রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল নেতা মাসুদের কবর জিয়ারত করে বিচার চাইলেন নেতাকর্মীরা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের কবর জিয়ারত করেছেন দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তারা।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মধ্য বেতাগীতে গিয়ে মরহুমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় দক্ষিণ রাজানগর, হোছনাবাদ, লালানগর ও স্বনির্ভর ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কবর জিয়ারত শেষে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর মাসুদকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে রাজনীতি করার সময়ই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড আরও বাড়তে পারে। মানুষ রাজনীতির প্রতি বিমুখ হয়ে পড়বে।

এ সময় বক্তারা নিহত মাসুদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে।

এর আগে নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থেকে রাউজানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে রাউজানের সেই স্থান পরিদর্শন করেন, যেখানে মাকসুদুল হক চৌধুরী নিহত হন। সেখানে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগান দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।

পরে মধ্য বেতাগীতে মরহুমের কবর জিয়ারত শেষে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক মাস্টার কামাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা শামসুল আলম, নুরুল আলম, জসিম উদ্দীন, রাঙ্গুনিয়া যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ সুমন, ইসমাঈল সিকদার, সাবেক ছাত্রনেতা আবু নাছের টিপু, রুখন উদ্দীন, রবিউল হাসান, ইলিয়াস কাঞ্চন ও ছাত্রদলের সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের সামনে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে ১১ জন এজাহারভুক্ত এবং ৮ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছেন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় আইয়ুবসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।

সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় জামায়াত নেতা নিহত

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মো. মহিউদ্দিন (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মহিউদ্দিন ভাটিয়ারী স্টেশন রোডের পশ্চিম এলাকার হাজী নেছার আহমেদের ছেলে। তিনি ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মোটরসাইকেলে করে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়কে চলন্ত একটি ট্রাক হঠাৎ ব্রেক করলে তার পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটিও গতি কমিয়ে দেয়। ঠিক সেই সময় পেছন থেকে আসা একটি হায়েস মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি সামনে থাকা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিএসবিএ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলী জানান, মহিউদ্দিন ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পুরাতন জাহাজের ক্যাবল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল রহমান জানান, ট্রাকের আকস্মিক ব্রেকের কারণে মোটরসাইকেলটির গতি কমে যায়। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি হায়েস মাইক্রোবাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

পবিত্র আশুরা আজ: ত্যাগ, ধৈর্য ও সত্যের চিরন্তন শিক্ষা

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক:

আজ পবিত্র আশুরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে এটি গভীর শোক, ত্যাগ ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার এক স্মরণীয় দিন।

ইসলামের ইতিহাসে আশুরার দিনটি নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। তবে ৬১ হিজরির ১০ মহররমে কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনাই এ দিনটিকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.), তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কারবালার ঘটনা কেবল একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নয়; বরং এটি অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিরোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার শিক্ষা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

এদিকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি ও নফল রোজার মাধ্যমে দিনটির তাৎপর্য স্মরণ করছেন।

পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে আত্মত্যাগ, ধৈর্য, ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার এক চিরন্তন প্রেরণার দিন হিসেবে বিবেচিত।