রাঙ্গুনিয়ায় শিলক খাল পুনঃখনন শুরু, উদ্বোধন করলেন এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মৃতপ্রায় শিলক খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) উদ্যোগে পরিচালিত এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি নিজ হাতে মাটি কেটে খনন কাজের সূচনা করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ শুরু করেছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে স্বল্প পরিসরের কৃষি ঋণ মওকুফের বিষয়টিও রয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ ছিল, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সেই কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “যত বাধা থাকুক, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা,” বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএডিসি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাশ।

পরে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী পদুয়া ইউনিয়নের ত্রিপুরা সুন্দরী খালের ওপর নির্মিত একটি বক্স কালভার্ট উদ্বোধন করেন। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। এতে এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষক উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উন্নয়ন কাজে গাফিলতি নয়, গুণগত মানে জোর দিলেন চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, জনসেবায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, জনসেবা কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, হয়রানিমুক্ত পরিবেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যেন মানুষের কাছে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়। এক সময় সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফিরে আসা সেই আস্থা ধরে রাখা সবার দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই। সীমিত সম্পদের মধ্যেই সর্বোচ্চ জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তাদের অজুহাত নয়, সমস্যা সমাধানের মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরুতে জেলা প্রশাসক মিরসরাই থানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি থানার বিভিন্ন রেজিস্টার, ক্রাইম ম্যাপ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজ নেন। এ সময় জিআর ও সিআর সংক্রান্ত পেন্ডিং মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেন তিনি। থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদা ইয়াসমিন তাকে অপরাধ পরিস্থিতি ও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

পরবর্তীতে তিনি মিরসরাই ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করে সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করার নির্দেশ দেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

এরপর উপজেলা ভূমি অফিস ও ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। সেখানে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেন এবং ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মিরসরাই পৌরসভা পরিদর্শনকালে এলজিইডি বাস্তবায়নাধীন দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাটাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। কাজের অগ্রগতি, নির্মাণমান ও উপকরণের গুণগত মান যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি না করার নির্দেশ দেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে তিনজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট, গ্লাভস ও বাস্কেটবলসহ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অসহায় জনগোষ্ঠী সরকারি সেবার ওপর নির্ভরশীল। তাই স্বাস্থ্যসহ সব খাতে মানবিক ও আন্তরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন সেবা নিতে এসে খালি হাতে ফিরে না যায়, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার।

মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এ পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং জনসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।