রাঙ্গুনিয়ায় বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় “মেধা-বিজ্ঞান উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে উপজেলার ১৬টি স্কুল ও ৪টি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প, প্রযুক্তি ও নতুন ধারণা উপস্থাপন করেন। এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে মোট ২০টি স্টল স্থান পায়। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প ও সৃজনশীল উদ্যোগে পুরো আয়োজন মুখর হয়ে ওঠে।

প্রদর্শনী শেষে সেরা প্রযুক্তি প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে রাঙ্গুনিয়া খীলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অতিথিরা পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেন।

বিকেলে প্রদর্শনীর স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। শিক্ষার্থীরাও উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের প্রকল্প উপস্থাপন করেন।

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার (শিক্ষা) সুমন শর্মা।

শিক্ষক হারুন সিকদারের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সোহেল, তানহা সুলতানা, অসীম কুমার শীল, পরম কান্তি দাশ এবং নাছির উদ্দিন সিকদার।

বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের প্রাণবন্ত আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং উদ্ভাবনী মনোভাব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাঙ্গুনিয়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ৩ জন উপকারভোগীর মাঝে ভ্যানগাড়ি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজসেবা পরিষদের সহায়তায় ৪ জন উপকারভোগীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সহায়তা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হাসান, রাজনীতিবিদ ইউসুফ চৌধুরী, ইউসুফ কামাল চৌধুরী প্রমুখ।

রাঙ্গুনিয়ায় গণশুনানিতে মিলছে সমাধান, বাড়ছে মানুষের আস্থা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিদিনই জমিজমা বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক সমস্যা ও প্রশাসনিক জটিলতাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে সেবাপ্রার্থীরা উপস্থিত হন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তবে সপ্তাহের প্রতি বুধবার উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে যুক্ত হয় বিশেষ একটি মাত্রা। এদিন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় জটিল বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গণশুনানির আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আগেই নোটিশের মাধ্যমে উপস্থিত করা হয় এবং তাদের বক্তব্য, নথিপত্র ও আইনগত দিক বিবেচনা করে বিরোধের গ্রহণযোগ্য সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই শুনানিতে আলোচনার মাধ্যমে অনেক দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান হচ্ছে বলে জানা গেছে। আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমস্যা নিষ্পত্তির সুযোগ পাওয়ায় স্বস্তি পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

শুনানিতে প্রতিটি পক্ষকে সমানভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামতও নেওয়া হয়। আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়, যাতে কেউ বঞ্চিত না হন এবং বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, “সরকার কর্তৃক নির্ধারিত গণশুনানির দিন প্রতি বুধবার হলেও মানুষ প্রতিদিনই বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আসেন। আমরা প্রতিদিনই মানুষের কথা শুনি, তাদের সমস্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সেবা ও পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে যেসব বিষয় তুলনামূলক বড়, জটিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেগুলো বুধবারের গণশুনানিতে আনা হয়।

এসব বিষয়ে আমরা একটি টিম গঠন করি। বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে টেবিল ওয়ার্ক করা হয়। তাদের বক্তব্য, নথিপত্র ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে যার যেভাবে প্রতিকারের ব্যবস্থা প্রয়োজন, সেভাবেই সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কোনো বিষয় উপজেলা পর্যায়ে সমাধানযোগ্য না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রেফার করা হয়। আবার কোনো বিষয়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হলে সেটি জেলায় পাঠানো হয়। যেসব বিষয় স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব, সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।”

সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়ায় একটি বড় বিরোধের সফল সমাধান হয়েছে জানিয়ে ইউএনও বলেন, “স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া এলাকার একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে। এছাড়া হোছনাবাদ ইউনিয়নের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের রাস্তা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানেও আমরা কাজ করছি। বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হলেও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন যখন সরাসরি জনগণের কথা শোনে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করে, তখন জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হয়। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা সমস্যাও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছে।

