাজ করছে, তবে এতদিন পর্যন্ত সাধারণ কর্মী নিয়োগে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছিল না। এর আগে ২০১৫ সালে গৃহকর্মী নিয়োগ এবং ২০২২ সালে দক্ষতা যাচাই সংক্রান্ত দুটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবে বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশের দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার ও স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে। এটি ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সৌদি মন্ত্রী ও ড. আসিফ নজরুলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, সৌদি আরবে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, ইকামা নবায়নের দায়িত্ব যেন নিয়োগকর্তারা পালন করে এবং দেশে ফেরার ইচ্ছুক কর্মীরা যেন দ্রুত এক্সিট ভিসা পান।

সৌদি মন্ত্রী এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এ সময় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন, মিশনের উপপ্রধান এস এম নাজমুল হাসান, শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মাদ রেজায়ে রাব্বীসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ।

শিগগিরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

ঢাকা: খুব শিগগিরই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জুলাই সনদের বিষয়বস্তু ও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব ও এবিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের অবস্থান সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঐকমত্য কমিশনের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ঐকমত্য কমিশন সকল রাজনৈতিক দল থেকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা পেয়েছে। এছাড়া, গণমাধ্যমগুলো ঐকমত্য কমিশনকে অকল্পনীয় সমর্থন দিয়েছে।

কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সকল সদস্যদের ধন্যবাদ ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। কমিশনের কাজের চুড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আজকের বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল ও আদিলুর রহমান খান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দেবেন নিরাপদে: চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

চট্টগ্রাম: “থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিবেন নিরাপদে”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নির্বাচনি দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনসের সিভিক সেন্টারে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি প্রশিক্ষণ কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এই প্রশিক্ষণ কোর্সে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আগত মোট ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচনি দায়িত্বে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, জনগণের আস্থা অর্জন, আইন প্রয়োগে মানবিকতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতকরণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুলিশের দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠা অপরিহার্য। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পুলিশের দায়িত্ব পালনে আরও আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বাড়াবে।”

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম-বার বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনের সময় জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতে আমাদের সদস্যরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকালীন সময়ে জনপদে পুলিশের উপস্থিতি জনগণের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তা সৃষ্টি করবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি), হাটহাজারি সার্কেল অফিসার, প্রশিক্ষক এবং জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপর হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড়

ডেস্ক: নরসিংদীর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শামিম আনোয়ারের ওপর চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের আরশিনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, আহত অবস্থায় শামিম আনোয়ারকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে আনোয়ার হোসেনের (সদর সার্কেল) নেতৃত্বে একটি টিম সদর উপজেলার বীরপুর এলাকার পুরানপাড়ায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিদর্শনে যান। ফেরার পথে শহরের আরশিনগর মোড়ে কয়েকজন ব্যক্তি যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ দুজনকে হাতেনাতে আটক করে।

আটকের খবর শুনে তাদের ছাড়াতে ৩০–৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ছাড়াতে রাজি না হওয়ায় তারা হামলা চালায়—কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে আহত হন। সন্ত্রাসীরা দুই চাঁদাবাজকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পুলিশ সদস্যরা শামিম আনোয়ারকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

ঘটনার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে নিন্দার ঝড় ওঠে। চট্টগ্রামের সাংবাদিক জাহেদ হাসান তালুকদার তার ফেসবুকে লিখেছেন, “এটা কেমন বাংলাদেশ! চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ওপর হামলা।” ঢাকার সাংবাদিক জাহেদুল ইসলাম আরিফ লিখেছেন, “সাহস আর সততা থাকলে মার খেতে হয়, সেটি আপনিই বলতেন আমাকে। আর আজ আপনার ওপর এহেন হামলা। সুস্থ হয়ে উঠুন, বড় ভাই।”

কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবি: সেনাবাহিনীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সফল উদ্ধার অভিযান

ডেস্ক: গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতের আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ায় রাঙামাটির লংগদু অঞ্চলের বিএফডিসি ঘাট, ভাইবোনছড়া, লংগদু লঞ্চঘাট, গুইলশাখালি বিল ও ভাসান্যাদম এলাকায় একাধিক নৌকা ডুবে যায়। খবর পেয়ে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

