দায়িত্বশীল জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাঙ্গুনিয়ায় ডিসি জাহিদুল ইসলাম

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : “একটি দায়িত্বশীল ও সুস্থ জাতি গঠনে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা আমাদের বাস্তব জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। জয়কে কীভাবে উপভোগ করতে হয়, পরাজয়কে কীভাবে মেনে নিতে হয়—এসব আমরা খেলাধুলার মাধ্যমেই শিখি।”

এভাবেই তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (১৮ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত “অন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব কথা বলেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের জীবন ও খেলাধুলার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। জীবনে যেমন সবসময় সুখ বা ভালো সময় থাকে না, তেমনি খেলাধুলাতেও সবসময় জয় আসে না। জয়-পরাজয় মিলিয়েই প্রতিটি খেলা। তবে পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে না নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই একজন মানুষকে সফলতার পথে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “যদি কেউ পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তাহলে সে সত্যিকার অর্থে হেরে যায়। কিন্তু যদি সে নিজের চেষ্টা ধরে রাখে, তাহলে তার জয় অনিবার্য।”

বর্তমান বিশ্বকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ উল্লেখ করে ডিসি বলেন, যার যত দক্ষতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তার নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগও তত বেশি। এজন্য কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও স্বপ্নকে ধারণ করে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও লক্ষ্য ছাড়া সুন্দর কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তরুণদের সামনে এখন অনেক দায়িত্ব। শুধু সফল হওয়াই নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”

তরুণ সমাজের সামনে বর্তমানে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, মাদকাসক্তি এবং ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন গেমে আসক্তি তরুণদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের ১৮ কোটি মানুষ ও ৩৬ কোটি হাতকে দেশের মূল সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সম্পদ যদি প্রযুক্তির নেতিবাচক দিকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা চাই তরুণদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে।”

এ সময় অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তারা বড়দের অনুসরণ ও অনুকরণ করতে শেখে।

সন্তানদের সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাবা-মা যদি সন্তানকে সময় না দেন, তাহলে বড় হয়ে সন্তানেরাও বাবা-মাকে সময় দেবে না। আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক উপজেলার পোমরা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন ও ইউনিয়ন পরিষদস্থ পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলা আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় উপজেলাস্থ সেবাপ্রার্থীদের জন্য ওয়েটিং রুম কাম লাইব্রেরি উদ্বোধন এবং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পরিদর্শন করেন তিনি।

 

রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুরু, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বছরব্যাপী ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শনিবার উপজেলার গুমাইবিল ও সরফভাটায় শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়।

কর্মসূচি চলাকালে এক বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া ২০২৬” ভিশন সামনে রেখে চলতি বছরের মধ্যে ৫০ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তবে তার আগেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজার গাছ রোপণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দেশের মঙ্গল ও পরিবেশ রক্ষায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকেই প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও দেশ গড়ার কাজে তারা নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় জনসাধারণের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, “আপনারা যে যেখানে পারবেন, প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় কয়েকজন মিলে অন্তত কয়েকটি করে গাছ লাগান। নিজেদের উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে তার ছবি আমাদের ফেসবুক পেজে ট্যাগ করতে পারেন। আমরা রাঙ্গুনিয়ায় একটি সবুজ বিপ্লব গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, গুমাইবিলে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে, কারণ মাঠে কাজ করা কৃষকদের বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ফলজ, বনজ ও অন্যান্য গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে “গ্রীন রাঙ্গুনিয়া” বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ওমানে নিহত সেই চার সহোদরের পরিবারে এবার ইসলামী ফ্রন্টের সমবেদনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ও সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে যান রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (১৬ মে) বাদ জোহর নিহতদের গ্রামের বাড়ি বান্দারাজার পাড়ায় মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সহ-সভাপতি মাওলানা করিম উদ্দিন নুরী, সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতাকর্মীরা শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করবে।

এর আগে শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দও ওই পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এসময় তারা শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওমানে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চার সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো লালানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর বেদনা ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

ওমানে নিহত চার সহোদরের পরিবারের খোঁজ নিলেন ডা. এটিএম রেজাউল করিম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে তিনি নিহতদের গ্রামের বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদে আসরের নামাজ শেষে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

পরে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি বলেন, একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই কঠিন সময়ে তিনি ও তাঁর সংগঠন শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

তিনি স্থানীয়দেরও মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি ওমানে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের চার সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো লালানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।

ওমানে নিহত চার সহোদরের পরিবারে এমপি হুম্মাম, পাশে থাকার আশ্বাস

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য ।

শুক্রবার (১৫ মে) নিহতদের গ্রামের বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং স্থানীয়দেরও সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “এই পরিবারের সদস্যরা আপনাদেরই আপনজন। যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন। একইসঙ্গে সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।”

তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে আরও বলেন, “আমরা সবাই দুনিয়া নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি যে পরকালের কথা ভুলে যাই। অথচ মৃত্যু যেকোনো সময় চলে আসতে পারে। এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে আমরা কেউ চিরস্থায়ী নই।”

