বালু উত্তোলনের ভিডিও প্রকাশ: সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সোনাইছড়ি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ভিডিও প্রকাশ করায় ইসমাঈল হোসেন নয়ন নামে এক সাংবাদিককে হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় সোমবার ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

হুমকির শিকার ইসমাঈল হোসেন নয়ন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্য।

গত ২৫ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে ৫ নম্বর পারুয়া ইউনিয়নের মধ্যম পারুয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে তিনি অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পান।

একই ইউনিয়নের ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলের সোনাইছড়ি খালে গিয়ে তিনি কয়েকজনকে বালু উত্তোলন করতে দেখেন।

সেখানে তিনি ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে বালু উত্তোলনকারীরা সরে যান।

পরে তিনি ধারণ করা ছবি ও ভিডিও তার ফেসবুক পেজ Rangunia24.com এবং ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি Ismile Hossian Noyon-এ প্রকাশ করেন।

জিডির তথ্য অনুযায়ী, ভিডিও প্রকাশের পর গত ২৬ জুলাই একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল, শেখ আহমেদ আরিফ ও মো. মারুফ চৌধুরী ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকি দেন।

একই দিন রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে তাকে বলা হয়, পারুয়া ইউনিয়নে গেলে তার পা কেটে রাখা হবে এবং বালি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণ জানতে চাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

তবে ১ নম্বর অভিযুক্ত মো. সোহেল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে কোদাল দিয়ে অল্প বালু তুলছিলেন, সেখানে কোনো ড্রেজার ব্যবহার করা হয়নি।

মো. সোহেল আরও জানান, কর্ণফুলী, সোনাইছড়ি ও ইছামতী নদীতে যেখানে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করার কথা তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন।

তবে তিনি সাংবাদিককে কোনো হুমকি দেননি বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু, প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তে মরদেহ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মালেকের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মৃত্যুর আগে আবদুল মালেকের সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আবদুল মালেক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা সবার দায়িত্ব, সচেতন হলেই বদলাবে রাঙ্গুনিয়া

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৫ জুলাই) রাঙ্গুনিয়ায় জনসচেতনতামূলক র‍্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়ে তোলা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। এ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও প্রচারণাও চালানো হয়।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিদিন পরিষদে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় পরিষদ চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, “পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। উপজেলা পরিষদে আগত সবাই যদি নির্ধারিত ডাস্টবিনে ময়লা ফেলেন, তাহলে পুরো প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা সম্ভব হবে। একটি পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।”

স্থানীয়দের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ছোট ছোট উদ্যোগ থেকেই বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই গড়ে উঠতে পারে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য রাঙ্গুনিয়া।

 

রাঙ্গুনিয়ায় কাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: “পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন, রাঙ্গুনিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্নকরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কর্মসূচির সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রকাশের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

লোহাগাড়ায় গভীর রাতে বন্য হাতির তাণ্ডব, বসতঘর ভাঙচুর; প্রাণ বাঁচাতে পালাল পরিবার

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা আইম্মাডাফা এলাকায় গভীর রাতে বন্য হাতির তাণ্ডবে একটি বসতঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের চিৎকারে হাতির পাল পাশের বনের দিকে চলে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে একটি বন্য হাতির পাল লোকালয়ে প্রবেশ করে। হাতিগুলো জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে ঢুকে তার মাটির বসতঘর, দেয়াল ও ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।

ক্ষতিগ্রস্ত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গভীর রাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে তাকিয়ে দেখি কয়েকটি বন্য হাতি আমাদের ঘর ভাঙচুর করছে। আমরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিই। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতিগুলো ঘরের অনেক ক্ষতি করে চলে যায়।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য জানে আলম জানু বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এ এলাকায় প্রায়ই বন্য হাতি লোকালয়ে নেমে আসে। ফলে স্থানীয়দের প্রতিনিয়ত জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। হাতির উপদ্রব স্থায়ীভাবে রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

পদুয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান বলেন, “লোকালয়ে বন্য হাতির বিচরণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাতি তাড়াতে বন বিভাগের টিম কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও বিধি-বিধান অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বন্য হাতির বিচরণ ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জানমাল হুমকির মুখে পড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

