অবসরে গেলেন প্রিয় শিক্ষক, ভালোবাসার টানে ভাসলেন শিক্ষার্থীদের আবেগে

জাকির হোসেন
দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : একজন শিক্ষক কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, তিনি গড়ে তোলেন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। সেই শিক্ষক যখন কর্মজীবনের ইতি টানেন, তখন তাঁর প্রতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায় ভিন্নমাত্রায়। খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এমনই এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হলো হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়।

দীঘিনালা উপজেলার হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু সামার অবসর উপলক্ষে তাঁকে ব্যতিক্রমী বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর অবসর গ্রহণ ও জন্মদিন উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে কেক কাটা, সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান এবং নানা উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। প্রিয় শিক্ষককে ঘিরে সহকর্মী, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবো প্রিয় বড়ুয়া বলেন, মো. আবু সামা অত্যন্ত দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও নিবেদিতপ্রাণ একজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি আরিফ মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, স্যার তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে আলোর দিশা দেখিয়েছেন। আজ আমরা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অবস্থানে রয়েছি, তার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক মো. আবু সামা। কান্নাভেজা চোখে তিনি সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ব্যান্ডের তালে তালে শিক্ষার্থীরা তাঁর গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন। পরে ফুল দিয়ে সাজানো একটি গাড়িতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা গাড়ির সামনে দড়ি বেঁধে টেনে বিদ্যালয়ের ফটক পর্যন্ত নিয়ে যান। এরপর মোটরসাইকেলের হর্ন, ব্যান্ডের সুর এবং উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন।

মো. আবু সামা ১৯৯০ সালে হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা শেষে বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান। তাঁর এই বিদায় আয়োজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গভীর সম্পর্ক ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাঙ্গুনিয়ায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু রায়হান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মুহাম্মদ আনোয়ারুল আজম এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব।

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন (রোববার) অনুষ্ঠিতব্য ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৬ হাজার ৫০০ শিশুকে একটি করে নীল ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৬ হাজার শিশুকে একটি করে লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মাধ্যমে উপজেলায় মোট ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা জানান, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ৩৬০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৩৬১টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্যাম্পেইনের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো শিশু যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

চা বিক্রেতার মেয়ের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এলেন জেলা প্রশাসক

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা এক চা বিক্রেতার মেয়ের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। একইসঙ্গে চিকিৎসা ও জীবিকার সংকটে থাকা কয়েকজন অসহায় মানুষের আবেদন শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা তাদের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এ সময় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীও অনলাইনে যুক্ত হয়ে অভিযোগ ও আবেদন জানান।

গণশুনানিতে বোয়ালখালীর উত্তর চরণদণ্ডী এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে তার বাবা শাহ আলম একজন চা বিক্রেতা হওয়ায় পারিবারিক সীমিত আয়ের কারণে ভর্তি ফি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।

শিক্ষার্থী আরও জানান, এর আগেও তিনি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু অর্থসংকটে ভর্তি হতে পারেননি। এবারও একই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চান তিনি।

বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তার উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

এছাড়া পটিয়ার ধলঘাট এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন দস্তিদার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনিতে পাথর ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন তিনি। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

গণশুনানিতে আরও কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি চিকিৎসা, জীবিকা ও বসতবাড়ি সংস্কারের জন্য সহায়তা চান। জেলা প্রশাসক তাদের আবেদনগুলো শুনে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও আবেদনও গুরুত্বের সঙ্গে শুনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক।

রাঙ্গুনিয়ায় বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ স্থগিত, ৬ দফা দাবি গ্রাহকদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আশ্বাস এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে লালানগর পল্লী বিদ্যুৎ সচেতন গ্রাহক সমাজের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ, গ্রাহকসেবায় নানা অসঙ্গতি এবং বিল পরিশোধে ভোগান্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আবারও কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— বিদ্যুৎ বিল কমানো, ভুতুড়ে বিল বন্ধ, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া প্রত্যাহার, গ্রাহকদের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোভন আচরণ নিশ্চিত করা, দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আলমশাহপাড়া মাদ্রাসা শাখায় পূর্বের মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা।

এছাড়া ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধেও গ্রাহকদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। পরে প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার সকালে তা স্থগিত করা হয়।