দুই থানার পৃথক অভিযানে রাঙ্গুনিয়ায় গ্রেপ্তার ৫, সাজা ৩ মাদকসেবীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ডেভিল হান্ট, পরোয়ানা তামিল ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তিনজন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নির্দেশনায় রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অভিযানে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা, ছয়টি সিআর সাজা পরোয়ানা এবং তিনটি সিআর পরোয়ানার ভিত্তিতে দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের আমতলী পাড়ার মো. সোহাগ (২২) এবং পশ্চিম বগাবিলি এলাকার সুদত্ত বড়ুয়া। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে সরকার ঘোষিত ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সক্রিয় সদস্য আবুল কাসেম বাদশা ওরফে বাদশা মিয়া (৩৫) এবং লালানগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. হারুন (৪৭)-কে গ্রেপ্তার করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে থানার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহির উদ্দিন।

অন্যদিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত ও পাঁচটি জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. আলমগীর (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে তিন মাদকসেবীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

পুলিশ জানিয়েছে, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৪৪৫

চট্টগ্রাম: কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪৪৫ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় এনে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে, অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদক ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়।

অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সন্তানরা কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, নিয়মিত কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাসায় ফিরছে কি না—এসব বিষয়ে খোঁজখবর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব নির্বাচন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিশোর অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

ডেঙ্গু দমনে সীতাকুণ্ডে বিশেষ অভিযান, নজরদারিতে ৭ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

চট্টগ্রাম : সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে চিহ্নিত সাতটি হটস্পট নির্মূলে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, “সাত দিন পর সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর কোনো হটস্পট থাকবে না—সেখানেই আমাদের অভিযান সফল হবে। আক্রান্তের সংখ্যা না কমলে এই অভিযানকে সফল বলা যাবে না।”

শনিবার সকালে সীতাকুণ্ড পৌরসভা চত্বরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসক নিজে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন অভিযানে অংশ নেন।

কর্মসূচিতে জানানো হয়, সীতাকুণ্ডে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫১৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সাত দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি এলাকা—ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি, জেলেপাড়া, বাড়বকুণ্ড, ফুলতলা, বার আউলিয়া ও কলেজ রোডকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৬টি নতুন ফগার মেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক সংগ্রহ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ ও ড্রেনে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। বিশেষ করে জাহাজভাঙা শিল্প এলাকার স্ক্র্যাপ ধাতুতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান

ডেস্ক: মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কমিউনিটি পুলিশ, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি পুলিশের উপদেষ্টা জহুরুল আলম জহুর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকবিরোধী আইন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা সময়ের দাবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা, সঙ্গ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়তে প্রশাসন-স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত উদ্যোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং আল হাইথাম কল্যাণ ট্রাস্টের সহযোগিতায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন যুব, সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবীরা দলবদ্ধভাবে সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন এবং সেগুলো নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। উদ্বোধনের পর তিনি নিজেও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত করা সম্ভব।”

অভিযানে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, এমন উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজন করা হলে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মানুষের সচেতনতা আরও বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরি হবে এবং নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

রাঙ্গুনিয়ায় খালে পড়ে মেধাবী মাদ্রাসাছাত্র মিনহাজের করুণ মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজখালী খালে পড়ে মুহাম্মদ মিনহাজ (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খতিবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিনহাজ ওই এলাকার মুহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে। সে ইসলামপুর তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া ছত্তারিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে মিনহাজ বাড়িতে সাইকেল রেখে এক বন্ধুর সঙ্গে বের হয়। একপর্যায়ে রাজখালী খালের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় সে পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তার সঙ্গে থাকা বন্ধু মিনহাজকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

পরে তাকে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাদ্রাসা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে তিন দিন আগে মিনহাজকে হিফজ বিভাগ থেকে ছুটি দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান তার মা। শনিবার সকালে তাকে আবার মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এর আগেই বন্ধুর সঙ্গে বের হয়ে যাওয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ইসলামপুর তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া ছত্তারিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুল আলম বলেন, “মুহাম্মদ মিনহাজ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সে পবিত্র কোরআনের চার পারা হিফজ করেছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ কার্যক্রম সফল করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।

