চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৫: জেলা প্রশাসকের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নির্দেশনা

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় নিরাপত্তা ও বিসর্জনের নির্দেশনা গৃহীত। ছবি: সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম: আজ রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় দুর্গাপূজার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ উদযাপন নিশ্চিত করতে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্থায়ী আনসার বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি টহলের ব্যবস্থা থাকবে। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার করতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডকে বিশেষ সতর্কতামূলক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয় আজকের সভায়।

সভায় জানানো হয়, প্রতিমা বিসর্জন কেবল জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে দিতে হবে এবং সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। বিজয়া দশমীর দিনে বিসর্জন ঘিরে দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি বিসর্জন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত সড়ক বাতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় আজকের সভায়।

সভায় পূজামণ্ডপে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়; ইভটিজিং, মাদক সেবনসহ যেকোনো অপরাধ কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এছাড়া, গ্রামীণ পর্যায়ে প্রতিমা আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার ও মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে। আলোচনায় আজ আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: কামরুজ্জামান।

 

গণছুটিতে থাকা বিদ্যুতকর্মীদের প্রত্যাবর্তনে রাঙ্গুনিয়ায় স্বস্তি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: ট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গণছুটিতে থাকা ৭৩ জন বিদ্যুতের কর্মী পুনরায় কর্মস্থলে ফিরেছেন। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–২ রাঙ্গুনিয়া কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ ফয়সাল শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, পল্লী বিদ্যুতের রাঙ্গুনিয়া কার্যালয়ের ১০৩ জন কর্মীর মধ্যে ৩৭ জন লাইনম্যান, মিটার রিডার ও অন্যান্য কর্মী সহ মোট ৭৩ জন কর্মী গণছুটিতে যান।

গণছুটির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। গৃহস্থালি, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটেছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। কিছু এলাকায় দিনে ৮–১০ বার বিদ্যুৎ আসে বা কোথাও ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিজিএম মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, “উল্লেখিত সমস্যা এখন স্বাভাবিক হয়েছে। গণছুটিতে যাওয়া কর্মীরা এবার কর্মস্থলে ফিরে এসেছে। আজ সকাল থেকেই রাঙ্গুনিয়ায় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গণছুটির সময় দুর্ভোগ কমাতে রাউজান থেকে ঠিকাদারের লোক এনে বিকল্পভাবে কাজ চালানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

 

জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার দেশে রূপান্তরিত হয়েছিল: যুবদল নেতা মুরাদ চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার দেশে রূপান্তরিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোডাউন চত্বরে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুরাদ চৌধুরী বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার সময়ে ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতা ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “সেই মহান নেতা জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের সুযোগ্য সন্তান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি দেশনেতা তারেক রহমান বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। জনগণের সম্পৃক্ততায় তিনি গত ১৭ বছর ধরে বিএনপিকে সুসংগঠিত করে দেশের গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।”

নিজের প্রসঙ্গ টেনে যুবদল নেতা বলেন, “আমার জন্ম, শিক্ষা-দীক্ষা সবকিছুই রাঙ্গুনিয়াকে কেন্দ্র করে। আপনাদের ভালোবাসা, স্নেহ আর সহযোগিতাতেই আজকের এ অবস্থানে আসতে পেরেছি। এ অর্জন শুধু আমার নয়, কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষেরই অর্জন। আমৃত্যু আমি রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন আবুধাবি বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, “দলের ক্রান্তিলগ্নে যারা পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারাই দলের প্রকৃত সম্পদ। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাঙ্গুনিয়ার নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের জন্য কাজ করতে হবে।”

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ মহসিন ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যুবদলের সদস্য সচিব খালেদ হোসেন চৌধুরী রাসেলের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

রাঙ্গুনিয়ায় ভুয়া পরিচয়ে অর্থ দাবির চেষ্টা, ওসির সতর্কবার্তা

রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার।

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ফোন করে ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বুধবার জানান, উপজেলার মরিয়ম নগর এলাকার এক ব্যক্তি, কোদালা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এবং সরফভাটার এক ব্যক্তিসহ কয়েকজনের কাছে ভুয়া পরিচয়ে ফোন করে টাকা দাবি করার প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

