রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযানে ৬ জন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের দুই নেতাসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাছের উদ্দিন (৪৪) এবং পোমরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন (৪৩)।

পুলিশ জানায়, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার মামলা নং-১২ (তারিখ: ২২ জানুয়ারি ২০২৫)-এর তদন্তে তাদের আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হলে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে পৃথক অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ মোছা. মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ছাড়া বন আইনের দুটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নুরুল ইসলাম ও আবু বক্কর নামে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জুলাইয়ের চেতনা ধারণের আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান সভাপতিত্ব করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতা অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী ও অধ্যাপক আজম খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নবাব মিয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব ছাফা, সদস্যসচিব আবদুস সালাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক ও ইলিয়াস সিকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইউছুফ চৌধুরী, জুলাই যোদ্ধা সাইফুল ইসলাম, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যুবদল নেতা শাহজাহান সিকদার, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী, উপজেলা যুবদল নেতা সেকান্দর সওদাগর এবং জেলা ছাত্রদলের নেতা আনছুর উদ্দিন, পারভেজ মোশারফ, হেলাল আহমেদ ও সাইফুল ইসলাম তালুকদার।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে স্বেচ্ছাচারিতা, প্রতিহিংসা ও বিভেদ পরিহার করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহনশীলতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।

তারা আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজনের কারাদণ্ড

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের দায়ে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এ কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- চন্দ্রঘোনা কদমতলীর লিচুবাগান ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. মানিক (৩৫), হোছনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা অপু বিশ্বাস এবং চন্দ্রঘোনা কদমতলীর বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন (৩৫)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মো. মানিক ও মো. সুমনকে গাঁজা সেবনের অপরাধে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং অপু বিশ্বাসকে ইয়াবা সেবনের অপরাধে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক সেবন, বহন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগও অব্যাহত থাকবে।”

সরফভাটা ক্ষেত্রবাজারে উচ্ছেদ অভিযান, যানজট নিরসনে স্বস্তি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন চার ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অন্যতম কারণ ছিল সরফভাটা ক্ষেত্রবাজার মোড়ের তীব্র যানজট। অবৈধ দখল উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর সড়কটি দখলমুক্ত ও প্রশস্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদসহ পুলিশের সদস্যরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।

অভিযান চলাকালে সরফভাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটসংলগ্ন ক্ষেত্রবাজার মোড়ে সৈয়দ আলী সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ অস্থায়ী দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে থাকা সড়কটি পুনরায় স্বাভাবিক প্রশস্ততা ফিরে পায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অবৈধ স্থাপনার পাশাপাশি সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থানের কারণে প্রতিদিনই এই মোড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। এতে শিলক, সরফভাটা, কোদালা ও পদুয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনও যানজটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

উচ্ছেদ অভিযানের পর এলাকাবাসী প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে সড়কটি দখলমুক্ত থাকবে এবং যানজটের সমস্যা আর ফিরে আসবে না। তবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কার্যকর নজরদারি না থাকলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড আবারও গড়ে উঠতে পারে। এ কারণে বাজার কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ বলেন, আগে থেকেই কয়েকজন অবৈধ দখলদারকে নোটিশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি খাস জায়গা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে সড়কের যানজট অনেকাংশে নিরসন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ পুনরায় সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যানজট নিরসন এবং সরকারি খাস জায়গা উদ্ধার করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে একইদিন নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, “দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার (সরফভাটা, শিলক, কোদালা ও পদুয়া) প্রবেশদ্বার ক্ষেত্রবাজারে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন গাড়ির জ্যামে আটকা পড়তে হয়। আশা করি ভবিষ্যতে এই জনদুর্ভোগের লাঘব ঘটবে। এ মহৎ কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ক্ষেত্রবাজার ব্যবসায়িক কল্যাণ সমিতি এবং সাধারণ দোকানমালিকদের ধন্যবাদ জানাই।”

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে পোস্ট, রাঙ্গুনিয়ায় তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের হিলাগাজীপাড়া এলাকায় নীরব ইমন নামে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেছিলেন নীরব ইমন। ওই পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক কষ্ট ও হতাশার নানা অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন। পোস্টটি তদন্তের অংশ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীরব ইমন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে অদূর ভবিষ্যতে প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নীরব ইমন। নতুন জীবন শুরু করার নানা পরিকল্পনাও ছিল তার। তবে সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হলো না।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগে ইমনের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের একটি অভিযোগ উঠেছিল। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রাঙ্গুনিয়ায় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সামনে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতির একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহতরা হলেন বনগ্রাম এলাকার জসিমের ছেলে মো. আবচার (৩৫) এবং হাফেজপাড়া এলাকার খুরশেদের ছেলে মিনহাজ (২৫)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আহত আবচারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত মিনহাজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

