গ্রাম্য চিকিৎসায় মেলেনি সুফল, হাসপাতালের বারান্দায় চলছে বাছুরের চিকিৎসা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক বছর বয়সী একটি বাছুরের চিকিৎসা চলছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে। প্রায় ১৫ দিন ধরে অসুস্থ থাকার পর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বাছুরটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন কৃষক আবদুল সাত্তার। বর্তমানে বাছুরটিকে স্যালাইন দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

‎সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের বারান্দায় স্যালাইন চলা অবস্থায় বাছুরটিকে দেখা যায়। এ সময় বাছুরটির পাশে বসে ছিলেন কৃষক আবদুল সাত্তার। তিনি উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম ভূমির খীল এলাকার বাসিন্দা।
‎
‎আবদুল সাত্তার জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে বাছুরটির ডায়রিয়া শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং দিন দিন অবনতি হতে থাকে। পরে রোববার (১১ অক্টোবর) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে বাছুরটির চিকিৎসা শুরু হয়।
‎
‎তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বাছুরটিকে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দিচ্ছেন। বর্তমানে স্যালাইন চলছে। বাছুরটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।
‎
‎উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বখতিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “এই বাছুরটির স্ট্রং ডায়রিয়া হয়েছে। গ্রাম্য ডাক্তার দিয়ে ১৫ দিন চিকিৎসা করিয়েছেন। এতে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এখানে নিয়ে এসেছেন। ডাক্তাররা দেখছেন এবং ওষুধ দিয়েছেন। এখন স্যালাইন চলছে। আজ একটু উন্নতির দিকে।”
‎
‎উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের লোকবল কম। পুরো উপজেলা কাভার দিতে পারি না। গ্রাম্য ডাক্তার যারা আছেন, তাঁরা চিকিৎসা করেন, কিন্তু তাঁদের তেমন প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণ না থাকায় তাঁদের ভুল হয়। আমরা তাঁদের বলি, তোমাদের হাতে যদি এ ধরনের পেশেন্ট আসে অথবা বুঝতে না পারো, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। কিন্তু তাঁরা যোগাযোগ করেন না। যোগাযোগ না করে নিজেদের মতো চিকিৎসা করেন। চিকিৎসায় ভুল করেন। অনেক সময় রোগ দীর্ঘায়িত হয়। সময়ক্ষেপণ করায় দেখা যায়, যে প্রাণীটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেটি মৃতপ্রায় হয়ে যায়। আমাদের হাসপাতালে আসেন শেষ সময়ে। অনেক সময় তখন বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়ে।”
‎
‎তিনি আরও বলেন, “এসব ক্ষেত্রে গ্রাম্য ডাক্তারদের সামাজিকভাবে সতর্ক করা দরকার এবং জনগণকেও সচেতন হওয়া দরকার। কারণ, তাঁদের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে হবে না। এখন তো মানুষ জানে কোথায় চিকিৎসা পাওয়া যায়, কোথায় হাসপাতাল আছে। আগের মতো তো নেই, এখন যোগাযোগব্যবস্থাও ভালো। আমরা চাই, জনগণ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুক। আমাদের ডাকলেই পাবে।”
‎
‎বাছুরের ডায়রিয়ার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সাধারণত বাসি খাবার খাওয়ানোর কারণেই হয়ে থাকে। চার-পাঁচ ঘণ্টার বেশি দেরি করা খাবার দিলে সেই খাবার খেয়ে হজমে সমস্যা হয়, ফুড পয়জনিং হয়। এতে প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিষ্কার খাবার ও পানি নিশ্চিত করতে হবে। এতেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন খামারি, কৃষক ও ছোট উদ্যোক্তারা।”
‎
‎গবাদিপশু অসুস্থ হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়ে সময়ক্ষেপণ না করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
‎