তিনি বলেন, নিহতদের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে এখন একজন জীবিত আছেন। স্বজন হারানোর বেদনা তিনিই সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন। তাই তার পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।

মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে এমপি হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আশা করছি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই মরদেহ দেশে পৌঁছাবে। এ বিষয়ে ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশ সরকারও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।”

নিহতরা হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই ওমানে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগির দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব জানান, ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি রাতের দিকে ঘটলেও বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ধারণা করছে, গাড়ির ভেতরে এসির গ্যাস লিকেজজনিত বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

চার সহোদর ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিহতদের বাড়িতে যান। একইদিন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বক্তারা নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক চেয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

প্রসঙ্গত, নিহত চার ভাইয়ের মধ্যে রাসেদুল ইসলাম ও শাহেদুল ইসলাম বিবাহিত। রাসেদুল ইসলামের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শাহেদুল ইসলাম বিয়ের পরপরই প্রবাসে পাড়ি জমান। তার স্ত্রী রয়েছেন। নিহত সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম এখনো অবিবাহিত ছিলেন। এছাড়া তাদের পরিবারে রয়েছেন মা ও আরও এক ভাই। নিহতদের বাবার নাম মৃত আবদুল মজিদ।

ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটায় বের হয়ে ওমানে প্রাণ গেল চার ভাইয়ের

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওমানে একটি গাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই ওমানে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব জানান, ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। বাবুর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি রাতের দিকে ঘটলেও বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে ঘুমানোর সময় গ্যাস লিকেজ থেকে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইয়াকুব আরও জানান, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বাবু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বর্তমানে মরদেহগুলো রোস্তাক থানার হেফাজতে রয়েছে। পরে সেগুলো মাস্কাটে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

চার সহোদর ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোক বিরাজ করছে।

রাঙ্গুনিয়ায় ভোরের আগুনে পুড়ল চার দোকান, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে সৃষ্ট আগুনে চারটি দোকান ও একটি রিকশা গ্যারেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) ভোরে উপজেলার রোয়াজারহাট এলাকার জাকির আলম মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোর ৫টা ১২ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মাত্র এক মিনিটের মধ্যে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন। সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ৬টা ২০ মিনিটে সম্পূর্ণ আগুন নির্বাপণ করা হয়। পরে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ইউনিটগুলো স্টেশনে ফিরে যায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন দুটি সেমিপাকা ভাঙারির দোকান, আরিফুল ইসলামের একটি চায়ের দোকান, অরুণ মন্দিরের একটি রিকশা গ্যারেজ এবং জাকির আলমের একটি কাঁচা দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। তবে আগুনে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেওয়া উপজেলার মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক মো. জামাল (৩৫) বলেন, ভোরে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পান গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। পরে তিনি দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে গিয়ে বিষয়টি জানালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় দোকানগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

ধান ঘরে তুলতেই হিমশিম, বর্গা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক কালবৈশাখীর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কৃষকরা। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ থাকলেও সেই ধান ঘরে তুলতে গিয়ে বাড়তি শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে অনেক কৃষক এখন হতাশ। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেকেই ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকদের একাংশ।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গুমাই বিলে একাই প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে।

তবে মৌসুমের মাঝপথেই দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর প্রভাব পড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঝড়ে কিছু জমির ধান মাটির সঙ্গে লেগে যাওয়ায় প্রায় ৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে এবং আরও প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অনেক জমির ফসল পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ক্ষতির সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই কৃষকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধান ঘরে তোলার ব্যয়। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক সর্বনিম্ন পারিশ্রমিক চাওয়া হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৮০০ টাকা। থাকা-খাওয়াসহ একজন শ্রমিকের পেছনে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, এক দিনে একজন শ্রমিকের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা প্রায় ১০ আড়ি ধানের সমান। এ ছাড়া ধান কাটার পর রয়েছে মাড়াই খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাড়িতে নেওয়ার অতিরিক্ত খরচ। সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কৃষক অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। কৃষকদের ভাষ্য, উৎপাদন খরচ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ধান ঘরে তোলার ব্যয় বাড়তে থাকায় বর্গা চাষি ও জমির মালিক—উভয় পক্ষই লাভ-ক্ষতির হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষক নুরুন্নবীর ছেলে সোহেল জানান, এবার কালবৈশাখীতে তাদের কিছু জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে এবং ধান ঘরে তুলতে গিয়ে তারা বড় সমস্যায় পড়েছেন। আড়াই কানি জমির ধান বিল থেকে রাস্তার পাশে আনতে সাতজন শ্রমিক এক দিনে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। এরপর মাড়াই ও বাড়িতে আনার খরচ রয়েছে। ধান ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত লাভ থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি শঙ্কায় আছেন।

