রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী মো. রাসেলকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশায় তোলা হয়েছিল। কিন্তু তার পাশে বসে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। আর একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক আহত ব্যক্তির পাশে একজন মানুষ চেয়ে বারবার আকুতি জানাচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, গুরুতর আহত রাসেলকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তোলা হয়েছে। তবে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাশে বসতে কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ সময় সিএনজি চালক আবুল হাসান বাদশাকে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “ওগগো মানুষ অইল বইয়োনা, ভাই ওগগো মানুষ অইল বইয়োনা।”(ভাই, একজন মানুষ হলেও ওর পাশে বসুন, একজন মানুষ হলেও ওর সঙ্গে চলুন।) তার এই মানবিক আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
রাঙ্গুনিয়ার সিএনজি চালক আবুল হাসান বাদশা জানান, তিনি কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে লিচুবাগানের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। কাটাখালী এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তার গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে আহত রাসেলকে সিএনজিতে তুলে দেন। তিনি দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু আহতের সঙ্গে যাওয়ার জন্য কাউকে পাচ্ছিলেন না। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় লাল-সবুজ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলসহ বাসের নিচে চাপা পড়ে মো. রাসেল (২৩) গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় তার ডান পা উরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইছাখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাসেল রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুছড়ি পাড়ার বর্তমান ইউপি সদস্য শেখ মোহাম্মদ নাছেরের ছেলে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিপদের মুহূর্তে একজন মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আরেকজন মানুষের সহায়তা। দুর্ঘটনার সময় ভিডিও ধারণের চেয়ে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া, জরুরি সেবায় খবর দেওয়া এবং উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করাই একজন সচেতন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অনেক সময় সময়মতো একজন মানুষের এগিয়ে আসাই আরেকজন মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।