জনসেবাকে আরও কার্যকর ও মানবিক করতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের এই বিশেষ গণশুনানি কার্যক্রমকে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। প্রতি বুধবারের এই আয়োজন কেবল বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম নয়, বরং প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা ও সুশাসনের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।

রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ (দফাদার ও মহল্লাদার) পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শূন্য পদ পূরণের জন্য আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দফাদার ও মহল্লাদার পদে মোট ২৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আগামী ২৫ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

নিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, শর্তাবলি, পদভিত্তিক শূন্যপদের সংখ্যা এবং আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রকাশিত মূল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

📄 নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সম্পূর্ণ তথ্য দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

সূত্র: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।

ক্যান্সারে আক্রান্ত রাসু বসাকের চিকিৎসায় মানবিক সহায়তার আবেদন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার উত্তর পদুয়া এলাকার সুখবিলাস সিকদার পাড়ার বাসিন্দা ও সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রাসু বসাক (৩৭) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নিজ বাড়িতেই দিন কাটাচ্ছেন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যয়বহুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় পরিবার ও স্থানীয়রা সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের কাছে মানবিক সহায়তা কামনা করেছেন। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা বিন্দু বসাকের ছেলে।

ভুক্তভোগীর মামাতো ভাই, শিক্ষক জুয়েল কান্তি দে জানান, শুরুতে খাওয়ার সময় দাঁতের ভেতরে একটি পাথর ঢুকে যাওয়ার পর সেখানে সংক্রমণ (ইনফেকশন) দেখা দেয়। পরে চিকিৎসা গ্রহণ করা হলেও সংক্রমণ পুরোপুরি নিরাময় হয়নি এবং বারবার সমস্যা দেখা দিতে থাকে। প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় ও পরিবারের সহযোগিতায় ঢাকায় তার একটি ব্যায়বহুল অপারেশন করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় ক্যানসারের কোনো লক্ষণ ধরা না পড়লেও পরবর্তীতে অপারেশন স্থল থেকে অস্বাভাবিকভাবে মাংস বেরিয়ে আসলে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তখন ক্যানসার শনাক্ত হয়। বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা জটিল হওয়ায় উন্নত ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য তাকে বাইরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ভুক্তভোগী রাসু বসাক বলেন, “প্রায় ১৫–১৬ বছর আগে নাস্তা করার সময় দাঁতের মাড়ির ভেতরে পাথর ঢুকে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিই। কিছুদিন পর সেখানে ইনফেকশন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে স্থানীয় চিকিৎসক ও হোমিও চিকিৎসা চালিয়ে যাই। আর্থিক সংকটের কারণে বড় কোনো চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ডিসেম্বরের দিকে ক্ষতস্থানে বড় জটিলতা দেখা দেয় এবং মাংস ফুলে বাড়তে থাকে। তখন পরিবার ও আত্মীয়দের সহযোগিতায় চিকিৎসা শুরু করি। পরে অপারেশন করে কিছু অংশ অপসারণ করা হলেও আবার কানের নিচে সমস্যা দেখা দেয়। শুরুতে বায়োপসি রিপোর্ট ভালো আসলেও পরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এখন চিকিৎসকরা বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাসু বসাক চার ভাইয়ের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। বাকি ভাইয়েরা কেউই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। রাসু স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা শেষে পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন এবং একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতেন।

চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা সমাজের হৃদয়বান মানুষ, স্থানীয় বিত্তবান ব্যক্তি এবং সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগী রাসু বসাক আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত, আমি বাঁচতে চাই। আমার চিকিৎসায় সবাই এগিয়ে আসুন।”

সহযোগিতা পাঠানো যাবে বিকাশ নম্বরে: ০১৮৫৯-২০৭৪৮১ (মামাতো ভাই)
যোগাযোগ (ভুক্তভোগী): ০১৮২৭-৪৯৮৫৩৭