অন্যদিকে কৃষক আহমদ জানান, তিনি এবার এক কানি জমি বর্গা নিয়েছেন। তার হিসাবে ওই জমিতে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ আড়ি ধান হতে পারে। তবে সেখান থেকে ২৫ আড়ি জমির মালিককে দিতে হবে। এরপর চাষাবাদ, শ্রমিক, সেচ, মাড়াই ও পরিবহনসহ সব ব্যয় হিসাব করলে নিজের অংশে কতটুকু অবশিষ্ট থাকবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

মাঠপর্যায়ে আরও জানা গেছে, অনেক বর্গা চাষি ধীরে ধীরে কৃষিকাজ ছেড়ে দিনমজুরি, ইজিবাইক চালানো কিংবা সিএনজি চালনার মতো পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। চাষাবাদে পরিশ্রমের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় তারা বিকল্প আয়ের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের একাংশের দাবি, সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচি থাকলেও অনেক ক্ষুদ্র ও হতদরিদ্র কৃষক সেই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, উপজেলার কিছু এলাকায় কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোথাও মাটি অপসারণ, কোথাও বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম বাড়ছে। কৃষি থেকে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পাওয়ায় কেউ কেউ কৃষিজমি বিক্রি করে প্রবাসমুখী হচ্ছেন, আবার কেউ জমিকে বিকল্প কাজে ব্যবহার করছেন। এভাবে কৃষিজমি কমতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।

 

লিচুবাগান ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে আবদুল মালেক ও শোয়াইব

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি পদে আবদুল মালেক তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. শোয়াইব নির্বাচিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চন্দ্রঘোনাস্থ দ্য রাইজিং সান কেজি এন্ড হাই স্কুল কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম তালুকদার। প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন মুক্তি সাধন বড়ুয়া।

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সিসি ক্যামেরার আওতায় পরিচালিত হয়, যা প্রার্থী, ভোটার ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

ভোট গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি পদে আবদুল মালেক তালুকদার দোয়াত কলম প্রতীকে ৫৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাতা প্রতীকের মো. বেলাল উদ্দিন পান ৪২৯ ভোট।

সহ-সভাপতি পদে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ২৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মো. সেকান্দর (প্রজাতি প্রতীক)।
সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ প্রার্থীর মধ্যে ৫৮১ ভোট পেয়ে মো. শোয়াইব (আনারস প্রতীক) বিজয়ী হন।

সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে তালাচাবি প্রতীকের মো. সাজ্জাদ হোসেন ৬১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অর্থ সম্পাদক পদে ডাব প্রতীকের মো. আলমগীর হামিদ ৪২৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোরগ প্রতীকের মো. জসিম উদদীন সিকদার ৫১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে সিংহ প্রতীকের টিপু সুলতান চৌধুরী ৩১৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মো. আরজান হোসেন আরজু নির্বাচিত হন।

সদস্য পদে নির্বাচিত হন আব্দুল সবুর, আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মোজাম্মেল।

নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বিকেল পর্যন্ত চলে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।” তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

রোগীর পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, মানবিকতারও পরিচয়: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম: মানবিকতা ছাড়া মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কোনো মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক । তিনি বলেন, রোগীর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সাহস ও আস্থা ফিরিয়ে দিতেও নার্সদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি আন্তরিক হাসি কিংবা ভালো ব্যবহারও একজন রোগীর দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল নার্সিং ইনস্টিটিউট ও নার্সিং কলেজের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও শিরাবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা সবাই একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই বাংলাদেশে নার্সরা মানবতার দেবদূত হিসেবে কাজ করবেন।” নার্সিং পেশাকে মহৎ ও মানবিক পেশা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অসুস্থ মানুষ কখনো সুস্থ সমাজ গঠন করতে পারে না। তাই চিকিৎসক ও নার্সদের মানবিক সেবা সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নার্সিং সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ডা. কামরুন নাহার দস্তগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসান, ট্রেজারার অধ্যক্ষ ডা. লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক ও উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানের আগে জেলা প্রশাসক হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন। তিনি বহিঃবিভাগ, শিশু বহিঃবিভাগ, এনআইসিইউ, পিআইসিইউ, এডাল্ট আইসিইউ, ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও অটিজম ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অটিজম ইউনিট পরিদর্শনের সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। খাদ্যে ভেজাল, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “আজ যারা শপথ নিচ্ছেন, তারা যেন সেই শপথের মর্যাদা রক্ষা করেন। সরকারি বা জনসেবামূলক হাসপাতালে আসা অধিকাংশ মানুষই অসহায়। তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, এটি মানবিক দায়িত্বও।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে ইউরোপ ও জাপানে দক্ষ ও মানবিক নার্সের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষতা, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে নবাগত শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করানো এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়।

ফটিকছড়িতে সাপের কামড়ে প্রাণ হারাল শিশু আয়াত

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সাপের কামড়ে দুই বছর বয়সী শিশু মো. আয়াতের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার তৈয়্যবিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়াত স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল হোসেনের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে বাড়ির সামনের টিউবওয়েলে পানি আনতে যায় আয়াত। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না দিয়ে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় বিলম্ব করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর চাচা মুহাম্মদ শওকত বলেন, “সাপে কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসা শুরু না করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে সময় নষ্ট করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো যেত।”

ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল আলম বলেন, “ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে চিকিৎসকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তসহ গ্রেপ্তার ৩

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তসহ মোট ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

গত ১০ মে এসআই মো. মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার গোডাউন বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলামকে (৫১) গ্রেপ্তার করেন।

পরবর্তীতে ১১ মে এএসআই আবদুর রহিমের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে রাঙ্গুনিয়া থানার একাধিক মামলা ও দায়রা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি দিদারুল ইসলাম কাঞ্চনকে (লালানগর, রাঙ্গুনিয়া) গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর ধারার মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই দিনে পৃথক আরেক অভিযানে এসআই সাহিদুল বিশ্বাস ও এএসআই আবদুর রহিমের নেতৃত্বে ৪টি সিআর সাজা পরোয়ানা ও ১৩টি সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর ইউনিয়নের মজুমদার খিল এলাকার বাসিন্দা সুবল সাহাকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একটি মামলার ৩০৪/৩৪ পেনাল কোডের তদন্তে সন্দিগ্ধ পলাতক আসামি ছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন আহমেদ।

সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজেকে বদলাতে হবে: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক: সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্রুত নিজেদের সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নারী বন্দিদের এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “একজন বাবা বা মায়ের পরিচয়ই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। নিজের সন্তান, পরিবার ও প্রিয়জনদের মুখের দিকে তাকিয়েও ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।”

মানবিক ও কল্যাণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে আয়োজিত এ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক বন্দিদের জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও সংশোধনমূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা মামলা বা আইনি জটিলতায় আটক থাকেন, তবে তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হাত ধোয়ার অভ্যাস ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পানিবাহিত রোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁর ভাষায়, “কিডনি রোগের অন্যতম কারণ ভেজাল খাবার।”

এর আগে কারাগারে পৌঁছালে জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিক সালাম প্রদান করা হয়। এ সময় শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। পরে তিনি সন্তানসহ নারী বন্দিদের সেল পরিদর্শন করে তাঁদের নিরাপত্তা, সন্তানদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

পরে জেলা প্রশাসক কারা হাসপাতালের নারী ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

একপর্যায়ে নারী বন্দিদের পরিচালিত নকশিকাঁথা সেলাই কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি। এছাড়া বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও বাঁশ-কাঠের নান্দনিক সামগ্রীও পরিদর্শন করেন। এসব প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম বন্দিদের আত্মনির্ভরশীল ও সমাজে পুনর্বাসনে সহায়ক হবে বলে মত দেন জেলা প্রশাসক।

তিনি কারাগারের রান্নাঘর ও বন্দিদের জন্য প্রস্তুত খাবারের মানও পরীক্ষা করেন। খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

পরে পুরুষ বন্দিদের কারাকক্ষ ও সংশোধনাগার পরিদর্শন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।

সবশেষে কারা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সভায় বন্দিদের কল্যাণ, মানবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বন্দিদের স্বজনদের সাক্ষাৎ সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সংকট ও সামাজিক পুনর্বাসনে কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ১, অস্ত্র ও মাইক্রোবাস উদ্ধার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ। এ সময় দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হাইচ মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (১১ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) মো. ইমরান হোসাইন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ৬নং পোমরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আজিমনগর এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অভিযান পরিচালনা করেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, একদল ডাকাত অস্ত্র-শস্ত্র ও একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতদলের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সাহাদাত হোসেন প্রকাশ মানিক (৩২) নামে একজনকে আটক করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা অন্ধকারে পাশ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে থাকা একটি কালো রঙের হাইচ মাইক্রোবাস তল্লাশি করে দুটি ধারালো ছুরি, একটি লোহার কাটার, একটি দা, একটি সাবল ও দুটি কিরিচসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় আটক সাহাদাত হোসেনসহ ৬ জন পলাতক আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, আটক আসামিকে পেনাল কোডের ৩৯৯/৪০২ ধারায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সাতকানিয়ায় অবৈধ হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, ৫ বাসে জরিমানা

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার কেরাণীহাট রেলক্রসিং সংলগ্ন চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে ৫টি বাসে ব্যবহৃত মোট ১০টি অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়। পরে পৃথক ৫টি মামলায় সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে মোট ২২,০০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। এর মধ্যে ৪টি মামলায় ৫,০০০ টাকা করে এবং ১টি মামলায় ২,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল।

অভিযান চলাকালে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আনসার সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় রাঙ্গুনিয়ায় দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের জান মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় জায়গা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায়।