৩০ বছর পর রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচা সড়কে সংস্কারকাজ শুরু, স্বস্তি এলাকাবাসীর

রাউজান (চট্টগ্রাম): দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী সাহেব মিয়া বাড়ি এলাকার একটি কাঁচা সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত অর্থায়নে শুরু হওয়া এ উদ্যোগে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো বাসিন্দা।

জানা গেছে, প্রায় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকায় যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানির কারণে পায়ে হেঁটে চলাচলও ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এতে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, প্রান্তিক কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সড়কটি সংস্কারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী সুমন নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটিতে সলিং নির্মাণকাজ শুরু করেন।

দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, কাঁচা সড়কের কারণে বয়োবৃদ্ধ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সলিং নির্মাণ শেষ হলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে এবং এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।

সলিং নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সমাজ কমিটির অর্থ সম্পাদক আবুল মনছুর, সমাজসেবক আলমগীর হোসেন, উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য মোহাম্মদ হোসেন, হাফেজ মাওলানা নুর মোহাম্মদ, ইসহাক মিয়া, মো. জাহেদ, মমতাজ, আসিফ, ইয়াছিন উদ্দিন মাসুদ, রিপন ও ইয়াকুব উদ্দিন আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী অর্থায়নকারী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় খেলতে গিয়ে গাছের ডালচাপায় প্রাণ গেল শিশুর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নে গাছের নিচে খেলতে গিয়ে গাছের শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে নিশিত দেব (১২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের উত্তর পারুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালী মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নিশিত দেব ওই এলাকার খোকন দেবের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালী মন্দিরসংলগ্ন মাঠে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল নিশিত। এ সময় মাঠের পাশে থাকা একটি রেইনট্রি গাছের বড় শুকনো ডাল হঠাৎ ভেঙে নিচে পড়ে। অন্য শিশুরা দ্রুত সরে যেতে পারলেও নিশিত সরে যেতে পারেনি। ডালটি তার মাথার ওপর পড়ে গুরুতর আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মাহবুব মেম্বার বলেন, “গাছটির পাশে একটি খেলার মাঠ রয়েছে, যেখানে শিশুরা নিয়মিত খেলাধুলা করে। গাছটিতে আগে থেকেই বড় একটি শুকনো ডাল ছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ডালটি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির মধ্যেই খেলাধুলার সময় সেটি ভেঙে পড়ে। অন্য শিশুরা সরে যেতে পারলেও নিশিতের মাথার ওপর ডালটি পড়ে, এতে সে গুরুতর আহত হয়ে মারা যায়।”

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

 

শিশু ওয়াসিফাকে অপহরণের পর খোঁজে পেতে মায়ের সঙ্গে মাজারে গিয়ে দোয়া চাইলেন অভিযুক্ত নিজেই

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া সাত বছর বয়সী শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, অপহরণের মূল পরিকল্পনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির পরিবারের সঙ্গে থেকেই তাকে খোঁজার নাটক করেছেন। এমনকি শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য তার মায়ের সঙ্গে একটি মাজারে গিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়াও করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে স্থানীয় ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) স্কুল থেকে ছুটি শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল ওয়াসিফা। এ সময় বাড়ির সামনে অপেক্ষমাণ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তাকে বলা হয়, “তোমার বাবা অসুস্থ, হাসপাতালে নিয়ে যেতে এসেছি।” পরিচিত ব্যক্তি হওয়ায় সে কোনো সন্দেহ না করেই সিএনজিতে উঠে যায়। এরপর থেকেই শিশুটি নিখোঁজ হয়। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন জানান, প্রথমদিকে পুলিশের কাছে শুধু এতটুকুই তথ্য ছিল যে, স্কুল ছুটির পর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু সিএনজিটির নম্বর জানা যায়নি, কেউ সেটিকে শনাক্তও করতে পারেনি। এমনকি তদন্তে সহায়ক কোনো স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজও প্রথমে পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে অংশ নেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজে সিএনজির আংশিক অংশ এবং চালকের অস্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সিএনজিটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এএসপি বেলায়েত হোসেন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সিএনজিচালক রাকিব স্বীকার করেন, সিএনজিটির মালিক ফয়সাল, যিনি শিশুটির বাবার মামাতো ভাই। পারিবারিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি ওয়াসিফাকে তার বাবা অসুস্থ এবং হাসপাতালে দেখতে যেতে হবে বলে সিএনজিতে তোলেন। পরিচিত হওয়ায় শিশুটি কোনো সন্দেহ করেনি।

