শীতের সকালে মানবিক উষ্ণতা: চা শ্রমিকদের পাশে স্কোয়াড রাইডার্স

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: শীতের কুয়াশা ভেজা সকালে পাহাড়ঘেরা আগুনিয়া চা বাগানে ছিল অন্যরকম ব্যস্ততা। দৈনন্দিন কঠোর শ্রমের ফাঁকে একটুখানি স্বস্তি আর ভালোবাসার ছোঁয়া পেতে জড়ো হন চা শ্রমিক পরিবারগুলো। মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক সংগঠন যুব স্কোয়াড রাইডার্স—শীত উপহার আর বিনামূল্যের চিকিৎসা সেবা নিয়ে।

প্রতিবছরের মতো এবারও রাঙ্গুনিয়ার আগুনিয়া চা বাগানে আয়োজন করা হয় মানবিক এই কর্মসূচির। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে একসঙ্গে মিলেছে চিকিৎসা সেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শীতবস্ত্র বিতরণ।

দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্পে চা বাগানের ২৫টি পরিবারের প্রায় ১০০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। অনেকেরই দীর্ঘদিনের ছোটখাটো অসুখ—যার চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ খুব কমই মেলে—সেই অসুখের জন্য মিলেছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ। শীতের প্রকোপ থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে শ্রমিক পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয় কম্বল।

ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে আন্তরিকভাবে চিকিৎসা সেবা দেন স্বাস্থ্য সহকারী ও সংগঠনের উপদেষ্টা কাজী মনসুর আহমেদ। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন আগুনিয়া চা বাগানের ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন। সংগঠনের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন যুব স্কোয়াড রাইডার্সের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন। সঙ্গে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহিম, দপ্তর সম্পাদক রাহিম, শিক্ষা ও মানববিষয়ক সম্পাদক মো. কাউসারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কর্মসূচি চলাকালে চা শ্রমিকদের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। অনেকেই বলেন, “এমন সময়ে এভাবে পাশে দাঁড়ানো আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।” মানবিক এই উদ্যোগের জন্য যুব স্কোয়াড রাইডার্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান চা শ্রমিকরা।

মানবতার পাশে দাঁড়ানোর এই প্রয়াস শুধু শীত নিবারণের আয়োজন নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের জীবনে একটু উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাঙ্গুনিয়া যুব স্কোয়াড রাইডার্সের নেতৃবৃন্দরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আবারও চা শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যুব স্কোয়াড রাইডার্সের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় চৌকিদার প্যারেড, আইনশৃঙ্খলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রাম পুলিশ বা চৌকিদারদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরমান হোসেন।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে থানা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক চৌকিদারি প্যারেডে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত চৌকিদারদের উদ্দেশে ওসি মোহাম্মদ আরমান হোসেন বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে প্রত্যেককে নিজ নিজ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। চুরি, ছিনতাই কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্রই দ্রুত সরাসরি অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

প্যারেড অনুষ্ঠানে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফাসহ গ্রাম পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: হুম্মাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিএনপির গত ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের বাচা বাবা শাহ (রহ.) মাজার জিয়ারত ও নিকটবর্তী জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের পর গতকাল আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছে। ১৭ বছর পর দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে যাচ্ছে।”

দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনী বিধিমালা যেভাবে দেওয়া হয়েছে, সবাই তা সম্মানের সঙ্গে মেনে চলবেন। এতে প্রমাণ হবে—বাংলাদেশ পুরোনো রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ থেকে আমাদের নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে তা হবে নির্বাচন কমিশনের সব লিখিত নির্দেশনা মেনে।”

মোটরসাইকেল শোডাউন, ব্যানার-ফেস্টুন ইত্যাদি প্রচারণা পদ্ধতি প্রসঙ্গে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ থেকে কোনো ধরনের মোটরসাইকেল শোডাউন, বড় পোস্টার বা ব্যানার করা যাবে না। এগুলো পরিহার করলেই নতুন রাজনীতির একটি ভালো দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।”

এসময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং জিয়া পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেন।

অন্যদিকে একইদিন হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার–পোস্টার অপসারণ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

ইসির নির্দেশ মেনে রাঙ্গুনিয়ায় ব্যানার–ফেস্টুন সরালেন জামায়াত প্রার্থী নিজেই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম নিজ উদ্যোগে তার সব ধরনের নির্বাচনি ব্যানার–ফেস্টুন সরিয়ে ফেলছেন।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই প্রার্থী চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ার হসপিটাল সংলগ্ন এলাকা থেকে ব্যানার অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।

ডা. রেজাউল করিম বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিয়ম সবার জন্য সমান। ন্যায়সংগত, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্দেশনা মানা প্রতিটি প্রার্থীর দায়িত্ব। তাই আমি নিজেই ব্যানার সরানোর কাজ শুরু করেছি।”

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজ খরচে সব ধরনের আগাম প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই শুক্রবার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজের হাতে নির্বাচনী ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ করেন জামায়াতের এই প্রার্থী।

