ফেরার পথেই থেমে গেল প্রবাসী পরিবারের জীবনের গল্প

এস এম আক্কাছ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) | অতিথি প্রতিনিধি:

প্রবাস জীবনের কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে স্বপরিবারে কয়েক দিনের অবকাশ কাটাতে ওমানের সালালাহ শহরে ভ্রমণে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার একটি পরিবার। পাহাড় আর সাগরের শহর ঘুরে আনন্দমুখর সময় কাটিয়ে মাস্কাটে ফেরার পথেই ঘটে যায় সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তে থামিয়ে দেয় তিনটি প্রাণের জীবনের যাত্রা।

শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার দিকে সালালাহ থেকে মাস্কাটগামী সড়কের তামরিথ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমান প্রবাসী মো. শফিউর আলমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার, তাঁদের একমাত্র ছেলে মুহাম্মদ সাকিবুল হাসান (সবুজ) এবং বিলকিস আক্তারের মেয়ের জামাই হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মুহাম্মদ দিদার।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন নিহত সাকিবুল হাসান (সবুজ)। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলন্ত গাড়ির সামনে হঠাৎ একটি উট চলে আসে। আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উটের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে সড়ক থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

ঘটনায় সবুজের স্ত্রী রিতা আকতার, তাঁর সন্তান ও বোন গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা স্থানীয় একটি মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে তারা শঙ্কামুক্ত।

নিহত সাকিবুল হাসান সবুজ তিনদিন আগে তাঁর মা, স্ত্রী, সন্তান ও বোন-জামাইকে নিয়ে মাস্কাট থেকে সালালাহ ভ্রমণে যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাঁর বাবা শফিউল আলমের সঙ্গে ওমানের হামেরিয়াতে বসবাস করছিলেন।

একসঙ্গে থাকা সবুজের বন্ধু প্রবাসী রবিউল হোসাইন পারভেজ জানান, ফটিকছড়ির এই পরিবারটি ওমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পরিচিত ও সম্মানিত ছিল। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ওমানজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোকের আবহ নেমে আসে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে সালালাহর একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, ওমানের দীর্ঘ ও নির্জন মহাসড়কে উটের অবাধ চলাচল প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিবারটিও সেই কঠিন বাস্তবতার শিকার হলো।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে। তবে যে পরিবার একসঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে বেরিয়েছিল, তাদের ঘরে ফিরবে কেবল নিথর দেহ আর অসীম শূন্যতা।

রাঙ্গুনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় হামলায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শামসুল আলম (৫৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীরেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শামসুল আলম মীরেরখীল এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ইছু মিয়া।

স্থানীয়রা জানান, খেজুরের রস সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় শামসুল আলম গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় যৌথ অভিযানে অপহৃত ব্যক্তি উদ্ধার, অস্ত্র-মাদকসহ তিনজন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অপহৃত এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, দেশীয় অস্ত্র ও নগদ অর্থসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অপহরণের অভিযোগের ভিত্তিতে রাত ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত পৌনে ৩টা পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এ অভিযান চলে।

অভিযানে অপহরণকৃত রুবেল (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— পোমরা ইউনিয়নের দানু মেম্বারের ছেলে শাহেদ হাসান (৩৫), আবদুল করিমের ছেলে ওবায়দুল মোস্তফা সৌরভ (৩১) এবং বেতাগী ইউনিয়নের প্রজেক্ট গেইট এলাকার মজু মিয়ার ছেলে মো. আব্দুস সালাম সাকিব (২২)।

গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৮৮০ পিস ইয়াবা, ৩ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, দা, চাপাতি, রামদা, ছুরি ও হাতুড়িসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৩টি পাসপোর্ট, ৫টি স্মার্টফোন, ৪টি বাটন ফোন এবং নগদ ১ লাখ ৫ হাজার ৮৯০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. আরমান হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অভিযানে পুলিশ টিমের সহায়তা চেয়েছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকৃত আলামত বুঝে নেয়। মাদকসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।