রোববার (১০ মে) উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করা হয়।

জানা যায়, জায়গা ও রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ ও মামলাও হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আবছার জানান, সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় প্রায় দুই থেকে তিনশ মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জায়গা পরিমাপের জন্য একজন সরকারি আমিনসহ মোট পাঁচজন আমিন দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও জানান, পরিমাপে দেখা যায় বাদী ওমর ফারুকের দুটি ঘর এবং আলমের সামনের বাউন্ডারি ওয়াল আংশিক ভাঙতে হতো। তবে উভয় পক্ষের ক্ষতি কমিয়ে আনতে স্থানীয়দের পরামর্শে অন্য অংশ থেকে জায়গা সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো হয়। এতে চলাচলের রাস্তার সমস্যাও দূর হয়।

পরে এলাকাবাসী দুই পক্ষের মধ্যে মিলমিশ করে দেয় এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ বলেন, “সকাল থেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিকেলের দিকে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান করা হয়েছে। পূর্বে উভয় পক্ষ সমাধান মানতে রাজি না হলেও জনস্বার্থ বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাপজোখের মাধ্যমে সমাধান করা হয়। যার যতটুকু ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তা দিয়েছে। চলাচলের রাস্তা ও বিরোধপূর্ণ দুটি পয়েন্ট অবমুক্ত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় গভীর রাতে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, এস্কেভেটরের ব্যাটারি জব্দ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের বগাবিলি এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না গেলেও মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর পাওয়া যায়। পরে এস্কেভেটরটির ব্যাটারি জব্দ করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহযোগিতা করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম।

এ বিষয়ে দেবব্রত দাশ জানান, কৃষি জমির টপসয়েল ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক বিএনপি সভাপতির কবরে শ্রদ্ধা জানাতে এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীরা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুছ তালুকদারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার (৮ মে)। এ উপলক্ষে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে ইউনুছ চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানে কবর জিয়ারত, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এ সময় রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হুমাম কাদের চৌধুরী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অংশ নেন উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এম এইচ সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুবসহ লালানগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মরহুম ইউনুছ তালুকদার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বৃহত্তর হোসনাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং হোসনাবাদ-লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এদিকে বিকেলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী, তফনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

ছাদ বাগানে আদা চাষ, বড় ফলবাগানের স্বপ্ন দেখছেন বিএনপি নেতা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভেসে ওঠা কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, বাড়ির ছাদে সারি সারি বস্তায় আদা চাষ। পাশে দাঁড়িয়ে কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন এক সৌখিন বাগানি। প্রথম দেখায় সাধারণ কোনো কৃষক মনে হলেও, খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি স্থানীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ, কাউখালির বেতবুনিয়া মডেল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী।

রাজনীতির ব্যস্ততার মাঝেও কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন ছাদ ও আঙিনাজুড়ে ফল ও মসলাজাতীয় ফসলের ছোট্ট এক সবুজ জগৎ। তার এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে শৈশবের স্মৃতি, বাবার অনুপ্রেরণা এবং কৃষির প্রতি গভীর টান।

রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালি উপজেলার বেতবুনিয়া মডেল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই গাছপালার প্রতি তার আলাদা ভালোবাসা ছিল। তার বাবা হাজী অলি আহমদ সওদাগর ব্যবসার পাশাপাশি কৃষিকাজও করতেন। বাবার দেখাদেখিই গাছ লাগানো ও কৃষির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার।

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই কৃষিকে ভালোবাসতাম। ইচ্ছে ছিল কৃষি ডিপ্লোমা নিয়ে পড়াশোনা করবো। কিন্তু বাবাকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে। তখন আর স্বপ্ন পূরণ হয়নি।”

১৯৯২ সালে রাউজান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর কর্মজীবনে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ছোট পরিসরে ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করেন। একই সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। পরে যুবদল হয়ে বর্তমানে বেতবুনিয়া মডেল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি কৃষিকে আঁকড়ে ধরা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষিভিত্তিক চিন্তাধারাও আমাকে অনুপ্রাণিত করে।”

বর্তমানে তার ২ হাজার ১০০ স্কয়ার ফিটের ছাদজুড়ে রয়েছে ২০০ বস্তা আদা চাষ। পাশাপাশি রয়েছে ২০ থেকে ৩০টি ড্রাগন ফলের গাছ, বিভিন্ন জাতের আম, কমলা ও অন্যান্য ফলজ গাছ। বাড়ির আঙিনাতেও গড়ে তুলেছেন লটকন, মাল্টা, জামরুল, আমড়া, কলাসহ নানা ফলের বাগান।

তবে এই পথটা খুব সহজ ছিল না। আদা চাষে একসময় বড় ধরনের ক্ষতির মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে।

সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “১৯৯০ সালের দিকে আদা চাষে আগ্রহ থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। কিন্তু নানা রোগবালাই ও কম দামের কারণে বড় ধরনের লোকসান হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বস্তায় আদা চাষের বিষয়টি দেখে নতুনভাবে শুরু করি।”

