রাঙ্গুনিয়ায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শান্তিনিকেতন এলাকায় বজ্রপাতে মো. আমির শরীফ (৬২) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী ঝড় চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমির শরীফ পেশায় একজন বর্গাচাষী ছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি বাড়ির পাশের বিলে বর্গা নেওয়া জমিতে সেচ দিতে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাকে চন্দ্রঘোনা হেলথকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

নিহত আমির শরীফ উপজেলার শান্তিনিকেতন দক্ষিণ পাড়ার অলি আহমদ মাস্টারের বাড়ির মৃত লেদু হাজীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, প্রতিদিনের মতোই কৃষিকাজে মাঠে গিয়েছিলেন তিনি। সেচ দিয়ে ফেরার পথেই বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়, যা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এনেছে।

রাঙ্গুনিয়ায় গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল, রাজাভুবন ও গজালিয়ার জয়োল্লাস

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার শিশুমেলা মডেল স্কুল মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ (বালক ও বালিকা) এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বালক বিভাগে রাজাভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। একইভাবে বালিকা বিভাগে গজালিয়া আছাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিরোপা জিতে নেয়।

খেলা ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, গ্যালারিতে অভিভাবকদের উচ্ছ্বাস এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি। প্রতিটি আক্রমণ, গোল ও রক্ষণভাগের লড়াইয়ে ফুটে ওঠে শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রাণী গোপ। এ সময় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, খেলাধুলা শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, রাঙ্গুনিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের মাঝে ট্রফি ও সম্মাননা পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় সেচ পাম্পের তারে জড়িয়ে কৃষকের মৃত্যু, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব সরফভাটায় সেচ পাম্পের অরক্ষিত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মো. আবছার (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ সিকদারপাড়া এলাকার কৃষি মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মো. আবছার মরিয়মনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে সরফভাটার দক্ষিণ সিকদারপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। তিনি পেশায় কৃষিকাজ করতেন।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়ির পাশে মাঠে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। এরপর দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিকেলের দিকে কৃষি জমিতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এলাকাবাসীর দাবি, একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক তার কলাগাছের সঙ্গে ঝুলন্ত ও খোলা অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই খোলা তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে বের হলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে রাতে মরদেহ নিজ গ্রাম মরিয়মনগরে নিয়ে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক সংযোগ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। তাদের দাবি, ওই অব্যবস্থাপনাই এই মৃত্যুর কারণ।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটিতে রাঙ্গুনিয়ার আবু আহমেদ হাসনাত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু আহমেদ হাসনাত।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এ অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংগঠকদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগী হিসেবে আবু আহমেদ হাসনাতকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার আলোকে গঠিত এই অ্যাডহক কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে।

উল্লেখ্য, আবু আহমেদ হাসনাত এর আগে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া উন্নয়ন ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেই তাকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগীয় কমিশনার। সদস্য হিসেবে থাকবেন ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, স্থানীয় সরকার পরিচালক, বিভাগীয় সমবায় অফিসের যুগ্ম নিবন্ধক এবং ক্রীড়াবিদ আবু আহমেদ হাসনাত। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদ মো. মসিউল আলম।

রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক-সেতু উন্নয়ন উদ্বোধন, কাপ্তাই সড়ক চার লেনের উদ্যোগের কথা জানালেন এমপি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক ও সেতুর বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ সময় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগের বিষয়ে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত পদুয়া রাজারহাট-কমলাছড়ি ব্রীজঘাটা খুরুশিয়া আবদুল হামিদ সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাপ্তাই সড়ক চার লেনে উন্নীত করা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং এটি বাস্তবায়নে সরকার এগোচ্ছে। প্রকল্পটি চলতি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত কাজ শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, এলজিইডির অধীনে আবদুল হামিদ সড়কটি কার্পেটিং করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া সড়কটি সংস্কারের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, এলজিইডির গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

একই দিন তিনি “ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন” প্রকল্পের আওতায় পেকুয়া সড়কের একটি ৩৯ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুর উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীনে পশ্চিম সরফভাটা এলাকার ক্ষেত্রবাজার-কালুরঘাট-চরণদ্বীপ সড়কের উন্নয়ন কাজেরও উদ্বোধন করা হয়।