এ ঘটনায় মোট পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেনাবাহিনীর অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও দ্রুত পদক্ষেপে ওই রাতেই দুইজনকে জীবিত ও এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার এবং পরদিন (০১ অক্টোবর) সকালে আরও দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, একই রাতে নানিয়ারচর উপজেলার মহাজনপাড়ায় আরও একটি নৌকা ডুবে যায়। ছয়জন যাত্রীর মধ্যে চারজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ডেনিজেন চাকমা ও জিতেশ চাকমা নিখোঁজ রয়েছেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়রা নৌকাটি উদ্ধার করলেও নিখোঁজ দুই যুবকের সন্ধান মেলেনি। বর্তমানে সেনাবাহিনীর ডুবুরি দল স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, সাহসিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলে দুর্ঘটনার পরপরই কার্যকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা শুধু নিরাপত্তার অঙ্গীকারেই নয়, বরং মানবিক দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সচেষ্ট।

সূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

“মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫” বাস্তবায়নে চট্টগ্রামে জেলা টাস্কফোর্স সভা

চট্টগ্রাম: “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫” কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য দপ্তর কর্তৃক আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন।

সভায় আগামী ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সরকারি নির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পালন, দরিদ্র মৎস্যজীবীদের সহায়তা প্রদান এবং অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দুদকের চার জেলায় এনফোর্সমেন্ট অভিযান, মিলল অনিয়মের প্রমাণ

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে আজ (২৪ সেপ্টেম্বর ) চারটি অভিযোগের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এসব অভিযানে অবৈধ পদোন্নতি, ভুয়া জন্মনিবন্ধন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং নিম্নমানের চাল মজুদসহ নানা অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে কমিশন।

অভিযান ০১ : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের এক ডিজিএমের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি গ্রহণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা থেকে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে টিম জানায়। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র বিস্তারিতভাবে যাচাই শেষে কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

অভিযান ০২ : নোয়াখালী
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা ইউনিয়ন পরিষদে রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী একটি অভিযান চালায়। টিম অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ করে এবং ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেবাপ্রার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। টিম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অন্যান্য ইউনিয়নের বাসিন্দাদেরও জন্ম নিবন্ধন সনদ দেয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দালালদের বিষয়ে কঠোর হওয়ার আশ্বাস দেন।

অভিযান ০৩ : ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ থেকে আবেদন ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ময়মনসিংহ একটি টিম অভিযান চালায়। তদন্তে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দে ৪৭টি প্রকল্প নেয়া হয়, যার মধ্যে ১৭টি প্রকল্প ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নে। এসব প্রকল্পের টাকা ছাড় হলেও কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া পারিবারিক গোরস্থানকে সামাজিক গোরস্থান দেখিয়ে টাকা উত্তোলন এবং বসতবাড়িতে নামমাত্র কওমি ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ নেয়া হয়েছে বলে টিম প্রমাণ পায়।

অভিযান ০৪ : কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা খাদ্য গুদামে নিম্নমানের চাল মজুদ ও কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ১৩০ বস্তা চাল যাচাই করে নিম্নমানের প্রমাণ মেলে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে অধিকাংশ নাম ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

দুদক জানায়, অভিযানে সংগৃহীত সব রেকর্ডপত্র ও তথ্য যাচাই শেষে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

সূত্র: দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ (Anti-Corruption Commission – Bangladesh) থেকে নেয়া।

বিমান বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো (Antonio Alessandro)।

আজ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তারা দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক বন্ধন আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

 

সূত্র: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফেসবুক থেকে।

ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষকারীরা দেশ–জনগণের বন্ধু নয় : রাঙ্গুনিয়ায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসপি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসপি সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “এখন গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। অনেক পুরনো ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে সুপরিকল্পিতভাবে জনগণকে উত্তেজিত করা হচ্ছে। দেশে বা বিদেশে থেকে যারা এ ধরনের কাজ করছে তারা দেশ ও জনগণের বন্ধু হতে পারে না। তারা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান—কারোই বন্ধু নয়। যারা ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ায়, তারা কখনোই জনগণের বা দেশের বন্ধু হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকদের কথার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গুজব প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি যাচাই-বাছাই করে জনগণকে সঠিক তথ্য জানাতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর আস্থা আরও বাড়িয়ে তোলার এটাই উপযুক্ত সময়।”