পরে ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ফয়সাল, সিএনজিচালক রাকিবসহ মোট চারজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দু-একজন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, অপহরণের পর শিশুটিকে ফয়সালের ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক উল্লেখ করে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, “ফয়সাল শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে থেকেই তাকে খোঁজাখুঁজি করেছে, থানায় গেছে, বিভিন্ন জায়গায় ফোন করেছে। এমনকি শিশুটির মায়ের সঙ্গে একটি মাজারে গিয়ে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়াও করেছে।”

অপহরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফয়সাল শিশুটির বাবার মামাতো ভাই। পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় পারিবারিক কোনো বিরোধের জের থাকতে পারে। আবার মুক্তিপণের উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)। তাদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের অভিযোগের পর স্কুলছাত্রী ওয়াসিফা সরফভাটা থেকেই উদ্ধার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা সাত বছর বয়সী শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের একটি এলাকা থেকে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়।

বুধবার রাত ১২টা ১৭ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন বলেন, “সরফভাটা এলাকার একটি স্থান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযান এখনও চলমান থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হচ্ছে না। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।”

এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) সকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তার পরিবার। তাদের দাবি, অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিরা শিশুটিকে তার বাবা অসুস্থ বলে ডেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে সরফভাটা ইউনিয়নের একটি এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

 

বাবা অসুস্থ বলে সাত বছরের কন্যাশিশুকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শিশুটির নাম ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। সে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটার হাফেজ মোহাম্মদ শরিফের বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ দেলোয়ারের মেয়ে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের দাবি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ দেলোয়ার জানান, স্কুল ছুটির পর ওয়াসিফা সহপাঠীদের সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। এ সময় তাদের বাসার সামনে আগে থেকেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল, যা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিরা ওয়াসিফাকে বলে, “তোমার আব্বু অসুস্থ, তোমাকে নিতে এসেছি।” এরপর তাকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। গাড়িটিতে চালকসহ তিনজন ব্যক্তি ছিলেন।

দেলোয়ার বলেন, “তারা আমার মেয়ের নাম জানত এবং আমার অসুস্থতার কথা বলে তাকে নিয়ে গেছে। তাই আমার ধারণা, এটি পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা।” তিনি জানান, ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ করেছেন।

শিশুটির মা বলেন, ওয়াসিফা তার সহপাঠী ও এক আত্মীয় শিশুর সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। তাদের কাছ থেকেই তিনি জানতে পারেন, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে ওয়াসিফার বাবার অসুস্থতার কথা বলে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। যদি কারও সঙ্গে বিরোধ থেকেও থাকে, তাহলে আমাদের সঙ্গে ঘটতে পারত। কিন্তু আমার নিষ্পাপ শিশুকে কেন নিয়ে গেল? আমি শুধু আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।”

ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন স্থানীয় ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, ছুটি শেষে ওয়াসিফা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এ সময় তাদের বাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাবার অসুস্থতার কথা বলে ডেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আরও দুইজন সহপাঠী ছিল এবং তাদের সামনেই ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

 

রাঙ্গুনিয়ায় দিনমজুরের গাভী চুরি করে অন্যত্র জবাই, বাছুর রেখে মাংস নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে এক দিনমজুরের গোয়ালঘর থেকে একটি গাভী চুরি করে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে গাভীর লেজ, নাড়িভুঁড়ি ও শরীরের কিছু অংশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিল মোগল ডাবাইয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল খালেক (খালেক হাজী) এর ছেলে মো. মাহবুবের (৪০) গোয়ালঘর থেকে গাভীটি চুরি করা হয়।