তিনি বলেন, “বিষয়টি জানার পর ঐ নাম্বারগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় পাওয়া গেছে। উপজেলায় কারো কাছে এ ধরনের ফোন এলে তারা যেন সঙ্গে সঙ্গে থানাকে অবহিত করেন। আর দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকায় ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানায় জানান।”

তিনি আরও বলেন, “যে বা যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

চান্দগাঁওয়ে পুলিশ অভিযানে ছিনতাইকৃত সাড়ে ১৪ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) চান্দগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে ছিনতাইকৃত মোট ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৭০ টাকা ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল ও টিপছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চান্দগাঁও থানাধীন জান আলী রেলস্টেশন এলাকায় রফিক স্টোর নামের একটি গোডাউনের সামনে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে প্রায় ২০ লাখ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ প্রথমে অভিযান চালিয়ে দুই আসামি— মো. সুমন (৩০) ও মো. আলী (৪৫) কে গ্রেফতার করে। তাদের হেফাজত থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি টিপছোরা এবং ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরে পুলিশের পৃথক অভিযানে লক্ষীপুরের চৌধুরীঘাট এলাকা থেকে আরো তিনজনকে— মো. রাকিব (৩২), মো. ফয়সাল (১৯) ও মোছা: কাজল আক্তার (২১)— গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৩০ টাকা।

মোট উদ্ধার হওয়া টাকা ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৭০ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

চান্দগাঁও থানার ওসি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে চট্টগ্রাম ডিসির অভিনব গণশুনানি

ছবি: সংগৃহীত।

ডেস্ক: জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রান্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হলো গণশুনানি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় নাগরিক সেবা বিষয়ক এ গণশুনানি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: সাদি উর রহিম জাদিদ। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা সহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে কুসুমপুরা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো নিষ্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এসময় উত্থাপিত ২১টি বিষয়ের মধ্যে ২০টির নিষ্পত্তিকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেন জেলা প্রশাসক। ভিক্ষুক ও গৃহহীন পুনর্বাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, সড়ক উন্নয়ন, প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় হুইলচেয়ার প্রদান, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা – প্রধানত এসকল বিষয় উঠে আসে আজকের এই গণশুনানিতে। জটিল সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন জেলা প্রশাসক তিনি জানান।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক প্রতি বুধবার নিজ কার্যালয়ে গণশুনানি করেন। তবে কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে এনে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়ে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামের এই অভিনব উদ্যোগ।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “টাইম-কস্ট-ভিজিট—জনগণের ভোগান্তি লাঘবে এই তিনটি বিষয় সহজীকরণের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানির এই উদ্যোগ। মানুষকে সেবা পেতে দৌড়াতে হবে না, প্রশাসন তাদের দোরগোড়ায় যাবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। এ ধরনের আয়োজন জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে।”

“স্থানীয়রা বলেন, জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ অভাবনীয়। মাঠপর্যায়ে এরকম গণশুনানি চলমান থাকলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।”

অর্থ নয়, প্লাস্টিক বর্জ্যেই মিলছে চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবা

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

সোমবার সকালে নগরীর ষোলশহর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র নিজেই রোগী দেখেন এবং বিদ্যানন্দের চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা। অর্থের অভাবে যারা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন, বিদ্যানন্দের এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ হবে। একইসঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাসে এটি ভূমিকা রাখবে।”

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, এর আগে সংগঠনটি প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ করলেও এবারই প্রথম স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হলো। তিনি বলেন, “কসমোপলিটন এলাকায় চালু হওয়া এ হাসপাতালটিতে গাইনি, চক্ষু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন। থাকবে ল্যাব সুবিধা ও ফার্মেসি। চিকিৎসকের পরামর্শে যে ওষুধ ও পরীক্ষা দরকার হবে, তা প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়েই পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে এটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে শুরু হলেও সাড়া পেলে ধীরে ধীরে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলেও এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিদ্যানন্দ জানায়, গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ প্রকল্পে তারা ২০০ মেট্রিকটন প্লাস্টিক সংগ্রহ করে রিসাইক্লিং করেছে।

 

চট্টগ্রামে জশনে জুলুস র‌্যালীতে পদদলিত হয়ে দুইজনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস র‌্যালীতে পদদলিত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— সাইফুল ইসলাম (১৩) ও আইয়ুব আলী (৬০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র‌্যালি চলাকালে প্রচণ্ড গরমে মাথা ঘুরে পড়ে যান তারা। এ সময় পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