করোনাকালের সেই মানবিক সেবক ডা. শাহ সোলাইমান এখন সহকারী অধ্যাপক

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপ যখন দ্রুত বাড়ছিল, লকডাউন, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনে মানুষ যখন চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সংকটে পড়ছিল—তখন টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে মানবিক ভূমিকা রাখেন রাঙ্গুনিয়ার সন্তান ডা. মোহাম্মদ শাহ সোলাইমান। করোনার ভয়াবহ সময়ে নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে তিনি অনলাইনে, ফোনে ও সরাসরি দায়িত্ব পালন করে বহু মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন।

সেই মানবিক চিকিৎসক সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিষয়টি জানিয়ে তিনি লিখেন—
“আলহামদুলিল্লাহ! I have been promoted to Assistant Professor (Medicine), CMC. ধন্যবাদ সবাইকে। অনলাইনে, অফলাইনে অগণিত শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পাচ্ছি।”

রাঙ্গুনিয়ার এক সন্তানের এমন সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢল নামে শুভেচ্ছার। সাংবাদিক শান্তিরঞ্জন চাকমা লেখেন—
“রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বুজ্জের দোকান মালেক সওদাগর (এমপি বাড়ি) কৃতি সন্তান ডা. শাহ সোলাইমান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। দৈনিক নয়াদিগন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন ও ফুলের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”

তার ফেসবুক পোস্টে মনসুর নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন—
“অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো আপনার জন্য। আল্লাহ আপনাকে মানুষের সেবা করার তৌফিক দান করুক।”
শহীদুল ইসলাম আরিফ মন্তব্য করেন—
“অভিনন্দন। আল্লাহ পাক আপনাকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রাখুক।”

করোনাকালের তার মানবিক ভূমিকার প্রশংসা পাওয়া যায় সে সময়কার ফেসবুক পোস্টেও। ২০২০ সালের ২৭ মে রবিউল হোসেন সুমন নামের এক ব্যক্তি তার বাবার চিকিৎসায় ডা. শাহ সোলাইমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে লিখেছিলেন—
“আমার বাবার ফুসফুসে পানি জমার সময় তিনি অপরিচিত হয়েও বটবৃক্ষের মতো পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভর্তি করানো থেকে শুরু করে রাতভর খোঁজ নেওয়া—সবকিছুই করেছেন আপনজনের মতো। অন্য ডাক্তার যেখানে হিমসিম খেতেন, সেখানে তিনিই বাবার লাঞ্চের জমে থাকা প্রায় ছয় ব্যাগ পানি বের করে জীবন বাঁচিয়েছিলেন।”
তিনি আরও লিখেছিলেন—
“করোনার ভয়ের মধ্যেও তিনি নির্ঘুম রাত কাটিয়ে রোগীদের সেবা দিয়েছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক এমবিবিএস (সিএমসি), বিসিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (ইন্টারন্যাল মেডিসিন) – বিএসএমএমইউ এবং এমএসিপি (ইউএসএ) ডিগ্রিধারী। তিনি চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের জিয়ামার্কেট এলাকার বাসিন্দা মাওলানা জরিপ আলী আরমানের ছেলে।

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে সহায়তা দিল উপজেলা প্রশাসন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের শায়ের মোহাম্মদ পাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবার—রফিক, মাসুদ ও রেজাউল করিমের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

গত ৬ ডিসেম্বর বিকেলে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরে থাকা তিনটি পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অগ্নিকাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস জানায়, তিন মালিকের চার কক্ষবিশিষ্ট কাঁচা দেয়াল ও টিনশেড ঘরটি পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরের চুলার আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

পরে দুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে শীতবস্ত্র, চাল এবং নগদ আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন ইউএনও নাজমুল হাসান। তাৎক্ষণিক এই সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

আগুনে বসতঘর ও গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়।

ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে আরও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ ইমতিয়াজ। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের সৈয়দ নগর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমতিয়াজ একই এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ ইয়াকুবের ছেলে।

বুধবার সন্ধ্যার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইমতিয়াজ তার পাঁচ বছর বয়সী চাচাতো বোনের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। ঝগড়ার একপর্যায়ে চাচাতো বোন তাকে ‘বেয়াদব’ বলে। এ নিয়ে তার মা তাকে বকাঝকা করে পড়তে বসতে বলেন। পরে মা রান্না করতে গেলে কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেন ইমতিয়াজ জানালার পাশে বসে আছে। পরে পরিবারের লোকজনকে ডেকে দরজা ভেঙে দেখা যায়, সে মায়ের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়েছে।

নিহতের কপালে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়ে এসআই রাকিবুল বলেন, “গলায় চাপ লাগার সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে থাকতে পারে। এ সময় জানালার গ্রিল বা অন্য কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে আঘাত পেতে পারে।”

তিনি আরও জানান, “বুধবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের বক্তব্য সত্য বলে মনে হচ্ছে—সে আত্মহত্যা করেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জয়নাব জমিলা বলেন, “ছেলেটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল (ব্রড ডেড)। পরে আমরা পুলিশকে জানালে তারা মরদেহ নিয়ে যায়।”

রাঙ্গুনিয়ায় মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এডভোকেট ইকবাল হাছান ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার রাহাতিয়া দরবার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপর থেকে বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন কামনা করছেন।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তিনি উত্তর রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণা চালান। রাণীরহাট এলাকায় গণসংযোগ শেষে পথসভায় বক্তব্য রেখে এডভোকেট ইকবাল হাছান বলেন, “বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক, মানবিক ও সম্প্রীতিময় রাঙ্গুনিয়া গড়াই আমার লক্ষ্য।”

