রাজনীতি নাম বড় করার জন্য নয়, সেবার জন্য: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “রাজনীতি নাম বড় করার জন্য নয়, এলাকার মানুষের খেদমতের জন্য রাজনীতি। যেটা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী করেছেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি রাস্তা, ব্রিজ ও উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন শুধু মানুষের কল্যাণের জন্য, কখনো নিজের নাম প্রচারের জন্য এসব করেননি।”

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার পারুয়া জিয়াউল উলুম মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আজকে পারুয়ায় আসার পথে মনে কষ্ট লাগলো, এখনো এমন এলাকা আছে যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, রাস্তা এত ভাঙা যে গাড়ি চলাচলই সম্ভব নয়। ২০২৫ সালে এসেও এই বাস্তবতা কল্পনাতীত। তাই আমার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রথম দুই প্রতিশ্রুতি হবে— বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও রাস্তা মেরামত করা। এই দুটি কাজ হয়ে গেলে আমি বিশ্বাস করি, পারুয়ায় এমন কোনো মানুষ থাকবে না যে ধানের শীষে ভোট দেবে না।”

হুমাম কাদের আরও বলেন, “আমার বাবা বলতেন, নির্বাচন এলেই অনেকে লম্বা লিস্টে ইশতেহার দেয়, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করে না। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, পারুয়া এলাকার এই রাস্তার কাজ ইনশাআল্লাহ আমি করে দেব। এটা রাজনৈতিক কারণে নয়, মনে হয় এই কাজটি করলে আমার বাবার আত্মাও শান্তি পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগের মতো নোংরা রাজনীতি ও কাদা ছোড়াছুড়ির দিন শেষ। এ নির্বাচন হবে একটি পরিবর্তনের নির্বাচন— চোর-ডাকাতের রাজনীতির অবসান ঘটাবে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। তিনি অসুস্থ হয়েও তিনটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন শুধুমাত্র নেতাকর্মীদের সাহস দিতে এবং দেশবাসীকে জানাতে যে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি দেশের জন্য লড়বেন।”

নিজের রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণ করে হুমাম কাদের বলেন, “বাবাকে হারানোর পর সবাই বলেছিল রাজনীতি ছেড়ে বিদেশ চলে যেতে। কিন্তু আমি ভেবেছি, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর লাখো ভাই-বোনদের আমি একা ফেলে যেতে পারি না। ওমরাহ থেকে দেশে ফিরে আমি গুম হয়েছি, সাত মাস আয়না ঘরে ছিলাম, নির্যাতনের শিকার হয়েছি— তবু রাজনীতি ছাড়িনি। তারেক রহমান আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি রাজনীতি করো বা না করো, আমি তোমার পাশে আছি।’ সেই সাহসেই আজ আবার মাঠে নেমেছি।”

এর আগে তিনি পারুয়া সাহাব্দিনগর উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং মধ্যম পারুয়া হযরত নিজাম উদ্দিন শাহ (রহ.) মাজারে জিয়ারত করেন।

এসময় উপজেলা, পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তথ্য বিকৃতি, মিসকোটিং-এর মহামারি চলছে: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তথ্য বিকৃতি ও মিসকোটিংয়ের (ভুল উদ্ধৃতি) মহামারি চলছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে মিসকোট করার প্রবণতা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুতর অপরাধ। এমন এক অপরাধ যার কারণে সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের প্রধান এবং এর শীর্ষ সাংবাদিকের একজনকে চাকরি হারাতে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এমনকি সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় নামগুলিও এই অপরাধে দোষী।

কয়েকদিন আগে, দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক এক পাবলিক ইভেন্টে দেওয়া আমার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অংশ মিসকোট করেছে। প্রতিবেদনটি পড়তে গিয়ে আমার মনে হলো, প্রতিবেদক সম্ভবত আমার বক্তব্যের অডিও কোনো এআই ট্রান্সক্রিপশন টুলের মাধ্যমে লিখিত আকারে প্রকাশ করেছেন। এর ফলে যা বেরিয়েছে তা ছিল একগাদা যান্ত্রিকভাবে লেখা আজগুবি বাক্য। এর কিছু অংশ মজার মনে হলেও সামগ্রিকভাবে ভীষণ হতাশাজনক। যেমন- আমি যখন “Touch” শব্দটি বলছিলাম, সফটওয়্যারটি সম্ভবত শুনেছিল “Kaaz” (কাজ)। ফলে, ওই প্রতিবেদনে ছাপা হয়েছে “কাজ।”

সমস্যাটা এখানেই শেষ হয়নি। ওই প্রতিবেদন কপি-পেস্ট করে বেশ কিছু অনলাইন পোর্টাল একই ভুল অক্ষরে অক্ষরে পুনরুত্পাদন করেছে। আমার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটে। নতুন চাকরির প্রথম কয়েক মাসে আমি সম্পাদক ও প্রতিবেদকদের ফোন করে সংশোধনের দাবি জানাতাম। এখন আর সে চেষ্টা করি না। সত্যি বলতে, আমার সেই সময় নাই।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ফটোকার্ড। প্রতিদিনই সংবাদপত্রগুলো- বিশেষ করে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন এবং বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের দ্বারা প্রভাবিত কালের কণ্ঠ, টিভি স্টেশন এবং ওয়েবসাইটগুলো বিতর্কিত বিশ্লেষক বা পাবলিক ফিগারদের উদ্ধৃতি ব্যবহার করে এই গ্রাফিক স্নিপেট তৈরি করছে।

