তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে: বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাজমুল হাসান।

তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। মেধা, সততা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।”

বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

“দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা” স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপক) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর যৌথ আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় উপজেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় অংশ নেয়। যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির টানটান লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। রানার্সআপ হয় বিআইজেডএইচ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

প্রতিযোগিতা শেষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এ কে এম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোরশেদুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রানী গোপ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা এবং রাঙ্গুনিয়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি অসীম কুমার শীল ও মোঃ নুরুল আবছার।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় বিক্ষোভের ঘোষণা, অভিযোগ যাচাইয়ের আশ্বাস পল্লী বিদ্যুতের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার আলমশাহ পাড়া এলাকা থেকে “এম এ জাব্বার কম্পিউটার” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

লাইভে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি হাতে একটি পত্রিকার কপি দেখিয়ে বলেন, সংবাদপত্রে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমার খবর প্রকাশিত হলেও গ্রাহকদের হাতে আসা সাম্প্রতিক বিল তাদের দাবি অনুযায়ী আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। এর প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল ১০টায় আলমশাহ পাড়া মাদ্রাসার প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে বলে জানান তিনি।

লাইভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা ও “এম এ জাব্বার কম্পিউটার” আইডির সত্ত্বাধিকারী মো. দিদারুল আলম কয়েকজন ভুক্তভোগীর মতামত তুলে ধরেন।

স্থানীয় কুলিং কর্নার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বাবু জানান, গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ হাজার ৬৩৭ টাকা, যা এ মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮২৬ টাকায়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও বিল কেন এত বেড়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চান তিনি।

একই লাইভে রিকশাচালক আবুল কালাম অভিযোগ করেন, আগে কখনো তার বিদ্যুৎ বিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার বেশি আসেনি। কিন্তু চলতি মাসে তার বিল এসেছে ৪ হাজার ৭৯৭ টাকা। এতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিমসহ আরও কয়েকজন গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দাবি করেন এবং বিদ্যুৎ বিল কমাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, শুধু ওই লাইভ ভিডিওতেই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে একাধিক ব্যবহারকারী পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। অনেকেই তাদের সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিলের কপি প্রকাশ করে অতিরিক্ত বিল আসার অভিযোগ তুলেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফায়সাল হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদে বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত নতুন খুচরা মূল্যহার বৃদ্ধির প্রভাবে অনেক গ্রাহকের বিল বেড়েছে।

তিনি জানান, চলতি মাসে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছানো বিল মূলত গত মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ফ্রিজ, ডিপ ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির দীর্ঘ সময় ব্যবহারের কারণে ইউনিট খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব জুন মাসের বিলে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রাহক যদি মিটারের প্রদর্শিত রিডিং ও বিলে উল্লেখিত রিডিংয়ের মধ্যে অসঙ্গতি পান, তাহলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে কোনো হয়রানি ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিজিএম ফায়সাল হোসেন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে অফিসে এসেছেন। তাদের বিষয়গুলো যাচাই করে সমাধান দেওয়া হচ্ছে এবং অনেকেই অভিযোগ করতে এসে নিজেদের ভুলও বুঝতে পেরেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্ষোভের ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, বিক্ষোভ করার প্রয়োজন নেই। যাদের বিল নিয়ে সমস্যা রয়েছে তারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট অফিসে এসে বিষয়টি জানালে দ্রুত যাচাই করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে অভিযোগ জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।