জীবিকার তাগিদে ঋণ করে প্রবাসে, দুর্ঘটনায় আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রাঙ্গুনিয়ার জামাল

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জীবিকার তাগিদে ঋণের টাকা নিয়ে প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মো. জামাল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ওমানের একটি নির্মাণাধীন ভবনে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা মো. হোসেনের ছেলে মো. জামাল (৩৯) বর্তমানে ওমানের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত তিনদিন ধরে তিনি সেখানে ভর্তি আছেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ওমান থেকে জামালের ছোট ভাই প্রবাসী মো. বাবুল জানান, গত তিন দিন আগে ওমানের আল আমরাত থানা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে যান জামাল। এতে তাঁর মেরুদণ্ড ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তাঁর জ্ঞান থাকলেও মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ায় এবং প্যারালাইসিস দেখা দেওয়ায় পায়ের কোনো অনুভূতি নেই।

মো. বাবুল আরও জানান, গত দুই দিনে ভাইয়ের চিকিৎসা বাবদ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বিপুল এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাঁদের পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলা হলেও তাঁরা জানিয়েছেন, জামালের শারীরিক যে অবস্থা এবং শরীরে যেসব চিকিৎসা সরঞ্জাম বসানো হয়েছে, তাতে সাধারণ বিমানে তাঁকে বহন করা সম্ভব নয়। দেশে নিতে হলে ব্যক্তিগতভাবে ভাড় করা বিশেষ বিমানে (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) নিতে হবে। অন্যথায় ওমানেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই মুহূর্তে কী করবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মো. জামাল তিন বছর আগে ঋণের টাকায় প্রবাসে যান। বছরখানেক আগে ছুটিতে দেশে এসে আবার ওমানে ফিরে যান তিনি। সবকিছু গুছিয়ে ওঠার আগেই এই দুর্ঘটনার শিকার হন জামাল। প্রবাসে তিনি কখনো এসি-ফ্রিজ মেরামতের কাজ, আবার কখনো নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

জামালের পরিবারে রয়েছেন তার স্ত্রী, সাত বছরের এক ছেলে ও পাঁচ বছরের এক মেয়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জামালের এই দুর্ঘটনায় পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

লাখো মানুষের শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন বেগম খালেদা জিয়া, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেত্রীর বর্ণাঢ্য জীবনের শেষ আনুষ্ঠানিকতার।

এর আগে বুধবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়িটি কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জিয়া উদ্যানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা কাঁধে করে কফিন সমাধিস্থলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম ও সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্বামীর কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মো. আব্দুল মালেক। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তিন বাহিনীর প্রধান ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও জানাজায় উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান।

জানাজার আগে মায়ের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আপনারা সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন। এর আগে সকালে গুলশান এভিনিউয়ের বাসায় মায়ের কফিনের পাশে বসে তাঁকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতে দেখা যায়।

জানাজাস্থলে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ সময় তিনি ভারতের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তা তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। একইভাবে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকও সাক্ষাৎ করে শোক ও সমবেদনা জানান।

বুধবার দুপুর ১২টার কিছু পরে খালেদা জিয়ার কফিনবাহী গাড়ি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়। এর আগে সকাল ১১টার দিকে গুলশান এভিনিউয়ের বাসা থেকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি যাত্রা শুরু করে। এ সময় মানিক মিয়া এভিনিউ, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকাজুড়ে মানুষের ঢল নামে। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।

জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া।

লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন।

জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে দলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। বিশাল জনসমাগমে পুরো এলাকা শোকাবহ পরিবেশে পরিণত হয়।

খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এ সময় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে দাফনের জন্য জিয়া উদ্যানে নেওয়া হবে। সেখানে তার স্বামী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ২৭ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর, ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লাখো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এ জানাজাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাঙ্গুনিয়ায় পর পর পাঁচ অগ্নিকাণ্ড, ভোর রাতে বেতাগীতে পুড়ল পাঁচ বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কখনো বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, কখনো গ্যাসের চুলার আগুন, আবার কখনো অজানা কারণে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগুন লাগার খবর মিলছে।

সর্বশেষ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মধ্যম বেতাগী মাইজপাড়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন মৃত হাসমত আলীর ছেলে মো. আবু তাহের, আবু মোহাম্মদ, মো. ইব্রাহিম, মো. ইসমাঈল ও মো. ইসরাঈল।

