ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেল ও চাঁদের গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় মোটরসাইকেল ও চাঁদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে শাকিল (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে নানুপুর-খিরাম সড়কের লম্বা টিলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিল খিরাম ইউনিয়নের মগকাটা এলাকার বাসিন্দা এবং আব্দুল কাদেরের ছেলে। আহত ব্যক্তি আলাউদ্দিন তালুকদার (৩৮), তার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শাকিল ও তার বন্ধু আলাউদ্দিন মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রাম শহর থেকে নিজ গ্রাম খিরামের মগকটা এলাকায় ফিরছিলেন। পথে লম্বা টিলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি চাঁদের গাড়ির সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আলাউদ্দিনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাকিস্তানে ট্রাক খালে পড়ে একই পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সারগোধা জেলার খুশাব শহরের কাছে দরবার পাঞ্জপির মানাওয়ান এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্র জানায়, যাত্রীবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে পড়ে যায়।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু এবং পাঁচজন নারী রয়েছেন। দুর্ঘটনায় সব নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছেন।

ট্রাকটি খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলা থেকে খুশাবের দিকে যাচ্ছিল। ঘন কুয়াশার কারণে চালক দৃষ্টিসীমা হারিয়ে ফেলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ট্রাকটি সড়ক থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়।

পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের খুশাব শাখার কর্মকর্তা হাফিজ আবদুল রশীদ জানান, রাত ১১টা ২২ মিনিটে তারা জরুরি কল পান। এরপর দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়।

আহত ৯ জনের মধ্যে দুজনকে খুশাবের টিএইচকিউ হাসপাতালে এবং সাতজনকে ডিএইচকিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতজনের অবস্থা গুরুতর।

আহতদের কাছ থেকে জানা গেছে, নিহত ও আহত সবাই শ্রমজীবী মানুষ। কাজের সন্ধানে তারা বান্নু থেকে খুশাব শহরের দিকে যাচ্ছিলেন।

এ দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।