 

পুষ্টি সচেতনতা বাড়াতে রাঙ্গুনিয়ায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি শুরু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি ও অপুষ্টি দূরীকরণে রাঙ্গুনিয়ায় শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি। “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

উপজেলা পর্যায়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, বাস্তবায়নে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

উদ্বোধন উপলক্ষে সকালে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আকতার এবং রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আফসার। এ সময় বক্তব্য দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইসমাইল হুসাইন, ডা. রিতা দাশ, রিপন দত্ত, উৎপল বড়ুয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলবে।

সরফভাটায় স্থায়ী খেলার মাঠের দাবিতে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটায় যুবসমাজকে মাদকের আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং শিশু-কিশোরদের বিনোদন ও স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থায়ী খেলার মাঠের দাবিতে একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা ইউনিয়নের পুড়ামুড়া এলাকার একটি মাঠে এ ম্যাচের আয়োজন করা হয়। এতে সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরাও অংশ নেন।

১৬ ওভারের খেলায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সরফভাটার তরুণ ক্রিকেটাররা ২১৪ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। জবাবে সরফভাটার সাবেক ক্রিকেটাররা ১৫০ রানে অলআউট হলে ৬৪ রানের ব্যবধানে জয় পায় উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটাররা।

খেলায় অংশগ্রহণ করেন এস এ মুরাদ চৌধুরী, সোহেল রানা, রিকু, মামুন, জামাল, জুয়েল, মুন্না, সোহেল, ইউনুস, সাঈদ, সাজ্জাদ, তারেক, ওসমান, আকিব, ইরফান সিফাত, কোরবান প্রমুখ।

এ সময় ক্রীড়া সংগঠক এস এ মুরাদ চৌধুরী বলেন, সরফভাটা রাঙ্গুনিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। অথচ এ এলাকায় সর্বসাধারণের জন্য কোনো স্থায়ী খেলার মাঠ নেই। যে স্থানে প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটিও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে খেলার মাঠ থাকলেও সরফভাটা দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সরফভাটায় একটি স্থায়ী খেলার মাঠ নির্মাণের জোর দাবি জানান।

আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী খেলার মাঠের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে আবারও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

আয়োজকদের মতে, এলাকায় একটি খেলার মাঠ নির্মিত হলে তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হবে, যা মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে এবং সামাজিক শান্তি ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মহিবুল্লাহ মারুফী, আজগর, আলমগীর সিকদার, মান্নান, লিয়াকত, সবুজ, বি,এস করিম, এস,এম সালাউদ্দীন প্রমুখ।

কাঁচা সড়কে ভরসা, বর্ষায় বন্ধ স্কুলে যাওয়া—রাঙ্গুনিয়ার হালিমপুরে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : দুর্গম এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে আশোবা ওয়াজেদ প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা সড়কের দুরবস্থার কারণে বর্ষা এলেই কার্যত থমকে যায় পাঠদান কার্যক্রম। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে শত শত শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১ নম্বর রাজানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমপুর এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৯ সালে এলাকার কৃতি সন্তান অধ্যাপক ডা. ওয়াকিল আহমদ তাঁর মরহুম পিতা-মাতার নামে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে ইতোমধ্যে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে নিয়মিত পড়াশোনা করছে। হালিমপুরসহ বাইশ্যের ডেবা, গাজী বাড়ি, বাইশ্যের বাড়ি, মোহাম্মদপুর, দরবানীর বাড়ি ও ফুল বাগিচা গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এক থেকে দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে আসে।

কিন্তু বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা সড়কটি এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই সড়কটি কাদামাটিতে পরিণত হয়ে পড়ে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও পিচ্ছিল ও জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে সড়কটি তখন প্রায় অচল হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “শুকনো মৌসুমে আমরা নিয়মিত স্কুলে আসতে পারি। কিন্তু বর্ষা শুরু হলেই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে, কাপড় নষ্ট হয়ে যায়—তাই অনেক সময় স্কুলে আসা সম্ভব হয় না।”