রাঙ্গুনিয়ায় সিএনজি-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাঠবোঝাই নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দবাড়ি হরিনগেইট এলাকায় ড্রিম রেস্টুরেন্টের পূর্ব পাশে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়মনগর থেকে রোয়াজারহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা কাঠবোঝাই একটি নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী আহত হন।

আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মরিয়মনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত বদিউল আলমের ছেলে হাফেজ মো. নুরুল হক (৬০)-কে মৃত ঘোষণা করেন।

অপর আহত দিলুয়ারা বেগম (৩৯) একই এলাকার বাসিন্দা এবং নিহতের ভাগ্নি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাঠবোঝাই নসিমন থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নসিমনের চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় বিট পুলিশিং সভায় এএসপি: ‘অপরাধ দমনে শুধু পুলিশ নয়, চাই সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধ’

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), রাঙ্গুনিয়া সার্কেল মো. বেলায়েত হোসেন বলেছেন, সমাজে নীতি-নৈতিকতার চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে। মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে আয়োজিত বিট পুলিশিং ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এএসপি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, শুধু পুলিশের একার পক্ষে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও সচেতন নাগরিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত হলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

সভাপতির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. জহির উদ্দিন বলেন, বিট পুলিশিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণ ও পুলিশের মধ্যে আস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

বালু উত্তোলনের ভিডিও প্রকাশ: সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সোনাইছড়ি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ভিডিও প্রকাশ করায় ইসমাঈল হোসেন নয়ন নামে এক সাংবাদিককে হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় সোমবার ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

হুমকির শিকার ইসমাঈল হোসেন নয়ন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্য।

গত ২৫ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে ৫ নম্বর পারুয়া ইউনিয়নের মধ্যম পারুয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে তিনি অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পান।

একই ইউনিয়নের ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলের সোনাইছড়ি খালে গিয়ে তিনি কয়েকজনকে বালু উত্তোলন করতে দেখেন।

সেখানে তিনি ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে বালু উত্তোলনকারীরা সরে যান।

পরে তিনি ধারণ করা ছবি ও ভিডিও তার ফেসবুক পেজ Rangunia24.com এবং ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি Ismile Hossian Noyon-এ প্রকাশ করেন।

জিডির তথ্য অনুযায়ী, ভিডিও প্রকাশের পর গত ২৬ জুলাই একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল, শেখ আহমেদ আরিফ ও মো. মারুফ চৌধুরী ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকি দেন।

একই দিন রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে তাকে বলা হয়, পারুয়া ইউনিয়নে গেলে তার পা কেটে রাখা হবে এবং বালি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণ জানতে চাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

তবে ১ নম্বর অভিযুক্ত মো. সোহেল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে কোদাল দিয়ে অল্প বালু তুলছিলেন, সেখানে কোনো ড্রেজার ব্যবহার করা হয়নি।

মো. সোহেল আরও জানান, কর্ণফুলী, সোনাইছড়ি ও ইছামতী নদীতে যেখানে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করার কথা তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন।

তবে তিনি সাংবাদিককে কোনো হুমকি দেননি বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু, প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তে মরদেহ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মালেকের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মৃত্যুর আগে আবদুল মালেকের সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আবদুল মালেক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা সবার দায়িত্ব, সচেতন হলেই বদলাবে রাঙ্গুনিয়া

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৫ জুলাই) রাঙ্গুনিয়ায় জনসচেতনতামূলক র‍্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়ে তোলা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। এ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও প্রচারণাও চালানো হয়।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিদিন পরিষদে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় পরিষদ চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, “পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। উপজেলা পরিষদে আগত সবাই যদি নির্ধারিত ডাস্টবিনে ময়লা ফেলেন, তাহলে পুরো প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা সম্ভব হবে। একটি পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।”

স্থানীয়দের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ছোট ছোট উদ্যোগ থেকেই বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই গড়ে উঠতে পারে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য রাঙ্গুনিয়া।

 