ভুক্তভোগী মাহবুব জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি সর্বশেষ গোয়ালঘরে গাভীটি দেখেন। পরদিন ভোরে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, বাছুরটি থাকলেও গাভীটি নেই। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, লালানগর ইউনিয়নের সিকদারপাড়া থেকে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার বিকল্প সড়কের দক্ষিণ রাজানগর ও লালানগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চতুজ্জেপাড়ার মুখের নির্জন সড়কে একটি গাভী জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন, সেটি তার চুরি হওয়া গাভী।

তিনি বলেন, “আমি কৃষিকাজ ও দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে গাভীটি লালন-পালন করছিলাম। এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেল। গাভীটির আনুমানিক মূল্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এটি পাঁচ মাসের গর্ভবতীও ছিল।”

মাহবুব আরও বলেন, “আমার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানি না।”

ভুক্তভোগীর স্ত্রী বলেন, সংসার চালাতে গিয়ে তাদের প্রায়ই ধারদেনা করতে হয়। অনেক কষ্ট করে গাভীটি পালন করছিলেন, যাতে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়া যায় এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব হয়। তাদের তিন ছেলের বয়স ১০, ১২ ও ১৫ বছর। এর মধ্যে দুইজন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় এবং বড় ছেলে অন্য একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

স্থানীয়রা জানান, মাহবুব অত্যন্ত অসহায় একজন মানুষ। তিনি যে কাজ পান, সেটিই করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার সঙ্গে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। এটি খুবই মর্মান্তিক। মাহবুব একজন অসহায় দিনমজুর।”

 

সরকারি ভবনের ছাদ থেকেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান; ভালো কাজে পুরস্কার, গাফিলতিতে ব্যবস্থা

ডেস্ক: চট্টগ্রামকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জুলাই জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসিক ভবনের ছাদে একযোগে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচিতে ভালো পারফরম্যান্স দেখানো দপ্তরকে পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সরকারি বাসা বরাদ্দ বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

রোববার (১৯ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন। এতে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং সব উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলা একদিনের কাজ নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের কর্মস্থল ও আবাসন থেকেই পরিচ্ছন্নতার চর্চা শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, “আগামী ২৫ জুলাইয়ের ছাদ পরিষ্কার কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করতে চাই। জেলা, উপজেলা এবং অধীনস্থ সব দপ্তরে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। সারা দেশে যেন বোঝা যায়, চট্টগ্রাম পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “নিজের অফিস, নিজের বাসা থেকেই পরিচ্ছন্নতা শুরু করুন। এই দেশ আমাদের, এই মাটির সন্তান আমরা। নগরটিকে বাসযোগ্য করার দায়িত্বও আমাদের সবার।”

কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আগে ও পরে তোলা ছবি ও ভিডিও জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব মূল্যায়ন করে আগামী জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

সরকারি আবাসনের ছাদবাগান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ছাদবাগান একটি ভালো উদ্যোগ হলেও পরিচর্যার অভাবে নিচতলার বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা পানি চুইয়ে পড়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পরিষ্কার বার্তা দিয়ে দিন। নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকারি বাসা বরাদ্দও বাতিল করা হবে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি অফিস, সরকারি আবাসন এবং জনপরিসরে পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই।

সভা শেষে জেলার সব সরকারি দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনকে ২৫ জুলাইয়ের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সার্বিক তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

ফটিকছড়িতে ধানের চারা রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় জমিতে ধানের চারা রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ছিঁড়ে পানিতে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরাচান গ্রামের ফটিকছড়ি বিলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মো. হাসেম (৪৫) ও মো. ইউনুস (৩৫)। তারা দুজনই দৈনিক মজুরিভিত্তিক কৃষিশ্রমিক ছিলেন। হাসেম উত্তর ভূজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে এবং ইউনুস একই এলাকার মাহবুবুল আলমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ফটিকছড়ি বিলে ধানের চারা রোপণের কাজ করছিলেন হাসেম ও ইউনুস। এ সময় বিলের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের একটি খুঁটি থেকে ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার জমির পানিতে পড়ে ছিল। কাজ করার একপর্যায়ে তারা বিদ্যুৎবাহী পানির সংস্পর্শে এলে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রমে বিলম্বের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার পরপরই ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় কেউ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। পরে স্থানীয় লোকজনই দুই কৃষিশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহীম বলেন, ঘটনাস্থলেই দুই কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধা জামালের মৃত্যুর ১১ দিনের মাথায় না ফেরার দেশে মা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: ওমানে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দেশে ফিরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা রাঙ্গুনিয়ার প্রবাসী মো. জামালের (৩৯) মৃত্যুর মাত্র ১১ দিনের মাথায় ইন্তেকাল করেছেন তাঁর মা।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জামালের মা আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে ওমানে কর্মরত ছেলের দুর্ঘটনার খবর, দীর্ঘদিনের চিকিৎসা এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