দিনব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ধামাইরহাট, ইসলামপুর, পেয়ার মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির হযরত শাহসুফী মাওলানা আহসানুল্লাহ (রহ.) ও বাছুর মোহাম্মদ পাড়ার হযরত রাজ্জাক আলী শাহ (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর ইসলামপুর খলিপাড়া, গাবতল বাজার, মঘাইছড়ি বাজার, কাউখালী রাস্তার মাথা, বহরাতল, বেতছড়ি, জঙ্গল বগাবিলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ শেষে তিনি রাণীরহাট বাজারে প্রচারণা সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে তার প্রচারণা আরও গতিশীল হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থানীয় নেতারা।

রাঙ্গুনিয়ায় নবাগত ইউএনও নাজমুল হাসানের যোগদান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেছেন মো. নাজমুল হাসান। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের ৩৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) তিনি রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এদিকে গত বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আট বিভাগে ১৫৮ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে রাঙ্গুনিয়ার পূর্ববর্তী ইউএনও মো. কামরুল হাসানকে চট্টগ্রামের দিয়ারা অপারেশনের চার্জ অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে নবাগত ইউএনও নাজমুল হাসান জানান, এর আগে তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে তিনি টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য রাঙ্গুনিয়ায় খতমে কুরআন ও দোয়া-মোনাজাত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতা কামনায় রাঙ্গুনিয়ায় পবিত্র খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রানীরহাট ফাজিল মাদ্রাসা জামে মসজিদে রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় জিয়া মঞ্চের সহ-সভাপতি ওয়াকিল আহমদ তালুকদার, সহ-সভাপতি শাহেদুল কামাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক ইউছুপ কামাল তালুকদার, জেলা যুবদল নেতা কাজী রাকিবুল হাসান মাসুদ ও এবিএম সাইফুদ্দিন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান রনি, সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, এডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, ইউছুপ সাগর, নাজিম উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, খোরশেদ আলম, আবু মনছুর, ইউনুস, আলমগীর, লোকমান, রেজাউল করিম, কাজী মহিউদ্দিন, এসকান্দর, মনছুর, রাশেদ, হাসেম, জসিম উদ্দিন লিটন, ইসমাঈল, রাশেদ, সাইফুল ও রাজু প্রমুখ।

দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জেলা চ্যাম্পিয়ন রাঙ্গুনিয়া কলেজ ফুটবল দলকে সংবর্ধনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): জেলা পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ ফুটবল দলকে শনিবার উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করেছে।

উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই জয় শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো রাঙ্গুনিয়ার। নিয়মিত অনুশীলন ও শৃঙ্খলা থাকলে তোমরা আরও বড় মঞ্চে খেলবে, এটাই আমার বিশ্বাস।”

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন। বাংলাদেশ স্কাউটস রাঙ্গুনিয়ার যুগ্ম সম্পাদক এম. মোরশেদ আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা, রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মোতাহের হোসেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন আফতাব ও সদস্য ইকবাল আহমেদ বেলাল।

আলোচনা সভার শেষে ইউএনও মো. কামরুল হাসান ফুটবল দলের সদস্যদের হাতে ব্যাগ ও জার্সি তুলে দেন।

রাঙ্গুনিয়ায় ঐক্যের মঞ্চ: বিএনপি নেতাদের একই প্ল্যাটফর্মে শক্ত বার্তা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার। দলের মনোনয়ন ঘোষণার পর দুজনকে একই মঞ্চে দেখা যাওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন,“গত দেড় বছর ধরে শুনে আসছি—যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, বিএনপি কলাগাছকেও দাঁড় করালে জিতে আসবে; আর সেই মৌসুমের ‘কলাগাছ’ আমি। মনোনয়ন পাওয়ার পর আনন্দপ্রকাশ না করার কারণ ছিল—রাঙ্গুনিয়ার একটি অংশ কষ্ট পাবে। দলকে এক করতে না পারলে নির্বাচনের ফল তো আগেই বোঝা যেত। তাই ঐক্যের বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “গত আন্দোলনে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অনেকেই হামলার শিকার হয়েছেন, কারও পরিবারের সদস্য মারা গেলেও জানাজায় থাকতে পারেননি। তখন যারা আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিশেষ করে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহারের প্রতি দলের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। দলের কর্মীদের মূল্যায়নের দায়িত্ব আমি নিলাম।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী ‘হাইব্রিড’ প্রসঙ্গে বলেন, “বিএনপি দুই ভাগ থাকার সুযোগে অনেক হাইব্রিড বালু চুরি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে যুক্ত হয়ে সুবিধা নিয়েছে। আজ চাচা–ভাতিজা মিলে তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি—তাদের সময় শেষ।”

মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৭ বছর ধরে যারা দলের কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন, তাদের ত্যাগ–সংগ্রামের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। আর সেন্টার কমিটিও হবে সবার মতামত নিয়ে—এটা ব্যক্তিগত কমিটি নয়, তারেক রহমানের কমিটি, দলের কমিটি। এটার হকদার আমি একা নই, সবাই।” সভায় তিনি নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে এক হয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান।