রাঙ্গুনিয়ায় কাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: “পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন, রাঙ্গুনিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্নকরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কর্মসূচির সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রকাশের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় খেলতে গিয়ে গাছের ডালচাপায় প্রাণ গেল শিশুর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নে গাছের নিচে খেলতে গিয়ে গাছের শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে নিশিত দেব (১২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের উত্তর পারুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালী মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নিশিত দেব ওই এলাকার খোকন দেবের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালী মন্দিরসংলগ্ন মাঠে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল নিশিত। এ সময় মাঠের পাশে থাকা একটি রেইনট্রি গাছের বড় শুকনো ডাল হঠাৎ ভেঙে নিচে পড়ে। অন্য শিশুরা দ্রুত সরে যেতে পারলেও নিশিত সরে যেতে পারেনি। ডালটি তার মাথার ওপর পড়ে গুরুতর আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মাহবুব মেম্বার বলেন, “গাছটির পাশে একটি খেলার মাঠ রয়েছে, যেখানে শিশুরা নিয়মিত খেলাধুলা করে। গাছটিতে আগে থেকেই বড় একটি শুকনো ডাল ছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ডালটি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির মধ্যেই খেলাধুলার সময় সেটি ভেঙে পড়ে। অন্য শিশুরা সরে যেতে পারলেও নিশিতের মাথার ওপর ডালটি পড়ে, এতে সে গুরুতর আহত হয়ে মারা যায়।”

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের অভিযোগের পর স্কুলছাত্রী ওয়াসিফা সরফভাটা থেকেই উদ্ধার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা সাত বছর বয়সী শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের একটি এলাকা থেকে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়।

বুধবার রাত ১২টা ১৭ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন বলেন, “সরফভাটা এলাকার একটি স্থান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযান এখনও চলমান থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হচ্ছে না। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।”

এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) সকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তার পরিবার। তাদের দাবি, অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিরা শিশুটিকে তার বাবা অসুস্থ বলে ডেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে সরফভাটা ইউনিয়নের একটি এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

 

বাবা অসুস্থ বলে সাত বছরের কন্যাশিশুকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শিশুটির নাম ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। সে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটার হাফেজ মোহাম্মদ শরিফের বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ দেলোয়ারের মেয়ে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের দাবি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ দেলোয়ার জানান, স্কুল ছুটির পর ওয়াসিফা সহপাঠীদের সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। এ সময় তাদের বাসার সামনে আগে থেকেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল, যা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিরা ওয়াসিফাকে বলে, “তোমার আব্বু অসুস্থ, তোমাকে নিতে এসেছি।” এরপর তাকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। গাড়িটিতে চালকসহ তিনজন ব্যক্তি ছিলেন।

দেলোয়ার বলেন, “তারা আমার মেয়ের নাম জানত এবং আমার অসুস্থতার কথা বলে তাকে নিয়ে গেছে। তাই আমার ধারণা, এটি পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা।” তিনি জানান, ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ করেছেন।

শিশুটির মা বলেন, ওয়াসিফা তার সহপাঠী ও এক আত্মীয় শিশুর সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। তাদের কাছ থেকেই তিনি জানতে পারেন, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে ওয়াসিফার বাবার অসুস্থতার কথা বলে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। যদি কারও সঙ্গে বিরোধ থেকেও থাকে, তাহলে আমাদের সঙ্গে ঘটতে পারত। কিন্তু আমার নিষ্পাপ শিশুকে কেন নিয়ে গেল? আমি শুধু আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।”

ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন স্থানীয় ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, ছুটি শেষে ওয়াসিফা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এ সময় তাদের বাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাবার অসুস্থতার কথা বলে ডেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আরও দুইজন সহপাঠী ছিল এবং তাদের সামনেই ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

 

রাঙ্গুনিয়ায় দিনমজুরের গাভী চুরি করে অন্যত্র জবাই, বাছুর রেখে মাংস নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে এক দিনমজুরের গোয়ালঘর থেকে একটি গাভী চুরি করে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে গাভীর লেজ, নাড়িভুঁড়ি ও শরীরের কিছু অংশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিল মোগল ডাবাইয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল খালেক (খালেক হাজী) এর ছেলে মো. মাহবুবের (৪০) গোয়ালঘর থেকে গাভীটি চুরি করা হয়।

ভুক্তভোগী মাহবুব জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি সর্বশেষ গোয়ালঘরে গাভীটি দেখেন। পরদিন ভোরে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, বাছুরটি থাকলেও গাভীটি নেই। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, লালানগর ইউনিয়নের সিকদারপাড়া থেকে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার বিকল্প সড়কের দক্ষিণ রাজানগর ও লালানগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চতুজ্জেপাড়ার মুখের নির্জন সড়কে একটি গাভী জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন, সেটি তার চুরি হওয়া গাভী।

