মানুষের সহযোগিতা ও হাসপাতালের ছাড়ে মিজানের মরদেহ বাড়ির পথে

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দীর্ঘ নয় মাস ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মো. মিজানুর রহমানের (৩৫) মরদেহ অবশেষে হাসপাতাল থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতার আহ্বানের পর সংগৃহীত অর্থ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিশেষ ছাড়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে তার মরদেহ বুঝে পেয়েছেন স্বজনরা।

মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর রহমান। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খামারিপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে হোসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে দলীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

মিজানের ভাই মো. এনাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিল তার। কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ করার পর মঙ্গলবার ভোরে চতুর্থ সাইকেল চলাকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও শিশু সন্তান রেখে গেছেন।

মিজানের মৃত্যুর পর হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে সংকটে পড়ে পরিবারটি। পরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দ।

পরে একইদিন রাত ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন চৌধুরী জানান, সহযোগিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যেটুকু অর্থ হাতে আসে, তা নিয়ে তারা হাসপাতালে যান। সেখানে মিজানের পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ও তার সহধর্মিণীও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে মিজানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সহযোগিতা করেন। হাসপাতালের হিসাবে বকেয়া ১৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা থাকলেও কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড় দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মরদেহ বুঝে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য রাতে লাশবাহী গাড়ির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান ইমাম হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, মিজানের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য স্থানীয় ও দেশ-বিদেশের মানুষের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ।

অন্যদিকে হাসপাতালে যাওয়া নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সংসদ সদস্য, তার সহধর্মিণী এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে মিজানের মরদেহ আনতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ইমাম হোসেন চৌধুরী, লালানগর যুবদলের আহ্বায়ক এম এইচ সুমনসহ লালানগর ও হোসনাবাদ ইউনিয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত রয়েছেন।

হোসনাবাদ ইউনিয়ন থেকে হাসপাতালে যাওয়া নেতৃবৃন্দ জানান, মিজানের চিকিৎসা ও মরদেহ বাড়িতে আনার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়ার পর কে কত টাকা সহযোগিতা করেছেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কত টাকা ছাড় দিয়েছে—এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে মিজানের নিজ গ্রামের মসজিদ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

মিজানের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের পাশাপাশি দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়ে তৈরি হওয়া আর্থিক সংকটও রয়ে গেছে। স্বজনরা তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা যায়, চিকিৎসাকালীন সময়ে হাসপাতালের মোট বিল প্রায় ৩১ লাখ টাকা হয়েছিল। এর মধ্যে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালের হিসাবে ১৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বকেয়া ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড় দেওয়ায় এবং সংগৃহীত অর্থের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মিজানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।