ডিভাইস আসক্তি কমানোর আহ্বান, নাজিরহাটে ১৩ কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধিত

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারী শিক্ষা জাগরণে অনন্য প্রতিষ্ঠান নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র শিক্ষক তিলক কুমার বৈদ্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও ব্যাংকার মোহাম্মদ নুর নেওয়াজ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য ও সাংবাদিক এস এম আক্কাছ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নুর নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয়ে স্মার্টফোন নিয়ে না আসে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সময়মতো ক্লাস শুরু ও শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো ফলাফল শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পরিবার, শিক্ষক ও বিদ্যালয়েরও গৌরব। শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম, সময়ের মূল্যায়ন এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ব্যর্থতা এলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেন।

বিশেষ অতিথি সাংবাদিক এস এম আক্কাছ অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি আরও যত্নবান হতে হবে। একই সঙ্গে ডিভাইসের প্রতি তাদের আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা এবং নারী শিক্ষা জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসক, উদ্যোক্তাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তাদের সে লক্ষ্যে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম, শিক্ষক পারভেজ সোবহান, মহিউদ্দিন ও মো. মজিদুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।

সমাবেশ শেষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।