এর আগে সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে বিডি ক্লিনের প্রায় ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে হাসপাতাল চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সচেতন সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাঙ্গুনিয়ায় চলমান খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তে গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে প্রকল্পের কাজ পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

খাসজমি উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খাসজমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং সরকারি সম্পত্তি যথাযথভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার বিষয়ে সংসদ সদস্য জানান, দেশের অন্যান্য ৫০ শয্যার হাসপাতালের মতো এটিকেও ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।

গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় সাইবার মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়” শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম।

সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজব ও অপতথ্য শনাক্তকরণ, তথ্যের সত্যতা যাচাই, বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং ধর্মীয় উসকানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে—এমন কনটেন্ট দ্রুত যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় গুজব শনাক্তকরণ, তথ্য যাচাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যভিত্তিক বার্তা প্রচারের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রশাসনের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। সভা থেকে জনসাধারণকে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা শনাক্ত করা, দ্রুত সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় বজ্রপাতে অগ্নিকাণ্ড, বসতঘর পুড়ে ছাই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে একটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরসহ ভেতরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মুন্সি স্কুলের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ওই এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌসের (স্থানীয়ভাবে ‘মায়ার মা’ নামে পরিচিত) বসতঘরে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে টিন ও বেড়ার তৈরি ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রীও আগুনে ভস্মীভূত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা মো. মিজান জানান, বজ্রপাতের সময় ঘরের গ্যাসের চুলা জ্বালানো ছিল এবং ঘরের মালিক বাইরে অবস্থান করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, বজ্রপাত গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডারে প্রভাব ফেলায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ঘরটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে আমাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বজ্রপাত থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।”

কাপ্তাইয়ে নদীতে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কাপ্তাই (রাঙামাটি) : রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ শাহারিয়ার সানম (২৪) মারা গেছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সানম নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী ও ঢাকা থেকে আসা ৯ সদস্যের একটি পর্যটক দল রোববার সকাল ১০টার দিকে কাপ্তাইয়ে পৌঁছে। স্থানীয় গাইডের সহায়তায় তারা সীতার পাহাড়ে ট্র্যাকিং করেন। পাহাড় ভ্রমণ শেষে দুপুর দেড়টার দিকে সীতার ঘাট এলাকার কর্ণফুলী নদীর পাথরঘাটা অংশে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য নদীতে নামেন। এ সময় স্রোতের টানে সানম গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

সানমের সহপাঠী ও বন্ধু সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা সকাল থেকে একসঙ্গে ঘুরছিলাম। পাহাড় থেকে নেমে নদীর ঘাটে গেলে হঠাৎ করেই সানম পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সফল হইনি।”

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কাপ্তাই থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ডুবুরি দল পৌঁছে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় ৪০ ফুট দূরে নদীর তলদেশ থেকে সানমকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।”

সানমের অকাল মৃত্যুতে তার সহপাঠী, বন্ধু ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

‘নোংরা খাল রেখে পর্যটক আনা সম্ভব নয়’—কোদাল হাতে হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পর্যটন বিকাশে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কোদাল হাতে খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়ার কুলকুরমাই খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাড়ে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, দেশে ডেঙ্গুর সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরা খাল ও জলাশয় ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। মানুষকে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা করতে হলে খালগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।

রাঙ্গুনিয়াকে পর্যটনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ার খালগুলো পরিষ্কার না থাকলে পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, পর্যটনকে আকর্ষণীয় করতে হলে প্রথমেই রাঙ্গুনিয়াকে পরিষ্কার করতে হবে। কোনো পর্যটক নোংরা পরিবেশের এলাকায় আসতে চাইবেন না। তাই খাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে হুমাম কাদের বলেন, বাংলাদেশের সেরা সন্তান বিডি ক্লিনের ছেলেমেয়েরা। তারা কোনো টাকা-পয়সা বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা না করে নিজের ইচ্ছায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করছে। প্রয়োজন হলে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজও করছে। তাদের প্রতি মন থেকে ভালোবাসা ও সালাম জানান তিনি।