অভিভাবকদের অভিযোগও একই। স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করুক—এটাই চাই। কিন্তু বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ থাকে যে তাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। অনেক সময় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরাম হোসেন বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বর্ষা এলেই তা অর্ধেকে নেমে আসে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত আসতে পারে না, ফলে তাদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। সড়কটির উন্নয়ন হলে শিক্ষার পরিবেশ অনেক ভালো হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা বখতেয়ার উদ্দিন বলেন, “এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটেছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল অবস্থার কারণে সেই সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।”

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর কাছে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এমপির প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করে বর্ষা মৌসুমেও চলাচল উপযোগী করা হোক।

রাঙ্গুনিয়ায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে আবারও ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা ও আগ্রহ।

এই কর্মসূচিকে বাস্তব রূপ দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) তিনি রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় এবং খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তারা খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তারা বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা একটি সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এই কর্মসূচিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া পরিদপ্তরের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে বাছাইয়ের মাধ্যমে সেরা প্রতিভাদের খুঁজে বের করে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে।

স্কুলভিত্তিক এই কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ইতোমধ্যে বিভিন্ন খেলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এখন আর শুধু একটি কর্মসূচি নয়—রাঙ্গুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠছে।

রাঙ্গুনিয়ায় কাল থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন, টিকা পাবে ৫২,৯০৬ শিশু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই কার্যক্রম চলবে আগামী ১০ মে পর্যন্ত।

উপজেলায় মোট ৫২ হাজার ৯০৬ জন শিশুকে স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে স্থাপিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এ টিকা প্রদান করা হবে।

এ উপলক্ষে রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এক এডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জয়নাব জমিলা।

সভায় জানানো হয়, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপজেলার সব টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সভায় আরও বলা হয়, হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এ টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্ধারিত কেন্দ্রে এসে শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এডভোকেসি সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মাদকমুক্ত রাঙ্গুনিয়া গড়তে জড়িতদের তালিকা চাইলেন এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়াকে মাদকমুক্ত করতে এবং মাদকের ভয়াবহ কবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকসেবি ও কারবারিদের তালিকা সরাসরি নিজের কাছেই দিতে আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) আয়োজনে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ত্রিপুরা সুন্দরী খালের ওপর নির্মিত বক্স কালভার্ট উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, তার জানামতে গত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে কাপ্তাই সড়ক চার লেন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে আগামী সপ্তাহে এ সড়ক চার লেন করার কাজের উদ্বোধন করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, “এই ছোট ছোট কাজগুলো আমরা যদি সময়মতো করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ পাঁচ বছরের মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব।”

নিজ দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা নিজ নিজ এলাকা ও ইউনিয়নে নেতৃত্ব দিতে চান, তাদের দায়িত্বপালন শুরু করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, “বক্তৃতা দিয়ে আর ভোট হবে না, এবার কাজের মাধ্যমে ভোট আসবে। সামনে ইউনিয়ন নির্বাচন রয়েছে। এই নির্বাচনে আপনাদের কাজ যদি মানুষ না দেখে, তাহলে কেউ ভোট দেবে না। সেকারণে নিজেদের প্রস্তুত করে কাজে নামতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় সম্ভবত প্রথমবারের মতো একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে কাউকে চাঁদা দিতে হয়নি, সময় অপচয় হয়নি এবং নির্ধারিত সময়েই উদ্বোধন করা সম্ভব হয়েছে। এ সময় তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “আগামীবার যখন এখানে আসব, দোয়া করি গাড়িতে করে আসতে পারি। তাই দ্রুত এই রাস্তার কাজ শুরু করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আপনাদের এলাকায় যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে ধরিয়ে দিতে হবে। আমি বুঝি, অনেকেই আপনাদের চেনাপরিচিত মানুষ। অনেক সময় বলা হয়—ছেলেটা খারাপ হয়ে গেছে, কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এটি ভুল ধারণা, এভাবে কেউ ভালো হয় না। প্রয়োজনে এক বছর জেলে থাকলে সে ভালো হয়ে যেতে পারে। এজন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, কারণ আপনারাই জানেন কারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত।”

তিনি আরও বলেন, “মাদক কারবারিদের তালিকা প্রশাসনকে দিতে ভয় পেলে আমাকে দিন, আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।” তিনি বলেন, “সমাজকে ঠিক করতে না পারলে রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়নও থেমে থাকবে।”