এসপি সাইফুল ইসলাম সানতু আশ্বাস দিয়ে বলেন, “জনশান্তি ও জনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সবসময় প্রস্তুত। সাংবাদিকসহ সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইন্ডাস্ট্রিয়াল আরডিবি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা), রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ এটিএম শিফাতুল মাজদার ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি–সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

টঙ্গীতে অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার ফাইটারের মৃত্যু, রাঙ্গুনিয়ায় সহকর্মীদের শোক

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: টঙ্গীতে কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ফায়ার সার্ভিস কর্মী শামীম আহমেদ মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টঙ্গীর সাহারা মার্কেটের একটি কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনসহ নিকটস্থ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কাজ শুরু করে। এসময় ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

শামীম আহমেদ নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ২০০৪ সালে ফায়ার সার্ভিসে যোগদান করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

এদিকে তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহেদুর রহমান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আরও এক সহকর্মীকে হারালাম। ২০০৪ সালের ব্যাচের সদস্য শামীম, যিনি টঙ্গী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন, আজ অগ্নিদুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।”

ওমানে রাঙ্গুনিয়ার দুই প্রবাসীর মৃত্যু, একজন সড়কে, অন্যজন অসুস্থতায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে রাঙ্গুনিয়ার দুই প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। একজন প্রাণ হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়, অন্যজন অসুস্থজনিত কারণে।

প্রয়াতদের একজন উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তাপুর এলাকার মো. ফারুক (৩৫)। তিনি মৃত আরবান আলীর ছেলে। অন্যজন ময়ূর উদ্দিন (২২), পারুয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড উত্তর পারুয়া এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে।

ফারুকের মৃত্যুর বিষয়ে একই এলাকার ওমানপ্রবাসী জামাল উদ্দিন জানান, তিনি সোহার গাদাফান এলাকায় ফ্রি ভিসায় কাজ করতেন। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার লিভারের সমস্যা শনাক্ত করেন। পরে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান তিনি। পরে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ফারুকের এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল জানান, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। দেড় বছর আগে সর্বশেষ বাংলাদেশে এসে পুনরায় ওমানে পাড়ি জমান। পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, ময়ূরের বড় ভাই আবদুল সুক্কুর জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ওমানের বোয়ালী এলাকায় আরবাবের কাছে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। গাড়িতে আরও তিনজন ছিলেন। গাড়ি উল্টে গেলে সবাই আহত হন। তবে ময়ূরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।

ময়ূর একটি মাছ পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৩ বছর আগে প্রবাসে যান তিনি। সর্বশেষ ৪-৫ মাস আগে দেশে এসে আবারও ওমানে ফিরে যান। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার লাশ দেশে পাঠানোর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা চলছে।

এসবি ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার সিরাজুম মুনিরা লাজুকের ইন্তেকালে বাংলাদেশ পুলিশের শোক

ডেস্ক: পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার সিরাজুম মুনিরা লাজুক বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। বুধবার রাতে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত শোকবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সূত্র জানায়, সিরাজুম মুনিরা লাজুক ১৯৭৮ সালে বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানার চরহোগলা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালে ২৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন তিনি। কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গেছেন এই কর্মকর্তা।

এসবি ঢাকার অধীনে তিনি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ উইং, স্কুল অব ইন্টেলিজেন্স, কাউন্টার টেরোরিজম ইন্টেলিজেন্স উইং এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি এসবি ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স উইং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর। তিনি স্বামী, এক পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সিরাজুম মুনিরা লাজুকের মৃত্যুতে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

