এস এম আক্কাছ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : রাতের আঁধারে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন ২০ লাখ টাকা চাইলে আত্মসাৎ করে দিতে পারতেন নিজের ভাগ্য বদলে।
কিন্তু সে পথে হাঁটেননি নাজিরহাট পৌরসভার নৈশপ্রহরী মো. নুরুল আলম বাঁচা (৪৪)। সততা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়ে টাকাগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রকৃত মালিকের হাতে। তাঁর সেই মহৎ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাঁকে সম্মাননা ও নগদ অর্থ পুরস্কার দিয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ফটিকছড়ি সদরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. সরোয়ার আলমগীর নুরুল আলম বাঁচার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে তাঁর সততার স্বীকৃতি মিলল, যা সমাজের অন্যদেরও সৎ ও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নুরুল আলম বাঁচা নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় একজন নৈশপ্রহরী। রাতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাওয়া বিপুল অঙ্কের টাকা নিজের কাছে রেখে না দিয়ে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সততার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
ঘটনাটি গত ১১ জুন রাত সোয়া ১২টার দিকে। দায়িত্ব পালনকালে নাজিরহাট বাজারের সোসাইটি মাঠসংলগ্ন সড়কে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন নুরুল আলম। ব্যাগটি খুলে ভেতরে বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পান তিনি। পরে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিরাপদে নাজিরহাট পৌরসভা কার্যালয়ের একটি কক্ষে সংরক্ষণ করেন। পাশাপাশি টাকাগুলোর প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।
খোঁজখবর নিয়ে তিনি জানতে পারেন, টাকাগুলো নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও এম আর জুয়েলার্সের মালিক দুর্লভ ধরের। বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর নাজিরহাট পৌরসভার কর্মচারী মো. ওমর ফারুক এবং ব্যবসায়ী মামুন, জিকু, নির্জন, রিপন ও রাজেশের উপস্থিতিতে টাকা ভর্তি ব্যাগটি মালিকের হাতে তুলে দেন তিনি।
নুরুল আলমের এই সততার ঘটনা সে সময় স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশংসায় ভাসেন তিনি। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল অন্যের সম্পদ নিরাপদে প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে পারা। এবার উপজেলা প্রশাসনের সম্মাননা ও নগদ অর্থ পুরস্কার তাঁর সেই সততার কাজকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল।
পুরস্কার পেয়ে আবেগাপ্লুত নুরুল আলম বাঁচা বলে, ‘আমার কাছে এই পুরস্কার আকাশসম। এভাবে স্ব-স্ব জায়গা থেকে ভালো কাজে এগিয়ে এলে দেশটা আসলেই বদলানো সম্ভব। আমি উপজেলা প্রশাসনের কাছে অশেষভাবে কৃতজ্ঞ।’
সম্মাননা প্রদানকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘একটু দেরিতে হলেও তিনি তাঁর কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর এই সততা ও মহৎ উদ্যোগ সমাজের সকলের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
নুরুল আলম বাঁচার এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, সততা কেবল ব্যক্তিগত গুণ নয়, এটি সমাজ বদলেরও শক্তি। দায়িত্বের জায়গা থেকে সামান্যতম বিচ্যুত না হয়ে অন্যের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার মতো এমন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে। তাঁর এই স্বীকৃতি সমাজের অন্যদেরও সৎ পথে চলতে এবং ভালো কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।