এর আগে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার তার বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে আছি। ছাত্রদল, যুবদল থেকে শুরু করে এখনো বিএনপির দায়িত্ব পালন করছি। দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই আমরা কাজ করব—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর যেসব ব্যক্তি দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করেছে, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি পরিবারে কোনো গ্রুপিং নেই। ধানের শীষের স্বার্থেই সবাই ঐক্যবদ্ধ। পাড়া–মহল্লায়, ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইতে হবে।”

“দুর্নীতি-সন্ত্রাস নির্মূলেই উন্নয়নের বাধা কাটবে” — রাঙ্গুনিয়ায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী

রাঙ্গুনিয়া : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ইছাখালী এলাকায় নুরজাহান ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে এই নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডা. এটিএম রেজাউল করিম রাঙ্গুনিয়াকে চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় রয়েছে বহু মিল-কারখানা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গুমাই বিল। পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের সংযোগস্থল হওয়ায় ভৌগোলিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, “আমি রাঙ্গুনিয়ার সন্তান। রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সেবা করার সুযোগ চাই। রাঙ্গুনিয়াকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন ও দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার করতে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস সমূলে উৎখাত করা গেলে উন্নয়নে আর কোনো বাধা থাকবে না।”

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক সেবা নিশ্চিত করা হবে এবং উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় আরও দুইটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “কাপ্তাই সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরেছি। ইনশাআল্লাহ, এটি বাস্তবায়িত হবে বলে আশাবাদী।” এ ছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন সরু ও বেহাল সড়ক প্রশস্ত করে চলাচল উপযোগী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দাবি করে ডা. রেজাউল করিম বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার আনাচে-কানাচে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জোয়ারই আগামী দিনে রাঙ্গুনিয়ার নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ, কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসায় ব্যস্ত পরিবারের ঘরে চুরি, সাংবাদিকের ল্যাপটপ গায়েব

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দিনে-দুপুরে এক সংবাদকর্মীর ঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম. মতিন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের মুন্সি বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকালে এম. মতিনের বড় মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়। রাতেও স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন তিনি। সকালে পরীক্ষা থাকায় মেঝ ছেলে মাদ্রাসায় যায় এবং এম. মতিন সকাল ১১টার দিকে চন্দ্রঘোনাস্থ রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান।

এসময় মেঝ ছেলে পরীক্ষা শেষে ফিরে ঘরের সামনে ছিটকিনি লাগিয়ে চাচার বাড়িতে যায়। পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগে কোনো একসময় চোরেরা ঘরে ঢুকে চুরি করে। বিকাল ৪টার দিকে এম. মতিন বাসায় ফিরে দেখতে পান দরজা খোলা এবং টেবিলের ওপর থাকা ল্যাপটপটি উধাও।

সাংবাদিক এম. মতিন বলেন, “মেয়ের অসুস্থতার কারণে গতকাল থেকে হাসপাতালে ছুটোছুটি করছি। আজ সকালে মেঝ ছেলেকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে হাসপাতালে গেলে তখনো ল্যাপটপটি টেবিলেই ছিল। বিকেলে ফিরে দেখি কি-বোর্ড আর মাউস আছে, ল্যাপটপ নেই। অনেক খুঁজেও পাইনি।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবারের লেখাপড়া ও চিকিৎসা খরচ চালাতে এমনিতেই চলছে আর্থিক টানাপোড়েন। তার ওপর নিত্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরি হয়ে গেল—এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। যারা এটা করেছে তারা আমার প্রতি জুলুম করেছে। হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ করতে দেরি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “এ ঘটনায় এখনো আমাদের জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অবশেষে মাদক ছাড়লেন রাঙ্গুনিয়ার জলইক্যা, মসজিদে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ঘাগড়াকুল এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আজিজুল হক (৬৫) ওরফে ‘জলইক্যা’ দীর্ঘ পাঁচ দশকের মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জুমার নামাজ শেষে ঘাগড়াকুল বাইতুল ইকরাম জামে মসজিদে মুসল্লীদের সামনে তিনি প্রকাশ্যে তওবা করেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনো মাদক ব্যবসায় না জড়ানোর অঙ্গীকার করেন।

জানা যায়, স্থানীয়ভাবে ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত আজিজুল হক মসজিদে উপস্থিত সবার সামনে অতীতের অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। মসজিদের ইমাম এইচ এম তারেক হোসাইন তাকে তওবা পাঠ করান ও সৎপথে ফেরার নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে হালাল ব্যবসার মাধ্যমে জীবন-জীবিকা চালাবেন।

এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর এলাকাবাসী আজিজুল হকের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়ি ঘেরাও করলে তিনি পালিয়ে যান। তিন দিন পরে তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘাগড়াকুল বাইতুল ইকরাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবক ইউছুপ কামাল তালুকদার বলেন, “জলইক্যা যদি তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়ান, তবে এলাকাবাসী তাকে আর ছাড় দেবে না।”

তওবার সময় মসজিদে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী শফিউল আহমদ, রাজানগর আর এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউছুপ কামাল তালুকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরী, রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম সওদাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, ইসলামপুর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব কুসুম, সাবেক ছাত্রনেতা খোরশেদ আলম, বাবর হোসাইনসহ স্থানীয় মুসল্লী ও নেতৃবৃন্দ।

রাঙ্গুনিয়ায় তিন অবৈধ ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চিমনি–কিলন

