বিনা নোটিশে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ স্থানীয়দের
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বনকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বন বিভাগের দাবি, সরকারি বনের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদে বাধা দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিনা নোটিশে বসতঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তাঁরা কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার চন্দ্রঘোনা সেগুনবাগান এলাকায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন কোদালা বিটের অধীনে এ ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্কের পার্কিং-সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত দুটি ঘর ও ঘেরা-বেড়া উচ্ছেদ করে বন বিভাগের একটি দল। পরে ওই এলাকায় আরও একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে দলটি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত রাখা হয়।
রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন জানান, পরে ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত হলে তিনি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে যান। এ সময় দখলদারদের পক্ষের ২০০ থেকে ২৫০ জন লোক তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তাঁর চোখ, পিঠ ও মাথায় আঘাত লাগে বলে জানান তিনি।
মেহরাজ উদ্দীন আরও জানান, তিনি প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তাঁদের বসতঘর ভাঙচুর করা হয় এবং মালামাল লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে বনকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় নারীদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁদের পক্ষের দুই নারী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।
ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সেগুনবাগানের বাসিন্দা আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করে আসছি। বন বিভাগের লোকজন হঠাৎ কোনো নোটিশ ছাড়াই বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বাধা দিলে তারা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। এতে আমাদের দুজন নারী আহত হন।”
সংবাদ পেয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাফফর চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এখানে মূলত আশ্রয়হীন, খেটে খাওয়া ও দিনমজুর মানুষ মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে বসবাস করে আসছেন। এভাবে হঠাৎ উচ্ছেদের প্রতিবাদেই মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছে।”
পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, পার্কটি চট্টগ্রামের একজন ব্যক্তি লিজ নিয়েছেন। পরে রাঙ্গুনিয়ার কয়েকজন ওই ব্যক্তির কাছ থেকে সাবলিজ নেন। সাবলিজ নেওয়া ব্যক্তিরা পার্কের কিছু জায়গা বেদখলে রয়েছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানান। এরপর বন বিভাগের লোকজন উচ্ছেদে গেলে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়।
ওসি আরও বলেন, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে—এ বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকে কেউ অবহিত করেননি বলেও জানান তিনি।