শনিবার দুপুরের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থতা অনুভব করলে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল জীবিকার তাগিদে ঋণ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে পাড়ি জমান। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওমানের আল আমরাত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় নিচে পড়ে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন।

চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গত ৭ জুলাই নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের ওপর নেমে আসে আরেকটি শোক। অল্প সময়ের ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ইসলামী ফ্রন্ট, নগদ সহায়তা বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় অতিবৃষ্টিজনিত পাহাড়ধসে নিহত এক পরিবারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত আরও কয়েকটি পরিবারের মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শগ্রাম এলাকায় এ সহায়তা বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে সাবেক মোমবাতি প্রতীকের পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট এম. ইকবাল হাছান।

এ সময় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি করিম উদ্দিন হাছান, সহসভাপতি আখতার হোসেন, পৌরসভা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুর রহিম, উপজেলা নেতা মীর মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সানাউল্লাহ, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার সহসভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন, প্রবাসী গাউছিয়া কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম, ওয়ার্ড সভাপতি তৌলত হোসেনসহ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী যুবসেনা ও ছাত্রসেনার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের নেতারা জানান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, এর সহযোগী সংগঠন এবং প্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

তাঁরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সাধ্যমতো সহায়তা প্রদান করে যাবে।

লালানগরে বন্যার্তদের মাঝে জামায়াতের খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে প্রায় ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

লালানগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মিনহাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা শওকত হোসেন, সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের সভাপতি সরোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি মহিউদ্দিন বাবু, লালানগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শরীফ চৌধুরী, জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নিশান, মুমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। দুর্যোগের এ সময়ে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠান শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

 

হালদায় ভাসছে মৃত গরু, দূষণের শঙ্কা

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মৃত প্রাণী ফেলার ঘটনায় পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ নদীর মাঝস্রোতে একটি মৃত গরু ভাসতে দেখা যাওয়ায় পানির গুণগত মান এবং নদীর পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ চৌমুহনী এলাকায় স্থানীয়রা নদীতে ভাসমান মৃত গরুটি দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড় আকৃতির গরুটি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তবে কে বা কারা এবং কোন এলাকা থেকে মৃত প্রাণীটি নদীতে ফেলেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু অসচেতন ব্যক্তি নিয়মিত নদীতে মৃত প্রাণী ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলায় হালদার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তাদের মতে, এভাবে মৃত প্রাণী নিক্ষেপের ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী ও মাছের স্বাভাবিক প্রজননও ব্যাহত হতে পারে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও হালদা গবেষক প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, হালদা নদী রুইজাতীয় মাছের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। নদীতে মৃত প্রাণী বা যেকোনো ধরনের বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়, যা মাছের বিচরণ, প্রজনন এবং পুরো নদীর বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর দুটি টিম ঘটনাস্থল শনাক্তের চেষ্টা করছে। মৃত গরুটির অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত উদ্ধার করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কৃষক কার্ডের আওতায় আসছেন চার কোটি কৃষক

পটিয়া (চট্টগ্রাম): কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষক কার্ড প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের মধ্যম কচুয়াই ব্লকে কৃষক কার্ডের মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করছেন। কৃষক কার্ড চালু হলে কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে কৃষি খাতে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে এবং কৃষিপণ্যের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল পাবেন।