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুন্নাহার।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)–এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করায় তিনটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলো হলো— উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলা এলাকার মেসার্স খাজা ম্যানু রিসোর্স ব্রিকস (KMR), যার চিমনি ও কিলন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই ইউনিয়নের মেসার্স কেবিএম ব্রিকস (KBM)-এর চিমনি ও কিলনও উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া উত্তর রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদপুর সোনারগাঁও এলাকার মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস (SAB) ইটভাটার চিমনি ও কিলন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানের সময় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন এবং পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙ্গুনিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা, র‍্যাব-০৭ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম আনসার সদর দপ্তর এবং রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা। সার্বিক সহায়তায় ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের সদস্যরা।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী ২৬ নভেম্বর, সেরাদের জন্য থাকছে পুরস্কার

রাঙ্গুনিয়া: “দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি” স্লোগানকে সামনে রেখে “জাতীয় প্রাণীসম্পদ সাপ্তাহ – ২০২৫” উপলক্ষে আগামী বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী “প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী”।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে খামারী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে বিভিন্ন স্টল। প্রাণিসম্পদ বিষয়ে পরামর্শ সেবা এবং বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা প্রদর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য—প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার সৃষ্টি, ক্ষুদ্র খামারী ও উদ্যোক্তাদের প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলায় সক্ষমতা সৃষ্টি, বিজ্ঞানভিত্তিক লালন-পালন কৌশল অবিহিত করা, উন্নত জাতের পশুপাখি পালনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ প্রদান এবং জনসাধারণের জন্য নিরাপদ প্রাণীজ আমিষ নিশ্চিত করা।

যেসব স্টল থাকবে
প্রদর্শনীতে দেখা যাবে—উন্নত জাতের গাভী, বাছুর, ষাঁড়
উন্নত জাতের মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের পোষা পাখি, বিভিন্ন পোষা প্রাণী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্য (মিষ্টি, দই, ঘি, মাখন, ছানা ইত্যাদি), মাংস প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ঔষধ কোম্পানি, প্রাণিখাদ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম প্রদর্শনী।

স্টল বুকিং
মোবাইল: ০১৩২৪-২৯০৯৫৯

প্রদর্শনী-সংক্রান্ত সব তথ্য গণমাধ্যমকে সরবরাহ করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমীন আক্তার।

রাঙ্গুনিয়ায় আগুনে পুড়েছে বসতঘর, প্রশাসনের সহায়তা পৌঁছাল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আগুনে পুড়ে গেছে একটি বসতঘর। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের গোচরা শান্তিরহাট সিকদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রুমি আক্তার ও তার স্বামী রহিমের আধাপাকা বাড়ির কাঁচা বেড়ার রান্নাঘরে জ্বালানো লাকড়ির আগুন অসতর্কতার কারণে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার জাহেদুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রান্নার চুলার আগুন থেকেই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান পোমরা ইউনিয়নের প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেব্রবত দাশ। তার পক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. তাজ উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারটির হাতে তাৎক্ষণিক শীতবস্ত্র ও একটি বস্তা চাল পৌঁছে দেন।

প্রশাসক দেব্রবত দাশ জানান, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আমরা আছি। পরবর্তী সরকারি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে।” তিনি একই সঙ্গে এলাকার সচ্ছল ব্যক্তিদেরও দুর্যোগে পড়া এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

লকডাউনের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

রাঙ্গুনিয়া: আওয়ামী লীগ ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচির প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউনের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে এবং বিভিন্নভাবে গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে। শান্ত বাংলাদেশকে অশান্ত করতে এসব করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা বলেন, এসব ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

অন্যদিকে, গতকাল রাতে লকডাউনের প্রতিবাদে একটি মশাল মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যার পর উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের মোগলেরহাট বাজার এলাকায় এ মশাল মিছিলটি বের করে হোসনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

ছোট্ট আরাফের বিজয়ের সিগন্যাল থেমে গেছে চিরতরে

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় কাজী তাইমিম মুহাম্মদ আরাফ (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নেজামশাহ পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফ ওই এলাকার কাজী মুহাম্মদ এসকান্দরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল আরাফ। এসময় বিয়েবাড়িতে আসা একটি মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হয় সে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছবিতে সানগ্লাস পরা ছোট্ট আরাফের আঙুলে তোলা “বিজয়ের সিগন্যাল” যেন এখন নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। মাত্র সাত বছরের প্রাণচঞ্চল এই শিশুটি আর কোনোদিন সেই হাসি, সেই সিগন্যাল তুলবে না—থেমে গেছে তার শৈশবের সব খেলা, সব উচ্ছ্বাস। তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

রাজনীতি নাম বড় করার জন্য নয়, সেবার জন্য: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “রাজনীতি নাম বড় করার জন্য নয়, এলাকার মানুষের খেদমতের জন্য রাজনীতি। যেটা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী করেছেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি রাস্তা, ব্রিজ ও উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন শুধু মানুষের কল্যাণের জন্য, কখনো নিজের নাম প্রচারের জন্য এসব করেননি।”