ভুক্তভোগী আবু তাহেরের ছেলে তানভীর আহমেদ বলেন, রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে তাদের সবকিছু আগুনে পুড়ে যায়। তার বাবা ও চাচাসহ পাঁচ পরিবারের ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার পুড়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খোরশেদতালুক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুটি দোকান ও একটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে যায়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হন মৃত আবদুল মালেকের ছেলে মো. আলমগীর এবং মৃত ওসমান আলীর ছেলে মো. আবদুল মোনাফ। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সিলিন্ডারের আগুন থেকেই ওই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।

এছাড়া সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোর রাত ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পালপাড়া এলাকায় আরেকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে রতন পালের ছেলে রাজেশ পালের মালিকানাধীন তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি কাঁচা বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল নষ্ট হয়ে ভুক্তভোগীর প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

ঘটনা পরবর্তী রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান জানান, ওই ঘটনার আগুনের সূত্রপাত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যাবে। তিনি জানান, এ ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের সৌদিয়া প্রজেক্ট গেটসংলগ্ন কাদেরীয়া পাড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে দাদি ও নাতনির মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ছয়টি বসতঘর পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এছাড়া এর একদিন আগে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নেও আগুনে পুড়ে যায় এক সিএনজি চালকের বসতঘর।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান বলেন, এই সময় আগুন লাগলে তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শীতকালে বিদ্যুৎ ব্যবহার কম থাকায় ভোল্টেজের ওঠানামা হয় এবং অনেক ঘরে পুরোনো বৈদ্যুতিক তার ও সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে অসাবধানতার কারণেও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তাই সবাইকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নারী-পুরুষসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত থেকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়নের ফেরিঘাট এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ৭৪৮ পিস ইয়াবা, ২৫ লিটার বাংলা মদ, ১৫০ পুরিয়া গাঁজা এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৬টি দা, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ৯টি ছুরি, ৬টি কাঁচি ও ৪টি লোহার পাইপ। এছাড়া ৪টি মোবাইল ফোন এবং প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন রোশনারা (৪০), দেলোয়ার হোসেন (৪০), আবদুস সালাম (৪৮), মো. আরমান (২৫), মো. পারভেজ হোসেন (৩৪) ও মো. আলাউদ্দিন (২০)।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরমান হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

শীতে ঘরে ঘরে উষ্ণতা ছড়াল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: কনকনে শীতের এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে গিয়ে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দরিদ্র ও শীতকাতর মানুষের মাঝে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে অন্তত ৫০ জন মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। শীতবস্ত্র পেয়ে উপকারভোগীরা উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শীতবস্ত্র বিতরণকালে ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, শীত মৌসুমে যেন কোনো মানুষ কষ্ট না পায়, সে লক্ষ্যেই সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পিছিয়ে পড়া ও অসহায় জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, এই সময়ে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষেরও শীতার্তদের পাশে এগিয়ে আসা উচিত। সম্মিলিত উদ্যোগেই শীতজনিত দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।

তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা, বেতাগী ইউনিয়ন ও লালানগর ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

কনকনে শীতে সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর দায়িত্ব নিল জেলা প্রশাসন, খোঁজ চলছে পরিবারের

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : কনকনে শীতের রাতে সড়কের পাশে অসহায় অবস্থায় বসে থাকা দুই শিশুকে ঘিরে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। আনোয়ারা উপজেলায় উদ্ধার হওয়া ওই দুই শিশুর পরিবারের এখনো সন্ধান মেলেনি। এরই মধ্যে শিশুদের চিকিৎসা, আশ্রয় ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার উদ্ধার হওয়া শিশু দুটিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে জেলা প্রশাসক শিশুদের শারীরিক অবস্থা, উদ্ধারের প্রেক্ষাপট, পারিবারিক পরিচয় এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

শিশুদের মধ্যে ১৪ মাস বয়সী মোরশেদের শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে চার বছর বয়সী আয়েশাকে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন ও বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় আশ্রয়দাতা মহিন দম্পতির হেফাজতে রাখা হয়।