৩৪ বছরের সেবা শেষে বিদায় নিলেন অতিরিক্ত আইজি তমিজউদ্দীন

ডেস্ক: বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি সরদার তমিজউদ্দীন আহমেদ, বিপিএম, ৩৪ বছরের দীর্ঘ সেবাজীবনের পর অবসরে যাচ্ছেন। তাঁর বিদায় উপলক্ষে আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বাহারুল আলম, বিপিএম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে অতিরিক্ত আইজিগণ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান এবং হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদায়ী কর্মকর্তার পেশাগত ও ব্যক্তিজীবনের নানা দিক নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা স্মৃতিচারণ করেন। আইজিপি তার সততা ও সুনামের প্রশংসা করেন এবং সুস্থ জীবন কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের সাথে যুক্ত হন সরদার তমিজউদ্দীন আহমেদ। তিনি ঝালকাঠি ও মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার এবং পরে রেলওয়ে পুলিশের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদায়ী কর্মকর্তা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

সূত্র: বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৫: জেলা প্রশাসকের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নির্দেশনা

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় নিরাপত্তা ও বিসর্জনের নির্দেশনা গৃহীত। ছবি: সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম: আজ রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় দুর্গাপূজার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ উদযাপন নিশ্চিত করতে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্থায়ী আনসার বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি টহলের ব্যবস্থা থাকবে। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার করতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডকে বিশেষ সতর্কতামূলক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয় আজকের সভায়।

সভায় জানানো হয়, প্রতিমা বিসর্জন কেবল জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে দিতে হবে এবং সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। বিজয়া দশমীর দিনে বিসর্জন ঘিরে দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি বিসর্জন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত সড়ক বাতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় আজকের সভায়।

সভায় পূজামণ্ডপে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়; ইভটিজিং, মাদক সেবনসহ যেকোনো অপরাধ কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এছাড়া, গ্রামীণ পর্যায়ে প্রতিমা আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার ও মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে। আলোচনায় আজ আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: কামরুজ্জামান।

 

ভিপি জিতু, জিএস মাজহারুল; জাকসুতে ২৫ পদে প্রাধান্য শিবিরের

ডেস্ক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল পৌনে ৬টায় আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেন জাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার।ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

এতে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৩ হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রশীদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক পদে (জিএস) পদে ৩ হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মাজহারুল ইসলাম।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের (এজিএস) দুটি পদেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান ২৩৫৮ ভোট এবং আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা ৩৪০২ জয় পেয়েছেন।

১৯টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৫টি জিতেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। বাকি চারটি পদের মধ্যে ভিপিসহ তিনটি পদে স্বতন্ত্র এবং একটিতে বাগছাস প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

কার্যকরী সদস্যের ছয় পদের পাঁচটি জিতেছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা, একটিতে বাগছাসের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

সবমিলিয়ে ২৫টি পদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির ২০টি, স্বতন্ত্ররা তিনটি এবং বাগছাস দুটি পদে জয় পেয়েছে।

অন্যান্য পদে জয় পেয়েছেন
শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক- আবু ওবায়দা ওসামা (শিবির প্যানেল), পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক- মো. শাফায়েত মীর (শিবির প্যানেল), সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক- মো. জাহিদুল ইসলাম বাপ্পী (শিবির প্যানেল),
সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মহিবুল্লাহ শেখ জিসান (স্বতন্ত্র), সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক- মো. রায়হান উদ্দীন (শিবির প্যানেল), নাট্য সম্পাদক- মো. রুহুল ইসলাম (শিবির প্যানেল), ক্রীড়া সম্পাদক- মাহমুদুল হাসান কিরণ (স্বতন্ত্র), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী)- ফারহানা আক্তার লুবনা (শিবির প্যানেল), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ)- মো. মাহাদী হাসান (শিবির প্যানেল), তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক- মো. রাশেদুল ইসলাম লিখন (শিবির প্যানেল), সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক- আহসাব লাবিব (গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (নারী)- নিগার সুলতানা (শিবির প্যানেল), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (পুরুষ)- মো. তৌহিদ হাসান (শিবির প্যানেল), স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক- হুসনী মোবারক (শিবির প্যানেল), পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক- মো. তানভীর রহমান (শিবির প্যানেল),