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার পারুয়া জিয়াউল উলুম মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আজকে পারুয়ায় আসার পথে মনে কষ্ট লাগলো, এখনো এমন এলাকা আছে যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, রাস্তা এত ভাঙা যে গাড়ি চলাচলই সম্ভব নয়। ২০২৫ সালে এসেও এই বাস্তবতা কল্পনাতীত। তাই আমার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রথম দুই প্রতিশ্রুতি হবে— বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও রাস্তা মেরামত করা। এই দুটি কাজ হয়ে গেলে আমি বিশ্বাস করি, পারুয়ায় এমন কোনো মানুষ থাকবে না যে ধানের শীষে ভোট দেবে না।”

হুমাম কাদের আরও বলেন, “আমার বাবা বলতেন, নির্বাচন এলেই অনেকে লম্বা লিস্টে ইশতেহার দেয়, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করে না। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, পারুয়া এলাকার এই রাস্তার কাজ ইনশাআল্লাহ আমি করে দেব। এটা রাজনৈতিক কারণে নয়, মনে হয় এই কাজটি করলে আমার বাবার আত্মাও শান্তি পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগের মতো নোংরা রাজনীতি ও কাদা ছোড়াছুড়ির দিন শেষ। এ নির্বাচন হবে একটি পরিবর্তনের নির্বাচন— চোর-ডাকাতের রাজনীতির অবসান ঘটাবে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। তিনি অসুস্থ হয়েও তিনটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন শুধুমাত্র নেতাকর্মীদের সাহস দিতে এবং দেশবাসীকে জানাতে যে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি দেশের জন্য লড়বেন।”

নিজের রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণ করে হুমাম কাদের বলেন, “বাবাকে হারানোর পর সবাই বলেছিল রাজনীতি ছেড়ে বিদেশ চলে যেতে। কিন্তু আমি ভেবেছি, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর লাখো ভাই-বোনদের আমি একা ফেলে যেতে পারি না। ওমরাহ থেকে দেশে ফিরে আমি গুম হয়েছি, সাত মাস আয়না ঘরে ছিলাম, নির্যাতনের শিকার হয়েছি— তবু রাজনীতি ছাড়িনি। তারেক রহমান আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি রাজনীতি করো বা না করো, আমি তোমার পাশে আছি।’ সেই সাহসেই আজ আবার মাঠে নেমেছি।”

এর আগে তিনি পারুয়া সাহাব্দিনগর উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং মধ্যম পারুয়া হযরত নিজাম উদ্দিন শাহ (রহ.) মাজারে জিয়ারত করেন।

এসময় উপজেলা, পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের লিচুবাগান এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়ন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। ৫ তারিখের পর থেকে চন্দ্রঘোনা লিচুবাগানে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে জড়িত, তারা বিএনপির কেউ নন। বিএনপি সাধারণ মানুষের দল, শান্তিপ্রিয় মানুষের দল। বিএনপি কোনো চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না।”

বক্তারা আরও বলেন, “আজ থেকে চন্দ্রঘোনায় কোনো মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলবে না। কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি বা হস্তক্ষেপ করা হবে না। আমরা সবাই মিলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলব।”

তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “চন্দ্রঘোনায় যদি কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে, তাহলে প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনে।”

বক্তারা আরও জানান, “আমাদের নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশ অনুযায়ী চন্দ্রঘোনায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসী থাকতে পারবে না। ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন, বিএনপি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে।”

মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় মোবাইল কোর্ট: পাটজাত বস্তা ব্যবহার না করায় ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শান্তির হাট বাজারে পাটজাত বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার এবং স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করা চাল অন্য জেলার নামে প্যাকেজিং করার দায়ে ৫টি চালের আড়ত ও অটো রাইস মিলকে সর্বমোট ৬৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাট অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক বাবুল চন্দ্র দাস।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে দেখা যায় শান্তির হাট বাজারে বেশ কয়েকটি চালের আড়ত ও মিল পাটজাত বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করা চাল বিভিন্ন জেলার (দিনাজপুর, নওগাঁ ইত্যাদি) নাম ব্যবহার করে প্যাকেজিং করা হচ্ছিল। এসব অনিয়মের দায়ে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম প্রশাসনকে সহযোগিতা করে।

রাঙ্গুনিয়ায় জিয়ার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে হুম্মামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাঙ্গুনিয়ার জিয়া নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে  ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মাজার জিয়ারত শেষে কাদের নগরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মা ফারহাদ কাদের চৌধুরীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

মাজার জিয়ারত শেষে নেতাকর্মীরা হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও তার পরিবারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ রাঙ্গুনিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। রাঙ্গুনিয়ার সকল শ্রেণীর মানুষ আজ এক কাতারে দাঁড়িয়ে বলেছে— তারা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে আবার চায়। আমাদের ভাগ্য খারাপ, তিনি আজ এই দিনটি দেখতে পারছেন না। তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই— যতদিন বেঁচে আছি, মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দেখানো পথেই আমি ইনশাআল্লাহ চলব।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল রাতে বিএনপির বেশ কিছু প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার পক্ষে আমারও নাম এসেছে। আজ থেকে আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হলো। আমাদের ঐতিহাসিক রাঙ্গুনিয়ায়, যেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার রয়েছে, সেই মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই আমি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় অনেক নেতা আছেন, আগে আমাদের মধ্যে কিছু মতভেদ ছিল। তবে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের নির্দেশে এখন আর কোনো গ্রুপিং নেই। আমরা সবাই ধানের শীষের পক্ষে এক হয়ে কাজ করব।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি ভেবেছিলাম তারেক রহমানের সঙ্গে সংসদে যাব, কিন্তু আল্লাহর লিখন ভিন্ন ছিল। আজ আমার সৌভাগ্য হবে— রাঙ্গুনিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সাহেবের পাশাপাশি সংসদে বসার।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, আপনাদের কাছে একটা দায়িত্ব দিলাম রাঙ্গুনিয়ার যতগুলো মানুষ আছে তাদের কাছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ হতে, তারেক রহমানের পক্ষ হতে সালাম পৌঁছে দিবেন।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা সভায় বিএনপি নেতা ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর উপস্থিতি, জনমনে সম্প্রীতির প্রত্যাশা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের খণ্ডলিয়াপাড়া মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় বিএনপি নেতা ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর উপস্থিতি জনমনে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছে।

