সারাদেশে সেনা অভিযানে নেটওয়ার্ক ভাঙন: অস্ত্র-মাদকসহ ৯১ জন আটক

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২১ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনস্থ ইউনিটসমূহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

এ সকল অভিযানে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, ডাকাত, অবৈধ অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, দালাল, অসাধু ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তসহ মোট ৯১ জন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে— ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ১২ রাউন্ড কার্তুজ, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, স্বর্ণালংকার, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন, বিভিন্ন চোরাই মালামাল ও নগদ অর্থ।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও সেনাবাহিনী সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসাথে জনগণকে সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি: ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ টাকা লুট

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মধ্য বেতাগী এলাকায় বুধবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডাকাতদের হামলায় বাড়ির দুই সদস্য আহত হয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রাখে।

ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, “ডাকাতরা ঘরে ঢুকেই সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে খালেদ আহমদ (২৪) ও জাবের আলমকে (২০) তারা মারধর করে। এরপর আলমারি ভেঙে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ দুই লাখ টাকা, ব্যাংকের চেকবইসহ মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যায়।”

খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিব জানান, “বাড়ির পাশের একটি কবরস্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পালানোর সময় ডাকাতরা এগুলো ফেলে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরিবার এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

‘“চৌধুরী পরিবারের শক্তি তাকবিরের স্লোগান: হুম্মাম কাদের চৌধুরী”

 

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক:

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “অনেকেই অনেক কথা বলে, চৌধুরী পরিবারের আসল শক্তি হলো নারায়ে তাকবির।”

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের লিচুবাগান চত্বরে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “যদি মনে হয় বিএনপির কোনো নেতা আপনার কাছ থেকে চাঁদা চেয়েছে, তবে এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কিছু হতে পারে না। এর শাস্তি আমি নিজেই দেব। দল হয়তো বহিষ্কার করবে, কিন্তু আমি খালি বহিষ্কার করব না—চোখে চোখ রেখে বলতে হবে কে চাঁদা চেয়েছে, তারপর পরিস্থিতি কী হবে আপনারাই জানবেন।”

তিনি বলেন, “অনেকেই বলে ভাইয়া চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি বলছি, আমি একশন নেব না—আপনারাই ব্যবস্থা নেবেন। এটা আপনাদের দায়িত্ব।”

সভায় নেতাকর্মীদের স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাকে তাকবির দিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি বলছি, এটা শুধু আমার তাকবির নয়—এটা রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি মুসলমানের তাকবির। এখন থেকে দুইটা স্লোগান দিতে হবে—‘জিয়ার সৈনিক’ আর ‘নারায়ে তাকবির’।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি একসাথে থাকি, একে অপরের পাশে দাঁড়াই, আমাদের হারানোর কেউ থাকবে না। আমরা বিএনপির সদস্য হলেও বারবার প্রমাণ করি, রাঙ্গুনিয়ার মধ্যে পাক্কা মুসলমান নেতৃত্ব দিচ্ছে।”

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “প্রার্থী যেই হোন না কেন, আমাদের দায়িত্ব একটাই—বিএনপির প্রার্থীকে জয়ী করে সংসদে পাঠানো। এজন্য আমার ও আমার দলের পাশে দাঁড়িয়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে আপনাদের।”

বাবার কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে হুম্মাম বলেন, “আজ আপনাদের দেখে মনে হলো আমি এতিম নই, আমি বাবা হারাইনি। আজ আমার পরিবার আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে নমিনেশন দিক বা না দিক, আমি দলে থাকি বা না থাকি, আমি বেঁচে থাকি বা না থাকি—ওয়াদা করে যাচ্ছি, আমার পরিবার সারাজীবন এই রাঙ্গুনিয়ার গোলামী করে যাবে।”

রাঙ্গুনিয়ায় একাধিক মামলার আসামি কুপিয়ে হত্যা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় হত্যাসহ একাধিক মামলার এক আসামিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

নিহত মো. রুবেল (৩৫) উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের হারুয়ালছড়ি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম জানান, বুধবার গভীর রাতে হারুয়ালছড়ি এলাকায় রুবেলের বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে ওসি বলেন, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা রুবেলের ঘরে প্রবেশ করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলের গলার বাম পাশ কেটে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদনের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “নিহত রুবেল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ১১টি মামলা ছিল।”
প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ওসি আরও জানান, ঘটনার সময় রুবেলের সঙ্গে মো. মোরশেদ নামে আরও একজন ছিলেন যিনি হামলায় আহত হয়েছেন বলে শোনা গেলেও ঘটনাস্থলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় সড়কের পাশ থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

 

 

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সড়কের পাশ থেকে রোজি আকতার (৫০) নামে এক নারীর পা ও মাথা থেতলানো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের উপজেলার মরিয়মনগর কাটাখালী এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রোজি আকতার(৫০) শিলক ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মো. জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।

থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে রোজি আকতার তার বাপের বাড়ি মরিয়মনগর কালুগোট্টার উদ্দেশ্যে বের হন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা কাটাখালী এলাকায় সড়কের পাশে তার পা ও মাথা থেতলানো মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থল তার বাপের বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে শনাক্ত করে পরিবার ও থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।”