কার্যকরী সদস্য
মো. তরিকুল ইসলাম (পুরুষ, শিবির প্যানেল), মো. আবু তালহা (পুরুষ, শিবির প্যানেল), মোহাম্মদ আলী চিশতি (পুরুষ, বাগছাস), নাবিলা বিনতে হারুণ (নারী, শিবির প্যানেল), ফাবলিহা জাহান নাজিয়া (নারী, শিবির প্যানেল), নুসরাত জাহান ইমা (নারী, শিবির প্যানেল)।

এবারের জাকসু নির্বাচনে ১১ হাজার ৭৫৯ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৭৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন এবং যুগ্ম সম্পাদক (এজিএস) পদে ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৬। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে মোট আটটি পূর্ণ ও আংশিক প্যানেল।

তবে ভোট গ্রহণ শুরুর পর কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলসহ পাঁচটি প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে। বর্জনকারীদের মধ্যে রয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, এবং স্বতন্ত্রদের ‘অঙ্গীকার পরিষদ’।

 

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন— সমান গুরুত্বে দেখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একটি বৈঠক বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়।

দুই ঘন্টা ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব এবং এ সংক্রান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কমিশন সদস্যরা জানান, খুব শিগগিরই কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জমা দেবে।

এই বিষয়টিকে সামনে এগিয়ে নিতে আগামী রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারো বৈঠক করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে গঠিত ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রস্তাবনাগুলোও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানতম তিনটি মেন্ডেটের অন‍্যতম হচ্ছে সংস্কার। তাই নির্বাচন ও বিচারের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে জুলাই সনদের বিষটিকে দেখতে হবে।”

তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন শুধুমাত্র একটি সাধারণ নির্বাচনই নয়, এটি হচ্ছে একটি ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন যার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের পথরেখা।”

তিনি বলেন, “তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদেরকে অবশ্যই মৌলিক সংস্কারগুলো চুড়ান্ত করে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের কোন বিকল্প আমাদের হাতে নেই।”

কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন সাময়িক বরখাস্ত

ডেস্ক: সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে যাওয়া কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। একই দিন প্রজ্ঞাপনটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে সুলতানা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারি এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানিতে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চ মাসে একটি পুকুর নিজের নামে নামকরণ করেন ডিসি সুলতানা। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় ওই বছরের ১৩ মার্চ দিবাগত রাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। চোখ বেঁধে তুলে এনে তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ডিসি অফিসে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালান তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা।

পরে আরিফুলের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। কারামুক্ত হয়ে আরিফুল ইসলাম রিগান এ ঘটনায় মামলা করেন, যা পাঁচ বছর ধরে চলমান। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এবার বরখাস্ত হলেন সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন।

ডাকসু নির্বাচন: ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস ফরহাদ

সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ (ছবি: সংগৃগীত)।

ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী সাদিক কায়েম নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়ী হয়েছেন একই প্যানেলের এস এম ফরহাদ।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

ভিপি পদে সাদিক কায়েম পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান পান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।
জিএস পদে এস এম ফরহাদ পেয়েছেন ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত শেখ তানবীর বারী হামিম পান ৫ হাজার ২৮৩ ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন খান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৭২ ভোট।

দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখা যায়।এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন এবং ১৩টি ছাত্র হলে ২০ হাজার ৯১৫ জন ভোটার ছিলেন।

কেন্দ্রীয় সংসদে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া, ১৮টি হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২৩৪টি পদের বিপরীতে ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী ছিলেন।