এর আগে শনিবার সকালে চট্টগ্রামে আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে ঐতিহাসিক জশনে জুলুছ শুরু হয়। ষোলশহরের আলমগীর খানকায়ে কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ এর নেতৃত্বে হাজারও মানুষ এতে অংশ নেন।

শোভাযাত্রাটি নগরীর বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট ও জিইসি মোড় হয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা ময়দানে গিয়ে মাহফিল ও জোহরের নামাজের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ

চট্টগ্রাম: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শোভাযাত্রা ৫৪তম জশনে জুলুস ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসুল সালাম আলাইকা’ দরুদ পাঠ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকেন মুরাদপুর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। সকাল ৯টায় আলমগীর খানকাহ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোভাযাত্রা শুরু হয়।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ ও সৈয়্যদ মুহাম্মদ মেহমুদ আহমদ শাহ্ ।

শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এবং সার্বিক সহযোগিতা করছে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, শরিয়তসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে ড্রাম সেট বাজানো, নারীর অংশগ্রহণ এবং খাবার নিক্ষেপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় অস্ত্রসহ ২ যুবক গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ওই এলাকার মো. পারভেজ (৩১) এবং আশরাফ আলী সিকদার (১৯)

ওসি সাব্বির বলেন, “সকালে সরফভাটা এলাকায় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অভিযানের সময় সেনাবাহিনী আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুজনকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।”
তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি কিরিচ, একটি দা ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তার পারভেজের বিরুদ্ধে রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় আরও চারটি মামলা রয়েছে।”

“তারা হারায়—কখনো ফিরে, কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতিতে”

রাঙ্গুনিয়ায় দুই শিশুর হারিয়ে যাওয়া ও মানবিক উদ্ধার অভিযান

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: একটা অন্ধকার রাত। দুই অবুঝ শিশু পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে।

কে জানে তারা কোথা থেকে এসেছে? কোথায় যাবে?
তারা হারিয়ে গেছে—কখনো হয়তো ফিরে আসবে, আবার কখনো হারিয়ে যাবে এমন এক পরিণতির দিকে, যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে—দুই শিশুকে পাওয়া গেছে। কেউ চিনে থাকলে যেন যোগাযোগ করা হয়।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশু দুজনকে পাওয়া যায়।

এক রিকশাচালক শিশুদের নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী পারুয়া ইউনিয়নে। শিশুদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায়, স্থানীয় এক যুবক, মুসাফির তালুকদার, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেন যাতে তাদের পরিবার খুঁজে পাওয়া যায়।

জোনাকি ও আয়েশা—দুই অবুঝ মুখের পরিচয়

শিশু দুটির একজনের নাম জোনাকি, অপরজন আয়েশা। তারা জানায়—তাদের বাবার নাম সোহেল, মায়ের নাম মুন্নী। কখনো তারা বলে সৈয়দনগর, কখনো কাটাখালি—ঠিকানা তারা মনে রাখতে পারে না।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকা থেকে ফোন আসে। এক ব্যক্তি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং জানান, শিশুদের নানী পরদিন সকালেই প্রমাণপত্রসহ এসে নিয়ে যাবেন।

পরদিনই এক করুণ বাস্তবতা উন্মোচিত হয়

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জোনাকি(৯) ও আয়েশার(৭) নানী এসে তাদের পারুয়া থেকে নিয়ে যান।

“কিন্তু পরদিন আরও একটি হৃদয়বিদারক বাস্তবতা সামনে আসে।”

জানা যায়, জোনাকি ও আয়েশার বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। তারা এখন নানীর কাছে থাকে।
পায় না বাবার আদর, কিংবা মায়ের যত্ন। কারণ মা মুন্নী শহরে কাজ করেন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে।

বাবা-মা উভয়ের মধ্যেই রয়েছে কিছুটা মানসিক সমস্যা, আর শিশু দুজনের একজন মানসিকভাবে কিছুটা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বিকারগ্রস্ত)। এ অবস্থায় তারা প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে, ঠিকানা মনে রাখতে পারে না। মুঠোফোনে এসব তথ্য জানিয়ে শিশুদের নানী মো. ননা মিয়ার স্ত্রী রানু আক্তার জানান, তারা এর আগেও বেশ কয়েকবার হারিয়ে গিয়েছিল শেষবার কাউখালি থানার সহায়তায় পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তারা তার কাছেই থাকেন উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকার সোনারগাঁও এলাকা সংলগ্ন ঘোনাকূল ওরনার টিলা এলাকায়।

“দারিদ্রতার কাছে তিনিও পরাজিত, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই দুই নাতনির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেও তবুও হারিয়ে যায় তারা।”

প্রশ্ন: এবার তারা ফিরে এসেছে ভালো কিছু মানুষের সহানুভূতিতে, কিন্তু আগামীবার?