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সহায়তা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের সোনারগাঁও এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো সিএনজি চালক মুহাম্মদ আব্দুল করিমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

গত শনিবার (৬ জুন) বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে গোয়ালঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে আব্দুল করিমের বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এ অগ্নিকাণ্ডে গাভী-বাছুরসহ ঘরের সব আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। প্রাথমিক হিসেবে এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেন। তারা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের পক্ষ থেকে টিন ও খাদ্যসামগ্রী (চাউল) প্রদান করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ, সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহ আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপজেলা আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই নেতৃবৃন্দ সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, আগুনে পরিবারের এক শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যাগ ও বইপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুতই তার শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে রোববার (৭ জুন) সকালে ইসলামী ফ্রন্ট রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট এম ইকবাল হাছানের নির্দেশনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা উত্তর শাখার নেতাকর্মীরা।

তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং নগদ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফ্রন্ট ও যুবসেনার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

যুবসেনার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল খালেক বলেন, ক্ষতির পরিমাণ অপূরণীয় হলেও আমরা প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার চেষ্টা করবো। সমাজের বিত্তবানদেরও এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।

স্থানীয়রা জানান, আগুনে পরিবারটি সর্বস্ব হারিয়েছে। পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি।

 

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষক প্রদীপ সাহার মৃত্যুতে শোকের ছায়া

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক মাস্টার প্রদীপ সাহা আর নেই। তিনি রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ওই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। এলাকাবাসীর মতে, তিনি একজন আদর্শ, সৎ ও মানবিক শিক্ষক ছিলেন।

তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

শাহেদুল ইসলাম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, “আপনাকে নিয়ে স্কুল জীবনে অনেক স্মৃতি জমে আছে স্যার। হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আমাদের প্রিয় স্যার বাবু প্রদীপ সাহা এই মায়ার জগৎ ছেড়ে চলে গেছেন। সবাই তাঁর জন্য প্রার্থনা করবেন। আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত।”

মুসাফির ইয়াকুব নামের আরেকজন লিখেন, “লালানগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ও সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বাবু প্রদীপ সাহার মৃত্যুতে পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।”

মুহাম্মদ ফারুক লিখেন, “অত্যন্ত বেদনার সাথে জানাচ্ছি যে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রদীপ সাহা আর নেই। তিনি শুধু শিক্ষক নন, জীবন গড়ার দিশারী ছিলেন। তাঁর দেখানো পথেই আমরা চলবো। তিনি সবসময় হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

স্থানীয়রা জানান, প্রদীপ সাহা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শ শিক্ষক। শিক্ষা বিস্তার ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষা অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় এক শিক্ষকের বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৭ জুন) গ্রেপ্তারকৃত মো. রকিবুল ইসলাম প্রকাশ রকি (২৬)-কে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর সিকদার চক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বাদী হরিহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস (৫৪) অভিযোগ করেন, একদল দুর্বৃত্ত তার বসতবাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাকে, তার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করে। পরে ঘরে থাকা প্রায় ৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় ডাকাতি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৯ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. রকিবুল ইসলাম প্রকাশ রকি (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

‘ত্যাগীরা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি’ — এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ত্যাগীরা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ঢেমিরছড়া ফলাহাজীর বাড়ি প্রাঙ্গণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজ এখানে যারা উপস্থিত আছেন, তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য। কিছু কড়া কথা বলব, মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। আমরা যখন কোনো কর্মসূচি করি, তখন মঞ্চে কে উঠবে, কে বসবে, কার আগে কে বক্তব্য রাখবে—এসব নিয়ে অনেক সময় ধাক্কাধাক্কি ও প্রতিযোগিতা দেখা যায়। নেতার পাশে বা পেছনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়, যা মোটেও ভালো বিষয় নয়।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকের ধারণা হয়ে গেছে, নেতার সঙ্গে ছবি তুলতে পারলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে বড় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।”