এমপি জানান, শুরুতে ৪০০ থেকে ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে খাল পরিষ্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে বিডি ক্লিনের কার্যক্রম দেখে কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হয়। বর্তমানে সাড়ে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক রাঙ্গুনিয়ায় কাজ করছেন।

স্থানীয়দের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিটি ইউনিয়ন ও বাজারে বিনামূল্যে ডাস্টবিন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকে তা ব্যবহার না করে ডাস্টবিনের আশপাশেই ময়লা ফেলেছেন।

‘আমরা বিডি ক্লিনকে এখানে নিয়ে এসেছি, কারণ আমাদের জনগণকে আরও একটু সচেতন করতে হবে। তারা যখন দেখবে তাদের এলাকার ময়লা বাইরের মানুষ এসে পরিষ্কার করে দিয়ে যাচ্ছে, তখন হয়তো তাদের মনে একটা ডাক আসবে—এখন থেকে আমরা আর আমাদের এলাকাকে ময়লা করে রাখব না,’ বলেন তিনি।

রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে হুমাম কাদের বলেন, খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে দুটি খালের খননকাজ সরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বান্দরবান ও কাপ্তাই অঞ্চলের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ থাকায় এ উপজেলায় পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে খাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

নিজের দায়িত্বকালের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে হুমাম কাদের বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের কিছু ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ৩১ দফার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের মাত্র ছয় মাসের কার্যক্রম দিয়ে সাফল্য-ব্যর্থতা বিচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছয় মাস অনেক কম সময়। ছয় মাসের মধ্যে একটা সরকারের সাকসেস অথবা ফেইলিয়র বুঝতে পারবেন না। একটু সময় দেন আমাদের। ইনশাআল্লাহ কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখাব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কী করতে পারে।’

বিডি ক্লিনের এক প্রতিনিধি জানান, সংগঠনটি ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে দেশের ৫৭টি জেলা ও ১৬৫টি উপজেলায় তাদের টিম রয়েছে।

তিনি জানান, হুমাম কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণীর সঙ্গে যোগাযোগের পর রাঙ্গুনিয়ায় এ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমে একটি টিম এসে এলাকা পরিদর্শন করে। পরে সাড়ে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে কুলকুরমাই খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ থেকে ছয়টি জেলা থেকে স্বেচ্ছাসেবকেরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। দিনব্যাপী খাল পরিষ্কারের কাজ চলবে এবং এর মাধ্যমে খালের পানির প্রবাহমান স্রোত দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিডি ক্লিনের প্রতিনিধি।

রাঙ্গুনিয়ায় ইটভাটায় আগাম সতর্কতা, মালিকদের নোটিশ পরিবেশ অধিদপ্তরের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বিশেষ করে সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট ইটভাটায় আগুন না দেওয়া এবং জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল (উপরিভাগের মাটি) ব্যবহার না করার বিষয়ে ভাটা মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের নির্দেশে রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরেজমিনে গিয়ে মালিকদের হাতে সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদান করেন।

এ সময় ইটভাটার মালিকদের অবৈধভাবে ভাটায় আগুন না দেওয়া, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং কৃষিজমির টপসয়েল সংগ্রহ ও ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষা ও ইটভাটার আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহা আর নেই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহা আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা এই নারী বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান রাষ্ট্রের পক্ষে তাঁকে সম্মাননা জানান। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। রাঙ্গুনিয়ার নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুলেখা রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুলেখা রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছেন। তিনি হোসনাবাদ দুর্গাবাড়ীর গীতা শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গীতা শিক্ষার মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বুধবার রাতে তাঁর পরলোকগমনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, স্থানীয় বাসিন্দা, সহযোদ্ধা ও গীতা শিক্ষার্থীরা তাঁর বাড়িতে ছুটে আসেন। শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে আসা মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। এ সময় অনেকে তাঁর কর্মময় জীবন ও স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সুলেখা রানী সাহার মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর অবদান ও কর্মময় জীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছে একাধিক দোকান, অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি দাবি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক দোকান ও একটি দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রানীরহাট বাজারের বগাবিলি রোড সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও গিফট আইটেম বিক্রি করা হতো। ইয়াছিন আরাফাতের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রফিক স্টোরের স্বত্বাধিকারী রফিক জানান, অগ্নিকাণ্ডে কাপড়, ক্রোকারিজ, লেপ-তোশক ও মুদি দোকানসহ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি একজন দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১১টি দোকানের ৯ জন মালিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