তিনি জানান, কৃষক কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে জমির মালিকানার ভিত্তিতে কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে প্রি-পাইলটিং, দ্বিতীয় ধাপে পাইলটিং এবং সর্বশেষ পর্যায়ে দেশব্যাপী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে সারাদেশে কৃষক কার্ডের জন্য ৪৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি কৃষক এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা প্রকৃত কৃষকদের কাছে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এজন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে সর্বোচ্চ নির্ভুলতা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রহিম, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কৃষকেরা।

বন্যা পরিস্থিতি: চট্টগ্রামে এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ এবং পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অবশিষ্ট সব বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ভোকেশনাল এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে না।

তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জাতীয় মঞ্চের পথে রাঙ্গুনিয়ার পায়েল, উৎসাহ যোগালেন এমপি হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার উদীয়মান সাঁতারু পায়েল নাথ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর বিভাগীয় পর্যায়ে সাঁতারে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে এবার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করবে সে।

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে পায়েল নাথ। এ সময় এমপি তার সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জাতীয় আসরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রাঙ্গুনিয়ার মুখ উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান।

এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “তরুণ প্রজন্মের খেলাধুলা ও মেধা বিকাশে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পায়েলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়ে সফল হয়ে রাঙ্গুনিয়ার জন্য গৌরব বয়ে আনবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

রাঙ্গুনিয়ার মতো একটি উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে একজন সাঁতারুর উঠে আসাকে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।

পায়েলের এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস রাঙ্গুনিয়ার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ও ক্রীড়াবান্ধব কার্যক্রম পায়েলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস রাঙ্গুনিয়ার সাঁতার ইভেন্টের প্রধান সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন আফতাব বলেন, “উপজেলা পর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে পায়েলের সাফল্যের পেছনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ক্রীড়াবান্ধব উদ্যোগ, প্রশিক্ষকদের নিবিড় পরিশ্রম, অভিভাবকদের উৎসাহ এবং আয়োজকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ পায়েল জাতীয় মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে।”

পায়েলের ক্রীড়া শিক্ষক মো. আলমগীর বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের প্রত্যাশা, জাতীয় প্রতিযোগিতায় নিজের সেরাটা উপহার দিয়ে পায়েল নাথ শুধু একটি পদকের জন্যই লড়বে না; বরং পুরো রাঙ্গুনিয়ার স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করবে। তার সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণ-তরুণীকে খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।”

এখন রাঙ্গুনিয়াবাসীর দৃষ্টি ২৫ জুলাইয়ের জাতীয় প্রতিযোগিতার দিকে। সবার প্রত্যাশা, নিজের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জাতীয় মঞ্চেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে পায়েল নাথ এবং রাঙ্গুনিয়ার জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনবে।

 

জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে রাঙ্গুনিয়ায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : যথাযোগ্য মর্যাদায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাঙ্গুনিয়া গড়ে উঠবে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে জুলাই শহিদ দিবস পালন করা হবে। জুলাই যোদ্ধাদের পরামর্শের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তাদের তালিকা পাওয়া গেলে স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণে একটি স্মারক প্রাঙ্গণ গড়ে তোলা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শহিদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের অবদান তুলে ধরতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।”

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

‘রাঙ্গুনিয়ার মানুষই রাঙ্গুনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি, আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি’ — হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি উপজেলার পদুয়া, কোদালা, শীলক ও সরফভাটা ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় পানিবন্দী পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্ট, যা পরে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও শেয়ার করা হয়, সেখানে তিনি এসব তথ্য জানান। পোস্টের সঙ্গে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনের একটি ভিডিওও প্রকাশ করা হয়।

পোস্টে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার পানিবন্দী পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা কাছ থেকে শুনেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “এই দুর্যোগের ক্ষতি একদিনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমরা যত দ্রুত একসঙ্গে কাজ করব, তত দ্রুত রাঙ্গুনিয়া আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”

দুর্যোগ মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিএনপির নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী এবং সর্বোপরি রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ সামনে দিনগুলোতেও থাকব। রাঙ্গুনিয়ার মানুষই রাঙ্গুনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।”

পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত ভিডিওতে বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো পরিদর্শনের বিভিন্ন দৃশ্য দেখা যায়।