মঞ্চে উপস্থিত দুই নেতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমার পাশে বসা এই দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে এসেছেন। একজন ২০০৮–০৯ সালে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, অন্যজন বর্তমানে রাঙ্গুনিয়া জাতীয়তাবাদী দলের আহ্বায়ক। তারা ঘুম থেকে উঠে নেতা হননি। বহু কষ্ট করেছেন, জেল খেটেছেন, মামলার শিকার হয়েছেন, হামলার শিকার হয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাঠে থেকে দলকে ধরে রেখেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ত্যাগ ও পরিশ্রমের পর যখন কেউ নেতৃত্বের পর্যায়ে আসেন, তখন তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। মঞ্চে কাকে আগে ডাকা হবে, কে কখন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন—এসবও সম্মানের অংশ। ছোট ছোট ভুল থেকে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তবে এসব বিষয়ে সচেতনতা ও সংশোধনের মাধ্যমেই দলের সাংগঠনিক সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলে কারা যুক্ত হবে এবং কীভাবে ভালো মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়—সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর যারা দলের সঙ্গে ছিলেন না, তারাও এখন বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবির জন্য চেষ্টা করছেন। তবে মানুষ চেনার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাত দুইটা, তিনটা কিংবা চারটার সময়ও অনেকেই আমাকে ভিডিও পাঠান। নদীতে ড্রেজার চলছে। এসব ড্রেজার বন্ধ করা এবং আটকানোর দায়িত্ব আপনাদেরও। আপনারা যদি সেগুলো আটকাতে পারেন, তাহলে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের দায়িত্ব আমাদের।”

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, আমাকে নির্বাচিত করলে আপনারা টেনশনমুক্ত ঘুমাতে পারবেন। এলাকার সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে। সেই কাজ শুরু হয়েছে, তবে এখনো শেষ হয়নি।” এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তবে যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী, তারা সবাই একটি পরিবারের সদস্য। ঐক্যবদ্ধ থেকেই রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেতাগী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. খালেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সংগঠক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. ইসহাক। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আজম খান, সাবেক আহ্বায়ক লায়ন শওকত আলী নূর, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. হারুন।

সভা সঞ্চালনা করেন বিএনপি নেতা আহমদ বশর, নুরুল আলম, নিজামুল হক চৌধুরী তপন, সোলেমান কালু, মো. ইলিয়াসসহ স্থানীয় নেতারা।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জিয়ার ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্নে উঠে আসে একজন সৎ রাষ্ট্রনায়কের প্রতিচ্ছবি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নে একজন সৎ, মিতব্যয়ী ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়কের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শুক্রবার সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সংগঠক মোহাম্মদ ইসহাকের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. খালেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ হারুন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম।

বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাধারণ জীবনযাপন ও সততা নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন। দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। কাজীর দেউড়ির জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী সেই জীবনাচরণের বাস্তব সাক্ষ্য বহন করে।

তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি হয়েও জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে মিতব্যয়ী ছিলেন। রাষ্ট্রীয় উপঢৌকন নিজের কাছে না রেখে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতেন। ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল। তাঁর ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্নগুলো দেখলেই একজন সৎ রাষ্ট্রনায়কের জীবনাদর্শ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরবর্তীতে সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতার পর তিনি দেশের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

দলের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূলের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এসময় তিনি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অভিমানে আত্মহত্যার প্রাথমিক ধারণা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়াখিল মোগল এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আসমাউল হুসনা (১৫) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার ১৫ নম্বর লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাজারহাট–আলমশাহ পাড়া সড়ক সংলগ্ন ঘাগড়াকুল ব্রিজের পাশে অবস্থিত ইউনুচ ম্যানশন নামের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসমাউল হুসনা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাড়ি উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জঙ্গল পারুয়া এলাকায়। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে লালানগর ইউনিয়নের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কারণে মঙ্গলবার রাতে মেয়েকে বকাঝকা ও শাসন করেন তার মা। বুধবার সকালে মা-বাবা আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে তাদের অনুপস্থিতিতে বাসার একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ক্রিকেট ম্যাচে হুমামকে হারিয়ে সামানজারের জয়, সম্মাননা পেল সাহসী চার কিশোর

