সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাল নোটের বিস্তার রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক কেরানীহাট শাখার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান।
অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক গাজী আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং অগ্রণী ব্যাংক কেরানীহাট শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মিরাজ মেহের চৌধুরী ও সহকারী পরিচালক (ক্যাশ) উত্তম কুমার রুদ্র।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জাল নোটের ব্যবহার শুধু ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্যও ক্ষতিকর। অসাধু চক্রের মাধ্যমে বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি বৈধ মুদ্রার ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই জাল নোট শনাক্ত ও প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
প্রশিক্ষণে আসল ও জাল নোট চেনার বিভিন্ন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, নোট যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং লেনদেনের সময় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়গুলো হাতে-কলমে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে নোটের জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, রং পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্য, উঁচু-নিচু ছাপসহ অন্যান্য নিরাপত্তা চিহ্ন পরীক্ষা করে নোট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, জাল নোট প্রতিরোধে শুধু ব্যাংক কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং সাধারণ গ্রাহক—সবার সম্মিলিত সচেতনতাই জাল নোটের বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বাজারে বেশি লেনদেনের সময় তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় কোনো নোট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সেটি অন্যের কাছে চালিয়ে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাল নোটের কারবার বা সরবরাহ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