শুধু আশ্রয়ই নয়, শিশুদের চিকিৎসা ব্যয় ও প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু দুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক বলেন, শিশু দুটিকে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে লালন-পালন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, শিশু দুটিকে উদ্ধারের পরপরই জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে ছোট শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা নেন এবং বড় শিশুটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের খোঁজে প্রশাসন কাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকায় কনকনে শীতের মধ্যে সড়কের পাশে বসে থাকা অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দা মহিন নামের এক ব্যক্তি শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শিশুরা জানায়, এক আত্মীয় তাদের সেখানে রেখে চলে যায়।

বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রশাসনের নজরে আসার পর জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় দ্রুত চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছেন, এমন দায়িত্বশীল ও দ্রুত পদক্ষেপ শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাঙ্গুনিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে পুড়েছে দোকান ও বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খোরশেদতালুক এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুটি দোকান ও একটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপন করেন।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় দুইজন মালিকের একটি কাঁচা বসতঘর ও দুটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন মৃত আবদুল মালেকের ছেলে মো. আলমগীর এবং মৃত ওসমান আলীর ছেলে মো. আবদুল মোনাফ।

ফায়ার সার্ভিস আরও জানায়, আগুন থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

আগুন নির্বাপন অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার জসিম উদ্দিন।

উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ

ডেস্ক রিপোর্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শুরুতেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।

সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল থেকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, যা পাঠ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।

রাষ্ট্রীয় শোক পালনকালে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।

বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া জানান, আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে শহিদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসহ সব আনুষ্ঠানিকতায় সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আজ আমরা গভীর শোকের সময় একত্রিত হয়েছি। তাঁর চলে যাওয়া জাতির জন্য বিরাট ক্ষতি। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। সেদিন তিনি খুব উৎফুল্ল ছিলেন। নিজে অসুস্থ থাকলেও সবার খোঁজখবর নিয়েছেন। জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর উপস্থিতি আমাদের খুব প্রয়োজন ছিল।”

সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ (Chief Adviser GoB)

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা কাল, দাফন শহীদ জিয়ার পাশে

ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, বাদ যোহর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, “কাল বাদ যোহর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের ছুটি ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি একজন মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত বলে উল্লেখ করেন।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মরহুমার পরিবারের সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং কর্মী-সমর্থকদের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব জাতিকে বারবার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণ করবে এবং এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হবার নয়।

শোকাবহ এই সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কেউ যেন এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

ভাষণে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাঁর নামাজে জানাযার দিন একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণাও দেন।

নামাজে জানাযাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আবেগাপ্লুত হলেও সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে জাতির জন্য ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্য কামনা করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং তাঁর সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: রাঙ্গুনিয়ায় শেষ দিনে মনোনয়ন জমা দিলেন যারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। সোমবার শেষ দিনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের কার্যালয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

একই দিন দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম। পরে তিনি উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনওর কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের অনুলিপি জমা দেন।

বিকেলের দিকে মনোনয়নপত্র জমা দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হারুন। এর আগে একই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী প্রমোদ বরণ বড়ুয়া। এছাড়া সন্ধ্যার দিকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আবুল কালাম আজাদ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অন্যদিকে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান একই দিন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, সোমবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁর কার্যালয়ে মোট চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া আরও দুজন প্রার্থী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর ইসি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল দায়ের এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে তা নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

পটিয়ায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালক নিহত, আহত ৪

পটিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের পটিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন যাত্রী।

রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার আমজুরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ট্রাকচালকের নাম মো. সালাম (৫৫)। তিনি বগুড়া জেলার আকতার মিয়ার ছেলে।

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জাহেদুল ইসলাম (২৬), জাকির ইসলাম (৩০), সাকিব উল হাসান (১৭) এবং নাসরিন সুলতানা (২৯)। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস আমজুরহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকচালক দুই গাড়ির মাঝখানে আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় ট্রাকচালককে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাজেশ বড়ুয়া জানান, দুর্ঘটনার পর তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকটি হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় ফের অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি তিন কক্ষবিশিষ্ট কাঁচা বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোর রাত ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ভোর ৩টা ৩৮ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে রতন পালের ছেলে রাজেশ পালের মালিকানাধীন তিন কক্ষের কাঁচা বসতঘর পুড়ে যায়। এতে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল নষ্ট হয়ে ভুক্তভোগীর প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, আগুনের সূত্রপাত এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যাবে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের সৌদিয়া প্রজেক্ট গেট সংলগ্ন কাদেরীয়া পাড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে দাদি ও নাতনির মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ছয়টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এছাড়া এর একদিন আগে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নেও আগুনে পুড়ে যায় এক সিএনজি চালকের বসতঘর।