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল কর্ণফুলী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা সেই চার সাহসী কিশোরকে সম্মাননা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্মাননা তুলে দেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক ও সহমর্মিতা জানিয়ে নগদ অর্থ, টিন ও শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। সাহসী চার কিশোরকে জড়িয়ে ধরে তাদের মানবিক ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া শিশু ও তার অভিভাবকদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একে এস খান হোল্ডিংস ও একে এস খান হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার খান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে ফাইনালে অংশ নেওয়া পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ ও সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অতিথিরা। উদ্বোধনী পর্বে হুমাম কাদের চৌধুরীর করা বলে ব্যাট চালিয়ে প্রতীকী উদ্বোধন করেন সামানজার খান।

টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় সরফভাটা ইউনিয়ন ক্রিকেট একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পৌরসভা ক্রিকেট একাদশ। খেলায় পৌরসভা দলের সমর্থনে ছিলেন সামানজার খান, আর সরফভাটা ইউনিয়ন দলের পক্ষে সমর্থন জানান এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত হুমামের সমর্থিত দলকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় সামানজারের সমর্থিত দল।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উদ্ধারকাজে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া চার কিশোর— মুহাম্মদ রবিউল্লাহ, মুহাম্মদ সাইমন, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ অলিউল্লাহর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী, সামানজার খান এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও উদ্ধার হওয়া শিশুর পরিবারের হাতে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে টিন পৌঁছে দেওয়া হয় বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয় চার কিশোরের সাহসিকতায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুসন্ধান চালানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে অনুষ্ঠানের স্মারক হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হুমাম কাদের চৌধুরী ও সম্মানিত অতিথি সামানজার খানের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ইউএনও মো. নাজমুল হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ব্যস্ততার কারণে অংশ নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। পরে তিনি ভাবেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন ক্রীড়াপ্রেমী এবং আরাফাত রহমান খোকো জীবিত থাকাকালে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সেই চিন্তা থেকেই শত ব্যস্ততার মাঝেও এ আয়োজনে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতেই তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের এবং উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, নিজস্ব মাঠ না থাকা সত্ত্বেও সরফভাটা ইউনিয়ন দল ফাইনালে পৌঁছেছে, যা প্রশংসনীয়। সরফভাটায় একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করা গেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় ক্রিকেট ও ফুটবল দলে রাঙ্গুনিয়ার প্রতিনিধিত্ব দেখতে চান বলেও জানান তিনি। খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।

এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচ উপভোগের জন্য আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্টদের টিকিটের ব্যবস্থা করবেন তিনি। পরে বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

কর্ণফুলীতে নৌকাডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি পরিবারটির কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় ডুবন্ত নৌকা থেকে যাত্রীদের উদ্ধারে অংশ নেওয়া চার কিশোরকে উৎসাহমূলক পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নে নৌকাডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ডা. এটিএম রেজাউল করিমের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাসান মুরাদ।

এ সময় তিনি নৌকাডুবির ঘটনায় ডুবন্ত অবস্থা থেকে যাত্রীদের, বিশেষ করে শিশুদের উদ্ধারে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া চার কিশোরের হাতে উৎসাহব্যঞ্জক পুরস্কার তুলে দেন।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহ আলম, কোদালা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ডা. কুতুবউদ্দিন, সেক্রেটারি কাজী লোকমান, আব্দুল কুদ্দুস, ইসলামী ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি ওয়াহিদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, হাফেজ আব্দুল্লাহসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় স্থানীয় চার কিশোরের সাহসিকতায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নববধূ কনিকা দাশ নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুসন্ধান চালানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।