 

পূর্বের আরেক করুণ গল্প: মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন 

এ ধরনের একটি ঘটনা আগেও ঘটেছে রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ওসমানের টেক এলাকার আমড়াকাটার বাড়িতে।
সেখানে এক মেধাবী ছেলে, সাজ্জাদ হোসেন, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হলেও ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন।

তার পরিবারের কারো মানসিক সমস্যা না থাকলেও, সাজ্জাদের সমস্যা সময়ের সঙ্গে বাড়ে। সে প্রায়ই হারিয়ে যেতো। কখনো ফিরে আসতো, কখনো বহুদিন নিখোঁজ থাকতো।

শেষবার সে হারিয়ে যায় চিরতরে। তার বাবা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু ছেলের মুখ শেষবার আর দেখতে পারেননি।

সাজ্জাদের গল্প আমাদের শেখায়—মানসিক অসুস্থতা শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবারের কষ্ট এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”

নিরাপদ নয় এই অনিশ্চিত পথচলা

জোনাকি ও আয়েশার গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি বাংলাদেশের অনেক শিশুর বাস্তবতা।
তারা হারিয়ে যায়— কখনো ফিরে আসে কারো মমতায়,
আবার কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতির অন্ধকারে।

এখনই যা করণীয়:

১. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা:
শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রশাসনিক নজরদারি:
স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়মিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

৩. পরিচয়পত্র ব্যবস্থা:
শিশুদের জন্য আইডেন্টিটি ট্যাগ, নামপোতা জামাকাপড় কিংবা ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেম চালু করা যেতে পারে।

৪. কমিউনিটি সাপোর্ট:
স্থানীয় দোকান, বাজার, মসজিদ-মন্দিরের লোকদের সচেতন করা জরুরি—যাতে তারা হারিয়ে যাওয়া শিশুকে দ্রুত সঠিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে পারেন।

শেষ কথা: আজ জোনাকি ও আয়েশা ফিরে এসেছে।
কিন্তু এটাই কি শেষবার? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।

“আমরা জানি না, এটাই কি তাদের হারানোর শেষবার?
কিন্তু এটুকু জানি—তারা যেন আর না হারায়,
তাদের ছোট্ট জীবন যেন থেমে না যায় কোনো নির্মম পরিণতির কাছে। এই দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।”

প্রতিবেদন: এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার,
সম্পাদক: রাঙ্গুনিয়া টুডে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন দেবব্রত দাশ।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, গত ৩১ আগস্ট তিনি রাঙ্গুনিয়ায় যোগদান করেছিলেন।

জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার সন্তান দেবব্রত দাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করার পর ৩৮তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় যোগদানের আগে তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, পূর্বে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মারজান হোসাইন। সম্প্রতি বদলির পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দেবব্রত দাশ।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ: সফর ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা

ডেস্ক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে সেনাপ্রধান সম্প্রতি তাঁর চীন সফরকালীন অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর অভিজ্ঞতা ও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন।

এ সময় দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সেনাপ্রধান আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনী প্রধান সেনাবাহিনীর চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়ার মাজারে নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

সোমবার রাঙ্গুনিয়ার জিয়া নগরস্থ সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল থেকেই কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা নেতাদের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিলের মাধ্যমে অংশ নেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আজ সকল বিএনপি-জনগণ এক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা ফুল দিতে যাচ্ছেন, তাদের সবাইকে সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধও জানান তিনি।”

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহারের নেতৃত্বে মিছিল শেষে ফুল দিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

 

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু আহমেদ হাসনাতের নেতৃত্বে মিছিল শেষে ফুল দিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ জসিম ও সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরীও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে নেতাকর্মীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোসহ তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেপ্তার

