কোরআনের শিক্ষা আলোকিত জাতি তৈরি করে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা উদ্বোধনকালে বক্তারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): পবিত্র কোরআনের শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে রাঙ্গুনিয়ার ধামাইরহাটের উত্তর পাশে আজম বাড়ি জামে মসজিদের পূর্বপাশে নতুন মাদ্রাসা মারখাজুল উলুম তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন আগত অতিথিরা।

উদ্বোধনের পর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী খাজা গিয়াস উদ্দিন ছালেকী, এবং যৌথ সঞ্চালনা করেন কাজী মুহাম্মদ আলমগীর ও এডভোকেট ফরহাদুল আলম জুয়েল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দারুল উলুম ইসলামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম শায়েখ আল্লামা সায়দ হোসাইন বলেন, “পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি আলোকিত হতে পারে না। এই মাদ্রাসা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি এলাকার মানুষকে আল্লাহর কিতাবের সাথে সংযুক্ত করার পথ খুলে দেবে।”

প্রধান বক্তা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী এর আমির মাওলানা হাসান মুরাদ বলেন, “আজকের উদ্যোগ কোরআনপ্রেমী জনসাধারণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা কোরআন মুখস্থ করবে এবং ইসলামের আদর্শে গড়ে উঠবে।”

প্রধান আলোচক, আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মাদ্রাসা হলো সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশনার বাতিঘর। নতুন প্রজন্মকে কোরআনের সঙ্গে যুক্ত করতে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

বিশেষ অতিথি, প্রবীণ আলেমে দ্বীন আল্লামা সুলতান আহমদ বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক গঠনেও গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের সম্পদে পরিণত হবে।”

মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ মুফতি আনাস স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মদ শওখত হোসাইন, মাওলানা শাহ আলম, সরওয়ার হোসাইন, জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, সরওয়ার আলম, মুহাম্মদ মুছা, মীর আজিজুর রহমান, এডভোকেট আজিম উদ্দিন লাভলু, সেলিম, রফিক, আনোয়ার, হারুন, আজিজুল হক, হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিনিয়ার আরিফ হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কোরআনের প্রাথমিক ছবক প্রদান এবং ভর্তি ফরম বিতরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াত নেতার ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলে শোক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামী’র শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রকাশ ইলিয়াছ কোম্পানি আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পাঁচ কন্যাসন্তান, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুম ইলিয়াছ কোম্পানির জানাযার নামাজ শনিবার সকাল ১১টায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তার প্রয়াণে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিলেন সমাজসেবা, শিক্ষাব্যবস্থা ও স্থানীয় উন্নয়নে নিবেদিত একজন সক্রিয় নেতা। তিনি রাঙ্গুনিয়া ইকরা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং লালানগর আইডিয়াল স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে দ্বীনের আলো ছড়াল ছাত্রশিবিরের অনন্য উদ্যোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্বীনের ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার প্রায় ৫৫–৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বাংলা অনুবাদসহ কুরআন শরীফ উপহার দিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙ্গুনিয়া উত্তর সাংগঠনিক থানা শাখার আদর্শ থানা শাখা আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে এ উপহার তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন থানা শাখার সেক্রেটারি আব্বাস উদ্দিন এবং সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মঈনুদ্দিন মিসবাহ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া শহর আদর্শ থানা শাখার সভাপতি কুতুব উদ্দিন।

এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ। প্রধান মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা উত্তর বায়তুল মাল সম্পাদক জহির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থানা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

এর আগে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্টও বিতরণ করা হয়।

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’— রাঙ্গুনিয়ায় পূজামণ্ডপে বিএনপি নেতাদের বার্তা

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: শারদীয় দুর্গাপূজার শেষদিন আজ। এদিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজা শেষ হবে। এর আগে পূজা উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। পূজার শুরু থেকেই প্রতিদিন তারা বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখেন।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, “অনেকে বলে আওয়ামী লীগের আমলে হিন্দু ভাইয়েরা ভালো থাকে, বিএনপির শাসনামলে থাকে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় আওয়ামী লীগের আমলেও সমস্যা হয়েছে, বিএনপির সময়েও হয়েছে। তবে এগুলো মূলত কিছু দুষ্টু লোকজন সৃষ্টি করে যারা রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়। আমরা এদের চিহ্নিত করেছি এবং সমাজ থেকে দূরে রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে সম্মান দিয়ে গ্রহণ করেছেন, আশা করি আপনাদের সেবার সুযোগও দিবেন।” এছাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার। তিনি বলেন,

“হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—আমরা সবাই মানুষ। উপর থেকে ভিন্নতা থাকলেও ভেতরে সবাই একই। আমরা সকলেই সমান অধিকার ভোগ করবো। সম্প্রীতির এই বন্ধন অটুট থাকবে।” দলের নির্দেশনায় শুরু থেকেই কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজও এসেছি।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত পূজামণ্ডপে গিয়ে বলেন, “রাঙ্গুনিয়া সম্প্রীতির জায়গা। এখানে ধর্ম নিয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সবার আগে বাংলাদেশ—আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, তাই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবো।”

অন্যদিকে উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী পূজামণ্ডপে গিয়ে বলেন, “আমরা এসেছি আপনাদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে ও উৎসব ভাগাভাগি করতে। আগামী বছর এই উৎসব আরও বড় হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।”

প্রসঙ্গত, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিএনপি নেতারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পূজার শুভেচ্ছা জানান এবং উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবি: সেনাবাহিনীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সফল উদ্ধার অভিযান

ডেস্ক: গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতের আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ায় রাঙামাটির লংগদু অঞ্চলের বিএফডিসি ঘাট, ভাইবোনছড়া, লংগদু লঞ্চঘাট, গুইলশাখালি বিল ও ভাসান্যাদম এলাকায় একাধিক নৌকা ডুবে যায়। খবর পেয়ে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

এ ঘটনায় মোট পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেনাবাহিনীর অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও দ্রুত পদক্ষেপে ওই রাতেই দুইজনকে জীবিত ও এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার এবং পরদিন (০১ অক্টোবর) সকালে আরও দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, একই রাতে নানিয়ারচর উপজেলার মহাজনপাড়ায় আরও একটি নৌকা ডুবে যায়। ছয়জন যাত্রীর মধ্যে চারজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ডেনিজেন চাকমা ও জিতেশ চাকমা নিখোঁজ রয়েছেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়রা নৌকাটি উদ্ধার করলেও নিখোঁজ দুই যুবকের সন্ধান মেলেনি। বর্তমানে সেনাবাহিনীর ডুবুরি দল স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, সাহসিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলে দুর্ঘটনার পরপরই কার্যকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা শুধু নিরাপত্তার অঙ্গীকারেই নয়, বরং মানবিক দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সচেষ্ট।

সূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