ইউনিয়ন পর্যায়ে চট্টগ্রাম ডিসির অভিনব গণশুনানি

ছবি: সংগৃহীত।

ডেস্ক: জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রান্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হলো গণশুনানি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় নাগরিক সেবা বিষয়ক এ গণশুনানি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: সাদি উর রহিম জাদিদ। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা সহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে কুসুমপুরা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো নিষ্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এসময় উত্থাপিত ২১টি বিষয়ের মধ্যে ২০টির নিষ্পত্তিকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেন জেলা প্রশাসক। ভিক্ষুক ও গৃহহীন পুনর্বাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, সড়ক উন্নয়ন, প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় হুইলচেয়ার প্রদান, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা – প্রধানত এসকল বিষয় উঠে আসে আজকের এই গণশুনানিতে। জটিল সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন জেলা প্রশাসক তিনি জানান।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক প্রতি বুধবার নিজ কার্যালয়ে গণশুনানি করেন। তবে কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে এনে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়ে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামের এই অভিনব উদ্যোগ।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “টাইম-কস্ট-ভিজিট—জনগণের ভোগান্তি লাঘবে এই তিনটি বিষয় সহজীকরণের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানির এই উদ্যোগ। মানুষকে সেবা পেতে দৌড়াতে হবে না, প্রশাসন তাদের দোরগোড়ায় যাবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। এ ধরনের আয়োজন জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে।”

“স্থানীয়রা বলেন, জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ অভাবনীয়। মাঠপর্যায়ে এরকম গণশুনানি চলমান থাকলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।”

মাদক-বান্ধব পুলিশকে ছাড় নয়: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ার

ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: নরসিংদীতে মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন (শামীম আনোয়ার)। তিনি বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্য মাদক বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে প্রমাণসহ তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “পুলিশই যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের মতো মাদকের সঙ্গে ন্যুনতম সংশ্লেষ থাকা পুলিশের স্থান নরসিংদীর মাটিতে হবে না।”

তিনি জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো পুলিশ অফিসার বা সদস্য মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত থাকলে ছোট্ট একটি ভিডিও বা অডিও প্রমাণ সংগ্রহ করে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিন। আমি কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমি পক্ষপাতিত্বের লোক নই, আমি ন্যায়বিচারের লোক।”

তিনি আরও জানান, নরসিংদীতে কোনো পুলিশ সদস্য বা তাদের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি মামলা, জিডি, তদন্ত, মোবাইল উদ্ধার, বিরোধ মীমাংসা বা ভিকটিম উদ্ধারের নামে টাকা দাবি করে, তবে তার প্রমাণ সংগ্রহ করে জানাতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “অল্প কিছু বিপদগামী পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো বাহিনী কলঙ্কিত হয়। আপনারা যদি এসব অপরাধে চুপ থাকেন আর পরে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পুলিশ ঘুষ নেয়’ বলে পোস্ট দেন, তাহলে নীতিবান পুলিশ সদস্যরা কষ্ট পান।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমার নামে কেউ টাকা, মাসোহারা বা অন্য কোনো সুবিধা চাইলে প্রমাণ সংগ্রহ করে তার হাত-পা বেঁধে খবর দিবেন। সে পুলিশ, পাবলিক, সরকারি বা বেসরকারি লোক যে-ই হোক না কেন।”

জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তার সরকারি মোবাইল নম্বর (হোয়াটসঅ্যাপ): ০১৩২০০৯১৩৪৫।

শেষে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমরা সবাই মিলে যুগযুগের পচা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনব, ইনশাআল্লাহ।”

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ

চট্টগ্রাম: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শোভাযাত্রা ৫৪তম জশনে জুলুস ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসুল সালাম আলাইকা’ দরুদ পাঠ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকেন মুরাদপুর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। সকাল ৯টায় আলমগীর খানকাহ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোভাযাত্রা শুরু হয়।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ ও সৈয়্যদ মুহাম্মদ মেহমুদ আহমদ শাহ্ ।

শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এবং সার্বিক সহযোগিতা করছে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, শরিয়তসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে ড্রাম সেট বাজানো, নারীর অংশগ্রহণ এবং খাবার নিক্ষেপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

টাইফয়েড টিকা: সুরক্ষার এক অনন্য হাতিয়ার

ডা. এম এ মোরশেদ (ছবি: সংগৃহীত)

আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে টাইফয়েড টিকা দেওয়া শুরু হবে। স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবক কিংবা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—“এই টিকা কেন দিতে হবে? কোনো ক্ষতি হবে না তো?”