রফিক বলেন, আগুনে তার নিজের দোকানের প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার থেকেও কোনো মালামাল বের করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সব ব্যবসায়ীর ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করলে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন—রফিক, রাশেদ, শফি, জাকের, ইয়াছিন আরাফাত, একরাম, মহিউদ্দিন, নান্টু ডাক্তারসহ আরও একজন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পরে ফিরে আসে বলে জানিয়েছেন স্টেশন লিডার মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান। তিনি জানান, পাশের রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসার খবর পাওয়ার পর তারা ফিরে যান।

কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ আরমান উদ্দিন জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকানে আগুন দেখতে পান এবং ওই তিনটি দোকানের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, ওই তিনটি দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ৩০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে শুধু ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকান নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি দোকান ও একটি দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে দাবি তাদের।

বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসেবায় পার্কভিউ হসপিটালের সঙ্গে সমঝোতা

চট্টগ্রাম: বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জন্য উন্নত, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড ও বিএসআরএমের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের বোর্ডরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে বিএসআরএমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেট সার্ভিস প্রধান মো. ইসমাঈল, এডমিন ম্যানেজার মো. নুরুউদ্দিন তালুকদার এবং এক্সিকিউটিভ রাজিব দাশসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ, ম্যানেজার (মার্কেটিং ও ব্র্যান্ড) মো. জাহেদুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নিজাম উদ্দীন, এক্সিকিউটিভ মশিউর রহমান শরীফ এবং কর্পোরেট অফিসার হেলাল পারভেজসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড ও বিএসআরএমের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। এর ফলে বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা বিশেষ সুবিধায় পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের আধুনিক, বিশেষায়িত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

লোহাগাড়া-সাতকানিয়ায় অবৈধ ইটভাটায় আগাম সতর্কতা, মালিকদের নোটিশ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটায় আগুন না দেওয়া, জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার না করা এবং পাহাড়-টিলার মাটি কাটা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ভাটা মালিকদের সতর্ক করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল ও পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে বিশেষ করে সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট অবৈধ ইটভাটায় যেন আগুন দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে ভাটা মালিকদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ব্যবহার এবং পাহাড় বা টিলার মাটি কাটা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ইটভাটার মালিককে নোটিশ প্রদান করা হয় এবং সরকারের নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য সতর্ক করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটা ও পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় স্টক রেজিস্টার ও ট্রেড লাইসেন্সে অনিয়ম: তিন চালকলকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট এলাকায় তিনটি চালকলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুদ, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় তিনজন অভিযুক্তকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে কাউকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি।

অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাঙ্গুনিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতু বলেন, তিনটি চালকলে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে। মজুদ ও বিক্রির সঠিক তথ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় স্টক রেজিস্টার রাখা হয়নি। এছাড়া কয়েকটি চালকলের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এসব অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়ায় ইয়াবা ও চোলাই মদসহ চারজন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক অভিযানে ১০ পিস ইয়াবা, ১০০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ ও মদ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের জঙ্গল পারুয়া এলাকা থেকে মো. জুয়েল রানা (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, হোছনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. আবছার উদ্দীন (২৮), টিপু সরদার (২৬) ও হৃদয় দাশকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দখল থেকে ১০০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ এবং মদ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাউজানে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইউপি সদস্য নিহত