 

পটিয়ার আশিয়ায় বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে বিএনপির খাদ্য সহায়তা

চট্টগ্রাম : সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত ও অসহায় এক হাজার পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে আশিয়া বায়তুন্নুর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন। সকাল থেকেই নারী-পুরুষ দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করেন।

আয়োজকদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে আশিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন মানিক বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। আশিয়াসহ পটিয়ার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আবদুল আলিম মেম্বার বলেন, বন্যার কারণে অনেক পরিবারের ঘরে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এই সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সাময়িক হলেও গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি এনে দেবে। তিনি সমাজের বিত্তবানদেরও মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সহায়তা পাওয়া আশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রোজিনা আক্তার বলেন, বন্যার পানিতে ঘরের চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। এই ১০ কেজি চাল কয়েকদিনের খাবারের চিন্তা দূর করবে। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মো. আনোয়ার, আশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমেদ, বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গীর, ফারুক খন্দকার, আকতার কামাল, মঈনুদ্দিন চৌধুরী, সোলেমান চৌধুরী, ইমন চৌধুরী, যুবদল নেতা আবছার, হেলাল মেম্বার, আবদুল হান্নান, সাজ্জাদ হোসেন, সাহাব উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোবিনুল হক, পারভেজ মেম্বার, শাহাদাত, মিন্টু, আব্দুর রহিম, নেজাম উদ্দিন চৌধুরী, এনাম, ছাত্রদল নেতা আসিফ, আরমান হোসেন চৌধুরী, কামাল উদ্দিন, ইমনসহ আশিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

শিক্ষা ও সবুজের বার্তা নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় এমপি হুমাম কাদেরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে রাঙ্গুনিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়ার বিআইজেডএইচ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “পড়াশোনায় মনোযোগী হলেই গড়ে উঠবে আগামীর নেতৃত্ব। ভবিষ্যতের মন্ত্রী-এমপি হয়তো আজ এখানেই বসে আছে। তাই এখন থেকেই বেশি করে পড়ালেখা করতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল গফুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রাণী গোপ।

সংসদ সদস্য বলেন, রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় একটি ভালো টিম নিয়ে কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সুশিক্ষাই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে দক্ষ পেশাজীবী, সফল উদ্যোক্তা কিংবা যোগ্য নেতৃত্বে পরিণত করতে পারে।

অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী।

এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নিহত পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে নিহত পরিবারের সদস্যদের মাঝে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার সিদ্দিক এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ হাসান মুরাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মোহাম্মদ শওকত হোসাইন, উপজেলা সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা।

সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের আগে উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি সরোয়ার হোসেন।

বক্তারা সাম্প্রতিক দুর্যোগে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকার, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে কর্ণফুলীতে ড্রেজার দেখে ক্ষুব্ধ এমপি, ড্রেজার জব্দসহ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় টানা বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় কর্ণফুলী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার ও নদীর তীরে বালুর স্তুপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি ঘটনাস্থলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ড্রেজারটি জব্দের নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার আজিজনগর এলাকায় পাহাড়ধস ও ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে সরফভাটা ও শিলক ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি। পথে সরফভাটা গোডাউন ব্রিজসংলগ্ন ভূমিরখীল এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে বালুর স্তুপ এবং নদীতে একটি ড্রেজার তাঁর নজরে আসে।

পরে তিনি গাড়ি থামিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তাঁর নির্দেশে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদকে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যবহৃত ড্রেজারটি জব্দের উদ্যোগ নিতে বলা হয়।

এরপর সংসদ সদস্য বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সরফভাটা ও শিলক ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা গত কয়েকদিন ধরে পরিদর্শন করছেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

বড় ভাইকে জড়িয়ে ধরেও বাঁচতে পারেননি সোলেমান, দুই দিন পর মিলল মরদেহ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া মো. সোলেমানের (২০) মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সোলেমান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোলেমান ও তার বড় ভাই আব্দুল হালিম (৩০) একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে কর্ণফুলী নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে যান। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি উল্টে গেলে দুই ভাই পানিতে পড়ে যান। আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা আব্দুল হালিমকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সাঁতার না জানা সোলেমান মুহূর্তেই প্রবল স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।