তারা বক্তব্য থেকে এক-দুই লাইন চেরি পিক করে, তারপর প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে তাদের বেছে নেয়া এক-দুই লাইনকেই চমকপ্রদ শিরোনামে পরিণত করে। সম্প্রতি আমি সিরডাপে ২৭ মিনিটের একটি বক্তৃতা দিয়েছিলাম। সেখান থেকে মাত্র একটি লাইন তুলে নিয়ে তারা প্রতিবেদন বানিয়েছে—যার ফলে আমার বক্তব্যের আসল বার্তাটাই বিকৃত হয়ে গেছে।

টেলিভিশন বিশ্লেষক ও ইউটিউবারদের অবস্থা আরও করুণ। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়েন না, পুরো বক্তব্যও শোনেন না। বরং আগে থেকে তৈরি নিজস্ব ধ্যান-ধারণার সঙ্গে কিছু সত্য আর অসংখ্য মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে মানুষের কাছে উপস্থাপন করেন। প্রতিদিনই কিছু ইউটিউবার দীর্ঘ মনোলগ আকারে ভুল তথ্যভরা ভিডিও প্রকাশ করছে। তাদের যথাযথ গবেষণা নেই, এমনকি প্রশিক্ষিত ফ্যাক্ট-চেকার বা গবেষকদের সাহায্যও তারা নেন না। এর ফলাফল হলো- অবিরাম মিথ্যা তথ্যের বিস্তার।

তাদের কিছু দাবি আবার আশ্চর্যজনকভাবে সাহসী। এক নারী ইউটিউবার দাবি করেছিলেন, প্রফেসর ইউনুস ও তাঁর কন্যার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার ছবিটি নাকি “ম্যানিপুলেটেড” (নকল)। অথচ ছবিটি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল।

তিনি যখন এই দাবি করেছিলেন তখনও আমরা নিউইয়র্কে ছিলাম। তিনি মূলত বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের একটি অফিসিয়াল ছবি বিকৃত করার অভিযোগ এনেছিলেন। কী হাস্যকর! আমি এ বিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করলে তাঁর স্বামী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক, তার পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাসিনার আমলে ওর কোনো ছবি নিয়ে এই দম্পতি এমন কিছু করার কথা ভাবতে পারতেন!

কয়েকদিন আগে, নিজেকে “স্পষ্টভাষী” সাংবাদিক বলে পরিচয় দেওয়া আনিস আলমগীর দাবি করেছেন যে জুলাই আন্দোলনের সময় প্রফেসর ইউনুস বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করার জন্য পিআর এজেন্সিগুলোকে “কোটি টাকার”ও বেশি অর্থ দিয়েছেন।

তিনি সম্ভবত দাবি করছেন যে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ইমেইল সাক্ষাৎকারগুলো, যার সত্যতা নিয়ে এখনো সন্দেহ আছে, স্বতঃস্ফূর্ত এবং আনপেইড ছিল। একজন গণহত্যাকারী কোনো পিআর প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই এরকম ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকার আয়োজন করছে এই দাবি হাস্যকর।

স্পষ্টভাবে বলে রাখি, প্রফেসর ইউনুস কখনো এক পয়সাও কোনো পিআর এজেন্সিতে দিয়ে কোনো ধরনের সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করেননি। যদি আনিস আলমগীরের কাছে এই বক্তব্যের কোনো প্রমাণ থাকে, তার উচিত সেটা উপস্থাপন করা। কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি জামায়াত কর্মীও একই অভিযোগ করেছিলেন। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। তিনি রিজয়েন্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা এখনো আসেনি।

আজকের কাগজ থেকে উঠে আসা আনিস আলমগীর, এমন এক প্রজন্মের সাংবাদিকদের অংশ যাদের কখনো যথাযথ সূত্র বা রেফারেন্সের প্রতি বেশি যত্ন ছিল না। তার সবচেয়ে স্মরণীয় কাজ বাগদাদের একটি হোটেল রুম থেকে ইরাক যুদ্ধের “কভার” করা, হোটেল থেকে বের না হয়েই যুদ্ধ নিয়ে রূপকথার গল্প লেখা।

গতকাল বিবিসির শীর্ষ সম্পাদক ও একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য মিসকোট করার জন্য পদত্যাগ করলে এটি বিশ্বব্যাপী শিরোনামে আসে। বাংলাদেশে পাবলিক ফিগারদের মিসকোট করা অথবা প্রেক্ষাপটের বাইরে বক্তব্যের এক-দুই লাইনকে হাইলাইট করা নিত্যদিনের ঘটনা। আর আপনি যদি এর প্রতিবাদ করেন, তাহলে তারা “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার” দোহাই দিয়ে কেটে পড়বে। তারা উল্টো অভিযোগ করবে যে, আপনি তাদের ভয় দেখাচ্ছেন, আপনি অসহিষ্ণু এবং আপনাকে আওয়ামী লীগের রাস্তার গুন্ডাদের সাথে তুলনা করবে।

এই হলো আমাদের গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা—দায়িত্বহীন, জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে এবং সত্য থেকে বহু দূরে।

সূত্র: অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