তিনি বলেন, “আমি কৃষিকাজ ও দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে গাভীটি লালন-পালন করছিলাম। এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেল। গাভীটির আনুমানিক মূল্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এটি পাঁচ মাসের গর্ভবতীও ছিল।”

মাহবুব আরও বলেন, “আমার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানি না।”

ভুক্তভোগীর স্ত্রী বলেন, সংসার চালাতে গিয়ে তাদের প্রায়ই ধারদেনা করতে হয়। অনেক কষ্ট করে গাভীটি পালন করছিলেন, যাতে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়া যায় এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব হয়। তাদের তিন ছেলের বয়স ১০, ১২ ও ১৫ বছর। এর মধ্যে দুইজন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় এবং বড় ছেলে অন্য একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

স্থানীয়রা জানান, মাহবুব অত্যন্ত অসহায় একজন মানুষ। তিনি যে কাজ পান, সেটিই করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার সঙ্গে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। এটি খুবই মর্মান্তিক। মাহবুব একজন অসহায় দিনমজুর।”

 

সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধা জামালের মৃত্যুর ১১ দিনের মাথায় না ফেরার দেশে মা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: ওমানে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দেশে ফিরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা রাঙ্গুনিয়ার প্রবাসী মো. জামালের (৩৯) মৃত্যুর মাত্র ১১ দিনের মাথায় ইন্তেকাল করেছেন তাঁর মা।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জামালের মা আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে ওমানে কর্মরত ছেলের দুর্ঘটনার খবর, দীর্ঘদিনের চিকিৎসা এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

শনিবার দুপুরের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থতা অনুভব করলে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল জীবিকার তাগিদে ঋণ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে পাড়ি জমান। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওমানের আল আমরাত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় নিচে পড়ে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন।

চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গত ৭ জুলাই নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের ওপর নেমে আসে আরেকটি শোক। অল্প সময়ের ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ইসলামী ফ্রন্ট, নগদ সহায়তা বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় অতিবৃষ্টিজনিত পাহাড়ধসে নিহত এক পরিবারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত আরও কয়েকটি পরিবারের মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শগ্রাম এলাকায় এ সহায়তা বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে সাবেক মোমবাতি প্রতীকের পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট এম. ইকবাল হাছান।

এ সময় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি করিম উদ্দিন হাছান, সহসভাপতি আখতার হোসেন, পৌরসভা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুর রহিম, উপজেলা নেতা মীর মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সানাউল্লাহ, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার সহসভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন, প্রবাসী গাউছিয়া কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম, ওয়ার্ড সভাপতি তৌলত হোসেনসহ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী যুবসেনা ও ছাত্রসেনার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের নেতারা জানান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, এর সহযোগী সংগঠন এবং প্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

তাঁরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সাধ্যমতো সহায়তা প্রদান করে যাবে।

লালানগরে বন্যার্তদের মাঝে জামায়াতের খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে প্রায় ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

লালানগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মিনহাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা শওকত হোসেন, সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের সভাপতি সরোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি মহিউদ্দিন বাবু, লালানগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শরীফ চৌধুরী, জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নিশান, মুমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। দুর্যোগের এ সময়ে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠান শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

 

জাতীয় মঞ্চের পথে রাঙ্গুনিয়ার পায়েল, উৎসাহ যোগালেন এমপি হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার উদীয়মান সাঁতারু পায়েল নাথ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর বিভাগীয় পর্যায়ে সাঁতারে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে এবার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করবে সে।

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে পায়েল নাথ। এ সময় এমপি তার সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জাতীয় আসরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রাঙ্গুনিয়ার মুখ উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান।

এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “তরুণ প্রজন্মের খেলাধুলা ও মেধা বিকাশে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পায়েলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়ে সফল হয়ে রাঙ্গুনিয়ার জন্য গৌরব বয়ে আনবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

রাঙ্গুনিয়ার মতো একটি উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে একজন সাঁতারুর উঠে আসাকে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।

পায়েলের এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস রাঙ্গুনিয়ার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ও ক্রীড়াবান্ধব কার্যক্রম পায়েলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস রাঙ্গুনিয়ার সাঁতার ইভেন্টের প্রধান সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন আফতাব বলেন, “উপজেলা পর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে পায়েলের সাফল্যের পেছনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ক্রীড়াবান্ধব উদ্যোগ, প্রশিক্ষকদের নিবিড় পরিশ্রম, অভিভাবকদের উৎসাহ এবং আয়োজকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ পায়েল জাতীয় মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে।”