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়ায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করে পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার সোহেল পাটোয়ারী (৩২) উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কোব্বাতের ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ আগস্ট বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর ইকো পার্কের সামনে সড়কে গাড়ির গতিরোধ করে স্থানীয় মো. ইউনুছ আলী (৩৪) ও সিএনজি চালক মো. ভুট্টোর (৪১) উপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের মাথায় আঘাতসহ পিটিয়ে আহত করা হয়।

পরে আহতদের ভাই হযরত আলী (২০) বাদী হয়ে সোহেল পাটোয়ারীকে প্রধান আসামি এবং আরও দু’জনকে আসামি করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সোহেলকে কোব্বাতের ঘোনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “সোহেল পাটোয়ারী হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে ১টি হত্যা, ৪টি মারামারি ও ১টি চুরির মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।”

উল্লেখ্য, এর আগে বিএনপির মিটিংয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলা উল্লেখ করে এবং এ হামলার প্রতিবাদে গত সোমবার এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কাপ্তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ দলটির বিভিন্ন নেতাকর্মী, ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা অংশ নেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি: ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ টাকা লুট

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মধ্য বেতাগী এলাকায় বুধবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডাকাতদের হামলায় বাড়ির দুই সদস্য আহত হয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রাখে।

ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, “ডাকাতরা ঘরে ঢুকেই সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে খালেদ আহমদ (২৪) ও জাবের আলমকে (২০) তারা মারধর করে। এরপর আলমারি ভেঙে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ দুই লাখ টাকা, ব্যাংকের চেকবইসহ মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যায়।”

খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিব জানান, “বাড়ির পাশের একটি কবরস্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পালানোর সময় ডাকাতরা এগুলো ফেলে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরিবার এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

‘“চৌধুরী পরিবারের শক্তি তাকবিরের স্লোগান: হুম্মাম কাদের চৌধুরী”

 

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক:

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “অনেকেই অনেক কথা বলে, চৌধুরী পরিবারের আসল শক্তি হলো নারায়ে তাকবির।”

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের লিচুবাগান চত্বরে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “যদি মনে হয় বিএনপির কোনো নেতা আপনার কাছ থেকে চাঁদা চেয়েছে, তবে এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কিছু হতে পারে না। এর শাস্তি আমি নিজেই দেব। দল হয়তো বহিষ্কার করবে, কিন্তু আমি খালি বহিষ্কার করব না—চোখে চোখ রেখে বলতে হবে কে চাঁদা চেয়েছে, তারপর পরিস্থিতি কী হবে আপনারাই জানবেন।”

তিনি বলেন, “অনেকেই বলে ভাইয়া চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি বলছি, আমি একশন নেব না—আপনারাই ব্যবস্থা নেবেন। এটা আপনাদের দায়িত্ব।”

সভায় নেতাকর্মীদের স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাকে তাকবির দিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি বলছি, এটা শুধু আমার তাকবির নয়—এটা রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি মুসলমানের তাকবির। এখন থেকে দুইটা স্লোগান দিতে হবে—‘জিয়ার সৈনিক’ আর ‘নারায়ে তাকবির’।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি একসাথে থাকি, একে অপরের পাশে দাঁড়াই, আমাদের হারানোর কেউ থাকবে না। আমরা বিএনপির সদস্য হলেও বারবার প্রমাণ করি, রাঙ্গুনিয়ার মধ্যে পাক্কা মুসলমান নেতৃত্ব দিচ্ছে।”

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “প্রার্থী যেই হোন না কেন, আমাদের দায়িত্ব একটাই—বিএনপির প্রার্থীকে জয়ী করে সংসদে পাঠানো। এজন্য আমার ও আমার দলের পাশে দাঁড়িয়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে আপনাদের।”

বাবার কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে হুম্মাম বলেন, “আজ আপনাদের দেখে মনে হলো আমি এতিম নই, আমি বাবা হারাইনি। আজ আমার পরিবার আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে নমিনেশন দিক বা না দিক, আমি দলে থাকি বা না থাকি, আমি বেঁচে থাকি বা না থাকি—ওয়াদা করে যাচ্ছি, আমার পরিবার সারাজীবন এই রাঙ্গুনিয়ার গোলামী করে যাবে।”

