সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হলেও ইন্ধনদাতারা অধরা, দাবি নিহত যুবদল নেতা মাসুদের পরিবারের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলায় অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতারা এখনো অধরা বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালীতে বেতাগী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তৃণমূল পর্যায়ের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে তিনি রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির রাজনীতিকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনীতিতে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তাঁকে যারা হত্যা করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে যারা ইন্ধন দিয়েছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বক্তারা সরকার, প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় নিহত মাসুদের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। এ সময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মাসুদের স্ত্রী বলেন, “আমার ছোট্ট মেয়ে বাবা কী জিনিস, সেটাও জানে না। সন্ত্রাসীরা আমার মেয়ের কাছ থেকে তার বাবাকে কেড়ে নিয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতারা এখনো গ্রেপ্তার হননি। স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইন্ধনদাতাদেরও যেন বিচারের আওতায় আনা হয়। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় জড়িত সবার বিচার ও ফাঁসি দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের আশরাফিয়া ফার্মেসির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় অধিকাংশ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।