রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়” শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম।
সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজব ও অপতথ্য শনাক্তকরণ, তথ্যের সত্যতা যাচাই, বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং ধর্মীয় উসকানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে—এমন কনটেন্ট দ্রুত যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় গুজব শনাক্তকরণ, তথ্য যাচাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যভিত্তিক বার্তা প্রচারের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রশাসনের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। সভা থেকে জনসাধারণকে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা শনাক্ত করা, দ্রুত সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