পায়েলের ক্রীড়া শিক্ষক মো. আলমগীর বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের প্রত্যাশা, জাতীয় প্রতিযোগিতায় নিজের সেরাটা উপহার দিয়ে পায়েল নাথ শুধু একটি পদকের জন্যই লড়বে না; বরং পুরো রাঙ্গুনিয়ার স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করবে। তার সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণ-তরুণীকে খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।”

এখন রাঙ্গুনিয়াবাসীর দৃষ্টি ২৫ জুলাইয়ের জাতীয় প্রতিযোগিতার দিকে। সবার প্রত্যাশা, নিজের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জাতীয় মঞ্চেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে পায়েল নাথ এবং রাঙ্গুনিয়ার জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনবে।

 

জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে রাঙ্গুনিয়ায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : যথাযোগ্য মর্যাদায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাঙ্গুনিয়া গড়ে উঠবে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে জুলাই শহিদ দিবস পালন করা হবে। জুলাই যোদ্ধাদের পরামর্শের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তাদের তালিকা পাওয়া গেলে স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণে একটি স্মারক প্রাঙ্গণ গড়ে তোলা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শহিদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের অবদান তুলে ধরতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।”

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

‘রাঙ্গুনিয়ার মানুষই রাঙ্গুনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি, আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি’ — হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি উপজেলার পদুয়া, কোদালা, শীলক ও সরফভাটা ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় পানিবন্দী পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্ট, যা পরে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও শেয়ার করা হয়, সেখানে তিনি এসব তথ্য জানান। পোস্টের সঙ্গে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনের একটি ভিডিওও প্রকাশ করা হয়।

পোস্টে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার পানিবন্দী পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা কাছ থেকে শুনেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “এই দুর্যোগের ক্ষতি একদিনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমরা যত দ্রুত একসঙ্গে কাজ করব, তত দ্রুত রাঙ্গুনিয়া আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”

দুর্যোগ মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিএনপির নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী এবং সর্বোপরি রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ সামনে দিনগুলোতেও থাকব। রাঙ্গুনিয়ার মানুষই রাঙ্গুনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।”

পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত ভিডিওতে বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো পরিদর্শনের বিভিন্ন দৃশ্য দেখা যায়।

 

শিক্ষা ও সবুজের বার্তা নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় এমপি হুমাম কাদেরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে রাঙ্গুনিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়ার বিআইজেডএইচ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “পড়াশোনায় মনোযোগী হলেই গড়ে উঠবে আগামীর নেতৃত্ব। ভবিষ্যতের মন্ত্রী-এমপি হয়তো আজ এখানেই বসে আছে। তাই এখন থেকেই বেশি করে পড়ালেখা করতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল গফুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রাণী গোপ।

সংসদ সদস্য বলেন, রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় একটি ভালো টিম নিয়ে কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সুশিক্ষাই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে দক্ষ পেশাজীবী, সফল উদ্যোক্তা কিংবা যোগ্য নেতৃত্বে পরিণত করতে পারে।

অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী।

এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নিহত পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে নিহত পরিবারের সদস্যদের মাঝে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার সিদ্দিক এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ হাসান মুরাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মোহাম্মদ শওকত হোসাইন, উপজেলা সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা।

সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের আগে উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি সরোয়ার হোসেন।

বক্তারা সাম্প্রতিক দুর্যোগে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকার, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে কর্ণফুলীতে ড্রেজার দেখে ক্ষুব্ধ এমপি, ড্রেজার জব্দসহ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় টানা বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় কর্ণফুলী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার ও নদীর তীরে বালুর স্তুপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি ঘটনাস্থলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ড্রেজারটি জব্দের নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার আজিজনগর এলাকায় পাহাড়ধস ও ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে সরফভাটা ও শিলক ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি। পথে সরফভাটা গোডাউন ব্রিজসংলগ্ন ভূমিরখীল এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে বালুর স্তুপ এবং নদীতে একটি ড্রেজার তাঁর নজরে আসে।

পরে তিনি গাড়ি থামিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তাঁর নির্দেশে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদকে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যবহৃত ড্রেজারটি জব্দের উদ্যোগ নিতে বলা হয়।

