লালদীঘিতে আবারও ‘বাঘা’ শরীফের দাপট, টানা তৃতীয়বার জব্বারের বলীখেলার চ্যাম্পিয়ন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর জমে উঠেছিল দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে। শনিবার (১২ বৈশাখ) লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছেন কুমিল্লার মো. শরীফ, যিনি ‘বাঘা’ শরীফ নামে পরিচিত।

বিকেল তিনটার দিকে শুরু হওয়া মূল প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১০৮ জন কুস্তিগীর অংশ নেন। চট্টগ্রাম, বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বলীরা আখড়ায় নিজেদের শক্তি ও কৌশলের লড়াইয়ে অংশ নেন।

গতবারের চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ ও রানারআপ রাশেদসহ শীর্ষ চারজন সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেন। প্রথম রাউন্ড শেষে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন মামুন, দিপু, নুরুল ইসলাম ও মিঠু। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে জয় পেয়ে ফাইনালে ওঠেন বাঘা শরীফ ও রাশেদ।

ফাইনালে শুরু থেকেই দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। প্রায় ২৫ মিনিটের টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক পর্যায়ে কৌশলে রাশেদকে মাটিতে ফেলতে সক্ষম হন বাঘা শরীফ। রেফারির সিদ্ধান্তে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

এর আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় মিঠু বলী জয় পান।

খেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

প্রসঙ্গত, ১৯০৯ সালে বদরপাতির ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগরের হাত ধরেই এই বলীখেলার সূচনা। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তরুণদের শারীরিক সক্ষমতা ও সাহসিকতা গড়ে তুলতেই শুরু হয়েছিল এ আয়োজন, যা সময়ের সঙ্গে চট্টগ্রামের মানুষের অন্যতম বড় লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবছর ১২ বৈশাখ লালদীঘি মাঠে বসে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা। এ উপলক্ষে আশপাশের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে জমে ওঠে বৈশাখী মেলা। কেনাবেচা, আড্ডা আর মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

শত বছরের বেশি সময় পেরিয়েও জব্বারের বলীখেলা চট্টগ্রামের মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। সেই ঐতিহ্যের মঞ্চেই আবারও নিজের আধিপত্য দৃঢ় করে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলেন ‘বাঘা’ শরীফ।

তরুণের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, রিজওয়ানের গো-কার্টে নিজেই স্টিয়ারিং ধরলেন

ডেস্ক: কলেজ শিক্ষার্থী রিজওয়ান রশীদের তৈরি ‘গো-কার্ট’ (রেসিং কার) চালিয়ে তার উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নিজের মেধা ও পরিশ্রমে ছোট আকারের এই রেসিং কারটি নির্মাণ করেন রিজওয়ান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তার উদ্ভাবনটি উপস্থাপন করেন।

দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে গাড়িটির কারিগরি দিকগুলো আগ্রহভরে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি নির্মাণ প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে রিজওয়ানের সঙ্গে কথা বলেন।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চালকের আসনে বসে গো-কার্টটি চালিয়ে দেখেন।