দুর্ঘটনার ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল হালিম বলেন, “আমার ছোট ভাই নৌকার পানি সেচ দিচ্ছিল। নৌকাটি যখন কিনারার দিকে আসছিল, তখন হঠাৎ একদিকে কাত হয়ে যায়। আমি জানতাম, আমার ভাই সাঁতার জানে না। তাই তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। কিন্তু নৌকাটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার সময় সে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল। এতে আমিও পানির নিচে তলিয়ে যাই। অনেকক্ষণ পর কোনোভাবে হাত ভাসাতে পারলে এক জেলে আমাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু আমার ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

সোলেমান নিখোঁজ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে কর্ণফুলী নদীর তীব্র স্রোতের কারণে দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি।

অবশেষে সোমবার সকালে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হলে সেটি সোলেমানের বলে শনাক্ত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে আমাদের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু নদীর স্রোত বেশি থাকায় সেদিন তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পাই। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

দুর্যোগেও থেমে নেই সওজ, সচল রাখা হচ্ছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় যখন চট্টগ্রামের সাতকানিয়াসহ আশপাশের এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত, তখনও চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছেন সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কর্মীরা। বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভারী যানবাহনসহ সব ধরনের যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা দ্রুত ইট, খোয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এসব গর্ত চালকদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছিল। তবে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মাইক্রোবাস মালিক জিয়াবুল হক বলেন, “টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার মধ্যেও সড়ক বিভাগের লোকজন মাঠে নেমে কাজ করছেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।”

ট্রাকচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, “মহাসড়কে গর্ত থাকলে ভারী যানবাহন চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। দ্রুত মেরামতের কারণে এখন চলাচল অনেকটাই নিরাপদ হয়েছে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা বর্ষণে মহাসড়কের যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক সচল রাখতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের এ সময়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সড়ক দিয়েই ত্রাণবাহী যানবাহন, জরুরি চিকিৎসাসেবার গাড়ি, উদ্ধারকারী দল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে। ফলে দ্রুত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ শুধু জনদুর্ভোগ কমাচ্ছে না, ত্রাণ ও জরুরি সেবাও নির্বিঘ্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের দক্ষিণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, “টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্জারটেক থেকে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত একাধিক স্থানে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যান চলাচল ব্যাহত না হওয়া এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি ট্রাকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করছি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে আরও টেকসই সংস্কারকাজ করা হবে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও মহাসড়ক সচল রাখতে আমাদের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাদুর্গত ৩০০ পরিবারের মাঝে যুবদলের ত্রাণ বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরীর উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যুবদলের রাজনীতির অন্যতম অঙ্গ। মানবিক, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদক ইউসুফ কামাল তালুকদার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরী, হোছনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, ইউনিয়ন বিএনপি ও উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুল আলম, সাবেক ছাত্রনেতা আবু নাছের টিপু, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বখতিয়ার হোসেন, হোসেন মেম্বার, মির্জা মহিউদ্দিন, মো. নুরুন্নবী, মো. খোরশেদ, জসিম উদ্দীন, নাজিম উদ্দীন ও মো. রাশেদ।

এ সময় ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বিএনপির সদস্যরা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

আয়োজকরা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় শৌচাগারের পানি নিয়ে বিরোধ, মারধরে যুবকের মৃত্যু; আটক ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে শৌচাগারের পানি উঠান দিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে মো. ওবায়দুল (৩৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাপিতপুকুরিয়া ব্রিজঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওবায়দুল ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টির সময় বাড়ির উঠান দিয়ে শৌচাগারের ময়লা ও বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ওবায়দুলকে তাঁর চাচা ও চাচাতো ভাইরা কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করেন।

নিহতের ভাই মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “চাচাদের বাড়ির শৌচাগারের ময়লা ও বৃষ্টির পানি ছাড়াকে কেন্দ্র করে আমার ভাই প্রতিবাদ করলে তারা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। কাঠের বাটামের আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। বাথরুমের পানি উঠান দিয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয়রা জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।”