রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চালু হলো নতুন ইউনিফর্ম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা, শৃঙ্খলাবোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের কাছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহজে শনাক্ত করার লক্ষ্যে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন ইউনিফর্ম চালু করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ইউনিফর্ম পরিধান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এর ফলে উপজেলা পরিষদে আগত সেবাপ্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহজেই শনাক্ত করতে পারবেন এবং সেবা গ্রহণে আরও সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, সরকারি দপ্তরে সুশৃঙ্খল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনসেবামুখী কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ইউনিফর্ম চালুর মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে উপজেলা প্রশাসন আশাবাদী।

উপজেলা প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিফর্ম ব্যবস্থা সরকারি সেবাকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২ বসতঘর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (২২ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এলাকার একটি ঘর থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সকালে সিএনজি অটোরিকশা চালক শ্যামল দাশ গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর এবং পরিবারের অন্য সদস্য কিস্তির টাকা দিতে বাইরে গেলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তারা ফিরে এসে দেখেন, ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তর পারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অসীম দাশ এবং সিএনজি চালক শ্যামল দাশের বেড়া ও টিনের তৈরি দুটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলের সড়ক অত্যন্ত সরু হওয়ায় খবর পেয়েও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে আশপাশের আরও কয়েকটি বসতঘর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য দিদারুল আলম জানান, এ ঘটনায় দুই পরিবারের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি আর্থিকভাবে খুব একটা স্বচ্ছল নয়। তিনি বলেন, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে ঘরগুলো বেড়া ও টিনের তৈরি হওয়ায় খুব অল্প সময়েই সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তাদের পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

দুর্গম পাহাড়ে বিশুদ্ধ পানির নতুন আশা, পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ বাঙ্গালা করুনা পাড়া। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের এই এলাকায় পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, কাঁচা-পাকা সড়ক, এমনকি নদীপথও। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ ছিল সুপেয় পানির সংকট।

প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানির সন্ধানে পাহাড়ি নারী-পুরুষ ও শিশুদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। নিরাপদ পানির অভাবে নানা পানিবাহিত রোগে ভুগতেন অনেকে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে ছিল বাঙ্গালা করুনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হলো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে সৌরশক্তিচালিত সাবমার্সিবল টিউবওয়েল, যা এখন এলাকাবাসীর জন্য নিরাপদ পানির নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার ৫ নম্বর বাবুছড়া ইউনিয়নের এই পাহাড়ি পাড়ায় টিউবওয়েলটির উদ্বোধন করেন ০৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দি বেবি টাইগার্স’-এর দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন এসইউপি, পিএসসি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয়দের দুর্ভোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সৌরশক্তিচালিত এই টিউবওয়েলের মাধ্যমে এখন সারা বছর এলাকাবাসী নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারবেন এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরাও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবে।

অনুষ্ঠান শেষে জোন অধিনায়ক স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা, যোগাযোগসহ নানা সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি এলাকায় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগের কথাও জানান। পরে তিনি বাঙ্গালা করুনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নোবেল চাকমা বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের পাড়ার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তির বিষয়।

বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা বলেন, দুর্গম এই এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব ছিল মানুষের প্রধান সমস্যা। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট ঘুচিয়ে পাহাড়ি এই জনপদে এখন বইছে স্বস্তির স্রোত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।