এ সময় এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ আরেকটি ওয়াদা করে যাচ্ছি—রাঙ্গুনিয়ায় যখনই ঢুকব, নতুন কিছু নিয়ে আসব।” তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং পদুয়ায় একটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে একইদিন বিকেলে উপজেলার দীর্ঘদিন ধরে মৃতপ্রায় শিলক খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএডিসি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাশ।

রাঙ্গুনিয়ায় শিলক খাল পুনঃখনন শুরু, উদ্বোধন করলেন এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মৃতপ্রায় শিলক খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) উদ্যোগে পরিচালিত এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি নিজ হাতে মাটি কেটে খনন কাজের সূচনা করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ শুরু করেছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে স্বল্প পরিসরের কৃষি ঋণ মওকুফের বিষয়টিও রয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ ছিল, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সেই কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “যত বাধা থাকুক, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা,” বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএডিসি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাশ।

পরে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী পদুয়া ইউনিয়নের ত্রিপুরা সুন্দরী খালের ওপর নির্মিত একটি বক্স কালভার্ট উদ্বোধন করেন। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। এতে এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষক উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ায় পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের নির্দেশনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আওতাধীন বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চুরি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন। প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা এবং নৈশপ্রহরী নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটিগুলোকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক পত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চুরি ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যার ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবের সময় বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটলে মণ্ডপগুলোতে চুরি ও ভাঙচুরের আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই এই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. আরমান হোসেন জানান, ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ যদি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সিসি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাহলে চুরি ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

ইতোমধ্যে উক্ত নির্দেশনার অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বর্তমানে মোট ১০৬টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ টায়ার ফ্যাক্টরিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, কার্যক্রম বন্ধ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট সত্যপীর মাজার গেইট এলাকায় অবস্থিত একটি অবৈধ টায়ার ফ্যাক্টরিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে ফ্যাক্টরিটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ। এ সময় চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরিটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন উৎপাদন করা হচ্ছিল, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

প্রশাসন আরও জানায়, এ ধরনের অবৈধ ও পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গরু চুরি ঠেকাতে রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের মাঠে প্রচার, ওসির সতর্কবার্তা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় গরু চুরি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় গরুর বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিয়ে আলোচনা সভা করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকালে উপজেলার রানীরহাট গরুর বাজারে এ সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন বলেন, গরু চুরি রোধে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বাজারে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাদের সচেতন করা হচ্ছে।

বাজার কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে চোরাই গরু কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি চোরাই গরু কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকলে বা এ ধরনের তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাজারের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা গরু চুরি প্রতিরোধে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্রী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়া দুই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে পৃথক স্থান থেকে তাদের উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শুক্রবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, গত ৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তাদের অভিভাবকরা থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৮৪ ও ১৮৫) দায়ের করেন।

নিখোঁজের পরপরই ওসি মো. আরমান হোসেনের তত্ত্বাবধানে উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে জিডি নং-১৮৪-এর ভুক্তভোগীকে সীতাকুণ্ড থানার কুমিরা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে জিডি নং-১৮৫-এর অপর ভুক্তভোগীকে পঞ্চগড় জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়।

ওসি মো. আরমান হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া দুই ছাত্রীই সুস্থ রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি, দানবাক্স ভেঙে টাকা ও অলংকার লুট

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় একটি হিন্দু মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে মন্দিরে প্রবেশ করে দানবাক্স ভেঙে নগদ অর্থ ও অলংকার নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়ির দোকান এলাকায় অবস্থিত মা মগদেশ্বরী মন্দিরে এ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে।

