প্রধান উপদেষ্টার হাতে সাগর-রুনির সন্তানের জমির দলিল হস্তান্তর, মামলায় তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘের কাছে পূর্বাচলে তিন কাঠা জমির দলিল হস্তান্তর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ বৃহস্পতিবার(২১ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মাহির সরওয়ার মেঘের হাতে এই দলিল হস্তান্তর করেন প্রধান উপদেষ্টা।

সাংবাদিক সাগর সরওয়ার এই প্লটটি ২০০৪ সালে আবেদন করে ২০০৫ সালে বরাদ্দ পান। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করার পরও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এই প্লট সাগর সরওয়ারের পরিবারকে এই প্লটটি বুঝিয়ে দেয়নি।

উত্তরাধিকার সূত্রে এই প্লটের বর্তমান মালিক সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির এবং মাহির সরওয়ার মেঘ।

প্লটের দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

তিনি বলেন, “তদন্তে এ ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা মানুষের মধ‍্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে।”

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেৃপক্ষকে আলোচিত এই হত‍্যা মামলায় দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগ বহু আলামত নষ্ট করে ফেলা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এসময় মেঘ তার নিজের ডিজাইন করা এরা একটি জার্সি ও ব‍্যাগ প্রধান উপদেষ্টাকে উপহার দেন।

দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন‍্যান‍্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, ফরিদা আখতার ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, রাজধানীর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং মেহেরুন রুনির ভাই নওয়াজেশ আলম রোমান।

মাদকবিরোধী অভিযানে রাঙ্গুনিয়ায় দুইদিনে ছয়জনের কারাদণ্ড

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: 

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে ছয়জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের প্রত্যেককে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দণ্ড দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান ও ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার মাদকসেবিকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। অভিযানে সহায়তা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমানসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বনগ্রাম এলাকার মো. রেজাউল করিম, চন্দ্রঘোনা নবগ্রামের মো. ইউসুফ, একই এলাকার মো. শাকিল ইসলাম এবং রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুরাদনগর এলাকার মো. জাহেদ হোসেন। প্রত্যেককে ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মো. ইউসুফকে ৩ মাস, বাকি তিনজনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে গাজা ও মাদক সেবন সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২০ আগস্ট) উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন জিয়ানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার মো. রাসেল (১৯) এবং রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ঊনসত্তর পাড়া এলাকার মো. নয়ন (১৯)-কে আটক করা হয়েছিল। তাদেরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়াকে মাদকমুক্ত রাখতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। ইউএনও মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।