৯ মাস ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে মিজানের মৃত্যু, ২২ লাখ টাকা বকেয়া; মরদেহ আনতে প্রয়োজন অর্থ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দীর্ঘ নয় মাস ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মো. মিজানুর রহমান (৩৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মিজানুর রহমান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খামারিপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে হোসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতৃবৃন্দ।

নিহতের ভাই মো. এনাম জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে মিজানের কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ হয়েছিল। মঙ্গলবার ভোরে কেমোথেরাপির চতুর্থ সাইকেল চলাকালে তার মৃত্যু হয়। তিনি স্ত্রী ও শিশু সন্তান রেখে গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসা বিল বাবদ প্রায় ২২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে সংকটের কারণে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

মিজানের চিকিৎসার জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। তবে তার মৃত্যুর পরও বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিলের কারণে নতুন করে আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। মরদেহ বাড়িতে এনে যথাযথভাবে দাফন সম্পন্ন করতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন স্বজনরা।

এদিকে মিজানের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশ-বিদেশে থাকা হৃদয়বান ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে নগদ সহায়তা ও প্রতিশ্রুত অর্থ মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে বলে জানিয়েছেন একই ইউনিয়নের বাসিন্দা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন চৌধুরী।

ইমাম হোসেন চৌধুরী জানান, মিজানের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। মরদেহ বাড়িতে এনে দাফন সম্পন্ন করতে আরও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

মিজানের পরিবার তার মরদেহ দ্রুত বাড়িতে এনে দাফন সম্পন্ন করতে সমাজের বিত্তবান, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।