ফটিকছড়িতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বৃক্ষরোপণ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও সাংবাদিক এস এম আক্কাছ।

সোমবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দেশে বিদ্যমান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। একটি গাছ একটি প্রাণের মতো। এই ধরিত্রীকে রক্ষা করতে আসুন আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাই।”

তিনি আরও বলেন, আজকের বিতার্কিকরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাই তাদের এখন থেকেই দেশপ্রেম, সমাজসচেতনতা ও জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার হলো বিতর্ক।

অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল— ‘জলবায়ু পরিবর্তনে সচেতনতাই পারে পৃথিবীকে নিরাপদ রাখতে’। নির্ধারিত সময়ে বক্তব্য উপস্থাপন, যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের পর বিচারকদের রায়ে দশম শ্রেণির দল চ্যাম্পিয়ন এবং নবম শ্রেণির দল রানারআপ হয়।

বিজয়ী দলে ছিলেন ফাইরুজ আক্তার, আফরিন জাহান ও জান্নাতুল মাওয়া। রানারআপ দলে ছিলেন নোভায়রা সুলতানা, উম্মে নানজিবা ও নুর জাহান আলো। সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন ফাইরুজ আক্তার।

দিনব্যাপী আয়োজনে বৃক্ষরোপণ, দেয়ালিকা উন্মোচন, ফেস্টুন প্রদর্শন এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জাহানারা বেগম ও জান্নাতুল নাঈম। শিক্ষক তিলক কুমার বৈদ্যের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শিক্ষক সৈয়দ পারভেজ সোবহান, মো. মোরশেদ উদ্দিন, মো. মজিদুল ইসলাম ও মো. মহিম উদ্দিন। পরে অতিথিরা বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

দীঘিনালায় মাছ ধরার জালে আটকা বার্মিজ পাইথন উদ্ধার

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি): খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বার্মিজ পাইথন প্রজাতির একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। সাপটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘পাইথন বিভিটাটাস’।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে উপজেলার উত্তর হাচিনসনপুর এলাকার একটি নালায় স্থানীয় কৃষক জামাল উদ্দিনের মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে অজগরটি। পরে স্থানীয়রা সাপটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্থানীয়রা জানান, মাছ ধরার জন্য নালায় জাল পেতেছিলেন কৃষক জামাল উদ্দিন। সকালে জাল দেখতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বিশাল আকৃতির একটি সাপ জালে আটকা পড়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। পরে এলাকাবাসী সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বন বিভাগকে খবর দেন।

মেরুং রেঞ্জের ডেপুটি কর্মকর্তা জাফর উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে উদ্ধার করেন। প্রায় ৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের সাপটি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাপটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ বনে অবমুক্ত করা হবে।

নেচার কনজারভেশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের সংগঠক হৃদয় বড়ুয়া জানান, খাগড়াছড়িতে লোকালয় থেকে এই প্রথমবার বার্মিজ পাইথন উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম বিভাগে এ প্রজাতির উপস্থিতি রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

স্বচ্ছ নিয়োগে সফল রাঙ্গুনিয়ার ৮ তরুণ-তরুণী, মানবিক পুলিশ হওয়ার আহ্বান ওসির

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৮ জন তরুণ-তরুণী। কোনো ধরনের ঘুষ, তদবির বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তাদের এ সাফল্য এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় নবনিযুক্তদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন এবং মিষ্টিমুখ করান। এ সময় থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নবীন সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “তোমরা মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের সুযোগ পেয়েছ। এই অর্জনের মর্যাদা ধরে রাখতে সততা, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করে মানবিক পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক। এখানে কোনো দালাল, তদবির বা ঘুষের সুযোগ নেই। চাকরিপ্রার্থীদের প্রতারকদের ফাঁদে পা না দিতে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

নবনিযুক্ত জয় দে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশে চাকরি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ভুল ধারণা ছিল। কিন্তু এবার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তারা আনন্দিত। এ ঘটনা অন্য চাকরিপ্রার্থীদেরও মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হলে দুর্নীতি কমবে, মেধাবীরা মূল্যায়িত হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে। রাঙ্গুনিয়ার ৮ তরুণ-তরুণীর এই অর্জন সেই ইতিবাচক পরিবর্তনেরই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।