নির্বাচনকে সামনে রেখে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সব ধরনের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে মোকাবিলা করা জরুরি। সরকার নাগরিক সেবাসমূহ ধাপে ধাপে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সেবা সুরক্ষিত ও নির্বিঘ্ন রাখতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নাগরিক সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ রাখতে হবে। পাশাপাশি এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জনবলকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে একটি রেটিং পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে, যাতে সাইবার সুরক্ষাসহ সার্বিক সক্ষমতার বাস্তব মূল্যায়ন সহজ হয়। একই সঙ্গে ফিনান্সিয়াল সেক্টরে সংঘটিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে কেউ যেন পার পেয়ে না যায়, সে বিষয়ে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও কিছু প্রতিষ্ঠানকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।

এছাড়া আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বিটিআরসি’র মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর সভায় গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর সভায় বলেন, ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও কিছু কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

সভায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এজেন্সির কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং সাইবার অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য প্রণীত “Cyber Incident Reporting and Response System” সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

উল্লেখ্য, ২১ মে ২০২৫ তারিখে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়নের পর সংশোধিত এ অধ্যাদেশের আওতায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২৬ আগস্ট ২৫ সদস্যের জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজ (Chief Adviser GOB – Verified Page)

রাঙ্গুনিয়ায় নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ সভা, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) লালানগর ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভায় লালানগর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এদিন একইসঙ্গে লালানগর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ জন শীতার্ত নারী-পুরুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

এ বিষয়ে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এই অবহিতকরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জানান, তার গাড়িতে সবসময় শীতবস্ত্র রাখা থাকে। সভার ফাঁকে কিছু শীতার্ত বৃদ্ধ নারী-পুরুষের সঙ্গে দেখা হওয়ায় তাদের মাঝে প্রায় ৫০টি শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এর আগেও বেতাগী ইউনিয়ন ও রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় সীমিত পরিসরে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, গণভোট সম্পর্কে অনেক সাধারণ মানুষেরই পরিষ্কার ধারণা নেই। গণভোটের চারটি প্রস্তাবনা ও সংশ্লিষ্ট উপ-বিষয়গুলো আগেভাগে জনগণকে জানানোর উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, শনিবারের সভায় প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ অংশ নেন এবং ধারাবাহিকভাবে উপজেলার সব ইউনিয়নে এ ধরনের সভা আয়োজন করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নেও একই ধরনের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রথম ‘শান্তির পথে’ ম্যারাথন: কুয়াশা ঢাকা সকালে শান্তি ও সচেতনতার পদচারণা

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: শীতের কুয়াশায় ভোরের নরম আলোয় ঢাকা রাঙ্গুনিয়ার গ্রামীণ সড়ক। নিস্তব্ধতা ভেঙে দৌড়ে চলেছেন একদল মানুষ। সবাই এক লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন—সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘শান্তির পথে’ ম্যারাথন দৌড় ২০২৫। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু হয় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ম্যারাথন। দৌড়টি শেষ হয় সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল সিঙ্গাপুর মার্কেটে। পুরো রুট জুড়ে অংশগ্রহণকারীদের পায়ে ছিল ছন্দ, আর মনে ছিল শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়।

ম্যারাথনে সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সবার গেঞ্জি একই রকম, যা ম্যারাথনের একতা ও সমন্বয়কে আরও দৃঢ় করে। আয়োজকরা জানান, দৌড়পথে পানি বিতরণ স্টেশন, স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবক দল, মেডিক্যাল টিম এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়।

দৌড় শেষ হওয়ার পর আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী সচেতনতা অ্যাওয়ার্ড, মেডেল ও সনদ বিতরণ করা হয়।

আয়োজক সংগঠন ‘চলো যাই রাঙ্গুনিয়া’-এর অ্যাডমিন আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “এই ম্যারাথনের মূল উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি করা, তরুণ সমাজকে খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং রাঙ্গুনিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতিকে দেশব্যাপী তুলে ধরা।”