তার ভাষ্য, বস্তায় আদা চাষে রোগবালাই কম হয় এবং পচনের ঝুঁকিও কম থাকে। দুই বছর আগে ১০০ বস্তা দিয়ে শুরু করেন তিনি। প্রথম বছরে প্রতি বস্তায় প্রায় ৫০ টাকা খরচে এক কেজির মতো আদা উৎপাদন হয় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এবার চাষের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০০ বস্তায় নিয়েছেন।

ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে ফলের বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে ৪০ পরিবারকে নিয়ে একটি বাগানভিত্তিক উদ্যোগ গড়ার চিন্তা করছেন। এ বিষয়ে কৃষি অফিসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।

কাউখালি উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সহিদুজ্জামান বলেন, “মোহাম্মদ আলী মূলত শখের বশেই ছাদ ও বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ফল ও মসলাজাতীয় ফসল চাষ করছেন। কৃষি অফিস থেকে তাকে নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগবালাই দমন, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যার বিষয়েও সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “তার ছাদ বাগানের আদা চাষ থেকে ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ বছর প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হতে পারে বলে আশা করছি।”

৫৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলীর পরিবারেও রয়েছে কৃষির প্রতি আগ্রহ। দুই সন্তানের জনক তিনি। তার ছেলে বর্তমানে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

রাজনীতি, ব্যবসা আর কৃষি, তিনটি ক্ষেত্র একসঙ্গে সামলালেও মোহাম্মদ আলীর বিশ্বাস, কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে মানুষ মাটির কাছাকাছি থাকে। আর সেই টান থেকেই তিনি এখনো স্বপ্ন দেখেন আরও বড় এক সবুজ বাগানের।

জন্মের পর বাবাকে দেখেনি ছেলে, জানাজায় অংশ নিয়েই বিদায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জন্মের পর থেকে কখনো বাবার মুখ দেখেনি ছেলে। ফোনে বা দূর থেকে কিছুটা যোগাযোগ থাকলেও বাবার স্নেহ-স্পর্শ তার ভাগ্যে জোটেনি। অবশেষে সেই বাবার জানাজায় অংশ নিয়েই বিদায় জানাতে হলো সন্তানকে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল গোয়াজর পাড়া এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ সেলিম (৪৫) সৌদি আরবে মারা গেছেন। বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় সেখানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে প্রবাসে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে জন্ম নেয় ছেলে মোহাম্মদ সিরাজ (৯)। জন্মের পর থেকে বাবাকে সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি তার। বড় ছেলে মোহাম্মদ মিনহাজ (১২) ছোটবেলায় বাবাকে দেখলেও সিরাজ সেই সুযোগ পায়নি।

নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ মামুন জানান, গত ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তার ভাই অনলাইনে সক্রিয় ছিলেন। পরদিন ৩০ এপ্রিল সকালে সৌদি আরব থেকে খবর আসে, অতিরিক্ত ডায়াবেটিসের কারণে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে তিনি মারা গেছেন। বিষয়টি প্রথমে সেলিমের শ্বশুরের মাধ্যমে পরিবারকে জানানো হয়।

প্রথমে মরদেহ দেশে আনার আলোচনা হলেও পরবর্তীতে পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

এদিকে একই সময়ে (বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টায়) দেশে তার পরিবারের উদ্যোগে স্থানীয় বাদামতলী জামে মসজিদ মাঠে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজায় অংশ নেয় সেলিমের দুই ছেলে মিনহাজ ও সিরাজও।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সেলিম সৌদি আরবে বাগানের কাজ করতেন। দেশে তার পরিবারে স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে মিনহাজ একটি হেফজখানার ছাত্র এবং ইতোমধ্যে ৯ পারা কুরআন মুখস্থ করেছে।

প্রবাসজীবনের দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর শেষ পর্যন্ত বাবার সঙ্গে সন্তানের দেখা হলো না—এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এনেছে।

ফটিকছড়িতে সাত তলা থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মো. কারিম (৩) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ‘হাসান টাওয়ার-১’ নামক ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কারিম উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুনসুর গোমস্তার বাড়ির সৌদি প্রবাসী মহিনউদ্দিনের দ্বিতীয় ছেলে বলে পরিবার জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কারিম তার ভাইয়ের সঙ্গে ভবনের ছাদে খেলছিল। একপর্যায়ে সবার অজান্তে ছাদের কিনারায় গিয়ে রেলিংয়ে উঠে পড়ে সে। পরে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের নানা মো. রহমত উল্লাহ বলেন, “দুপুরে দুই ভাই একসঙ্গে খেলছিল। একসময় সে সবার অজান্তে বাইরে চলে যায়। পরে জানতে পারি, রেলিং টপকে নিচে পড়ে গেছে। মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল।”

ফটিকছড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।

রাঙ্গুনিয়ায় দুই অভিযানে ১০৮ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার, গ্রেফতার ১

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক দুই অভিযানে মোট ১০৮ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাইমদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে পৃথক সময়ে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শান্তিরহাট মাছ বাজার সংলগ্ন সড়কে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি সিএনজিতে থাকা তিন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে ১৩টি প্লাস্টিক পলিব্যাগে রাখা মোট ৭৮ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৯ হাজার টাকা। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয়।

