মাদক-বান্ধব পুলিশকে ছাড় নয়: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ার

ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: নরসিংদীতে মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন (শামীম আনোয়ার)। তিনি বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্য মাদক বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে প্রমাণসহ তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “পুলিশই যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের মতো মাদকের সঙ্গে ন্যুনতম সংশ্লেষ থাকা পুলিশের স্থান নরসিংদীর মাটিতে হবে না।”

তিনি জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো পুলিশ অফিসার বা সদস্য মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত থাকলে ছোট্ট একটি ভিডিও বা অডিও প্রমাণ সংগ্রহ করে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিন। আমি কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমি পক্ষপাতিত্বের লোক নই, আমি ন্যায়বিচারের লোক।”

তিনি আরও জানান, নরসিংদীতে কোনো পুলিশ সদস্য বা তাদের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি মামলা, জিডি, তদন্ত, মোবাইল উদ্ধার, বিরোধ মীমাংসা বা ভিকটিম উদ্ধারের নামে টাকা দাবি করে, তবে তার প্রমাণ সংগ্রহ করে জানাতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “অল্প কিছু বিপদগামী পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো বাহিনী কলঙ্কিত হয়। আপনারা যদি এসব অপরাধে চুপ থাকেন আর পরে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পুলিশ ঘুষ নেয়’ বলে পোস্ট দেন, তাহলে নীতিবান পুলিশ সদস্যরা কষ্ট পান।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমার নামে কেউ টাকা, মাসোহারা বা অন্য কোনো সুবিধা চাইলে প্রমাণ সংগ্রহ করে তার হাত-পা বেঁধে খবর দিবেন। সে পুলিশ, পাবলিক, সরকারি বা বেসরকারি লোক যে-ই হোক না কেন।”

জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তার সরকারি মোবাইল নম্বর (হোয়াটসঅ্যাপ): ০১৩২০০৯১৩৪৫

শেষে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমরা সবাই মিলে যুগযুগের পচা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনব, ইনশাআল্লাহ।”

অর্থ নয়, প্লাস্টিক বর্জ্যেই মিলছে চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবা

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

সোমবার সকালে নগরীর ষোলশহর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র নিজেই রোগী দেখেন এবং বিদ্যানন্দের চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা। অর্থের অভাবে যারা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন, বিদ্যানন্দের এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ হবে। একইসঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাসে এটি ভূমিকা রাখবে।”

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, এর আগে সংগঠনটি প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ করলেও এবারই প্রথম স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হলো। তিনি বলেন, “কসমোপলিটন এলাকায় চালু হওয়া এ হাসপাতালটিতে গাইনি, চক্ষু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন। থাকবে ল্যাব সুবিধা ও ফার্মেসি। চিকিৎসকের পরামর্শে যে ওষুধ ও পরীক্ষা দরকার হবে, তা প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়েই পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে এটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে শুরু হলেও সাড়া পেলে ধীরে ধীরে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলেও এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিদ্যানন্দ জানায়, গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ প্রকল্পে তারা ২০০ মেট্রিকটন প্লাস্টিক সংগ্রহ করে রিসাইক্লিং করেছে।