শনিবার (১ নভেম্বর) মাদ্রাসার দুই দিনব্যাপী বার্ষিক সভার দ্বিতীয় দিনে ভিন্ন সময়ে সভায় যোগ দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

বিকেলে স্থানীয় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি (হুম্মাম কাদের চৌধুরী) মাদ্রাসার সভায় অংশ নেন এবং বলেন, “আপনাদের কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা—দোয়া করবেন যেন ঈমানের সঙ্গে বাঁচতে ও মৃত্যু বরণ করতে পারি। আমার বাবা আপনাদের মাঝে নিয়মিত আসতেন, দোয়া চাইতেন। আশা করছি, সেই দোয়া ও ভালোবাসা আমিও পাব।”

তিনি আরও বলেন, “সামনে নির্বাচন আছে, কী হবে জানি না, তবে চেষ্টা করব আপনাদের পাশে থাকতে। আপনাদের দোয়া নিয়েই যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে।”

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম সভায় বক্তব্যে বলেন, “এই মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ অনেক আলেম-ওলামা দেশে-বিদেশে ইসলামের আলো ছড়াচ্ছেন। কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারি অনুদান পায় না, তবুও ইসলামী শিক্ষার মূল শক্তি তৈরি করছে।”

তিনি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা আবদুল গণি    ও বর্তমান পরিচালক মাওলানা সুলতান আহমেদ-এর জন্য দোয়া করেন এবং বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানসহ দেশের হাজারো মাদ্রাসা মানুষের দান ও অনুদানে চলছে। আমাদের সবার উচিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়ানো।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক জাগদল নেতা, বৃহত্তর রাজানগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী এমএন আলম। তিনিও মাদ্রাসার সাফল্য কামনা করেন।

সভা শেষে মাদ্রাসা মিলনায়তনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কৌশল বিনিময় হয় বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, দুই দিনব্যাপী এই বার্ষিক সভার সমাপ্তি হচ্ছে আজ শনিবার। গতকাল থেকে শুরু হওয়া সভায় বিভিন্ন অঞ্চলের খ্যাতনামা আলেম-ওলামারা ইসলামী আলোচনা করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় পুকুরে ডুবে এক সপ্তাহে ৫ শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পুকুরে ডুবে একের পর এক শিশু মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচটি নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে গেছে পানিতে। সর্বশেষ বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের মহাজন বাড়ি এলাকায় পুকুরে ডুবে মারা গেছে সম্পূর্না সাহা মিমি (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী।

নিহত মিমি স্থানীয় দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুশীল ডাক্তার বাড়ির লিটন সাহার মেয়ে। কয়েকদিন আগে সে তার স্কুলশিক্ষিকা মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, বুধবার সকালে মিমির মা স্কুলে গেলে সে একাই গোসল করতে নামে। ধারণা করা হচ্ছে, পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় এবং ডুবে যায়। কিছুক্ষণ পর এক পথচারী পুকুরে ভাসমান অবস্থায় মিমির মরদেহ দেখতে পান। পরে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে মিমি ছিল ছোট।

এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে রাঙ্গুনিয়ায় পুকুরে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো। এর আগে ২৪ অক্টোবর পারুয়া ইউনিয়নের উত্তর পারুয়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় একসঙ্গে তিন শিশু—সুমাইয়া আক্তার (১১), রুবিনা পারভীন হাবিবা (৭) ও জান্নাত আক্তার (১০)—ডুবে মারা যায়। এরপর ২৬ অক্টোবর চন্দ্রঘোনা এলাকায় মো. ইয়াছিন (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

৩১ দফা লিফলেট হাতে রাঙ্গুনিয়ার মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন যুবদল নেতা মুরাদ চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক উপস্থাপিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ৩১ দফা নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা ও হাটবাজারে প্রচারণা চালাচ্ছেন যুবদল নেতা এস. এ. মুরাদ চৌধুরী।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও হাটবাজারে দিন-রাত মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এই ৩১ দফা প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার স্বনির্ভর ইউনিয়নের শান্তি নিকেতন এলাকাতেও তাকে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।

এ সময় তিনি স্থানীয়দের ও পথচারীদের হাতে ৩১ দফা-সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সালাম জানান। পাশাপাশি তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এই যুবদল নেতা এস. এ. মুরাদ চৌধুরী সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।