অপরদিকে, দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. সেকান্দার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বসতঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৩০ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, দ্বিতীয় ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। প্রথম ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় হত্যা-ধর্ষণ ও মাদক মামলার ৪ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ ও মাদক মামলার ৪ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন হত্যা মামলার আসামি মো. শাহাজাহান (২৬), নারী ও শিশু নির্যাতন (ধর্ষণ) মামলার আসামি নুর নবী (৪৬), এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের দুটি পৃথক মামলার আসামি মো. নুরউদ্দিন ও সামসু মিয়া।

তারা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের হওয়া মামলার পরোয়ানা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে কারাগারে সোপর্দ করা হবে।

কাজের মান তদারকিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা জরুরি: এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া অংশে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে তাপবিদ্যুৎ এলাকা থেকে গোডাউন পর্যন্ত এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও মাটি কাটার মাধ্যমে কাজের সূচনা করেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ সময় বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, তাপবিদ্যুৎ থেকে গোডাউন পর্যন্ত প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হলেও তাদের মূল লক্ষ্য পুরো কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। এ বিষয়ে নিয়মিত নীতিগত আলোচনা ও সভা চলছে বলেও জানান তিনি।

কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত ‘চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট সেতু’ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। আগামী বছরের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উপজেলায় একটি কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় খাস জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুতই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখবে।

উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংবাদকর্মীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এমপি বলেন, ঠিকাদারদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হলেও কাজের গতি ও মান তদারকিতে সাংবাদিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বজায় রাখার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করা সম্ভব।

অভিজ্ঞতা অর্জনের পরামর্শ দিয়ে ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার আহ্বান এমপি হুমামের

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তরুণদের ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

সোমবার (৪ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রাঙ্গুনিয়া আয়োজিত অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ও টেকাব প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে সনদপত্র, ভাতা ও ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, সংসদে নতুন হওয়ায় শুরুতে অনেক কিছু শেখার প্রয়োজন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করে পরে কথা বলার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। “অনেক কিছু বোঝার ও শেখার ছিল বলেই কিছুটা দেরিতে বক্তব্য দিয়েছি,” বলেন তিনি।

ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই বক্তব্যের শুরুতে দীর্ঘ সময় অতীত স্মরণ করতে গিয়ে মূল বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হারান। “আমরা যদি সবসময় ইতিহাস নিয়েই পড়ে থাকি, তাহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা ও এগোনোর সুযোগ কমে যায়,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস জানা জরুরি, তবে সেটিকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রশিক্ষণকে প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অংশগ্রহণকারীদের আরও দক্ষতা অর্জনের জন্য ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেকে মনে করেন সংসদে আসাটাই বড় অর্জন। কিন্তু আমার কাছে কাজ এখনো শুরু মাত্র। চল্লিশ পেরিয়েও প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি।”
তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আমাকে শুধু পথ দেখান, কাজ আমি নিয়ে আসব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মীর মো. নজমুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন।

এদিকে একই দিনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন হুমাম কাদের চৌধুরী। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তিনি শিক্ষার উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তিনি।

নুয়ে পড়েছে ধান, ভাঙেনি মন; রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের ব্যস্ততা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: রাঙ্গুনিয়ার আকাশ এখনো অনিশ্চিত—মেঘ আর রোদের লুকোচুরি। কালবৈশাখীর ভয় কাটেনি পুরোপুরি। তবু কৃষকেরা থেমে নেই। রোদ উঠলেই তারা মাঠে ছুটছেন। কোথাও হেলে পড়া ধান সোজা করছেন, কোথাও পাকা ফসল দ্রুত কেটে ঘরে তুলছেন। এই সংগ্রাম প্রকৃতির বিরুদ্ধে নয়, বাঁচার তাগিদে।

গত ২৮ এপ্রিল থেকে টানা কয়েক দফা কালবৈশাখী আঘাত হেনেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলার মতো রাঙ্গুনিয়াও এর বাইরে ছিল না। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে বহু এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ফিরতে সময় লেগেছে প্রায় এক সপ্তাহ। বজ্রপাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ঝড়ের সেই রাতের স্মৃতি এখনো তাজা। দমকা হাওয়া আর ভারী বৃষ্টিতে সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বসতঘর, দোকান, গোয়ালঘর—সবখানেই ক্ষতির চিহ্ন।

তবে মাঠের দৃশ্য পুরোটা হতাশার নয়। বেশিরভাগ জমিতে ধান এখনো ভালো অবস্থায় আছে, সোনালি রং ধরেছে। কৃষকেরা স্বাভাবিকভাবেই ধান কাটায় ব্যস্ত। যদিও কিছু নিচু জমিতে পানি জমে ধান নুয়ে পড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

চলতি মৌসুমে রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গুমাই বিলে একাই ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েসের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে কিছু জমির ধান মাটির সঙ্গে লেগে গেছে। প্রায় ৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে এবং আরও প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক বলেই মনে করছেন তিনি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ফসলেরও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।