রাউজান (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাউজানে রাস্তা পার হওয়ার সময় ইটবোঝাই একটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নুরুল ইসলাম টিটু (৫৫) নামে এক ইউপি সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের স্বজনেরা চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের জলিলনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নুরুল ইসলাম টিটু উপজেলার বিনাজুরী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি ইউনিয়নের উত্তর লেলেঙ্গারা এলাকার আনজু মিয়া সারাংয়ের ছেলে। পেশায় তিনি একটি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে নুরুল ইসলাম টিটু পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম নগরমুখী ইটবোঝাই একটি ট্রাক (চট্টমেট্রো-ট ১১-০০৩৭) তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ট্রাকটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

নিহতের ছেলে মো. সামির অভিযোগ করেন, বেপরোয়া ও অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাকের কারণে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. বেলায়েত হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি জব্দ করেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন।

তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাদকসহ আটক ব্যক্তিকে ছাড়াতে গেলে তদবিরকারীর বিরুদ্ধেও একই মামলা: এমপি  হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ র‍্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী এবং প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “বেশ কয়েকদিন ধরেই সবাই জানতেন মাদকবিরোধী একটি র‍্যালি ও সমাবেশ হবে। আমার ধারণা ছিল, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সাহেব আসবেন বলে অনেক যুবক এখানে উপস্থিত হবেন। কিন্তু কষ্টের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, মাদকবিরোধী এ কর্মসূচিতে বেশিরভাগ উপস্থিত হয়েছেন ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক মানুষ। তরুণদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।”

তিনি বলেন, “এর পেছনেও একটি কারণ আছে। অনেক তরুণই জানে তাদের আশপাশে কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। তাই হয়তো তারা এসব বক্তব্য শুনতে এসে অস্বস্তি বোধ করে। যেহেতু এখানে মুরব্বিদের বেশি পেয়েছি, তাই তাদের বলছি—এখন দায়িত্ব আপনাদেরও।”

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “প্রায়ই থানা থেকে আমাকে জানানো হয়, কিছু যুবককে ইয়াবা, গাঁজা বা মাদকসহ আটক করা হয়েছে। মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু একই সময়ে দেখা যায়, পরিচিত অনেকেই তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানার বাইরে অপেক্ষা করছেন। এটাই বাস্তবতা। আজ আমি যদি এটা স্বীকার না করি, কাল আপনারাই আমাকে সমালোচনা করবেন।”

তিনি বলেন, “আজ আপনাদের একটি বিষয় জানিয়ে দিতে চাই। থানায় এখন স্ট্যান্ডিং অর্ডার হচ্ছে —মাদক নিয়ে কেউ ধরা পড়লে এবং তাকে ছাড়ানোর জন্য কেউ তদবির করতে গেলে, তার বিরুদ্ধেও একই মামলা দায়ের করা হবে।”

বালু উত্তোলনের বিষয় উল্লেখ করে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “গতকাল একজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে বলেন, তিনি ছয়-সাত মাস আগে বালুর ব্যবসায় কিছু টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন সেই বালু জব্দ রয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন ব্যবস্থা করে দিই, যাতে বালু বিক্রি করে তিনি তার টাকা ফেরত পান। তিনি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং হয়তো ভাবলেন, একটু অনুরোধ করলে বালু ছেড়ে দেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “চেহারাটা নরম, কিন্তু যেদিন বাবাকে দাফন করেছি সেদিন থেকে কলিজাটা শক্ত হয়ে গেছে। এখন আর এসব বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”

মাদকের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার যতই কাছের মানুষ হোক না কেন, যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার প্রতি কোনো ধরনের দয়া বা ছাড় থাকবে না।”

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে সব উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী র‍্যালি, সমাবেশ এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “মাদকের কুফল সম্পর্কে সবাই জানার পরও অনেকেই এতে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকসেবী ও বহনকারীদের ধরা গেলেও মাদকের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং বিদেশ থেকে যারা এসব সরবরাহ করছে, তারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তাই মাদকের পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