রাঙ্গুনিয়ায় একাধিক মামলার আসামি কুপিয়ে হত্যা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় হত্যাসহ একাধিক মামলার এক আসামিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

নিহত মো. রুবেল (৩৫) উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের হারুয়ালছড়ি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম জানান, বুধবার গভীর রাতে হারুয়ালছড়ি এলাকায় রুবেলের বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে ওসি বলেন, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা রুবেলের ঘরে প্রবেশ করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলের গলার বাম পাশ কেটে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদনের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “নিহত রুবেল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ১১টি মামলা ছিল।”
প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ওসি আরও জানান, ঘটনার সময় রুবেলের সঙ্গে মো. মোরশেদ নামে আরও একজন ছিলেন যিনি হামলায় আহত হয়েছেন বলে শোনা গেলেও ঘটনাস্থলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় সড়কের পাশ থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

 

 

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সড়কের পাশ থেকে রোজি আকতার (৫০) নামে এক নারীর পা ও মাথা থেতলানো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের উপজেলার মরিয়মনগর কাটাখালী এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রোজি আকতার(৫০) শিলক ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মো. জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।

থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে রোজি আকতার তার বাপের বাড়ি মরিয়মনগর কালুগোট্টার উদ্দেশ্যে বের হন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা কাটাখালী এলাকায় সড়কের পাশে তার পা ও মাথা থেতলানো মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থল তার বাপের বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে শনাক্ত করে পরিবার ও থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় আদালতের রায়ে ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়া, নিলামে ইট বিক্রি

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আদালতের রায়ে একটি ইটভাটার ১২০ ফুট উচ্চতার ফিক্সড চিমনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়।

এছাড়াও ইটভাটার সাড়ে ৩ লাখ ইট উন্মোক্ত নিলামের মাধ্যমে তিন লাখ আট হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকালে উপজেলার দক্ষিণ রাজনগর ইউনিয়নের সোনারগাঁও এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আল মদিনা ব্রিকস নামক ইটভাটায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান।

সুত্রে জানা যায়, পরিবেশ আদালত, চট্টগ্রাম এর পরিবেশ মামলা নং ০৩/২০১১ এর রায়ের আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ অভিযানে মেসার্স আল-মদিনা ব্রিকস-১ ইটভাটাটির ১২০ ফুট উচ্চতার ফিক্সড চিমনি ধ্বংস করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ২০১১ সালের মামলায় জব্দকৃত ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ইট উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়। উক্ত নিলাম কার্যক্রমে সর্বোচ্চ দর ডাককারী মো. সাইফুজ্জামানের কাছে ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে বুঝিয়ে দিয়ে নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

বিজ্ঞ আদালতের রায় বাস্তবায়ন অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী ইফতেকার উদ্দিন। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।

 

রাঙ্গুনিয়ায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় তৌহিদুল ইসলাম আরিফ (২৬) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার জানান, সকালে আরিফকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। নিহতের বাবা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রেমঘটিত বিষয়ে ছেলের সঙ্গে মায়ের ঝগড়া হয় আগের রাতে। পরদিন সকালে দীর্ঘ সময় রুম থেকে বের না হলে দরজা ভেঙে আরিফকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, আপাতত এটি অপমৃত্যু মামলা হলেও প্রকৃত কারণ উদঘাটনে লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত আরিফ উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সাহাব্দীনগর বলির বাড়ির আবদুল কুদ্দুসের ছেলে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় বেতাগীর চম্পাতলীতে ব্রীজ ভেঙে জনদুর্ভোগ

এম জাহাঙ্গীর নেওয়াজ, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ মধ্য বেতাগী চম্পাতলী এলাকার একটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে একটি ব্রীজ ভেঙে পড়ার কারণে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোটারি বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, হাফেজ হাকিম মাওলানা মুহাম্মদ বজলুল রহমান (রহ.) ঈদগাহ ও চম্পাতলী কবরস্থানে আসা-যাওয়া করা সাধারণ মানুষ, এবং আশপাশের হাজারো বাসিন্দা প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। কয়েক মাস ধরে ব্রীজটি ভেঙে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৪ আগস্টের পর কিছু মাটি খেকোদের ভারী যানবাহনের চলাচলের ফলে ব্রীজটি ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই ব্রীজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একজন বাসিন্দা মুহাম্মদ তৈয়ব জানান, “এই সড়ক দিয়ে অনেক মানুষ কষ্ট করে চলাচল করে। কেউ মারা গেলে লাশ অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে কবরস্থানে নিয়ে যেতে হয়।”