ম্যারাথন সফল করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের অবদানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। স্পন্সর হিসেবে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সক শপ, সরফভাটা সমিতি চট্টগ্রাম ও আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনকে বিশেষ স্মারক প্রদান করা হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই ম্যারাথন শুধু ক্রীড়া আয়োজন হিসেবে নয়, বরং রাঙ্গুনিয়ায় শান্তি, সচেতনতা ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হয়ে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

ফটিকছড়িতে অটো ব্রিকস মেশিনে আটকে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি ইটভাটার অটো ব্রিকস মেশিনে আটকে রায়হান উদ্দীন (১৯) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের এম এ ব্রিক্স নামের একটি ইটভাটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রায়হান উদ্দীন ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ফটিকছড়ির রেজাউল করিমের মালিকানাধীন এম এ ব্রিক্স ইটভাটায় অটো ব্রিকস মেশিনের অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মেশিনে মাটি দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রায়হানের একটি পা অটো ব্রিকস মেশিনে আটকে যায়। একপর্যায়ে মেশিনটি তাকে ভেতরে টেনে নেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়।

ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম জানান, দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ বিষয়টি তাদের জানায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে মেশিনের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

উদ্ধার শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহটি ফটিকছড়ি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে—তারেক রহমান

ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এ দেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায় শোধ করতে হবে।”

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে দেশ গড়ার নেতৃত্ব দেবে। গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর বাংলাদেশকে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি পরপর তিনবার বলেন, “আমরা দেশের শান্তি চাই।”

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উক্তির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।” তিনি জানান, দেশ গড়ার একটি পরিকল্পনা তার রয়েছে এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বক্তব্যে তারেক রহমান আরও বলেন, “১৯৭১ সালে যেমন দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালেও তেমনভাবে সর্বস্তরের মানুষ এক হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ও গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।”

তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে পাহাড় ও সমতলের মানুষ, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই আছে। আমরা এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশু—সবাই নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবে।”

এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙে সাজানো একটি বাসে করে তারেক রহমান পূর্বাচলের গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান। বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি মঞ্চে ওঠেন এবং বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, “প্রিয় বাংলাদেশ।”

মঞ্চে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

শান্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ধীর থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

ডেস্ক: শান্ত ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যেকোনো উসকানির মুখে ধীর ও শান্ত থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “এই মঞ্চে যারা আছেন এবং যারা বাইরে আছেন—আমরা সবাই মিলে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেকোনো উসকানির মুখে আমাদের ধীর ও শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।”

দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষের উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে স্বাগত জানান।

পরে বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙে সাজানো একটি বাসে করে তিনি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় তারেক রহমান স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। আজ সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে ফ্লাইটটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়।

রাউজানে সড়কে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাউজানে ইটবাহী চাঁদের গাড়ির ধাক্কায় মো. জাবেদ আলম (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ফকিরটিলা এলাকার ইয়াছিন শাহ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জাবেদ আলম রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এয়াছিন নগর গ্রামের বশরত আলীর বাড়ির প্রবাসী আহমদ হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে জাবেদ আলম মোটরসাইকেলে করে উপজেলার আমির হাট বাজারে একটি ওরশ উপলক্ষে দাওয়াতের চিঠি পৌঁছে দিতে যান। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে ইয়াছিন শাহ সড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটবাহী চাঁদের গাড়ি তাঁর মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা জে.কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় বসতঘরে আগুন: দাদি ও নাতনির মৃত্যু, পুড়েছে ছয়টি ঘর

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে দাদি ও নাতনির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় পুড়ে গেছে অন্তত ছয়টি কাঁচা বসতঘর।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের সৌদিয়া প্রজেক্ট গেট সংলগ্ন কাদেরীয়া পাড়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের রুহুল আমিনের স্ত্রী রুমি আক্তার (৫৫) এবং তার নাতনি মো. সুমনের শিশু কন্যা জান্নাত আক্তার (৫)।

এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডে মো. কায়েস আহম্মেদ, মনসুর, ময়নুল আহম্মদ, সংজি, এসকান্দার ও শিরিন আক্তারের মালিকানাধীন একাধিক কক্ষবিশিষ্ট বিভিন্ন পরিমাপের ছয়টি কাঁচা বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে একটি বসতঘরের ভেতরে আটকা পড়ে রুমি আক্তার ও জান্নাত আক্তার। পরে আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর দিলে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভানোর কাজে নেতৃত্ব দেন ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মন্নান।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, এ অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পোমরা কাদেরীয়া পাড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

সিএমপি কমিশনারের ‘ওপেন হাউজ ডে’-তে সেবা পেলেন সেবাপ্রত্যাশীরা

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উদ্যোগে পূর্বঘোষিত ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দামপাড়াস্থ সিএমপি সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

ওপেন হাউজ ডে-তে সেবাপ্রত্যাশী বেশ কয়েকজনের সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। অভিযোগ ও সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এ সময় উপস্থিত সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে কয়েকজন তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে ধন্যবাদ জানান।

ওপেন হাউজ ডে-তে আরও উপস্থিত ছিলেন সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান, পিপিএমসহ সিএমপি’র অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সিএমপি কর্তৃপক্ষ জানায়, নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতেই নিয়মিত এ ধরনের ওপেন হাউজ ডে আয়োজন করা হচ্ছে।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল ও ছাত্রদলের স্বাগত মিছিল

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ‘মা, মাটি ডাকছে—তারেক রহমান আসছে’ এবং ‘তারেক রহমান বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে মঙ্গলবার সেখানে মিছিল করেছে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদল।

উপজেলা ও পৌরসভা যুবদল এবং ছাত্রদলের ব্যানারে মঙ্গলবার দুপুরে এই স্বাগত মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়াবাসীর পক্ষ থেকে এবং রাঙ্গুনিয়া বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর পক্ষে এ স্বাগত মিছিলের আয়োজন করা হয়।

প্রসঙ্গত, বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করছেন। ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পথে ৩০০ ফিট এলাকায় উপস্থিত জনসমাগমের উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে  নিজ বাসভবনে ফিরবেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তারেক রহমানের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। সরকার তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে।

মাত্র ১৪ ঘণ্টায় লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক ছাড়াল ফান্ডরেইজিং: ডা. তাসনিম জারা

ডেস্ক রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে দেওয়া এক ভিডিওবার্তার পর মাত্র ১৪ ঘণ্টায় ২৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা অনুদান সংগ্রহ হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। যা নির্ধারিত ফান্ডরেইজিং লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি। অনুদানদাতাদের অকল্পনীয় সাড়া ও ভালোবাসায় তিনি অভিভূত বলেও উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

ডা. তাসনিম জারা জানান, এই ফান্ডরেইজিংয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেই অনুদান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এদিকে বিকাশ অ্যাকাউন্টের দৈনিক লিমিট শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিকাশের মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। যারা এখনো অনুদান দিতে আগ্রহী, তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান পাঠাতে পারবেন।

ফান্ডরেইজিংয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ডা. তাসনিম জারা বলেন, শুরু থেকেই তিনি পূর্ণ স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। সে অনুযায়ী ক্যাশ ডোনেশন গ্রহণ না করে শুধুমাত্র বিকাশ ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অনুদান নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রতিটি লেনদেনের একটি যাচাইযোগ্য রেকর্ড থাকে। এসব রেকর্ড বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং ভবিষ্যতেও যাচাইযোগ্য থাকবে।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিতভাবে মোট কত টাকা সংগ্রহ হয়েছে এবং কোন মাধ্যমে কত টাকা এসেছে—সে তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব ডকুমেন্ট নির্বাচন কমিশনের কাছেও জমা দেওয়া হবে, যাতে তারা যাচাই করতে পারেন।

এছাড়া কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করা হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিতভাবে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন ডা. তাসনিম জারা। স্বচ্ছতা আরও জোরদার করতে জনগণের কাছ থেকে পরামর্শও আহ্বান জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়ায় মাটিকাটা গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাটিকাটায় সৃষ্ট গর্তে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম মো. রুমান (৭)।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়া পুলিশ ক্যাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রুমান ওই এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকালে রুমান নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে ইসলামপুর মঘাইছড়ি পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন একটি ইটভাটার পাশে মাটিকাটা গর্ত থেকে রুমানের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. আরমান হোসেন বলেন, শিশুটির বাড়ির পাশে মাটি নেওয়ার ফলে সৃষ্ট একটি গর্তে জমে থাকা পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তায় যৌথ বাহিনী অভিযান জোরদার

ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখন থেকে নিয়মিতভাবে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হবে। এই তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “অভিযান বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং আমরা বলেছি, এটা নিয়মিতভাবে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। প্রতিদিনই প্রায় দুই হাজার জন করে গ্রেপ্তার হচ্ছে।”

এর আগে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এর নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, তিন বাহিনী প্রধান বা তাদের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, র‍্যাব, আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের চার সদস্য—আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ অংশ নেন।

এছাড়া, দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বৈঠক করেন। ভোটের তফসিল ঘোষণার পর এটি তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রথম সাক্ষাৎ।

খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখে: নূরের আলো সুপার লীগ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): সামাজিক সংগঠন নূরের আলো যুব একতা সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত নূরের আলো সুপার লীগ–২০২৫ (সিজন–৩) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দবাড়ি এলাকায় শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদন দেয়ার পাশাপাশি মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখা সম্ভব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বজন সমাবেশ রাঙ্গুনিয়ার সভাপতি ও চলমান রাঙ্গুনিয়া পত্রিকার পাঠক ফোরামের আহ্বায়ক সনজীব সুশীল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাঙ্গুনিয়ার টিম পরিচালক জাহেদুর রহমান, প্রবীণ শিক্ষক নুরুল হক, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ইকবাল আহমেদ বেলাল,নূরের আলো যুব একতা সংঘের উপদেষ্টা মাহাবুবুল আলম সিকদার, সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন আফতাব,সভাপতি সৈয়দ মো. ফাহিম, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আমিন তারেক, টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মো. আবদুল্লাহ মনসুর প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা নূরের আলো যুব একতা সংঘের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

উল্লেখযোগ্য, নূরের আলো সুপার লীগ–২০২৫ স্থানীয় যুবদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও অংশগ্রহণ সৃষ্টি করেছে।

রাঙ্গুনিয়ায়  ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে ৬ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সরকার ঘোষিত ডেভিল হান্ট ফেজ–২ অভিযানে চার দিনে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৬ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া পৃথক এক অভিযানে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, ডেভিলহান্ট ফেজ–২ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২১ ডিসেম্বর উপজেলার লালানগর ইউনিয়ন থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস ছালাম (৬০) এবং একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান তালুকদার (৫৯)।

এর আগে ১৯ ডিসেম্বর রাতে লালানগর ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মো. আজগর হোসেন (৩৮) এবং একইদিন রাতে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. ইকবাল হোসেন (৬০)–কে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ১৮ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম (৬০) এবং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. আবু জাফর (৩৮)–কে।

এছাড়া রবিবার (২১ ডিসেম্বর) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ফজল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের সৈয়দনগর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

ডেভিলহান্ট অভিযানে গ্রেপ্তারদের বিষয়ে পুলিশ আরও জানায়, আটককৃত অভিযুক্তদের রাঙ্গুনিয়া থানার ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট ও ১৫ সেপ্টেম্বরের এফআইআর নং–১৩ ও ১০ এবং জিআর নং–৮৪ ও ৯৫–এর বিভিন্ন ধারায় পেনাল কোড, ১৮৬০–এর মামলার তদন্তে সন্দিগ্ধ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ওসমান হাদী হত্যার প্রতিবাদে ও খুনীদের ফাঁসির দাবিতে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরীফ ওসমান হাদীকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং খুনীদের ফাঁসির দাবিতে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজ শেষে হাটহাজারী পৌরসভার ডাক বাংলো চত্বরে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস, মাওলানা মতিউল্লাহ নুরী, গণ অধিকার পরিষদ-এর সভাপতি মোহাম্মদ শোয়াইব, আসাদুল্লাহসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, শহিদ শরীফ ওসমান হাদী তাঁর জীবন বিসর্জনের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে অম্লান করে গেছেন। সেই চেতনাকে ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জুলাইয়ের যোদ্ধারা সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে ডাক বাংলো চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাসস্ট্যান্ড ও জাগৃতি মোড় প্রদক্ষিণ করে কাচারি সড়ক হয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে গিয়ে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

প্রাসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তিনি মারা যান।