আর এসব বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক নিজের ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তোলে ধরেন ডা. এম এ মোরশেদ।

“সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরেন। তার পোস্ট থেকে নেওয়া মূল অংশগুলো নিচে প্রকাশ করা হলো।”

তিনি জানান, টাইফয়েড টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়া হয় টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধ করার জন্য।
টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত, পানি ও খাদ্যবাহিত সংক্রমণ, যেটি Salmonella Typhi জীবাণুর কারণে হয়।

কেন টিকা জরুরি?
রোগ প্রতিরোধ: টিকা শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, ফলে জীবাণু প্রবেশ করলেও গুরুতর সংক্রমণ হয় না।

জটিলতা থেকে সুরক্ষা: টাইফয়েড হলে অন্ত্রের আলসার, রক্তক্ষরণ, এমনকি অন্ত্র ফেটে গিয়ে জীবনহানির ঝুঁকি থাকে। কিছু শিশুর মস্তিষ্কেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স রোধ: বর্তমানে অনেক টাইফয়েড জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে গেছে। এতে চিকিৎসা কঠিন হচ্ছে। টিকা এ ঝুঁকি কমায়।

প্রাদুর্ভাব:
বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে পানি ও খাদ্য দূষণের কারণে টাইফয়েড একটি সাধারণ রোগ।

ভ্রমণকারীদের সুরক্ষা: যেসব দেশে টাইফয়েড বেশি হয়, সেখানে ভ্রমণের আগে টিকা নেওয়া জরুরি।

কে টিকা নেবে?
ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বসবাসকারী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকেই টিকা দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের দেশে শিশুদের জন্য সরকারিভাবে এটি চালু হতে যাচ্ছে।

কিভাবে দেয়া হয়?
ইনজেকশনের মাধ্যমে টিকা দেয়া হয়। একবার নিলে কয়েক বছরের জন্য সুরক্ষা পাওয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য ২–৩ বছর পর পর পুনরায় নিতে হয়।

বাংলাদেশে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই শিশুদের সরকারি ভাবে টাইফয়েড এর টিকা দেওয়া হবে, এই সুবিধা গ্রহণ করার আহবান জানান তিনি। এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে টিকা গ্রহণের দিন বাচ্চা অসুস্থ থাকলে ঐদিন টিকাদান বিরত রাখতে হবে।

ডা. এম এ মোরশেদ
সহকারী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ
রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ।

নুরুল হক নূরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত

ডেস্ক:

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম রাজনীতিবিদ নুরুল হক নূরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নূরের সহধর্মিণী মারিয়া আক্তার, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, নুরুল হকের শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে মারিয়া আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, নূরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নাকের হাড় ভাঙা এবং চোয়াল ও মেরুদন্ডে আঘাত পেয়েছেন।

মারিয়া আক্তার সুচিকিৎসার জন্য নূরকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জানালে প্রধান উপদেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় আমরা সবাই স্তম্ভিত। তাঁর সুচিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে।”

এ সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, হামলার ঘটনায় বিচারপতি আলী রেজার নেতৃত্বে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আগামীকাল এর গেজেট প্রকাশিত হবে, এবং ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের কাজ সম্পন্ন করবে।

 

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ: সফর ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা

ডেস্ক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে সেনাপ্রধান সম্প্রতি তাঁর চীন সফরকালীন অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর অভিজ্ঞতা ও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন।

এ সময় দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সেনাপ্রধান আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনী প্রধান সেনাবাহিনীর চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

 

“পলিথিন ব্যাগে শূন্য সহনশীলতা ঘোষণা: পরিবেশ উপদেষ্টা”

  • ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: দেশে পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহারে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে কারও কাছে পলিথিন পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে জব্দ করা হবে।

রোববার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ বাজারজাতকরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “এবার আর ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত বাজার পরিদর্শনের মাধ্যমে পলিথিন নিষিদ্ধকরণ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষায় পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করতেই হবে।”

তিনি জানান, প্রায় সব সাইজের পাটের ব্যাগ সরকার ভর্তুকি দিয়ে সুলভ মূল্যে সরবরাহ করছে। একটি ব্যাগ একবার কিনলে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব। তাই পলিথিন ব্যবহার করার কোনো অজুহাত আর গ্রহণযোগ্য নয়।