এদিকে, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জানান, বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। তিনি আরও জানান, “সরকারি কোনো বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “ব্রীজটি নিয়ে আমি চেষ্টা করছি, আগামী মাসে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এলজিইডি (LGED) অফিসের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাবার রিকশার ব্যাটারি চুরি, ছেলে জড়িত—গ্রেপ্তার ২

 

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: 

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় চোরাই ব্যাটারিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শফাতুল মাজদার জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামালসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—অভিযোগকারীর ছেলে মো. আরাফাত হোসেন (২২) ও চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার বাসিন্দা তরিকুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম (৩২)।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নে আব্দুল মালেক ওরফে মানিক (৪৬) নামে এক ব্যক্তির নিজস্ব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে চারটি ব্যাটারি চুরি হয়। প্রতিটি ব্যাটারির মূল্য ২৫ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা।

ঘটনার পর রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। এসময় মো. আরাফাত হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি চুরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন এবং কামরুলসহ অন্যদের নাম প্রকাশ করেন।

এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দবাড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের পাশে কামরুলের মালিকানাধীন ভাঙারির দোকান থেকে চুরি হওয়া চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে কামরুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের দুজনের বিরুদ্ধে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

তিনজন পুলিশ সদস্যের মানবিক কর্মকাণ্ডে সিএমপি কমিশনারের স্বীকৃতি

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: অসাধারণ মানবিক কর্মকাণ্ড ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনজন পুলিশ সদস্যকে রবিবার (২৪ আগস্ট) সিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে পুরস্কৃত করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম। অনুষ্ঠানে তাদের হাতে নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

গত ০৯ আগস্ট নগরীর দেওয়ানহাট মোড়ে দায়িত্ব পালনের সময় প্রসব বেদনায় কাতর এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মোজাহিদ, সার্জেন্ট মোঃ জাহিদুর রহমান এবং কনস্টেবল মহিউদ্দীন হোসেন।

সিএমপি কমিশনার এই কর্মকাণ্ডকে “পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন,
“এমন কর্মকাণ্ড সমাজে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করবে।”

তিনি সকল পুলিশ সদস্যকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানান।

রাউজানে হক কমিটির উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

রাউজান (চট্টগ্রাম): মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ রাউজান রশিদর পাড়া শাখার উদ্যোগে ও সিনিয়র সদস্য মুহাম্মদ জিফু সুলতানের সার্বিক সহযোগিতায় এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, সংগঠনের অভিষেক এবং বিশ্ব অলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর ৩৭তম বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ আগস্ট) শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাফেজ আকতার হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাউজান উপজেলা গাউসিয়া হক কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সমন্বয়ক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। উদ্বোধন করেন শাখার প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবদুল খালেক চৌধুরী।

আলোচক ছিলেন উপজেলা সাংগঠনিক সমন্বয়ক মাওলানা মোহাম্মদ মহিম উদ্দীন মাইজভাণ্ডারী ও মুহাম্মদপুর রমজান আলী হাট শাখার সভাপতি মাওলানা জামাল উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন, মুহাম্মদ খোরশেদুল আলম চৌধুরী, মুহাম্মদ দেলাওর হোসেন, রাউজান প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ, মুহাম্মদ রাসেদ, মুহাম্মদ নূরুল আলম, মুহাম্মদ মাহাবুল আলম, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মুহাম্মদ ওমর ফারুক জিকু, মুহাম্মদ ফারুক প্রমুখ।

পরে সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি, সম্পাদক ও কার্যকরী সদস্যদের শপথ বাক্যপাঠ এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। মিলাদ-কিয়াম শেষে বিশ্ববাসীর শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়।

 