মন্দিরের পুরোহিত বিমল চক্রবর্তী (৫০) জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি পূজা শেষে মন্দির বন্ধ করে বাড়িতে যান। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মন্দিরে এসে দেখেন, কলাপসিবল গেটের তালা ভাঙা এবং ভেতরের দানবাক্সের তালাও ভাঙা অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মন্দিরের প্রতিমার গায়ে থাকা লাল কাপড় সরিয়ে দুর্বৃত্তরা একটি ইমিটেশন (নকল) হার নিয়ে গেছে। এছাড়া মন্দিরের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। দানবাক্সে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে যেকোনো সময় এ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে বিএনপি নেতাসহ একই পরিবারের তিনজন গুলিবিদ্ধ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় দুর্বৃত্তের গুলিতে একই পরিবারের কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আজ রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যার পর উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের গঞ্জম আলী সরকারের বাড়ি এলাকায় এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সন্ধ্যার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে, চারজনের একটি সশস্ত্র দল সরফভাটা ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ওসমানের বাড়িতে গিয়ে অতর্কিত এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং পরে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে।

এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোহাম্মদ ওসমান বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্বৃত্তদের এই এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের সময় মোহাম্মদ ওসমানের মায়ের পায়ে গুলি লাগে এবং তাঁর বাবাও কপালে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তবে মোহাম্মদ ওসমানের বাবা ও মায়ের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‍্যাব ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে ওসি মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং এই হামলার ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সংযম ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান এমপি হুমামের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, রমজান মাসে মানুষ যেভাবে সংযম ও ভালো আচরণ করেছে, তা যেন সারা বছর ধরে বজায় থাকে।

শনিবার (২১ মার্চ) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “গত ৩০ দিন আমরা পবিত্র রমজান পালন করেছি। এই সময়জুড়ে রোজা রেখে আমাদের আচরণ ভালো ছিল, রাঙ্গুনিয়ার সর্বত্র শান্তি বিরাজ করেছে। আশা করি, আমরা আগামী পুরো বছরও একইভাবে নিজেদের পরিচালনা করব এবং একে অপরের প্রতি ভালো ব্যবহার অব্যাহত রাখব।”

এ সময় তিনি সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা জনগণের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাই সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি স্বপ্নের রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
পরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে থানা প্রাঙ্গনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. বেলায়েত হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আক্তার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত ওসি মো. সেকান্দর, রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান, রোয়াজাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর শুক্কুর ও সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ইফতার মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধভাবে মাটি কাটায় ইটভাটাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে একটি ইটভাটাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় অবস্থিত বিবিসি-২ নামের একটি ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

অভিযানকালে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ইটভাটাটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইসলামপুরের বিবিসি-২ ইটভাটাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সরকারি নির্দেশনা না মানায় রাঙ্গুনিয়ায় দুই তেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুটি জ্বালানি তেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

অভিযানের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো রেজিস্টার সংরক্ষণ না রাখায় রানীরহাট ফিলিং স্টেশনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া টানা ২৪ ঘণ্টা তেল সরবরাহ না থাকায় পেট্রোল পাম্পটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া বিক্রয় রেজিস্টার সংরক্ষণ না করা এবং নিবন্ধন ছাড়া যমুনা অয়েল থেকে সরাসরি ক্রয় ব্যতীত তেল বিক্রির অভিযোগে অপর একটি বিক্রয় কেন্দ্রকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন কমিটিতে তদবির নয়, প্রাধান্য পাবে ত্যাগী নেতাকর্মীরা: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : নতুন কমিটি গঠনে তদবির বাণিজ্যের সুযোগ থাকবে না। যারা ত্যাগী এবং গত ১৭ বছর দলের জন্য জান-প্রাণ দিয়ে কাজ করেছেন, তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) উপজেলার কাদেরনগর এলাকায় উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর তিনি গতকাল প্রথমবারের মতো সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সংসদে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রথম বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসেই এই নতুন যাত্রা শুরু হওয়াকে সৌভাগ্যের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনের সময় সবার মনে একটি কষ্ট ছিল। অনেকের বিশ্বাস ছিল, যখন সবাই সংসদে যাবেন তখন মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হয়তো তাদের সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তবুও সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সবাই মিলে গণতন্ত্রের এই নেত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।