এসপি মাসুদ আলম আরও বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করছে কি না, সন্ধ্যার পর কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে আমরা অনেক সময় খোঁজ রাখি না। একইভাবে প্রতিবেশী হিসেবে সামাজিক দায়িত্বও পালন করি না। ফলে মাদক সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি মাদককে ‘সব অপরাধের মা’ আখ্যায়িত করে বলেন, “মাদক থেকেই খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের জন্ম হয়।”

সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে মাদকের কারণে সন্তান নিজের মা-বাবাকেও হত্যা করতে পারে, সেই মাদকের বিরুদ্ধে এখনই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় নিজের পরিবারও নিরাপদ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।”

র‍্যালি ও সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল), রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাংবাদিক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

রাঙ্গুনিয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে স্টুডেন্ট সোসাইটি অব চট্টগ্রাম। সংগঠনটির উদ্যোগে ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত এ শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির প্রথম ধাপ শুক্রবার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির আওতায় প্রথম দফায় ৭০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সকাল ১০টায় কুষ্ট হাসপাতাল গেইট এলাকায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জুমপাড়া ও বনগ্রাম স্কুলসংলগ্ন এলাকাসহ ইউনিয়নের একাধিক পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল করিম, নয়ন, মো. ওমর ফারুক, সাংবাদিক কবির হোসেন, সাংবাদিক শান্তি রঞ্জন চাকমা, ইন্দ্র কুমার চাকমা, নিশি কুমার চাকমা, ভগিরত চাকমা এবং কাইলা বলি চাকমা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম পারভেজ, মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ, সাকিন বড়ুয়া, ইসপাত আহমেদ, সাকাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, দ্বিতীয় ধাপে চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের আরও বিভিন্ন এলাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতু জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং বাসি খাবার পুনরায় বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে দুটি খাবার হোটেলকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা এবং একটি খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনটি মামলায় এ অর্থদণ্ড করা হয়। অভিযানে মোট তিনজন অভিযুক্তকে দণ্ডিত করা হলেও কোনো কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল মান্নান (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ বজলুর রহমান বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মান্নান একই এলাকার নূর আহমেদের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোজাম্মেল (৪৫) একই এলাকার মো. ছুফির ছেলে বলে জানা গেছে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, সকালে একটি বিয়েসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত মোজাম্মেলের সঙ্গে নিহতের চাচাতো ভাইয়ের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে সন্ধ্যার পর স্থানীয় বাজারে মান্নানের চাচাতো ভাইকে হত্যার হুমকি দেন মোজাম্মেল। এ সময় মান্নান এর প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।

স্বজনদের অভিযোগ, এরই জেরে রাত ৮টার দিকে এশার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মান্নানের ওপর পেছন দিক থেকে হামলা চালায় মোজাম্মেল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনি হামলাকারী হিসেবে মোজাম্মেলের নাম উল্লেখ করেন বলে জানান স্বজনরা।

পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকার একটি হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাসেল বলেন, “পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় এলে মামলা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

লোহাগড়া (চট্টগ্রাম) : কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে মোটরসাইকেলে করে চাঁদপুরের বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মিনিট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার ঠাকুরদিঘী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাহাব পাড়া এলাকার মো. মনির হোসেনের ছেলে ফিরোজ আহমেদ তৌহিদ (২০) এবং একই উপজেলার শাহার পাড়া এলাকার পাটোয়ারী বাড়ির মিজান পাটোয়ারীর ছেলে মাহি উদ্দিন (২৫)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজ আহমেদ তৌহিদ ও মাহি উদ্দিন মোটরসাইকেলে করে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলেন। ভ্রমণ শেষে মঙ্গলবার ভোরে তারা চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পথে ঠাকুরদিঘী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মিনিট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক ফিরোজ আহমেদ তৌহিদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত মাহি উদ্দিনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকেও মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মাহি উদ্দিনকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে একজনকে নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপরজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনিও মারা যান।

ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর মিনিট্রাকটি ঘটনাস্থলে রেখেই এর চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত মিনিট্রাক ও মোটরসাইকেলটি দোহাজারী হাইওয়ে থানা হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওসি মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী।

পাত্রী দেখে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল অপুর

রাউজান (চট্টগ্রাম) : বিয়ের জন্য পাত্রী দেখে ফেরার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রামের রাউজানে সড়ক দুর্ঘটনায় অপু দাশ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত অপু দাশ স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের মৃত বাদল দাশের ছেলে। তিনি রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার ‘দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতাল’-এ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে রাউজানের একটি মন্দিরে গিয়েছিলেন অপু দাশ। পাত্রী দেখে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের কাপ্তাই সড়কের কাতালপীর শাহ দরগাহের সামনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। হাসপাতালের ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাহাড়তলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় অপু দাশের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত অপু দাশের মরদেহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, বিয়ের জন্য পাত্রী দেখে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চট্টগ্রামে ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস, লাখো মানুষের ঢল

ডেস্ক : শান্তি, মানবতা ও অহিংসার বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ এই ধর্মীয় শোভাযাত্রায় বুধবার (২৬ আগস্ট) লাখো মানুষের ঢল নামে।

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে অতিথি হিসেবে রয়েছেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ.)।

সকালে জুলুস শুরুর আগে হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন এবং সবার জন্য দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি খানকাহর সামনে বিশেষ গাড়িতে উপস্থিত হলে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ, নাত ও দরুদের সুরে মূল শোভাযাত্রা শুরু হয়।

ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা থেকে জুলুসটি শুরু হয়ে মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা ও লালখান বাজার হয়ে টাইগারপাস পর্যন্ত যায়। পরে একই পথে ফিরে এসে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে জুলুস শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই মিলনমেলায় আনজুমান পরিচালিত তিন শতাধিক মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। বিশাল এই জনসমাগম সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জুলুসে যোগ দিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও দেশের অন্যান্য স্থান থেকে মানুষ ভোরেই নগরে প্রবেশ করে মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় অবস্থান নেন। এতে সকাল থেকেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়।

জুলুস উপলক্ষে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা পর্যন্ত বসেছে ভাসমান মেলা। সেখানে ধর্মীয় সামগ্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। কৌতূহলী মানুষ ও অপেক্ষমাণ ভক্তদের মাঝে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণ করতে দেখা গেছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এই জশনে জুলুসকে ঘিরে নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়কদ্বীপ ও সড়ক বিভাজকগুলো তোরণ, আনজুমানের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয়েছে। পুরো নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

মানুষের সহযোগিতা ও হাসপাতালের ছাড়ে মিজানের মরদেহ বাড়ির পথে

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দীর্ঘ নয় মাস ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মো. মিজানুর রহমানের (৩৫) মরদেহ অবশেষে হাসপাতাল থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতার আহ্বানের পর সংগৃহীত অর্থ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিশেষ ছাড়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে তার মরদেহ বুঝে পেয়েছেন স্বজনরা।

মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর রহমান। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খামারিপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে হোসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে দলীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

মিজানের ভাই মো. এনাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিল তার। কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ করার পর মঙ্গলবার ভোরে চতুর্থ সাইকেল চলাকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও শিশু সন্তান রেখে গেছেন।

মিজানের মৃত্যুর পর হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে সংকটে পড়ে পরিবারটি। পরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দ।

পরে একইদিন রাত ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন চৌধুরী জানান, সহযোগিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যেটুকু অর্থ হাতে আসে, তা নিয়ে তারা হাসপাতালে যান। সেখানে মিজানের পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ও তার সহধর্মিণীও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে মিজানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সহযোগিতা করেন। হাসপাতালের হিসাবে বকেয়া ১৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা থাকলেও কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড় দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মরদেহ বুঝে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য রাতে লাশবাহী গাড়ির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান ইমাম হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, মিজানের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য স্থানীয় ও দেশ-বিদেশের মানুষের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ।

