রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া মো. সোলেমানের (২০) মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সোলেমান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোলেমান ও তার বড় ভাই আব্দুল হালিম (৩০) একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে কর্ণফুলী নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে যান। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি উল্টে গেলে দুই ভাই পানিতে পড়ে যান। আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা আব্দুল হালিমকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সাঁতার না জানা সোলেমান মুহূর্তেই প্রবল স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনার ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল হালিম বলেন, “আমার ছোট ভাই নৌকার পানি সেচ দিচ্ছিল। নৌকাটি যখন কিনারার দিকে আসছিল, তখন হঠাৎ একদিকে কাত হয়ে যায়। আমি জানতাম, আমার ভাই সাঁতার জানে না। তাই তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। কিন্তু নৌকাটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার সময় সে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল। এতে আমিও পানির নিচে তলিয়ে যাই। অনেকক্ষণ পর কোনোভাবে হাত ভাসাতে পারলে এক জেলে আমাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু আমার ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।”
সোলেমান নিখোঁজ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে কর্ণফুলী নদীর তীব্র স্রোতের কারণে দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি।
অবশেষে সোমবার সকালে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হলে সেটি সোলেমানের বলে শনাক্ত করা হয়।
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে আমাদের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু নদীর স্রোত বেশি থাকায় সেদিন তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পাই। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