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ ২০০২ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছিল, অথচ ২০২৫ সালেও তা ব্যবহার হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সব ধরনের প্লাস্টিক নয়, কেবল একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক—বিশেষ করে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের আওতায় আসবে।

মাছ, মাংস ও শাকসবজি বহনে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের সুবিধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ব্যাগ ধুয়ে বারবার ব্যবহার করা সম্ভব। এতে পরিবেশ রক্ষা হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও সুরক্ষিত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ এবং পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা উপস্থিত ছিলেন।

ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কাল বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

 

ডেস্ক: বর্তমান পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক শুরু হবে রবিবার (৩১ আগস্ট) থেকে। এদিন বৈঠকে অংশ নেবে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি।

শনিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো শক্তি বা ষড়যন্ত্রই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।

প্রেস সচিব আরও জানান, সমসাময়িক বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কয়েকজন উপদেষ্টা, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়েছে।

নুরুল হক নুরের ওপর হামলাকে ন্যাক্কারজনক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে একজন হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসময় তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা নুরুল হক নুরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

ভিপি নুরের ওপর হামলা নিয়ে সরকারের বিবৃতি

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নূরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কেবল নূরের ওপরই নয়, এ ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনার ওপরও আঘাত। এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

তাৎক্ষণিকভাবে নুরুল হক নূর ও তাঁর আহত সহকর্মীদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানোরও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

বিবৃতিতে নূরের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়। বলা হয়, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। চব্বিশের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান চলাকালে তাঁকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনেরও উল্লেখ রয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংকটময় এই সময়ে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে—২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে বলেও জোর দেওয়া হয়েছে।

দেশব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় দেড় হাজারের বেশি গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি

ডেস্ক: সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১ হাজার ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ৯৮২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে অন্যান্য অপরাধে আরও ৫৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ছাড়াও অভিযানে রিভলবার, ১২ বোর একনলা বন্ধুক, এলজি বন্ধুক, পিস্তল, জি-৩ রাইফেল, এমএ-১ ভেরিয়েন্ট রাইফেল, এলএম-১৬ ভেরিয়েন্ট রাইফেল, দেশীয় এলজি, পাইপগান, নয়টি ম্যাগাজিন, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, ৫১১ রাউন্ড গুলি, তিনটি চাপাতি ও দুইটি চাইনিজ কুড়াল জব্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

 

 

সারাদেশে সেনা অভিযানে নেটওয়ার্ক ভাঙন: অস্ত্র-মাদকসহ ৯১ জন আটক

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২১ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনস্থ ইউনিটসমূহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

এ সকল অভিযানে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, ডাকাত, অবৈধ অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, দালাল, অসাধু ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তসহ মোট ৯১ জন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে— ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ১২ রাউন্ড কার্তুজ, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, স্বর্ণালংকার, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন, বিভিন্ন চোরাই মালামাল ও নগদ অর্থ।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও সেনাবাহিনী সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসাথে জনগণকে সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

মোবাইলে জুয়া অ্যাপ পেলেই শাস্তি: দুই বছরের জেল ও অর্থদণ্ড

ডেস্ক: মোবাইলে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার মাকসুদা আকতার খানম। তিনি জানান, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২০ অনুযায়ী অনলাইন জুয়া খেলা, জুয়া-সম্পর্কিত অ্যাপ বা পোর্টাল তৈরি এবং তার প্রচারণা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

গত সোমবার (২৫ আগস্ট) মেহেরপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, “যারা মনে করেন অনলাইন জুয়া লটারির মতো সহজে টাকা কামানোর উপায়, তারা খেলার আগে অন্তত দুইবার ভাবুন। আমাদের ধর্ম, সমাজ এবং দেশের আইন কোনোভাবেই জুয়াকে সমর্থন করে না।”

তিনি আরও জানান, মেহেরপুর জেলাকে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। মোবাইলে জুয়া অ্যাপ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জামিনুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল করিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোপালসহ জেলার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি।

শেষে পুলিশ সুপার সবাইকে অনলাইন জুয়া থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই অপরাধে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।”