অন্যদিকে হাসপাতালে যাওয়া নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সংসদ সদস্য, তার সহধর্মিণী এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে মিজানের মরদেহ আনতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ইমাম হোসেন চৌধুরী, লালানগর যুবদলের আহ্বায়ক এম এইচ সুমনসহ লালানগর ও হোসনাবাদ ইউনিয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত রয়েছেন।

হোসনাবাদ ইউনিয়ন থেকে হাসপাতালে যাওয়া নেতৃবৃন্দ জানান, মিজানের চিকিৎসা ও মরদেহ বাড়িতে আনার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়ার পর কে কত টাকা সহযোগিতা করেছেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কত টাকা ছাড় দিয়েছে—এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে মিজানের নিজ গ্রামের মসজিদ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

মিজানের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের পাশাপাশি দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়ে তৈরি হওয়া আর্থিক সংকটও রয়ে গেছে। স্বজনরা তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা যায়, চিকিৎসাকালীন সময়ে হাসপাতালের মোট বিল প্রায় ৩১ লাখ টাকা হয়েছিল। এর মধ্যে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালের হিসাবে ১৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বকেয়া ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড় দেওয়ায় এবং সংগৃহীত অর্থের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মিজানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।

বইবিমুখ শিক্ষার্থীদের ফেরাতে পটিয়ায় নতুন পাঠাগার

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : বইবিমুখতার কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয় ঠেকানো এবং তাদের পুনরায় জ্ঞানচর্চায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পটিয়ায় নতুন একটি পাঠাগার উদ্বোধন করা হয়েছে।

পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মরিয়ম খাদেমী পাঠাগার’।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে পাঠাগারটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, তরুণ প্রজন্মের প্রধান নেশা হতে হবে বই পড়া। জ্ঞান অর্জন ও নিজেদের আলোকিত করতে নিয়মিত বই পড়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বইবিমুখ হওয়ার কারণেই বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের পুনরায় বইমুখী করতে এই পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ শওকত হোসেন খাদেমীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি খোরশেদুল আলম এবং পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি গাজী আবু তাহের।

এছাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী, পটিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সদস্য মিশকাত আহমেদসহ পাঠাগারটির অর্থায়নকারী শওকত হোসেন খাদেমী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন জ্ঞানমূলক ও সৃজনশীল বই পড়ার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস ও জ্ঞানচর্চা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বাবা-মাকে মারধর ও নির্যাতন, সাতকানিয়ায় যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাবা-মাকে নিয়মিত মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে ফাহিম উদ্দিন (২৪) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফাহিম উদ্দিন সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের দাইমারখীল এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে পুলিশ দাইমারখীল এলাকা থেকে ফাহিম উদ্দিনকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মাহমুদুল হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

জানা যায়, ফাহিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে তার বাবা-মাকে মারধর ও নির্যাতন করে আসছিলেন। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে তাকে আটক করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী শাহাদাত হোসেন রাব্বি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে অসদাচরণ, মারধর বা নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবারের সদস্যদের প্রতি এমন আচরণ সামাজিকভাবে নিন্দনীয় হওয়ার পাশাপাশি আইনগতভাবেও দণ্ডনীয় অপরাধ।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ওই যুবককে সাজা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অমানবিক আচরণ করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লোহাগাড়ায় শব্দদূষণবিরোধী অভিযান, চার বাসকে জরিমানা

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। এ সময় নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে চারটি বাসকে মোট ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতটি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলা সদরের মাশাবির সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫ অমান্য করে বিকট শব্দের হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে মারসা পরিবহনকে ৩ হাজার টাকা, শ্যামলী পরিবহনকে ৩ হাজার টাকা, ঈগল পরিবহনকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং পুরবী পরিবহনকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস, লোহাগাড়া থানার এএসআই লূৎফুর রহমান, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির সাহেদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন জানান, নির্ধারিত মানমাত্রার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।