ইফতার মাহফিলে বক্তব্যে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রমজান মাসে ইফতার ও আজানের আগে যদি সবাই ৫ থেকে ১০ মিনিট একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসে ইবাদত ও দোয়া করা যায়, তবে তা খুবই ভালো হবে। তিনি সবাইকে দেশ, প্রধানমন্ত্রী, রাঙ্গুনিয়াবাসী এবং প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, রোজার মাসে দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানে এসেছেন এবং সেগুলো নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান। তিনি বলেন, নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে তিনি একটি বিষয়ই বলেছেন—এই নির্বাচন তিনি একা করেননি, বরং সবাই মিলে করেছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদে পৌঁছানোর কৃতিত্ব তিনি মঞ্চে উপস্থিত নেতাকর্মীদের দেন।

তিনি আরও বলেন, দলের নীতি হলো ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়। রাঙ্গুনিয়ার নেতাকর্মীরা নির্বাচনের সময় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সেই কথার প্রমাণ দিয়েছেন।

দলীয় কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় সরকারে আসার পর নেতাকর্মীরা মনে করেন মামলা-মোকদ্দমার চাপ কমে গেছে এবং তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে অনেকে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। আবার আগের মতো ঘন ঘন বড় কর্মসূচিও হয় না। ফলে দল অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি প্রতি মাসে একদিন নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, যদি প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার সবাই একত্রিত হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে দল আরও শক্তিশালী হবে এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও যৌথভাবে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে দলের নেতাকর্মীরা মামলা-মোকদ্দমা ও নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান কমিটিগুলো বিলুপ্ত করার একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে। তবে কখন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাই নির্ধারণ করবেন।

তিনি বলেন, নতুন কমিটি গঠনের সময় নেতাকর্মীদের অতীত কর্মকাণ্ড, আচরণ এবং দলের জন্য তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটিতে যারা দায়িত্ব পাবেন তাদের সবাই সমর্থন করবেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “এই কমিটির জন্য তদবির বাণিজ্য হবে না। যারা ত্যাগী এবং গত ১৭ বছর দলের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করেছে, তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে।”

দলীয় গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই বলেন এটি কারও গ্রুপ বা অন্য গ্রুপের। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার কোনো গ্রুপ নেই; তার একমাত্র গ্রুপ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এখানে সবাই একই দলের কর্মী এবং তাদের নেতা একজনই—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে প্রমাণ করার যে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনের সময়ও সেই ঐক্যের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছর রাঙ্গুনিয়ায় দল ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করবে।

মাসিক বৈঠকের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিনিয়র নেতারাই নেবেন। তাদের সুবিধা অনুযায়ী দিন নির্ধারণ করা হবে এবং এ বিষয়ে দলের কমিটির প্রধান অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এসব বৈঠকে নেতাকর্মীরা একসঙ্গে বসে সুখ-দুঃখ, অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন এবং দলকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সবার পরামর্শ নেওয়া হবে।

শেষে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরের সংগ্রামে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার, ট্রাইসাইকেল ও হিয়ারিং এইড প্রদান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য হুইলচেয়ার (বড় ও ছোটদের জন্য), ট্রাইসাইকেল ও হিয়ারিং এইড প্রদান করা হবে। এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশ করা হয়েছে।

ঘোষণায় জানানো হয়, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হবে। কারও পরিচিত কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রয়োজন হলে আগামী ১০, ১১ ও ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

আবেদনকারীর ৪R (৪×৬ ইঞ্চি) সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জমা দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে উপকারভোগীদের মধ্যে উপকরণ বিতরণ করবে বলে জানানো হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন এবং তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল। তিনি দাবী করেন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ উত্তর রাঙ্গুনিয়ার মানুষ ও আমার পরিবারের সদস্যরা আবারও প্রমাণ করেছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আজও মানুষের হৃদয়ে জীবিত আছেন।”

তিনি বলেন, বাবার নাম উচ্চারণ করলে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মুখে হাসি নিয়ে বলুন—সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন, তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা ন্যায়বিচার, ভোটাধিকার ও নিরাপদ জীবনের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। এই সময়ে অনেকেই জীবন দিয়েছেন, যাদের তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ১২ তারিখের ভোটকে সামনে রেখে আরও কিছুদিন মাঠে থাকতে হবে। তিনি বলেন, “বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে হবে। আজকের এই জনসভা ও গণমিছিল প্রমাণ করেছে, রাঙ্গুনিয়ায় ইনশাআল্লাহ বিএনপির জয় হবেই।”

উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তিনি দেখেছেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বার্তা রাঙ্গুনিয়ায় পৌঁছেনি। তিনি বলেন, “উন্নয়নের কথা পদ্মা সেতু পর্যন্ত এলেও রাঙ্গুনিয়ায় আসেনি।” গত দুই সপ্তাহের প্রচারণায় ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে থেকে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন। মরিয়মনগর থেকে রানীরহাট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর আগে এই সড়ক প্রশস্ত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে একফুটও চওড়া হয়নি, বরং আরও সংকুচিত হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে এই সড়ক প্রশস্ত করা।

তিনি আরও বলেন, গ্রাম থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় মানুষ এখনো তার বাবার সময়ে নির্মিত রাস্তা ব্যবহার করছে, কিন্তু দীর্ঘদিন তা সংস্কার হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলেও দলের সিনিয়র নেতারা নিজ উদ্যোগে বালু ও ইট দিয়ে কিছু রাস্তা সংস্কার করেছেন বলেও তিনি জানান।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে হুমাম বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতাল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিদ্যমান হাসপাতাল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, এসব হাসপাতাল সংস্কারের দায়িত্ব বিএনপি নেবে।

তিনি জানান, সম্প্রতি উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে। অদক্ষ বৈদ্যুতিক সংযোগের ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে ইলেক্ট্রিশিয়ানসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যাবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সনদ ও পরিচয়পত্র দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রবাসী পরিবারগুলোর প্রসঙ্গে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেক মানুষ। তিনি বলেন, চুক্তি ও সরকারি সনদ অনুযায়ী চাকরি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, তার বাবা-দাদারা দীর্ঘদিন রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সঙ্গে এক পরিবারের মতো বসবাস করেছেন। নিজের বয়স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আমি সংগ্রাম করেছি। এই কম বয়সে রাঙ্গুনিয়া নিরাপদ থাকবে কিনা, তার জবাব আপনারা ভোটের মাধ্যমে দেবেন।”

জনসভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে থেকে সৎ রাজনীতির মাধ্যমে দেশের উন্নয়নই বিএনপির রাজনীতির মূলনীতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনসভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সন্ধ্যার আগেই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে যোগ দেন।

আমরা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে এসেছি: অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ইসলামি ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা ও পথসভা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তিনি মরিয়মনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান। এ সময় এক পথসভায় বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান বলেন, রাঙ্গুনিয়াবাসীর প্রতীক, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রতীক, রিকশাচালক ও ব্যবসায়ীদের প্রতীক, পেশাজীবী, মা-বোনসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলমান—চার লাখ রাঙ্গুনিয়াবাসীর জনপ্রিয় প্রতীক মোমবাতি। এই প্রতীকে দোয়া ও ভোট চান তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে প্রত্যেক দল-মতের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও বালুদস্যুমুক্ত রাঙ্গুনিয়া গড়ে তোলা হবে। একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিময় ও ঐক্যবদ্ধ রাঙ্গুনিয়া প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান আরও বলেন, তারা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। সার্বিক উন্নয়নে ১৩ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব দূরীকরণ, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়াকে দেশের একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে সংসদে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের অধিকার জোরালোভাবে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেন এই প্রার্থী। তিনি এ সময় ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সবাইকে রাজপথে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

লুটতরাজ বন্ধে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : লুটতরাজ ও দখলবাজির রাজনীতি বন্ধে দাঁড়ি পাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিমের উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন নির্বাচনী অফিসে এক সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর বিজয় মানেই সন্ত্রাসমুক্ত রাঙ্গুনিয়া গড়ে তোলা, দখলবাজির রাজনীতির অবসান এবং অন্যায়-অবিচার রোধ করা। তারা অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর যারা ব্যাংক লুটপাট করে ব্যাংক ও বীমা খাত শূন্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।

বক্তারা বলেন, দেশের চলমান লুটতরাজের বিরুদ্ধে দাঁড়ি পাল্লা মার্কায় এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ১১ দলীয় জোটকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনার বিকল্প নেই।

সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্ট ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খাজা গিয়াস উদ্দিন শাহজাহান। এছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল মান্নান, কাজী মুফিজুর রহমান, মুহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, রাঙ্গুনিয়ার আনাচে-কানাচে নারী-পুরুষ সকল ভোটারকে বোঝাতে হবে যে ভোট দিতে কোনো ভয় নেই। নির্বাচন হবে ভয়বিহীন, অবাধ ও সুষ্ঠু। কোনো ধরনের গোজামিলের সুযোগ থাকবে না বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যোগাযোগ, চিকিৎসা ও কৃষিতে উন্নয়নের অঙ্গীকার ডা. রেজাউলের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি উপজেলার ৫ নম্বর পারুয়া ইউনিয়নের মধ্যম পারুয়া হয়ে ১৪ নম্বর দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট টেকে এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন।

পথসভায় ডা. রেজাউল করিম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেমন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রাঙ্গুনিয়ার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাঙ্গুনিয়ার প্রধান সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরে বলেন, উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অনেক এলাকার রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী। শুষ্ক মৌসুমে যেসব রাস্তায় কষ্ট করে চলাচল করা যায়, বর্ষা মৌসুমে সেগুলো একেবারেই অচল হয়ে পড়ে।

নিজেকে রাঙ্গুনিয়ার সন্তান ও ভূমিপুত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে কাজ শুরু করবেন এবং রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন।

চিকিৎসা সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ মানের হাসপাতাল নেই। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের দূর-দূরান্তে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি উপজেলার বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

রাঙ্গুনিয়াকে একটি কৃষিপ্রধান এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য রাঙ্গুনিয়ায় একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে।

পথসভায় তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট কামনা করে বলেন, রাঙ্গুনিয়াকে একটি মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাঙ্গুনিয়া গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনারা ভোট দিতে যাবেন পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে” — হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি উপজেলার ১৫ নম্বর লালানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিল মোগল বাদামতলী এলাকায় এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।

পথসভায় হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাকে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠানোর জন্য মনোনয়ন দিয়েছে। ভোট দেওয়ার সময় শুধু ব্যক্তিকে নয়, দল ও প্রতীকের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষে ভোট দেওয়া মানেই দলের সঙ্গে থাকা সকল মানুষকে সংসদে পাঠানো।

তিনি আরও বলেন, পথসভায় উপস্থিত সিনিয়র নেতারা তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন। তাদের কাছ থেকেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। নেতাকর্মীদের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার সময় তাকে একজন পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানান।

মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট গত ১৭ বছরের ভোটের মতো নয়। সবাইকে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে হবে। ভেবে-চিন্তে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, অনেকেই চায় এই নির্বাচন যেন না হয় এবং বিএনপিকে দুর্বল করা যায়। তবে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ফজরের নামাজের পরপরই সবাই যেন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন।

পথসভায় তিনি আরও বলেন, তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দীর্ঘ ৩৫ বছর রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে ছিলেন। মৃত্যুর আগে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে থাকার দায়িত্ব তাকে দিয়ে গেছেন। সেই দায়িত্ব পালন করতেই তিনি জনগণের কাছে ভোট ও দোয়া কামনা করেন।
এ সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের বার্তা পৌঁছাবে প্রতিটি ঘরে, রাঙ্গুনিয়ায় প্রশাসনের প্রস্তুতি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাঙ্গুনিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসনের প্রচারণাও জোরদার হয়েছে। গ্রাম পুলিশ ও চৌকিদারদের মাধ্যমে গণভোটের বার্তা প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ‘Uno Rangunia’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে এই কার্যক্রমের কথা জানানো হয়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, “গণভোটের প্রচারণা। গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা।”

প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নারী ও পুরুষ গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দুই সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের হাতে গণভোট সংক্রান্ত লিফলেট তুলে দিচ্ছেন ইউএনও নাজমুল হাসান। এ সময় তারা লিফলেটগুলো উঁচিয়ে ধরেন।

এদিকে ইউএনওর ওই পোস্টের নিচে এমডি আশেক এলাহী নামের এক ব্যক্তির মন্তব্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ৯০ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে বাড়িতে গণভোটের লিফলেট পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ।”

প্রশাসনের এই উদ্যোগের পাশাপাশি নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।