এরপর সংসদ সদস্য বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সরফভাটা ও শিলক ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা গত কয়েকদিন ধরে পরিদর্শন করছেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

বড় ভাইকে জড়িয়ে ধরেও বাঁচতে পারেননি সোলেমান, দুই দিন পর মিলল মরদেহ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া মো. সোলেমানের (২০) মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সোলেমান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোলেমান ও তার বড় ভাই আব্দুল হালিম (৩০) একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে কর্ণফুলী নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে যান। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি উল্টে গেলে দুই ভাই পানিতে পড়ে যান। আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা আব্দুল হালিমকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সাঁতার না জানা সোলেমান মুহূর্তেই প্রবল স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।

দুর্ঘটনার ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল হালিম বলেন, “আমার ছোট ভাই নৌকার পানি সেচ দিচ্ছিল। নৌকাটি যখন কিনারার দিকে আসছিল, তখন হঠাৎ একদিকে কাত হয়ে যায়। আমি জানতাম, আমার ভাই সাঁতার জানে না। তাই তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। কিন্তু নৌকাটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার সময় সে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল। এতে আমিও পানির নিচে তলিয়ে যাই। অনেকক্ষণ পর কোনোভাবে হাত ভাসাতে পারলে এক জেলে আমাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু আমার ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

সোলেমান নিখোঁজ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে কর্ণফুলী নদীর তীব্র স্রোতের কারণে দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি।

অবশেষে সোমবার সকালে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হলে সেটি সোলেমানের বলে শনাক্ত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে আমাদের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু নদীর স্রোত বেশি থাকায় সেদিন তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পাই। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাদুর্গত ৩০০ পরিবারের মাঝে যুবদলের ত্রাণ বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরীর উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যুবদলের রাজনীতির অন্যতম অঙ্গ। মানবিক, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদক ইউসুফ কামাল তালুকদার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরী, হোছনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, ইউনিয়ন বিএনপি ও উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুল আলম, সাবেক ছাত্রনেতা আবু নাছের টিপু, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বখতিয়ার হোসেন, হোসেন মেম্বার, মির্জা মহিউদ্দিন, মো. নুরুন্নবী, মো. খোরশেদ, জসিম উদ্দীন, নাজিম উদ্দীন ও মো. রাশেদ।

এ সময় ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বিএনপির সদস্যরা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

আয়োজকরা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় শৌচাগারের পানি নিয়ে বিরোধ, মারধরে যুবকের মৃত্যু; আটক ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে শৌচাগারের পানি উঠান দিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে মো. ওবায়দুল (৩৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাপিতপুকুরিয়া ব্রিজঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওবায়দুল ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টির সময় বাড়ির উঠান দিয়ে শৌচাগারের ময়লা ও বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ওবায়দুলকে তাঁর চাচা ও চাচাতো ভাইরা কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করেন।

নিহতের ভাই মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “চাচাদের বাড়ির শৌচাগারের ময়লা ও বৃষ্টির পানি ছাড়াকে কেন্দ্র করে আমার ভাই প্রতিবাদ করলে তারা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। কাঠের বাটামের আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। বাথরুমের পানি উঠান দিয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয়রা জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।”

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত নারীর পরিবারের পাশে যুব ফোরাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী আদর্শ গ্রামে পাহাড়ধসে নিহত এক নারীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরাম। একই সঙ্গে টানা ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল নিহত নারীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।

পরে ইছাখালী আদর্শ গ্রাম ও আশপাশের এলাকার প্রায় ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে চাল, ডালসহ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ডা. এ টি এম রেজাউল করিম, সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে পাহাড়ধসে নিহত নারীর মাগফিরাত কামনা এবং টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা, সুস্থতা ও দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় একটি সেতুর একাংশ ধসে পড়েছে। এতে রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে সেতুটি ধসে পড়ে। সেতুর একাংশ ভেঙে যাওয়ায় ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সড়কের দুই প্রান্তে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে ওই এলাকায় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত ছিল। পানির প্রবল চাপে প্রথমে রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। পরে গভীর রাতে পানির তোড়ে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ে।

যদিও সেতুটির অবস্থান রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়, তবে এটি বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন।

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন সেতু ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বান্দরবান থেকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক ও সেতু পানিতে তলিয়ে থাকায় তাদের দল এখনো সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি আরও জানান, পানি নেমে গেলে দ্রুত একটি বেইলি সেতু স্থাপনের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।