রাঙ্গুনিয়ায় অস্ত্র-গোলাবারুদসহ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: রাঙ্গুনিয়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভোরে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শফিউল আলম ওরফে শফি (৩৬) ডাকাতি ও অপহরণ মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ জানায়, শফির বাড়ি তল্লাশি করে দুটি একনলা বন্দুক, ১৫টি তাজা কার্তুজ, ১৬টি কার্তুজের খোসা, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ২৩টি পটকা (বিস্ফোরক), কিরিচ, ছুরিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শফি জানিয়েছেন, এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে নাশকতা ও ত্রাস সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করা হতো।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম জানান, শফির বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অপহরণের দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। শুক্রবার সকালেই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

মাদকবিরোধী অভিযানে রাঙ্গুনিয়ায় দুইদিনে ছয়জনের কারাদণ্ড

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: 

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে ছয়জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের প্রত্যেককে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দণ্ড দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান ও ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার মাদকসেবিকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। অভিযানে সহায়তা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমানসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বনগ্রাম এলাকার মো. রেজাউল করিম, চন্দ্রঘোনা নবগ্রামের মো. ইউসুফ, একই এলাকার মো. শাকিল ইসলাম এবং রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুরাদনগর এলাকার মো. জাহেদ হোসেন। প্রত্যেককে ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মো. ইউসুফকে ৩ মাস, বাকি তিনজনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে গাজা ও মাদক সেবন সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২০ আগস্ট) উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন জিয়ানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার মো. রাসেল (১৯) এবং রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ঊনসত্তর পাড়া এলাকার মো. নয়ন (১৯)-কে আটক করা হয়েছিল। তাদেরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়াকে মাদকমুক্ত রাখতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। ইউএনও মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা: যুব ও স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে বুধবার (২০ আগস্ট) জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত রেখে বর্ষব্যাপী “তারুণ্যের উৎসব” কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয় এবং প্রতিটি দপ্তরকে ক্যালেন্ডার তৈরি করে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আগামী ১২ অক্টোবর ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের টাইফয়েড টিকা প্রদানের বিষয়ে সবাইকে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় নিয়ে মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সভায় যুব উন্নয়ন, কৃষি, পল্লী উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও স্বাস্থ্য প্রকৌশলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম আলোচনা করা হয়। জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রতিটি দপ্তরকে আরও সক্রিয় ও সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসময় সভায় ঋণ আদায়, কৃষকদের উন্নত বীজ সরবরাহ, মডেল মসজিদ নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ নানা বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুজ্জামান সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।

চট্টগ্রামে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানি: জেলা প্রশাসনের অনন্য উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম: জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন শুরু করেছে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ—প্রান্তিক পর্যায়ে গণশুনানি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী এই আয়োজন। আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, সীতাকুণ্ড।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাদি উর রহিম জাদিদ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলার ১৯১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে ৭৫টিতে নেই কোনো জনপ্রতিনিধি পরিচালিত হচ্ছে প্রশাসকদের মাধ্যমে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে—সরাসরি ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে জনগণের সমস্যার কথা শোনা এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা করা। এটি কেবল প্রশাসনিক সেবা প্রদান নয়, বরং জনগণের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রশাসনকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অনন্য প্রয়াস।

দিনব্যাপী গণশুনানিতে সলিমপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মনোযোগ সহকারে সেগুলো শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো নিষ্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মান উন্নয়ন, রাস্তা মেরামত, বিদ্যুৎ সংযোগ, আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ—প্রধানত এসব বিষয় উঠে আসে গণশুনানিতে।

জটিল সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করেন যে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক প্রতি বুধবার নিজ কার্যালয়ে গণশুনানি করেন। তবে এবার কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে এনে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতে জনগণ সরাসরি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সেবার মানোন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

গণশুনানিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “জনগণের সমস্যা সমাধান করাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। মানুষকে সেবা পেতে দৌড়াতে হবে না, প্রশাসন তাদের দোরগোড়ায় যাবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের গণশুনানি কেবল সমস্যা সমাধান নয়, বরং জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসক ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে একটি জারুল গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, টেকসই উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।

গণশুনানি শেষে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবা প্রদানে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুধু গণশুনানিই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ১০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ জেলে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ এ উদ্যোগকে যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, আগে সমস্যার সমাধানে দফতরে দফতরে ঘুরতে হতো; আজ জেলা প্রশাসক নিজে এসে কথা শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন—এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।

সলিমপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বাস্তব পদক্ষেপ। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ইউনিয়ন পর্যায়ে সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।