সেখানে তিনি বলেন, “আমরা বিগত ১৭ বছর যেভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, ঠিক তেমনি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্যও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, আগামী ফেব্রুয়ারিতে, বাংলাদেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনে উত্তর চট্টলার সাতটি আসনে যাকে তারেক রহমান মনোনয়ন দেবেন, আমরা সবাই ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এক হয়ে কাজ করব—এই প্রত্যাশা রাখি।”

মুরাদ চৌধুরী আরও বলেন, “ধানের শীষের বিজয়ের জন্য আমাদের গ্রামগঞ্জে গিয়ে জনগণের সমর্থন অর্জন করতে হবে। এই সমর্থন আদায়ের জন্য সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজনীতি করতে হবে। মানুষের আশা-প্রত্যাশা বুঝতে হবে।”

সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনগণের পাশে দাঁড়ান, তাদের কল্যাণে কাজ করুন। দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে ভালোবাসা ও জনগণের আস্থার মাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হয়ে সংসদে যেতে পারেন এবং বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।”

রাঙ্গুনিয়ায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে জামায়াতের প্রার্থী ডা. রেজাউল করিম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের সমর্থনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে দলটি।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার রাণীরহাট বাজারে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত জনসংযোগ ও গণসমাবেশে অংশ নেন দলটির মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

এ সময় তিনি রাণীরহাটসহ আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাজার আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ডা. রেজাউল করিম বলেন, “রাণীরহাট, ইসলামপুর, রাজানগর ও বাগাবিলি এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এখানে একটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে অসুস্থ রোগীদের চট্টগ্রাম বা রাঙ্গামাটি নিয়ে যেতে হয়, যা দীর্ঘ পথের কারণে অনেক সময় জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে।”

তিনি আরও বলেন, “এই এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভঙ্গুর। রাস্তাগুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা সময়ের দাবি। পাশাপাশি ইছামতী নদীর ভাঙন থেকে রাণীরহাট বাজারকে রক্ষা করে এটিকে আধুনিক বাজারে রূপ দেওয়া হবে।”

গণসংযোগ শেষে এক পথসভায় এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দাবি তুলে ধরেন তিনি। এর আগে রাণীরহাট বাজারের প্রতিটি গলি ও দোকানে ঘুরে ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ডা. রেজাউল করিম।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর রাঙ্গামাটি জেলা আমীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, সেক্রেটারি মনসুরুল হক, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ, ইসলামপুর ও রাজানগর ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা আহমদ নবী, সদস্য সচিব নুরুল আবছার মেম্বার প্রমুখ।

গণসংযোগকালে রাণীরহাট বাজার সমিতি, বণিক সমিতি, চাল ব্যবসায়ী সমিতি, মামরা সম্প্রদায় গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ডা. এটিএম রেজাউল করিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

তরুণদের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী নেতা, যিনি তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন— এমন মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা অডিটোরিয়ামে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা নিয়ে ছাত্রসমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা এ কথা বলেন।

আয়োজনটি করে রাঙ্গুনিয়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মী ও সমর্থকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসিন। তিনি বলেন, “বিএনপি উদার মনের একটি রাজনৈতিক দল, এটি ছাত্রবান্ধব ও গণতন্ত্রের রক্ষক। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ছিল স্বনির্ভর, দেশপ্রেমিক ও জনমুখী বাংলাদেশ গড়া। তারেক রহমান সেই আদর্শের আলোকে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রস্তাবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলম।
সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এস শোয়াইব কাদের এবং পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী ফরহাদ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার উদ্দিন রুবেল, মো. ইয়াছিন, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাস্টার ইমরান, ইসলামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ সায়মন, রাজানগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা।

আগামীর নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ: রাঙ্গুনিয়ায় এলডিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নুরুল আলম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় র‍্যালি ও পথসভা করেছে দলটি।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রধান র‍্যালিতে যোগ দেন। র‍্যালিটি চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা সদরের ইছাখালী এলাকায় পথসভায় মিলিত হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল আলম বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি এলডিপির প্রার্থী ছিলাম না, ছিলাম জোটের প্রার্থী। সামনে যে নির্বাচন আসছে তা হবে একটি অভিনব, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন—যেখানে কোনো জালিয়াতি থাকবে না। আমি চাই, সেই নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়াবাসীর রায়ে আমার নাম ও এলডিপির সম্পৃক্ততা থাকুক।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আজ দীর্ঘদিনের নীরবতা, বিচ্ছিন্নতা ও দ্বিধা–দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে রাঙ্গুনিয়াবাসীকে জানিয়ে দিচ্ছি—আমরা আছি, আমরা থাকব, আমরা রাজনীতি করছি এবং আগামীতেও নির্বাচনে অংশ নেব।”

নুরুল আলম জানান, এলডিপি এখনো জোটে রয়েছে এবং দলীয় মনোনয়নও পেয়েছে। অচিরেই জোটের প্রার্থীতা ঘোষণা হবে।
“আজকের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছি,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এতদিন আমাদের মধ্যে কিছুটা নিষ্ক্রিয়তা ছিল, এখন আমরা তা কাটিয়ে উঠেছি। আজকের এই র‍্যালি ও পথসভায় আপনারা যে সমর্থন দিয়েছেন, ভবিষ্যতের প্রতিটি কর্মসূচিতেও একইভাবে অংশগ্রহণ করে আমাদের সহযোগিতা করবেন—এই প্রত্যাশা করছি। এই নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”