ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর হালিমা আক্তার নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামের প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের বসতঘরের একটি আলনার নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই প্রতিবেশী আবদুল আউয়াল, তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম ও ছেলে রবিউলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত হালিমা স্থানীয় নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তার দম্পতির মেয়ে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে হালিমা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে শিশুটির নিখোঁজের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুটির পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানায়।
খবর পেয়ে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের বসতঘরের একটি আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই পরিবারের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
শিশুটির মা রাশেদা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মেয়েকে হত্যা করে ঘরের আলনার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তাঁর দাবি, নির্যাতনের কারণে শিশুটির শরীর কালচে হয়ে গেছে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবেশীর ঘরের আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ওই ঘরের গৃহকর্তাসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