সবকিছুর মাঝেও সবচেয়ে দৃশ্যমান চিত্র—কৃষকের অদম্য চেষ্টা। সোমবার রোদ উঠতেই দল বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা। কেউ ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন। ক্লান্তি থাকলেও থামার সুযোগ নেই। কারণ এই ফসলই তাদের ভরসা।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি শ্রমিক সহায়তা না থাকলেও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও আবহাওয়ার আপডেট দেওয়া হচ্ছে। ধান কাটার কাজ শেষ হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হবে।

এদিকে কালবৈশাখীর মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। সামনে আরও দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর একের পর এক সতর্কতা জারি করে যাচ্ছে। তাই সময়ের সঙ্গে লড়াই করেই ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রাঙ্গুনিয়ার কৃষকেরা।

 

মাকালুর চূড়ায় প্রথম বাংলাদেশি বাবর আলী, ইতিহাসে নতুন মাইলফলক

ডেস্ক: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত মাউন্ট মাকালুর শিখরে পৌঁছেছেন চট্টগ্রামের পর্বতারোহী ও চিকিৎসক বাবর আলী। শনিবার (২ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেন।

৮,৪৮৫ মিটার উচ্চতার মাকালু নেপালের মহালাঙ্গুর হিমাল অঞ্চলে অবস্থিত। এই অভিযানে তার সঙ্গে ছিলেন শেরপা গাইড আং কামি শেরপা।

ভার্টিকাল ড্রিমার্স ক্লাবের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানের জন্য বাবর আলী গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। ৯ এপ্রিল তিনি টুমলিংটার পৌঁছান এবং সেখান থেকে সড়কপথে সেদুয়া গ্রামে যান। ১৮ এপ্রিল বেসক্যাম্পে পৌঁছে তিনি অভিযোজন প্রক্রিয়া শুরু করেন। পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত শিখর অভিযানে রওনা দেন।

অভিযানের অংশ হিসেবে তিনি ৬,৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২ থেকে ৭,৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ অবস্থান করেন। সেখান থেকে মধ্যরাতে চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করে প্রায় ১,১০০ মিটার দুর্গম পথ অতিক্রম করে ভোরে শিখরে পৌঁছান।

জানা গেছে, বাবর আলী পেশায় একজন চিকিৎসক এবং পর্বতারোহণ সংগঠন ভার্টিকাল ড্রিমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক।

বিশ্বে ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতকে সবচেয়ে কঠিন আরোহন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাকালু জয় করে বাবর আলী এখন পর্যন্ত পাঁচটি আট-হাজারি শৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করলেন।

এর আগে ২০১৭ সালে তিনি ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন। ২০২২ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অ্যামা দাবলাম জয় করেন।

২০২৪ সালে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসে একই অভিযানে জয় করেন।

২০২৫ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অন্নপূর্ণা-১ আরোহণ করেন এবং একই বছরে অক্সিজেন ছাড়াই মানাসলু জয় করেন।

মাকালু জয় তার পর্বতারোহণ জীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

চার বিভাগে ৪৮ ঘণ্টায় অতি ভারি বর্ষণের শঙ্কা, চট্টগ্রামে ভূমিধসের সতর্কতা

ডেস্ক : দেশের চারটি বিভাগে আগামী দুই দিনে অতি ভারি বর্ষণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (২ মে) দুপুরে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘের সৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এই বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারী বর্ষণের কারণে এসব বিভাগের নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য আলাদা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মে দিবস ও পেশাগত স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা দিবসে রাঙ্গুনিয়ায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকালে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রমজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

পরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াস তালুকদার, সহ-সভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব এবং সদস্য ইসমাঈল হোসেন নয়ন।

বক্তারা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (মে দিবস) উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উপজেলা শাখার উদ্যোগে র‍্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকালে উপজেলার কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম), কর্ণফুলী জুট মিল ও ফোরাত মিল দ্রুত চালুর দাবি জানান। তাদের মতে, এসব কলকারখানা চালু হলে এলাকার বিপুল সংখ্যক বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে।

এছাড়া ইছাখালী এলাকায় বন্ধ হয়ে থাকা সিএনজি ফিলিং স্টেশন পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। এতে করে হাজার হাজার সিএনজি চালকের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে কাপ্তাই সড়কে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি রাশেদুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুহাম্মদ হাসান মুরাদ।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাঙ্গুনিয়া শাখার সেক্রেটারি তসলিম উদ্দীনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবু তালেব, মাস্টার মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, পৌর শ্রমিক উপদেষ্টা আজম ওমর, দক্ষিণ রাজানগর শ্রমিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফরহাদ আলম, পোমরা ইউনিয়ন শ্রমিক উপদেষ্টা অধ্যাপক জসীমউদ্দিন, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন শ্রমিক উপদেষ্টা আজিম উদ্দিন, শিলক ইউনিয়ন শ্রমিক উপদেষ্টা হামিদুর রহমানসহ স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।